29/09/2025
পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দুই কলম লেখার আগে আমার সাথে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটা পড়ে নিবেন।
পাহাড়িদের সকলকে নিরিহ ভাবার কোন কারণ নাই, একটা সময় পর্যন্ত আমিও ভাবতাম। এরপর নিজের সাথে ঘটে যাওয়া এক ঘটনায় আমার চিন্তার পরিবর্তন হয়েছে, এই ঘটনা শুনলে আপনারও পরিবর্তন হবে।
২০১৫/২০১৬ সাল। আমি তখন আমেরিকায় থাকি। খাগড়াছড়ি অঞ্চলে এক বড় ধরনের ঝামেলা হয়। আমি পাহাড়ীদের অধিকারের পক্ষে বেশ কয়েকটা পোস্ট লিখি। একটা পোস্ট বেশ ভাইরাল হয়। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে। ঐ এলাকার বেশ কিছু ফলোয়ার আসে লিস্টে। তাদের মধ্যে একটি মেয়ে ছিল বেশ সুন্দরী।
বয়সে ২৪/২৬ হবে। আমার পোস্টে কমেন্ট করে, পাশাপাশি অন্যদের কমেন্টের জবাব দিতে থাকে।
এরপর বন্ধু লিস্টে ঢুকে, অন্য সাধারণ পোস্টেও কমেন্ট করতে থাকে।
২দিন পরে ইনবক্সে নক করে প্রশংসা করতে থাকে। বলতে থাকে, আপনি অনেক ভালো, আমাদের পক্ষে কথা বলছেন, ঢাকার মানুষ তো এসব করে না, তারা আমাদের ঘৃণা করে, ইতা্যদী ইত্যাদি।
আমি বললাম, আমি শুধু আপনাদের অধিকারের পক্ষে না পৃথিবীর সকল স্থানের নির্যাতিত মানুষের পক্ষে থাকার চেষ্টা করি, ইত্যাদি ইত্যাদি।
এরপর নিয়মিত চ্যাট হতে থাকে। তবে যেহেতু মেয়ে আইডি সেহেতু আমি ফেক আইডি মনে করে দুরত্ব বজায় রেখেই কথা বলি। সে বুঝতে পেরে একদিন ভিডিও কল দেয়।
তখন দেখলাম যে, না ফেইক না। আইডিতে যেই ছবি মেয়েটিও সেই, আসল আইডি।
কয়েকদিন কথা বলার পর একদিন তার মায়ের সাথে কথা বলিয়ে দিলো। তার মা আমাকে তাদের বাড়িতে দাওয়াত দিলো। তারা বেশ প্রভাবশালী লোক, টাকা পয়সা, বাড়ি গাড়ি, বেশ কয়েকটি বাগান ইত্যাদি আছে।
তারা আমাকে পুরো পাহাড় ঘুরিয়ে দেখাবে ইত্যাদি নানা আলাপ হলো, মেয়েটিও মাঝে মধ্যে ফোন দিয়েও জিজ্ঞেস করতো কবে আসতেছেন?
এরপর আসে ঘটনার ক্লাইম্যাক্স।
একদিন মেয়েটি আমাকে তার এক স্যারের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো। কনফারেন্স কল করে স্যার আমার সাথে অনেক কথা বললো। কি করি? কবে থেকে লেখালেখি করি? কি বিষয়ে লিখি ইত্যাদি।
কথা শেষের ঘন্টা খানেক পর আমাকে তাদের একটি হোয়াটসআপ গ্রুপে এড করা হলো।
গ্রুপে ঢুকে আমার মাথা আউলায়ে গেল। বিশাল গ্রুপের সবাই পাহাড়ি অঞ্চলের। গ্রুপে সারাদিন নানা ধরনের পোস্ট আসতে থাকে। যে কোন কাটা-ছেড়া, ভাঙা-ভাঙি, আ/গু/ন, ম/রা মানুষের ছবি এসব আসতেই থাকে। এবং, এই সব ঘটনার সবকিছুর দায় সাধারন বাঙালিদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। অর্থাৎ, এই গ্রুপে সবাই ছবি ভিডিও দিয়ে কাহিনি বানায়, এবং সেই বানানো কাহিনি সবাই নিজেদের ফেসবুক, স্থানীয় পত্রিকায় ছড়িয়ে দেয়।
আমি তো সেখানে অতিথির মত, তাই জিজ্ঞেস করার চেষ্টা করিনি যে, এসব ঘটনার সত্যতা কোথায়? জিজ্ঞেস করলে হয়তো সাথে সাথে গ্রুপ থেকে বের করে দিতো।
এবং, ঐ যে স্যার আমার সাথে কথা বলেছিল, সে মাঝে মধ্যে ছেলে মেয়েদের মোটিভেট করে ভিডিও দিতো। সেই ভিডিও সবাই শেয়ার দিতো।
বেশ কয়েকদিন গ্রুপে থাকার পর বুঝলাম যে, এই স্যারেরও বড় স্যার আছে। সে গ্রুপে নাই তবে মাঝে মধ্যে তার বাণী গ্রুপে ছাড়া হয়। সেখানে লাভের হিরিক পরে যায়।
এবং তাদের সকলের কথার নির্যাস হচ্ছে, পাহাড় বাংলাদেশের আন্ডারে থাকা উচিত না। এর দুইটা মুল কারনঃ
1. সমতলের মানুষদের অধিকাংশের ধর্ম মুসলমান
2. বাংলাদেশ দুর্বল রাষ্ট্র
তাহলে সমাধান কি?
পার্শ্ববর্তী দেশ অনেক শক্তিশালী, তাদের সাথে থাকলে আমরাও শক্তিশালী হবো, পাশাপশি তারা হিন্দু যা পাহাড়ীদের কালচারের কাছাকাছি কালচার।
তাই, তাদের সকলের মিশন ও ভিশন একটাই, সেটা হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম পুরোটাই ভারতের আন্ডারে নিয়ে যাওয়া।
এবং, এজন্য যা যা করা দরকার তারা সব করতে প্রস্তুত আছে।
তারই পদক্ষেপ হিসেবে ঐ অঞ্চলে সবসময় অরাজকতা বজায় রাখা।
একদিন, পাহাড়ে কয়েকজন সেনাবাহিনীর সদস্যের সাথে গ্রামের কয়েকজন মহিলার মারামারির ভিডিয়ো ভাইরাল হয়। গ্রামের একেবারে নিম্ন শ্রেণীর এক নারী বিলাপ করে দাবী করছে যে, সেনা সদস্যরা তাকে ধ/র্ষ/ণ করছে।
মেয়েটি সেই ভিডিয়ো আমাকে পাঠিয়ে বলে যে, এইটা শেয়ার দেন। আমি বললাম, ঠিক আছে দেবো, কিন্তু ঘটনা আরেকটু স্টাডি করে নেই। সৎ্য মিথ্যা যাচাই করে নেই। কিন্তু মেয়েটির ধৈর্য্য থাকল না। বার বার অনুরোধ করতে লাগলো।
তখন আমি কল দিলাম, বললাম তাদের গ্রুপের বিষয়ে।
বললাম, আমার কাছে তো বিষয়টা নরমাল মনে হচ্ছে না। তোমরা আসলে কি চাচ্ছো বলো।
তখন মেয়েটি অনেকটা স্পষ্ট করেই বলে দিলো, আমার বাপ-দাদারা অনেক আগে থেকেই চেয়ে আসছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভারতের সাথে যুক্ত হয়ে যাক। সেই চেষ্টা করে সবাই।
জিজ্ঞেস করলাম, কিন্তু কেন? এমনটা কেন চাও?
তখন ঐ উপরের দুই পয়েন্ট বললো।
আমি বললাম, যদি এত সমস্যা মনে করো বাংলাদেশের সাথে থাকা, তাহলে স্বাধীন অঞ্চলের জন্য কথা বলো, সেই অনুযায়ী কাজ করো। আরেক দেশের সাথে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করা তো খারাপ। এটাকে তো কোন দেশ মেনে নিবে না। আমিও বা আমাদের মত যারা মানবাধিকার নিয়ে কাজ করে তারা কেউই মেনে নিবে না।
তোমরা ইয়াং জেনারেশন, তোমাদেরও উচিত না এসব পথে পা বাড়ানো। বরং, তোমরা যদি সত্যিই মনে করো তোমাদের উপর কোন অন্যায় করা হচ্ছে, তাহলে ঢাকার সাথে আর্গুমেন্ট করো। সেটা নিয়ে আন্দোলন করো, দেখবা আমরা সহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী তোমাদের পক্ষে থাকবে। সারা বিশ্ব তোমাদের পক্ষে থাকবে।
আর এসব না করে যদি পিছনের দরজা দিয়ে নিজ দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করো তাহলে কোনদিন সফল হতে পারবে না, শুধুশুধু তোমাদের জেনারেশনটাকে নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করবা। এবং, দেশে একটা গন্ডগোল বাঁধিয়ে রাখবা, যার বলি হবে কিছু নিরিহ পাহাড়ি।
এই ধরনের অনেক কথা বলার পর মনে হচ্ছিল মেয়েটা বুঝতে পেরেছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে দেখলাম আমাকে সব জায়গা থেকে ব্লক করে দিছে।
সেখান থেকে বুঝেছিলাম যে, পাহাড়িদের মধ্যে বিশাল একটা অংশ আছে যারা প্রকাশ্যে এই মিশনের অংশ হয়ে কাজ করে, এবং তারাই পাহাড়ে আ/গু/ন লাগায়, হ/ত্যা করে। তারা পাহাড়কে অশান্ত রাখে।
পাহাড়কে শান্ত রাখতে পাহাড়ি-বাঙালি মিলে এই গ্রুপটাকে প্রতিহত করতে হবে, এর বিকল্প আর কোন পথ নাই।