02/02/2024
এই সিরিজে আমরা ধারাবাহিক পর্বে জানব -
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কী? (What is Virtual Reality?)
ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ইতিহাসভার্চুয়াল রিয়েলিটির উপাদানগুলো কী কী ?
১. ভিআর সফটয়্যার ২. হেড মাউন্টেড ডিসপ্লে ৩. হ্যান্ড গ্লভস ৪. বডি স্যুট
প্রাত্যহিক জীবনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রভাব
ভার্চুয়াল রিয়েলিটির জনক কে? এসব নিয়ে
তো শুরু করা যাক...
পরিচিতি ( পর্ব- ১)
আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যত ধররনের আবিষ্কার রয়েছে তার মধ্যে Virtual Reality অন্যতম। আজকের আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানবো। তার আগে চলুন একটা উদাহরণ দেখা যাক।
রিয়াদ চাঁদে যেতে চায়, কিন্তু সুযোগ ও অর্থের অভাবে চাঁদে যেতে পারছে না। কিন্তু তার বন্ধু তাকে নতুন একটি প্রযুক্তি সম্পর্কে জানালো যেটা ব্যবহার করে সে চাঁদে অবস্থান না করেও চাঁদে অবস্থান করার অনুভূতি পেতে পারে।
রিয়াদের বন্ধুর কথামতো রিয়াদ একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছে গেল এবং প্রতিষ্ঠানটি তাকে বেশ কিছু সরঞ্জাম দিলো। যেমন হাতমোজা, চশমা, হেডফোন স্যুট ইত্যাদি। সে এসব পরিধান করে একটি কক্ষে প্রবেশ করলো এবং অন্যান্য আরও কিছু প্রযুক্তির সমন্বয়ে চাঁদের মাটিতে অবতরনের অনুভূতি পেল। এতে রিয়াদ ভীষণ খুশি।
এখানের উদাহরণে রিয়াদ যে প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে তা হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বা সংক্ষেপে VR। এবার আসুন এটি সম্পর্কে জানি।
👉 ১) ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কী?
Virtual অর্থ অপ্রকৃত বা প্রকৃত নয় এমন, Reality অর্থ বাস্তবতা। আর Virtual Reality অর্থ অপ্রাকৃতিক বাস্তবতা। বাস্তব নয়, তবে বাস্তবের মতো পরিবেশ ও অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারার প্রযুক্তিকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বলে। এটাকে সংক্ষেপে VR বলা হয়।
এক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রযুক্তি ও কম্পিউটার প্রোগ্রামের মাধ্যমে কোনো কিছুর অবিকল ত্রিমাত্রিক বা 3D অ্যানিমেশন তৈরি করা হয়। এছাড়াও এতে যে শব্দ ব্যবহার করা হয় তা অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি ও পরিবেশন করা হয়।
উপরের উদাহরণে জেনেছি, রিয়াদ চাঁদে না গিয়েও চাঁদে অবতারণের অনুভূতি পেয়েছে। চাঁদের পরিবেশ কেমন তা সম্পর্কে সে জানতে পেরেছে। সে বাস্তবে চাঁদে যায়নি। কিন্তু প্রযুক্তি সাহায্যে পুরো ব্যাপারটি বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। যাকে আমরা বলছি অপ্রাকৃতিক বাস্তবতা বা Virtual Reality.
👉 ২) ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ইতিহাস
পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশেই এখনও এই প্রযুক্তিটির ব্যবহার শুরু হয়নি। এমনকি বাংলাদেশেও ব্যক্তির পর্যায়ে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহার লক্ষ্য করা যায় না। সরকারি কিছু সংস্থা যেমন মিলিটারি, ড্রাইভিং, পাইলটিং ইত্যাদি ক্ষেত্রেই কেবল এটি ব্যবহৃত হচ্ছে।
অনেকের কাছেই ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তিটি নতুন। তবে এর গোড়াপত্তন হয়েছিল বহু আগেই। ব্লগের এই অংশে আমরা ভার্চুয়াল রিয়েলিটি আবিষ্কারের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস সম্পর্কে জানবো।
যুক্তরাষ্ট্রের কম্পিউটার বিজ্ঞানী জেরন ল্যানিয়ার সর্বপ্রথম "Virtual Reality" শব্দটি ব্যবহার করেন। ১৯৮০ এর দশকে তিনি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সম্পর্কে গবেষণা করছিলেন এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান যেমন গগলস ও গ্লভস তৈরির কাজ করেন।
তবে এর পূর্বে ১৯৬১ সালে মার্কিন বিজ্ঞানী থমাস ফারনেস যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর জন্য একটি ফ্লাইট সিমুলেটর তৈরি করেন যেটি ছিল বিশ্বের প্রথম সিমুলেশন প্রযুক্তি। এর ঠিক কয়েক বছর পরে হেড মাউন্টেড ডিসপ্লে আবিষ্কার করেন ১৯৬৮ সালে।
ধীরে ধীরে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তি জনপ্রিয় হতে শুরু করে এবং বিভিন্ন সংস্থা তাদের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য এটি ব্যবহার করতে থাকে। ২০০৭ সালে গুগল স্ট্রিট ভিউ নামে তাদের ভিআর প্রযুক্তি আনে যেটি বর্তমানে গুগল ম্যাপে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
চলবে...
পরের পর্বে আমরা
ভার্চুয়াল রিয়েলিটির উপাদানগুলো কী কী?
সম্পর্কে জানব।
বাংলাদি থেকে নেওয়া।