06/05/2025
Govt. Begum Nurunnahar Tarkabagish Honours College
Tell people more about your page (255 character maximum) সরকারি বেগম নূরুণ নাহার তর্কবাগীশ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ
06/05/2025
23/04/2022
নীল রক্ত
পর্ব ০৯
লেখক নীল মাহামুদ
রিতুর রক্ত দিয়ে অভিশাপ মুক্ত হবে রিভার্স, এই কথা রিতু চমকে যায়,
ঘুম ভেঙে যায় রিতুর নিজেকে মেঝেতে আবিষ্কার করে,
চার দিক তাকিয়ে দেখে এটা নীলের বাসা অজ্ঞান হয়ে ছিলো, মানে এটাও স্বপ্ন ছিলো কিন্ত এখন রিতু পড়ে গেলো
বিপাকে কোন টা স্বপ্ন কোন টা বাস্তব
বুঝার উপায় নাই,এই দিকে পাঠক পাঠিকাদের মাথা গরম কারণ গল্প টা পড়ে কিছুই বুঝছে না মাথা আউলা ঝাউলা হয়ে গেছে,
কিন্ত চিন্তা করবেন না গল্প গুছিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব আমার,
রিতুর ভাবলো এখন এটা স্বপ্ন নাকি বাস্তব সেটা নির্ধারণ করবে কি ভাবে,
তখন রিতুর একটা মুভির কথা মনে পড়লো স্বপ্নে চিমটি দিলে নাকি ব্যথা পাওয়া যায় না,
তাই এক হাত দিয়ে আরেক হাতে চিমটি দিলো অনেক জোরে, ব্যথায় নিজেই উফফ বলে উঠলো তার মানে বাস্তবে আছে,,
ফ্লোর থেকে নিজে কে উঠায় রিতু,হঠাৎ মনে পড়ে মেয়ে দুটো কার ছিলো আর কে?
দিন যতই যাচ্ছে একটার একটা ঝামেলা দেখা দিচ্ছে,
এর একটা বিহিত করা দরকার,
কিন্ত নীল কে নিয়ে যে বসবে কথা গুলো বলবে কিন্ত নীলের সামনে গেলে
কিছুই মনে থাকে না,
আর নীল কে রহস্যময় ছেলে মনে হয়,
নিজে পুলিশ বলেই কি এমন হচ্ছে কারণ পুলিশের মন তো সন্দেহের মন মানুষ দেখলেই মনে হয় ও মনে হয় অপরাধী,,,,,
রিতু ভাবলো চাকরি টা মনে হয় ছেড়ে দেওয়া দরকার কিন্ত কিছু প্রশ্নের উত্তর দরকার মেয়ে দুইটা কে আর নীলের শরীরে কেনো নীল রক্ত, আর নীলের দাদু কই,
নীল হসপিটাল থেকে বাসায় ফিরলো
আর রিতু পুলিশের চাকরি ছেড়ে নীলের বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করতে লাগলো,
আর নীলের দিকে নজর রাখছে নীল কোথায় যায় কি করে,
নতুন কলেজ নীলের প্রতিদিন রিতু গাড়ি করে নীল কে কলেজে ছেড়ে যায়,
নীল তখন ক্লাসে বসে খাতায় কিছু লিখছিলো,
এমন কলেজের ফাস্ট গার্ল গুন্ডি মেয়ে
ফারিয়া এসে নীলের খাতার উপর থাবা
দেয়,
নীল- কি চাই?
ফারিয়া - তোমাকে চাই?i Love you?
নীল- আমি বিবাহিত.
ফারিয়া- হিহিহিহি।
-আমার কথা শুনে হাসলেন কেনো।
--হাসি পাওয়ার মতো কথা বললে না হেসে কি কান্না করবো,
-যা সত্যি আমি তাই বলছি।
-সত্যির খেতা পুড়ি,কাল থেকে আমার সাথে প্রেম করবে এটাই ফাইনাল না হলে তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করবো,
নীল আবার বিয়ের কথা শুনে বোতলের সিপি টা খোলে ঢকঢক করে এক বোতল পানি খেয়ে ফেলে তার বলে,,
--এই সব কি বলেন।
--বেশি কথা বলবি না,তোকে খুব ভালবাসি,
বলে চলে গেলো,
ফারিয়া দেখতে আসমানের নীল পরীর মতো দেখতে সুন্দরী, কিন্ত একটু চঞ্চল, একটু বললে ভুল হবে অনেক,
ফারিয়ার বাবা উপজেলার চেয়ারম্যান তাই হয়তো এত পাওয়ার দেখায়,
একটা ছেলে এসে বলল,আরে নীল তোর কপাল তো খোলে গেলো,
ফারিয়ার মতো মেয়ে তোকে প্রপোজ করে গেলো,
কিন্ত নীল কারো কথায় কান না দিয়ে কলেজ থেকে বের হয়ে যায়,
ব্যাগ গুছিয়ে নিয়ে,
নীল ২টা ক্লাস বাদ দিয়ে বাসায় চলে যায়,
বিকেলে নীল বসে টিভি দেখছিলো,
এমন সময় অফিস থেকে ফিরে এসে বলল,
রিতু- তুমি ২টা ক্লাস করনি কেনো।
নীল- আপনাকে কে বলল,
রিতু- কলেজ থেকে মেসেজ আসছে ২টা ক্লাস করনি কেনো,
নীল- এমনি ভালো লাগেনি তাই চলে আসছি,
রিতু- আচ্ছা, কাল থেকে পুরা ক্লাস করবা,
নীল- হুম।
রিতু- দুপুরে খাইছো,
নীল- হুম,
রিতু- আচ্ছা টিভি দেখো তাহলে,
রিতু ড্রেস চেন্স করে এসে দেখে নীল টিভিতে ইমরান হাশমির সেই পুরোনো আশিক বানাইয়া গান টা মনোযোগ দিয়ে দেখছে,
রিতু তা দরজার আড়াল থেকে দেখছে
রিতু মানা করলো না,কারণ দেখে কিছু শিখুক,
কিন্ত রিতুর হাতে থাকা ফোন বেজে উঠে আর নীল ফোনের শব্দ শুনে
চ্যানেল পাল্টে দেয়,
পরেরদিন নীল কলেজে যাবে রিতু খেওয়াল করলো নীলের চোখ দুটো কেমন জানি নীল নীল লাগছে,
রিতু প্রতিদিনের মতো নীল কলেজে নামিয়ে অফিস চলে যায়,
নীল ক্লাসে যাবে এমন সময় ফারিয়া নীলের পথ আটকে দাঁড়ায়,
--কি জানু কি ভেবে চিন্তে দেখলা,আমাকে ভালবাসবা তো,
নীল নিচের দিকে তাকিয়ে আছে কিন্ত ফারিয়া আবার গাঁয়ে হাত দিয়ে জিজ্ঞেস করে আমাকে ভালবাসবে বলো নীল,
আমি মজা করছি না নীল,আমি যেদিন তোমাকে প্রথম দেখি সেদিনি তোমার প্রেমে পড়ে গেছি,
নীল- আমি বলছি, আমি বিবাহিত আমাকে যে প্রতিদিন নামিয়ে দিয়ে যায় উনি আমার ওয়াইফ,
ফারিয়া - তুমি ১০টা বিয়ে করলে আমার কোন আপত্তি নাই,আমি শুধু তোমাকে চাই,
ফারিয়া এরকম করে কোন দিন কারো কাছে রিকুয়েষ্ট করিনি যতটা না নীল কে করছে,
নীলের চোখ দুটো পুরো নীল হয়ে গেছে,।।
নীল- আমার জন্য তুমি কি করতে পারবে,
ফারিয়া- তুমি যা বলবে আমি তাই করবো,
নীল কলেজের ছাদ টা আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বলল ঐ খান থেকে লাফ দিতে পারবে,
।
ফারিয়া - তুমি বললে আমি অবশ্যই পারবো,,,
নীল- চল ছাদে যাই লাফ দিবে,
নীলের কথা শুনে ফারিয়া চলল ছাদে,
নীল বলল এবার লাফ দেও,
ফারিয়া আস্তে আস্তে রেলিঙের কাছে গেলো নিচে তাকাতেই বুক টা কেঁপে উঠে,
ফারিয়া - আমি লাফ দিতে পারবো না,আমি চললাম আমার ভালবাসা লাগবে না,,,
নীল ফারিয়ার চুলের মুটি টা ধরে বলল,আমার যে খুনের নেশা উঠছে এটা থামাবে কে চল তোকে মরতেই
হবে,
নীল টানতে টানতে ফারিয়াকে ছাদ থেকে ফেলে দিলো,,
৫তলা থেকে ফারিয়াকে ফেলে দেওয়া হল,ফারিয়ার এক সাইড থেতলে গেছে রক্ত ভেসে গেছে,পুরো কলেজ ধমকে গেছে ক্লাস থেকে সব স্টুডেন্ট স্যার বের হয়ে আসছে,
19/04/2022
নীল রক্ত
পর্ব ০৮
লেখক নীল মাহামুদ
রিতু ডায়েরি দেখে অবাক এটা তো ২০২১ নয় ২০২০ সাল ২১ মে,
তাহলে বিয়ে নীল এই সব সব সপ্ন ছিলো,
কিন্ত গতকাল এর কথা মনে নাই কেনো,
মনে হচ্ছে এই সব আমার সাথে
বাস্তবেই হয়েছে,
রিতু চোখ বুঝে পুরনো কথা মনে করার
চেস্টা করলো কিন্ত পারলো না,
রিতুর একটা অভ্যাস ছিলো ডায়েরি লিখার সারাদিন যা করতো রাতে
তা লিখে রাখতো,
এই অভ্যাস টা হয় কলেজে থাকতে
রিতুর হাতের লিখা ছিলো খুব বাজে,
একদিন স্যার রিতু কে ধমক দিয়ে বলেছিলো কাল থেকে হাতের লিখার খাতা নিয়ে আসবা আর লিখে আমাকে দেখাবা,
কলেজে গিয়ে যদি হাতের লিখার খাতা দেখাতে হয় তাহলে কি আর মান সম্মান থাকে,
তখন রিতুর প্রিয় আলিম স্যার টিপস দেয় যে তুমি সারাদিন যা করবে তা রাতে ডায়েরিতে লিখে রাখবে,
এতে তোমার হাতের লিখাও ভালো হবে আর তোমার সুখ-দুঃখ হাসি কান্নার স্মৃতি ডায়েরির পাতায় গাথা থাকলো,
সেই থেকে ডায়েরি লিখা শুরু রিতুর তাই তো সেটার ফল আজ পাচ্ছে,
রিতু ডায়েরি টা নিয়ে বিছানায় হেলান দিয়ে বসে পড়া শুরু করলো,
টানা ৫ ঘন্টা পড়ার পর রিতুর অতীত কিছুটা মনে আসলো বলতে,,,, ভালোই মনে পড়ে পড়ে এমন,
রিতু বর্তমানে একজন জেলারের দায়িত্বে কর্মরত আছে কিন্ত অস্থায়ী।
কিছুদিন পরই পোস্টিং,..........থানায়।
২দিন পর বাসা থেকে বের হল রিতু ডিউটিতে যাওয়ার জন্য,
ঐদিকে জেল থেকে আসামী পালিয়েছে সেটাও ধরতে হবে দুদিন ডিউটি করিনি তার জন্য জবাবদিহি করতে হবে,
রিতু ভেবে দেখলো যদি আসামি ধরতে পারি তাহলে হয়তো স্যারের জারি শুনতে হবে না,
তাই ইবু স্যার কে নিয়ে আর কনস্টেবল
খালেক ভাই কে নিয়ে সিভিল বেশে বের হলাম,
রাত হলে যেমন অন্ধকার নেমে আসে তেমনি রিভার্স ক্লাবে রাত হলেই অপরাধীরা এক জায়গায় ঝড়ো হয়,
কিন্ত দূর্ভাগ্যবশত সেখানে পুলিশ ঢুকতে পারে না যদি জানতে আমরা পুলিশ তাহলে শেষ,
একবার রিভার্স ক্লাবে অপারেশন আসছিলো কিছু সাহসী অফিসার কিন্ত বের হয় লাশ হয়ে,
রিভার্স একজন মানুষের নাম, রিভার্স এর নাম শুনলে বড় বড় লিডারদের গলা শুকিয়ে যায়,
রিতু কালো জিন্স পড়ে গায়ে কালো শার্ট আর চোখে কালো চশমা,
একদম ম্যাচিং করা,
রিভার্স ক্লাবের সামনে সেই খাবার হোটেল যেটাতে স্বপ্নে এসেছিলো রিতু,
ক্লাবের ভিতর রিতুর বিশ্বস্ত সোর্স আছে যার ইনফরমেশন কখনো ভুল হয় না,
তার কাছে এসেছে দেখা করতে,
এমন সময় ইবু স্যার বলল,রিতু তুমি হোটেলে গিয়ে বসো আমি আর খালেক ভাই ভিতর থেকে আসি,
রিতু মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলল,
রিতু খাবার হোটেলের ভিতর ঢুকতেই বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো,
রেস্তোরাঁর মালিক সেই আছে যে স্বপ্নে ছিলো কিন্ত সে আড় চোখে তাকাচ্ছে।
ভুনা খিচুড়ির ঘ্রান আসছে বাবুর্জি কি আগে থেকেই জানতো বৃষ্টি হবে,
রিতু চেয়ারে বসতেই বিদ্যুৎ চলে গেলো মনে অনেক ভয় কাজ করছে স্বপ্ন কি সত্যি হবে নাকি,
অন্ধকারে কেউ এসে হাত চেপে ধরে রিতু চিৎকার দিয়ে উঠে,
রিতুর মন বলে এই বুঝি আমি শেষ কিন্ত যে হাত টি ধরেছে সে এই রেস্তোরাঁয় কাজ করে টেবিল চেয়ার এই সব পরিষ্কার করে পিচ্ছি ছেলে,ছেলেটি চেচিয়ে বলে,
--আপা আপা আমি আমি ভয় পাইবেন না,
বলেই মোমবাতি জ্বালিয়ে দেয় কিন্ত মোমবাতি জ্বালানোর পরেও ছেলেটি কে দেখা যাচ্ছে না শুধু দাঁত সাদা বালির মতো চিকচিক করছে কারণ ছেলেটি কালো কুচকুচে ছিলো,
ছেলেটি ছিলো বেজায় দুষ্টু দাঁত বের করে হাসি দিয়ে বলল আফা এত ডরাইন কেন,বলে চলে গেলো।
রিতুর ভয়ে গলা শুকিয়ে গেছে কিন্ত খালেক ভাই আর ইবু স্যার আসছে না কেনো,
যে অপরাধী পালিয়েছে তাকে রিতু কোন দিন দেখেনি, শুধু খালেক ভাই ছাড়া কিন্ত অবাক করা কথা হল ৪ বছর ধরে কারাগারে কিন্ত আজ পর্যন্ত নাকি কেউ দেখা করতে আসেনি,
আর সব সময় নাকি নিজেকে কালো চাদরে ঢেকে রাখতো,
রিতু বসে আছে এদিক সেদিক তাকিয়ে দেখছে কিন্ত হঠাৎ কাটা চামচ এর শব্দ,
শব্দ শুনা যাচ্ছে কিন্ত মানুষ দেখা যাচ্ছে না,
হঠাৎ নীল আলোয় ভরে যায় হোটেল কেউ একজন বসে আছে কিন্ত তার মুখ দেখা যাচ্ছে না,
রিতুর মনে হলো নীল হয়তো আশেপাশে আছে,
কালো চাদরে ঢাকা লোক টি উঠে রিতুর দিকে আসছে,
এইদিকে ইবু আর খালেক ভাই হোটেলের দরজায়,
খালেক ভাই দেখেই এই তো আসামি ম্যাডাম ধরেন অকে,
হোটেল মালিক খালেক ভাই কে ডেকে বলল উনি কে জানেন রিভার্স,
খালেক ভাই থমকে দাঁড়ায় রিভার্স রিতুর সামনে যায়,
রিতু ভয়ে জড়ো হয়ে আছে,
রিভার্স রিতুর সামনে গিয়ে তাকিয়ে থাকে কিচ্ছুক্ষণ,
রিতুর কাছে চোখ দুটো চেনাচেনা লাগছে,
ইবু পিস্তল বের করে গুলি চালাবে এমন সময় রিভার্স মুখ থেকে কালো চাদর ফেলে দেয়,
রিতু দেখেই অজ্ঞান পড়ে যাবে তখন
রিভার্স রিতু কে কোলে নেয়,
আর হাত উঁচু করে হোটেল মালিক কে ইশারা দেয়, মোম নিভিয়ে ফেলতে।
হোটেল মালিক তাই করে ১০সেকেন্ড পর বিদ্যুৎ আসে কিন্ত রিভার্স আর রিতু নেই, ইবু পিস্তল তাক করে দাঁড়িয়ে আছে,
ইবু আর খালেকের কাছে সব স্বপ্নের
মতো লাগছে,
অনেক খোঁজাখুঁজি করে হতাশ হয়ে দুজনেই চলে যায় আর জানাজানি দুজনের ক্ষতি হবে,
এই দিকে রিতুর জ্ঞান ফিরে চোখ মেলে তাকিয়ে দেখে সব নীল, চোখ বন্ধ করে আবার খোলে কিন্ত সব নীল।
এদিক সেদিক তাকিয়ে দেখে মনে হচ্ছে এটি একটি পাহাড়ের গুহা,
সূর্যের আলো টাও নীল মনে হচ্ছে গুহা থেকে বের হয় চার দিকে তাকিয়ে দেখে সব নীল গাছ-পালা,পাহাড়, পানি,রিতুর মনে হচ্ছে সে নীলদেশে আছে কিন্ত এমন দেশ কোথাও আছে জানা ছিলো না,,,
কিন্ত এই নীলের মধ্যে একজন দাঁড়িয়ে আছে কালো কুচকুচে মানুষ রিতুর বুঝতে বাকি রইলো না উনি রেস্তোরাঁয় ছিলেন,
তার পাশে বসে আছে একটি শিয়াল ,,
কালো লোকটি কিছু বলছে আর শিয়াল টি তা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছে,
রিতু দাঁড়িয়েই আছে কিছুক্ষণ পর শিয়াল এসে বলল,আপনাকে কেনো ধরে আনা হয়েছে জানেন,
রিতু শিয়ালের কথা শুনে অবাক,
এখন শিয়াল কে আপনি বলবে না তুমি বলবে ভেবে পাচ্ছে না,
আর শিয়াল টি দুপায়ে ভর দিয়ে হাটে
কি অবাক কান্ড,
রিতু- কি রে শেয়াল তুই কথা বলতে পারিস কেমনে?
শিয়াল কে শিয়াল আর তুই বলাতে প্রচন্ড রেগে যায়,,৷
শিয়াল হুংকার ছেড়ে বলে, এই শহরের কিং আমাকে তুই বলে আর আপনি সামান্য পুচকি মেয়ে আমাকে তুই বলেন,আর আমাকে শেয়াল বলেন কেন,আমার নাম রিচি,
রিচি-আপনাকে ধরে আনা হয়ে হয়েছে তার কারণ হল আমাদের মহারাজ আপনার রক্ত মাথায় ঢেলে অভিশাপ মুক্ত হবে.......?
15/04/2022
নীল রক্ত
লেখকঃ নীল মাহামুদ
পর্ব ৭
রিতু এসে দেখলো পিচ্ছি মেয়েটি গায়েব আর সেই অদ্ভুত ডক্টরটিও নেই,
নীল সুস্থ হয়ে বসে আছে বেডে কি অদ্ভুত ব্যাপার,
রিতুর মনে হচ্ছে আমি কি ভুল দেখছি
এতক্ষণ, নাকি টাইম ট্রাবল করছি,
কোন টা কিছুই বুঝতে পারছি না,
রিতু ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে নিরব
দর্শকের মতো বসে আছে,
কিছু বলছে না,
অবুঝ শিশুর মতো বসে আছে রিতু মুখে কোন কথা নাই,
নীল আবার শুয়ে পড়লো।
রিতু নীলের দিকে তাকিয়ে আছে
কি কিউট ছেলে,
নীল কে দেখেই যে কোন মেয়ে
ক্রাশ খাবে সেখানে রিতু তো,,,,,,,?
নীলের চুল গুলো ফ্যানের বাতাসে উড়ছে,
রিতুর ইচ্ছে করছে নীলের চুল একটু স্পর্শ করতে,
কিন্ত কি ভাবে চুল গুলো ধরবে,
এমন সময় নীল বলল,যদি কিছু মনে না করেন একটা কথা বলি,
রিতু- হুম বলো,
নীল- আমার খুব মাথা ব্যথা করছে একটু হাত বুলিয়ে দিবেন,
রিতু- মনে মনে এই তো সুযোগ,
রিতু দেড়ি না করে মাথার কাছে বসে
নীলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো,
নীল মাঝে চোখ বুঝে আবার খোলে ঘুম ঘুম ভাব,
একটু পর নীল ঘুমিয়েই পড়লো,।
রিতু নীল কে রেখে হসপিটাল থেকে
বের হল,
বের হয়ে মনে হল রিতু কোন মায়াজাল থেকে বের হল,
হঠাৎ মনে হল রিতুর, নীলের কি হয়েছে
শরীরে তো এখন কোন ক্ষত নেই,
রিতুর মনে অনেক প্রশ্ন কিন্ত নীলের কাছে গেলে সব ভুলে যায়,
এই সব আর কিছুই মনে থাকে না,
রিতু রেগে আগুন হয়ে বাসার দিকে গেলো,
ফ্রেশ হয়ে ঠাস করে বিছানায় শুয়ে পড়লো,
রিতুর কাছে রুম টা কেমন নীল মন্র হচ্ছে, মনে হচ্ছে রুমের ভিতর নীল লাইট লাগানো,
রিতু পিঠের উপর ভর দিয়ে মাথা তুলে তাকালো দেয়ালের এক পাশ থেকে
নীল আলো আসছে,
রিতু দেখার জন্য লাফিয়ে উঠে বিছানা থেকে,
আসতে আসতে দেওয়ালের আলোর দিকে এক পা দু পা করে এগিয়ে যায়,
নীল আলোতে রুম টা ঝলমল করছে,
ঠিক নীল দরজার কাছে গিয়ে রিতু অজ্ঞান হয়ে যায় মানে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে,
যখন রিতুর জ্ঞান ফিরে তখন চোখ খোলে তার বাবা মা কে দেখতে পায়,
সবাই খাটের চার পাশে দাঁড়িয়ে আছে আর রিতু খাটে শুয়ে আছে,
কেমন সব উল্টপাল্ট লাগছে,
এটা তো নীলের ঘর বলে মনে হচ্ছে না
তাহলে আমি কই,
রিতু ভালো করে চোখ মেলে তাকিয়ে দেখলো,
এটা তো রিতুদের নিজেদের বাড়ি রিতুর নিজের রুম,
দাঁড়িয়ে আছে বাবা মা বাড়ির কাজের লোক রহিমা খালা আর করিম চাচা
কিন্ত নীল নেই কোথাও,
রিতু মা কে ডেকে বলল,মা নীল কোথাই নীল কে তো দেখছি না,
রিতুর মা বাবা তখন রিতুর দিকে তাকিয়ে আছে,
রিতু মা কিছু বলবে তখন রিতুর ফোনের রিংটোন টা চেঁচিয়ে উঠলো,
ফোনের দিক তাকিয়ে দেখলো কনস্টেবল খালেক ভাই লিখা, রিতু ভাবলো এটা আবার কার নাম্বার
রিতু অবাকই হলো অচেনা অজানা একটা নাম্বার তাও সেভ করা
কিন্ত খালেক ভাই টা আবার কে?
রিসিভ করবে কি করবে না ভাবতে ভাবতে রিসিভ করে ফেলে,
রিতু কল টা রিসিভ করে কানে ফোন টা চেপে ধরলো,
রিতু- হ্যালো খালেক ভাই,
-- ম্যাডাম আপনি কোথায়?
--কেনো?আমি বাসায়।( অসংকোচ ভাব নিয়ে)
--ম্যাডাম ১০ নাম্বার স্যালের আসামি তো পালিয়েছে,
--কি......(অবাক হয়ে)দশ নাম্বার সেলের আসামি পালিয়েছে তাই আমার কি?
-কি বলেন ম্যাডাম, আপনার ডিউটির সময় পালিয়েছে আর আপনি বলছেন আপনার কি?
-বড় স্যারের কাছে তো আপনার জবাবদিহি করতে হবে তখন কি বলবেন,
রিতু কথার আগামাথা কিছুই বুঝলো বিরক্ত হয়ে ফোন টা কেটে দিলো,
রিতু ঘড়ির দিকে তাকালো দেখে বেলা ১১টা বাজে,
বিছানা থেকে উঠে ফ্রেশ হলো আগে, তারপর রিতুর মা কে জিজ্ঞেস করলো,
মা আমি কত ঘন্টা অজ্ঞান ছিলাম,
আর নীল কোথাই দেখছি না যে নাকি হসপিটাল থেকে রিলিজ পায়নি,
মা তখন মনে রান্না করে কিছু রান্না করছিলো,
কিন্ত এই সব বলাতে মা গরম খুন্তি নিয়ে তেড়ে এসে বলল তুই এখান থেকে যাবি নাকি,
এমন রাগ দেখিয়ে বলল মনে আমি আম্মার কাছে গুপ্তধনের সন্ধান চাইছি।
আমি নিজেও বুঝলাম না এমন করলো কেন,
এত কস্ট করে পুলিশ হয়ে যদি জারিই খেতে হয় তাহলে লাভ কি আমার,
তখন পিচ্ছি ভাইটার কাছে গেলাম বাবার কাছে যেতে সাহস পাইলাম না কারণ যদি উনিও জারি দেয়,
তাই পিচ্ছি ভাই এর কাছে গেলাম পিচ্ছি বলতে ক্লাস ১০ পড়ে,
গিয়ে বললাম এই রিয়াদ তোর দুলাভাই আসছিলো কি?
উমা রিয়াদও চিল্লাইয়া উঠলো মা মা বলে আর বলল তোমার মেয়ের মাথা
গেছে,
কিন্ত আমি কিছুই বুঝলাম না,
একে একে সবার জারি খেয়ে রুমে এসে টিভি দেখতে লাগলাম দুপুর গড়িয়ে সন্ধা, আর সন্ধ্যা শেষ হয়ে রাত,
কিন্ত আমি কিছু বুঝলাম না,
সবাই এমন করছে কেনো,
রাত ১০টায় সবাই কে ডেকে বললাম তোমরা সারাদিন আমার সাথে এমন করছো কেনো,
সবাই শুধু জারি দেয়,আমি জিজ্ঞেস করছি নীল কোথায়, এমন ভাব করছো মনে হয় নীল কে চিনিই না,
ও যে তোমাদের মেয়ের জামাই তা তোমরা মনেই করছো না,
রাগ দেখিয়ে বলল কথা গুলো রিতু,
মা- তুই আমাদের সাথে ফাইজলামি শুরু করছিস,
রিতু- আমি করছি?
মা- হুম তা না হলে আমরা? এটা বলবি তো নীল টা কে?
রিতু মুখে অবাক করা হাসি এনে,মা তোমরা নীল কে চিনো না,যার সাথে আমার বিয়ে দিলে?
বাবা- রিতু তোর কি মাথা ঠিক আছে তুই কি বলছিস,আমরা তোর বিয়ে দিলাম কবে,তোকে বিয়ের কথা কথা বলতে বলতে আমাদের গলা শুকিয়ে গেছে আর তুই বলছিস,
রিতু তখন বড় ধরেন একটা সর্ট খেলো,
দৌড়ে গিয়ে রিতুর প্রতিনের লিখা ডায়েরি টা খোলে দেখলো,
আর যা দেখলো তা অবাক করার চাইতে বেশি কিছু,,,,,,,,
গতকালের ডেট দেওয়া দেখে তো আমার হাতের লিখা মনে হচ্ছে মিলিয়ে নিলাম হ্যাঁ এটা আমি কিন্ত তাহলে কি নীল নামে কেউ নেই তাহলে যার সাথে বিয়ে হল সে কে?
আর খালেক ভাই টা কে, কি হচ্ছে আমার সাথে কিছুই বুঝছি না,,,,,,
বিঃদ্রঃ আগেই বলছি সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থী আমি,আমি খুব ব্যস্ত রাতে ছাড়া ফোন হাতেই নিতে পারি না ব্যস্ততার জন্য,খুব তারাতাড়ি কাজ শেষ হয়ে যাবে, অনেকই অনেক কথা বলছেন ভালো,খারাপ,হাস্যকর, অনেকে বাজে কথা বলে, সে গুলো নাই বললাম আসলে ব্যবহারে বংশের পরিচয়,
আর আমার ব্যবস্থা সারাজীবন থাকবে না,
(চলবে)
08/04/2022
নীল রক্ত
লেখকঃ নীল মাহামুদ
পর্ব ৬
নীল পালিয়েছে রিতুর মাথা ঠিক নেই,
কারণ নীল এমন ছেলে তা রিতু কল্পনাও করতে পারে নাই,
রিতুর লাইফটাই বরবাদ হয়ে গেলো বলতে মানুষ বলবে দেখো এই মেয়ের আগে একটি বিয়ে হয়েছিলো,
কিন্ত রিতুর মনে জেদ চাপলো নীল কে তা জেনে ছাড়বে,
তাই নীলের বাড়ি চলল সেখান থেকে সব কিছু গুছিয়ে নিজের বাবার বাড়ি যাবে সেখানে ২দিন থেকে থানার কাছে একটা বাসা নিবে,
নীলের বাসায় গেলো কিন্ত দরজা টা খোলা যেখানে রিতু তালা ঝুলিয়ে গিয়েছিল,
রিতু আস্তে করে ভিতরে ঢুকলো এদিক সেদিক তাকিয়ে দেখলো তারপর শোবার ঘরে গেলো দেখলো নীল শুয়ে আছে,
নীল কে দেখে রিতু অবাক হয়ে গেলো তারপর নীল কে ডাকলো।
-এই এই নীল এই নীল।
-হ্যাঁ হ্যাঁ কে কে? (ভয় পেয়ে)
নীল চোখ খোলে তাকিয়ে দেখলো রিতু
-ওহ আপনি।
-হুম আমি কিন্ত তুমি থানা থেকে পালিয়েছো কেনো।
-এই আপনাকে কে বলল, আমি থানা থেকে পালিয়েছি,
-আমি নিজে থানায় গিয়েছিলাম,
-আপনি ভালো করে জানেন, আমাকে ছেড়ে দিয়েছে,
রিতু থানায় ফোন দিলো ওসি কে আর নীলের নাম বললেন, ওসি বলল নীল কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে,
রিতু যেনো দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে বাঁচলো,
বাসায় দাদু না থাকায় নীল জিজ্ঞেস করলো,
নীল-আচ্ছা দাদু কই?
রিতুর চোখ গুলো তখন বড় বড় হয়ে গেলো এখন নীল কে কি উত্তর দিবে,
রিতু-......... চুপ।
নীল- কি হল বলছেন না কেনো দাদু কই?
রিতু-....... চুপ করেই আছে?
নীল- দাদু কই? কথা কানে যাচ্ছে না?(ধমক দিয়ে)
রিতু- চমকে যায় নীলের ধমক খেয়ে।
রিতু-আসলে দাদু কে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না,তোমাকে যেদিন জেলে যাও তারপর দিন থেকে,
নীল- কি? দাদু কে পাওয়া যাচ্ছে না,
রিতু - হুম।
নীল- আমাকে বলেন নাই কেনো,
রিতু- এখন রিতু পড়ে যায় বিপাকে কি বলবে,তাই রিতু বলল,
রিতু- বলি নাই এটা আমার ভুল হয়েছে,
নীল- ভুল হয়েছে নাকি আমার দাদু কে খুন করে গুম করে ফেলছেন,
রিতু- কি সব বাজে কথা বলছো আমি কেনো খুন করতে যাবো,
নীল- সম্পত্তির লোভে?
রিতু- হোয়াট?
নীল- ইয়েস বিকস,আমি জেলে দাদু গুম এই বিশাল সম্পত্তির মালিক কে থাকে তাহলে? ইউ?
তারপর আপনার পছন্দ মতো কোন ছেলে কে বিয়ে,
নীলের কথা ধরতে গেলে সত্যি,
রিতু- নীল দেখো আমি এমন টা করি নাই, তুমি আমাকে ভুল বুঝছো,
নীল- না, আমি ভুল বুঝছি না,আপনি চাইলেই আমাকে জেল থেকে বের করতে পারতেন,
কিন্ত আপনি তা করেন নাই,
নিজের ক্ষমতায় জেল থেকে বের হয়েছি,আর রাতের মধ্যে আমার দাদু কে চাই না হলে মামলা করতে বাধ্য হবো,
রিতু নীল যা মনে করেছিলো নীল তেমন না,আর নীল কে বলতেও পারছে ন,যে আমি তোমাকে সন্দেহ করেছিলাম
তুমি এই তুমি সেই,
তাহলে আরো বিপদে পড়ে যাবে রিতু,
উপায় না বুঝে রিতু মাথা ঘুরে পড়ে গেলো কিন্ত এটা একটা রিতুর অভিনয় ছিলো,যাতে নীলের কাছে কোন কৈফিয়ত না দিতে হয়,
নীল রিতু কে ধরে বেডে শুইয়ে দিয়ে কালো লম্বা চাদর মুরি দিয়ে বের হলো রিতু তখন আড় চোখে সব দেখছিলো,
সব থেকে বড় একটা আশ্চর্য কথা হল রুমের ভিতর একটা গোপন কক্ষ আছে যা রিতু জানে না কিন্ত আজ তা জানতে পেরেছে,
রিতু মনে মনে ঠিক করলো নীল একবার বের হোক তারপর দেখা যাক,
নীল বের হওয়ার সাথে সাথে রিতু উঠে দরজা লক করে গোপন কক্ষে যেতে চায় কিন্ত সেখানে কোন দরজা বা যাওয়ার কোন রাস্তা খোঁজে পেলো না,
কিন্ত কিছুক্ষণ আগেই দিব্যি দরজা দেখতে পেলো,
এখন রিতুর মাথা সত্যি সত্যি ঘুরছে,
ভেবে কিছু পাচ্ছে না থো মেরে বসে আছে রিতু,
দুপুর গড়িয়ে রাত হয়ে গেলো কিন্ত নীলের কোন খবর নেই,
রিতু এটা বুঝে গেছে নীল কোন সাধারণ মানুষ না,
রাত ১১টা ১৯ মিনিটে একটা কল আসে নীলের বিপদ,হসপিটালে আছে নীল।
অজানা এক অনুভূতির টানে রিতু ছোটে গেলো হসপিটালে সেখানে গিয়ে অবাক কান্ড পিচ্ছি একটা মেয়ে নীল কে রক্ত দিচ্ছে সব চেয়ে অবাক করা কথা হল মেয়েটির রক্তও নীল,
পিচ্ছি মেয়েটির বয়স আনুমানিক ৫-৬ বছর,
আর যিনি ডক্টর মনে হচ্ছে না উনি এই হসপিটালের দেখতে কেমন জানি ইয়া বড় বড় গোঁফ,
হঠাৎ একটা ব্যাগ চোখে পড়লো মনে হচ্ছে বাঘের চামড়া দিয়ে বানানো,
নার্স গুলো কোন কথা বলছে না হা করে তাকিয়ে আছে,
নীলের শরীরে যে রক্ত যাচ্ছে মনে হচ্ছে নীল রং যাচ্ছে,
রক্তের ব্যাগ দেখে মনে হচ্ছে নীল রং এর ডিব্বা ঝুলিয়ে রাখছে,
রক্ত দেওয়া শেষ হল, নীলের শরীরে
রিতু কিছু বলতে যাবে।
ডাক্তার বলল হুসসস চুপ।
নীলের শরীরে জায়গায় জায়গায় আঁচড়ের দাগ মনে হচ্ছে হিংস্র কোন জানোয়ার এর থাবা,
হঠাৎ রিতুর ওয়াশরুম চাপ হলো তাই সে উঠে ওয়াশরুমে গেলো কিন্ত ফিরে এসে যা দেখলো তা দেখে চোখ কপালে উঠে গেলো,
07/04/2022
`নীল রক্ত`
পর্ব ৫
লেখকঃ নীল মাহামুদ
শুনশান রাস্তায় রিতু আবার বের হলো রাস্তায় এখন আর মানুষ চলাচল নেই বললেই চলে,
ইবু স্যার টা জানি কেমন আসলো না কেনো,
বলতে বলতেই সামনে এসে পড়ে ইবু স্যার,
ইবু- কেমন আছো?
রিতু-মনে মনে কেমন আছো মারাইয়ো না একটু আগে বিপদে পড়ছিলাম,
ইবু- কি ব্যাপার কথা বলছো না কেনো,
রিতু- জি ভালো, আপনি?
ইবু- হুম ভালো,হঠাৎ এই এলাকায় কেনো, কোন ইনফরমেশন দরকার নাকি?
রিতু - তা তো দরকারি কিন্ত খুব জরুরি,
ইবু- ওহ আচ্ছা তা কি এত জরুরি আমাকে বলা যাবে,
রিতু- বললে নিতে পারবেন তো,
ইবু- আচ্ছা হাটি আর কথা বলি,হুম বলো,
রিতু- সব খোলে বলল,
ইবু মাথায় হাত দিয়ে OmG আচ্ছা চল দেখা যাক কি হয়,
দুজন কথা বলতে বলতে নাইট ক্লাবের ভিতর ঢুকলাম,
এখানে কম বেশি সব অপরাধী আসে আবার সাধারণ মানুষও আসে,
এখানে পুলিশ আসতে ভয় পায়,
এই এলাকা খুবই বিপদজনক কখন কি হয় বলা যায় না,
এই পুরো এলাকা একজন নিয়ন্ত্রণ করে,
ভিতরে ঢুকে নীলের ছবি দেখাইলাম অনেকজন কে কিন্ত কেউ চিনে না,
হতাশ মনে বের হয়ে পড়ে দুজনেই,
রিতু ইবু স্যার কে বলল,চলেন থানায় যাই নীলের সাথে দেখা করে আসি,
রিতু থানায় গেলো রাত তখন ১০টা বাজে থানায় গিয়ে দেখলো নীল বসে আছে জেলের ভিতর দেয়াল হেলান দিয়ে,
রিতু তখন ইবু স্যার কে বললেন উনিই আমার বর,
তখন ইবু স্যার রিতুর কানে কানে বলল তুমি যা ভাবছো তা না এই হাদারাম,
নীল কে হাদারাম রিতু ইবু স্যারের দিকে আড় চোখে তাকায়,
ইবু স্যার তা বুঝতে পেরে , সরি সরি আসলে এ কি করে কোন ক্রিমিনাল হয় দেখতেই কি বলবো আবার রাগ করবে,
রিতু-হুম সেটা আমিও ভাবছি কি করে সম্ভব,
নীল রিতু কে দেখে এগিয়ে আসলো, আর মায়া ভরা দৃষ্টি দিয়ে বলল,আমার না অনেক ক্ষুধা লাগছে খাবার আনছেন,
তখন রিতু নীলের মায়ার কাছে হার মেনে বিপাকে পড়ে যায় কারণ খাবার আনে নাই,
রিতু বলল,তুমি জাস্ট ৫মিনিট ওয়েট করো আমি খাবার নিয়ে আসছে,
ইবু কে রেখেই থানা থেকে বের হয়ে যায়, ইবু পিছন পিছন ডাকতে থাকে রিতু ভুলেই গেছে যে ইবু স্যার আছে,
রিতু ইবুর ডাক শুনে দাঁড়ায়,
ইবু- আমাকে রেখে কোথাই যাচ্চো,
রিতু - ও স্যার সরি খেওয়াল ছিলো না,আমাকে খাবার আনতে নীলের জন্য,
এনে দিতে পারবেন,
ইবু স্যার মুচকি হেসে, তুমি যা আজ পর্যন্ত বলছো তা কোন দিন শুনি নি করি নি এমন হয়েছে তুমি এখানে অপেক্ষা করো আমি নিয়ে আসছি,
রিতু ইবু স্যারের কথা শুনে দাঁড়ালো রিতু জানে রাত যতই হোক ইবু স্যার হতাশ করবে না,
থানার বাহিরে রিতু দাঁড়িয়ে আছে পাশেই দাঁড়িয়ে আছে একজন কনস্টেবল বয়স্ক করে,
রিতু- চাচা ভালো আছেন?
চাচা ডাক শুনে উনি উত্তর দিলেন আলহামদুলিল্লাহ মা ভালো আছি,আপনি ভালো আছেন।
রিতু-বেশি ভালো নেই, চাচা
--কেনো মা কি হয়েছে,
-থানায় আমার স্বামী,
-কে ঐ নীল রক্ত যার,
--হুম,
-আচ্ছা মা আপনাদের বিয়ে হয়েছে কত বছর,
রিতু তখন হাত দেখিয়ে বলল,এই যে দেখেন এখনো মেহেদীর রং উঠে নাই,
বলতে গেলে বাসর ঘর থেকে ধরে নিয়ে আসছে,
--কিন্ত মা, তাহলে বাচ্চা টা কার।
--কিসের বাচ্চা মানে কার,
-ঐ নীলের সাথে দেখা করতে আসে,
--কি বলেন চাচা,
-আমি নিজের চোখে দেখছি বাবা বলে ডাকছিলো,
রিতু কথা টা শুনে অবাক হয়ে যায় মানে বিশ্বাস করতে পারছে না,
নীলের মেয়ে আসবে কোথা থেকে, পিচ্ছি একটা ছেলে,
এমন সময় ইবু চলে আসলো কলা আর পাউরুটি ছাড়া আর কিছুই পেলো না,
রিতু নিয়ে নীল কে দিলো নীল খাচ্ছে এর মধ্যে রিতু জিজ্ঞেস করলো থানায় কোন বাচ্চা আসছিলো,
নীল খেতে হুম আসছিলো তো,বাচ্চা টা অনেক কিউট কিন্ত ওর বাবা অনেক পচা খুন করে নাকি জেলে আসছে,
।
রিতু তখন মনে আবার বিশ্বাস ফিরে পেলো,
হয়তো কনস্টেবল চাচার দেখার ভুল নীল তো তা বলল,
নীলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে থানা থেকে বের হলো,
ইবু রিতু কে বাসা পর্যন্ত পৌঁছে দিলো,
বাসায় গিয়ে রিতু ভেজা জামা কাপড় চেন্স করতে যাবে জামার হাতায় নীল কিছু একটা দেখতে পেলো,
রিতু নীল রং টা আঙুল দিয়ে এনে নাকের কাছে ধরলো,
রক্তের গন্ধ আসছে,
তখন রিতুর মাথায় টনক করে একমাত্র নীলের রক্তই তো নীল।
আর হোটেলের যে কালো পোশাক পড়া লোকটা ছিলো সেই তো রিতুর কব্জির উপরে ধরে সরিয়ে ছেলেটির বুকে লাথি মেরে ছিলো,
তার মানে ঐটা নীল।
তখন রিতু আবার ইবু কে ফোন দেয়,
ফোন করে বলে,ইবু স্যার আমার দশজন অফিসার লাগবে,
ইবু- কেনো?
রিতু- শুধু একজন কে ধমকাবো,পারলে আপনিও চলে আসেন,
ইবু স্যার ডিবি পুলিশ উচ্চু পদে আছেন,
রিতু আবার রিং কোট গায়ে চাপিয়ে বের হলো কারণ বাহিরে তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে,
রাত তখন ২টা বাজে সেই হোটেলে গেলো,বৃষ্টি থাকায় সেদিন তেমন কোন কাস্টমার ছিলো না,
এই সুযোগ টা তখন রিতু কাজে লাগায়,
রিতু একটা পিস্তল নিয়ে হোটেল মালিকের মাথায় ধরে বলে,
প্রায় ৮টার দিকে এখানে একজন মারা যায় লাথি মেরে বুকের ছাতি ভেঙে যাওয়ার ফলে কিন্ত যে লাথি মেরেছিলো সে কে,
সত্যি না বললে একদম মাথার খুলি উড়িয়ে দিবো,
--আপা আপা শুনেন,আমি উনাকে দেখি নাই,উনি তো মুখে মাস্ক পড়া ছিলো,
-তাহলে ঐ ছেলেগুলো বস বস বলছিলো কেনো,কি দেখে বস বস বলল,
--উনার চোখ নীল উজ্জ্বল ছিলো, আর উনি আমাদের বস,উনার চেহারা আজ পর্যন্ত কেউ দেখেনি,আর উনার রাগ হলে চোখ নীল হয়ে যায়,
রিতু- উনি যে প্লেটে খাচ্ছিলো সেটা আমার চাই আর কাটা চামচ,
-আপা প্লেট টা নিতে পারবেন কিন্ত চামচ টা বাকিয়ে বলের মতো করে ফেলছে,আর নীল রং লেগে আছে,,
রিতু- কই কই সেটা আমার লাগবে এখনই দে,
হোটেল মালিক চামচ দিলো রিতু ইবু স্যার কে বলল স্যার এটা নিশ্চয়ই যে বাকিয়েছে চামচ এর কাটা গুলো তার হাতে ক্ষত তৈরি করেছে,,
ইবু- হুম তা তো অবশ্যই।
রিতু- এবার স্যার থানায় চলেন,
ইবু- এত রাতে যাওয়া যাবে না তোমার,
রিতু প্লেট আর চামচ নিয়ে বাসায় গেলো নিজের কাছে রেখে দিলো,
সকাল হতেই রিতু সেগুলো ফরেনসিকে নিয়ে গেলো,
সেখান থেকে আবার সোজা থানায়,
রিতুর মাথায় অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে,
কিন্ত গিয়ে দেখলো নীল নেই,একদম ফাঁকা,
কনস্টেবল বলল আসামি পালিয়েছে শেষ রাতে,
এবার রিতুর সন্দেহ ঠিক হল,
05/04/2022
নীল_রক্ত
পর্ব ৪
লেখক_নীল_মাহামুদ
থানার নতুন ইনচার্জ শামসুল হক সাহেব রিতু কে জানালেন আসামি নীল মাঝে মাঝে জেল হাজত থেকে হঠাৎ হঠাৎ গায়েব হয়ে যায়,
উনি কি অদৃশ্য হওয়ার মন্ত্র জানে নাকি,
ইনচার্জ এর কথায় রিতু একটু ভাবনার জগতে চলে যায়,
এটা কি বলল একটা মানুষ কি করে আবার অদৃশ্য হয়ে যায় নাকি আমার সাথে মজা করছে,কিন্ত একজন ওসি কেনো মজা করবে,
ওসি শামসুল হক সাহেবের ডাকে রিতু ভাবনার জগত থেকে ফিরে আসে,
ভাবনার জগত থেকে ফিরে একবার নীলের দিকে চোখ বুলায়,
নীলের দিকে তাকিয়ে ভাবছে এই বোকা ছেলের দ্বারা এমন কোন কিছু করা কি সম্ভব।
অতিরিক্ত ভাবনা আর কিছু মানুষের
চক্রান্তের ফাঁদে পড়ছি না তো আবার তো নীলের চার দিকে শত্রুর অভাব নেই,
নীল রিতু কে ডাকলো,
নীল- আমাকে এখান থেকে বের করবে কবে,আমার এখানে একদম ভালো লাগে না,
রিতু- খুব তারাতাড়ি বের করবো,
নীল- আচ্ছা দাদু কেমন আছে সে আসে না কেনো আমাকে দেখতে,
রিতু- একটু অসুস্থ আছেন,,,, (মিথ্যা বলল)
নীল- আচ্ছা আমি কি অপরাধ করছি যার জন্য আমাকে এখানে আটকে রাখছে আবার মারে,,
রিতু- আমি জানি না কিন্ত খুব তারাতাড়ি বের করবো তোমাকে,,,তুমি একদম টেনশন করো না,,,,।।
বলে রিতু থানা থেকে বের হলো রিতু কে বারবার একটা জিনিস ভাবিয়ে তুলেছে নীল কি ভাবে জেল থেকে অদৃশ্য হয়ে যাবে,
রিতু বাসায় গিয়ে টিভি ছেড়ে দেশের একটু খবর নিচ্ছিলো কিন্ত ভালো লাগছিলো না বারবার চ্যানেল চেন্স করছিলো,
একটা মুভির দৃশ্যে রিতুর চোখ টা আটকে গেলো সেটা হল একটি নেতার আলাদা একটি গোপন কক্ষ খোঁজে পায় পুলিশ যেখানে সেই নেতা তার অবৈধ কাজ কর্ম করে থাকে,
সেই রুমের তল্লাশি নিয়ে পুলিশ অনেক কিছু পায়,,,
রিতুর মাথায় তখন একটা চিন্তা আসে
এই বাড়িতে এমন আলাদা কিছু নাই তো,
সেটা ভেবে রিতু অনেক খোঁজাখোজি করে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে বসে পড়ে,।
একটু জিড়িয়ে নেওয়ার জন্য
সোফায় মাথা হেলান দিয়ে বসে আছে
রিতু, হঠাৎ ফোন টা বের করে ইবু স্যার
কে ফোন দেয়,
রিতু ভাবলো একটু অপরাধীদের আঁতুড় ঘর দিয়ে খোঁজ খবর নিয়ে আসা যাক,
তাই একা বের হওয়া ঠিক হবে না,
ইবু স্যার কে নিয়ে যাওয়া যাক,
ইবু স্যার হচ্ছে রিতুর প্রেমে এক সময় দিওয়ানা ছিলো,এখন আপাতত উনি বিয়ে করে ঘর সংসার করছে,
কিন্ত ইবু স্যার ফোন টা রিসিভ করলো না,
তাই একটা মেসেজ করলো আমি অমুকখানে যাচ্ছি সময় মতো এসে পড়বেন,
তখন প্রায় সন্ধা নেমে আসছে বাহিরে
আবার বৃষ্টি হচ্ছে,
রেইনকোট গাঁয়ে চাপিয়ে বের হয়ে পড়লো রিতু,
রাস্তার পাশ দিয়ে হেটে চলেছে পিচ ঢালা রাস্তায় গাড়ির হেডলাইট এর আলো পড়ে চকচক করছে
আবার কোথাও কোথাও তো পানি জমে আছে, জমে থাকা পানির উপর দিয়ে
দিয়ে গাড়ির চাকা আসে তখন রিতু কে লাফ দিয়ে সরে যেতে হয় না গায়ের উপর পানি আসবে,
আমার মনে গাড়ির ড্রাইভার গুলো ইচ্ছে করে আমাকে পানি দিচ্ছে,
হাটতে হাটতে চলে গেলো নিজের গন্তব্যে,
ভিতরে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না এদিকে ইবু স্যার আসেনি,
এই বৃষ্টির মধ্যে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা যায়,
পাশেই ছিলো মা রেস্তোরাঁ খাওয়ার হোটেল,
এই বৃষ্টির মধ্যে ভুনা খিচুড়ি আর ডিম
ভাজির সুগন্ধে আশেপাশে ছুড়িয়ে পড়েছে,
এমন প্রিয় খাবার রেখে কেমনে দাঁড়িয়ে থাকা যায়,
তাই রিতু লোভ সামলাতে না পেরে ভিতরে প্রবেশ করে,
কিন্ত তখন বিদ্যুৎ ছিলো না প্রতিটি টেবিলে ছিলো একটি করে মোমবাতি।
বেশ চমৎকারই লাগছিলো,
রিতু গিয়ে বসে পড়লো এক কোনের টেবিলে,আর গরম গরম প্রিয় খাবার গুলো অর্ডার করলো, কিন্ত ভয় হলো
এলাকাটি সন্ত্রাসীদের আতুড়ঘর, মনে হয় প্রতিদিন হোটেলটিতে কিছু বখাটে ছেলেপেলে বসে থাকে,আজও আছে,
এই অসময় মেয়ে মানুষ দেখে ছেলে গুলো আস্তে আস্তে রিতুর টেবিলের দিকে যেতে থাকে,
কিন্ত রিতু মন দিয়ে তার প্রিয় খাবার গুলো খাচ্ছে,,,
কিন্ত হোটেল যে কখন জনশূন্য হয়ে গেছে তা রিতু খেয়ালই করেনি,
রিতু পানির বোতল চাইতে গিয়ে তাকিয়ে দেখে কিছু ছেলে বসে আছে,
এক সাথে ছেলে গুলো কে দেখেই বুঝা যাচ্ছে নেশাপানি খায়,
কিন্ত একটু দূরেই একজন কালো পোশাক পড়া মুখ দেখা যাচ্ছে না,
কাটা চামচ দিয়ে কিছু খাচ্ছে কারণ শব্দ শুনে বুঝা যাচ্ছে,
রিতুর মনে পুরো ভয় ইবু স্যার কি এখনো আমার মেসেজ পায়নি,
ভয় হচ্ছে খুব,
এমন সময় বখাটে একটি ছেলে এসে খপ করে ধরে বলল চলো মামুনি এবার আমাদের খাওয়াবে বলে টান দিতেই।
হাতির মতো বিশাল পা দিয়ে ছেলেটির বুকে লাথি মারে,
ছেলেটি গিয়ে পড়ে বাকি বখাটেদের
সামনে তাকিয়ে দেখে বুকের হাড় গুলো পিঠের সাথে লেগে গেছে,
রিতু দেখলো পাশের টেবিলে বসা সেই লোক কিন্ত মুখ দেখা যাচ্ছে না।
লোকটি বুখাটেদের দিকে এগিয়ে যেতেই বিদ্যুৎ চলে আসে ফলে ছেলে গুলো লোকটিকে দেখে ফেলে আর বস বস বলে পায়ে পড়ে যায়,
লোকটি এক হাত উঁচু করে ৪ আঙুল
মোস্টি করে, আবার খোলে,
হোটেল এর মালিক বুঝে লাইট অফ করতে বলল,আবার অন,
লাইট অফ কিন্ত রিতু দেখতে পেলো না,
কিন্ত লাইট অন করতেই লোকটি আর নেই,,,
(চলবে)
04/04/2022
নীল_রক্ত
@পর্ব_৩
লেখক_নীল_মাহামুদ
নীলের শরীরে নীল রক্ত, রিপোর্ট টা দেখে চমকে যায় রিতু,
মানে বিশ্বাস হচ্ছে না ,
রিতু আধো হাসি দিয়ে বললেন ওসি আকবর কে, আমাকে কি বোকা মনে হয় কোন দিক থেকে,
ওসি- দেখেন মিস রিতু প্রথম যখন
নীলের শরীর থেকে নীল রক্ত বের হতে
দেখলাম তখন আমারও বোকা হয়ে গিয়ে ছিলাম।
কিন্ত ডক্টর রা এর কোন ব্যাখ্যা দিতে পারে নাই,
আপনার বিশ্বাস না হলে মেরে আবার রক্ত বের করে দেখাবো,
রিতু-........ কথা টা খুব কস্টে হজম করে বললেন, না তার দরকার নেই,
ওসি- এবার আসতে পারেন মিস রিতু,
রিতু- আমি কখন যাবো আসবো সেটা আপনার বলতে হবে না,,
ওসি- আপনার তো দেখি দেমাগ কম না ইচ্ছে করলে এখনি তা মাটির সাথে,
রিতু- আচ্ছা আপনার কি ছেড়া জুতা দিয়ে মাইর খাওয়ার শখ হয়েছে নাকি নতুন জুতা দিয়ে,
ওসি আকবর রেগে দাঁড়িয়ে গেলেন, আর বললেন মুখ সামলে কথা বলুন।
না হলে ভুলে যাবো,
রিতু- আপনাকে ভুলে যেতে হবে না আপনাকে ভুলিয়ে দিবো জাস্ট ওয়েট
অ্যান্ড সি,
বলে রিতু থানা থেকে বের হয়ে গেলো,
নীল থানায় রিতু কি করবে বুঝতে পারছে না,
থানায় ফোন করে ছুটি বাতিল করলো,
রিতুর হাতে লাল টকটকে মেহেদী এখনো শুকাইনি।
আর ডিউটিতে জয়েন করতে হচ্ছে,
রিতু নীলের দাদুর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নিজের বাড়ি গেলো,
গিয়ে আগে রিতুর বাবাকে জিজ্ঞেস করলো, বাবা তুমি আমাকে একটা কথা বলো তো,
বাবা- হুম কি?
রিতু- তুমি নীলের বাবাকে কত বছর ধরে চিনো,
বাবা- নীলের বাবা আমার ছোট বেলার বন্ধু, কিন্ত দুঃখ একটাই সেটা হল আমার বন্ধুকে শেষ বেলায় দেখতে পারলাম না,
রিতু কৌতুহল নিয়ে জিজ্ঞেস করলো দেখতে পারো নাই মানে?
বাবা- দেখতে পারি নাই মানে নীল আর ওর দাদু এই এলাকায় নতুন আসছে
মাত্র ৪মাস আগে,,
রিতু- ওহ মাই গড,বাবা এই ভুল তুমি
কি ভাবে করলে,
বাবা-কেনো রে...মা আমি কি ভুল করলাম,
রিতু- তুমি চিনো না জানো না আর আমাকে বিয়ে দিয়ে দিলে,,
বাবা- নীলের বাবা আমার বন্ধু কি চিনবো জানবো,
রিতু-দেখো বাবা নীল ইন্টারে পড়ে না ওর কলেজ থেকে যা জেনেছি,
আর নীল সাধারণ কোন মানুষ নয়,
বাবা- মানে কি বলছিস তুই নীল সাধারণ না তো কি?
রিতু- নীলের ব্লাড হচ্ছে ব্লু, ব্লু ব্লাড,
বাবা-কি বলিস,
রিতু- হুম, আর আমাকে নীল সম্পর্কে জানতেই হবে, আমি আজকেই থানায় জয়েন করছি,আমি এখন থানায় যাবো,
বাই বাবা,
বলে বের হয়ে পড়লো রিতু,,,,
বাসায় বসে থাকলে তো আর নীল কে ছাড়ানো যাবে না,
চাইলেই ৫মিনিটের মধ্যে নীল কে ছাড়াতে পারি কিন্ত আইনের প্রতি শ্রদ্ধা আছে, তাই অসৎ পন্থায় যেতে চাই না,
কিন্ত উর্ধতন কর্মকর্তা ধরে নীলের থানায় পোস্টিং নিলো রিতু আর ওসি আকবরের ট্রান্সফার করেই যাচ্ছেন ঐ থানায়,
পরের দিন থানায় জয়েন করে রিতু
কিন্ত দূর্ভাগ্যবশত নীলের কেইস টা
নিজের হাতে নিতে পারে না ওসি আকবার এমন চাল চেলে গেছে রিতুর হাতে কেস নিতে পারছে না,
আর সেদিন থানায় গিয়ে শুনে তাকে আরও ১৫দিন পর জয়েন করতে হবে কোন এক কারনে,
রিতু আবার হতাশ হয়ে বাসায় ফিরে আসে বাড়ি বলতে শ্বশুর বাড়ি কাছে হওয়ায়,
কিন্ত দুঃখের কথা হল নীলের দাদু বাড়ি থেকে হাওয়া মানে নিখোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না,
এই বার রিতুর সন্দেহ ১০০ তে ১০০ মিলে গেলো,
এই সব নীলের সাজানো নাটক কিন্ত কোথা থেকে কি হয়েছে বুঝা যাচ্ছে না,
রিতু পুরো বাড়ি খুজতে লাগলো যদি কোন ক্লু পাওয়া যায় নীলের আসলে নীল কে কি চায়,
এমন সময় বাহিরে থেকে গুলির আওয়াজ আসে, ৬বার শ্যুট করে জানালা দিয়ে,
কিন্ত ভাগ্য ভালো রিতু তখন আলমারির পিছনে ছিলো,
তাই গুলি লাগে না,
কিন্ত না হলে খবর হয়ে যেতো রিতুর,
গুলি থামতেই রিতু নিজের নিজেরব
পিস্তল টা বের করে তাক করে একটি গুলি ছুড়তেই দুজন লোক বাইকে চেপে পালিয়ে যায়,
লোক দুটো হেলমেট পড়া ছিলো,
পরের দিন সকাল বেলা রিতু নীলের জন্য খাবার নিয়ে যায়,,
নীল কে আজ অন্য রকম লাগছে।
নীল এই প্রথম রিতুর নাম ধরে বলল,।
নীল- রিতু তুমি ঠিক আছো তো?
রিতু- হুম আমি ঠিক আছি কিন্ত...... বলতে চেয়ে রিতু আর কিছু বলল না,।
এই দিকে নীলের দাদু কে পাওয়া যাচ্ছে না সেটা নীল কে বলল না,
কারণ রিতু যেনে গেছে এ আসল নীল না,আমার সামনে জেলে যে আছে নীল
রুপে অন্য কেউ কিন্ত কে তা জানা যাবে পরের পার্টে,,,,
(চলবে)
03/04/2022
নীল_রক্ত
লেখক_নীল_মাহমুদ
পর্ব ২
নীল তার নিজের বাবা মা কে হত্যা করেছে,
কথা টা শুনে রিতু ১৬ বোল্ড এর শক্ট খায়,
এটা কি করে সম্ভব,
রিতু ওসি সাহেব কে বললেন, আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে বলতে আপনার সোর্স এর কোথাও ভুল হচ্ছে,
ওসি- No (উত্তেজিত হয়ে)
রিতু- আপনি এত সিউর হয়ে বলছেন কি ভাবে
ওসি- কারণ আমার সোর্স গুলো অনেক পুরোনো আর বিশ্বস্ত, আমি তাদের খুব ভালো ভাবে জিজ্ঞেস করেছি,,তাদের একটা কথাই,,,
রিতু- আচ্ছা কি ভাবে কি হয়েছে বলা যাবে,,
ওসি- সরি ম্যাম,আমাদের প্রাইভেসি বলতে তো কিছু আছে আর আপনি আসামি পক্ষ,আপনি তো নিজেও পুলিশ জানেন,
রিতু- ok,কিন্ত নীল কে রেখে গেলাম গায়ে যেনো ফুলের টোকাও না পড়ে,
।
রিতু যখন নীল কে রেখে আসছিলো তখন নীল রিতুর থ্রিপিসের ওড়না টেনে
ধরে ছিলো বাচ্চাদের মতো,
আর এই প্রথম কারো জন্য রিতু চোখের পানি ফেলে,
তখন রিতু নীলের হাত ধরে বলে প্লিজ একটু কস্ট করে থাকো আমি তোমাকে খুব তারাতাড়ি এখান থেকে বের করে নিবো,
রিতু চলে গেলো গেলো নীলের জন্য খুব কস্ট হচ্ছে রিতুর,
বাসায় যেতেই নীলের দাদা বলল,পুলিশ নীল কে মারবে না তো,
রিতু- না দাদা ভাই,
কিচ্ছু করবে না,সব ঠিক হয়ে যাবে,
বিয়ে হয়েছে কাল কিন্ত আজ জামাই জেলে,
হঠাৎ রিতুর মাথার টনক নড়ে,
পুলিশ তো এমনি এমনি ধরতে আসেনি কিছু তো একটা আছে,
আচ্ছা নীলের বোকা চেহায়ার আড়ালে অন্য কিছু নাই তো,
তখনি রিতু নীলের বাবা মায়ের রুমে গেলো আর নীল সম্পর্কে তথ্য খোজতে লাগলো,
কিন্ত নীল সম্পর্কিত কোন তথ্য নেই,
তারপর মনে পড়লো নীলের ল্যাপটপ আর ফোনের কথা,
ল্যাপটপ অন করতেই পাসওয়ার্ড যাচ্ছে যা নীল ছাড়া আর কেউ জানে না,
তারপর ফোন হাতে নিলো কিন্ত সেই একই অবস্থা গাসওয়া দেওয়া,
রিতু আবার ভাবলো নিজের বাবা মা কে কেউ কেনো মারবে, এই টা ভেবে রিতু বোকা বনে গেলো,
এই সব ফালতু চিন্তা বাদ দিয়ে রিতু রান্না বসালো দুপুরের জন্য
নীল কে খাবার দিতে হবে,
আর যে ভাবেই হোক রাতের মধ্যে নীল কে ছাড়িয়ে আনতে হবে,
রান্না করছে এমন সময় পাশের বাসার এক আন্টি তার ছেলেকে বোকা দিচ্ছে স্কুল ফাঁকি দেওয়া তাই না,
এই সব বলছে স্কুল ফাঁকি কমন একটা জিনিস রিতুও কম দেয়নি তাই পুরোনো কথা মনে পড়তেই রিতুর ঠোঁটের কোণে হাসি জ্বলে উঠে,
কিন্ত মুহূর্তেই আবার হাসি নিভে যায়,
স্কুল ফাঁকির কথা মনে হতেই নীলের কলেজের কথা মনে পড়ে সেখান থেকে নীল সম্পর্কিত তথ্য নেওয়া আর পাওয়া যাবে,
রিতু এক মুহূর্ত দেরি না করে গাড়ি নিয়ে বের হয় নীলের কলেজের উদ্দেশ্য,
রিতু চলে যায় সরাসরি প্রিন্সিপালের রুমে দরজায় দাড়িয়ে,
রিতু- me i coming sir?
প্রিন্সিপাল - yes coming.
প্রিন্সিপাল- Who are you?
রিতু- আমি রিতু, একটা ইনফরমেশন জানার ছিলো প্লিজ দয়া করে বলবেন,
প্রি- কি ইনফরমেশন আপনার বাচ্ছা সম্পর্কে জানতে চান,
নাম কি? কোন ক্লাস নাকি ইয়ার?
রিতু- আমার বাচ্ছা না,আমি যা জানতে চাই মোঃ নীল মাহমুদ ইন্টার ২য় বর্ষের,
প্রিঃ - সরি ম্যাম আরেকজন এর বাচ্চার ইনফরমেশন দেওয়ার অনুমতি নেই,
রিতু- কেনো?
প্রিঃ- আপনি তো কিটন্যাপার হতে পারেন,
রিতু - নো, আমাকে দেখে কি তাই মনে হচ্ছে,
প্রি- দেখেন মিস রিতু আপনি যেই হোন সরি বলতে পারবো না,আর এখানে নীল একটা না অনেক নীল আছে,
রিতু ফোন থেকে নীলের একটা ছবি দেখিয়ে বলল, এই ছেলের ইনফরমেশন,
প্রিন্সিপাল চশমা ঠিক করে বলল না এই ছেলে আমাদের স্কুল বা কলেজের না,
প্রিন্সিপাল তখন তার পিএস কে ডাকলেন দেখার জন্য কিন্ত উনিও চিনলেন আর বললেন একে আমরা কোন দিন দেখি নাই,
একে সব স্যার কে দেখানো হলো কিন্ত কেউ বলতে পারলো না,
এইবার রিতুর মাথা ঘুরতে লাগলো আসলে হচ্ছে টা কি,
এই সব কি আমার সাথে হওয়ার ছিলো,
আসলে নীল টা তাহলে কে?
রিতু এবার এটাও ভাবলো হয়তো প্রিন্সিপাল লুকাচ্ছে বলতে চায় না,।
কিন্তু রিতুর মনে প্রশ্ন এমন কেনো করবে
একবার ভাবলো নীল কে জিজ্ঞেস করবো কিন্ত জিজ্ঞেস করা কি ঠিক হবে,
এই সব ভাবতে ভাবতে কলেজ থেকে বের হলো,
বাসায় গিয়ে খাবার নিয়ে থানায় গেলো,
নীল বসে আছে জেলের ভিতর,
নীল কে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে রিতু দৌড়ে গেলো কিন্ত মাঝখানে ১৪ শিকের বেড়া থাকায় জরিয়ে ধরতে পারলো না,
কিন্ত নীল রিতুর দিকে তাকালো না,
রিতু নীল কে ডাক দিলো,
রিতু- নীল.... নীল.....?আমি এসেছি?মুখে ছোট্র হাসি।
নীল- মাথা তুলে তাকায় রিতুর দিকে।
নীল কে দেখে রিতুর হাসিটুকু উড়ে যায়,
কারণ নীলের মুখে ক্ষত কয়েক জায়গায়, চশমার কাচটা ফেটে গেছে,
রিতু নিজের রাগ টা কন্ট্রোল করে পেরে
ওসির নাম ধরেই ডাকলেন,
রিতুঃ আকবর আকবর?
ওসি- ওয়েট মিস রিতু, আমি জানি আপনি এমন করবেন, কিন্ত ভুলে যাবেন না এটা আপনার থানা না আমার থানা,বেশি কথা বলে এরেস্ট করতে বাধ্য হবো,
রিতু- চুপ।
ওসি- ম্যাডাম কে রিপোর্ট টা দেখা,
এটা একটা মেডিক্যাল রিপোর্ট রিতু রিপোর্ট হাতে নিয়ে চমকে যায়,
যা বিশ্বাস যোগ্য না,
নীলের শরীরে নীল রক্ত,,,,,
(চলবে)
নীল_রক্ত
লেখক_নীল_মাহমুদ
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Sirajganj
6720