তেরো ফোঁড়ন

তেরো ফোঁড়ন

Share

Children’s best place

07/11/2025

পরিবর্তনের পথিকৃৎ, নেতৃত্বের নতুন অনুপ্রেরণা: জোহরান মামদানি
.....................................................………………………

অ্যামেরিকা একটা আজব দেশ। এই দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী লোকটা একটা বদ্ধ উন্মাদ, যার মধ্যে ডিপ্লোম্যাটিক ডিসেন্সি বা ডেকোরামের লেশমাত্র নাই! এইতো কিছুদিন আগেই হোয়াইট হাউসের ক্যাবিনেট রুমে মিডিয়ার সামনে অস্ট্রেলিয়ান প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড'এর মুখের বলে দিলেন, "আই ডোন্ট লাইক ইউ, এন্ড আই প্রবাবলি নেভার উইল"!!

তার দলের এবং নিজের এপ্রোচ হচ্ছে কোনোরকম সৌজন্যতার ধার না ধেরে রিলিজিয়াস এবং কালচারাল ইন্টলারেন্সকে উস্কে দিয়ে নিজেদের মতলব হাসিল করা।

আবার সেই দেশেই, নিউ ইয়র্ক সিটির মতো একটা জায়গা যা কিনা ফাইন্যান্স, মিডিয়া, ফ্যাশন, আর্ট, ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসির গ্লোবাল হাব, তার মেয়র নির্বাচিত হয়, জোহরান মামদানির মতো ভারতীয় বংশোদ্ভূত একজন মুসলিম পোলিটিশিয়ানের যার জন্মই অ্যামেরিকাতে হয়নি!! জোহরানের জন্ম হয়েছিল ইউগান্ডায়।

এই ছেলে কিন্তু নিছক কোনো "আগুনের গোলা" না, সে একটা আস্ত আগ্নেয়গিরী!

আপনি আজকে ফেইসবুকভর্তি পোস্ট দেখবেন, "জোহরান NY এর ইতিহাসের প্রথম মুসলিম মেয়র"।

সেটাই স্বাভাবিক, যখন কোনো অভাবনীয় সাফল্যের ঘটনা ঘটে, তখন মানুষ সেই সাফল্যের সাথে নিজের অন্তর্ভুক্তির যোগসূত্র খুঁজে সেই সাফল্যের আনন্দে অংশীদার হতে চায়। অনেক ভারতীয়রাও নিশ্চই জোহরানের ইন্ডিয়ান এন্সেস্ট্রাল লিনিয়েজ এর কারণে প্রাউড ফিল করছেন।

জোহরানের মা বাবা দুজনই ভারতীয় এবং দুজনই হাইলি এস্টিমড স্কলার। বাবা মাহমুদ মামদানি লেখাপড়া করেছেন হার্ভাডে, কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে। নামকরা ইউগান্ডান একাডেমিক উনি।

মা, মীরা নায়ার বিখ্যাত ফিল্ম ডিরেক্টর যার "মনসুন ওয়েডিং", "দ্য নেইমসেক", "দ্য রিল্যাকটেন্ট ফান্ডামেন্টালিস্ট" মুভিগুলো অনেকেই দেখেছেন।

তার মানে একটা সলিড ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড জোহরানের ছিলো। ইনটেলেকচুয়াল গিফটটা ওর জিনের মধ্যেই এমবেডেড ছিলো।

ছোটবেলা থেকে জোহরানকে যারা চিনতো তারা সবাই ওর লিডারশীপের স্পার্কটা দেখতে পেয়েছিলো। জোহরানের স্কুলের প্রথম ক্রিকেট ক্লাব ওর তৈরী করা। প্যালেস্টাইনের সাপোর্টে যতগুলো স্টুডেন্ট উইং বানানো হয়েছে তার বেশিরভাগের ফাউন্ডিং মেম্বার ছিলো জোহরান।

কলেজে শেষ করেই জোহরান একজন হাউসিং কাউন্সিলর হিসেবে কাজ শুরু করেন। তার কাজ ছিলো স্বল্প আয়ের ইমিগ্রান্টরা যারা ভাড়া দিতে না পেরে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়েছেন তাদের জন্য সোশ্যাল হাউজিংয়ের ব্যবস্থা করা, সরকারী সাহায্যের বন্দোবস্ত করা। এই কাজ করতে গিয়েই জোহরান লক্ষ্য করেন যে ল্যাম্পোস্টের ঠিক নিচে যেমন অন্ধকার থাকে, তেমনি এই ঝলমলে নিউইয়র্ক শহরের অলিগলিতে প্রচুর মানুষ চরম আকারের আবাসন সমস্যায় ভুগছেন। প্রচুর হোমলেস মানুষ আছেন এই শহরে!

এই সমস্যা মোকাবেলায় ২০১৭ সালে জোহরান ডেমোক্রেটিক সৌসালিস্ট অফ অ্যামেরিকা (ডি এস এ) তে জয়েন করেন।

এরপর থেকে টানা ২০২৪ পর্যন্ত টানা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যায় নিউ ইয়র্ক সিটিকে ঘিরে তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে।

জোহরান সো কলড পলিটিশিয়ানদের মতো গৎবাঁধা গালভরা "বড় বড় রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি” বাদ দিয়ে সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের মতো বাস্তব বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। এতে সাধারণ ভোটারের সঙ্গে জোহরানের একধরনের তাৎক্ষণিক সম্পর্ক তৈরি হয়।

স্বল্পআয়ের মানুষরা অনুভব করে যে তাদের নিয়েও কেউ ভাবে।

জোহরানের যুগান্তকারী রাজনৈতিক প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে আছে, অ্যাপার্টমেন্টে রেন্ট ফ্রিজ করা, নিউইয়র্কের ভেতরে বাসের ভাড়া ফ্রী করে দেয়া , সিটি–ম্যানেজড গ্রোসারি স্টোর চালু করা, ইউনিভার্সেল চাইল্ড কেয়ারের ব্যাবস্থা করা, ২০৩০ এর মধ্যে মিনিমাম ওয়েজ ঘন্টায় ৩০ ডলারে নিয়ে আসা ইত্যাদি।

তার দুটো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হচ্ছে, নিম্ন ও মদ্ধবিত্তের জীবনযাপনের খরচ কমিয়ে আনা ও ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে স্বীকার করে নিয়ে তাদের মেইনস্ট্রিম আমেরিকান কালচারে ইনক্লুসিভ করা।

নিউ ইয়র্কের মতো শহরে বহুভাষিক ও বহু সাংস্কৃতিক ভোটারদের মধ্যে তিনি নিজের স্থান তৈরি করতে পেরেছেন তাদের সাথে একটা আত্মিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে, যা অর্ডিনারিলি রাজনীতিবিদরা সবসময় অবহেলা করেন।

এতকিছুর পরও নিউইয়র্কের এই ইলেকশনের রেজাল্ট অভুর্তপূর্ব এবং বিস্ময়কর! কারণ জোহরানের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, জ্ঞান, চামড়ার এডভ্যান্টেজ, আর্থিক সামর্থ, পেশীশক্তি অনেক অনেকগুন বেশি শক্তিশালী।

কিন্তু এতো এডভ্যান্টেজ থাকার পরও তারা জোহরানের ডিগনিটি, আত্মবিশ্বাস, হার্ডওয়ার্ক, ট্যালেন্ট, নিখাদ আন্তরিকতা আর ইউনিক এপ্রোচের কাছে মার খেয়ে গেছে!

এই ছেলের স্পিচ শুনলে আপনি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যাবেন। হিজ এনার্জী রিমাইন্ডস মি অফ দ্য গ্রেট শাহরুখ খান। একই রকম রেইজর শার্প উইট, ইন্টেলিজেন্স, উইজডম এন্ড ডিটার্মিনেশন। অজেয়কে জয় করার এক আগুনঝরা স্পৃহা!

জোহরান মামদানি একজন প্রগতিশীল প্রজন্মের প্রতিনিধি, যিনি নিউ ইয়র্ক তথা বিশ্বের রাজনীতিকে একটি অভাবনীয় ঝাঁকি দিয়েছেন। তাঁর রাজনৈতিক এপ্রোচ নতুন, অনেক বেশি বাস্তব, ইনক্লুসিভ এবং মানবিক। তাঁর রাজনৈতিক পথচলা নিঃস্বন্দেহে সহজ হবেনা। তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ চাইবেন এভরি পসিবল ওয়েতে তাকে অপদস্থ করতে। আমি সহ পৃথিবীর কোটি কোটি গুনগ্রাহীর শুভকামনা ও প্রার্থনা আছে তাঁর সাথে।
Collected.

18/10/2025

যতবার পড়ি ততবারই যেনো চোখে পানি চলে আসে।

জান্নাতের সার্টিফিকেট প্রাপ্ত সাহাবী তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রা:) প্রতিদিন নবীজীর পেছনে ফজরের নামাজ পড়েন। কিন্তু নামাজে সালাম ফিরানোর সাথে সাথে তিনি মসজিদে না বসে তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে যান। এভাবে কয়েকদিন চলার পর অন্যান্য সাহাবিরা এটা নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন যে, প্রতিদিন সালাম ফিরিয়েই তালহা চলে যান।

অথচ নবীজী (সা:) ফজরের পর সূর্য উদয় না হওয়া পর্যন্ত মসজিদে বসে বয়ান করেন। অন্যান্য সব সাহাবিরাও রাসূলের কাছে বসে থাকেন। এক পর্যায়ে এই কথা নবীজীর কানে পৌঁছালো।

★নবীজী সাহাবিদের বললেন:-
আগামিকাল ফজরের নামাজ শেষে তালহা যেন আমার সাথে দেখা করে। পরের দিন নামাজে আসলে তালহাকে একথা জানিয়ে দেয়া হল। ফজরের নামাজ শেষ। তালহা বসে আছেন নবীজীর সাথে দেখা করার জন্য। একপর্যায়ে নবীজী তালহাকে ডাকলেন।
নবীজী অতি মোলায়েম কন্ঠে তালহাকে বললেন,তালহা! আমি কি তোমাকে কোন কষ্ট দিয়েছি..?
আমি কি তোমার কোন হক নষ্ট করেছি..?

একথা শুনে তালহা কেদে ফেললেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা:) আমার জীবন আপনার জন্য উৎসর্গ হোক। আপনি আমার কোন হক নষ্ট করেননি। নবীজী (সা:) বললেন,তাহলে তালহা ! তুমি প্রতিদিন নামাজ শেষে আমার কাছে না বসে চলে যাও কেন..?
তালহা কেদে কেদে বললেন, রাসুল (সা:) আমার এবং আমার স্ত্রীর সতর ডাকার জন্য একটি মাত্র জামা আছে। যেটা পরে আমি যখন নামাজ পড়ি আমার স্ত্রী তখন গুহায় থাকেন।

স্ত্রী যখন নামাজ পড়েন আমি তখন গুহায় থাকি। এক্ষেত্রে ফজরের নামাজের সময় একটু অসুবিধা হয়ে যায় ইয়া আল্লাহর রাসুল (সা:) ফজরের নামাজে আসার সময় আমি আমার স্ত্রীকে একটা গুহায় রেখে আসি। এমতাবস্থায় আমি যদি নামাজ শেষে এখানে বসে থাকি তাহলে তো আমার স্ত্রীর নামাজটা কাজা হয়ে যাবে ইয়া আল্লাহর রাসূল। এজন্য আমি নামাজ শেষে দৌড়ে চলে যাই।

তালহার কথা শুনে আল্লাহর রাসুল দরদর করে কাঁদছেন। নবীজীর দাড়ি বেয়ে বেয়ে চোখের পানি পড়তেছে। সাথে সাথে নবীজী তালহাকে জানিয়ে দিলেন,তালহারে !
নিশ্চয়ই তুমি জান্নাতে যাবে।
আল্লাহু আকবার সুবহান আল্লাহ্ (মুসনাদে আহমদ)

দেখুন একটা মাত্র পোশাক ছিল তালহা (রা:) এবং তার স্ত্রীর তারপরও আল্লাহর প্রতি কোন অভিযোগ ছিল না, এবাদতের প্রতি কোন অজুহাত ছিলো না আর আমাদের কত অভিযোগ কত অজুহাত আল্লাহর প্রতি। আল্লাহ্ মাফ করুন।
আমীন।

05/01/2025
Photos from তেরো ফোঁড়ন's post 19/11/2022

Belated Happy Birthday our beloved writer Humayun Ahmed.
13th November is the day which we all Bangladeshi readers remember with great respect, love and fascination.
"কেমিস্ট্রির অনার্স ব্যবহারিক পরীক্ষা। একজন ছাত্রী প্রেগন্যান্ট। শিক্ষক লক্ষ করলেন, মেয়েটির কাজ করতে বেশ অসুবিধে হচ্ছে। মায়া হলো তাঁর খুব। একটা নিচু টুলের ব্যবস্থা করলেন। যন্ত্রপাতিগুলো টেবিলে রেখে চেয়ারে বসে কাজ করার অনুমতি দেয়া হলো তাকে। মৌখিক পরীক্ষার দিন মেয়েটি একটি ফুটফুটে বাচ্চার জন্ম দিলো। পরীক্ষা দেয়া হলো না আর। শিক্ষক মন খারাপ করলেন খুব। মৌখিক না দিলে, ব্যবহারিক ফেইল। ব্যবহারিক ফেইল মানে অনার্স পরীক্ষায়ই ফেইল।
রেজাল্ট শীট তৈরি করা হলো। রাত তখন দশটা। খামে ঢুকিয়ে সিলগালা করার আগমুহূর্তে জনৈক শিক্ষক সহযোগী বাকি তিনজনকে জানালেন, মেয়েটির ভাইবা আজই নেয়া হবে, এই এখনই। সহযোগী তিনজন তাজ্জব হয়ে তাকালেন শিক্ষকের দিকে। মেয়ের বাড়ি শহর থেকে নয়-দশ মাইল দূরে। তার কিছুক্ষণ পর। একটা রিকশা অজানা পথে ঝাঁকুনি খেতে খেতে এগুলো। পথঘাট অপরিচিত। রাত বারোটায় সদ্য সদ্য মা হওয়া মেয়েটি বিস্মিত চোখে দেখল, চারজন শিক্ষক বাসায় উপস্থিত তার। চোখভর্তি জল জমলো। চারপাশে হৈ চৈ পড়ে গেল। উৎসব উৎসব ভাব। হাসবেন্ড সাইকেল নিয়ে মাঝরাত্তিরেই ছুটলো মিষ্টি কিনতে। ভাইবা শুরুর আগে মেয়েটি ঐ শিক্ষককে বলল, 'স্যার, আমার বাচ্চাটাকে একটু দেখুন।' শিক্ষক কঠিন গলায় ধমকালেন, বাচ্চাকে দেখতে নয়, ভাইবা নিতে আসছি। আচ্ছা দেখাও। বাচ্চা তখন ঘুমোচ্ছে। মাথাভর্তি চুল। পাতলা ঠোঁট। ছোট্ট একটা মুখ।
ভাইবা প্রচণ্ড খারাপ হলো। কোনো প্রশ্নেরই উত্তর দিতে পারলো না মেয়েটি। বরং হাসতে হাসতে বলল, ‘থিওরি খুব খারাপ হয়েছে। পড়াশুনা করি নাই। আমি পাশ করব না। কিন্তু আমার এতটুকুন আফসোস নাই। আমার মতোন ভাগ্যবতী মেয়ে এই পৃথিবীতে নাই।’
মেয়েটির চোখে জল। এক জীবনে প্রচণ্ড সুখে চোখে অশ্রু জমার মুহূর্ত খুব কমই জোটে মানুষের। মেয়েটি দারুণ সৌভাগ্যবতী তো বটেই। ঐ শিক্ষকের নাম হুমায়ূন আহমেদ। আমাদের আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র। যিনি প্রেমে পড়েছিলেন চাঁদের, টলটলে জোছনার, বৃষ্টি কিংবা রহস্যের, নিছক আনন্দের।

ঐ দিন পরীক্ষায় পাস করানোর জন্য নয়, এই চমৎকার মানুষটি অত রাত্রে ছুটেছিলেন একদল অভিভূত মানুষ দেখে আনন্দিত হওয়ার জন্য। মানুষকে অভিভূত করে আনন্দ পেতেন হুমায়ূন। নিজের তৈরি নন্দনকানন নুহাশপল্লীতে মিথ ছড়িয়েছিলেন, ভুত আছে। আনন্দের খোঁজে ছুটেছেন দিগ্বিদিক। হুমায়ূনকে ছোঁয়া প্রতিটি মানুষকে আমার ভীষণ সৌভাগ্যবান মনে হয়। এই এক স্পর্শেই বোধহয় একেকজন একেকটা হীরকখণ্ডে পরিণত হতেন। অভিভূত করার চমৎকার ক্ষমতা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন হুমায়ূন তার আশপাশেও। তারাও হুমায়ূনকে চমকে দিতেন। তীব্র ভালোবাসার কাঙাল ছিলেন বলেই হয়তো চোখে জল জমতো খানিক ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে।

খুব বাজে সময় যাচ্ছিল হুমায়ূনের তখন। মুল পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। মেয়ে বিপাশা এবং পুত্র নুহাশকে নিয়ে কক্সবাজার গিয়েছেন। সন্তানদের সাথে ঘুরে বেড়াবেন। ভোরে ভোরে দরজায় নক। দরজা খুলে হুমায়ূন চমকালেন। সামনে চ্যালেঞ্জার দাঁড়িয়ে। হাতে এক কাপ চা আর ভাঁজ করা পত্রিকা। প্রিয় মানুষটিকে অভিভূত করার তীব্র তৃষ্ণায় এই লোক সারারাত গাড়ি চালিয়ে সুদূর ঢাকা থেকে চলে আসছেন। এই মানুষগুলোকে আমার ভীষণ হিংসে হয়। আমার ছুটে যাওয়ার রাস্তা নেই। গন্তব্য নুহাশপল্লী রেখে আমি ছুটি আমার ছোট্ট বুকশেলপের দিকে। হাত বাড়াই। একটা কোমল অদৃশ্য জাদুকরি হাতের ছোঁয়ায় হু হু করে কান্না পায় আমার। আমি এই মানুষটিকে ভয়ংকর মিস করি। মাঝে মাঝে ভীষণ আফসোস হয়। আমি এই মানুষটিকে সত্যি সত্যি ছোঁয়ার তীব্র একটি ইচ্ছে অপূর্ণ রেখেই মরে যাবো। হায়!

১৩ই নভেম্বর। জাদুকরের জন্মদিন। প্রত্যেক জন্মদিন এবং মৃত্যুদিনে বাংলা সাহিত্যে এই জাদুকরের অবদান নিয়ে বিশিষ্ট লোকজন নিয়ম করে সকাল বিকাল নাক সিঁটকান। জীবনানন্দের কবিতা আর জীবন বিপরীতদিকে ছুটেছিল। কবিতা বিক্রি হয়েছিল পরবর্তীতে, জীবন কেউ কেনেনি। কাজী নজরুল ইসলাম সদ্য চিরতরে চোখ বুজে ফেলা পুত্র সন্তান বুলবুলের দাফন-কাফনের টাকা ধারের জন্য যে প্রকাশকের কাছে ছুটেছিলেন, তিনি বিনিময়ে একটি কবিতা চেয়েছিলেন ঐ মুহূর্তেই। নজরুল বাড়িতে মৃত সন্তান আর চোখভর্তি জল নিয়ে লিখেছিলেন, ঘুমিয়ে গেছে শ্রান্ত হয়ে আমার গানের বুলবুলি। আহা সাহিত্য! হতাশ মানিক মৃত্যুর আগে বলে গিয়েছেন- দু’মুঠো ভাতের ব্যবস্থা না করে সাহিত্য করতে এসো না!

হুমায়ূন ব্যতিক্রম ছিলেন। নিজের জীবন নিজেকেই যে যাপন করতে হয়। প্রকাশকেরা হিসেব করে বের করেছেন, হুমায়ূনের প্রকাশিত এক একটা শব্দের বিক্রয়মূল্য পাঁচ হাজার পাঁচশো টাকা। একজন লেখক শুধুমাত্র একটি লেখা দিয়েও বাংলা সাহিত্যে চিরকাল রাজত্ব করে যেতে পারেন। আমি হুমায়ূনকে আজীবন মনে লালন করবো, শঙ্খনীল কারাগার, নন্দিত নরকে, এইসব দিনরাত্রি, কোথাও কেউ নেই, দেয়াল, অপেক্ষা, বাদশাহ নামদার, অচিনপুরের জন্য। আমি তাকে বুকে আগলে রাখবো তাঁর অসম্ভব সুন্দর এবং নান্দনিক ছোটগল্পগুলোর জন্য। আমি আমার জীবদ্দশায় যত বই পড়ব, যার বই পড়ব, হুমায়ূনকে মনে রেখেই পড়ব। এই চমৎকার জগতের প্রবেশপথের চাবিটা যে তার-ই ছিল। তারপর আমি ভরা জোছনায় পুকুরপাড়ে হাত পা ছড়িয়ে বসে গলা ছেড়ে গান গাইবো। তোমার হইয়া অবাক জোছনা ডাকলো অচিন সুরে।

এক হাজার নাটক, এক হাজার সিনেমা, এক হাজার বইয়ের মধ্যে তুড়ি মেরে হুমায়ূনকে আলাদা করা যায়। কেননা তিনি গতানুগতিক চোখে দেখেননি একটা বৃক্ষ, একটা পাখি, একটা আস্ত মানুষ কিংবা সাধারণ একখানা দৃশ্যও। এই কারণেই হাবলঙের বাজারের আবদুল মজিদ খান মুখে ডিম নিয়ে বসে থাকে, বিবাহ করতে তার 'লইজ্জা' লাগে। আজ রবিবারের সবচেয়ে বেশি কথা বলা মতি মিয়া অধিক কথা বলা পছন্দ করে না। অধিক কথা বলার স্বার্থকতা নাই। দেয়ালের ভীতু শফিক হুট করেই পঁচাত্তরের বিভীষিকাময় এক রাতে 'মুজিব হত্যার বিচার চাই' স্লোগান দিতে রাস্তায় নেমে যায় একা। শ্যামল ছায়ার রগচটা মাঝি একগাদা যাত্রী সহ নৌকা রেখে দূরে চলে গিয়েও মন খারাপ করে অনতিবিলম্বে দুই হাতে দুইটা কাঁঠাল নিয়ে ফিরে আসে। এসে গম্ভীর মুখে বলে, আমি ভালো লোক না। আমি খুব খারাপ লোক। আমি শিশি খাওয়া লোক।
হুমায়ূনকে আমি কোটির মধ্যেও অনায়াসে আলাদা করতে পারি কেননা এই মানুষটি আমার সমগ্র জগতে বিচরণ করেন।

'কোথাও কেউ নেই' দেখছিলাম ক'দিন আগে ইউটিউবে পুনরায়। কেন এই নাটক নিয়ে এত হৈ চৈ টের পাওয়া যায় প্রতিটা মুহূর্তে। কতটা গভীরতায় ডুবিয়ে রাখা যায় সংলাপ, দৃশ্য, সুর। কানের কাছে যেন বাজছিল গলির মিছিল, আমারও ইচ্ছা করল একটু গলা মিলাই। বাকের ভাই থাকুক। বাকের ভাই আরও কিছুদিন বাঁচুক। একটা সিনেমা দেখার সময় আমরা গল্পের সঙ্গে সঙ্গে হা করে গিলি ক্যামেরার কাজ, সাউন্ড, সেট সহ সিনেমা সংশ্লিষ্ট নানান বিষয় আশয়। ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, হুমায়ূনের নাটক সিনেমাগুলোয় সম্ভবত আহামরি ক্যামেরার কাজ নেই। অথবা হয়তো আমি ক্যামেরার কাজ অত বুঝি না। বাকি টেকনিক্যাল বিষয়গুলোও অতটা নজরকাড়া নয়। তাও শ্যামল ছায়া আমায় কাঁদায়। প্রতিবার। একটা নৌকায় আস্ত বাংলাদেশ তুলে এনেছেন হুমায়ূন। কয়জন পারে?
এই সিনেমায় মাওলানা ফেরার পর তানিয়া আহমেদ যখন শশুরকে কাঁদতে কাঁদতে জিজ্ঞেস করেন, সবাই ফিরে আসে, আপনার ছেলে কেন ফিরে না বাবা? সবাই ফিরে আসে আমার বাবুটা কেন ফিরে না বাবা? আমার চোখ ফেটে জল বের হয় তখন। আমি হু হু করে কাঁদি। শুধুমাত্র গল্প দিয়েই আঁচড় কাটতে জানতেন হুমায়ূন। একটা মানুষের কতটা ভেতরে ঢুকে তাকে শূন্য করে পূর্ণ অনুভূতি চূর্ণ করে নিয়ে নেওয়া যায়- তিনি রপ্ত করেছিলেন দারুণ।

হুমায়ূন সম্পর্কে খুঁটিনাটি পড়ি আমি। এমন অনেক কিছুই যেটা আদৌ জানার কোনো প্রয়োজন নেই। জেনে লাভ নেই, না জেনে ক্ষতি নেই। আমার কখনো জানার প্রয়োজন হয় না তথাপি আমি জানি হুমায়ূন সবসময় ফুল হাতা শার্ট পরে ঘুমুতে যেতেন। দুইটা গালি দিতে পারতেন। এক, ফাজিল। দুই, ফাজিলের ফাজিল। সবচেয়ে বেশী উচ্চারণ করা বাক্য ছিল তাঁর, লজিক কী বলে? হুমায়ূন প্রথম জিন্স পরেছিলেন দ্বিতীয় বিবাহের পর। সবসময় গোসল করেছেন গরম পানিতে। সব ক'টি পাণ্ডুলিপি নিজ হাতে কুচি কুচি করে ছিঁড়ে ফেলতেন কম্পোজের পর। বাসায় কোন লকার ছিল না তাঁর। দরজায় তালা চাবিও না। হিমুর মতোন ঘরের ভেতর আসমান বানিয়েছেন। বানিয়েছেন একখানা বৃষ্টিবিলাস।
আমার এসব জানার দরকার পড়ে না, অথচ আমি জানি। আমি গোগ্রাসে গিলি হুমায়ূন সম্বন্ধীয় সব। প্রতিটা বাক্য, প্রতিটা শব্দ, প্রতিটা অক্ষর। কারণে, অকারণে। ঘুমে, জাগরণে। হুমায়ূন আমার একটা জগত। এই জগত আমি ভয়ংকর আবেগ নিয়ে ভালোবাসি।
আমার কভার ফটোয় হুমায়ূন জুড়ে আছেন। একটা চশমা পরা মুখ, তার ঠিক নিচে বামদিকে ছোট্ট আমি। তাকিয়ে আছি উপরে। এই ছবিটা আমার ভেবে তোলা হয়নি। কিংবা হুমায়ূনের এই ছবিটাও আমার ভেবে আঁকা হয়নি। তারপরও এই তাকিয়ে থাকা ছবি আমার দেখা আমার সবচেয়ে সুন্দর ছবি। ঐ চশমা পরা মুখটা আমার আঁকা ব্যক্তিগত পছন্দের সেরা কাজ। কেননা এইখানে হুমায়ূন মিশে আছেন ওতপ্রোতভাবে। এই দৃষ্টি মিথ্যে নয়, আমি এইভাবেই দূর জ্বলজ্বলে নক্ষত্রের দিকে তাকাই। আসমান ছোঁয়ার বাসনা নিয়ে।

১৯৫৫-৬০ সালের দিকে সিলেটের মীরা বাজারের অদূরে কোথাও কোনো ধবধবে সাদা রঙের বাংলো প্যাটার্নের বাড়ির আঙিনায় বাগানে গাছের নিচে পাটি পেতে শুয়ে বই পড়া পনের-ষোল বৎসরের যে বালিকা হুট করেই বাগানে ঢুকে পড়া এক অপরিচিত স্কুল ফেরত দুরন্ত বালকের হাতে যত্ন করে তুলিসমেত অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ক্ষীরের পুতুল’ তুলে দিয়ে এক স্বপ্নীল রাজ্যে প্রবেশ করিয়ে দিয়েছিল- ঐ বালিকার কি জানা হয়েছিল? ঐ ছোট্ট কাজল একদিন এই তুলি দিয়ে আঁকবেন হলুদ হিমু, তীক্ষ্ণ মিসির আলী, নীল রুপা, দুঃখী মুনা, আবছা শুভ্র কিংবা রঙচটা বাকের ভাই।

আজ জাদুকরের জন্মদিন। জাদুকরের জন্মদিনে এইটুকুন শ্রদ্ধাঞ্জলী আমার। আমি জানাতে চাই, ভীষণ ভালোবাসি আপনাকে। ভীষণ। হয়তোবা চারশো কিংবা চার হাজার পৃষ্ঠার একটা বৃহৎ বই লিখেও আমি পুরোপুরি প্রকাশ করতে পারব না কতটা ভালোবাসি আপনাকে। তাও বলি, ভালোবাসি। আপনাকে ধন্যবাদ, আমার ব্যক্তিগত শহরটা রঙিন করে তোলার জন্য।

আমরা কৃতজ্ঞ, আপনি আমাদের।"
Collected.

Photos from তেরো ফোঁড়ন's post 17/11/2022

ইকবালের মা মারা যাওয়ার পর-বাপ আবার বিয়ে করেন এবং ইকবালকে মাত্র ৮ ডলার বা ৮০০ রুপিতে একটা কার্পেট বয়ন কারখানায় বিক্রি করে দেন। ৮ ডলারে বিক্রি হয়ে যাওয়া ইকবালের বয়সও তখন মাত্র ৮।
কারখানায় শুরু হয় ইকবালের অমানবিক পরিশ্রম। প্রতি সপ্তাহে কাজ করতে হতো ১২০ ঘন্টা বা দিনে ১৭ ঘন্টারও বেশী। পালিয়ে যেন যেতে না পারে সেজন্য পায়ে লম্বা শিকল দিয়ে আটকে রাখা হতো ইকবাল সহ তার সমবয়সী অন্যান্য শিশু দাসদের।

ইকবালের বয়স যখন দশ তখন সে কার্পেট বয়ন নামক এই জেলখানা থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। কিন্তু তার দূর্ভাগ্য- পালিয়ে যাওয়ার তিনদিনের মাথায় সে আবার ধরা পড়ে এবং পুনরায় বিক্রিত হয়। এবার তার মূল্য আগের চেয়ে একটু বেড়ে হয় দশ ডলার। সপ্তাহে কাজও বাড়ে। হয় ১৪০ ঘন্টা।

কিছুদিন পর ইকবাল আবার পালায়-"স্লাম ডগ মিলিওনীয়ার" ছবির মতো-মানব পুরিষের ভিতর দিয়ে। ইকবাল এবার একটা এতিম খানায় আশ্রয় পায় এবং ইয়াতীম খানার তত্তাবধায়ক হাফেজ ইব্রাহীম তাকে স্থানীয় এক স্কুলে ভর্তি করে দেন। অসাধারণ মেধাবী ইকবাল পাঁচ বছরের প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষা দুবছরেই শেষ করে।

স্কুলে পড়াকালীন সময় ইকবাল Bonded Labour Liberation Front (BLLF) এ যোগ দেয়। যাদের কাজ হলো বিভিন্ন কারখানা থেকে শিশু দাসদের মুক্তি করা। এই সংগঠনের মাধ্যমে ইকবাল প্রায় ৩০০০ শিশুকে বিভিন্ন কারখানাকে মুক্তি বা পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করে। ১৯৯৪ সালে বোস্টনে ইকবালকে Reebok Human Rights Award এ ভূষিত করে। যেখানে ইকবাল বলে-আমেরিকা থেকে আব্রাহাম লিংকন যেমন দাসত্বকে বিলুপ্ত করেছেন- আমারও কাজ হলো পুরো পৃথিবী থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন শিশু দাসদের মুক্তির আন্দোলন করে - সব শিশুদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা। কোনো শিশু থাকবে স্কুলে আর কোনো শিশু থাকবে কারখানায় -সেটা হবেনা। প্রতি সপ্তাহে ১৪০ ঘন্টা কাজের যন্ত্রণা। যে করে- সেই শুধু বুঝে । অন্য কেউ বুঝবেনা।
১৬ বছরের সুইডিশ শিশু Greta Thunberg যেমন School strike for climate ম্যুভমেন্টের মাধ্যমে দুনিয়া কাঁপিয়ে দিয়েছে। ইকবালও তেমনি শিশু দাস মুক্তির আন্দোলন সূচনা করে।

কিন্তু ইকবালের সেই স্বপ্ন সত্যি হয়নি। শিশু দাসদের মুক্তি আন্দোলন যখন তুঙ্গে ঠিক তখনই বোস্টন থেকে লাহোরে ফিরে আসার কিছুদিন পরই -কার্পেট মাফিয়ারা ইকবালকে গুলি করে হত্যা করে। তখন তার বয়স মাত্র বারো বছর।

শিশু ইকবালের এই লিগেসিকে চির স্মরণীয় রাখার জন্য United States Labour department ২০০৯ সালে "The Iqbal Masih Award" এর সূচনা করে।

মাত্র বারো বছরের অল্প জীবনে প্রায় ৩০০০ শিশু দাসকে মুক্তির ব্যবস্থা করে - গুলি খেয়ে জীবন দেয়া এই সব হিরোদের অনেকেই চিনেননা।

১৯৯৫ সালে গুলি খেয়ে মারা যাওয়া ইকবাল বেঁচে থাকলে তাঁর বয়স আজকে ৩৬ বছর হতো। আর এই ৩৬ বছরে হয়তোবা ৩৬ লক্ষ শিশু বাধ্য শিশুশ্রমের কারাগার থেকে মুক্তি পেতো।

Hats off to you, The Little Hero। শুভ জন্মদিন।

Want your school to be the top-listed School/college in Sylhet?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Address


Jhorna 90, Jhornarpar, Eidgah Road, Kumarpara
Sylhet
3100

Opening Hours

Monday 09:00 - 16:00
Tuesday 09:00 - 16:00
Wednesday 09:00 - 16:00
Thursday 09:00 - 16:00
Sunday 09:00 - 16:00