30/10/2025
ইকবালের মা মারা যাওয়ার পর-বাপ আবার বিয়ে করেন এবং ইকবালকে মাত্র ৮ ডলার বা ৮০০ রুপিতে একটা কার্পেট বয়ন কারখানায় বিক্রি করে দেন। ৮ ডলারে বিক্রি হয়ে যাওয়া ইকবালের বয়স তখন মাত্র ৮ বছর। কারখানায় শুরু হয় ইকবালের অমানবিক পরিশ্রম। প্রতি সপ্তাহে কাজ করতে হতো ১২০ ঘন্টা বা দিনে ১৭ ঘন্টারও বেশী। পালিয়ে যেন যেতে না পারে সেজন্য পায়ে লম্বা শিকল দিয়ে আটকে রাখা হতো ইকবাল সহ তার সমবয়সী অন্যান্য শিশুদের।
ইকবালের বয়স যখন দশ, তখন সে কার্পেট বয়ন নামক এই জেলখানা থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। কিন্তু তার দূর্ভাগ্য পালিয়ে যাওয়ার তিন দিনের মাথায় সে আবার ধরা পড়ে এবং পুনরায় বিক্রিত হয়। এবার তার মূল্য আগের চেয়ে একটু বেড়ে হয় দশ ডলার। সপ্তাহে কাজও বাড়ে, হয় ১৪০ ঘন্টা! কিছুদিন পর ইকবাল আবার পালায় ‘স্লাম ডগ মিলিওনীয়ার’ সিনেমার মতো-মানব পুরিষের ভিতর দিয়ে।
ইকবাল এবার একটা এতিম খানায় আশ্রয় পায় এবং ইয়াতীম খানার তত্তাবধায়ক হাফেজ ইব্রাহীম তাকে স্থানীয় এক স্কুলে ভর্তি করে দেন। অসাধারণ মেধাবী ইকবাল পাঁচ বছরের প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষা মাত্র দুই বছরেই শেষ করে।
স্কুলে পড়াকালীন সময় ইকবাল Bonded Labour Liberation Front (BLLF) এ যোগ দেয়। যাদের কাজ হলো বিভিন্ন কারখানা থেকে শিশুদের মুক্ত করা। এই সংগঠনের মাধ্যমে ইকবাল প্রায় ৩০০০ শিশুকে বিভিন্ন কারখানাকে মুক্তি বা পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করে। ১৯৯৪ সালে বোস্টনে ইকবালকে Reebok Human Rights Award-এ ভূষিত করে।
যেখানে ইকবাল বলে- আমেরিকা থেকে আব্রাহাম লিংকন যেমন দাসত্বকে বিলুপ্ত করেছেন, আমারও কাজ হলো পুরো পৃথিবী থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন শিশুদের মুক্তির আন্দোলন করে সব শিশুদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা। কোনো শিশু থাকবে স্কুলে আর কোনো শিশু থাকবে কারখানায় সেটা হবে না। প্রতি সপ্তাহে ১৪০ ঘন্টা কাজের যন্ত্রণা। যে করে, সে-ই শুধু বুঝে। অন্য কেউ এই কষ্ট উপলব্ধি করতে পারবে না।
১৬ বছরের সুইডিশ শিশু Greta Thunberg যেমন School strike for climate ম্যুভমেন্টের মাধ্যমে দুনিয়া কাঁপিয়ে দিয়েছে। ইকবালও তেমনি শিশু দাস মুক্তির আন্দোলন সূচনা করে। কিন্তু ইকবালের সেই স্বপ্ন সত্যি হয়নি। শিশু দাসদের মুক্তি আন্দোলন যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই বোস্টন থেকে লাহোরে ফিরে আসার কিছুদিন পরই কার্পেট মাফিয়ারা ইকবালকে গু*লি করে মেরে ফেলে। তখন তার বয়স মাত্র বারো বছর।
শিশু ইকবালের এই লিগেসিকে চির স্মরণীয় করে রাখতে United States Labour department ২০০৯ সালে ‘The Iqbal Masih Award’ এর সূচনা করে। মাত্র বারো বছরের অল্প জীবনে প্রায় ৩০০০ শিশু দাসকে মুক্তির ব্যবস্থা করে, গু*লি খেয়ে জীবন দেয়া এসব হিরোদের কেউ চিনে না। এক মিনিটের নাচ-গান, একটা গোল, একটা ছক্কা ভাইরাল হয়। কারণ বিনোদনই আন্তর্জাতিক খাবার। এই খাবারের মিলিয়ন, বিলিয়ন ডলারের মার্কেট। তাই মানুষ চিনে শুধু খেলার হিরো আর সিনেমার হিরোদের।
১৯৯৫ সালে গু*লি খেয়ে মা*রা যাওয়া ইকবাল বেঁচে থাকলে প্রায় চল্লিশ ছুঁই ছুঁই বয়স হতো। আর এই চল্লিশ ছুঁই ছুঁই বয়সে হয়তো বা ৪০ লক্ষ শিশু বাধ্য শিশু শ্রমের কারাগার থেকে মুক্তি পেতো।
Hats off to you, The Little Hero…
কৃতজ্ঞতা - আরিফ মাহমুদ
02/10/2025
রাশিয়ার শিক্ষাব্যবস্থায় পরীক্ষার সর্বোচ্চ নম্বর ধরা হয় ৫। আর আশ্চর্যজনকভাবে, যদি কোনো ছাত্র একটিও উত্তর না লিখে খাতা জমা দেয়, তবুও সে পায় ২।
প্রথমদিন মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে আমি যখন এই নিয়ম জানলাম, তখন সত্যিই বিস্মিত হলাম। আমার কাছে মনে হলো, কেউ যদি কিছুই না লিখে, তার তো প্রাপ্য শূন্য হওয়া উচিত।
আমি কৌতূহলী হয়ে প্রশ্ন করলাম ড. থিওদর মেদ্রায়েভকে, “স্যার, একজন ছাত্র কিছু না লিখে ২ পাবে, এটা কিভাবে যুক্তিযুক্ত?”
মেদ্রায়েভ হাসলেন। তারপর শান্ত গলায় বললেন, “শূন্য মানে যার কোনও অস্তিত্ব নেই। মানুষ যতক্ষণ চেষ্টা করছে, ততক্ষণ সে শূন্য কীভাবে হয়? ভেবে দেখো, একজন ছাত্র কত ত্যাগ স্বীকার করে প্রতিদিন সকালে ক্লাসে আসে। হয়তো কনকনে শীতের মধ্যে সে ভোরে ঘুম থেকে উঠেছে, লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে বাসে, ট্রামে কিংবা ট্রেনে দাঁড়িয়ে এসেছে। খালি খাতা জমা দিলেও সে ক্লাসে এসেছে, মানে চেষ্টা করেছে। এখন বলো, আমি কীভাবে তাকে শূন্য দিই?”
তিনি আরও বললেন, “ছাত্রটি হয়তো উত্তর লিখতে পারেনি। কিন্তু তাই বলে তার সব প্রচেষ্টা বৃথা যাবে? সে যে রাত জেগে পড়াশোনা করেছে, নোটবুক কিনেছে, বই খুলে চেষ্টা করেছে, সেই শ্রম কি আমরা অবহেলা করবো?
না বাবা, মানুষ শূন্য নয়। শূন্য দিলে আমরা তার আত্মবিশ্বাস কেড়ে নেবো, তার ভেতরের আগুন নিভিয়ে দেবো। আর আমরা শিক্ষক হিসেবে চাই, ছাত্র যেন বারবার উঠে দাঁড়াতে পারে, হেরে না যায়।”
আমি নির্বাক হয়ে শুনছিলাম। সেই মুহূর্তে আমার ভেতরটা কেঁপে উঠল। বুঝলাম, শিক্ষা মানে শুধু নম্বর বা খাতার উত্তর নয়, শিক্ষা মানে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখা, তার প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেওয়া।
মেদ্রায়েভ সেদিন আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য শিখিয়েছিলেন— শিক্ষা শুধু জ্ঞান বিতরণ নয়, শিক্ষা হচ্ছে মানবিকতার চর্চা।
শূন্য নম্বর অনেক সময় ছাত্রদের জন্য মৃত্যুঘণ্টা হয়ে দাঁড়ায়। খাতায় শূন্য দেখে তারা ভয় পায়, আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ধীরে ধীরে পড়াশোনার প্রতি বিতৃষ্ণা তৈরি হয়। অথচ একজন শিক্ষকের দায়িত্ব হলো ছাত্রকে উত্সাহিত করা, তাকে বোঝানো— "তুমি পারবে, আবার চেষ্টা করো।"
যখন আমরা একটি খালি খাতার জন্যও ন্যূনতম নম্বর দিই, তখন আমরা আসলে বলি— "তুমি শূন্য নও, তুমি এখনও যোগ্য। তুমি ব্যর্থ হওনি, শুধু সফল হতে পারোনি। আবার চেষ্টা করো।"
এটাই হলো আসল শিক্ষা।
শিক্ষকের হাতেই ছাত্রের ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে। তাই শিক্ষকেরা যদি একটু মানবিক হন, যদি নম্বরের বাইরেও ছাত্রদের প্রচেষ্টা দেখতে শেখেন, তবে অনেক হতাশ ছাত্র হয়তো নতুন করে স্বপ্ন দেখতে পারবে।
আমার কাছে মনে হয়েছে, এই গল্পটা শুধু রাশিয়ার নয়, সারা বিশ্বের শিক্ষকদের শোনানো উচিত। কারণ শূন্য নম্বর কখনো শিক্ষা নয়, শূন্য নম্বর মানে কাউকে শেষ করে দেওয়া। মানুষ যতক্ষণ চেষ্টা করছে, তার প্রাপ্য অন্তত একটি আশ্বাস, একটি স্বীকৃতি।
কপি পোস্ট।
19/09/2025
চ্যাট জিপিটি কে যদি জিজ্ঞাসা করেন যে রবীন্দ্রনাথ কবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। উত্তর দিতে লাগবে কয়েক সেকেন্ড।
আরো কয়েক সেকেন্ডে বলে দিবে বাবা মায়ের কবে বিয়ে হয়েছিল।
আবার প্রশ্ন করলে কয়েক সেকেন্ডে বলে দিবে বাবা মায়ের প্রথম কবে পরিচয় হয়েছিল।
যার উত্তর কয়েক সেকেন্ডে পাওয়া যায় তা বেয়াকুব না হলে মুখস্থ করার কথা না।
কিন্তু বাংলাদেশের চাকরির রিক্রুটমেন্ট সিস্টেম তরুণ তরুণী দের কে বেয়াকুব বানায়। মুখস্থ করতে বাধ্য করে। দেশের সবচেয়ে প্রেস্টিজিয়াস জব কে পাবে আর কে পাবে না তা নির্ধারিত হয় মুখস্থ করার ক্ষমতার উপর।
দেশের সব কিছুর আগে এ বিষয় টির সংস্কার হওয়া উচিৎ ছিল। কিন্তু অন্য অনেক বিষয়ে আলাপ হলেও এ ইস্যুতে কোন আলাপ নাই।
23/07/2025
জুনায়েদের বলা শেষ কথাগুলো 😔😭
"আম্মু আমি আজ স্কুলে যাবো না।”
৭ বছরের বয়সী জুনায়েদের কথা শুনে মা ধ'ম'কে বললেন,
“একদম না যাওয়ার বায়না ধরবে না জুনায়েদ। যেতে হবে, চলো রেডি হও।”
“মা, ভালো লাগছে না আমার। কাল থেকে যাই?”
“না, বাবা এখনি যেতে হবে। স্কুল থেকে আসার পর, তোমাকে নিয়ে ঘুরতে যাব। কেমন?”
জুনায়েদের চোখ চকচক করে উঠল। বলল,
“সত্যি!”
“হ্যাঁ, সত্যি।”
জুনায়েদকে স্কুলের জন্য রেডি করে মা, আর ছেলে বেরিয়ে পড়লো। স্কুল গেইটে জুনায়েদকে নামিয়ে মা হেসে বললেন,
“আম্মু, বাসায় গিয়ে চিকেন রান্না করব, তোমার জন্য। ঠিক আছে?”
“ওকে, আম্মু।”
জুনায়েদের মা, রান্না করছিল। হঠাৎ নিউজ পেল, জুনায়েদের স্কুলে বিমান ক্র্যাশ করেছে। হাত থেকে চিকেনের পাতিলটা পড়ে গেল। কাঁ'পা কাঁ'পা হাতে জুনায়েদের বাবাকে কল দিলো। তারপর, ছুটে বেরুলো ছেলেকে খুঁজতে। “জুনায়েদ, ঠিক আছেতো?”
তারপর? তারপর, ২ ঘন্টা খোঁজার পর, হঠাৎ দেখতে পেলো, “পো/ড়া দে'হ নিয়ে জুনায়েদ তার আম্মুর দিকেই এগিয়ে আসছে। মুহুর্তেই পড়ে গেল মা'টিতে। শেষ নি’শ্বা’স ত্যাগ করলো জুনায়েদ। কলিজা কাঁ/পি/য়ে দেওয়ার মত চিৎ’কা’র করে উঠল জুনায়েদের বাবা-মা। মা কান্না করতে করতে বললেন,
“আমার বাজান, আমার বাজানে, না করছিল আম্মু আজ আমি স্কুলে যাব না। আমি জো'র করে পাঠিয়েছি। আমার বাজানে আজকে বিকেলে ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিল আমার সাথে। ওহ বাজান, চিকেন খাইবা না তুমি? আব্বা, আমারে নিঃস্ব করে তুমি কই চইলা গেলা আব্বা?”
জুনায়েদের আর বাসায় ফেরা হলো না, চিকেন খাওয়া হলো না, তার আম্মুর সাথে ঘুরা হলো না, আর, হোমওয়ার্কও করা হলো না।
©মারশিয়া জাহান মেঘ
মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা উত্তরা।
২১ জুলাই ২০২৫ ( ইতিহাসের কালো অধ্যায়)
23/07/2025
ঢাকা একটি টাইম বোমা
----------------------
বর্তমানে সবাই আলোচনা করছে, কেন বেসামরিক এলাকায় সামরিক কিংবা বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ হচ্ছে, এবং তার ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এসব নিয়ে আসলে কি নীতিগত (policy-level) কোনো পরিবর্তন আসবে?
নিমতলী বা চুড়িহাট্টার কথা মনে আছে? কয়েক শত মানুষের প্রাণ গেছে অবৈধ কেমিক্যাল গুদামে আগুনের কারণে। আজও সেই বিপজ্জনক কেমিক্যাল ঠিক আগের মতোই বসবাস করছে আবাসিক এলাকায়! হয়তো আপনার বাসার পাশেই!
ফায়ার ফাইটিং ব্যবস্থা ক’টি ভবনে আছে? ফায়ার এক্সিট? বহুতল ভবনে আগুন লাগলে কত মানুষ আটকে পড়ে বা মারা যায়, মনে আছে আগের ঘটনাগুলো?
ঢাকার প্রায় ৭০% ভবন ভূমিকম্প-প্রতিরোধে অযোগ্য। অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ, নকশা না মেনে উঁচু ভবন, একটার গায়ে আরেকটা! একটি মাত্র উচ্চমাত্রার ভূমিকম্প হলেই হাজারো মানুষ ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়বে। ভেবে দেখেছেন কখনও? আগের বা বর্তমান সরকার কি ব্যবস্থা নিচ্ছে বা নিবে?
বিদ্যুৎ লাইন না, যেন মরণ ফাঁদ! বিশেষ করে পুরান ঢাকায় তাকান! উপরে তাকালেই দেখা যাবে তারের জঙ্গল। একটি শর্ট সার্কিটে গোটা এলাকাই পুড়ে ছাই হয়ে যেতে পারে।
ফায়ার সার্ভিস অনেক গলিতে ঢুকতেই পারে না। হাসপাতালে স্থান নেই আগেই। যখন বিপর্যয় ঘটে, তখন শুধু দুর্ঘটনায় নয়, উদ্ধার ও চিকিৎসার অভাবেও মৃত্যু হয় বহু মানুষের।
আরও বিপদ তো প্রতিদিনই আছে! সড়ক দুর্ঘটনা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, মশাবাহিত রোগ, ডেঙ্গু, বন্যা, বিষাক্ত খাবার, দূষিত বাতাস ইত্যাদি ইত্যাদি!
আমরা নির্বিকার!
দুর্ঘটনা, দুর্ঘটনা ই! উন্নত বিশ্বেও ঘটে! তবে কোন দুর্ঘটনা হলে সেখানে ব্যবস্থা নেয়া হয় যেনো ভবিষ্যতে এমন না ঘটে! ঘটলেও যেনো ক্ষয়ক্ষতি কম হয়! আমাদের দেশে যখন ঘটনা ঘটে, তখন আমরা শোক করি, কান্নাকাটি করি! কেউ কেউ ব্লেইম গেম খেলি “সব দোষ ওমুকের, না হয় তোমুকের”! কিন্তু সেই ঘটনা যেনো আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে আমরা প্রায় কিছুই করি না।
সংগৃহীত
22/07/2025
যেই পাইলট একটা যুদ্ধ বিমান একটা স্কুল বিল্ডিং-এ ক্র্যাশ করাইলেন, তাকে আপনারা পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করলেন।
নিয়ম অনুযায়ী এটা আপনাদের করতে হবে সুতরাং করেন। প্যারা নাই। হয়তো পাইলটের কোনো দোষই ছিল না। হয়তো ছিলো দোষ। আমি জানি না। আমি জীবনে প্লেন উড়াই নাই।
কিন্তু যেই শিক্ষিকা নিজের জীবনটা উৎসর্গ করে, আগুনের মধ্যে ঢুকে তার শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করলেন, এতোগুলা বাচ্চার জীবন বাঁচালেন, তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা গেলো না?
কেন? সিভিলিয়ান বইলা? সিভিলয়ানদের মধ্যে বীরত্ব নাই তাই?
কী জানি! আমরা তো আসলে সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেনও না, আমরা হইতেসি আপনাদের ভূমিদাস। মর্যাদাহীনতাই আমাদের ভাগ্যে আছে।
© Readus Salehen Jawad
22/07/2025
দৌড়াও, ভয় পেয়ো না। আমি আছি।
মাইলস্টোনের টিচার মেহরিন চৌধুরী নিজে ৮০% দগ্ধ হয়েছেন। কিন্তু নিজের ছাত্রছাত্রীদের ফেলে বেরিয়ে যাবার মতো বুদ্ধিমতী ছিলেন না। শুধু বলছিলেন, দৌড়াও, ভয় পেয়ো না। আমি আছি।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষিকা মেহরিনের সাহসিকতায় অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থীর প্রাণ রক্ষা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া এক সেনা সদস্য বলেন, “ম্যাডাম ভিতরে ঢুকে গিয়ে বাচ্চাগুলারে বের করে দিছেন, তারপর উনিই বের হতে পারেন নাই।”
নিজের জীবন উৎসর্গ করে ২০টি তাজা প্রাণ বাঁচালেন এই মহীয়সী নারী।
বাংলাদেশ ধন্য সকল বাংলাদেশি ধন্য এমন একজন শিক্ষিকা তাদের দেশে জন্মেছে।
শত শত সালাম সেই মায়ের প্রতি যার গর্ভে মেহরীন চৌধুরী নামক রত্নটি জন্মেছে।
মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন।
©Ma'ruf Raihan Khan
12/07/2025
আমাদের সবার প্রিয় হেড স্যার কে নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক লেখা ইনবক্স দিলে পেজ থেকে প্রচার করা হবে।