03/05/2026
অনেক কষ্টে আমরা টিপসই থেকে স্বাক্ষর করা শিখেছিলাম।
এজুকেটেড হয়েছিলাম,
তারপর ডিজিটাল হয়েছিলাম,
তারপর বায়োমেট্রিক মেশিন বসিয়ে স্মার্ট হতে গিয়ে অবাক হয়ে জানলাম, আপনি আনপড় হোন কিংবা পিএচডি, আদতে টিপসই ই আসল!
ট্রিভিয়াঃ
পৃথিবীতে একজনের ফিংগার প্রিন্টের সাথে আরেকজনের ফিংগার প্রিন্ট মেলে না। মানে স্বাক্ষর নকল করা সম্ভব; টিপসই নকল নামুমকিন। ১৬৮৬ সালে ইংরেজ বিজ্ঞানী নিহেমিয়া গ্রু (Nehemiah Grew) এই জিনিস আবিষ্কার করেন।
অবশ্য ফিঙ্গারপ্রিন্টকে পরিচয় যাচাইয়ের জন্য ব্যবহার শুরু হয় ১৮৫৮ সালে। ভারতীয় সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তা উইলিয়াম জেমস হার্শেল (William James Herschel) জালিয়াতি রোধ করতে বাংলায় চুক্তিপত্রে আঙ্গুলের ছাপ নিতে শুরু করেন।
পরে ১৮৯৭ সালে বাঙালি পুলিশ কর্মকর্তা কাজী আজিজুল হক ও হেমচন্দ্র বসু 'হেনরি ক্লাসিফিকেশন সিস্টেম' আবিষ্কার করেন, যা আজ বিশ্বব্যাপী ফিঙ্গারপ্রিন্ট রেকর্ড সংরক্ষণের ভিত্তি। ১৯০১ সালে লন্ডন পুলিশ এটি অফিসিয়ালি ব্যবহার শুরু করে।
পুনশ্চঃ
মরে গেলে দেহ একবার পচে মাটিতে মিশে গেলে তাকে আবার কিভাবে পুনরুত্থান সম্ভব, এসব বলে একদা কাফিররা খুব হাসাহাসি করত; আল্লাহ এর জবাবে বলেনঃ
"মানুষ কি মনে করে যে, আমরা তার হাড়সমূহ একত্রিত করতে পারব না? বরং (আমরা তো) তার আঙ্গুলের ডগা পর্যন্ত সুবিন্যস্ত করতে সক্ষম।"
এই আয়াতে "বানানাহু" (بنانه) শব্দটি আঙ্গুলের অগ্রভাগ বা ফিঙ্গারটিপসকে নির্দেশ করে, যা আধুনিক বিজ্ঞানে ফিঙ্গারপ্রিন্ট হিসেবে পরিচিত এবং প্রত্যেক মানুষের জন্য অনন্য। ১৪০০ বছর আগে কুরআন পুনরুত্থানের প্রসঙ্গে এই সূক্ষ্ম বিষয় উল্লেখ করে মানুষের শনাক্তকরণের নির্ভুলতার ইঙ্গিত দেয়।
সুবহানাল্লাহ!