27/08/2025
বিশ্বব্যাপী প্রকৌশলী আর টেকনিশিয়ানের পার্থক্য একেবারেই স্পষ্ট। প্রকৌশলীরা (যারা অন্তত স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছে) প্রশিক্ষিত হয় নকশা, সমস্যা সমাধান আর নতুন উদ্ভাবনে। তাদের কাজ হলো পরিকল্পনা করা, তত্ত্বাবধান করা এবং নেতৃত্ব দেওয়া। আর টেকনিশিয়ানরা (যারা সাধারণত ডিপ্লোমা বা অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রিধারী) প্রশিক্ষিত হয় যন্ত্রপাতি চালানো, রক্ষণাবেক্ষণ আর বাস্তবায়নের কাজে। উভয়েই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এক নয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, জাপান কিংবা ভারত—সব দেশেই এই পার্থক্যকে আইন দ্বারা সুরক্ষিত করা হয়েছে। সেখানে “ইঞ্জিনিয়ার” উপাধি ব্যবহার করার অধিকার কেবলমাত্র ডিগ্রিধারী ও স্বীকৃত প্রকৌশলীদের।
প্রতিবছর বাংলাদেশে সেরাদের সেরা ১২০০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয় বুয়েটে। তাদের মধ্যে প্রায় সবাই উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাবে, বহুজাতিক কোম্পানিতে কাজ করবে, অথবা বিসিএসের জন্য প্রস্তুতি নেবে। বাস্তবে খুব কম জনই সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে আবেদন করবে। তবুও তারা আন্দোলনে নেমেছে—নিজেদের স্বার্থে নয়, বরং বাংলাদেশের প্রকৌশল পেশার বৃহত্তর স্বার্থে। কারণ সত্য হলো, বাংলাদেশের সব শিক্ষার্থীর কাছে বুয়েটের শিক্ষার্থীদের মতো সুযোগ-সুবিধা নেই। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার তরুণ-তরুণী প্রকৌশলে স্নাতক শেষ করছে, কিন্তু তাদের অনেকেই ভালো চাকরির সুযোগ পাচ্ছে না। সরকারি প্রকৌশল পদগুলো তাদের জন্য একমাত্র ভরসা। তাই এসব পদ ডিগ্রিধারী প্রকৌশলীদের জন্য সংরক্ষিত হওয়াটাই ন্যায্য।
কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বাংলাদেশের অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর ধরে কোটা আর পদোন্নতির জোরে এসএসসি বা ডিপ্লোমা পাস কর্মচারীরা উঠে গিয়েছে ম্যানেজার, ডেপুটি ম্যানেজার বা সিনিয়র ম্যানেজারের মতো পদে। এদের মধ্যে অনেকেই প্রকৃতপক্ষে কাজ জানে না, বরং দুর্নীতি, রাজনৈতিক যোগসাজশ আর সিন্ডিকেটই তাদের মূল শক্তি। নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বের হলেই এরা মামলা দিয়ে প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়।
আজ যারা আন্দোলনে নেমেছে, তারা এই বৈশ্বিক মানদণ্ডকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে লড়ছে। তাদের দাবি একেবারেই যুক্তিসঙ্গত, প্রকৌশলীর পদ কেবল ডিগ্রিধারীদের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে, ডিপ্লোমাধারীদের আলাদা টেকনিশিয়ান ক্যারিয়ার ট্র্যাক তৈরি করতে হবে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের সিন্ডিকেট সংস্কৃতি ভেঙে দিতে হবে এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রকৌশল পেশাকে সুসংহত করতে হবে। উল্লেখযোগ্য হলো, এই আন্দোলন কোনোভাবেই বুয়েট শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়। তারা তো এমনিতেই এসব চাকরির জন্য আবেদন করে না। তারা দাঁড়িয়েছে তাদের সহপাঠী, জুনিয়র আর দেশের হাজার হাজার স্নাতক প্রকৌশলীর পাশে, যারা প্রকৃতপক্ষে এসব পদের যোগ্য এবং যাদের ভবিষ্যৎ এই ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল।
আমি বুয়েটের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সম্পুর্ণ সমর্থন করি।
Kamruzzaman Kamrul Bhaia
Engineer at GeoCal. Inc.
Georgia State University | BUET (Civil) | IBA (DU)