16/02/2026
fans
সুদর্শন সিং ওয়াজিরকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা এফআইআরের ভিত্তিতে অভিযুক্ত করা হয়। তার নাম প্রথম এফআইআরে ছিল না। তৃতীয় সম্পূরক চার্জশিটে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়। অতিরিক্ত সেশনস জজ ২০ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি (Discharge) দেন। অব্যাহতির বিরুদ্ধে দিল্লি সরকার হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করে এবং অব্যাহতি আদেশের উপর স্থগিতাদেশ (stay) চান। হাইকোর্ট একতরফাভাবে (ex parte) ডিসচার্জ আদেশে স্থগিতাদেশ দেন এবং নির্দেশ দেন যে, সুদর্শনকে আত্মসমর্পণ করে জেলে যেতে হবে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুদর্শন সুপ্রীম কোর্টে আপিল করেন।
আদালতের সম্মুখে মূল প্রশ্ন হলো হাইকোর্ট কি রিভিশন মামলার প্রেক্ষিতে অব্যাহতি আদেশের উপর স্থগিতাদেশ দিতে পারে? বিশেষ করে একতরফাভাবে স্থগিতাদেশ দিয়ে কি অভিযুক্তের স্বাধীনতা হরণ করা যায়?
সুপ্রীম কোর্ট বলেন, অব্যাহতি আদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রদানের ফলে ব্যক্তি আর অভিযুক্ত থাকেন না এবং তার স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। অব্যাহতি আদেশে স্থগিতাদেশ দেওয়া একটি অত্যন্ত কঠোর ও ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ, কারণ এতে অভিযুক্তের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়। কেবলমাত্র দুর্লভ ও ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে, যখন অব্যাহতি আদেশ প্রাথমিকভাবে (prima facie) সম্পূর্ণরূপে ভ্রান্ত বা বিকৃত (perverse) বলে প্রতীয়মান হয়, তখনই স্থগিতাদেশ দেওয়া যেতে পারে। একতরফা (ex parte) স্থগিতাদেশ সাধারণত দেওয়া উচিত না। অভিযুক্তকে না শুনে তার স্বাধীনতা হরণ করা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। হাইকোর্ট যদি রিভিশন চলাকালীন অভিযুক্তের উপস্থিতি নিশ্চিত করতেই চান, তাহলে সরাসরি কারাবাসে পাঠানোর পরিবর্তে আদালত ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৩৯০ অনুযায়ী জামিনের শর্ত আরোপ করতে পারেন।
সুপ্রীম কোর্ট হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ এবং আত্মসমর্পণের নির্দেশ বাতিল করেন। হাইকোর্টকে রিভিশন আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেন। আপিলকারীকে সেশনস কোর্টে হাজির হয়ে জামিন দিতে বলা হয়, যাতে রিভিশন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার উপস্থিতি নিশ্চিত থাকে।