21/06/2024
আসসালামু আলাইকুম /আদাব
লেখনিটা দয়া করে শেষ পর্যন্ত পড়ার অনুরোধ রইলো।
"গনিনগর ষোলগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়" একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম।
১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত শান্তিগঞ্জ উপজেলার গনিগঞ্জ-এ অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি স্বনামধন্য একটা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইতিমধ্যেই শিক্ষার্থী, অভিভাবক তথা সুধী মহলের আস্থা অর্জন করেছে। শিক্ষকদের পেশাদারিত্ব, শ্রেণি পাঠদান, শিখন শেখানো দক্ষতা, ধারাবাহিক মূল্যায়ন তথা ভালো ফলাফলের কারনে প্রতি বছর দূরবর্তী বিভিন্ন গ্রাম থেকে শিক্ষার্থীরা এসে উক্ত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়। উক্ত প্রতিষ্ঠানটিও এলাকাবাসীকে বরাবর ভালো ফলাফল দিয়ে আসছে।
উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালে এস.এস.সি পরীক্ষায় শান্তিগঞ্জ উপজেলার মধ্যে উক্ত প্রতিষ্ঠানটি ১ম স্থান অর্জন করে। যার ফলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়সহ এলাকাবাসী উক্ত প্রতিষ্ঠানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
কিন্তু ২০২৪ সালের এস.এস.সি পরীক্ষায় উপজেলাতে ৫ম স্থান অর্জন করে। যার ফলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক তথা এলাকাবাসীকে লজ্জায় ডুবিয়ে দেয়। বিশেষ করে শিক্ষকদের।
এর গুনগত মানহীন ফলাফলের জন্যে দায়ী কে, কারা বা কারনটা কি?
উক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অথরিটি নাকি অন্য কেউ?
আমাদের প্রাক্তন শিক্ষক, ছাত্র তথা এলাকাবাসীর কারো মনে কি এই প্রশ্নটার একবারও উদয় হলো না যে, উপজেলাতে ১ম স্থান অর্জন করা প্রতিষ্ঠানটি কিভাবে এক বছরের ব্যবধানে ৫ম স্থানে নেমে আসলো?
যদি শিক্ষকদের গাফিলতির কারনে স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানটির এমন করুণ পরিণতি হয়ে থাকে তাহলে তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হোক। আর যদি অথরিটির কারনে হয়ে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হোক। তাদের কাছে জিজ্ঞেস করা হোক কি অদৃশ্য কারনে এমন জঘন্য ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে।
শিক্ষক নয়, প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে এটা আমার তথা আমাদের জানার অধিকার আছে বলে আমি মনে করি। যেহেতু শিক্ষক হিসেবে বার বার বলেও এর সদুত্তর পাইনি।
এলাকার মুরুব্বীদের রক্ত, ঘাম, অর্থ, শ্রমে গড়া ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটির বিনাশ করার অধিকার উনাদের কে দিয়েছে বিনয়ের সাথে সেটার জবাব চাওয়া উচিত।
সমাজে অন্যায় এবং অবিচার যখন ক্রমাগত চলতে থাকে, সেটা দেখে যারা চুপ করে বসে থাকে একটা সময় সেই অন্যায়টা প্রথায় পরিণত হয়ে স্বাভাবিক হয়ে যায়।
একটা কথা মনে রাখবেন, কোথাও অন্যায় হতে দেখলে তার প্রতিবাদ করা জরুরি। কারণ, অন্যায়ের প্রতিবাদ করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যারা অন্যায় কাজে বাঁধা দেয় না তাদের জন্য পরকালে কঠিন শাস্তি রয়েছে। এবং দুনিয়াতেও আল্লাহর আজাবের মুখোমুখি হতে হবে।
প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষক নয় বরং প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে এসব অন্যায় অবিচার এবং প্রতিষ্ঠানের এমন রুগ্ন অবস্থা দেখে আর ঠিক থাকতে পারলাম না। তাই আমার এই ক্ষুদ্র লেখনি।
#প্রাক্তন ছাত্র, সচেতন অভিভাবক সবাইকে শেয়ার এবং মূল্যবান মন্তব্য প্রদান করার অনুরোধ করছি।
আপনার একটা শেয়ারের ফলে অন্যরাও জানতে এবং তাদের মূল্যবান মতামত প্রদান করতে পারবে।
জানতে পারবে তাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থা।
লেখক: মো: শামীম আহমদ
প্রাক্তন শিক্ষার্থী
গনিনগর ষোলগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়,
শান্তিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ।