25/05/2026
মহাপুরুষের কাছে আত্মসমর্পণ করিয়া মুসলমান হইতে পারিলে পরিণাম ভাল হইবে ।।
( সুরা হিজরের - ব্যাখ্যা )
'হিজর' অর্থ পাথর তথা কঠিন বস্তুবাদ। বস্তুমোহ কঠিন একটা আবরণ সৃষ্টি করিয়া মানুষের আপন রবকে আপনাতে আবৃত করিয়া রাখিয়াছে।
১. 'আল' এর উপর বড় মদ আছে। ইহাতে বুঝায় রসুলের বংশধর বা পুত্রগণ তথা সম্যক গুরুর ভক্ত পুত্রগণ সর্বযুগে এবং সর্বদেশে বিদ্যমান আছেন। সর্বজ্ঞানের একমাত্র ভাণ্ডার হইল 'আল কেতাব' অর্থাৎ বিশেষ মানব দেহ। আল কেতাবের জ্ঞানের অধিকারী রসুলের বংশধরগণই কেবল মানবদেহে লুক্কায়িত মহাজ্ঞানের পরিচয় এবং কোরানের পরিচয় স্পষ্টভাবে বহন করেন।
২+৩. উপস্থিত একজন মহাপুরুষের নিকট আত্মসমর্পণ করিলেই মুসলমান হওয়া যায়। যাহারা মহাপুরুষের সঙ্গ পাইয়া এবং তাঁহার আদর্শ বুঝিয়াও তাঁহাকে অনুসরণ করে না তাহারা কাফের। রুবা অর্থ কম অথবা বেশি। কাফেরগণের সবাই কম-বেশি মুসলমান হইতে চায়।
মহাপুরুষের কাছে আত্মসমর্পণ করিয়া মুসলমান হইতে পারিলে পরিণাম ভাল হইবে- কাফেরগণ ইহা বুঝিয়াও নানারূপ চিন্তা-ভাবনা করিয়া আত্মসমর্পণ করিতে পারিতেছে না। না পারিবার সম্ভাব্য কারণগুলি নিম্নরূপ: (ক) বিষয়বস্তু ভোগের মোহত্যাগ করিবার লক্ষ্যে ভোগের পরিবর্তে উপভোগের শিক্ষা এবং দীক্ষা গ্রহণ করিতে লোভী মন মোটেই রাজি হইতে চায় না। (খ) গুরুর মনের মহাশূন্য ভাবের অভিব্যক্তিগুলি শিষ্যের নিকট ভাল লাগে না, কারণ, তাহার মন বিষয়বস্তুর সঙ্গে শরিক থাকিয়া মোহে ডুবিয়া থাকিতে ভালবাসে। এইরূপ অনেক কারণে মনের চাঞ্চল্যকেই লোকে প্রশ্রয় দিয়া থাকে। তাই সেরাতুম মোস্তাকিমের কাজ তাহার নিকট কষ্টদায়ক। (গ) মহাপুরুষের সংস্পর্শে আসিয়া মানুষ বুঝিতে পারে যে, মহাপুরুষ হইতে চাহিলে নফসের আশা আকাঙ্ক্ষা এবং সংসারের মোহমায়া ত্যাগ করিতে হইবে। কিন্তু তাহারা অনায়াসে সেইরূপ মনোভাব অর্জন করিতে পারিবে না ভাবিয়া ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মুসলমান হইতে পারে না।
ইহাদের সম্বন্ধে গুরুর প্রতি মহাগুরুর নির্দেশ হইল যেন ইহাদিগকে ত্যাগ করা হয়। তাহাদের জন্য সময় ব্যয় করিয়া লাভ নাই, কারণ তাহারা উপভোগী নহে, ভোগী এবং সাময়িক সুযোগ-সুবিধা গ্রহণকারী, কেননা তাহারা পার্থিব আশা-আকাঙ্ক্ষায় ভুলিয়া থাকে। সুতরাং মৃত্যুকালে অচিরেই তাহাদের জীবনের পরিণাম বুঝিতে পারিবে।
৪. জ্ঞানীগণের মতে 'কারিয়াতিন' বলিতে একটি সাধক মানব অস্তিত্বকে বুঝাইয়াছে। 'কেতাবুন মা'লুমুন' বলিতে সুপরিজ্ঞাত বা বুদ্ধ একটি মানব দেহ। যে সাধকের আত্মপরিচয় সুপরিজ্ঞাত হয় অর্থাৎ 'মান আরাফা নাফসাহু' হয় তাহার কলুষিত অস্তিত্ব চিরতরে ধ্বংস করা হয়। পরিণামে সে জন্মচক্র হইতে মুক্তিলাভ করে। 'মা'লুম' অর্থ: বোধপ্রাপ্ত, বুদ্ধ, অনুভূতিপ্রাপ্ত, অনুভূত; পরিজ্ঞাত।
অথবা, প্রচলিত তফসীর অনুসারে: প্রত্যেক কাওমের জন্য সর্বযুগেই সতর্ককারী মহাপুরুষ উপস্থিত থাকেন। উপস্থিত সতর্ককারীর সতর্কতা ব্যতীত কোনও সম্প্রদায়কে তাহাদের পাপের জন্য অজ্ঞাতসারে ধ্বংস করা হয় না।
নায়েবে রসুল- ওয়ারিসুল আম্বিয়ার দাবীদার তথাকথিত আলেম সমাজ অন্ধ ও অজ্ঞ। তাই তাহারা জাতিকে বিপদ-আপদ হইতে সতর্ক ও উদ্ধার করিবার যোগ্য নেতা নহে; যদিও তাহাদের নীতি অনুসারেই দেশ ও সমাজ পরিচালিত হইয়া আসিতেছে। যাহারা প্রকৃত সতর্ককারী ও উদ্ধারকারী নেতা তাঁহারা সমাজে আপন আসন গ্রহণ করিতে পারিতেছেন না ভ্রান্ত আলেম সমাজের কারণে। প্রসঙ্গত প্রশ্ন হইতেছে, বাংলাদেশের ২৯ এপ্রিল ১৯৯১ সনের বিপর্যয় কি কোরানে উল্লিখিত সর্বকালীন এই নীতির বহির্ভূত ঘটনা? কোরান মহাসত্য। কোরানের নীতির বাহিরে কোনও ঘটনাই ঘটিতে পারে না। নেতা আমাদের অবশ্য আছেন কিন্তু তাঁহারা নির্বাসিত। সর্বকালের রসুলের বংশধরগণকে বহু পূর্ব হইতেই রাজকীয় নীতির দ্বারা পরিত্যাগ করা হইয়াছে।
৫. 'আজল' অর্থ নির্দিষ্ট সময়। কোনও কিছু সম্পাদন করিতে হইলে উহার জন্য যে নির্দিষ্ট চেষ্টা ও সময় লাগিয়া থাকে সেই সময় বা কালকে আজল বলে। ভালমন্দ যাহাই হউক তাহা অর্জনের জন্য যে নির্দিষ্ট সময় ও পরিশ্রম প্রয়োজন তাহাই আজল। আজল এড়াইয়া যাওয়া যায় না। এইরূপে শুদ্ধিক্রিয়া দ্বারা দেহের বন্ধন হইতে মুক্তিলাভ করিতে চাহিলেও যে আজল অতিক্রম করিতে হইবে তাহার জন্য ধৈর্য্য অবলম্বন করিতেই হইবে।
'প্রত্যেক উম্মতের আজল' অর্থাৎ প্রত্যেক শ্রেণীর জীবজগতের জন্য আজল রহিয়াছে। যে দল যাহাই হইতে চায় অথবা যে পর্যায় অর্জন করিতে চায় সেই পর্যায়ভুক্ত হইতে একটা সময়কাল অবশ্যই সেই জাতিকে অতিক্রম করিয়া আসিতে হইবে। ইহা জীবজগতে বিবর্তনের বিধান।
#কোরান_দর্শন
সুরা হিজরের - ব্যাখ্যা ( বাক্য নং ১ থেকে ৫ )
মহান মাওলা সদর উদ্দিন আহমদ চিশতী ( আঃ )
19/04/2026
05/03/2026
09/02/2026