আমাদের শিক্ষা ভাবনা

আমাদের শিক্ষা ভাবনা

Share

" Let there be light, Let there be education."

18/05/2026

শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে চাই প্রশিক্ষণ
সৈয়দ মুস্তাফিজুর রহমান

যেকোনো জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে শ্রেণিকক্ষে আর সেই শ্রেণিকক্ষের প্রাণ হলেন মহান শিক্ষক। শিক্ষাবিজ্ঞানের (Pedagogy) আধুনিক তত্ত্ব অনুযায়ী শিক্ষকতা শুধু একটি চাকরী নয়, নয় নিছক জ্ঞান বিলানো
বরং একে বলা যায় একটি নিরন্তর পরিবর্তনশীল কাঠামোবদ্ধ সুবিন্যস্ত প্রক্রিয়া। আজকের জগত দ্রুত পরিবর্তনশীল। বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির জয়জয়কার। প্রযুক্তির উৎকর্ষতা ও শিক্ষার্থীর মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। শিক্ষা বিজ্ঞানের মূল দর্শন হচ্ছে শিক্ষাদানকে একটি বৈজ্ঞানিক ও শৈল্পিক রূপ প্রদান করা। পশ্চিমা বিশ্বের প্রথিতযশা শিক্ষাবিদগণ প্রশিক্ষণের গুরুত্বকে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। জন ডিউই (John Dewey) এর মতে, "শিক্ষা কোনো গন্তব্য নয়, এটি একটি প্রক্রিয়া।" এই প্রক্রিয়াকে সচল রাখতে হলে শিক্ষকদের প্রতিনিয়ত নতুন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষিত হতে হবে। পাউলো ফ্রেইরি (Paulo Freire) তিনি প্রথাগত ‘ব্যাংকিং মডেল’ শিক্ষার পরিবর্তে সংলাপধর্মী শিক্ষার কথা বলেছেন। শিক্ষকদের এই সংলাপ ও সমালোচনামূলক চিন্তার দক্ষ হতে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। জঁ পিয়াজে (Jean Piaget) শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের স্তর অনুযায়ী পাঠদান নিশ্চিত করতে একজন শিক্ষককে অবশ্যই শিশুর মনস্তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণে ঋদ্ধ হতে হবে। এশীয় অঞ্চলে শিক্ষককে কেবল তথ্য প্রদানকারী হিসেবে নয়, বরং ‘গুরু’ বা ‘পথপ্রদর্শক’ হিসেবে দেখা হয়। এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে (যেমন- চীন, ভারত, বাংলাদেশ) শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। এত বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর মনোযোগ ধরে রাখা এবং বৈচিত্র্যময় শিখন চাহিদা মেটানোর জন্য বিশেষায়িত 'Pedagogical Skills' এর জ্ঞানের প্রয়োজন আছে। পূর্ব এশীয় দেশগুলোতে শিক্ষকদের নিরন্তর ছাত্র থাকার ওপর জোর দেওয়া হয়। জাপানের 'Lesson Study' বা সিঙ্গাপুরের বাধ্যতামূলক ১০০ ঘণ্টার বার্ষিক প্রশিক্ষণ মডেল আজ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। রবীন্দ্রনাথের মতে, "এক শিখা যেমন অন্য শিখাকে জ্বালায়, তেমনি শিক্ষকের জ্ঞানতৃষ্ণা শিক্ষার্থীর মধ্যে সঞ্চারিত হতে হবে।" এই জ্ঞানতৃষ্ণা সজীব রাখার জন্য প্রশিক্ষণ আবশ্যক। বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ২০২৩ সাল থেকে প্রবর্তিত নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রম শিক্ষকদের চিরাচরিত ভূমিকাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। 'সহায়তাকারী' (Facilitator) হিসেবে শিক্ষক নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষকের ভূমিকা কেবল গৎবাঁধা লেকচার দেওয়া নয়, বরং শিক্ষার্থীকে অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিখতে,বুঝতে সহায়তা করা। এই রূপান্তরের জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণ অপরিহার্য। ২০৪১ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শিক্ষকদের ডিজিটাল টুলস, মাল্টিমিডিয়া এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম (যেমন: মুক্তপাঠ) ব্যবহারে দক্ষ হতে হচ্ছে। প্রযুক্তি ও এআই-এর সমন্বয়ে পাঠদান এখন সময়ের দাবি। প্রথাগত পরীক্ষার বদলে এখন 'পারদর্শিতার নির্দেশক' (PI) এর মাধ্যমে ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হচ্ছে। 'নৈপুণ্য' অ্যাপের মতো আধুনিক টুলস পরিচালনা এবং গুণগত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে নিবিড় প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই।শিক্ষকদের দক্ষতা কেবল বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানে সীমাবদ্ধ নয়, এটি বহুমুখী:

১। মানসিক স্বাস্থ্য ও কাউন্সেলিং: শিক্ষার্থীর মানসিক চাপ নিরসনে শিক্ষকের সহমর্মী হওয়া জরুরি।
২। অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রান্তিক শিশুদের মূলধারায় যুক্ত করার দক্ষতা।
৩। কর্মসহায়ক গবেষণা (Action Research): শ্রেণিকক্ষের বাস্তব সমস্যা সমাধানে শিক্ষকদের নিজস্ব গবেষণা।
৪। পেশাদারিত্ব ও নেতৃত্ব: নৈতিকতা, সময়ানুবর্তিতা এবং দলীয় কাজের মাধ্যমে নেতৃত্ব প্রদান।

উন্নত প্রশিক্ষণের পথে কিছু বাধা বিদ্যমান, যেমন—বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, পরিকাঠামোগত অভাব এবং পরিবর্তনের প্রতি রক্ষণশীল মানসিকতা। তবে সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ, ইন-হাউস ট্রেনিং এবং পিয়ার লার্নিংয়ের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেবল একটি পেশাগত বাধ্যবাধকতা নয়, এটি একটি নৈতিক দায়িত্ব। পাশ্চাত্য বিজ্ঞানের দক্ষতা এবং প্রাচ্যের মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষকরা যদি নিজেদের প্রতিনিয়ত গড়ে তোলেন, তবেই ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ এবং ‘সোনার বাংলা’ গড়ার স্বপ্ন সফল হবে। একজন প্রশিক্ষিত শিক্ষকই পারেন একটি শ্রেণিকক্ষকে প্রাণবন্ত গবেষণাগারে পরিণত করতে এবং শিক্ষার্থীর সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করতে। কথায় আছে একজন শিক্ষক ভালো তো দেশ ভালো আর দেশ ভালো তো আমি, আপনি ভালো, আমরা সবাই ভালো। একজন শিক্ষকের পেশাগত উন্নয়ন হলো একটি দীর্ঘস্থায়ী যাত্রা। আজ যে শিক্ষক শিখতে থামবেন, কাল তিনি শেখানোর আগ্রহ ও অধিকার হারাবেন। তাই নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান চর্চায় আত্মনিয়োগ করাই হোক আধুনিক শিক্ষকের মহান ব্রত।

কলমে:
সৈয়দ মুস্তাফিজুর রহমান
প্রশিক্ষক
বিএড কোর্স, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

12/05/2026

হার্বার্টের সোপান অনুসারে বাংলা বিষয়ের পাঠ পরিকল্পনার সামগ্রিক দিক নির্দেশনা
✍️ সৈয়দ মুস্তাফিজুর রহমান

পাঠ পরিকল্পনা হলো শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পূর্বে নির্দিষ্ট পাঠ বা পাঠ্যাংশের বিষয়বস্তু, শিখনফল ও দক্ষতার আলোকে শিখন-শেখানোর উপযুক্ত পদ্ধতি ও কৌশল নির্বাচন, সময়ের যথার্থ বণ্টন এবং শিখন মূল্যায়নের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও যথাযথ উপায়ে প্রয়োগ। আদর্শরূপে পাঠদান ও শ্রেণিকক্ষ যথার্থ ব্যবস্থাপনা পাঠ পরিকল্পনার অপরিহার্য অংশ। শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়ার পাঠ পরিকল্পনার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হার্বার্টের পঞ্চসোপান ও আধুনিক ত্রি-সোপান অনুসারে শিক্ষার্থীরা কি শিখবে, কিভাবে শেখানো হবে এবং কিভাবে শিখন মূল্যায়ন করা হবে সে সম্পর্কে শিক্ষকের দৈনন্দিন পাঠ্যক্রমিক সঠিক নির্দেশনাই হলো পাঠ পরিকল্পনা।আমরা সবাই জানি 'শিক্ষা একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া।' কালের পরিক্রমায় শিক্ষা আজ বর্তমান রূপ লাভ করেছে। শিক্ষা প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে সময়ের আহবানে। আধুনিক সময় উপযোগী আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতির অন্যতম উপাদান হচ্ছে পাঠ পরিকল্পনা। কথায় আছে একটি সুপরিকল্পনা আপনার কাজকে সহজ ও আনন্দময় করে তুলে। শিক্ষাদান যদি সুপরিকল্পিত হয় তাহলে শিক্ষকদের মনের মাঝে এক প্রকারের সুখ সৃষ্টি হয় যা কোটি টাকায় কেনাও অসম্ভব। সনাতনী শিক্ষা ব্যবস্থায় পাঠ পরিকল্পনার কোন যথাযথ কাঠামো (মডেল) ছিলনা । কালের স্রোতধারায় আধুনিক যুগের বিবর্তনের বর্তমান ও সনাতন শিক্ষাদান পদ্ধতির মধ্যকার পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় তার মধ্যে সর্বাগ্রে থাকবে পাঠ পরিকল্পনা ও পাঠ উপস্থাপনা।

পাঠ পরিকল্পনা কী?

শিক্ষার্থীরা শ্রেণিতে কি শিখবে, কিভাবে তা শেখানো হবে এবং শ্রেণিতে পাঠদানরত শিক্ষক কিভাবে শিখন মূল্যায়ন করবেন সে সম্পর্কে শিক্ষকের সামগ্রিক নির্দেশনার লিখিত রূপরেখাই হচ্ছে পাঠ পরিকল্পনা।

পাঠ পরিকল্পনা বলতে বোঝায় শিক্ষক পাঠদান সুবিধার জন্য শিক্ষক কর্তৃক বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রণয়ন করা এমন এক ধরনের পরিকল্পনা যাতে উল্লেখ থাকে নির্দিষ্ট শিখন লক্ষ্য যার মানে শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের কি শিখতে হবে, শিক্ষক শিক্ষার্থীদেরকে কি কি শেখাতে হবে; নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের পথ অর্থাৎ শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষক কোন পদ্ধতি ও কৌশল সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলেই পাঠদান সফল হবে; নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করা হলো কি না তা জানার জন্য উপযুক্ত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া; এবং প্রত্যাশিত লক্ষ্য পূরণ না হলে কি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পাঠ পরিকল্পনার প্রবক্তা:

পাঠ পরিকল্পনা (Lesson Plan) নিয়ে সর্বপ্রথম কথা বলেন শিক্ষাবিদ হার্বার্ট স্পেনসার। তিনি গভীরভাবে অনুধাবন করেছিলেন যে, পাঠ পরিকল্পনা একজন শিক্ষকের পাঠদানের দক্ষতা ও কলাকৌশল জ্ঞান বাড়িয়ে দিতে পারে যথার্থ চর্চার ফলে। বর্তমান সময়ে 'লেসন প্লান' সর্বমহলে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে যা মূলত হার্বার্টের পঞ্চসোপান ও আধুনিক ত্রি-সোপান এর উৎকৃষ্ট সোনালী ফসল।

হার্বার্টের পঞ্চসোপান:

ফ্রেডরিক হার্বার্ট পাঠদানের ক্ষেত্রে পাঁচটি ধাপ অনুসরণ করার কথা বলেন যা শিক্ষক-প্রশিক্ষকদের কাছে পাঠ পরিকল্পনার পঞ্চসোপান নামে পরিচিত। হার্বার্টের পঞ্চসোপান ইংরেজিতে ‘Herbert’s Five Steps of Lesson Plan’ নামে পরিচিত। পঞ্চ সোপানে পাঁচটি ধাপ যুক্ত, সেগুলো নিম্নরূপ:

১. প্রস্ততি (preparation)
নতুন কোনো কিছু শিক্ষাদানের আগে ওই বিষয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের শেখানো হয়েছে এমন অথবা শিক্ষার্থীরা জানে এমন কোনো কিছুর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের নাম হলো প্রস্ততি। প্রস্ততি পর্বের কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে পাঠের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে প্রচেষ্টা করা হয়।

২. উপস্থাপন (presentation)
প্রস্ততি পর্ব সাফল্যের সাথে শেষ করার পর পাঠের বিষয়বস্তু প্রকৃত অভিজ্ঞতার আলোকে শ্রেণিকক্ষে উপস্থাপন করা করতে হয়। উপস্থাপন যদি প্রকৃত অভিজ্ঞতার আলোকে না হয় তাহলে শিখন কার্যকর হয় না বরং ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

৩. সংযোগ (association)
হার্বার্টের শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় সংযোগ হলো শিক্ষার্থীদের লব্ধ পূর্ব ধারণার সাথে শ্রেণিকক্ষে উপস্থাপিত পাঠের সাথে সংযোগ স্থাপন করে তুলনাকরণের মাধ্যমে পার্থক্যগুলো বিবেচনার মাধ্যমে নতুন ধারণার সৃষ্টি।

৪. সাধারণীকরণ (generalizing)
পাঠদানে সাধারণীকরণ হলো কোনো একক শিখন অভিজ্ঞতা, যা শ্রেণিকক্ষে শেখানো হয়েছে তা বাস্তবজীবনের একাধিক অভিজ্ঞতার সাথে এক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার প্রক্রিয়া।

৫. প্রয়োগ (application)
শিক্ষাদান বা জ্ঞানদান পর্যন্ত সীমাবদ্ধ না রেখে বরং শিখনকে শিক্ষার্থীদের জীবনে কার্যকরী করতে এর তাৎক্ষণিক প্রয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন। শিক্ষক যা কিছু শেখান, তা যদি তাৎক্ষনিকভাবে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে প্রয়োগ করাতে পারেন তাহলে শিখন অপেক্ষাকৃতভাবে টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী হয়।

অনেকেই মনে করেন হার্বার্টের পঞ্চসোপান আধুনিক পাঠ পরিকল্পনার কাছে গুরুত্ব কিছুটা হারিয়েছে। বাস্তববিধি অনুসারে কথা হচ্ছে যখন কোন একজন শিক্ষক পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন বা দক্ষ শিক্ষক প্রশিক্ষক পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়ন সম্পর্কে প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তাঁর মূল্যবান লেকচার দেন ইচ্ছে করলেও তখন শিক্ষাবিদ হার্বার্ট স্পেনসারের পঞ্চসোপানকে এড়িয়ে যেতেন পারেন না। বর্তমান সময়ে বহুল ব্যবহৃত লেসন প্লান মূলত হার্বার্টের পাঠদান পরিকল্পনার এক নব কাঠামো। কালের পরিক্রমায় হার্বার্টের পঞ্চসোপান একটা সময় ত্রি-সোপানে রূপ নেয়। এই ব্যাপারে বরেণ্য শিক্ষাবিদ জন ডিউইর ভূমিকা অপরিসীম। জন ডিউ শিক্ষার স্বরূপ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ৪টি বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছেন।

১। শিক্ষাই হলো বিকাশ। শিক্ষার কাজ হলো জীবনের বিকাশে সহায়তা করা। শিক্ষাথীর মানসিক বৈশিষ্ট্যের পরিপক্কতার মাধ্যমে শিক্ষা তার মধ্যে জীবনব্যাপী জ্ঞান আহরণের প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে তুলে অর্থাৎ জ্ঞানের বিকাশ ঘটায়।

২। শিক্ষাই হলো জীবন। ডিউই শিক্ষা ও জীবনকে পৃথকীকরণ দেখেননি। শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী প্রকৃত জীবন সমস্যার সাথে পরিচিত হবে এবং এই সমস্যা সমাধানের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকেই তাদের শিক্ষা হবে। সে জন্য তিনি বিদ্যালয়ের জীবনের সাথে সমাজ জীবনের সম্পর্ক স্থাপনের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন ।

৩। শিক্ষাই হলো সামাজিক উৎকর্ষের উপায় শিক্ষার্থীর সামাজিক গুণাবলীর বিকাশ ঘটে শিক্ষার মাধ্যমেই।

৪। শিক্ষা হলো অভিজ্ঞতার পূর্ণগঠন। তিনি বলেন,প্রত্যেক অভিজ্ঞতাই ব্যক্তিকে নতুন অভিজ্ঞতামুখী এবং প্রত্যেকের নতুন অভিজ্ঞতার পরিবর্ধন,পরিমার্জনও পূর্ণগঠন করে থাকে।

জন ডিউইর কারণে হার্বাটের পঞ্চসোপান কিংবা ত্রি-সোপান শিক্ষামহলে জনপ্রিয়তা লাভ করে কালের বিবর্তনে।

আধুনিক পাঠ পরিকল্পনার ত্রিসোপান:

ফ্রেডরিক হার্বার্টের পঞ্চসোপানকে সংক্ষিপ্ত করে তিনধাপ বিশিষ্ট পাঠ পরিকল্পনার নকশা প্রবর্তন করা হয় যা বর্তমানে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই আধুনিক পাঠ পরিকল্পনাকে ত্রি-সোপানিক পাঠ পরিকল্পনা বলে।

আধুনিক পাঠ পরিকল্পনার এই তিনটি ধাপ হলো:

১. প্রস্ততি, ২. উপস্থাপন এবং ৩. মূল্যায়ন।

১. প্রস্ততি (preparation)
একজন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে কীভাবে উত্তমপন্থায় শিক্ষার্থীদেরকে নির্ধারিত পাঠের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে চান, পাঠের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য শিক্ষক কীভাবে শিক্ষার্থীদের সাথে সংযোগ স্থাপন করবেন, নতুন পাঠ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের কীভাবে উৎসাহী করে তুলবেন ইত্যাদি হলো পাঠ পরিকল্পনার প্রস্ততি অংশের অন্তর্ভুক্ত।

কুশল বিনিময়, পূর্বজ্ঞান যাচাই, মজার কৌতুক বলা, ধাঁধা ছুড়ে দেওয়া, ছোট্ট গল্প বলা, কার্টুন, ভিডিও ক্লিপ প্রদর্শন, স্লাইডে উন্মুক্ত প্রশ্ন ছুড়ে দেয়া ইত্যাদি প্রস্ততি পর্বের কৌশল।

২. উপস্থাপন (presentation)
উপস্থাপন হলো শ্রেণিকক্ষে নির্ধারিত পাঠের বিষয়বস্তু শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তুলে ধরা এবং প্রয়োজনীয় আলোচনা ও বিভিন্ন পদ্ধতি/কৌশল অবলম্বন করে শিক্ষার্থীদেরকে শিখনফল অর্জনে সহায়তা করা।

বক্তৃতা, আলোচনা, (FGD) ফোকাসড গ্রুপ ডিসকাশন, একক কাজ, জোড়ায় কাজ, দলীয় কাজ, ভূমিকাভিনয়, মাইন্ড ম্যাপিং ইত্যাদি পাঠ উপস্থাপনের একেকটি কৌশল হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।

৩. মূল্যায়ন (assessment)
মূল্যায়ন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত শিখনফল অর্জন করতে সক্ষম হলো কি না তা যাচাই করা হয়। কখনো কখনো মূল্যায়নকে প্রয়োগ বা অ্যাপলিকেশন (application) বলা হয়ে থাকে।

শিক্ষক মানুষ গড়ার দক্ষ কারিগর। অন্যকে গড়তে গেলে সবার আগে নিজেকে সঠিকভাবে গড়া চাই। সঠিক পথে নিজেকে গড়তে চাইলে প্রয়োজন সুপরিকল্পনা। শিক্ষকদের প্রধানতম কাজ পাঠদান করা ও শিক্ষার্থীদের জীবন গঠনের পথ দেখিয়ে দেয়া। শিক্ষকের কাজ যখন সুপরিকল্পিত হয় তখন তাঁর সব কাজই সহজ মনে হয়। পাঠদান পরিকল্পনার কাঠামোর উপর নির্ভর করে একজন শিক্ষকের সফলতা। আর সেই শিক্ষকের সফলতা ও উন্নতির উপর নির্ভর রাষ্ট্রের কাঙ্খিত পরিবর্তন ও সার্বিক উন্নয়ন। কাঙ্খিত ইতিবাচক পরিবর্তনের নামই হচ্ছে শিক্ষা।

শিক্ষার মাধ্যমেই সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয় একটি রাষ্ট্রের , সৃষ্টি হয়এক নব উপাখ্যান। সেই নব উপখ্যানে আলোচিত শব্দ শিক্ষক, আমাদের শিক্ষকরা হয়ে ওঠুন শিক্ষার্থীদের কাছে সৌন্দর্যবোধ ও সৃষ্টিশীলতার বাতিঘর।

✍️ সৈয়দ মুস্তাফিজুর রহমান
বি.এড অনার্স (জাবি), এম. এড (শাবিপ্রবি)
প্রভাষক ( শিক্ষাবিজ্ঞান )
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ব বিদ্যালয়

Photos from আমাদের শিক্ষা ভাবনা's post 08/05/2026

স্মৃতির অলিন্দে বাবা- ✍️ ড. Md Didar Chowdhury

আমার বাবা ডা. এ কে খালেদ চৌধুরী, গচিয়া গ্রামের আজমান রাজা চৌধুরীর বড় ছেলে। প্রাণখোলা, দিলখোলা, মানুষপ্রেমী একজন মানুষ। মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল সহজ, স্বাভাবিক এবং অকৃত্রিম। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, গরিব-দুঃখী- সবাইকে তিনি আপন করে নিতে পারতেন। ছোটবেলায় বৈশাখ মাস এলেই বাড়ি যাওয়ার আনন্দে আমরা উদ্বেল হয়ে উঠতাম। খুব ভোরে, ফজরের নামাজের পর খেতা-বালিশ নিয়ে মুড়ির টিন খ্যাত বাসে উঠতাম। পথে দেখতাম বাস থেমে যেত। হ্যান্ডেলম্যান রাস্তার ধারের নিচু জায়গা থেকে পানি এনে গাড়ির সামনে ঢালত, তারপর লোহার তৈরি বাঁকা এক হ্যান্ডেল ঘুরিয়ে ইঞ্জিন স্টার্ট দিত। সেই দৃশ্য এখনো চোখে ভাসে।
এভাবেই লামাকাজি ফেরি, ডাবর ফেরি পেরিয়ে জয়কলস পৌঁছাতাম। ফেরি দেখলেই আমরা ভাইবোন আনন্দে আত্মহারা হয়ে যেতাম। চানাচুর, আইসক্রিম -যা আসলে ছিল চিনি মেশানো পানি আর উপরে অল্প মালাই-সেই স্বাদ এখনো জিভে লেগে আছে। আম্মা মুখে পর্দা টেনে আমাদের আগলে রাখতেন, যদি পানিতে পড়ে যাই। জয়কলস থেকে সকাল আটটা বা নয়টার দিকে লঞ্চ ছাড়ত। যদি লঞ্চ মিস হত, তাহলে যে কী দুর্ভোগ-বলে শেষ করা যাবে না। কিন্তু বাড়ি যাওয়ার কথা উঠলেই আমরা যেমন উৎফুল্ল হতাম, আব্বার আনন্দ যেন তার চেয়েও বেশি ছিল।
গ্রামের সহজ-সরল মানুষ সন্ধ্যার দিকে এসে আড্ডায় বসত।

আলোচ্যসূচিহীন দীর্ঘ আলোচনা চলত ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কোনো সমাধানে পৌঁছানোর প্রয়োজন ছিল না; একে অপরকে দেখা, কথা বলা, হারিকেনের নিবু নিবু আলোয় মানুষকে অনুভব করাই ছিল আসল আনন্দ। চাঁদের আলো-আঁধারিতে মানুষ চিনে নেওয়ার সেই সময় আজ আর কোথাও নেই।
আমাদের উদ্দেশ্য ছিল পড়াশোনার জঞ্জাল থেকে মুক্ত হয়ে দড়িবিহীন ঘুড়ির মতো ঘুরে বেড়ানো। নদীতে ঝাপ দিতাম, মাঠে ছুটে বেড়াতাম, হাওরের বাতাসে দিন কাটত অবাধ স্বাধীনতায়।
সাঁতার শেখার স্মৃতিটাও আজো স্পষ্ট মনে আছে। আমার সাঁতার শেখা হয়েছিল আব্বার কাছ থেকে, একেবারে ভয়ংকর এক পদ্ধতিতে! একদিন আব্বাসহ সবাই দল বেঁধে গিয়েছি গাঙে গোসল করতে। আমি তখন তীরে দাঁড়িয়ে এক পা পানিতে, আরেক পা ডাঙায় রেখে কাকের মতো ডুব দিচ্ছি। আব্বা সেটা দেখে হাসছিলেন। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ আমাকে দুই হাতে তুলে নিয়ে দেখাতে লাগলেন কীভাবে হাত-পা ছুড়ে সাঁতার কাটতে হয়। আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি আমাকে অনেকটা ডিল ছোড়ার মতো করে পানির গভীরে ঠেলে দিলেন। আমি পানি খেলাম, চোখ-মুখ লাল হয়ে গেল, প্রাণপণে হাত-পা ছুড়তে লাগলাম। ভয়, কান্না আর হাবুডুবুর মাঝেই কখন যেন সাঁতারের হাতেখড়ি হয়ে গেল। এভাবেই আব্বার কঠিন কিন্তু সাহসী শিক্ষায় আমি সাঁতার কাটা শিখেছিলাম।
কখনো লঞ্চ পাওয়া না গেলে পায়ে হেঁটে পাথারিয়া, ভাটিপাড়া হয়ে গচিয়া গ্রামে ফিরতাম। কাদামাখা পথ, ছোট ছোট খাল, চারপাশে বন আর মেঠোপথ। রাস্তার দুই ধারে বেতবন, মাঝে মাঝে হিজল, করস আর জারুল গাছ। জারুলের বেগুনি ফুল মন কাড়ত। করস গাছের নতুন পাতাগুলোকে মনে হত যেন ঘি-রঙা কোনো কিশোরী মুখ।কোনো কোনো দিন ডাবরে রাস্তার ধারে আমাদের নৌকা অপেক্ষা করত। সেই নৌকায় আমরা ছয় ভাই, তিন বোন আর মা-বাবা—মোট এগারোজন। দেখার হাওর তখন সমুদ্রের মতো লাগত। ঢেউ দেখে আম্মা সুরা পড়তেন। তাঁর ভয় আমাদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ত, বিশেষ করে আমার মধ্যে। কী ভীতুই না ছিলাম!
কিন্তু আব্বা ছিলেন নির্ভীক মানুষ। নৌকাতেই মোরগ জবাই হত, রান্না হত। নৌকার রান্নার স্বাদ ছিল অসাধারণ। আম্মা ভয় আর অস্বস্তিতে ঠিকমতো খেতে পারতেন না, অথচ আব্বা হাসিমুখে খেতেন আর আমাদের খেতে উৎসাহ দিতেন।

মাঝি গান ধরত। আব্বাও মাঝে মাঝে গলা মেলাতেন। হঠাৎ বিশাল ঢেউ এসে ছোট নৌকায় আছড়ে পড়ত। মনে হত এবারই বুঝি নৌকা ভেঙে যাবে। কালো মেঘ উড়ে আসত আকাশজুড়ে। ঝড় শুরু হলে আমরা মুরগির বাচ্চার মতো আম্মাকে ঘিরে থাকতাম। আবার যেমন হঠাৎ ঝড় আসত, তেমনি আচমকা থেমেও যেত। সাদা শাপলার বুক চিরে নৌকা এগিয়ে যেত গচিয়া গ্রামের দিকে। পথে দেখা মিলত সাদা বক, কাক, মাছরাঙা, চিকরা শালিক আর নাম না জানা কত পাখির। কখন যে বাড়ির গাঙের ঘাটে পৌঁছে যেতাম, টেরই পেতাম না। আমার সেজ চাচা মজা করে আম্মাকে বলতেন,“আইছেরে বাঘিনী একদল লইয়া!” আমরা ছিলাম নয় ভাইবোন। মা-বাবাসহ মোট এগারোজন মানুষ। থাকার জায়গা, খাওয়ার ব্যবস্থা-সবই ছিল কষ্টসাধ্য। কিন্তু ভালোবাসার অভাব ছিল না। আমরা ভাগ হয়ে যেতাম-কেউ ফুফুর বাড়ি, কেউ মেজ চাচার বাড়ি, কেউ বড়ঘরে, কেউ ছোট চাচার বাড়িতে। কোনো অসুবিধা হত না। বরং প্রতিটি বাড়ির খাবারের স্বাদ ছিল আলাদা, আলাদা মমতায় ভরা। আমার বড় ভাই পাখি শিকার করতে খুব পছন্দ করতেন। সকালে বের হয়ে বিকেলে বস্তাভর্তি পাখি নিয়ে ফিরতেন। একদিন তিনি হাওরে একদল পাখি ভেবে গুলি করলেন। কাছে গিয়ে দেখলেন, সেগুলো আসলে কারও পালিত হাঁস। যার হাঁস ছিল, সে খবর পেলেও কোনো বিচার-নালিশ করেনি। এলাকার মানুষ গরিব ছিল, কিন্তু সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি আর মানবিকতায় ভরপুর ছিল। পরে আব্বা নিজে তাদের হাঁসের দাম দিয়ে দিয়েছিলেন। যদিও তারা নিতে চাননি।
ধান তোলার সময়ের আনন্দ ছিল একেবারেই আলাদা। কেউ মাথায় করে আউললাট থেকে ধান নিয়ে আসত, কেউ গরুর গাড়িতে। কাদামিশ্রিত পথে হাঁটতে গিয়ে পা প্রায় গোড়ালি পর্যন্ত ডুবে যেত। ধানের সঙ্গে আমিও গরুর গাড়ির পেছনে উঠে বসতাম—সে কী আনন্দ!

ধান কাটতে ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা থেকে মানুষ আসত। কাজ শেষে তারা নৌকায় করে ধান নিয়ে যেত। অনেকে আশুগঞ্জে গিয়ে বিক্রিও করত। খুব দ্রুত ধান কাটতে হত, কারণ হাওরে পানি দ্রুত ঢুকে পড়ত। অনেক সময় ধান তুলতেই পারা যেত না; পানির নিচে ডুবে যেত সব। কৃষকের সেই কান্না আর হাহাকার আজও মনে পড়ে।

আমাদের বাড়ির উঠোন ছিল বেশ বড়, উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত। চাটাইয়ে ধান বিছিয়ে শুকাতে দেওয়া হত। শাপলা বা হাপলা কাঠের তৈরি হাতলওয়ালা এক ধরনের উপকরণ দিয়ে ধান উল্টেপাল্টে দেওয়া হত, যাতে ভালোভাবে রোদ পায়। হঠাৎ কালো মেঘ জমে উঠত আকাশে। সবাই দৌড়াদৌড়ি শুরু করত। কে কার ধান উঠাচ্ছে, তার হিসাব থাকত না। যার ধান উঠোনে নেই, সেও এসে অন্যের ধান তুলতে সাহায্য করত। বৃষ্টি নামার আগেই সব ধান গুছিয়ে ফেলা হত। এমন দিন আর নেই; এখন সবকিছু কেমন যেন কৃত্রিম, ভালোবাসাহীন, যান্ত্রিক। তারপর নামত ঘন বৃষ্টি। আমরা দুষ্টু কিশোরেরা কাদা আর বৃষ্টিতে মাখামাখি হয়ে পিচ্ছিল উঠোনে দৌড়ে এসে আছড়ে পড়তাম। আহা, কী আনন্দই না ছিল সেসব দিনে! ধান কাটার পর শুরু হত আম খাওয়ার ধুম। আমাদের বাড়ির পেছনে ছিল দুটি পুকুর, আর তার পশ্চিমে ঘন গাছগাছালিতে ভরা বাগান। সেখানে ছিল অনেক আমগাছ। ঝড়ের পরে আশপাশের মানুষ আম কুড়াতে আসত। পছনঝি-আল্লাহ তাঁকে বেহেশত নসিব করুন, তাঁকে প্রায়ই দেখতাম আম কুড়াতে।

বাড়িতে গেলেই আব্বা সব গাছের নানা জাতের আম পাড়িয়ে আনতেন। তারপর চাচাতো ভাইবোনদের নিয়ে গোল হয়ে বসে নিজ হাতে আম ভাগ করে দিতেন। ভাগ করার আনন্দটাই ছিল আলাদা। আমরা বাচ্চারা আব্বাকে ঘিরে বসে থাকতাম। তিনি নিজ হাতে দা দিয়ে আম কাটতেন, গ্রামের শিশু-কিশোররা এসে ভিড় করত। আব্বা সবার হাতে আম তুলে দিতেন। কেউ সেখানেই খেত, কেউ হাতে করে বাড়িতে নিয়ে যেত।

বিকেলে উঠোনে বসে নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখতাম বকের দল ঝাঁকে ঝাঁকে বাড়ি ফিরছে। বাড়ির পেছনের বাঁশঝাড় বকের ভিড়ে নুয়ে পড়ত। চারপাশে পাখির কিচিরমিচির আর ডানা ঝাপটানোর শব্দে সন্ধ্যা মুখর হয়ে উঠত।.আমার বাবা ডাক্তারি করেও মানুষের সেবা করতেন। মানুষের পাশে দাঁড়ানো ছিল তাঁর স্বভাব। আত্মীয়স্বজনের খোঁজখবর নিতেন, সবার সঙ্গে ভালোবাসা আর আন্তরিকতা নিয়ে মিশতেন। তাঁর মধ্যে কোনো অহংকার ছিল না।
আজ আমার বাবার মৃত্যুবার্ষিকী।
সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।
আল্লাহ যেন তাঁকে বেহেশত নসিব করেন। আমিন।

লিখেছেন অধ্যাপক ড মো. দিদার চৌধুরী
পরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা, সিলেট অঞ্চল

06/05/2026

একটা দেশ এগিয়ে যাওয়ার পেছনে শত কারণ থাকে। আবার একটা দেশ পিছিয়ে যাওয়ার জন্য একটিই যদি কারণ থাকে সেটি হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় নামক অসাড় বস্তুর অখাদ্য উপস্থাপন। কোনটি কপি পেস্ট আবার কোনটি অন্যের দ্বারা লেখা আবার কোনটি নিজের মেধার ফসল দিনশেষে সব ঐ গার্বেজে জমা পড়ে থাকে। এই শিক্ষা দ্বারা কি জাতির উন্নতি হয়, হয় কি জাতির মুক্তি ???

আজ প্রশ্ন করুন -
নিজেকে
নিজের সন্তানকে
নিজের সন্তানের শিক্ষককে
রাষ্ট্রকে


01/05/2026

মহান মে দিবস: শ্রমের মর্যাদা, মানবিকতা ও ন্যায়ের অঙ্গীকার

মহান মে দিবস মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক গৌরবময় দিন। এটি শুধু শ্রমিক শ্রেণির অধিকার আদায়ের সংগ্রামের স্মারক নয়; বরং প্রতিটি পেশাজীবী মানুষের পরিশ্রম, দায়িত্ববোধ ও অবদানের প্রতি সম্মান জানানোর দিন। সমাজের প্রতিটি স্তম্ভ—শ্রম, জ্ঞান, সেবা ও নেতৃত্ব—সম্মিলিতভাবে একটি জাতিকে এগিয়ে নেয়। তাই মে দিবসের চেতনা কেবল কারখানার শ্রমিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি শিক্ষক, চিকিৎসক, কৃষক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, আইনজীবী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পরিবহনকর্মী, জনসেবক—সকল কর্মজীবী মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।

ইসলাম শ্রম ও কর্মকে মর্যাদার আসনে বসিয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
“মানুষের জন্য তাই আছে, যা সে চেষ্টা করে।” (সূরা আন-নাজম: ৩৯)

এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষের সম্মান ও প্রাপ্য তার নিষ্ঠা, শ্রম ও অবদানের মধ্যেই নিহিত। আর সেই অবদানের ন্যায্য মূল্যায়নই একটি সভ্য সমাজের পরিচয়।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি পরিশোধ করো।”
— সুনান ইবনে মাজাহ

এই হাদীসের শিক্ষা শুধু মজুরি প্রদানের ক্ষেত্রেই নয়; বরং প্রতিটি পেশার মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করার নির্দেশনা বহন করে।

একজন শিক্ষক জ্ঞানের আলো দিয়ে জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণ করেন। একজন চিকিৎসক জীবন রক্ষার সংগ্রামে মানবতার সেবক হয়ে ওঠেন। কৃষক মাটিতে ঘাম ঝরিয়ে খাদ্যের নিশ্চয়তা দেন। প্রকৌশলী অবকাঠামো নির্মাণ করে উন্নয়নের পথ তৈরি করেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মী সুস্থ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করেন। আইনজীবী ন্যায়বিচারের পক্ষে লড়েন। সাংবাদিক সত্যকে তুলে ধরেন সমাজের সামনে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও জনসেবক রাষ্ট্র পরিচালনার শৃঙ্খলা বজায় রাখেন। পরিবহনকর্মী মানুষের চলাচল ও অর্থনীতির গতিকে সচল রাখেন। উদ্যোক্তা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন। প্রযুক্তিবিদ আধুনিক বিশ্বের যোগাযোগ ও অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করেন।

অর্থাৎ, প্রতিটি পেশাই সমাজের একেকটি অপরিহার্য চাকা। একটি চাকা থেমে গেলে উন্নয়নের রথও থেমে যায়।

মে দিবস তাই আমাদের শেখায়—কোনো কাজ ছোট নয়, কোনো পেশা তুচ্ছ নয়। সমাজে মর্যাদা নির্ধারিত হয় দায়িত্ব, সততা ও অবদানের মাধ্যমে। তাই সামাজিক দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে আমাদের কর্তব্য হলো—প্রতিটি পেশাজীবী মানুষের প্রাপ্য সম্মান, নিরাপত্তা, ন্যায্য পারিশ্রমিক ও সুস্থ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।

একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়তে হলে শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হবে সর্বত্র—কারখানায়, বিদ্যালয়ে, হাসপাতালে, কৃষিক্ষেতে, আদালতে, অফিসে, রাস্তায় এবং জনসেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে।

মহান মে দিবস কেবল অতীতের সংগ্রামের স্মৃতি নয়; এটি বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য এক সামাজিক অঙ্গীকার। কুরআন-হাদীসের শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক ন্যায়ের ভিত্তিতে আমরা যদি সকল পেশার মানুষকে সম্মান করতে শিখি, তবেই একটি সমতাভিত্তিক, শোষণমুক্ত ও মর্যাদাপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

আসুন, মহান মে দিবসে আমরা অঙ্গীকার করি—
প্রতিটি পেশার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবো,
শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করবো,
এবং ন্যায়, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধে গড়ে তুলবো এক সুন্দর সমাজ।



29/04/2026

শিক্ষা একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়ার নাম। শিক্ষার মধ্য দিয়েই একজন মানুষ তার জীবনপথে এগিয়ে চলে আর শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় শিক্ষকের হাত ধরে। একজন আদর্শ শিক্ষকই নিপুণহাতে গড়ে তুলতে জানেন আদর্শ শিক্ষার্থী। সময়ের পরিক্রমায় আদর্শ শিক্ষার্থী হয়ে ওঠে সমাজের প্রাণপ্রাচুর্যের কেন্দ্রবিন্দু , পরবর্তী প্রজন্মের জন্য প্রেরণার জলসিন্ধু।

২০০১ সালের ২৯ এপ্রিল আমাদের প্রাণের প্রতিষ্ঠান সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ সিলেটের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করার পর ২০০৩ সালের ২ জুলাই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৫ সালে ২৩ জুলাই অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী সিলেটের কৃতি সন্তান মরহুম এম সাইফুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেছিলেন। এরপর কেটে গেছে বহুদিন, বহুক্ষণ, বহবছর। নদীর গতিপথ বাঁক বদল করেছে বহুবার, মানুষের চিন্তায় ভাবনায় লেগেছে পরিবর্তনের হাওয়া।

সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ সিলেট বৃহত্তর বিভাগীয় অঞ্চল সিলেট শহরের শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নের প্রাণশক্তি। প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হতো যা আজও চলমান। এরপর সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ সিলেটে ২০১৫/১৬ সেশনে প্রথমবারের মত বিএড অনার্স কোর্স চালু হয়। ১৫/১৬ সেশনে বিএড অনার্স কোর্সে ভর্তি হয়েছিলাম আমরা মোট পঞ্চাশ জন। সময় কত দ্রুত ফুরিয়ে যায়, হাওয়ায় হাওয়ায় গল্পগুলো মিশে যায় দিগন্ত নীলিমায়। টিটিসিতে ১ম ব্যাচে পড়ার সুবাদে আমরা পেয়েছি আমাদের শিক্ষকদের অপত্য স্নেহ, মায়া, মমতা। সেইসব শিক্ষকদের চরণে আমাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য, তাঁরা যেন ভালো থাকেন।

জীবন ও জীবিকার তাগিদে এখন সিলেটের ব্লু বার্ড স্কুল এন্ড কলেজ শিক্ষকতা করছি, এর পাশাপাশি সীমান্তিক আইডিয়াল টিচার্স ট্রেনিং কলেজ বিএড কোর্সে এবং উন্মুক্ত বিশ্ব বিদ্যালয়ের বিএড কোর্সে প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছি। নিজে যে বিষয় অনার্স করেছি সেই বিষয়ে এখন কাজ করছি, এখানে ভালো লাগা কাজ করে, আবার একটু হতাশ হই মাধ্যমিক স্তরের একাংশ শিক্ষকদের অবস্থা দেখলে কেননা তাঁদের কাছে পড়ছে আমার, আপনার সন্তান, আত্মীয়-অনাত্মীয়।
আজকের যতটুকু আমি তার সব শিখেছি , জেনেছি আমাদের শিক্ষকদের কাছে। সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ সিলেটের ড. Md Didar Chowdhury স্যার(পরিচালক, মাউশি, সিলেট অঞ্চল,, আরিফ চৌধুরী স্যার, চৌধুরী মামুন আকবর স্যার, প্রিন্সিপাল Misbahuddin Ahmed স্যার, মরহুম সাখাওয়াত স্যার,উম্মে হাবিবা ম্যাডাম অনেকেরই কাছে রয়ে গেছে শেখার ও ভালোবাসার অফেরতযোগ্য ঋণ। বিশেষভাবে ড. দিদার চৌধুরী স্যারের কাছে চিরঋণী, তিনি আমাকে যেভাবে বুঝতে পারেন এভাবে আর কেউ বুঝতে পারেনি। মাস্টার্স অধ্যয়নকালে পেয়েছি আলী স্যারের দেখা, তিনি একজন উৎফুল্ল শিক্ষক। টিটিসিতে ভর্তির প্রথম দিন যাঁর সাথে পরিচিত হয়েছিলাম তিনি সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শামসুল হক স্যার, তিনি তখন আমাদের টিটিসিতে কর্মরত। তিনি নিজহাতে আমার ভর্তি ফর্মটা কলেজ অফিসে জমা দিয়েছিলেন। এখনও দেখা হয়
অসাধারণ এই মানুষের সাথে। শ্রেণিকক্ষের বাহিরে যাঁর স্নেহ মমতা পেয়েছি তাঁর নাম ঢাকা টিটিসির রঞ্জিত পোদ্দার স্যার, তিনি তাঁর শিক্ষার্থীর জন্য নিবেদিত। আরেকজন মানুষের কথা না বললেই নয় তিনি হলেন ড.সলিমুল্লাহ খান স্যার, তিনি আমার লেখা শিক্ষা বিষয়ক গ্রন্থ "শিক্ষা সঞ্জীবনী' গ্রন্থের ভূমিকা লিখে গিয়েছিলেন অতি যত্নে পরম ভালোবাসায়, শিক্ষকের অপত্য স্নেহ মমতায়। শ্রেণিকক্ষের বাহিরেও শেখা যায় তাঁর অনন্য দৃষ্টান্ত আমাদের সলিমুল্লাহ খান স্যার।
৭ম সেমিস্টারে টিচিং প্র্যাকটিসের সময়ে দেখা হয়েছে কয়েকজন অসাধারণ মানুষের সাথে। আমার স্মৃতিতে সিলেট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, লাক্কাতুরা চির অম্লান।

টিটিসিতে বিএড অনার্সে পরিচয় হয়েছে অনেকের সাথে যাদের সাথে আর কথা হয়না, আবার অনেকের সাথে পরিচয় হয়েছে যা মধুর আশীর্বাদ। অনেক সহপাঠী দেখেছি মুখে এক অন্তরে আরেক। আবার হয়তো এমন কোন মানুষের দেখা পেয়েছি যে সত্যিকার অর্থেই মানুষ হয়েছে। শিক্ষার কাজই তো মানুষের মতো মানুষ করা, তার অন্তরাত্মা জাগিয়ে দেয়া। Mark Van Doren একটা উক্তি "The art of teaching is the art of assisting discovery."

আমরা এজন্য অকুন্ঠচিত্তে বলছি - আমরা ১ম ব্যাচ আপনাদের কাছে কতভাবেই ঋণী। স্রষ্টা আপনাদের ভালো রাখুন যেখানে যে অবস্থায় আছেন।

আমাদের প্রাণের বিদ্যাপীঠ 'সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ সিলেট' এর ২৫ বছর পূর্তি হলো, এই শুভক্ষণে বিএড অনার্স ১ম ব্যাচের পক্ষ থেকে সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষাথীবৃন্দসহ সবাইকে উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।



26/04/2026

📕🖊️📚 একজন আদর্শ শিক্ষকের ৫টি অনন্য গুণ📚

একজন শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না—তিনি ভবিষ্যৎ গড়েন, মানুষ তৈরি করেন। তাই একজন আদর্শ শিক্ষকের মধ্যে কিছু বিশেষ গুণ থাকা অপরিহার্য—

👨‍🏫📖 ১. গভীর জ্ঞান ও উপস্থাপনা দক্ষতা
শিক্ষকের নিজের বিষয়ের ওপর দৃঢ় দখল থাকতে হবে এবং সেই জ্ঞানকে সহজ, আকর্ষণীয় ও বোধগম্যভাবে শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরার ক্ষমতা থাকতে হবে।

🧘‍♂️🤝 ২. ধৈর্য ও সহমর্মিতা
প্রতিটি শিক্ষার্থী আলাদা। তাই তাদের বুঝতে পারা, সময় দেওয়া এবং ধৈর্যের সঙ্গে শেখানোর মানসিকতা একজন শিক্ষকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ।

⚖️🌟 ৩. নৈতিকতা ও আদর্শ আচরণ
একজন শিক্ষকই শিক্ষার্থীদের জীবনের প্রথম অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। তার সততা, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

🗣️💬 ৪. কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা
স্পষ্টভাবে বোঝানো, মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষমতা শিক্ষাদানের সফলতার মূল চাবিকাঠি।

🚀🎯 ৫. অনুপ্রেরণা জাগানোর ক্ষমতা
একজন আদর্শ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বপ্ন দেখার সাহস জাগান, আত্মবিশ্বাস তৈরি করেন এবং তাদের জীবনের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পথ দেখান।
🌱💡 একজন ভালো শিক্ষক শুধু পাঠ্যবই শেখান না—তিনি শেখান জীবনকে।


19/04/2026

বাংলাদেশের শিক্ষা

শিক্ষাকে কেবলই আমরা কিছু পরীক্ষা, নম্বরের মাঝে আটকে রাখছি। প্রতিটি দেশের শিক্ষায় তাদের নিজস্ব ঘরানার কিছু দর্শন থাকতে হয়, আছেও। আমাদের এই অঞ্চলের শিক্ষায়ও ছিলো। কিন্তু এখন সব শিক্ষা (উচ্চশিক্ষাও) কেবলই পরীক্ষা নির্ভর, জিপিএ নির্ভর, হ'য়ে যাচ্ছে। অবশ্য নিরেট "পেশাভিত্তিক শিক্ষাও" এখন অপেশাদারিত্বে গমনোদ্যত। তাই "শিক্ষা" নিয়ে নতুন ভাবনা দরকার। - এবং এটি করবেন শিক্ষকগণই।

আমাদের স্মরণে রাখতে হবে - যেমনই হোক - একটি শিক্ষানীতি পেতে সময় লেগেছিলো ৪০ বছর - ভাবুন তো!

যত রকমের শিক্ষাই আনুন - সেটি তেমন সমস্যা না, কিন্তু সেখানে যেন বাংলাদেশের শিক্ষাটি থাকে। এ দেশের মাটি মানুষ, এই আবহাওয়া জলবায়ু, ভূ-প্রকৃতিকে মেনে, দেশের মানুষের জন্য, দেশের ১৮ কোটি মানুষ বিবেচনায় যেন শিক্ষাটি হয়।

"যারা বিষয়ী তারা বিশ্বকে বাদ দিয়ে বিশেষকে খোঁজে। যারা বৈরাগী তারা পথে চলতে চলতেই বিশ্বের সঙ্গে মিলিয়ে বিশেষকে চিনে নেয়।"

@ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,
পশ্চিম-যাত্রীর ডায়ারি, হারুনা-মেরু জাহাজ,
১১ই ফেব্রুয়ারি, ১৯২৫

"যাঁরা যথার্থ গুণী তাঁরা একটি সহজ কবচ নিয়ে পৃথিবীতে আসেন। ফরমাশ তাঁদের গায়ে এসে পড়ে, কিন্তু মর্মে এসে বিদ্ধ হয় না। এই জন্যেই তাঁরা মারা যান না, ভাবীকালের জন্যে টিকে থাকেন। লোভে প'ড়ে ফরমাশ যারা সম্পূর্ণ স্বীকার ক'রে নেয় তারা তখনই বাঁচে, পরে মরে।"

@ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,
পশ্চিম-যাত্রীর ডায়ারি, হারুনা-মেরু জাহাজ,
২৪শে সেপ্টেম্বর, ১৯২৪

ড. সুদীপ্ত হাননান
অধ্যাপক, বাংলা
বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর
বাংলাদেশ, ঢাকা।

Photos from আমাদের শিক্ষা ভাবনা's post 14/04/2026

শুভ নববর্ষ ১৪৩৩! স্কলার্স হোম, শাহী ঈদগাহ-এর উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছে এক বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। দিনব্যাপী এই আয়োজনে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং দেশীয় সংস্কৃতির অপূর্ব উপস্থাপনা অনুষ্ঠানটিকে করে তুলেছে প্রাণবন্ত ও অর্থপূর্ণ।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় বিভিন্ন স্টল উদ্বোধনের মাধ্যমে। শিক্ষার্থীদের নিজস্ব উদ্যোগে সাজানো পিঠা-পুলি, নানান গ্রামীণ খাবার ও ঐতিহ্যবাহী খাদ্যের স্টলগুলোতে ফুটে উঠেছিল বাংলার গ্রামীণ জীবন ও সংস্কৃতির মধুর আবহ। অধ্যক্ষ মহোদয় ও সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ সম্মিলিতভাবে ফিতা কেটে স্টলসমূহের উদ্বোধন করেন। এরপর শুরু হয় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পর্ব। প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা উপস্থাপন করে চমৎকার সব পরিবেশনা। বিশেষ করে দুইজন ছাত্রী উপস্থাপকের সাবলীল বাচনভঙ্গি, শুদ্ধ উচ্চারণ ও আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনা দর্শকদের মুগ্ধ করে রাখে। অনুষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে গান, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশিত হয়। প্রতিটি পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীবনবোধের গভীর তাৎপর্য প্রকাশ পায়। নৃত্য ও সংগীতের সঙ্গে কুলা, কৃষকের টুপি প্রভৃতি হারিয়ে যাওয়া বা বিলুপ্তপ্রায় গ্রামীণ উপকরণ শিল্পসম্মতভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা অনুষ্ঠানে এক ভিন্নমাত্রা যোগ করে। শিক্ষার্থীরা লুঙ্গি, শাড়ি, টুপি ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণির মানুষের সহাবস্থানের চিত্র তুলে ধরে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চেতনার সুন্দর বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।সার্বিকভাবে, সুসংগঠিত ও পরিকল্পিত এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, সাংস্কৃতিক চেতনা এবং বাঙালি ঐতিহ্যের প্রতি গভীর অনুরাগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

#নববর্ষ

Photos from আমাদের শিক্ষা ভাবনা's post 12/04/2026

বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ২০২৬ সিলেটের আঞ্চলিক পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান Sylhet Agricultural University (SAU)-এর ক্যাম্পাসে গত ১১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ সকাল ৮:৩০ ঘটিকায় বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের সিলেট আঞ্চলিক পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে, যা এক মনোমুগ্ধকর ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য Prof. Dr. Md. Alimul Islam, যিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড মো:দিদার চৌধুরী, অধ্যাপক এটিএম মাহবুব ই এলাহী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সম্মানিত শিক্ষাবিদ Prof. Dr. Mrityunjoy Kundu। এই আঞ্চলিক পর্বে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তিনটি ক্যাটাগরিতে (জুনিয়র, সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারি) অংশগ্রহণ করে। প্রতি বছরের মতো এবারও বিপুল সংখ্যক—প্রায় এক হাজারের অধিক প্রতিযোগীর অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে Bangladesh Biology Olympiad (BDBO) সিলেট অঞ্চল। এর মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে জীববিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা, গবেষণামুখী চিন্তাভাবনা গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানী তৈরিতে অনুপ্রেরণা দেওয়া।ল্লেখ্য, আঞ্চলিক পর্বে উত্তীর্ণ মেধাবী শিক্ষার্থীরা পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করবে।

Want your school to be the top-listed School/college in Sylhet?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


Sylhet
3100