15/03/2026
(ভাই) বলে সম্বোধন করা কি আদালত অবমাননা?
আদালত অবমাননা দুই প্রকার
দেওয়ানী অবমাননা
দেওয়ানী অবমাননা বলতে বোঝায় ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতের রায়, ডিক্রি, নির্দেশনা, আদেশ, রিট বা কার্যক্রম অমান্য করা, অথবা আদালতের নিকট প্রদত্ত কোন অঙ্গীকারনামা ভঙ্গ করা।
ফৌজদারী অবমাননা
ফৌজদারী অবমাননা বলতে বোঝায়মৌখিক বা লিখিত শব্দ, চিহ্ন বা প্রদর্শনযোগ্য কোনো কিছুর মাধ্যমে এমন কিছু প্রকাশ করা বা কোনো কাজ করা যাতে
১. আদালতের কর্তৃত্বকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয় বা করার অভিপ্রায় থাকে
২. বিচারিক কার্যধারায় বাধা সৃষ্টি হয় বা হস্তক্ষেপ করা হয়
৩. বিচারিক কার্যধারার স্বাভাবিক গতিধারা ব্যাহত হয়।
আইনে কোথাও সুস্পষ্টভাবে বলা নেই যে বিচার চলাকালীন একজন নাগরিক বিচারককে কীভাবে সম্বোধন করবে।
বাংলাদেশে সামাজিকভাবে প্রচলিত একটি সংস্কৃতি হচ্ছে মানুষ একে অপরকে (ভাই)বলে সম্বোধন করে।
সুতরাং কাউকে (ভাই) বলা সাধারণত অপমান করার উদ্দেশ্যে নয়।তাই শুধুমাত্র (ভাই)বলে সম্বোধন করা থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আদালত অবমাননা হয়েছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ধারা ২২৮ অনুযায়ী
যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো সরকারি কর্মচারীকে অপমান করে বা তার কাজে বাধা দেয়, এবং সেই সরকারি কর্মচারী বিচারিক কার্যধারার কোনো পর্যায়ে নিয়োজিত থাকেন, তাহলে সেই ব্যক্তি—
সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা
সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা জরিমানা, অথবা
উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
২২৮ ধারায় প্রমাণের জন্য তিনটি বিষয় প্রমাণ করতে হয়—
১. Intention (ইচ্ছাকৃততা)
২. Insult or interruption (অপমান বা বাধা)
৩. অপমানিত ব্যক্তি অবশ্যই বিচারিক কার্যধারার কোনো পর্যায়ে বসা একজন সরকারি কর্মচারী হতে হবে।
শুধুমাত্র আদালত নিজেকে অপমানিত মনে করলেই হবে না আদালত অবমাননা হবে না।
Pranlal v State
আদালত অপমানিত অনুভব করলেই ধরে নেওয়া যাবে না যে অভিযুক্ত ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতকে অপমান করতে চেয়েছিল।
ফৌজদারী কার্যবিধি ধারা ৪৮০
দণ্ডবিধির ১৭৫, ১৭৮, ১৭৯, ১৮০ এবং ২২৮ ধারার অপরাধ যদি আদালতের সামনে সংঘটিত হয়, তাহলে
দেওয়ানী, ফৌজদারী বা রাজস্ব আদালত
অভিযুক্তকে আটক করতে পারে
একই দিনে বিচার করতে পারে
সর্বোচ্চ ২০০ টাকা জরিমানা করতে পারে
জরিমানা না দিলে এক মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দিতে পারে।
অর্থাৎ এই ধারা অনুযায়ী বিচার করতে পারে—
১. দেওয়ানী আদালত
২. ফৌজদারী আদালত
৩. রাজস্ব আদালত
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ Mobile Court Act এবং এর অধীন বিধিমালা অনুযায়ী বিচার কার্য পরিচালনা করেন।
এই আইনে নির্দিষ্ট করে বলা আছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কোন কোন ধারায় বিচার করতে পারবেন।
কিন্তু সেখানে দণ্ডবিধির ধারা ২২৮ এর উল্লেখ নেই।
অর্থাৎ—
যদি কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২২৮ ধারায় শাস্তি দেন আইনে প্রদত্ত ক্ষমতার বাইরে গিয়ে (excess of jurisdiction) শাস্তি প্রদান করেছেন।