Jamea Suffah জামেয়া সুফফাহ

Jamea Suffah জামেয়া সুফফাহ

উন্নত মেধা রুচিশীল মনন ও কর্মমুখী শিক্ষাদানে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ!

Operating as usual

18/11/2023
27/08/2023

আপনার শিশুকে রক্ষা করুন !
১. আপনার শিশুকে কারো কোলে বসতে দিবেন না।

২. সন্তানের বয়স দু’বছরের বেশী হলেই তার সামনে আর আপনি কাপড়চোপড় পাল্টাবেন না।

৩. প্রাপ্ত বয়স্ক কেউ আপনার শিশুকে উদ্দেশ্য করে বলছে: ‘আমার বৌ’, ‘আমার স্বামী’- এটা অ্যালাউ করবেন না।

৪. আপনার শিশু যখন বলছে সে খেলতে যাচ্ছে, কোন্ ধরণের খেলা সে খেলছে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন, উঠতি বয়সি বাচ্চাদের মধ্যে অ্যাবিউজিং প্রবণতা পাওয়া যাচ্ছে।

৫. স্বাচ্ছন্দবোধ করছে না এমন কারো সাথে কোথাও যেতে আপনার শিশুকে জোরাজুরি করবেন না। পাশাপাশি লক্ষ্য রাখুন, আপনার শিশু বিশেষ কোন প্রাপ্ত বয়স্কের ভক্ত হয়ে উঠেছে কিনা।

৬. দারুণ প্রাণচ্ছল কোন শিশু হঠাৎ নির্জিব হয়ে গেলে, তাকে প্রশ্ন করুণ। তার মনের অবস্থাটা পড়তে চেষ্টা করুণ।

৭. বয়:সন্ধি পেরোচ্ছে এমন বাচ্চাকে যৌনমূল্যবোধ সম্পর্কে শিক্ষা দিন। আপনি যদি এ কাজ না করেন, তবে সমাজ তাকে ভুল টা শিখিয়ে দেবে।

৮. কোন ছবি, কার্টুন ইত্যাদি বাচ্চাদের জন্য আনলে আগে তা নিজে দেখুন। কোন বই সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে তবেই তা কোমলমতি সন্তানের হাতে দিন।

৯. আপনি নিশ্চিত হন যে আপনি প্যারেন্টাল কন্ট্রোল অপশন অ্যাক্টিভেট করে রেখেছেন কেবল নেটওয়ার্কে, বিশেষ করে সেই সমস্ত নেটওয়ার্কে যেখানে আপনার শিশু প্রায়শই ভিজিট করে।

১০. তিন বছর বয়স হয়েছে এমন সন্তানকে তাদের ব্যক্তিগত গোপন স্থানসমূহ কিভাবে পরিস্কারপরিচ্ছন্ন রাখতে হয় তা শেখান। সতর্ক করে দিন যেন সেসব এলাকা কেউ স্পর্শ করতে না পারে- নিষিদ্ধদের মধ্যে আপনিও আছেন (মনে রাখবেন চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম এ্যান্ড উইথ ইউ)।

১১. কালো তালিকাভুক্ত করুণ সেই সব বই, গান, মুভি, পরিবার বা ব্যক্তিকে- আপনি মনে করেন যে বা যা আপনার শিশুর মনের সৌন্দর্য নষ্ট করতে পারে।

১২. আপনার শিশুকে ভিড়ের বাইরে গিয়ে দাড়ানোর মূল্যবোধ শেখান।

১৩. আপনার শিশু যদি কারো সম্পর্কে অভিযোগ করে তবে দয়া করে বিষয়টি নিয়ে মুখ বুজে থাকবেন না।

মনে রাখবেন আপনি হয় বাবা মা হবেন দু’দিন বাদে, যে কোন ব্যথা কিন্তু সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হয়...

আপনার সচেতনতা আপনার পরিবারের নিরাপত্তা।

30/06/2023

কল্পনা করেছেন, এই কুরবানির ঈদের বদৌলতে কী পরিমাণ টাকা শহর থেকে গ্রামে গিয়েছে?
গ্রামীণ অর্থনীতিতে এতো বড় যোগান সম্পূর্ণভাবে ইসলামের অবদান।
বাংলাদেশের সেক্যুলাররা কোনোভাবেই ঈদের এই মাহাত্ম্য ম্লান করতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।

14/06/2023

তিনি ছিলেন ১৫৮ মিলিয়ন প্রজার শাসক। তাঁর সময়ে মুঘল সাম্রাজ্যের সংগৃহীত বাৎসরিক করের পরিমাণ ছিল ৪৫০ মিলিয়ন ডলার, যা সমসাময়িক ফ্রান্সের বাৎসরিক করের চেয়ে ১০ গুণ বেশি। তাঁর শাসনামলে চীনকে ছাড়িয়ে ভারতবর্ষ পৃথিবীর সর্ববৃহৎ অর্থনীতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তখন ভারতের জিডিপি ছিল ৯০ বিলিয়ন ডলার। তৎকালীন ওয়াল্ড জিডিপির ২৫% সরবরাহ করত সম্রাট আওরঙ্গজেবের মুঘল সালতানাত। তাঁর অধীনেই রচিত হয় "ফতোয়ায়ে আলমগিরী" নামক ইসলামি আইনশাস্ত্রের বিশ্বকোষ।

তিনি হলেন,
আল-সুলতান আল-আজম ওয়াল খাকান আল-মুকাররম আবুল মুজাফফর মুহি উদ-দিন মুহাম্মাদ আওরঙ্গজেব আলমগীর, রাহিমাহুল্লাহ। আল্লাহ তাঁর ভুলত্রুটিগুলো ক্ষমা করুন।

রাজত্ব, সম্পদের পাহাড় থাকার পরেও তিনি কোষাগার থেকে একটা পয়সাও গ্রহণ করতেন না। টুপি সেলাই করতেন, ক্যালিগ্রাফি করতেন। সেগুলো বিক্রি করে নিজের পরিবারের খরচ চালাতেন।

07/06/2023

তীব্র গরমে একটু আরামের জন্য বাজার থেকে রং-বেরংয়ের আইসক্রিম বা সফট ড্রিংসের মতো ক্ষতিকর জিনিস না কিনে শীতল পানিতে একটি লেবু চিপে পান করুন। এতে গরমের কষ্ট লাঘব হবে, এটি স্বাস্থ্যের পক্ষেও ভালো। কেমিক্যালে ভরা ভেজাল খাদ্য কী পরিমাণ কিডনি রোগ ও ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য ব্যধির কারণ হচ্ছে তা ভুক্তভোগীরা জানে।

এছাড়া সাদা পোশাকে গরম তুলনামূলক কম অনুভব হয়। গরমের কষ্ট কমানো ও সুস্থ থাকার জন্য চিকিৎসকগণ বেশি পরিমাণ পানি পান করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। শিশুদের পানি পান করানোর প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখা চাই।

তীব্র গরমে সবাই আল্লাহর দিকে রুজু হই। আল্লাহ আমাদের কষ্ট দূর করে দিন। কেয়ামতের দিনের উত্তাপ ও জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।

03/06/2023

দেশ জুড়ে তীব্র দাবদাহ চলছে। নিকট অতীতে এই ধরনের গরম আর পরিলক্ষিত হয়নি। সবাই বেশি করে পানি পান করি। খেটে খাওয়া শ্রমিকদের প্রতি সদয় হই। গরমের তীব্রতা আমাদেরকে জাহান্নামের উত্তাপের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

সুরা রুমের মধ্যে মহান আল্লাহ বলেছেন, জলে-স্থলে যত বিপর্যয় ঘটে, সব মানুষের হাতের কামাই।

একদিকে আমাদের জাগতিক বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মের কারণে প্রকৃতি তার ভারসাম্য হারিয়ে বিপর্যয় সৃষ্টি করে। অপর দিকে আমাদের গুনাহের কারণে আল্লাহ প্রাকৃতিক শাস্তি দেন।

এমতাবস্থায় জাহান্নামের কথা স্মরণ করে আমাদের তাওবা ও গুনাহ বর্জন করা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন এবং অনাবৃষ্টি ও গরমের কারণ চিহ্নিত করে জাগতিক পদক্ষেপ নিতে হবে। অপরিকল্পিত নগরায়ণের মাধ্যমে ব্যাপক হারে বৃক্ষ নিধন করা হচ্ছে। এতে আমরা নিজেরাই নিজেদের সর্বনাশ ডেকে আনছি।

সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, ব্যাপকভিত্তিক বৃক্ষরোপণ ও বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণ এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের দিকে ধাবিত না হলে দাবদাহের এই অভিশাপ থেকে আমরা সহজে পরিত্রাণ পাব না।

খাদ্যের জন্য এখনো আমাদেরকে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। তার উপর খরা ও অনাবৃষ্টির কারণে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হলে একদিকে দরিদ্র কৃষকেরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, আমরাও খাদ্য সংকটে পড়ব।

তাই আসুন, আমরা গুনাহ বর্জন করি, আল্লাহর কাছে ফিরে আসি এবং দাবদাহ দূরীকরণে সামাজিক সচেতনতা ও শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করি।

হে আল্লাহ, আমাদের উপর উপকারী বৃষ্টি বর্ষণ করুন। কৃষিনির্ভর এই ছোট্ট দেশটিকে আপনার রহমত দিয়ে সজীব বানিয়ে দিন। আমীন।

02/06/2023

হজ্জের কার্যক্রম

24/05/2023

The place from where Prophet Musa عليه السلام crossed the ocean 🌊 when Pharoah was following him in In 1276 BC.

Allah asked him to strike the sea with his staff 🦯. The sea was divided into 12 paths, one for each of the tribes. Hazrat Musa عليه السلام and his 600,000 followers crossed the ocean safely.

When Pharoah and his army of 1.6 million people tried to cross the sea, they were drowned ⚓ and destroyed in the ocean. It is said that it was the day of the 10th of Muharram when Pharoah ⚰️ died.

15/05/2023

জীবনযুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার গোপন রহস্য

১.কেউ যন্ত্রণা দিচ্ছে?
- আল্লাহ ভরসা করে চুপ হয়ে যান।

২.কেউ অনেক ত্যাগ ও শ্রমের পরও প্রাপ্যটা দেয়নি?
- আল্লাহ ভরসা করে চুপ হয়ে যান।

৩.কোন মানুষ অনেক অপমান করেছে?
-আল্লাহর নাম স্মরণ করে চুপ হয়ে যান।

৪.কেউ ঠকিয়ে গেছে?
- আল্লাহর নাম স্মরণ করে চুপ হয়ে যান।

৫.কেউ আপনাকে মিথ্যা দোষারোপ করেছে?
- আল্লাহর দিকে চেয়ে চুপ হয়ে যান।

৬. কেউ আপনার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে ভুলে যাওয়া পুরোনো কোন স্মৃতি টেনে আঘাত করেছে?
- আল্লাহর কথা ভেবে চুপ হয়ে যান।

৭. কেউ চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছে?
- আল্লাহর কথা ভেবে চুপ হয়ে যান।

এই চুপ থাকা আপনার জন্য সুরক্ষার পর্বত হয়ে দাঁড়াবে। এই ধৈর্য আপনাকে আল্লাহর সান্নিধ্য পাইয়ে দেবে।

এমন নিরব হয়ে যান যে সে মানুষগুলো যেনো আর কখনোই আপনার শব্দ না শোনে। মৃত হয়ে যান তাদের কাছে। প্রতিজ্ঞা করুন আর কখনোই ফিরে তাকাবেন না। শুধু এই প্রতিজ্ঞাটা করতে পারলে আপনি কষ্ট পাবেন না । এই নিরবতা আপনাকে কষ্টকর অনুভূতি দিবে কিন্তু অপর পক্ষকে দিবে চরম শিক্ষা ও চির আফসোস।

আসলে আমরা ঠকবার কিংবা হারাবার ভয়ে শব্দ দিয়ে প্রতিবাদ করি।
কিন্তু আপনি কি জানেন, যে মানুষগুলো আপনাকে মূল্যায়ন করেনি, আপনাকে দমবন্ধ কান্নার অনুভূতি দিয়েছে তারা আপনার কেউ না। তাই শব্দ দিয়ে, কান্না দিয়ে, যুক্তি দিয়ে বললেও অথবা দুনিয়ার সমস্ত ত্যাগ ও কোরবানি দিলেও ওরা আপনার মূল্য বুঝবে না।

তাই নিজের স্বার্থে বাঁচুন।
নিজেকে ভালোবাসুন।
যেসব মানুষ থেকে কিছু আশা করেন না, আল্লাহর জন্য তাদের ভালোবাসুন।
দুনিয়ায় যে সময়টুকু থাকবেন, এর জন্য ততটুকুই মেহনত করুন।
আখিরাতে যতদিন থাকবেন, এর জন্য সে পরিমাণ মনযোগী হয়ে মেহনত করুন।
তওবা জিকির সাদকা ও উত্তম আচরণের মাধ্যমে পরকালের প্রস্তুতি নিন।
দেহ মন প্রাণ দিয়ে আল্লাহর ইবাদত করুন।

আপনার একজন 'রব' আছেন।
সেজদায় গিয়ে সকল দুঃখ, কষ্ট, চাওয়া, পাওয়ার কথা 'রব'কে বলুন। তিনি আপনাকে ভালোবেসে গ্রহণ করে আপনার অস্তিত্বকে শীতল ও প্রশান্ত করে সব কিছুর সমাধান করবেন। আপনি ঈমান আমলের ফলে তার ক্ষমা, রহমত ও অতুলনীয় মায়া মমতা লাভ করবেন। তারই তত্ত্বাবধানে ইহ ও পরকালে বিজয়ী জীবন যাপন করবেন ইনশাআল্লাহ।

29/04/2023

সিজদায় দোয়া

সিজদায় গিয়ে আমি আল্লাহ তাআলার সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থান করি। সিজদা করাবস্থায় আমার আকুতি, আমার মিনতি, আমার দোয়া আল্লাহ তাআলার কাছে বেশি মকবুল হওয়ার নিশ্চয়তা থাকে। তাই নিজের দুঃসময়ে, নিজের কষ্ট-সংকটে সিজদায় গিয়ে আল্লাহ তাআলার কাছে চাইব, আল্লাহ তাআলার শিখিয়ে দেয়া দোয়া দিয়ে,

১: আমার আমল কবুল করার জন্য আবেদন করবো,
رَبَّنَا تَقَبَّلۡ مِنَّاۤۖ إِنَّكَ أَنتَ ٱلسَّمِیعُ ٱلۡعَلِیمُ
বাকারা: ১২৭।
২: হক থেকে বিচ্যুতির আশংকা থাকলে পড়ব,
رَبَّنَا لَا تُزِغۡ قُلُوبَنَا بَعۡدَ إِذۡ هَدَیۡتَنَا وَهَبۡ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحۡمَةًۚ إِنَّكَ أَنتَ ٱلۡوَهَّابُ
আলে ইমরান: ৮।
৩: হকপথের ওপর অটল রাখার জন্য, দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করার জন্য পড়ব,
ٱهۡدِنَا ٱلصِّرَ ٰ⁠طَ ٱلۡمُسۡتَقِیمَ
সুরা ফাতিহা।
৪: দুঃখ-দুশ্চিন্তা, দুর্দশায় পড়বো,
حَسۡبِیَ ٱللَّهُ لَاۤ إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَۖ عَلَیۡهِ تَوَكَّلۡتُۖ وَهُوَ رَبُّ ٱلۡعَرۡشِ ٱلۡعَظِیمِ
তাওবা: ১২৯।
৫: জীবনে ভালো কিছু হচ্ছে না? যেটাই করি, সুফল তুলে আনতে পারছি না? চাকরিবাকরি হচ্ছে না? ব্যবসায় লাভ উঠে আসছে না? পড়বো,
وَمَا تَوۡفِیقِیۤ إِلَّا بِٱللَّهِۚ عَلَیۡهِ تَوَكَّلۡتُ وَإِلَیۡهِ أُنِیبُ
হুদ: ৮৮।
৬: নিজের দ্বীন-ঈমান নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে? পরিবেশ-পরিস্থিতির প্রভাবে ঈমান দুর্বল হয়ে গেছে? পড়বো,
رَبَّنَاۤ ءَامَنَّا بِمَاۤ أَنزَلۡتَ وَٱتَّبَعۡنَا ٱلرَّسُولَ فَٱكۡتُبۡنَا مَعَ ٱلشَّـٰهِدِینَ
আলে ইমরান: ৫৩।
رَبَّنَاۤ ءَامَنَّا فَٱكۡتُبۡنَا مَعَ ٱلشَّـٰهِدِینَ
মায়েদা: ৮৩।
৭: মন অস্থির হয়ে আছে? কোনো কাজে মন বসছে না? একটু ধৈর্য-সবর নেই? সিজদায় লুটিয়ে পড়বো,
رَبَّنَاۤ أَفۡرِغۡ عَلَیۡنَا صَبۡرࣰا وَتَوَفَّنَا مُسۡلِمِینَ
আরাফ: ১২৬।
رَبَّنَاۤ أَفۡرِغۡ عَلَیۡنَا صَبۡرࣰا وَثَبِّتۡ أَقۡدَامَنَا وَٱنصُرۡنَا عَلَى ٱلۡقَوۡمِ ٱلۡكَـٰفِرِینَ
বাকারা: ২৫০।
৮: মনটা ভীষণ খারাপ? মনটা বিষন্ন? সিজদায় লুটিয়ে গিয়ে পড়বো,
إِنَّمَاۤ أَشۡكُوا۟ بَثِّی وَحُزۡنِیۤ إِلَى ٱللَّهِ
ইউসুফ: ৮৬।
৯: নেকসন্তান দরকার? সন্তানকে নামাজি বানানোর ইচ্ছা? সিজদায় লুটিয়ে গিয়ে পড়বো,
رَبِّ ٱجۡعَلۡنِی مُقِیمَ ٱلصَّلَوٰةِ وَمِن ذُرِّیَّتِیۚ رَبَّنَا وَتَقَبَّلۡ دُعَاۤءِ
ইবরাহিম: ৪০।
১০: মনটা সংকুচিত হয়ে আছে? মনে কোনো আনন্দ খুঁজে পাচ্ছি না? সিজদায় লুটিয়ে পড়বো,
قَالَ رَبِّ ٱشۡرَحۡ لِی صَدۡرِی وَیَسِّرۡ لِیۤ أَمۡرِی
তোয়াহা: ২৫-২৬।
১১: জানাশোনা কম? লেখাপড়া কম পারি? বুঝিশুনি কম? সিজদায় লুটিয়ে বারবার পড়তে থাকবো,
رَّبِّ زِدۡنِی عِلۡمࣰا
তোয়াহা: ১১৪।
১২: নফস ও শয়তানের দৌরাত্ম্যে জীবন অতিষ্ঠ? শয়তানের প্ররোচনা থেকে বাঁচতে, শয়তানকে তাড়াতে সিজদায় লুটিয়ে পড়বো,
رَّبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنۡ هَمَزَ ٰ⁠تِ ٱلشَّیَـٰطِینِ وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَن یَحۡضُرُونِ
মুমিনুন: ৯৭-৯৮।
১৩: দুরারোগ্য ব্যাধিতে জীবন জর্জরিত? রোগাবালাইয়ে জীবন ছারখার হয়ে যাচ্ছে? সিজদায় লুটিয়ে পড়বো,
أَنِّی مَسَّنِیَ ٱلضُّرُّ وَأَنتَ أَرۡحَمُ ٱلرَّ ٰ⁠حِمِینَ
আম্বিয়া: ৮৩।
১৪: জাহান্নামের আযাবের ভয় লাগছে? জাহান্নামের আযাব থেকে বাঁচতে সিজদায় লুটিয়ে পড়বো,
رَبَّنَا ٱصۡرِفۡ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَۖ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًا
ফুরকান: ৬৫।
১৫: নেককার সন্তান ও বিবি দরকার? বিবি ও সন্তান নেককার হয়নি? সিজদায় লুটিয়ে নিয়মিত বারবার পড়বো
رَبَّنَا هَبۡ لَنَا مِنۡ أَزۡوَ ٰ⁠جِنَا وَذُرِّیَّـٰتِنَا قُرَّةَ أَعۡیُنࣲ وَٱجۡعَلۡنَا لِلۡمُتَّقِینَ إِمَامًا
ফুরকান: ৭৪।
১৬: দুনিয়া ও আখেরাতে সব ধরণের কল্যাণ লাভের জন্য সিজদায় লুটিয়ে বারবার পড়বো,
رَبَّنَاۤ ءَاتِنَا فِی ٱلدُّنۡیَا حَسَنَةࣰ وَفِی ٱلۡـَٔاخِرَةِ حَسَنَةࣰ وَقِنَا عَذَابَ ٱلنَّارِ
বাকারা: ২০১।
১৭: মা-বাবার জন্য নিয়মিত সিজদায় লুটিয়ে পড়বো,
رَّبِّ ٱرۡحَمۡهُمَا كَمَا رَبَّیَانِی صَغِیرࣰا
ইসরা: ২৪।
১৮: সমস্ত মুমিনের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করব,
رَبَّنَا ٱغۡفِرۡ لِی وَلِوَ ٰ⁠لِدَیَّ وَلِلۡمُؤۡمِنِینَ یَوۡمَ یَقُومُ ٱلۡحِسَابُ
ইবরাহিম: ৪১।
১: কুরআন কারীমে আরো দোয়া আছে। উপরোক্ত দোয়াগুলো নিয়মিত পড়ার অভ্যেস গড়ে তুলতে পারলে, বাকি দোয়াগুলোও আস্তে আস্তে পড়ার অভ্যেস তৈরি হয়ে যাবে।
২: কুরআন কারীমের দোয়াগুলো মোটাদাগে প্রায় সবারই মুখস্থ থাকে। কিন্তু সমস্যা হল মুনাজাতের সময় দুয়েকটার বেশি মনে আসে না। এমনটা হওয়ার কারণ দোয়াগুলো পড়ার অভ্যেস না থাকা। নিয়মিত সচেতনভাবে চেষ্টা করলে, কাজ হবে।
৩: এজন্য সহজ হল, যেসব দোয়া পারি, সেগুলোর সাথে একটা একটা করে দোয়া বাড়াতে থাকা। নতুন দোয়াটি কয়েকদিন পড়ার পর, আরেকটি দোয়া মুনাজাতের তালিকায় যোগ করা। এভাবে মেহনত চালিয়ে গেলে, দুয়েক মাসের মধ্যেই কুরআন কারিমের সমস্ত দোয়া অনায়াসেই মুনাজাতে উঠে চলে আসবে। ইন শা আল্লাহ।
৪: আরো ভালো হয়, প্রতিদিন ৫-১০ মিনিট নির্ধারণ করে, কুরআন কারীমের সবগুলো দোয়া একসাথে পড়া। পড়ার সময় খেয়াল রাখা, কোন কোন দোয়া মুনাজাতের সময় আমার মুখে উঠে আসে না। সেগুলোর দিকে বাড়তি মনোযোগ দেয়া। এভাবে মেহনত করলে, একমাসও লাগবে না, সমস্ত কুরআনি দোয়া আমার যবানে গেঁথে যাবে। মনেও ইনশা আল্লাহ।
রাব্বে কারিম তাওফিক দান করুন। আমিন।

23/04/2023

ঈদ মুবারক

07/04/2023

গুনাহের কাজে দান-সহায়তা করা হারাম ও কবিরা গুনাহ

জাকাত বা সাদকা নিজে বিতরণ করুন কিংবা বিশ্বাসী আস্থাভাজন আলেমগণের মাধ্যমে প্রদান করুন।
অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি, সংগঠন বা সংস্থাকে জাকাত-সাদকা দিলে তা আদায় হবে না।

বিধর্মী লোককে বা ধর্মহীন সংস্থাকে জাকাত সাদকা বন্টনের দায়িত্ব দিলে, আদায় তো হবেইনা বরং ইবাদতের মধ্যে মারাত্মক অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে শক্ত গুনাহ হবে। শির্ক, কুফর বা কবিরা গুনাহের কাজে অর্থ সাহায্য করা হারাম।

25/03/2023

ইফতার শেষে ক্লান্তি অনুভব হয়।
চা-পর্ব শেষে আপনি বিশ্রামে।
কিন্তু আপনার গিন্নি পাকঘরে!
তিনি ইফতারের পর কাপ-প্লেইট বাসন পরিস্কারের কাজে ব্যস্ত।

তারাবিহ পর আপনি খোশ মেযাজে চা-নাস্তা সারছেন।
গিন্নি সাহরির আয়োজনে।

রাত ৩ টা।
আপনি তাহাজ্জুদ পড়ছেন।
গিন্নি টেবিলে খাবার সাজাচ্ছেন।

সকাল ৯ টা।
আপনি গভীর ঘুমে।
গিন্নি সাংসারিক ব্যস্ততায়।

আমাদের সাংসারিক জীবনে এভাবেই রমজান কাটে।
গৃহীনিদের সাহরী ইফতার নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয়।ওনাদের প্রশান্তচিত্তে নামাজ তারাবিহ কুরআন তেলাওয়াতের সুযোগ নেই।

ঘরের মহিলাদের কি ক্লান্তি নাই, তাদের কি রেস্ট নিতে মন চায়না, তাদের কি ইবাদাত করতে মন চয়না???

এ অবস্থা চলতে দেয়া যায়না।
আমাদের জন্য জরুরী এ বিষয়টির প্রতি নজর দেয়া।মহিলাদের প্রতি সদয় হওয়া উচিত।

# সাংসারিক কাজে সহযোগিতা করা সুন্নাহ।রমজান থেকেই আমরা সচেতন হতে পারি।

# খাবার দাবারের মহাআয়োজন কমিয়ে আনুন।ঘরের রানীর সাথে বসে পরিকল্পনা করুন।

# সুন্নাহ মুতাবেক সন্তানদের নিয়ে একটি বড় থালে খাবারের চেষ্টা করুন।বাসন ধুয়ার ঝামেলা অনেকটা কমে যাবে।

# নিজের ঘরে আমালের প্রতিযোগিতা শুরু করুন।
আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।

15/11/2022

বড়দের জীবনি পড়ুন

29/10/2022

اللهم‏ ارحمنا ‏بالقرآن العظيم
اللهم انفعلنا بالقرآن العظيم
اللهم نور قلوبنا بالقرآن
والزين أخلاقنا بالقرآن
ونجنا من النار بالقرآن
‏ و أدخلنا في الجنة بالقرآن

25/10/2022

اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلاَ عَلَيْنَا
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়ালা আলাইনা

অনুবাদ : হে আল্লাহ! আমাদের উপর থেকে অন্যদিকে সরিয়ে নাও।

[সহীহ বুখারী : ১০২১]

21/10/2022

জুমুয়ার দিনের আমল

12/10/2022

" হে নবী! কোমলতা ও ক্ষমার পথ অবলম্বন কর। সৎ কাজের উপদেশ দিতে থাকো এবং মূর্খদের সাথে বিতর্কে জড়িও না। "
🌹
সূরা আল আরা'ফ, ১৯৯

27/09/2022

হাসান মার্কেট সিলেট
১৯৬৭ ইংরেজি

24/09/2022

তার সম্মানিত শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ, তাকে খুব বেশি পাবলিক প্রোগ্রামে উপস্থাপন করে তার সামনে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনাকে হুমকির মুখে ফেলে দিবেন না। এবার তাকে নিবিড়ভাবে ভালো আলেম ও উচ্চ শিক্ষা অর্জনের সুযোগ দিন। আমাদের নিজেদের সামান্য স্বার্থে ব্যবহার কিংবা অতি মাতামাতির কারণে এ ধরনের সম্ভাবনাময় ছেলেরা হারিয়ে যায়।

মহান আল্লাহ তার জীবনে সর্বাঙ্গীন কল্যান দান করুন।

মুহতারাম শায়েখ আহমদ উল্লাহ সাহেব।

Photos from Jamea Suffah জামেয়া সুফফাহ's post 28/08/2022

১১০০ শব্দ শিখে নিন,
ইংলিশে আর কোন জড়তা থাকবেনা।

09/08/2022

ইয়াজিদের সামনে এনে রাখা হলো ইমাম হুসাইন (রা.) এর কর্তিত মস্তক। পবিত্র সে মস্তকে এখনও লেগে আছে রক্তের অজস্র ফোঁটা। এই মস্তকে, এই চিবুকে, এই কপোলে জীবনে কতবার না চুমু এঁকেছেন সার্দারে আল কাওনাইন! কত আদরে আদরে ভরপুর ছিল নবি দৌহিত্রের শৈশব, কৈশোর, যৌবন! আর আজ তাঁর চির উন্নত শির নিদারুণ অবহেলায় পড়ে আছে ইয়াজিদের পায়ের কাছে।

ইয়াজিদ উঠে দাঁড়াল। হাতে তুলে নিলো একটি বেতের ছড়ি। তারপর সেটা দিয়ে ওই পবিত্র শিরে খোঁচা মারতে শুরু করল। দাঁতে আঘাত করতে করতে বসিয়ে দিলো তার পাপের চিহ্ন। আহ! কেঁপে উঠল কি আল্লাহর আরশ? তারপর সে চরম ঔদ্ধত্যের সঙ্গে বলল- 'আমাদের কাছে শক্তিমান বহুজনের মস্তক চৌচির করে ফেলা হয় এমতাবস্থায় যে, তারা বড় নাফরমান ও চরম জালিম।'[আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: খণ্ড-৭, পৃষ্ঠা-১২২]

এ দৃশ্য সচক্ষে দেখলেন রাসূল (সা.) এর সাহাবি আবু বারজা (রা.)। তিনি আর স্থির থাকতে পারলেন না। তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইয়াজিদকে বললেন- 'তুমি কি তোমার ছড়ি দিয়ে হুসাইনের দাঁতের সারিতে আঘাত করে দাগ বসিয়ে দিলে? সাবধান! তোমার ছড়িটি তাঁর দাঁতের সারিতে দাগ বসিয়েছে এমন স্থানে, যেখানে আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে চুমু দিতে দেখেছি।' এ কথা বলে তিনি ইয়াজিদের দরবার থেকে বের হয়ে গেলেন। [তাবারি]

অভিশপ্ত ইয়াজিদ ইমাম হুসাইন (রা.) কে কেবল শহীদ করেই ক্ষান্ত হয়নি বরং চরম ঔদ্ধত্যের সীমা স্পর্শ করে বলেছিল- 'আমার পূর্বপুরুষরা যদি বেঁচে থাকতেন তাহলে তারা দেখতেন- কীভাবে আমি মুহাম্মাদের পরিবার ও তাঁর গোত্র বনি হাশিমের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিয়েছি। আমি তার কাছ থেকে প্রতিশোধ নিয়েছি বদর যুদ্ধের বদলা হিসেবে, যা সে করেছিল ওই আমাদের পূর্ব পুরুষদের বিরুদ্ধে।' [তাফসিরে ইবনে মাজহারি: খন্ড-৫, পৃষ্ঠা: ২১১-২১২]

ইয়াজিদ তার ৩ বছর ৯ মাসের অবৈধ শাসনামলে নবি পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে শহীদ করা ছাড়াও আরও দুটি ভয়ঙ্কর পাপ করেছে। এই অপরাধযজ্ঞ তাকে পরিণত করেছে ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে কুখ্যাত ও ঘৃণিত ব্যক্তিতে। কেয়ামত পর্যন্ত মানুষ তাকে একজন খলনায়ক হিসেবেই ঘৃণা করে যাবে। আল্লাহর কাঠগড়ায় তো বটেই, পৃথিবীর অনাগত ইতিহাসের কাঠগড়ায়ও তাকে দাঁড়াতে হবে বহুবার। এ থেকে তার মুক্তি নেই, পরিত্রাণ নেই।

ইয়াজিদের দ্বিতীয় মহাপাপটি ছিল পবিত্র মদীনা শহরে হামলা এবং মসজিদে নববীর অবমাননা। টানা ৩ দিন ধরে তার বাহিনীর হাতে লুটপাট আর গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। এমনকি পবিত্র নগরীর বুকে ঘটেছে গণধর্ষণের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনাও। ধর্ষণ করা হয়েছে কাদের? সাহাবীদের পরিবারের নারী সদস্যদের। কেউ তাঁদের মা, কেউ স্ত্রী, কেউ বোন, কেউবা কন্যা। নবিজির ইন্তেকালের মাত্র কয়েক দশকের ব্যবধানে তাঁরই শহরে কি এটা কল্পনা করা যায়!

ইয়াজিদের তৃতীয় মহাপাপটি ছিল পবিত্র মক্কার কাবা ঘরে হামলা চালানো। তার বর্বর সেনারা কারবালার ঘটনার ৩ বছর পর মক্কা অবরোধ করে। তারা মহান আল্লাহর ঘর জ্বলন্ত ন্যাপথালিনযুক্ত অগ্নি-গোলা নিক্ষেপ করে জ্বালিয়ে দেয়। ফলে মক্কার বিশিষ্ট সাহাবীদের কাছে ইয়াজিদের খোদাদ্রোহী চরিত্রের বিষয়টি আবারও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পবিত্র কাবাঘরে হামলার পরই খবর আসে- কুখ্যাত জালিম ও কাফির ইয়াজিদ মারা গেছে। আজ যারা তার পক্ষে ওকালতি করবে, তারাও এই শ্রেণিরই অন্তর্ভুক্ত।

19/07/2022

বিগত শতকে তিনবার অর্থব্যবস্থায় ধস নেমেছিল। ১৯১৪ (প্রথম বিশ্বযুদ্ধে), ১৯৩৯ (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে) এবং ১৯৭১ সালে। ১৯৯৮ এবং ২০০৮ সালে প্রায় ধসে গিয়েছিল। ইতিহাস বলে প্রতি ৩০ বছর পরপর অর্থনীতি ধসে। সেই হিসাবে বলা চলে আমরা আরেকটি আগ্নেয়গিরির মুখে আছি। হয়তো আমাদের চেনাজানা অর্থব্যবস্থার পতন অত্যাসন্ন, নতুন ব্যবস্থার সূর্যদয় সন্নিকটে।

পূর্বেকার অর্থব্যবস্থাগুলো ধ্বংসের ফলে মানুষ গুহায় ফিরে যায় নি, ঘাস-লতাপাতা খেতে শুরু কেরেনি। অর্থব্যবস্থার ধস মানে হচ্ছে পুরাতন অর্থব্যবস্থার আলোকে ব্যবসাবাণিজ্য পরিচালনা আর সম্ভব হচ্ছে না, ফলে বড় অর্থনীতির, বড় বানিজ্যের দেশগুলো টেবিলে বসে 'খেলার নতুন নিয়ম' ঘোষণা করবে।

১৮৭০ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত গোল্ড স্ট্যান্ডার্ডের নানা রূপ প্রচলিত ছিল। তারপর ১৯৮০ থেকে ২০১০ পর্যন্ত কোনো গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড নেই; বরং ডলার স্ট্যান্ডার্ড ছিল। ২০১০ থেকে বর্তমান পর্যন্ত বাস্তবে কোনো স্ট্যান্ডার্ড নেই। আমরা উন্মুক্ত সাগরে ভাসমান।

কোনো দেশ যখন মুদ্রার মান হ্রাস করে, প্রতিযোগী দেশের তুলনায় এর রপ্তানি বেড়ে যায়। একে বলা হয় beggar thy neighbor বা প্রতিবেশীর বারোটা বাজিয়ে নিজের বাজিমাত। এ ক্ষেত্রে সেই প্রতিবেশী কি বসে থাকবে? না, সেও তার মুদ্রার মান কমাবে। চক্রাকারে চলতেই থাকবে। ফলাফল? মুদ্রাযুদ্ধ।

প্রথম মুদ্রাযুদ্ধ হয় ১৯২১-১৯৩৬। দ্বিতীয় মুদ্রাযুদ্ধ হয় ১৯৬৭-১৯৮৭। অর্থনীতিবিদদের মতে তৃতীয় মুদ্রাযুদ্ধ শুরু হয়েছে ২০১০ সাল থেকে। কবে নাগাদ এটি চূড়ায় পৌঁছবে এবং বর্তমান অর্থব্যবস্থা ভেঙে পড়বে তা অনিশ্চিত।

-গোল্ড ইজ মানি

19/07/2022

ছয় প্রকার নারীকে বিয়ে করা উচিত নয় :

১. আন্নানা
২. মান্নানা
৩. হান্নানা
৪. হাদ্দাকা
৫. বাররাকা
৬. শাদ্দাকা

১. “আন্নানা” হলো সেই নারী যে সবসময় ‘হায়
আফসোস’ ‘হায় আফসোস’ করতে থাকে। এবং অলস, ‘রোগিণী’র ভান করে বসে থাকে। এমন নারীকে বিয়ে করলে সংসারে বরকত হয় না।

২. “মান্নানা” হলো সেই নারী যে স্বামীকে প্রায়ই বলে, আমি তোমার জন্যে এই করেছি, সেই করেছি।’ হেন করেছি, তেন করেছি, ইত্যাদি ইত্যাদি।

৩. “হান্নানা” হলো সেই নারী যে তার পূর্বের স্বামী বা প্রেমিকের প্রতি আসক্ত থাকে।

৪. “হাদ্দাকা” হলো সেই নারী, যে কোনো কিছুর উপর থেকেই লোভ সামলাতে পারে না। সব কিছুই পেতে চায়, এবং স্বামীকে তা ক্রয়ের জন্যে নিয়মিত চাপে রাখে।

৫. “বাররাকা” হলো সেই নারী যে সারাদিন কেবল
সাজসজ্জা ও প্রসাধনী নিয়ে মেতে থাকে। এই শব্দের অন্য একটি অর্থ হলো, যে নারী খেতে বসে রাগ করে চলে যায়। এবং পরে একা একা খায়।

৬. “শাদ্দাকা” হলো সেই নারী যে সবসময় বকবক
করে।

বিয়ের ক্ষেত্রে সর্বদা দ্বীনদারীকে প্রাধান্য দিন।

হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে দ্বীনদার স্ত্রী ও নেক
সন্তান দান করুন।
হে আল্লাহ আমাদের সকল বোনদেরকে দ্বীনদার স্বামীও নেক সন্তান দান করুণ

বিঃদ্রঃ হে আল্লাহ্ আপনি আমাদের সকল নর নারী কে দ্বীনদার ও নেককার হওয়ার তৌফিক দান করুণ আমিন 🌸🍁

16/07/2022

বর্ষ: ০৮, সংখ্যা: ১১
মুহাররম-১৪৩৪ || ডিসেম্বর-২০১২
কাবলাল জুমা : কিছু নিবেদন
মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক

একজন সম্মানিত আলিমের একটি কথা, যিনি রিয়াদ থেকে পি.এইচ.ডি করেছেন এবং এখন এদেশের একটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে খেদমতে নিয়োজিত আছেন, আমার খুব ভালো লেগেছে। তিনি বলেছেন, ‘‘আমাদের চলতে হবে সুন্নাহ এবং উম্মাহকে একসাথে নিয়ে।’’ এরপর তিনি একথার ব্যাখ্যা করেন, ‘‘সুন্নাহ হচ্ছে সূত্র ও দলীল এবং উম্মাহর জীবন-ব্যবস্থা। আর উম্মাহকে সাথে নিয়ে চলার অর্থ, মুসলিমজাহানের কোনো অঞ্চলে কোনো কাজ প্রচলিত থাকলে এবং সুন্নাহয় তার কোনো না কোনো দলীল পাওয়া গেলে সে কাজের বিরোধিতা করে উম্মাহকে পেরেশান করা উচিত নয়।’’

‘‘সুন্নাহ এবং উম্মাহ উভয়কে নিয়ে চলা এবং জুমহূর উম্মাহর সঙ্গে থাকার’’ অর্থ উপরোক্ত ব্যাখ্যার চেয়েও অনেক বিস্তৃত ও গভীর। কিন্তু প্রসঙ্গক্রমে যেটুকু তিনি বলেছেন তা-ও স্বস্থানে অতি গুরুত্বপূর্ণ। উম্মাহর মাঝে ব্যাপকভাবে অথবা কোনো অঞ্চলে যে আমল জারি আছে, যদি তার কোনো শরয়ী সনদ থাকে, তখন শুধু একারণে তার বিরোধিতা করা যে, তা অমুক মাযহাবের বিরোধী বা অমুক আলিমের মতে তা দলীলবিহীন, এরপর এর বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা করে সাধারণ মানুষের মাঝে অস্থিরতা ছড়ানো শরীয়তের রীতি ও রুচির সম্পূর্ণ বিরোধী। আল্লাহর নবীর সুন্নাহ এবং সালাফের নীতি-আদর্শের সাথে এর কোনো মিল নেই।

হায়! দ্বীন ও ধর্ম যখন নানামুখি বিপদের সম্মুখীন তখন গোদের উপর বিষফোড়ার ন্যায় এই আপদ দেখা দিয়েছে যে, উম্মাহর মাঝে প্রতিষ্ঠিত ও প্রমাণিত অনেক বিষয় সম্পর্কে (যা শুধু-এই নয় যে, কোনো রকম তার প্রমাণ-সূত্র খুঁজে পাওয়া যায়; বরং যার প্রমাণই তুলনামূলক বেশি শক্তিশালী এবং যা সরাসরি সুন্নাহর ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত) প্রচার করা হচ্ছে যে, ‘তা বিদআত, ভিত্তিহীন ও সুন্নাহ-বিরোধী!’

মুসলমানের বর্তমান মুমূর্ষু অবস্থাতেও যাদের মনে করুণা জাগে না; বরং ‘জ্ঞান-গবেষণার’ নামে এবং ‘হাদীস-অনুসরণের’ শিরোনামে তাদেরকে আরো বেশি অস্থিরতা ও বিক্ষিপ্ততার মাঝে নিক্ষেপ করে চলেছেন তাদের সমীপে বিনীত নিবেদন, ‘অনুগ্রহ করে আপনার অধ্যয়ন-সীমা কিছুটা প্রশস্ত করুন এবং খানিকটা গভীর করুন, আর ‘ফুরু’-এর সাথে ‘উসূল’ পাঠেও খানিকটা অভ্যস্ত হোন। তাহলে প্রতিষ্ঠিত ও প্রমাণিত বিষয়াদিকে ভিত্তিহীন ও প্রমাণহীন বলার পাপ থেকে আত্মরক্ষা সহজ হবে।

দেখুন, এ নিছক একটি পাপ নয়, অনেক পাপের সমষ্টি, যার অন্যতম হচ্ছে, উম্মাহকে তার ঐসব আলিম মনীষী সম্পর্কে আস্থাহীন করা, যাঁদের নিকট থেকে উম্মাহ দ্বীন ও ঈমান এবং সালাত ও সিয়াম শিখেছে। এ যে কোনো পুণ্যকর্ম নয় তা তো বলাই বাহুল্য। এ ঠিক এমনই, যেমন কেউ রিয়াদে গিয়ে শায়খ ইবনে বায রাহ. ও শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ উছাইমীন রাহ.-এর ফতোয়াসমূহের বিরুদ্ধে হাদীস ও আছার প্রচার করতে থাকল এবং ঐ অঞ্চলের সাধারণ মুসলমানদের অস্থির ও উদভ্রান্ত করে তুলল।

এ তো জানা কথা যে, যেসব বিষয়ে হাদীস-সুন্নাহ-ভিত্তিক একাধিক ইজতিহাদী মত আছে তাতে এই কাজ করা মোটেই কঠিন নয়। কারণ এসব ক্ষেত্রে দুদিকেই হাদীস ও আছার থাকে। কিন্তু প্রশ্ন এই যে, এ জাতীয় কাজ করলে তা কি দ্বীনের সেবা ও খিদমত হবে, না...?

দুই.

যেসব বিষয় উম্মাহর মাঝে প্রতিষ্ঠিত ও শক্তিশালী দলীল দ্বারা প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও বর্তমান সময়ে অপপ্রচারের শিকার তার একটি হচ্ছে জুমার আগের সুন্নত। খুব বিস্মিত হয়েছি যখন বিভিন্ন জায়গা থেকে এ প্রশ্ন আসা শুরু হয়েছে যে, ‘জুমার আগে সুন্নত পড়ার সূত্র কী, এ তো বিদআত। এর না কোনো দলীল আছে, না কোনো সহীহ হাদীস (নাউযুবিল্লাহ)!’ জানা গেছে, এইসব কথা তাদের পক্ষ হতে ছড়ানো হয়েছে যারা সচেতনভাবে বা অসচেতনভাবে মনে করেন, মানুষের মনে ফিকহ ও ফকীহ সম্পর্কে অশ্রদ্ধা তৈরি করা এবং সাধারণ মানুষকে আলিমদের থেকে বিচ্ছিন্ন করা দ্বীনের এক বড় খেদমত!

এঁরা যদিও মুজতাহিদ ইমামগণের ‘তাকলীদ’-এর চরম বিরোধী, কিন্তু ‘যাল্লাতুল উলামা’ বা আলিমগণের ভুল ভ্রান্তির অনুসরণের বিষয়ে অতিআগ্রহী। তা না হলে এঁরা জুমার আগে সুন্নত পড়ার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতেন না। আমার জানা মতে, সম্ভবত সপ্তম হিজরী শতাব্দীতে কোনো আলিম এই দাবি করেছিলেন যে, সালাতুল জুমুআর আগে সুন্নত পড়া বিদআত (অথচ তা গোটা মুসলিমজাহানে সাহাবা-যুগ থেকে চলে আসছিল)।

আল্লাহ তাআলা জাযায়ে খায়ের দান করুন ইমাম যায়নুদ্দীন ইবনে রজব হাম্বলী রাহ.কে (৭৯৫হি.), যাঁর তালীমের সূত্র ইমাম ইবনুল কাইয়েম রাহ. (৭৫১হি.) ও ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহ. (৭২৮হি.)-এর সাথে যুক্ত, তিনি এ বিষয়ে দুটি পুস্তক রচনা করেন :

١ـ نفي البدعة عن الصلاة قبل الجمعة

٢ـ إزالة الشنعة عن الصلاة قبل الجمعة.

এ দুটি পুস্তিকায় তিনি সুস্পষ্ট দলীল প্রমাণ দ্বারা ঐ অভিনব দাবি জোরালোভাবে খন্ডন করেন। আমার সামনে পুস্তিকা দুটি নেই, তবে ‘সহীহ বুখারী’র উপর তাঁর অপূর্ব ভাষ্যগ্রন্থ ‘‘ফাতহুল বারী’’র পঞ্চম খন্ডে, যা অনেক আগেই মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়েছে, এ বিষয়ে সারগর্ভ আলোচনা রয়েছে। ঐখানে তিনি লিখেছেন, এ বিষয়ে যারা আরো বিশদ ও বিস্তারিত জানতে চান তারা যেন পুস্তিকা দুটি পাঠ করেন।

তিন.

কিছু মানুষ, যারা এই প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহর বিরোধিতা করেছেন, আমার জানা মতে, তাদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এই যে, ‘আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যামানায় তো জুমার প্রথম আযান ছিল না। এখন যাকে দ্বিতীয় আযান বলা হয় সেটিই শুধু ছিল। অর্থাৎ যে আযান খতীবের সামনে দেওয়া হয়। আযানের পরেই খুতবা শুরু হত। আর খুতবা সমাপ্ত হওয়ার সাথে সাথেই নামায। তাহলে কাবলাল জুমা পড়ার সুযোগ ছিল কোথায়? বোঝা গেল, ঐ যামানায় জুমার আগে কোনো নামায ছিল না।’

এই প্রশ্ন শুনে খুব অবাক হয়েছি। কারণ আম মানুষের কারো কারো এই ধারণা আছে বলে জানতাম যে, আযানের আগে সুন্নত পড়া যায় না, কিন্তু কোনো আলিমেরও এ জাতীয় বিভ্রান্তি হতে পারে, তা জানা ছিল না। যেমন ধরুন, যোহরের সময় সোয়া বারোটায় হয়ে গেল, মসজিদে সাধারণত আযান দেওয়া হয় পৌনে একটায়, আযানের আগে কি যোহরের সুন্নত পড়া যাবে না? নিঃসন্দেহে সবাই বলবেন, পড়া যাবে। তাহলে এ বলে জুমার সুন্নতকেই কীভাবে অস্বীকার করে দেওয়া যায় যে, ‘আযানের পর তো খুৎবা শুরু হয়, আর খুৎবার পর নামায, তাহলে সুন্নতের সময় কোথায়’?! কে না জানে, জুমার সুন্নত দ্বিতীয় আযানের আগে পড়া হত, এখনও আগেই পড়া হয়। সুতরাং এ প্রশ্নই অর্থহীন যে, ‘সুন্নতের সময় কোথায়?’ কোনো হাদীস কি আছে, আযানের আগে সুন্নত পড়া যায় না?

তাছাড়া তৃতীয় খলীফায়ে রাশেদ উসমান ইবনে আফফান রা.-এর যামানায় যখন প্রথম আযান শুরু হল এবং এর উপর সাহাবায়ে কেরামের ইজমাও সম্পন্ন হল তখন তো নিঃসন্দেহে এই আযানও শরীয়তসম্মত আযান, যা সুন্নাহর উপর প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং এখন তো এ প্রশ্ন আরো অর্থহীন যে, ‘আযানের আগে সুন্নত কীভাবে পড়া যাবে!’ কিংবা ‘আযানের আগে পড়া নামায কাবলাস সালাহ সুন্নত কীভাবে হবে?’ সুন্নত তো শরীয়তসম্মত আযানের পরই পড়া হচ্ছে।

চার.

অনেকগুলো সহীহ হাদীসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা আছে, জুমার জন্য যেন আগে আগে যাওয়া হয়, মসজিদে পৌঁছে যদি দেখা যায়, ইমাম খুৎবার জন্য আসেননি তাহলে নামায পড়বে, ইমাম এসে গেলে চুপচাপ বসে খুৎবা শুনবে। এ বিষয়ে যদি আর কোনো দলীল না-ও থাকত তাহলেও শুধু ঐ হাদীসগুলো দ্বারাই কাবলাল জুমা নামায প্রমাণিত হত। তবে ঐ নামায কি সুন্নতে মুয়াক্কাদা হবে, না গায়রে মুআক্কাদা সেটা সাব্যস্ত হত অন্য দলীল দ্বারা।

তো সহীহ ও মারফূ হাদীসের মাধ্যমে যখন কাবলাল জুমা নামায প্রমাণিত হল তখন এ দাবির অবকাশ কীভাবে থাকে যে, জুমার আগে কোনো নামায নেই।

আফসোস, ঐ হাদীসগুলোর আলোচনাও এখন কম হয়! নীচে কিছু হাদীস উপস্থাপিত হল।

عن عطاء الخراساني قال : كان نُبَيْشَة الهُذَلي يحدث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم : أن المسلم إذا اغتسل يوم الجمعة، ثم أَقْبَلَ إلى المسجد لا يُؤْذِيْ أحدا، فإن لم يجد الإمام خَرَج صلى ما بدا له، وإن وجد الإمامَ قد خرج، جلس، فاستمع وأنصت حتى يقضي الإمام جمعته وكلامه، إن لم يُغْفَر له في جمعته تلك ذنوبُه كلُّها، أن تكون كفارة للجمعة التي تليها.

(তাবেয়ী) আতা খোরাসানী রাহ. নুবাইশা রা. থেকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস বর্ণনা করতেন যে, মুসলিম যখন জুমার দিন গোসল করে মসজিদের দিকে রওনা হয়, কাউকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকে, ইমাম (খুৎবার জন্য) বের হয়নি দেখলে যে পরিমাণ ইচ্ছা নামায পড়ে, ইমাম বের হয়ে থাকলে বসে যায় ও চুপচাপ শুনতে থাকে, একপর্যায়ে ইমামের সালাত ও কালাম সমাপ্ত হয়, তাহলে এ ব্যক্তির এ সপ্তাহের সকল গুনাহ যদি মাফ না-ও হয় এ তো অবশ্যই হবে যে, পরবর্তী জুমার জন্য তা কাফফারা হয়ে যায়।-মুসনাদে আহমদ খন্ড ৫, পৃ. ৭৫ (২০৭২১)

এই হাদীস ‘সহীহ লি-গায়রিহী’। মুহাদ্দিস নূরুদ্দীন হাইছামী রাহ. ‘মাজমাউয যাওয়াইদ’’ কিতাবে (২/১৭১) লিখেছেন-

رجاله رجال الصحيح، خلا شيخ أحمد وهو ثقة.

২. সালমান ফারেসী রাহ. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

عن سلمان الفارسي قال : قال النبي صلى الله عليه وسلم : لا يغتسل رجل يوم الجمعة ويتطَهَّر ما استطاع من طُهر ويَدَّهن من دُهنِه أو يمس من طيب بيته، ثم يخرج فلا يُفَرِّق بين اثنين، ثم يُصَلِّي ما كُتِب له، ثم يُنْصِت إذا تكلَّم الإمام، إلا غُفِر له ما بينه وبين الجمعة الأخرى.

কোনো পুরুষ যখন জুমার দিন গোসল করে, সাধ্যমত পবিত্রতা অর্জন করে, তেল ব্যবহার করে বা ঘরে যে সুগন্ধি আছে তা ব্যবহার করে, এরপর (জুমার জন্য) বের হয় এবং (বসার জন্য) দুই জনকে আলাদা করে না, এরপর তাওফীক মতো নামায পড়ে এবং ইমাম যখন কথা বলে তখন চুপ থাকে, তাহলে অন্য জুমা পর্যন্ত তার (গুনাহ) মাফ করা হয়।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৮৮৩; মুসনাদে আহমদ ৮/৪৩ (২৩৭১০); সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ২৭৭৬

৩. আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال : من اغتسل ثم أتى الجمعة فَصَلَّى ما قُدِّر له ثم أنصت حتى يفرغ من خطبته، ثم يصلي معه، غفر له ما بينه وبين الجمعة الأخرى وفضل ثلاثة أيام.

যে গোসল করে, এরপর জুমায় আসে, এরপর তাওফীক মতো নামায পড়ে, এরপর চুপ থাকে (ইমাম) তার খুতবা সমাপ্ত করা পর্যন্ত, এরপর তার সাথে নামায পড়ে, তার অন্য জুমা পর্যন্ত ও আরো তিন দিনের (গুনাহ) মাফ করে দেওয়া হয়।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৮৫৭

৪. আবু সায়ীদ খুদরী রা. ও আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

عن أبي سعيد الخدري وأبي هريرة رضي الله عنهما قالا : قال رسول الله صلى الله وعليه وسلم : من اغتسل يوم الجمعة واستاك، ومسَّ من طيب إن كان عنده، ولبِس من أحسن ثيابه، ثم خرج حتى يأتي المسجد، فلم يتَخَطَّ رِقاب الناس حتى ركع ما شاء أن يركع، ثم أنصت إذا خرج الإمام فلم يتكلم حتى يفرغ من صلاته، كانت كفارة لما بينها وبين الجمعة التي قبلها.

قال (الراوي) : وكان أبو هريرة يقول : وثلاثة أيام زيادة، إن الله جعل الحسنة الحسنة بعشر أمثالها.

যে জুমার দিন গোসল করে ও মিসওয়াক করে, তারপর সুগন্ধি থাকলে তা ব্যবহার করে, নিজের একটি উত্তম পোশাক পরিধান করে, এরপর বের হয় ও মসজিদে আসে এবং মানুষের কাঁধ ডিঙ্গানো থেকে বিরত থাকে, এরপর যে পরিমাণ ইচ্ছা রুকু (নামায আদায়) করে, এরপর ইমাম যখন বের হয় তখন থেকে তার নামায সমাপ্ত হওয়া পর্যন্ত কথা বলা থেকে বিরত থাকে, তাহলে এ জুমা থেকে আগের জুমা পর্যন্ত যা (গুনাহ) হয়েছে তার কাফফারা হয়ে যায়। (বর্ণনাকারী) বলেন, আবু হুরায়রা রা. বলতেন, এর সাথে আরো তিন দিনের (গুনাহ মাফ হয়)। আল্লাহ তাআলা নেক আমলকে দশগুণ বানিয়ে দেন।-মুসনাদে আহমদ ৩/৮১ (১১৭৬৭); সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৩৪৩ (كتاب الطهارة، باب الغسل للجمعة)

এ হাদীসের সনদ ‘হাসান’।

৫. আবুদ দারদা রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

عن أبي الدرداء رضي الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : من اغتسل يوم الجمعة، ثم لبس ثيابه، ومَسَّ طيبا إن كان عنده، ثم مَشَى إلى الجمعة وعليه السكينة، ولم يَتَخَطَّ أحدا ولم يؤذه، رَكَعَ ما قُضِي له، ثم انتَظَر حتى ينصرف الإمام، غُفِر له ما بين الجمعتين.

যে জুমার দিন গোসল করে, এরপর তার পোশাক পরিধান করে, তার কাছে সুগন্ধি থাকলে তা ব্যবহার করে, এরপর ধীরস্থিরভাবে জুমার দিকে যায়, কাউকে ডিঙ্গিয়ে (সামনে) যাওয়া থেকে বিরত থাকে, কাউকে কষ্ট দেয় না, তাওফীক মতো রুকু (নামায আদায়) করে, এরপর ইমাম নামায সমাপ্ত করা পর্যন্ত অপেক্ষা করে, তার দুই জুমার মাঝে যা (গুনাহ) হয়েছে তা মাফ করে দেওয়া হয়।-মুসনাদে আহমদ ৫/১৯৮ (২১৭২৯)

এই হাদীস ‘সহীহ লিগায়রিহী’

এই হাদীসগুলোতে ইমাম খুৎবার জন্য উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত যে নামায পড়তে উৎসাহিত করা হয়েছে তা তো কাবলাল জুমা (জুমার আগের) নামাযই। গোসল করে জুমার জন্য ঘর থেকে বের হল এবং ইমামের অপেক্ষায় রইল, ইত্যবসরে যে নামায পড়া হবে তা যে ‘কাবলাল জুমা’ নামায এতে কোনো সন্দেহ আছে? যারা বলেন, জুমার আগে কোনো নামায নেই, তাদের উপরোক্ত হাদীসগুলো মনে রাখা প্রয়োজন।

এখানে এই দাবির সুযোগ নেই যে, ‘‘এই হাদীসগুলোতে যে নামাযের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে তা নফল নামায।’’ কারণ সুন্নতে কাবলিয়া (ফরজের আগে যে সুন্নত পড়া হয়) তাতে দুই ধরনের নামাযই আছে : সুন্নতে মুয়াক্কাদাও আছে, সুন্নতে গায়রে মুয়াক্কাদাও (নফল) আছে। যোহরের আগের চার রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা, আর আসরের আগের চার রাকাত সুন্নতে গায়রে মুয়াক্কাদা (নফল)। কিন্তু নফল হওয়ার কারণে কি একথা বলা যাবে যে, ‘আসরের আগে কোনো নামায নেই’?

পাঁচ.

কেউ কেউ বলেন, জুমার আগে নামায তো আছে, কিন্তু তা নফল নামায, যত রাকাত ইচ্ছা পড়বে। তাদের দাবি, ‘‘জুমার আগে ‘সুন্নতে রাতিবাহ’ (সব সময় আদায় করার মতো সুন্নত) বা সুন্নতে মুয়াক্কাদা নেই।’’

এঁদের সংশয়ের সূত্র বোধহয় এইখানে যে, উপরোক্ত হাদীসসমূহে তো রাকাত-সংখ্যা নির্ধারণ ছাড়াই নামায পড়তে উৎসাহিত করা হয়েছে, যার দ্বারা বোঝা যায়, এটি নফল নামায। কিন্তু তাঁরা যদি এ বিষয়ে অন্যান্য হাদীস ও আছার সামনে রাখতেন তাহলে পরিষ্কার হয়ে যেত যে, জুমার আগের নামায দুই প্রকারের : এক. নফল, যার যত রাকাত ইচ্ছা পড়তে পারে। দুই. সুন্নতে রাতিবা, যার রাকাত-সংখ্যাও নির্ধারিত এবং সে বিষয়ে তাকীদও আছে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেও তা আদায় করা প্রমাণিত।

খাইরুল কুরূন থেকে মুসলমানদের এ আমল চলে আসছে যে, তাঁরা জুমার আগের নফল নামায ‘যাওয়ালে শামস’ বা সূর্য ঢলে যাওয়ার আগেও পড়তেন, আবার পরেও পড়তেন, কিন্তু এই চার রাকাত পড়তেন সূর্য ঢলে যাওয়ার পরে। আর এরই নাম ‘কাবলাল জুমা’ বা ‘জুমার আগের সুন্নত’।

এ বিষয়ে হাদীস ও আছার লক্ষ করুন।

প্রথমে আছার :

১. জাবালা ইবনে সুহাইম রাহ. আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণনা করেন, ‘তিনি জুমার আগে চার রাকাত পড়তেন। মাঝে সালাম ফেরাতেন না।’

عن جَبَلة بن سُحَيْم، عن عبد الله بن عمر أنه كان يصلي قبل الجمعة أربعا لا يفصل بينهن بسلام، ثم بعد الجمعة ركعتين ثم أربعا.

-শরহু মাআনিল আছার, তহাবী পৃ. ১৬৪-১৬৫

আল্লামা নীমাভী রাহ. ‘‘আছারুস সুনান’’ পৃ. ৩০২-এ এর সনদকে সহীহ বলেছেন। ইমাম ইবনে রজব হাম্বলী রাহ. ‘‘ফাতহুল বারী শরহু সহীহিল বুখারী’’ গ্রন্থে (৫/৫৩৯) একে প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. জুমার আগে দীর্ঘসময় নামায পড়তেন। কিন্তু উপরের বর্ণনায় চার রাকাতকে আলাদা করে এজন্যই উল্লেখ করা হয়েছে যে, তা সুন্নতে রাতিবা।

নাফে রাহ. বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. জুমার আগে দীর্ঘ সময় নামায পড়তেন (يطيل الصلاة قبل الجمعة) আর জুমার পরে ঘরে গিয়ে দুই রাকাত পড়তেন। আর বলতেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপই করতেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ১১২৮, কিতাবুল জুমুআ)

ইমাম ইবনে রজব রাহ. সহীহ বুখারীর ভাষ্যগ্রন্থে এই হাদীসের আলোচনায় লেখেন-

وظاهر هذا يدل على رفع جميع ذلك إلى النبي صلى الله عليه وسلم : صلاته قبل الجمعة وبعدها في بيته، فإن اسم الإشارة يتناول كل ما قبله مما قرب وبعد، صرح به غير واحد من الفقهاء والأصوليين.

وهذا فيما وضع للإشارة إلى البعيد أظهر، مثل لفظة ذلك، فإن تخصيص القريب بها دون البعيد يخالف وضعها لغة.

আহলে ইলম বুঝতে পারছেন, এখানে ইবনে রজব হাম্বলী রাহ. ঐ ব্যক্তিদের বক্তব্য খন্ডন করছেন যারা বলেছেন যে, সুনানে আবু দাউদের উপরোক্ত হাদীস দ্বারা শুধু ‘বা’দাল জুমা’ (জুমার পরের নামায) মারফূ হওয়া প্রমাণিত হয়, কাবলাল জুমা নয়। উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা ‘যাদুল মাআদ’ ও ‘ফতহুল বারী, ইবনে হাজার’-এর আলোচনার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে যায়।

যাক, এ তো ছিল একটি প্রাসঙ্গিক কথা। আমি কাবলাল জুমা চার রাকাত সুন্নত সম্পর্কে আছার উল্লেখ করছিলাম। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা.-এর আছর উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় আছর এই-

২. আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণিত, ‘তিনি জুমার দিন নিজ ঘরে চার রাকাত পড়তেন। এরপর মসজিদে আসতেন এবং জুমার আগে আর কোনো নামায পড়তেন না, জুমার পরেও না।’

عن ابن عباس رضي الله عنهما أنه كان يصلي يوم الجمعة في بيته أربع ركعات، ثم يأتي المسجد فلا يصلي قبلها ولا بعدها.

এই আছরটি মুহাদ্দিস হার্ব ইবনে ইসমাঈল আলকিরমানী (২৮০হি.) তাঁর কিতাবে সনদসহ বর্ণনা করেছেন। ইমাম ইবনে রজব রাহ. বুখারীর ভাষ্যগ্রন্থে (৫/৫৮০) তা দলীল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

উল্লেখ্য, এ বর্ণনায় জুমার পরে কোনো নামায না-পড়ার অর্থ হবে মসজিদে না পড়া।

৩. সাফিয়া রাহ. বলেন, তিনি (উম্মুল মুমিনীন) সফিয়্যাহ রা.কে দেখেছেন, জুমার জন্য ইমাম আসার আগে চার রাকাত পড়েছেন। এরপর ইমামের সাথে দুই রাকাত জুমা আদায় করেছেন।

عن صافية قالت : رأيت صفية بنت حُيَيّ رضي الله عنها : صلَّت أربع ركعات قبل خروج الإمام للجمعة، ثم صلت الجمعة مع الإمام ركعتين.

তবাকাতে ইবনে সা’দ ; নসবুর রায়াহ ২/২০৭; ফাতহুল বারী, ইবনে রজব ৫/৫৩৯

নারীদের উপর জুমা ফরয নয়, তাঁরা ঘরে যোহর পড়ে থাকেন। তবে কখনো যদি জুমা পড়েন তবে ফরজ আদায় হয়ে যাবে। ঐ অবস্থায়ও তাদের জুমার আগে চার রাকাত পড়া উচিত, যেমনটা সাফিয়্যাহ রা.-এর আমল থেকে জানা গেল।

৪. আবু ওবায়দা রাহ. বর্ণনা করেন, (আববাজান) আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. জুমার আগে চার রাকাত পড়তেন।

عن أبي عُبَيْدة، عن عبد الله قال : كان يصلي قبل الجمعة أربعا.

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা খন্ড ৪, পৃ. ১১৪ (৫৪০২)

তাবেয়ী ক্বাতাদা রাহ.ও একথাই বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. জুমার আগে চার রাকাত পড়তেন, জুমার পরেও চার রাকাত পড়তেন।

أن ابن مسعود كان يصلي قبل الجمعة أربع ركعات وبعدها أربع ركعات.

-মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক খন্ড ৩, পৃ. ২৪৭ (৫৫২৪)

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. শুধু নিজে চার রাকাত পড়তেন এমন নয়, তিনি অন্যদেরও চার রাকাত কাবলাল জুমা পড়ার আদেশ দিতেন।

তাঁর বিশিষ্ট শাগরিদ আবু আব্দুর রহমান আসসুলামী রাহ.-এর বর্ণনা : আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আমাদেরকে জুমার আগে চার রাকাত এবং জুমার পরে চার রাকাত পড়ার আদেশ করতেন। পরে যখন আলী রা. আগমন করলেন তখন তিনি আমাদেরকে জুমার পরে প্রথমে দুই রাকাত এরপর চার রাকাত পড়ার আদেশ করেন।

كان عبد الله يأمر أن نُصَلِّي قَبْلَ الجُمْعة أربعا، وبعدها أربعا، حتى جاءنا علي فأمرنا أن نصلي بعدها ركعتين ثم أربعا.

-মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক খন্ড ৩, পৃ. ২৪৭ (৫৫২৫)

নফল নামাযের বিষয়ে উৎসাহ দেওয়া যায়, আদেশ দেওয়া যায় না। আদেশ করার অর্থ, এই নামায অন্তত সুন্নতে মুয়াক্কাদা, যেমন পরের চার রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা।

এ বর্ণনার সনদ সহীহ ও মুত্তাছিল।

এই বর্ণনায় লক্ষণীয় বিষয় এই যে, খলীফায়ে রাশিদ আলী ইবনে আবী তালিব রা. যখন কুফায় এসে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর শিক্ষা দেখলেন এবং তাঁর আদেশ সম্পর্কে অবগত হলেন তখন তিনি কাবলাল জুমার বিষয়ে কোনো পরিবর্তন করেননি, শুধু বা’দাল জুমা চার রাকাতের সাথে আরো দুই রাকাত যোগ করার আদেশ করেছেন। ফলে পরবর্তী সময়ে ইমাম আবু ইউসুফ রাহ.সহ আরো অনেক ইমামের নিকটে, জুমার পরের সুন্নত সর্বমোট ছয় রাকাত। এ থেকেও প্রমাণিত হয় খলীফায়ে রাশিদ আলী ইবনে আবী তালিব রা.-এর নিকটেও কাবলাল জুমার সুন্নত চার রাকাত।

এ শুধু উপরোক্ত চার, পাঁচজন সাহাবীরই আমল নয়, খাইরুল কুরূনে সাহাবা-তাবেয়ীনের সাধারণ আমল এটিই ছিল। দু’টি বর্ণনা লক্ষ করুন :

৫. তাবেয়ী আমর ইবনে সায়ীদ ইবনুল আস রাহ. (৭০হি.) বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণকে দেখতাম, জুমার দিন সূর্য যখন ঢলে যেত তখন তাঁরা দাড়িয়ে যেতেন এবং চার রাকাত পড়তেন।’

كنت أرى أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، فإذا زالت الشمس يوم الجمعة، قاموا فصلوا أربعا.

এ আছরটি ইমাম আবু বকর আল-আছরাম রাহ. (২৭৩হি.) তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর সূত্রে ইমাম ইবনে আব্দুল বার রাহ. ‘‘আততামহীদ’’ (খন্ড ৪, পৃ. ২৬ حديث ثامن لزيد بن أسلم)) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

এই বর্ণনার সনদ নিম্নরূপ :

قال الأثرم : حدثنا منجاب بن الحارث قال : أخبرنا خالد بن سعيد بن عمرو بن سعيد بن العاص عن أبيه قال : كنت أرى ...

আহলে ইলম জানেন, এ সনদটি সহীহ। গ্রন্থকার ‘আছরাম’ তো ইমাম, ‘মিনজাব’ ছিকা রাবী, সহীহ মুসলিম ও অন্যান্য কিতাবে তাঁর সূত্রে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। ১৩১ হিজরীতে তাঁর ইন্তিকাল। (তাহযীবুত তাহযীব খন্ড ১০, পৃ. ২৯৭-২৯৮; তাকরীবুত তাহযীব ৬৮৮২)

তাঁর উস্তাদ ‘খালিদ ইবনে সায়ীদের’ রেওয়ায়েতও সহীহ বুখারীতে আছে। ইমাম মুসলিম রাহ. মুহাম্মাদ ইবনে বিশ্র থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাকে الثقة الصدوق المأمون উপাধিতে ভূষিত করেছেন। (তাহযীবুত তাহযীব খন্ড ৩, পৃ. ৯৫)

তাঁর পিতা ‘আমর ইবনে সায়ীদ’ তো প্রসিদ্ধ তাবেয়ী, যিনি অনেক সাহাবীকে দেখেছেন। অনেক সাহাবীর জীবদ্দশায় ৭০ হিজরীতে তাঁর ইন্তেকাল।

এই আছরটি আবু বকর আল আছরামের উদ্ধৃতিতে ইবনে রজব রাহ. বুখারীর ভাষ্যগ্রন্থে (খন্ড ৫, পৃ. ৫৪২) উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি আছরাম রাহ.-এর হাওয়ালায় এই আছরও বর্ণনা করেছেন যে, ইমাম আবু বকর ইবনে আইয়াশ রাহ. বলেন, আমরা জুমায় (তাবেয়ী ইমাম) হাবীব ইবনে আবী ছাবিত (রাহ.)-এর সাথে থাকতাম। তিনি জিজ্ঞাসা করতেন, ‘সূর্য কি ঢলে গেছে?’ এরপর নিজেও দেখতেন। সূর্য ঢলার পর তিনি কাবলাল জুমা চার রাকাত নামায পড়তেন।

ইবনে রজব রাহ. ছাড়া ইবনে কুদামা হাম্বলী রাহ.ও এই আছর ‘‘আলমুগনী’’তে (খন্ড ৩, পৃ. ২৫০) উল্লেখ করেছেন। এর আরবী পাঠ এই-

فإذا زالت الشمس صَلَّى الأربع التي قبل الجمعة.

আমর ইবনে সায়ীদ রাহ.-এর বিবরণ দ্বারা সাহাবা-যুগের তা’আমুল (কর্মধারা) সামনে এল। এবার সাহাবা-যুগ ও তাবেয়ী-যুগের কর্মধারা দেখুন :

২. (তাবেয়ী) ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. (৯৫হি.) বলেন, ‘তাঁরা জুমার আগে চার রাকাত পড়া পছন্দ করতেন।’

قال إبراهيم النخعي : كانوا يحبون أن يصلوا قبل الجمعة أربعا.

-কিতাবুল ঈদাইন, ইবনে আবিদ দুন্য়া

ইমাম ইবনে রজব রাহ. বলেন, ‘এই আছরের সনদ সহীহ।’ এরপর তিনি ইমাম ইবনে আবী খাইছামা রাহ.-এর ‘‘কিতাবুত তারীখে’’র উদ্ধৃতিতে ইবরাহীম নাখায়ী রাহ.-এর এই বক্তব্য বর্ণনা করেছেন যে, ‘যখন আমি তোমাদেরকে كانوا يستحبون (তারা পছন্দ করতেন) বলব তাহলে তা এমন বিষয় হবে, যার উপর তাঁদের ইজমা ছিল।’ (ফাতহুল বারী খন্ড ৫, পৃ. ৫৪০)

ইবরাহীম নাখায়ী রাহ.-এর বক্তব্য থেকে জানা গেল, তিনি যখন (তাঁরা পছন্দ করতেন) শিরোনামে কোনো আমল বর্ণনা করেন তখন তা অন্তত কুফায় অবস্থানকারী সাহাবা-তাবেয়ীন (যাদের সংখ্যা ছিল কয়েক হাজার)-এর সর্বসম্মত কর্মধারা হবে। তো সে যুগের এই সাধারণ কর্মধারা ইবরাহীম নাখায়ী রাহ.-এর সূত্রে ইমাম ইবনে আবী শাইবা রাহ.ও তাঁর ‘‘আলমুসান্নাফ’’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। (দ্র. আলমুসান্নাফ খন্ড, ৪, পৃ. ১১৫-১১৬; ৫৪০৫)

সাহাবা-তাবেয়ীনের এই সাধারণ কর্মধারা প্রমাণ করে, জুমার আগে নফল নামাযের রাকাত-সংখ্যা যদিও নির্ধারিত নয়, প্রত্যেকে নিজ নিজ ইচ্ছা ও অভিরুচি অনুযায়ী পড়বে। তবে এসময় চার রাকাত নামাযের বিশেষ গুরুত্ব ছিল। আর তা পড়া হত সূর্য ঢলে যাওয়ার পর দ্বিতীয় আযানের আগে।

আর আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর ঐ চার রাকাতের আদেশ দেওয়া এবং খলীফায়ে রাশেদের তাঁর সাথে একমত থাকা, বলাই বাহুল্য, নিছক ইজতিহাদের ভিত্তিতে হতে পারে না। এ কারণে তাঁর এই হুকুম ‘‘মারফূ হুকমী’’ হাদীসের অন্তর্ভুক্ত।

যারা দাবি করেন কোনো হাদীসেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জুমার আগে নামায পড়া প্রমাণিত নয়-না ঘরে, না মসজিদে, তাদের দাবি সত্য নয়। যদি তা সত্যও হত তবুও উপরোক্ত আছর, সাহাবা-তাবেয়ীনের ব্যাপক রীতি এবং উপরে উল্লেখিত ‘মারফূ হুকমী’ একথা প্রমাণে যথেষ্ট হত যে, জুমার আগে চার রাকাত সুন্নতে রাতিবা (মুয়াক্কাদাহ) রয়েছে।

ক্বাবলাল জুমআ সুন্নত সম্পর্কে স্পষ্ট মারফূ হাদীস

এ বিষয়ে সুনানে ইবনে মাজাহর একটি হাদীসই তালিবানে ইলমের হাতের কাছে থাকায় শুধু এ হাদীসটির কথাই সাধারণত বলা হয়। আর এর সনদ অতি দুর্বল হওয়ায় বলে দেওয়া হয়, ‘এ বিষয়ে যে মারফূ হাদীসটি আছে তার সনদ অতি দুর্বল। সেটি ছাড়া আর কোনো মারফূ হাদীস নেই।’ এই ধারণা ঠিক নয়। জুমার আগে নামায পড়া আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনেক দলীল দ্বারা প্রমাণিত। এ বিষয়টিই নিবেদন করার ইচ্ছা রাখি। অনুরোধ করি, ধৈর্যের সাথে পুরো আলোচনাটি পাঠ করার।

সুনানে ইবনে মাজায় (কিতাবুল জুমা, বাবুস সালাহ কাবলাল জুমা-র অধীনে) হাদীসটি বর্ণনা করা হয়েছে :

عن بقية، عن مبشر بن عبيد، عن حجاج بن أرطاة، عن عطية العوفي، عن ابن عباس قال كان النبي صلى الله عليه وسلم يركع قبل الجمعة أربعا لا يفصل في شيء منهن.

বাকিয়্যাহ মুবাশশির ইবনে উবাইদ থেকে, তিনি হাজ্জাজ ইবনে আরতাত থেকে, তিনি আতিয়্যা আল আওফী থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণনা করেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার আগে চার রাকাত পড়তেন। মাঝে (সালামের দ্বারা) আলাদা করতেন না, (অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতু পড়ে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যেতেন)।’-সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ১১২৯

সনদের যে অংশ উল্লেখিত হয়েছে তাতেই ‘আসমাউর রিজাল’-বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা বুঝতে পেরেছেন, এই সনদ অতি দুর্বল, বিশেষত মুবাশশির ইবনে উবাইদ তো এমন রাবী, যার সত্যবাদিতাই সংশয়পূর্ণ। সুতরাং এই সনদ যে নির্ভরযোগ্য নয় তাতে আর সন্দেহ কি। ব্যাস, এখান থেকেই প্রসিদ্ধ করে দেওয়া হল যে, এ বিষয়ে একমাত্র হাদীস ইবনে মাজার হাদীসটি, আর তা অতি দুর্বল।

‘‘ইলাউস সুনানে’’ ‘‘মাজমাউয যাওয়াইদ’’ এর বক্তব্য থেকে অনুমান করা হয়েছিল যে, এ হাদীস তবারানীতে যে সনদে বর্ণিত হয়েছে তাতে বোধ হয়, মুবাশশির ইবনে উবাইদ নেই, সুতরাং ঐ সনদ নির্ভরযোগ্য হতে পারে। কিন্তু এই অনুমান সঠিক প্রমাণিত হয়নি। তবারানীর ‘‘আলমু’জামুল কাবীরে’’ এই রেওয়াতের সনদ সেটিই যা ইবনে মাজার সনদ। এতে মুবাশশির ইবনে উবাইদ আছে। আর এটা নসবুর রায়া (খন্ড ২, পৃ. ২০৬) থেকেও বোঝা যায়। যাহোক, এতে এই ধারণা আরো প্রবল হয়ে গেল যে, এ বিষয়ে কোনো সহীহ মারফূ হাদীস নেই!

আগেই বলেছি, এই ধারণা সঠিক নয়। আর তা সঠিক নয় কয়েক কারণে। এক. কয়েকজন হাফিযুল হাদীস স্পষ্টভাষায় বলেছেন, হাদীসটি ইবনে মাজা যে সনদে বর্ণনা করেছেন তা জয়ীফ বটে, কিন্তু ইমাম আবুল হাসান আল খিলায়ী রাহ. (৪৯২ হি.) ‘‘আল ফাওয়াইদ’’ কিতাবে তা নির্ভরযোগ্য সনদে বর্ণনা করেছেন। সনদের শেষ অংশ তাঁরা উল্লেখও করেছেন। হাফেয আবু যুরআ ইরাকী (৮২৬ হিজরী) তরহুত তাছরীব গ্রন্থে ( খ. ৩, পৃ. ৩৬) লেখেন-

والمتن المذكور رواه أبو الحسن الخِلَعي في فوائده بإسناد جيد من طريق أبي إسحاق عن عاصم بن ضمرة عن علي رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم.

সুতরাং এ বিষয়ের প্রথম মারফূ হাদীস যার সনদ নির্ভরযোগ্য তা এই-

১. আবু ইসহাক আস সাবীয়ী আসিম ইবনে দমরা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি আলী রা. থেকে, যে, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার আগে চার রাকাত পড়তেন।’ (আল-ফাওয়াইদ, আবুল হাসান আল খিলায়ী-তরহুত তাছরীব খ ৩, পৃ. ৩৬)

একাধিক হাদীসবিশারদ ‘‘আল ফাওয়াইদ’’-এর উদ্ধৃতিতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং সনদ নির্ভরযোগ্য বলেছেন। যেমন :

ক. হাফিয যাইনুদ্দীন ইরাকী (৮০৬ হি.) (দ্র. ফয়যুল কাদীর)

খ. হাফিয আবু যুরআ ইরাকী (৮২৬ হি.) (দ্র. তরহুত তাছরীব ৩/৩৬)

গ. হাফিয শিহাবুদ্দীন আল বূসীরী (৮৪০ হি.) (দ্র. মিসবাহুয যুজাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনে মাজাহ খ. ১, পৃ. ১৩৬)

ঘ. মুহাদ্দিস আব্দুর রউফ আল

মুনাভী (১০৩১ হি.) (দ্র. ফয়জুল কাদীর খ. ৫ পৃ. ২১৬)

ঙ. মুহাদ্দিস মুরতাজা যাবিদী (১২০৫ হি.) (দ্র. ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকীন ফি শরহি ইহইয়াই উলূমিদ্দীন খ. ৩, পৃ. ২৭৫)

সনদের শেষ অংশ তো তাঁরা উল্লেখ করেই দিয়েছেন, যা কমসে কম ‘হাসান’ পর্যায়ের। আর আবুল হাসান আল খিলায়ী থেকে আবু ইসহাক আস সাবীয়ী পর্যন্ত সনদের যে অংশ তা উল্লেখ না করলেও তাঁরা একবাক্যে বলেছেন, তা ‘জাইয়েদ সনদ’ যার শাব্দিক অর্থ উত্তম সনদ। আর উসূলে হাদীসের পরিভাষায় ‘জাইয়েদ সনদ’ কে ‘হাসান’-এর উপরে গণ্য করা হয়। (তাদরীবুর রাবী খ. ১ পৃ. ১৭৮)

আবুল হাসান আল খিলায়ীর সনদের সমর্থন ঐ রেওয়ায়েত দ্বারাও হয়, যা তবারানী ‘‘আলমুজামুল আওসাত’’ কিতাবে এবং আবু সায়ীদ ইবনুল আরাবী তাঁর ‘‘আলমু’জাম’’ কিতাবে বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাটি এই-

محمد بن عبد الرحمن السَّهْمي، حدثنا حُصَيْن بن عبد الرحمن السُّلَمِي، عن أبي إسحاق، عن عاصم بن ضَمْرة، عن علي قال : كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي قبل الجمعة أربعا، وبعدها أربعا، يجعل التسليمَ في آخرهن.

২. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান আসসাহমী বর্ণনা করেন, আমাদেরকে হুসাইন ইবনে আব্দুর রহমান আসসুলামী বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু ইসহাক (সাবীয়ী) থেকে, তিনি আসিম ইবনে দমরা থেকে, তিনি আলী রা. থেকে, যে ‘‘আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার আগে চার রাকাত এবং জুমার পরে চার রাকাত পড়তেন এবং সর্বশেষ রাকাতে সালাম ফেরাতেন।’’-আলমুজামুল আওসাত, তবারানী খ. ২, পৃ. ৩৬৮ আলমু’জাম আবু সায়ীদ ইবনুল আরাবী-লিসানুল মীযান খ. ৭, পৃ. ২৭৮, ৫ : ২৪২)

সনদের মান : সনদের সকল রাবী পরিচিত ও প্রসিদ্ধ এবং উত্তম স্মৃতিশক্তির অধিকারী ও নির্ভরযোগ্য। সামান্য আপত্তি শুধু আছে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান আস-সাহমী সম্পর্কে। তাঁর ব্যাপারে ইমাম আবু হাতিম বলেছেন ليس بالمشهور অর্থাৎ ‘তিনি তেমন প্রসিদ্ধ রাবী নন’। হযরতুল ইমামের এ উক্তি লিসানুল মীযানে এভাবেই আছে। তবে ইবনে আবী হাতিম এর কিতাব ‘‘আলজরহু ওয়াত তা’দীলে’’ (খ. ৩ কিসত : ২ পৃ. ৩২৬) লেখা আছে ليس بمشهور যার অর্থ : ‘তিনি প্রসিদ্ধ নন’। যা হোক, লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে আবু হাতিম রাহ. তাuঁক ‘মাজহূল’ (অপরিচিত) বলেননি। এদিকে ইমাম ইবনে আদী রাহ. ‘‘আল-কামিল’’ কিতাবে (খ. ৬, পৃ. ১৯১-১৯২) তাঁর বর্ণনাসমূহ পরীক্ষা করার পর নিম্নোক্ত ভাষায় তার সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেছেন-

وهو عندي لا بأس به.

অর্থাৎ ‘আমার কাছে এই রাবীর মাঝে অসুবিধার কিছু নেই।’

আহলে ইলমের জানা আছে, হাদীস-বিশারদ ইমামগণ এ ধরনের মন্তব্য সাধারণত ঐ সকল রাবী সম্পর্কে করেন যাদের রেওয়ায়েত ‘হাসান’ পর্যায়ের হয়।

এদিকে ইমাম ইবনে হিববান তাঁকে ‘‘কিতাবুছ ছিকাত’’ (খ. ৯, পৃ. ৭২)-এ অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যার অর্থ, তিনি তাঁর নিকটে ‘ছিকা’ রাবীদের মধ্যে গণ্য।

‘‘লিসানুল মীযান’’ কিতাবে অবশ্য ইবনে আবী হাতিমের উদ্ধৃতিতে ইয়াহইয়া ইবনে মায়ীন থেকে বর্ণনা করা হয়েছে যে, তিনি এই রাবীকে ‘জয়ীফ’ বলেছেন, কিন্তু ইবনে আবী হাতিমের ‘কিতাবুল জরহি ওয়াত তা’দীলে (খ. ৩, কিসত : ২, পৃ. ৩২৬) এই বক্তব্য আমরা পাইনি, তদ্রূপ ‘‘তারীখে ইয়াহইয়া ইবনে মায়ীনে’’ও না। একারণে এই উদ্ধৃতিটি সংশয়পূর্ণ।

এই রাবী সম্পর্কে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত সেটিই যা ইবনে আদী রাহ. বলেছেন। এ কারণে আলোচিত হাদীসটি সনদের বিচারে তো ‘হাসান’ পর্যায়ের, কিন্তু এর মতন (বক্তব্য) সাহাবা-তাবেয়ীন যুগে ব্যাপকভাবে বরিত ও অনুসৃত (মুতালাক্কা বিলকবূল) ছিল, যা প্রবন্ধের শুরুতে উল্লেখিত আছার ও তাআমূল (কর্মধা

Want your school to be the top-listed School/college in Sylhet?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Videos (show all)

আমাদের নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এভাবে সমৃদ্ধ পাঠাগার গড়ে তুলুন।আগামী প্রজন্ম জ্ঞান বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।
অসাধারন নাশিদ
জনপ্রিয় দুই আলেমের বক্তব্য
অভাবে যারা হাহাকার করছেন,আমলটি করতে পারেন,ফায়দা পাবেন ইনশাআল্লাহ!পরীক্ষিত
খতমে নবুওতের ব্যাপারে দ্ব্যর্থ কণ্ঠে আল্লামা আব্বাসীর সাহসী উচ্ছারণ
মাশাঅাল্লাহ
বিডিওটি দেখে আপনার অন্তরে ধাক্কা লাগে কি না দেখেন!

Location

Website

Address


Sylhet
3193
Other Sylhet schools & colleges (show all)
Sylhet Engineering College Sylhet Engineering College
Tilagarh
Sylhet, 3100

Sylhet Engineering College (SEC) established in the year 2007 under the School of Applied Sciences &

Sylhet Cadet College Sylhet Cadet College
This Cadet College Is Located At Seven Kms North To The Sylhet City, East To The Osmani Air Port Road, In A Green And High Hill Oriented Cool And Serene Environment
Sylhet

আলোকের অভিসারী ( Follower of Light)

SYLHET POLYTECHNIC INSTITUTE SYLHET POLYTECHNIC INSTITUTE
Technical Road
Sylhet, 3100

Sylhet polytechnic is a one of the most popular institute of the Bangladesh. It is situeted in the

ব্লু বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিলেট - College Section ব্লু বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিলেট - College Section
Mirer Moydan
Sylhet

Blue Bird School is not one of the it's just simply the best school in Sylhet city.From 2006 it has

Advisor Advisor
Kakoli Shopping Centre
Sylhet, 3110

ADVISOR: We are a professional consulting firm, dedicated to providing the best solutions to the stu

Imran hoshen Imran hoshen
Durganagar
Sylhet

Al-Furkan Al-Furkan
Anondopur
Sylhet, 61744

এই পেইজে শিক্ষার সকল শাখার প্রাথমিক ব?

হামিমুল কোরআন মাদরাসা হামিমুল কোরআন মাদরাসা
লামাকাজী বিশ্বনাথ এওলারপার
Sylhet

কোরআন তেলাওয়াত

Hussain Ahmed Zakariya Hussain Ahmed Zakariya
Sylhet

আসসালামু আলাইকুম সকলের ভালোবাসায় এবং সাপোর্টে আমার এই পেইজটি এগিয়ে যাবে বলে আমি আশাবাদী।

Jalalabad Ragib Rabeya Medical College & Hospital Jalalabad Ragib Rabeya Medical College & Hospital
29/5 Pathantola Road
Sylhet

Jalalabad Ragib-Rabeya Medical College, Sylhet is situated in divisional headquarter of Sylhet Divis

Jamia Abdullah Bin Abbas R. Chatal Sylhet Jamia Abdullah Bin Abbas R. Chatal Sylhet
Sylhet, 3100

জামেয়া আব্দুল্লাহ্ বিন আব্বাম রা.চাতল