জান্নাতের পথযাত্রী

জান্নাতের পথযাত্রী সৃষ্টির আনুগত্য নয়, বরং মহান আল্লাহর আ

21/01/2022

জন্ম এবং মৃত্যুর মধ্যবর্তী সময়ের নাম জীবন, যার স্থায়িত্ব এতটাই নগন্য যে, চোখ বন্ধ করে আবার খুলতে পারার কোনো নিশ্চয়তা নাই।

আবার কোনো কিছু পাওয়ার আনন্দ এবং কোনো কিছু না পাওয়ার বেদনার মধ্যেখানেই জীবন। এখানে পরার্থপরতার নামে স্বার্থপরতাই চলে বেশি।

ঈমান এবং কুফরের মধ্যেখানেও জীবন। ঈমানের সাথে তা পার করতে পারলে প্রকৃতার্থে নাম পায় সফল জীবন। যা অর্জন করতে পারলে পাওয়া না পাওয়ার আনন্দ বেদনা, স্বার্থপরতার মত এসব বিষয়ের কোনো কিছুই জীবনকে বিচলিত করতে পারে না।

12/09/2021

হাফপ্যান্ট পরা যুবকদের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে, যা আগে আমাদের সমাজে কল্পনাও করা যেতো না৷ অথচ হাঁটু ঢেকে কাপড় পরা ফরয৷ হাঁটু খোলা রাখা হারাম৷ আর এটা এমন হারাম যা গোপনে নয়, প্রতিনিয়ত জনসম্মুখে লিপ্ত হতে হয়৷

আমাদের মুসলিম যুবকদের মাঝে সেই হারামে লিপ্ত হওয়ার প্রবণতা ও ঝোঁক বেড়েই চলেছে৷ কোনো গোনাহ প্রকাশ্য করতে করতে একসময় ভেতর থেকে অনুশোচনা বা অপরাধবোধের অনুভূতিটুকু বিনষ্ট হয়ে যায়৷

হাদীসে এসেছে রাসূল ﷺ বলেছেন- আমার উম্মতের সবাইকে মাফ করে দেয়া হবে, কেবল প্রকাশ্য গোনাহকারী ছাড়া৷ (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)

কারণ-
- প্রকাশ্য গোনাহকারীর মধ্যে অপরাধবোধের পরিবর্তে তার ভেতর গোনাহের উপর একপ্রকার অহংবোধ চলে আসে৷ যেন ড্যামকেয়ার ভাব৷

- প্রকাশ্য গোনাহকারী তার কৃত গোনাহের দিকে অপরকে আহবান করতে থাকে৷ মৌখিক আহবান নয়, নিজে আমলের মাধ্যমে নিরব আহবান৷

- প্রকাশ্য গোনাহকারী অপরকে তার গোনাহের সাক্ষী বানিয়ে নিলো৷ এক/দইজন নয়, অসংখ্য সাক্ষী৷ এরা কিয়ামতের দিন তার বিপক্ষে তার কৃত গোনাহের সাক্ষী হবে৷

আল্লাহ আমাদের সব রকমের প্রকাশ-অপ্রকাশ্য গোনাহ থেকে হেফাজত করুন৷

-
মুফতি জিয়াউর রহমান

সবাই বেশি বেশি ইস্তেগফার করি এবং নামাজের মাধ্যমে মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই…ইনশাআল্লাহ মহান আল্লাহ আমাদের এই মহা বিপদ...
01/08/2021

সবাই বেশি বেশি ইস্তেগফার করি এবং নামাজের মাধ্যমে মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই…
ইনশাআল্লাহ মহান আল্লাহ আমাদের এই মহা বিপদ থেকে রক্ষা করবেন…

10/05/2021

তওবা অর্থ ফিরে আসা। এস্তেগফার অর্থ ক্ষমা চাওয়া। যখন কোনো গোনাহ হয়ে যায়, তখন আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হওয়া এবং আগামীতে সে গোনাহ না করার সংকল্প করে আল্লাহ তাআলার নিকট ক্ষমা চাওয়াকে তওবা ও এস্তেগফার বলে।

গোনাহ, তওবা এবং তওবাকারীর অবস্থা বোঝার জন্য একটি উদাহরণ উল্লেখ করা যেতে পারে। কেউ যদি কোনো মামুলি ক্ষোভ-দুঃখের কারণে বিষপান করে বসে আর বিষক্রিয়ার ফলে প্রচ- রকম ব্যথা-বেদনা আরম্ভ হয় এবং নাড়িভুড়ি কাটতে শুরু করে, তখন এই ব্যক্তি যেমন নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয় এবং চিকিৎসার জন্য ছটফট করতে থাকে, এমন বোকামি আর কখনো করবে না বলে পণ করে, একজন প্রকৃত তওবাকারীর অবস্থাও বিলকুল এমন হওয়া উচিৎ। অর্থাৎ যদি কখনো গোনাহ হয়ে যায়, তাহলে আল্লাহ তাআলার আযাবের ভয়ে অন্তরে খুবই অনুশোচনা আসবে এবং সামনে যেন এই গোনাহের পুনরাবৃত্তি না হয়, সেই জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হবে। আর আল্লাহ পাকের নিকট অশ্রু ঝরিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। কোনো বান্দা যদি অনুভবের এই স্তরে উঠতে পারে, তবে আল্লাহ পাক তার জন্য আপন রহমতের দরোজা উম্মুক্ত করে দেন। যে বান্দা এমনভাবে তওবা করে, সে বান্দা গোনাহ থেকে সম্পূর্ণ পাক ও পবিত্র হয়ে যায়। বরং আল্লাহ পাকের নিকট আগের চেও অধিক প্রিয়পাত্রে পরিণত হয়। এমনকি যুগযুগ সাধনা করে যে স্তরে উন্নীত হওয়া কঠিন, তওবার মাধ্যমে আল্লাহ পাকের কোনো কোনো বান্দা অতি সহজে সেই স্তরে পৌঁছে যায়। আল্লাহ পাক এরশাদ করেন,

يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَصُوحًا عَسَى رَبُّكُمْ أَنْ يُكَفِّرَ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيُدْخِلَكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট খাঁটিভাবে তওবা করো। খুব সম্ভব তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের পাপসমুহ মোচন করে দেবেন এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাতে স্থান দেবেন, যার পাদদেশে নহরমালা বহমান থাকবে। সূরা তাহরীম ৬৬/৮

অন্য আয়াতে বলেন,

أَفَلَا يَتُوبُونَ إِلَى اللَّهِ وَيَسْتَغْفِرُونَهُ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ

এরপরও কি তারা তওবা-এস্তেগফার করবে না? অথচ আল্লাহ পাক অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। সূরা মায়েদা ৫/৭৪

এক আয়াতে এসেছে,

وَإِذَا جَاءَكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِآيَاتِنَا فَقُلْ سَلَامٌ عَلَيْكُمْ كَتَبَ رَبُّكُمْ عَلَى نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ أَنَّهُ مَنْ عَمِلَ مِنْكُمْ سُوءًا بِجَهَالَةٍ ثُمَّ تَابَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَصْلَحَ فَأَنَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ

যারা আমার আয়তসমুহ বিশ্বাস করে, তারা যখন তোমার কাছে আসে, তখন তাদেরকে বলো, তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তোমাদের প্রতিপালক নিজের উপর রহমতের এই নীতি স্থির করেছেন যে, তোমাদের কেউ যদি অজ্ঞতাবশত কোনো গোনাহ করে ফেলে, অত:পর তওবা করে এবং আত্মসংশোধন করে, তবে তিনি হবেন তার প্রতি অতি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। সূরা আনআম ৬/৫৪

মাওলানা মানজুর নুমানী রহঃ এর গ্রন্থ থেকে নেয়া

‎وَلَا تَهِنُوۡا وَ لَا تَحۡزَنُوۡا وَاَنۡتُمُ الۡاَعۡلَوۡنَ اِنۡ كُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِيۡنَ‏ আর তোমরা নিরাশ হয়ো না এবং দু...
10/05/2021

‎وَلَا تَهِنُوۡا وَ لَا تَحۡزَنُوۡا وَاَنۡتُمُ الۡاَعۡلَوۡنَ اِنۡ كُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِيۡنَ‏

আর তোমরা নিরাশ হয়ো না এবং দুঃখ করো না। যদি তোমরা মুমিন হও তবে, তোমরাই জয়ী হবে।

সুরা-আলে ইমরান।আয়াত:১৩৯

04/05/2021

কি সুন্দর সুন্দর সুন্নাহ/হাদিস আছে। এগুলো সাধারণত কাউকে বলতে শুনা যায় না!

১। মাঝে মাঝে বৃষ্টিতে ভিজা।
(সহীহ মুসলিম- ৮৯৮)

২। রাতে স্ত্রীকে সাথে নিয়ে নির্জনে হাঁটা।
(বুখারী- ৫২১১)

৩।বৃষ্টি আসলে দোয়া করা।
(সহীহ বুখারী- ১০৩২)

৪। স্ত্রীর রান্না করা হালাল খাবারের দোষ না ধরা।
খেতে মন না চাইলে চুপ থাকা।
(মুসলিম- ২০৬৪)

৫। কোনো কিছু জানা না থাকলে স্বীকার করা যে, আমি জানি না। (বায়হাকী- ১৭৫৯৫)

৬। মাঝে মাঝে বিপদে আকাশের দিকে মাথা তোলা।
আকাশের দিকে তাকিয়ে নিজের কষ্টগুলো আল্লাহকে বলা।
(মুসলিম- ২৫৩১)

৭। খুব খুশি হলে সিজদায় লুটিয়ে পড়া।
(মুখতাসার যাদুল মা' আদ- ১/২৭)

৮। ধোঁয়া ওঠা গরম খাবার ঠান্ডা না হওয়া পর্যন্ত না খাওয়া।
(বায়হাকি-৪২৮)

৯। নফল ও সুন্নাহ সালাতগুলো নিজের ঘরে পড়া।
(বুখারী- ৭৩১)

১০। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় এবং বাসা ফিরে দুই রাকাআত সালাত আদায় করা।
(মুসনাদে বাযযার- ৮৫৬৭)

১১। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে জুতা না পরা।
বিশেষ করে শু জুতা ( স্যান্ডেল না)।
(আবু দাউদ- ৪১৩৫)

১২। যতই ভালো খাবার হোক ভরা পেটে না খাওয়া।
(তিরমিযী- ২৪৭৮)

১৩। দ্বীনের দাওয়াত সহজ করার উদ্দেশ্যে নতুন একটি ভাষা শিখা।
(মুসনাদে আহমাদ- ২১৬১৮)

১৪। বাড়িতে অজু করে রুমাল দিয়ে হাতপা মুছে মসজিদে জামায়াতে যাওয়া।
(তাবরানী- ৬১৩৯)

১৫। মানুষের মাঝে বিবাদ মিটিয়ে দেয়া।
(মুসনাদে আহমাদ- ২৭৫০৮)

১৬। রাতে অজু অবস্থায় ঘুমানো।
(ফাতহুল বারি- ১১/১১০)

১৭। মাঝে মাঝে খালি পায়ে হাঁটা।
(আবু দাউদ- ৪১৬০)

১৮।যদি কারো উপর কোনো কষ্ট আসে, আল্লাহ তাআলা এর কারণে তার গুনাহসমূহ ঝরিয়ে দেন; যেমনভাবে গাছ থেকে পাতা ঝরে পড়ে। (বুখারি, হাদিস নং: ৫৬৮৪)

১৯। যে মানুষের উপকার করে, সেই সবচেয়ে ভালো মানুষ।
(সুনানে দারাকুতনি)

২০। রাসুলুল্লাহ(সাঃ) বলেনঃ আমি হেলান দেওয়া অবস্থায় কোনো কিছু ভক্ষণ করি না। (বুখারি/ তিরমিজি)

-সংগৃহীত

04/05/2021

এই গল্প, কোন এক আফ্রিকান কালো মেয়ের গল্প I
কেমন করে মেয়েটা একদিন মা হলেন, সেই গল্প I

আমাদের নবীর পিতা আব্দুল্লাহ, একদিন মক্কার বাজারে গিয়েছিলেন কিছু কেনা-কাটা করার জন্য I
এক জায়গায় তিনি দেখলেন, এক লোক কিছু দাস- দাসী নিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বিক্রি করছে I
আব্দুল্লাহ দেখলেন সেখানে দাঁড়িয়ে আছে, একটা ছোট নয় বছরের কালো আফ্রিকান আবিসিনিয়ার মেয়ে I
মেয়েটাকে দেখে আব্দুল্লাহর অনেক মায়া হলো, একটু রুগ্ন হালকা-পাতলা কিন্তু কেমন মায়াবী ও অসহায় দৃষ্টি দিয়ে তাঁকিয়ে আছে I
তিনি ভাবলেন ঘরে আমেনা একা থাকেন, মেয়েটা পাশে থাকলে তার একজন সঙ্গী হবে I
এই ভেবে তিনি মেয়েটাকে কিনে নিলেন I

মেয়েটিকে আব্দুল্লাহ ও আমেনা অনেক ভালোবাসতেন I স্নেহ করতেন I এবং তারা লক্ষ্য করলেন যে, তাদের সংসারে আগের চেয়েও বেশি রাহমাত ও বরকত চলে এসেছে I
এই কারণে আব্দুল্লাহ ও আমেনা মেয়েটিকে আদর করে নাম দিলেন "বারাকাহ"I

এই গল্প, বারাকার গল্প I

তারপর একদিন আব্দুল্লাহ, ব্যবসার কারণে সিরিয়া রওনা দিলেন I
আমেনার সাথে সেটাই ছিল উনার শেষ বিদায় I
উনার যাত্রার দুই এক দিন পর আমেনা একরাতে স্বপ্নে দেখলেন, আকাশের একটা তারা যেন খুব আলো করে তার কোলে এসে পড়লো I
পরদিন ভোরে তিনি বারাকাকে এই স্বপ্নের কথা বললেন I
উত্তরে বারাকা মৃদু হেসে বললেন, "আমার মন বলছে আপনার একটা সুন্দর সন্তানের জন্ম হবে"
আমেনা তখনও জানতেন না তিনি গর্ভ ধারণ করেছেন কিন্তু কিছুদিন পর তিনি বুঝতে পারলেন, বারাকার ধারণাই সত্যি I

আব্দুল্লাহ আর ফিরে আসেন নি, সিরিয়ার পথেই মৃত্যুবরণ করেছেন I
আমেনার সেই বিরহ ও কষ্টের সময়ে, বারাকা ছিলেন একমাত্র সবচেয়ে কাছের সঙ্গী I
একসময় আমেনার অপেক্ষা শেষ হয় এবং তিনি জন্ম দিলেন আমাদের প্রিয় নবীকে I
শেখ ওমর সুলাইমানের বর্ণনা অনুযায়ী, সর্বপ্রথম আমাদের নবীকে দেখার ও স্পর্শ করার সৌভাগ্য হয়েছিল যে মানুষটির, সে হলো এই আফ্রিকান ক্রিতদাসী ছোট কালো মেয়েটি I
আমাদের নবীকে নিজ হাতে আমেনার কোলে তুলে দিয়েছিলেন, আনন্দে ও খুশিতে বলেছিলেন,
"আমি কল্পনায় ভেবেছিলাম সে হবে চাঁদের মত কিন্তু এখন দেখছি, সে যে চাঁদের চেয়েও সুন্দর "

এই সেই বারাকা I নবীজির জন্মের সময় উনার বয়স ছিল তের বছর I
ছোটবেলায় শিশু নবীকে আমেনার সাথে যত্ন নিয়েছেন, গোসল দিয়েছেন, খাওয়াতে সাহায্য করেছেন,আদর করে ঘুম পাড়িয়েছেন I

মৃত্যুর সময় আমেনা, বারাকার হাত ধরে অনুরোধ করেছিলেন তিনি যেন তাঁর সন্তানকে দেখে শুনে রাখেন I
বারাকা তাই করেছিলেন I
বাবা-মা দুজনকেই হারিয়ে, ইয়াতিম নবী চলে আসলেন দাদা আবদুল মোত্তালিবের ঘরে I

উত্তরাধিকার সূত্রে নবী হলেন বারাকার নতুন মনিব I
কিন্তু তিনি একদিন বারাকাকে মুক্ত করে দিলেন, বললেন,
-"আপনি যেখানে ইচ্ছে চলে যেতে পারেন , আপনি স্বাধীন ও মুক্ত I"

সেই শিশুকাল থেকেই নবী এই ক্রীতদাস প্রথাকে দূর করতে চেয়েছিলেন I

বারাকা নবীকে ছেড়ে যেতে রাজি হলেন না I রয়ে গেলেন I মায়ের ছায়া হয়ে পাশে থেকে গেলেন I
এমনকি নবীজির দাদা উনাকে বিয়ে দেয়ার জন্য বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু তিনি কিছুতেই রাজি হলেন না I উনার একই কথা,
-"আমি আমেনাকে কথা দিয়েছি, আমি কোথাও যাবো না"

তারপর একদিন খাদিজা (রাঃ) এর সাথে নবীজির বিয়ে হলো I
বিয়ের দিন রাসূল (সাঃ) খাদিজা (রাঃ) এর সাথে বারাকাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন I
তিনি বললেন, "উনি হলেন আমার মায়ের পর আরেক মা "

বিয়ের পর রাসূল (সাঃ) একদিন বারাকাকে ডেকে বললেন,
-"উম্মি ! আমাকে দেখাশুনা করার জন্য এখন খাদিজা আছেন, আপনাকে এখন বিয়ে করতেই হবে I"
(নবীজি উনাকে উম্মি ডাকতেন, নাম ধরে ডাকতেন না )

তারপর রাসূল (সাঃ) ও খাদিজা মিলে উনাকে উবাইদ ইবনে জায়েদের সাথে বিয়ে দিয়ে দিলেন I
কিছুদিন পর বারাকার নিজের একটা ছেলে হলো, নাম আইমান I
এরপর থেকে বারাকার নতুন নাম হয়ে গেলো "উম্মে আইমান"I

একদিন বারাকার স্বামী উবাইদ মৃত্যু বরণ করেন, নবীজি গিয়ে আইমান ও বারাকাকে সাথে করে নিজের বাড়ি নিয়ে আসেন এবং সেখানেই থাকতে দিলেন I

কিছুদিন যাওয়ার পর নবীজি একদিন বেশ কয়েকজন সাহাবীকে ডেকে বললেন,
"আমি একজন নারীকে জানি, যার কোন সম্পদ নেই, বয়স্ক এবং সাথে একটা ইয়াতিম সন্তান আছে কিন্তু তিনি জান্নাতি, তোমাদের মধ্যে কেউ কি একজন জান্নাতি নারীকে বিয়ে করতে চাও?"

এইকথা শুনে জায়েদ ইবনে হারিসা (রাঃ) নবীজির কাছে এসে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন I
নবীজি উম্মে আইমানের সাথে কথা বলে বিয়ের আয়োজন করলেন I
বিয়ের দিন রাসূল (সাঃ) জায়েদকে বুকে জড়িয়ে আনন্দে ও ভালোবাসায়, ভেজা চোখে, কান্না জড়িত কণ্ঠে বললেন,
"তুমি কাকে বিয়ে করেছো, জানো জায়েদ ?"
-হাঁ, উম্মে আইমানকে I জায়েদের উত্তর I
নবীজি বললেন,
-"না, তুমি বিয়ে করেছো, আমার মা কে "

সাহাবীরা বলতেন,
রাসূল (সাঃ) কে খাওয়া নিয়ে কখনো জোর করা যেত না I উনি সেটা পছন্দ করতেন না I কিন্তু উম্মে আইমান একমাত্র নারী, যিনি রাসূল (সাঃ) কে খাবার দিয়ে "খাও".." খাও".. বলে তাড়া দিতেন I আর খাওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাশে বসে থাকতেন I
নবীজি মৃদু হেসে, চুপ চাপ খেয়ে নিতেন I

রাসূল (সাঃ) উনার দুধ মাতা হালিমাকে দেখলে যেমন করে নিজের গায়ের চাদর খুলে বিছিয়ে তার উপর হালিমাকে বসতে দিতেন ঠিক তেমনি মদিনায় হিজরতের পর দীর্ঘ যাত্রা শেষে উম্মে আইমান যখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন নবীজি উনার গায়ের চাদরের একটা অংশ পানিতে ভিজিয়ে, উম্মে আইমানের মুখের ঘাম ও ধুলোবালি নিজ হাতে মুছে দিয়েছিলেন I
এবং বলেছিলেন,
"উম্মি ! জান্নাতে আপনার এইরকম কোন কষ্ট হবে না"

নবীজি মৃত্যুর আগে সাহাবীদের অনেক কিছুই বলে গিয়েছিলেন I
সেই সব কথার মধ্যে একটা ছিল, উম্মে আইমানের কথা I
বলেছেন,
"তোমরা উম্মে আইমানের যত্ন নিবে, তিনি আমার মায়ের মত I তিনিই একমাত্র নারী, যিনি আমাকে জন্ম থেকে শেষ পর্যন্ত দেখেছেন I আমার পরিবারের একমাত্র সদস্য, যিনি সারাজীবন আমার পাশে ছিলেন I"

সাহাবীরা সেই কথা রেখেছিলেন I

গায়ের রং নয়, এক সময়ের কোন ক্রিতদাসী নয়, তাঁর পরিচয় তিনি যে নবীর আরেক মা I

মায়ের মতোই তাঁরা, এই বৃদ্ধা নারীকে ভালোবেসে আগলে রেখেছিলেন I

গল্প সূত্র: ইবনে হিশাম ও শেখ ওমর সুলাইমান, "Woman who cared forever"

-ডা.শামছুল আলম

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলের নসিবে শবে ক্বদরের বরকত এবং ফজিলত দান করে আমাদের ক্ষমা করে দিন।
03/05/2021

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলের নসিবে শবে ক্বদরের বরকত এবং ফজিলত দান করে আমাদের ক্ষমা করে দিন।

14/02/2021

Address

Beanibazar
Sylhet
3170

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when জান্নাতের পথযাত্রী posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to জান্নাতের পথযাত্রী:

Shortcuts

Share

Category