12/08/2021
*বে-নামাজির লাঞ্চনা*
কেয়ামত দিবসে মু'মিনগন আল্লাহ তায়ালার কুদরতি পায়ে সিজদা দেয়ার পরম সৌভাগ্য লাভ করবে। আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে সিজদা করার আহবান করা হবে। যারা দুনিয়াতে নামাজ পড়তো, আল্লাহ তায়া’লা কে সেজদাহ করত। তারা সেদিন আহবান শুনে তাড়াতাড়ি সেজদাহ-এ লুটিয়ে পড়বে। আর অমুসলিম, মুনাফিক ও বে-নামজিরা ইচ্ছা করেও সেদিন সিজদাহ দিতে পারবেনা। তাদের কোমর কাঠের ন্যায় সোজা হয়ে যাবে।
বে-নামাজিরা সেদিন সকলের সামনে অপমানিত হবে, লজ্জায় তাদের দৃষ্টি অবনমিত হয়ে যাবে। সবাই দেখে চিনে ফেলবে এরা দুনিয়াতে নামাজ পড়তোনা, আল্লাহকে সেজদাহ করতোনা। তখন মা -বাবা, ছেলে-মেয়ে, স্বামী-স্ত্রী এবং আত্মীয়স্বজন সকলের সামনে লাঞ্চিত হতে হবে।
দুনিয়াতে এরা নামাজ পড়েনি অথচ তাদের শক্তি সামর্থ্য ছিল। তারা সবল ছিল কিন্তু আল্লাহকে সিজদাহ করার ইচ্ছা তাদের হয়নি। কেয়ামতের দিন তাদের ইচ্ছা হবে সকলের সাথে রাব্বে কারীমকে সিজদাহ করার কিন্তু তারা শক্তি পাবেনা। তাদের কোমর সোজা কাঠের ন্যায় শক্ত করে দেয়া হবে। সবাই দেখবে এরা কাফিরদের ন্যায় দাঁড়িয়ে আছে। সেজদাহ করার শক্তি এদের থেকে কেঁড়ে নেয়া হয়েছে।
সুরাহ আল-ক্বালাম-এ আল্লাহ বলেন
يَوْمَ يُكْشَفُ عَن سَاقٍ وَيُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ فَلَا يَسْتَطِيعُونَ.
خَاشِعَةً أَبْصَارُهُمْ تَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ ۖ وَقَدْ كَانُوا يُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ وَهُمْ سَالِمُونَ
কেয়ামতের দিন তাদেরকে সিজদাহের জন্য আহবান করা হবে কিন্তু তারা এতে সক্ষম হবেনা।
তাদের চক্ষু নুয়ে যাবে, তারা লাঞ্চিত হবে, এবং তাদেরকে (দুনিয়ায়) সিজদাহের জন্য ডাকা হতো (কিন্তু তারা সিজদাহ করতো না) অথচ তারা সবল ছিল।
চিন্তা করুন আমরা কিয়ামতের মাঠে অবস্থান করছি, আল্লাহকে সিজদাহ করার জন্য আহবান করা হলো, আমি সিজদাহ করতে চাচ্ছি কিন্তু আমি সিজদাহ করতে পারছিনা, আমার কোমর শক্ত করে দেওয়া হয়েছে। সকল মুসলমান সিজদাহে চলে গেছে। কিন্তু আমাকেও কাফিরদের মত দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। আমার অবস্থা তখন কেমন হবে?
তাই শক্তি-সময় থাকতে কাজে লাগাই, আল্লাহর বিধান নামাজ পড়ি।
মনে রেখো আজ শক্তি আছে কিন্তু ইচ্ছা করে নামাজ ছেড়ে দিচ্ছ, সেদিন ইচ্ছা হবে তবে শক্তি থাকবেনা।
আল্লাহ আমাদেরকে নামাজীদের অন্তর্ভুক্ত করে নিন। আমিন।
জাকারিয়া বকর
১৩/০৮/২০২১
০৪ মুহাররাম ১৪৪৩ হিজরি