13/11/2023
কপি পোস্ট
#দ্বৈতনীতি
"যে কারনে মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার ইবতেদায়ী স্তরে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কম":কারন ও প্রতিকার
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি
১.প্রশাসনিক কারণ:
√ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মতো আলাদা ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর নেই। যার ফলে এই স্তরের জন্য পৃথক বরাদ্দ নেই এবং কাজের গতিশীলতা নেই।
√ মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ইবতেদায়ী স্তরকে তেমন গুরুত্ব প্রদান করেন না।
√ইবতেদায়ী স্তরের জন্য আলাদা বরাদ্দ নেই। যেমন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকে।
√ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা জাতীয়করণ করা হয়নি।
√ স্বতন্ত্র ও সংযুক্ত ইবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষকদের বেতন-ভাতার ও সুযোগ- সুবিধা কম।
√ ইবতেদায়ী স্তর[দাখিল,আলিম,ফাযিল,কামিল স্তরের সাথে] সংযুক্ত থাকায় এই স্তরের গুরুত্ব কম প্রদান করা হয়।
√ অনেক প্রতিষ্ঠানে ইবতেদায়ী প্রধান নেই।একজন ইবতেদায়ী প্রধান এই স্তরকে দেখবাল করেন এবং এর মান উন্নয়নের জন্য কাজ করেন। তাই এই প্রশাসনিক পদটি সৃষ্টি করা হয়েছে। তাই তিনি না থাকায় ঠিকমতো শিক্ষক ক্লাসে যান না। গেলেও ক্লাসে ঘুমান।
√ ইবতেদায়ী স্তরে শিক্ষার মান উন্নয়নে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর কোনো কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করেন নাই।
√ সব জায়গায় পর্যাপ্ত ইবতেদায়ী মাদরাসা নেই।
√ সরকারি পিটিআই এর মতো বিভাগিয় পর্যায় ইবতেদায়ী স্তরের শিক্ষকদের[বিএমটিটিআই, গাজীপুর, ব্যতীত] প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুযোগ নেই।
২.আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি:
√ জব সেক্টর কিছুটা সংকুচিত থাকায় অভিভাবকগণ এই স্তরে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করাতে চান না।
√ অন্যান্য সুযোগ -সুবিধা যেমন উপবৃত্তি, স্কুল ফিডিং, বৃত্তি পরীক্ষা ইত্যাদি কম।
√ প্রাইভেট মাদরাসা ও নূরানী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা ভালো হয় তাই সেই দিকে ঝোঁক বেশি।
৩.অবকাঠামোগত কারণ:
√ শ্রেণিকক্ষ বেশিরভাগ কাঁচা থাকে পাঁকা কম।
√ প্রচুর আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে না।
√ শ্রেণিকক্ষ পেইনটিং করা না।
√ শ্রেণিকক্ষের দেয়ালে বিভিন্ন আরবি,বাংলা এবং ইংরেজি বর্ণ আঁকা এর সাথে বিখ্যাত ইসলামি স্থাপনার দৃশ্য ও কুরআন -হাদিসের এবং মুসলিম মনীষীদের বাণী লেখা থাকেনা।
√ যত পুরাতন ও ভাঙ্গা ভবন দেওয়া হয় ইবতেদায়ী স্তরের জন্য। অনেক প্রতিষ্ঠানেই ইবতেদায়ী স্তরকে একটা পুরাতন -ভাঙ্গা পানি পড়ে এরকম স্থানে দেওয়া হয়।
৪.মান সম্মত শিক্ষক ও বেতন সমস্যা :
√ এই স্তরের কাম্য শিক্ষাগত যোগ্যতা আলিম/ এইচএসসি হওয়ার তেমন দক্ষ ও মানসম্মত শিক্ষক পাওয়া যায় না।
√ বেতন-ভাতা একজন অফিস সহায়ক এর মানের হওয়ার ভালো ও দক্ষ কেউ এই পদে আসতে চায় না।কেউ আসলেও কিছু দিন পরে চলে যায়।
৫.ক্যারিকুলাম সমস্যা :
√ এই স্তরের ক্যারিকুল দক্ষতা ভিত্তিক এবং ব্যবহারিক নয়।
√ আরবি ও ইংরেজি ভাষা শিক্ষার সুযোগ কম।
√ বিশুদ্ধ ও প্রমিত বাংলা ভাষা শিক্ষার সুযোগ কম।
√ ক্যারিকুলাম মুখস্থ নির্ভর।
√ বাড়ির কাজ ও সৃজনশীল কর্ম দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ কম।
√ছবি দেখে দেখে এবং খেলার ছলে শেখার সুযোগ নেই।
৬.পাঠদানে আধুনিক কলাকৌশলের অভাব:
√পাঠদানে রসূল (স.) এর সুন্নাহ অনুসরণ করা হয় না।
√ শিক্ষকগণ শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় আধুনিক কলাকৌশল ব্যবহার করেন না।
√ শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন না।
√ আধুনিক নিয়ম-নীতির প্রয়োগ নেই।
৭.আধুনিক প্রযুক্তির অভাব :
√ শ্রেণীকক্ষে মাল্টিমিডিয়া প্রযুক্তির অভাব।
√ ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যবহার করা হয় না।
√ সাউন্ড সিস্টেম নেই। মাইক্রোফোন এবং সাউন্ড বক্স নেই।
√ সব প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব নেই। কিছু প্রতিষ্ঠানে থাকলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে তাদেরকে ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না।
৮.শিক্ষা সহায়ক উপকরণ ব্যবহার না করা:
√ পাঠদান পদ্ধতি খুবই বাজে।
√ পাঠদান করানো হয় সনাতন পদ্ধতিতে।
√পাঠদান করানো হয় শিক্ষক কেন্দ্রিক বক্তৃতা পদ্ধতিতে।
√ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ মূলক পদ্ধতিতে পাঠদান করানো হয় না।
√ ফ্লাস কার্ড, ওয়াড কার্ড ব্যবহার করা হয় না।
√ বাস্তব ও অর্ধবাস্তব শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করা হয় না।
৯.পরীক্ষা পদ্ধতি :
√ এই স্তরের পরীক্ষা পদ্ধতি মানসম্মত নয়।সব প্রশ্ন বর্ণনামূলক। কোনো ব্যবহারিক প্রশ্ন নেই।
√ সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্ন বোর্ড থেকে না আসা এবং অন্য প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পরীক্ষা না দেয়ায় দুর্নীতি হওয়ায় সম্ভাবনা বেশি।
√ বৃত্তি পরীক্ষা না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রেষনা বা আগ্রহ সৃষ্টি হয় না।
১০.সুযোগ -সুবিধার অভাব:
√ উপবৃত্তি ও ফিডিং ব্যবস্থা নেই।
√ বার্ষিক ক্রিয়া প্রতিযোগিতা হয় না।
√ শিক্ষা সফরের ব্যবস্থা নেই।
√ এক্সটা ক্যারিকুলাম নেই।
√ আধুনিক সেবা নেই।
উপরের সকল কারন,আমলে নিয়ে একনীতিই এসকল সমস্যার সমাধান করতে পারে বলে বিশ্বাস করি।
সর্বোপরি একটি কথাই বলব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিক ইচ্ছা ও সুদৃষ্টিই পারে বাংলাদেশ সরকার বাহাদুরের যে টার্গেট স্মার্ট আধুনিক সোনার বাংলা গড়ার ইচ্ছা,তা পূরণ হবে বলে আশা করি ইনশাআল্লাহ।
কপি পোস্ট।