17/12/2025
মাওলানা নুমানুল হক চৌধুরী–একজন এমন মানুষ, যাঁর ব্যক্তিত্বে প্রজ্ঞা ও কর্মচঞ্চলতা একে অপরকে পরিপূরক হয়ে ধরা দেয়। নীরবে কাজ করে যাওয়াই যেন তাঁর স্বভাব। শায়খুল হাদীস আল্লামা কিয়ামপুরী সংবর্ধনা পরিষদের মহাসচিব হিসেবে এই ঐতিহাসিক আয়োজনের প্রতিটি স্তরে তাঁর উপস্থিতি ছিল সুস্পষ্ট ও গভীর। সুলতানপুর মাদরাসা ময়দানে গত ২৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত স্মরণীয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফল করার লক্ষ্যে যিনি নিজের আরাম-আয়েশ ভুলে রাতদিন এক করে ছুটে বেড়িয়েছেন, কিয়ামপুরী হুজুরের অসংখ্য শাগরেদের কাছে গিয়ে দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছেন, যোগাযোগ রক্ষা করেছেন, উৎসাহ জুগিয়েছেন, তিনি মাওলানা নুমানুল হক চৌধুরী।
তিনি শায়খুল হাদীস আল্লামা মুখলিসুর রহমান কিয়ামপুরী হাফিজাহুল্লাহর অত্যন্ত স্নেহভাজন ছাত্র। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর হৃদয়ের গভীরে একটি বাসনা নীরবে লালিত হচ্ছিল, দরসে বুখারীর সুদীর্ঘ চুয়ান্ন বছরের অনন্য খেদমতের জন্য প্রিয় উস্তাযকে শাগরেদদের পক্ষ থেকে একটি গৌরবময় সংবর্ধনার মাধ্যমে সম্মান জানানো। এই বাসনা ছিল নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং উস্তাযের প্রতি গভীর ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধাবোধের এক আন্তরিক বহিঃপ্রকাশ।
২০২৪ সালের শেষ প্রান্তে, সুলতানপুর মাদরাসার খতমে বুখারি মাহফিলে কিয়ামপুরী হুজুর যখন তশরিফ আনলেন, তখন সেই লালিত স্বপ্ন বাস্তবতার দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়ায়। মাওলানা নুমানুল হক চৌধুরীর উদ্যোগে শায়খুল হাদীস আল্লামা আব্দুশ শহিদ চাম্পারকান্দি, মাওলানা আজিজুর রহমান জামালপুরী, মাওলানা জিল্লুর রহমান মৌলভীচকীসহ একঝাঁক কৃতজ্ঞ শাগরেদ হুজুরকে ঘিরে ধরলেন। শাগরেদদের চোখেমুখে ছিল আবেগ, কণ্ঠে ছিল মিনতি, উস্তাযের দীর্ঘ দিনের খেদমতের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে সংবর্ধিত করার আকুল আবেদন।
কিয়ামপুরী হুজুর স্বভাবসিদ্ধ বিনয়ের কারণে একাধিকবার পিছপা হওয়ার চেষ্টা করেন। নিজের জন্য কোনো আয়োজন বা সংবর্ধনা গ্রহণে তাঁর সংকোচ ছিল বরাবরের মতোই দৃঢ়। কিন্তু শাগরেদদের অকৃত্রিম ভালোবাসা, আবেগঘন অনুরোধ আর হৃদয় নিংড়ানো উচ্ছ্বাসের কাছে শেষ পর্যন্ত তিনি আর না বলতে পারলেন না। তিনি সম্মতি দিলেন—আর সেই সম্মতির মধ্য দিয়েই সূচনা হলো এক ইতিহাসগড়া প্রস্তুতির।
হুজুর রাজি হওয়ার পর থেকেই মাওলানা নুমানুল হক চৌধুরী নিজেকে পুরোপুরি এই আয়োজনের জন্য উৎসর্গ করে দেন। সুলতানপুর মাদরাসার নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশাসনিক দায়িত্ব, চলমান নির্মাণকাজ সবকিছুর দেখভাল করেও তিনি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয়ে নজর রাখেন। মাঠ প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে মঞ্চসজ্জা, অতিথি আপ্যায়ন, শাগরেদদের সমন্বয়, সার্বিক শৃঙ্খলা—কোনো দিকই তাঁর দৃষ্টি এড়িয়ে যায়নি। দিনরাত নিরলস পরিশ্রম, পরিকল্পনা আর বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিনি পুরো আয়োজনকে একটি সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ রূপ দেন।
তাঁর এই অক্লান্ত মেহনত, দূরদর্শিতা ও দৃঢ় নেতৃত্বের ফলেই ২৭ নভেম্বরের সেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান পরিণত হয় এক অভূতপূর্ব, সফল ও স্মরণীয় আয়োজনে। এটি শুধু একটি অনুষ্ঠান ছিল না; এটি ছিল উস্তায ও শাগরেদের হৃদয়ের মিলনমেলা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার এক জীবন্ত দলিল। আর এই ঐতিহাসিক আয়োজনের নেপথ্যে নীরব প্রেরণা ও অগ্রনায়ক হিসেবে যাঁর অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে, তিনি মাওলানা নুমানুল হক চৌধুরী।