16/05/2020
অনেক যুদ্ধ করে পড়াশুনা শেষ করলাম ২৬ বছর বয়সে…।।
সফলতার গল্প আমরা সবাই শুনি, কিন্তু ব্যর্থতার গল্পগুলো কেউ বলে না । জীবনে সবাই কি সফল হয় ??? বিভিন্ন মানুষের দিক-নির্দেশনা নিয়ে অনেকেই তাদের সফলতার পথে হেঁটে চলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে । কেউবা আবার সফল হও হয়েছেন । নাম না জানা অনেক মানুষ আছে, যারা সরকারি চাকরির বয়স (৩০ বছর) পার করে দিয়েছেন, বিসিএস নামক মরীচিকার পিছনে ছুটে । আমার এই কথাটা হয়তো অনেকের ভালো লাগবে না । কেননা, আমি একজন বিসিএস ক্যাডার হয়ে, বিসিএস-কেই মরীচিকা বলছি । বলছি এই কারনে – আমরা যারা সরকারি চাকরির পিছনে ছুটি, তাঁরা শুধু একটা প্লান নিয়ে আগাই । আপনার প্লান যে, সবসময় কাজ করবে – তা কিন্তু নয় । আপনাকে বেশ কয়েকটা প্লান নিয়ে আগাতে হবে । দরকার হলে সিনিয়র কারো কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারেন । যারা motivation speech দেয়, তাঁদের ব্যাপারে একটা কঠিন observation আছে । তা হলো, ওনারা সবাই In general কিছু কথা বলে যান । এতে অনেকের লাভ হয়, আবার হয়তো অনেকে confused হয়ে যায় । আপনাকে বুঝতে হবে, যারা motivation speech দেয়, তারা common কিছু সমস্যা জানে, আপনার সমস্যাটা উনি to the specific জানে না । তাই আপনাকে যেটা করতে হবে, উনার তথ্য থেকে, যা যা আপনার দরকার হয় – তা নিবে বাকিটা নিলে নিলেন, না নিলে নাই ।
অনেকে তো সফলতার গল্প শুনেছেন । আজ না হয় একটা ব্যর্থতার গল্প শুনুন । এই গল্পটা আমাকে একজন facebook-কে message করেছেন – তার নিজের জীবনের গল্প । জীবন যুদ্ধে হেরে যাওয়ার গল্প ।
অনেক যুদ্ধ করে পড়াশুনা শেষ করলাম ২৬ বছর বয়সে । চাকরি খুঁজতে ঢাকার পথে পা বাড়িয়ে ছিলাম । অন্ধকারে নিমজ্জিত পৃথিবী, স্বপ্ন গুলো বিসর্জন দিয়ে বাড়ি ফিরে আসলাম । পড়াশুনা করাতে বাবা জায়গা-জমি বন্ধক দিয়েছিলো । এবার ভেবেছিলাম একটা কাজ পেলে আস্তে আস্তে সব সমাধান করব । এ পর্যন্ত এয়ারফোর্স-এ ২ বার পরীক্ষা দিয়েছিলাম । ১ ম বার টিকেছিলাম, কিন্তু কিছু না বলে বের করে দিলো । কলেজে ভর্তির জন্য টাকা ছিলো না, তাই ভালো কলেজ এ ভর্তি হতে পারি নাই, chance পাওয়ার পরেও । একটা কাজ করছিলাম ১ বছর, নিজের এবং সংসার চালিয়েছি, পড়াশুনার ফাঁকে ফাঁকে এমন কাজ করে চলেছি । আজ যেখানেই সিভি দেই, পড়শুনার গেপ দেখে বলে “এত গেপ ?” ! আমি জানি কেন এমন, আর আমার আল্লাহ জানে । আল্লাহর রহমতে পড়াশুনা শেষ তো করেছি । একটা কিছু পাবার আশায় । এবার ভাবলাম আমি তো অনেক পরে ফেলেছি SSC, HSC, DIPLOMA, GRADUATION & different kinds of skills! করোনাতে বাড়ি এসে ভাবলাম, পিএসসি এক্সাম দিবো । প্রিপারেশন নিচ্ছি, কিন্তু বয়স তো আর থেমে থাকে না । করোনার প্রকোপ-এ হয় তো সুযোগ গুলো চলে যাবে । ২৬ চলছে, পেটও চালাতে হবে... চাকরি কে দিবে ? এমন করে ৩০ বছরও কেটে যাবে প্রিপারেশন নিতে নিতে । আবার সংসার ও চালাতে হবে... ধাক্কা তো জন্ম থেকে খেয়ে আসছি । তাই আজ শুধু মিথ্যে প্রয়াস ...
গল্পটা শুনে, অনেকের মনে হতে পারে – ভাই বাংলা সিনেমা বললেন । আবার অনেকে হয়তো বলবেন, সিনেমার script লিখেন, ভালো কাজে দিবে । ভাই, জীবন থেকে সিনেমা বানানো হয়, সিনেমা থেকে জীবন হয় । আপনার জীবনের সফলতা কিংবা ব্যর্থতাও kind of cinema । যিনি আমাকে মেসেজটা দিয়েছেন, আমি তাঁর অনুমতি নিয়েই – ওনার গল্পটা লিখেছি । আমি জানি আপনি আমার লেখাটি পড়ছেন । আমি আপনাকে কিছু কথা মেসেজে বলতে পারতাম, কিন্তু এখানে বলছি । কেননা, আমি চাই সফলতার পাশাপাশি, আমরা ব্যর্থতার গল্পটাও শুনি । ভাই, আপনার বয়স ২৬ চলে, পরিবারের বিভিন্ন সমস্যা, দেশের সমস্যা, করোনা পরিস্থিতি, চাকরির লবিং, দুর্নীতি, সামাজিক মূল্যবোধ –এই সব কিছু একপাশে রেখে, নিজের মতো কয়েকটা প্লান করুন । আপনি পিএসসি দিচ্ছেন, খুবই ভালো কথা । মাথায় রাখেন, সকল ধরনের চাকরির জন্য পরীক্ষা দিব – হোক সরকারি, ব্যাংক, বিসিএস, এনজিও, কিংবা private company। যেহেতু করোনা চলতেছে, তাই আপাতত সরকারি চাকরির প্রিপারেশন নিতে থাকেন । এখন কথা হলো, এই জীবনে অনেক তো প্রিপারেশন নিয়েছি, লাভ কি হয়েছে ??
Think differently, act accordingly….Be Smart ।
১। নিজের problem গুলো find out করেন । আপনার কোথায় problem, specific কোন subject-এ সেটা বাহির করেন। এবার এটা সলভ করার try করেন ।
২। একটা time frame set করেন । ধরেন, আপনাকে ১০০ পেইজের একটা বই দেয়া হলো পড়ার জন্য । আমরা কি করি, starting থেকেই খুব মনযোগ দিয়ে পড়া শুরু করি এবং কিছু দূর যাওয়ার পর হাল ছেড়ে দেই – আর শেষ করি না । এটা করা যাবে না । আপনার প্রথম কাজ হলো, ১০০ পেইজের বইয়ের time frame set করা । প্রতিদিন ৫ ঘন্টা করে পড়ে, প্রতি ঘন্টায় minimum ৫ পেইজ করে reading (মুখস্থ না) পড়তেই পারবেন । তাহলে ৪ দিনে, ১০০ পেইজের বইটা আপনার পড়া হয়ে যাবে । এখন, আপনার মোটামুটি একটা ধারনা জন্মিয়েছে বইটা সম্পর্কে । এবার আপনি গুছাবেন, বইটা নিজের আয়ত্তে আনতে আপনার কয়দিন লাগবে ।
৩। যত পারেন previous question – গুলো reading পড়েন । Human brain-এর একটা কমন logic আছে । তাহলো – একি জিনিস যখন বার বার আপনি চোখের সামনে আনবেন, সে auto সে জিনিসটাকে memory তে রেখে দিবে ।
৪। frustrated হওয়া যাবে না, কোন ভাবেই । আমি জানি frustration কাজ করে – এটাকে avoid করতে হবে । নিজেকে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত রাখুন । তবে, পড়তে বসলেই মনে হয়, frustration টা বেশি কাজ করে, তাই না। হাল ছেড়ে দেয়া যাবে না ভাই । সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস রাখুন, উনি আপনার জন্য অবশ্যই ভালো কিছু রেখেছেন । উনি, ওনার বান্দাকে নিরাশ করেন না । hope never ends…
৫। একটা জিনিস মনে রাখবেন, আপনি জীবনে সুখের অনেক কিছু পেয়েছেন, যা আপনি চান নাই – সৃষ্টিকর্তা আপনাকে দিয়েছেন । আমরা, মানুষ খুবই অকৃতজ্ঞ প্রানি । আমরা শুধু না পাওয়াটাকে আগলে ধরে, সৃষ্টিকর্তাকে দোষারোপ করি । ওনাকে দোষারোপ না করে, পরিশ্রম করে যান, প্রার্থনা করুন – উনি আপনাকে নিরাশ করবেন না । হয়তো আজ দিবেন না, কাল হয়তো আপনাকে দিবে । দিবে আপনাকে, অবশ্যই।
মনে রাখবেন -
Satisfied life is better than successful life. Because our success is measured by others, but our satisfaction is measured by our own soulmate, mind, and heart.
ধন্যবাদ
Md Faisal Hossain
Assistant Director
Special Security Force (SSF)
Prime Minister Office
34th BCS (Ansar) Cadre