07/11/2025
পরিবর্তনের পথিকৃৎ, নেতৃত্বের নতুন অনুপ্রেরণা: জোহরান মামদানি
.....................................................………………………
অ্যামেরিকা একটা আজব দেশ। এই দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী লোকটা একটা বদ্ধ উন্মাদ, যার মধ্যে ডিপ্লোম্যাটিক ডিসেন্সি বা ডেকোরামের লেশমাত্র নাই! এইতো কিছুদিন আগেই হোয়াইট হাউসের ক্যাবিনেট রুমে মিডিয়ার সামনে অস্ট্রেলিয়ান প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড'এর মুখের বলে দিলেন, "আই ডোন্ট লাইক ইউ, এন্ড আই প্রবাবলি নেভার উইল"!!
তার দলের এবং নিজের এপ্রোচ হচ্ছে কোনোরকম সৌজন্যতার ধার না ধেরে রিলিজিয়াস এবং কালচারাল ইন্টলারেন্সকে উস্কে দিয়ে নিজেদের মতলব হাসিল করা।
আবার সেই দেশেই, নিউ ইয়র্ক সিটির মতো একটা জায়গা যা কিনা ফাইন্যান্স, মিডিয়া, ফ্যাশন, আর্ট, ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসির গ্লোবাল হাব, তার মেয়র নির্বাচিত হয়, জোহরান মামদানির মতো ভারতীয় বংশোদ্ভূত একজন মুসলিম পোলিটিশিয়ানের যার জন্মই অ্যামেরিকাতে হয়নি!! জোহরানের জন্ম হয়েছিল ইউগান্ডায়।
এই ছেলে কিন্তু নিছক কোনো "আগুনের গোলা" না, সে একটা আস্ত আগ্নেয়গিরী!
আপনি আজকে ফেইসবুকভর্তি পোস্ট দেখবেন, "জোহরান NY এর ইতিহাসের প্রথম মুসলিম মেয়র"।
সেটাই স্বাভাবিক, যখন কোনো অভাবনীয় সাফল্যের ঘটনা ঘটে, তখন মানুষ সেই সাফল্যের সাথে নিজের অন্তর্ভুক্তির যোগসূত্র খুঁজে সেই সাফল্যের আনন্দে অংশীদার হতে চায়। অনেক ভারতীয়রাও নিশ্চই জোহরানের ইন্ডিয়ান এন্সেস্ট্রাল লিনিয়েজ এর কারণে প্রাউড ফিল করছেন।
জোহরানের মা বাবা দুজনই ভারতীয় এবং দুজনই হাইলি এস্টিমড স্কলার। বাবা মাহমুদ মামদানি লেখাপড়া করেছেন হার্ভাডে, কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে। নামকরা ইউগান্ডান একাডেমিক উনি।
মা, মীরা নায়ার বিখ্যাত ফিল্ম ডিরেক্টর যার "মনসুন ওয়েডিং", "দ্য নেইমসেক", "দ্য রিল্যাকটেন্ট ফান্ডামেন্টালিস্ট" মুভিগুলো অনেকেই দেখেছেন।
তার মানে একটা সলিড ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড জোহরানের ছিলো। ইনটেলেকচুয়াল গিফটটা ওর জিনের মধ্যেই এমবেডেড ছিলো।
ছোটবেলা থেকে জোহরানকে যারা চিনতো তারা সবাই ওর লিডারশীপের স্পার্কটা দেখতে পেয়েছিলো। জোহরানের স্কুলের প্রথম ক্রিকেট ক্লাব ওর তৈরী করা। প্যালেস্টাইনের সাপোর্টে যতগুলো স্টুডেন্ট উইং বানানো হয়েছে তার বেশিরভাগের ফাউন্ডিং মেম্বার ছিলো জোহরান।
কলেজে শেষ করেই জোহরান একজন হাউসিং কাউন্সিলর হিসেবে কাজ শুরু করেন। তার কাজ ছিলো স্বল্প আয়ের ইমিগ্রান্টরা যারা ভাড়া দিতে না পেরে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়েছেন তাদের জন্য সোশ্যাল হাউজিংয়ের ব্যবস্থা করা, সরকারী সাহায্যের বন্দোবস্ত করা। এই কাজ করতে গিয়েই জোহরান লক্ষ্য করেন যে ল্যাম্পোস্টের ঠিক নিচে যেমন অন্ধকার থাকে, তেমনি এই ঝলমলে নিউইয়র্ক শহরের অলিগলিতে প্রচুর মানুষ চরম আকারের আবাসন সমস্যায় ভুগছেন। প্রচুর হোমলেস মানুষ আছেন এই শহরে!
এই সমস্যা মোকাবেলায় ২০১৭ সালে জোহরান ডেমোক্রেটিক সৌসালিস্ট অফ অ্যামেরিকা (ডি এস এ) তে জয়েন করেন।
এরপর থেকে টানা ২০২৪ পর্যন্ত টানা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যায় নিউ ইয়র্ক সিটিকে ঘিরে তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে।
জোহরান সো কলড পলিটিশিয়ানদের মতো গৎবাঁধা গালভরা "বড় বড় রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি” বাদ দিয়ে সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের মতো বাস্তব বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। এতে সাধারণ ভোটারের সঙ্গে জোহরানের একধরনের তাৎক্ষণিক সম্পর্ক তৈরি হয়।
স্বল্পআয়ের মানুষরা অনুভব করে যে তাদের নিয়েও কেউ ভাবে।
জোহরানের যুগান্তকারী রাজনৈতিক প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে আছে, অ্যাপার্টমেন্টে রেন্ট ফ্রিজ করা, নিউইয়র্কের ভেতরে বাসের ভাড়া ফ্রী করে দেয়া , সিটি–ম্যানেজড গ্রোসারি স্টোর চালু করা, ইউনিভার্সেল চাইল্ড কেয়ারের ব্যাবস্থা করা, ২০৩০ এর মধ্যে মিনিমাম ওয়েজ ঘন্টায় ৩০ ডলারে নিয়ে আসা ইত্যাদি।
তার দুটো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হচ্ছে, নিম্ন ও মদ্ধবিত্তের জীবনযাপনের খরচ কমিয়ে আনা ও ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে স্বীকার করে নিয়ে তাদের মেইনস্ট্রিম আমেরিকান কালচারে ইনক্লুসিভ করা।
নিউ ইয়র্কের মতো শহরে বহুভাষিক ও বহু সাংস্কৃতিক ভোটারদের মধ্যে তিনি নিজের স্থান তৈরি করতে পেরেছেন তাদের সাথে একটা আত্মিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে, যা অর্ডিনারিলি রাজনীতিবিদরা সবসময় অবহেলা করেন।
এতকিছুর পরও নিউইয়র্কের এই ইলেকশনের রেজাল্ট অভুর্তপূর্ব এবং বিস্ময়কর! কারণ জোহরানের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, জ্ঞান, চামড়ার এডভ্যান্টেজ, আর্থিক সামর্থ, পেশীশক্তি অনেক অনেকগুন বেশি শক্তিশালী।
কিন্তু এতো এডভ্যান্টেজ থাকার পরও তারা জোহরানের ডিগনিটি, আত্মবিশ্বাস, হার্ডওয়ার্ক, ট্যালেন্ট, নিখাদ আন্তরিকতা আর ইউনিক এপ্রোচের কাছে মার খেয়ে গেছে!
এই ছেলের স্পিচ শুনলে আপনি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যাবেন। হিজ এনার্জী রিমাইন্ডস মি অফ দ্য গ্রেট শাহরুখ খান। একই রকম রেইজর শার্প উইট, ইন্টেলিজেন্স, উইজডম এন্ড ডিটার্মিনেশন। অজেয়কে জয় করার এক আগুনঝরা স্পৃহা!
জোহরান মামদানি একজন প্রগতিশীল প্রজন্মের প্রতিনিধি, যিনি নিউ ইয়র্ক তথা বিশ্বের রাজনীতিকে একটি অভাবনীয় ঝাঁকি দিয়েছেন। তাঁর রাজনৈতিক এপ্রোচ নতুন, অনেক বেশি বাস্তব, ইনক্লুসিভ এবং মানবিক। তাঁর রাজনৈতিক পথচলা নিঃস্বন্দেহে সহজ হবেনা। তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ চাইবেন এভরি পসিবল ওয়েতে তাকে অপদস্থ করতে। আমি সহ পৃথিবীর কোটি কোটি গুনগ্রাহীর শুভকামনা ও প্রার্থনা আছে তাঁর সাথে।
Collected.
19/11/2022
17/11/2022