মাসনা নিয়ে ব্যঙ্গ করেন? অথচ মাসনা, সুলাসা, রুবাআ সর্বপ্রথম কে ব্যবহার করেছেন? কে মাসনা, সুলাসা, রুবাআর বিধান দিয়েছেন?
মহা গ্রন্থ আল-কুরআনের শব্দ আপনি ব্যবহার করলে বারাকাতান? উনি ব্যবহার করলে তামাশা? অচল হয়ে যাওয়া বিধান নিয়ে আপনি নড়াচড়া করলে সুন্নাত জিন্দাকারী মহান ব্যক্তি, মুহয়িয়ুস-সুন্নাহ? উনি নাড়া দিলে অন্য কিছু?
বিয়ের বিধানটিই তো সুস্থ, সক্ষম, সামর্থবানদের জন্য। তাই মহান আল্লাহ তো সুস্থ, সক্ষম, সামর্থবান মানুষের বিবেচনা সামনে রেখে মূল বিধান দিয়েছেন; মাসনা, সুলাসা, রুবাআ। তার সাথে ‘ফা’ এনে পরবর্তী ইসতিসনাঈ বিধান দিয়েছেন ওয়াহিদাহ; যা কিছুটা অসুস্থ, অক্ষম, দুর্বল তবে কোনোরকম চালিয়ে নেওয়ার মতো ব্যক্তিদের জন্য প্রজোয্য। বাংলাদেশের মতো দরিদ্র, দুর্বল, অসুস্থ, হীন মানসিক এরিয়ায় কুরআন অবতীর্ণ হলে হয়ত প্রথমে মূল বিধান ওয়াহিদাহ এবং পরে সক্ষমদের ইসতিসনা করে মাসনা, সুলাসা, রুবাআর কথা বলতেন।
আরে ভাই, ওয়াহিদাহ এর যে কারণ কুরআনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মতো অক্ষম ও মানসিক অসুস্থ এরিয়ায় তো আরো মুসতাসনা আছে, যা হাদীস ও ফিকহ দ্বারা প্রমাণিত। অর্থাৎ : (فإن خفتم في الواحدة فالصوم)।
হাদীসে রয়েছে :
المؤمن القوي خير من المؤمن الضعيف
(সবল মুমিন দুর্বল মুমিন থেকে উত্তম)
কুরআনের বিধানের প্রথম অংশ তথা : মাসনা, সুলাসা, রুবাআ এই বিবেচনায় এসেছে; যেহেতু তারা অগ্রগণ্য।
দ্বিতীয় অংশ তথা ‘ফাওয়াহিদাহ’ المؤمن الضعيف এর বিবেচনায় এসেছে। আর হাদীসে সাওমের কথা المؤمن الأضعف এর বিবেচনায় এসেছে।
আমি আপনার সমকালীন দেখে এই কথাগুলো আপনার মনের বিপরীত হলে হয়ত এগুলোকে অপব্যাখ্যা বলবেন। কিন্তু আপনার জন্মের পূর্বের কোনো আলেম এই কথাগুলোই বললে, কী সুন্দর তাফসীর! বলে মুগ্ধ হতেন। এমনকি অপ্রমাণিত অযৌক্তিকও অনেক কিছু সুন্দর তাফসীর মনে হয়। অথচ এখানে কুরআন হাদীসের নির্যাসের বাহিরে একটি কথাও বলা হয়নি।
Imam Abu Hanifa R. Fatwa and Research Institute
কুরআন - সুন্নাহর আলোকে ইসলামি আইন গবেষণা কেন্দ্র
গাড়ি রাস্তায় দাঁড়ানো৷ পুরুষ নামায পড়তে মসজিদে৷ নামাযী নারী অসহায়ের মতো গাড়িতে বসা৷ ব্যবস্থাপনার অজুহাতে নামায রেখে বসে থাকার শরীয়ত বিরোধি এই পরিস্থিতির দায় কার? বর্তমান সময়ের সামাজিক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের? মসজিদের ইমাম ও সাধারণ আলেমদের? সমাজের গণ্যামান্য মুফতিদের? কিতাবের ঐ ফতোয়ার যা এই ক্ষেত্রে মোটেও প্রজোয্য নয়?
তবে আমি আমার পরিবার নিয়ে পথিমধ্যে সালাতের মুখোমুখি হলে তাদেরকে গাড়িতে বসিয়ে রাখি না৷ মসজিদের বারান্দায় সালাত পড়ে নিতে বলি৷ ফরয আদায়ে কারো ট্যারা চোখ দেখার পরোয়া করতে নিষেধ করি৷ আলেমরা এমন করলে বিষয়টি ইজি হবে৷ মানুষের চোখ কান খোলবে।
কুরবানীর ইতিহাস সাধারণ ইতিহাস নয়। এটি সর্বোচ্চ ত্যাগ ও নাজরানা প্রদর্শনের ইতিহাস। তাই প্রিয় বস্তু প্রাণীকে আল্লাহর নামে উৎসর্গের মাধ্যমে এই বিধানকে জীবিত রাখা হয়েছে।
অতএব যে প্রাণী কুরবানী করা হয় তার গোশত খাওয়া বৈধ হলেও কেবল গোশত খাওয়াকে টার্গেট বানালে কুরবানীর মূল উদ্দেশ্য সাধিত হয় না। যদি আল্লাহ এমন না বলতেন, “ তোমরা খাও এবং অভাবগ্রস্ত ও সাহায্যপ্রার্থীদের খাওয়ায়।”; তবে তো উৎসর্গকৃত প্রাণী হিসেবে এর গোশত সম্পূর্ণ বিলিয়ে দেওয়া বাধ্য হতো। তবে কুরআন ও সুন্নাতের আলোকে আমরা খাওয়ার অনুমোদন পেয়েছি বলে কি শুধু নিজে খাব? পুরো বছরের জন্য ফ্রিজ ভরে রাখব? নামমাত্র একটু দিয়ে পুরোটা নিজের জন্য রাখব? এমন হলে কুরবানীর উদ্দেশ্য আদায় হবে না। বরং নাম মাত্র খেয়ে যত বেশি অভাবগ্রস্ত ও সাহায্যপ্রার্থীদের মাঝে বিলাতে পারবেন ততোই কুরবানীর উদ্দেশ্য সাধন হবে এবং অধিক নেকি অর্জন হবে।
যদি কুরবানীর মাংস ভক্ষণকে টার্গেট বানিয়ে ফেলেন, তবে কুরবানীর দরকার কি? ঈদের আগে পরে বাজার থেকে ৫-১০-২০-৩০- হাজার টাকার মাংস কিনে নিলেই হয়। অনেক দীন খেতে পারবেন। এর চেয়ে ভাল প্রতিদিন টাটকা কিনে খাবেন। এত টাকা দিয়ে কুরবানী করে ফ্রিজে মাংস বাসি করে অস্বাদু করে খেয়ে লাভ কী?
আলহামদুলিল্লাহ, অনেকে আছেন পুরো গরুই বিলিয়ে দেন। তাদের থেকে আমাদেরও শিক্ষা নেওয়া উচিত।
“আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না কুরবানীর প্রাণীর গোশত ও রক্ত। বরং তার কাছে কেবল তোমাদের তাকাওয়া পৌঁছায়।..(হাজ্জ : ৩৭
প্রিয় নাবী (সা.) এর একাধিক বিয়ে
একাধিক বিয়ে নিয়ে বারবার পোস্ট করার ইচ্ছা ছিলো না। কিন্তু ইসলামের একটি চিরাচরিত বৈধ বিধান, এমনকি ক্ষেত্র বিশেষ ওয়াজিব বা সুন্নাহ পর্যায়ের একটি বিধান নিয়ে একদল আলেমকে যখন ট্রল করতে দেখি, তখন আর না লিখে পারি না। তাদের ট্রলের মাঝে পশ্চিমা সভ্যতার সূর শতভাগ বিদ্যমান। এরা একজন সামর্থবান আলেম বা মুসলিমের বিয়ে যেই সূরে ট্রল করে, একই সূরে নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষীরা নাবিজী (সা.) এর বিয়ে নিয়ে ট্রল করে। এসব আলেম নাবিজীর বিয়ের বিভিন্ন উত্তর খোঁজে বের করলেও আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদের জন্য দেওয়া বিধানের হিকমাহ খোঁজে পায় এবং তা মেনে নিতে পারে বলে মনে হয় না। অথচ বিয়ের বিধানের ক্ষেত্রে সাধারণ মুমিন ও নাবিজীর মাঝে পার্থক্য কেবল চারের ভিতর সীমাবদ্ধ ও চারের অধিক নিয়ে। নাবীর জন্য চারের অধিক বৈধ, আর উম্মাতের জন্য একের অধিক বৈধ হয়ে চারে গিয়ে সীমাবদ্ধ।
এবার আসি, অনুমোদনের ক্ষেত্রে নাবী ও উম্মাহ কি বেশকম? এমনকি যে, নাবীর জন্য বিভিন্ন কারণে একাধিক বিয়ের বিধান ফরয বা ওয়াজিব কিছু? যেমন তাহাজ্জুদের বেলায় আলেমরা বলে থাকেন? নাকি জাস্ট বৈধ? বিবাহের অনুমোদনের সকল আয়াত খোলে দেখতে পারেন, এটি নাবীর জন্য জাস্ট বৈধ ছিলো।
(..إنا أحللنا...، ترجي من تشاءمنهن.....، لا يحل لك النساء من بعد) আয়াতগুলো এর পক্ষে সুস্পষ্ট দলীল।
উম্মাহর জন্য নাবীর অনুকরণে একাধিকের সুন্নাহটিও নাবীর জন্য নেই। জাস্ট বৈধতা ও অনুমোদনের আলোকে বিভিন্ন হিকমায় নাবিজী একাধিক বিয়ে করেছেন এবং বিভিন্ন হিকমার কারণেই আল্লাহ তাকে জাস্ট অনুমোদন দিয়েছেন। কারণ বাধ্য করলে তিনি সমস্যা দূর করতে কতজনকে করবেন?
এবার দেখি, একাধিক বিয়েতে উম্মাহ যে জিনিসগুলো ফেইস করে নাবিজী তা করেছেন কি না? জি। করেছেন। এমনকি উম্মাহর কেউ কেউ একাধিক বিয়েতে বিভিন্ন সমস্যা ফেইস করলেও এমনও অনেকেও রয়েছে, যারা কোনো সমস্যার শিকার হননি। অথচ একাধিক বিয়ের কারণে কুরআন ও সহীহ হাদীসে বর্ণিত কিছু সমস্যা আমরা দেখব যেগুলো কেবল আমার নাবীকে ফেইস করতে হয়েছে।
মনে রাখবেন, যতদিন খাদিজা (রাযি.) একা ছিলেন, ততোদিন নাবিজীকে পারিবারিক কোনো জটিলতার পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি। কিন্তু খাদিজা (রাযি.) এর ইন্তেকালের পর যখনই একাধিক বিয়ে করেছেন, তাকে পারিবারিক বিভিন্ন ঝামেলায় পড়তে হয়েছে।
* পারিবারিক ঝামেলায় পড়ে নিজের উপর খালিস বৈধ বস্তু হারাম করেন। সুরা তাহরীম নাযিল হয়।
*পারিবারিক সমস্যায় পড়ে সবাইকে একসাথে তালাক দিতে মনস্থ করেন। সমস্যাটি ছিলো, পরিবারের সম্মিলিত দাবী খোরাক বাড়ানো। আয়াত নাযিল হয়, "আল্লাহ ও তার রাসূল চাও, নাকি দুনিয়ার ভোগ বিলাস চাও?" যাক তারা জীবিকায় ছাড় দিয়ে নাবিজীকে চাওয়ায় সমস্যার সমাধান হয়। আজ তো আপনি বলবেন, এক বউয়ের খরচ টানতে পারছে না, করছে একাধিক, একই প্রশ্ন নাবিজীর বেলায় নাস্তিকদের।
* পারিবারিক সমস্যায় পড়ে এক মাস সবার সাথে সঙ্গ ত্যাগের কসম করেনে। ইলার বিধান অবতীর্ণ হয়।
* রামাযানের শেষ দশকে ইতিকাফে বসে গেছেন। বিবিদের জেদাজেদি দেখে রাগ করে বলেন, “آلْبِرَّ تُرِدْنَ“? এই বলে তার নিয়মিত আমল ইতিকাফ ত্যাগ করেন এবং পরে তা কাযা করেন।
* একজন স্ত্রী নাবীর জন্য খাবার পাঠান। আয়েশা রাগ করে সেটি ছুড়ে মারেন এবং বাটি ভেঙ্গে যায়।
উল্লেখিত প্রতিটি সমস্যাই সতীনগত এবং একাধিক বিয়ের কারণে নাবিজীকে ফেইস করতে হয়েছে৷
এক কথায়, একাধিক বিয়েতে পারিবারিক জীবনে এসব সমস্যা ঘটা স্বাভাবিক। এই সমস্যার অর্থ এই নয় যে, আপনি একটি বৈধ বিধানকে ঘৃণার সাথে দেখবেন। সমস্যা ফেইস করলে মোকাবিলার সাহস না থাকলে আপনার জন্য ঐ কাজ জরুরী নয়। বাকী অন্যের বৈধ কাজের সমালোচনা বা সেটিকে ঘৃণার সাথে দেখা কোনো অবস্থায় বৈধ নয়। পারিবারিক এমন সমস্যা তো একাধিক কেন? এক বিয়েতেও রয়েছে। যার কারণে পশ্চিমারা বিয়ে থেকে মুখ ফিরিয়ে লিভ টুগেদারে জড়িয়েছে। আপনি কি এটাকে সমর্থন করেন?
বিয়ে একটি করুন আর একাধিক করুন, স্বামী স্ত্রী একে অপরের হক আদায় করা ফরয। আজ কতজন আছেন যারা এক বিবির হক যথাযথ আদায় করতে পারছেন বা স্ত্রীরা সেটাকে যথাযথ বলে মেনে নিয়েছে? সকল স্ত্রীই বা কি স্বামীর হক যথাযথ আদায় করতে পারছে? অনেক ক্ষেত্রে তো এমন দেখা যাবে, স্বামীর হক আদায় করতে স্ত্রীর জন্য জরুরী হলো, স্বামীর আরেকটি বিয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া। তাই বলে কি পশ্চিমাদের মতো স্বয়ং বিয়ে নিয়ে ঘৃণা ছড়াবেন এবং লিভটুগেদারের প্রতি উদ্বুদ্ধ করবেন?
কালো মন নিয়ে নফল নামায ও তাসবীহ তাহলীল এর আগে মন সাদা করার মেহনত করুন৷ এতে লাভ অনেক বেশি৷ নতুবা নফলের শ্রম ব্যর্থ হবে৷
একাধিক বিয়ে নিয়ে কিছু আলেমের নেগেটিভ চিন্তা ও তাদের বক্তব্য থেকে মনে হচ্ছে, সুন্নাতের অর্থের পরিবর্তন ঘটেছে৷ সুন্নাতের সংজ্ঞার পরিধি মনে হচ্ছে এই মাসআলায় এসে সঙ্কুচিত হয়ে গেছে৷
শ্রদ্ধেয় মাওলানা আব্দুল মতীন সাহেবের একটি বক্তব্য থেকে তাই মনে হলো৷ তাহলে তো খানকায় যেসব সুন্নাহর সবক দেওয়া হয়, এর 80% অনেক আগেই বাদ দেওয়ার কথা৷
আল্লাহ বলেলেন, তোমাদের পছন্দমত নারী বিয়ে করো 2/3/4 টি করে, আর যদি সমতা বজায় রাখতে না পারার আশঙ্কা হয় তবে একটি৷
নাবিজী বললেন, বিয়ে আমার সুন্নাত৷ করলেন একাধিক৷ উম্মাত বৃদ্ধির প্রতি উৎসাহিত করলেন৷
খুলাফায়ে রাশেদার চারোজন একাধিক বিয়ে করলেন৷
আগেকার শ্রেষ্ট নাবী যাদের অনুসরণ করতে বলা হলো এবং যাদের কথা কুরআনে এলো, তাদের বিয়ের সংখ্যা একাধিক;
এত কিছুর পরেও আপনারা কোথায় পেলেন যে, বিয়ে একটি সুন্নাত আর দুটি কোনোরকম বৈধ? এটা শরীয়তের অপব্যাখ্যা ছাড়া কিছু?
মেনে নিলাম, কেবল বৈধ৷ তো কুরআন দ্বারা প্রমাণিত বৈধ বিষয়ে নেগেটিভ ধারণা তৈরী করা বা নেগেটিভ ধারণা বজায় রাখা বৈধ আছে কি?
দ্বিতীয় বিয়ে ও ইনসাফ
দ্বিতীয় বিয়ের প্রশ্নে এলেই একদল মুসলিম পশ্চিমা সভ্যতা ও নাস্তিকদের সাথে সূর মিলিয়ে ইনসাফ ইনসাফ বলে চিৎকার শুরু করেন এবং ইনসাফ সম্ভব না হওয়ার দোহাই তুলেন। তবে কি আল্লাহ তাআলা দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ বিয়ের বিধান না বোঝে দিয়েছেন? এই বিধানে নারীর হক নষ্ট হবে সেটি মহান আল্লাহ বোঝেননি? এটাই তো পশ্চিমাদের প্রশ্ন।
একজন আলেম সারা জীবন পড়লেন, (فعل الحاكم لا يخلو عن الحكمة) এবং আল্লাহ সর্বোচ্চ হাকিম, তারপরও তিনি কিভাবে এই অভিযোগ তুলতে পারেন?
আপনি আর্থিকভাবে দুর্বল, আপনি শারিরিকভাবে দুর্বল, আপনি মানসিকভাবে দুর্বল, আপনি স্ত্রীর কাছে দুর্বল, ইনসাফ করার ক্ষেত্রে আপনি অপরাগ; সেটি আপনার ব্যাপার। তাই বলে একটি কুরআনী বিধান, সকল নাবীর সুন্নাহ, খলীফাদের সুন্নাহ, সাহাবাদের সুন্নাহ; এমন বিধান নিয়ে আপত্তি কেন? যিনি এই বিধান পালন করবেন, এটি তার ব্যাপার। আপনি তাকে সরাসরি ইনসাফের নসীহত করতে পারেন।
অনেক আগে আমার এক আত্মীয়ার বিয়েতে মহর ৮ তুলা থেকে নামিয়ে ৭ তুলার আলোচনা চলছিলো, অজুহাত হিসেবে বলা হলো, ৮ তুলা হলে যাকাত চলে আসবে, প্রতি বছর যাকাত দেওয়া সম্ভব হবে না। কনের পিতার পক্ষ থেকে এই অজুহাতে আমি অবাক হলাম এবং আমি আপত্তি করে বললাম, ছেলে পক্ষ যেখাতে ৮ তুলা দিতে রাজী, সেখানে এই অজুহাত কেন? এটা তো ভাল। যাকাত আসবে, যাকাত দিবে, গরীবের সহযোগিতা হবে, টাকা না থাকলে এই ৮ তুলা থেকেই যাকাত দিবে, প্রতি বছর এই স্বর্ণ থেকে যাকাত দিলে যখন স্বর্ণ সাড়ে সাত তুলার নিচে চলে আসবে, তখন তো আর যাকাত দিতে হবে না।
ইনসাফের অজুহাতে দ্বিতীয় বিয়েতে সামগ্রিক আপত্তি কিছুটা এমন। যেমন বাঙ্গালীরা যথাযথ যাকাত দেয় না বলে আপনি বললেন, ধনী হলে যাকাত আসবে, যাকাত দেওয়া কঠিন, তাই ধনী হওয়া যাবে না। তাছাড়া আল্লাহ তো ধনী হতে উৎসাহিত করেননি। ধনী হওয়া বৈধ, কিন্তু যাকাত দেওয়া ফরয, অতএব বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যাকাতের ভয়ে ধনী হওয়া এড়িয়ে যাওয়া করণীয়। সৌদি আরবে যেহেতু সরকারী ব্যবস্থাপনায় যাকাত নেওয়া হয়, সেখানে এই বিধান পালন সহজ, সুতরাং সৌদির মানুষ ধনী হলে সমস্যা নেই।
এবার আসি মূল মাসআলায়। ইসলাম বলুন আর যেকোনো ধর্ম বা ধর্মহীনতা বলুন, ইনসাফ বা সুবিচার এমন একটি নীতি, যা সকলের কাছেই জরুরী এবং সর্বক্ষেত্রে জরুরী। কেবল দ্বিতীয় বিয়ের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। এক বিয়ে বলুন আর চার বিয়ে বলুন, সর্বক্ষেত্রে ইনসাফ জরুরী। যারা এক বিয়ে করেছেন, তাদের স্ত্রীদের থেকে জরীপ নিয়ে বলুন, কত পার্সেন্ট ইনসাফ করতেছেন? তাই বলে কি পশ্চিমাদের মত এক বিয়েরও বিরোধিতা করে লিভ টুগেদার উত্তম হওয়ার আওয়ায তুলবেন?
বিয়ের বিষয় বাদ দিয়ে অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশে ইনসাফ কায়েম হয়ে গেছে? যেখানে নিরপরাধ জেলে থাকে বা ফাঁসিতে ঝুলে, আর অপরাধি খোলা মাঠে রাজত্ব করে বেড়ায় সেখানে ইনসাফের প্রশ্ন কেবল দ্বিতীয় বিয়েতে কেন?
যেখানে দ্বীনের কেন্দ্র মাদরাসার ক্ষেত্রে হাজারো না-ইনসাফির প্রশ্ন রয়েছে। ৭০-৮০% মুহতামিম নাকি ইনসাফ করেন না; সেখানে ইনসাফের প্রশ্ন কেবল দ্বিতীয় বিয়েতে কেন?
এক কথায়, ইনসাফ একটি জরুরী সামগ্রিক বিধান, যা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে জরুরী। বাবা-মা সন্তানের প্রতি, সন্তান বাবা-মার প্রতি, স্বামী স্ত্রীর প্রতি, স্ত্রী স্বামীর প্রতি, ভাই বোনের প্রতি এবং বোন ভাইয়ের প্রতি, রাষ্ট্র নাগরিকদের প্রতি, নাগরিকরা রাষ্ট্রের প্রতি, প্রতিবেশির প্রতি, এমনকি একজন মানুষ তার প্রতিটি অঙ্গের প্রতিও ইনসাফ করা জরুরী। দ্বিতীয় বিয়ের সাথে এর একক কোনো সম্পর্ক নেই। তাহলে আমাদের চেচামেচি কেবল এই একটি বিষয়ে কেন? যিনি এক বিয়ে করে ইনসাফ করছেন না বা অন্যান্য সেক্টর যেখানে অনেক বড় আকারে ইনসাফ পদদলীত হচ্ছে, সেক্ষেত্রে ইনসাফের আওয়ায উঠে না কেন? আওয়াজ উঠবে কী করে? কারণ যিনি দ্বিতীয় বিয়েতে না-ইনসাফির আপত্তি তুলছেন তিনি তার সেক্টরে অনেক বড় জালিম।
তবে দ্বিতীয় একটি মাত্র মাসআলা প্রথম বিয়ে থেকে স্বতন্ত্র, আর সেটি হলো সমতা। এটি কোনো কঠিন কাজ নয়। একেবারে সহজ। পালাক্রমে শয়ন কোনো কঠিন কাজ নয়। দুজনকে একই মূল্যের শাড়ি প্রদান কোনো কঠিন কাজ নয়। ভ্রমনে যেতে লটারি দিয়ে পালাক্রমে একবার একজনকে এবং আরেকবা অন্যজনকে নেওয়া কোনো কঠিন কাজ নয়। পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব করে ব্যবসায়িক পণ্যের যাকাত দেওয়া তো এর চেয়ে অনেক গুণ কঠিন৷
আর এ জন্যই মহান আল্লাহ চার পর্যন্ত বিয়ের অনুমতি দিয়েছেন। নাবী ও খলীফাগণ আমলের মাধ্যমে এর প্রতি উৎসাহিত করেছেন। আর সমাজকে ব্যভিচার মুক্ত এবং প্রতিটি নারীকে একটি ঘর দিতে হলে বাস্তবতার নিরিখে একাধিক বিয়ে কেবল বৈধই নয়, বরং জরুরীও বটে। বাকী যেসব সভ্যতায় বিয়ে ছাড়া শারিরিক সম্পর্ক আপত্তির বিষয় নয়, পতিতালয় একটি বৈধ ব্যবসা ও নারীর অধিকার, সেখানকার কথা ভিন্ন।
বাংলাদেশের আর্থিক সমস্যা ও কৌমি মাদরাসা
একটি দরিদ্র তালিকার দেশ৷ জনসংখ্যা অনেক বেশি৷ উৎপাদন কম৷ এখানকার মানুষের আর্থিক সমস্যা একটি অবিচ্ছেদ়্য অংশের মত৷ সরকারী চাকরীজিবী হয়ত 5% হবে৷ সবাইকে সরকার চাকরী দেওয়া সম্ভব?
বাকী 95% এর সর্বোচ্চ ধরে নিলাম 5% কৌমিতে চাকরী করে৷ অবশিষ্ট 90% বিভিন্ন পেশাজিবী৷ চাকরী বলুন আর অন্য কিছু বলুন, অধিকাংশের মাসিক আয় কত? 10-20 এর উপরে মাসিক আয় কত পার্সেন্টের?
জীবিকার তাকিদে দেশে কোনো উপায় না পেয়ে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার সংখ্যার মাঝে কৌমি মাদরাসার কত পার্সেন্ট এবং অন্যরা কত পার্সেন্ট?
কলেজ ভার্সিটি বা আলিয়ায় পড়ে গ্রাজুয়েটকারীদের কত পার্সেন্টের বেতন 15-20 হাজারের উপরে?
কৌমি মাদরাসার আর্থিক ব্যবস্থাপনা বা পরিমাণ নিয়ে আমি সন্তুষ্ট এমন নয়৷ কিন্তু যেই দেশে একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান বা প্রাইভেট স্কুলে সারাদিন কর্ম করে 3-5 হাজার পর্যন্ত বেতন রয়েছে, তাও নিজের থাকা খাওয়া, এই দেশে আঙ্গুল কেবল কৌমি মাদরাসার দিকে কেন? যেখানে 3-5 তো প্রতি শিক্ষক বেতনের বাহিরে থাকা খাওয়ার পারপাসে ভোগ করে থাকেন৷
এভাবে সমালোচনা করে ইলমের প্রতি মানুষের দূরত্ব ছাড়া কী কোনো সমাধান আসবে? কৌমি ছেড়ে আলিয়ায় গেলেই কি সবাই বিশাল বেতনের চাকরীধারী বা ধনী হয়ে গেছে? কৌমিতে থাকার কারণেই কি সবাই আজীবন দরিদ্র থেকে গেছে?
কেবল আর্থিক সমৃদ্ধি চিন্তা করে সবাই যদি মাদরাসা ছেড়ে দেয়, তবে কুরআন হাদীসের জ্ঞান চর্চা ও দ্বীনের কী হবে?
এক কথায়, বাংলাদেশের আর্থিক সমস্যা একটি জাতীয় চ্যালেঞ্জ৷ এখানকার সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামালে কৌমির আগে আরো অনেক জায়গা রয়েছে৷ একটি দোকানে সারাদিন ডিউটি করে 6-7 হাজার বেতন পায় এমন সংখ্যা কৌমি শিক্ষক গোষ্ঠি থেকে অনেক অনেক বেশি৷
এ বছর আমাদের প্রতিষ্ঠানে একজন সার নিয়োগ দিয়েছি (বাংলা, ইংলিশ, অংক ফাইভ সিক্স লেভেলের) চারটি ক্লাসের জন্য৷ মাদরাসার ক্লাশ টাইম 7:45 থেকে 1 টা৷ কিন্তু উনার সময় 9 টা থেকে 1 টা৷ বেতন আমরা 7 হাজার দিচ্ছি৷ এটা নিশ্চয় তার জন্য যথেষ্ঠ নয়৷ কিন্তু ইতোপূর্বে তিনি যে স্কুলে ছিলেন, ক্লাস ওয়ান থেকে টেন পর্যন্ত ক্লাস ও সারাদিন পড়িয়ে বেতন পেতেন 4 হাজার৷ কিন্তু আপনি স্কুলের বেতনের সমালোচনা না করে কেবল মাদরাসা নিয়ে করছেন কেন?
অতএব আর্থিক সঙ্কট থেকে উত্তরণের চিন্তা সার্বিকভাবে করুন৷ অর্থকে জ্ঞানের সাথে জড়াবেন না৷ জ্ঞানকে কোনো মূল্যেই ক্রয় করা সম্ভব নয়৷ পৃথিবীর লক্ষ জ্ঞানী দরিদ্র অবস্থায় মনের সুখ নিয়ে মারা গেছে, কারণ পৃথিবীকে জ্ঞান দিয়ে বিকশিত করা তাদের উদ্দেশ্য ছিলো এবং এতে তিনি সফল৷ বিপরীতে হাজারো মুর্খ ভোগবিলাসী জীবন নিয়ে বাঁচলেও ঐ সুখ নিয়ে মরতে পারেনি৷
ধর্মের ধার ধারে না এমন লোকদের জানাযা না পড়ানোর ধমকি তাদের কাছে হাস্যকর৷ এই জাতীয় লোকেরা রাজনৈতিক সুবিধা পেতে ধর্মকে সরাসরি অস্বীকার করে না ঠিকই, কিন্তু তারা কখনো মন থেকে ইসলাম বিশ্বাস করে না৷ তাদেরকে আপনি এই হুমকি দিয়ে কী করবেন? তারা কি মন থেকে চায় যে, আপনারা তাদের জানাযা পড়ান?
যারা বলে, যাকাত থেকে চাঁদাবাজি উত্তম, তাদের কাছে নামাযের চেয়ে ব্যায়াম উত্তম হওয়া অস্বাভাবিক নয়৷
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Chamelibagh, Road: 3 Hous: 3
Sylhet