17/11/2015
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর বানী
✬ যে আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ
তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন।
✬ শত্রুর সাথেও যদি তুমি ভাল ব্যবহার করতে
পারো
তবে সেও একদিন তোমার বন্ধুতে পরিণত হবে।
✬ এক ঘন্টা যদি গরীব লোকের দুঃখ
বিমোচনে
ব্যয় করা হয় তবে সেটা ছয় মাস মসজিদে বসে
ইবাদতের সমান।
✬ ধৈর্য্য এমন একটি গাছ, যার সারা গায়ে
কাটা কিন্তু ফল
অত্যন্ত মজাদার।
✬ কখন বুঝবে একটি দেশ ও সমাজ নষ্ট হয়ে
গেছে? যখন দেখবে দরিদ্ররা ধৈর্য্যহারা
হয়ে
গেছে, ধনীরা কৃপণ হয়ে গেছে, মূর্খরা
মঞ্চে বসে আছে, জ্ঞানীরা পালিয়ে
যাচ্ছে
এবং শাসকরা মিথ্যা কথা বলছে।
✬ প্রচুর ধন সম্পদের মাঝে সুখ নেই। মনের
সন্তুষ্টির মাঝেই প্রকৃত সুখ নিহিত।
✬ আমার এক হাতে চাঁদ আর এক হাতে সূর্য
এনে
দিলেও আমি সত্য প্রচার থেকে পিছপা হবো
না।
✬ তোমাদের কারো নজর যদি এমন লোকের
উপর পড়ে, যাকে ধন সম্পদ ও দৈহিক গঠনে
অধিক
মর্যাদা দেওয়া হয়েছে তবে সে যেন এমন
লোকের দিকে নজর দেয়, যে তার চেয়ে
নিম্ন স্তরে রয়েছে।
✬ মানুষ যদি মৃত ব্যাক্তির আর্তনাদ দেখতে
এবং
শুনতে পেত তাহলে মানুষ মৃত ব্যাক্তির জন্য
কান্না না
করে নিজের জন্য কাঁদত!
✬ মিথ্যা হতে দূরে থাকো, কেননা মিথ্যা
চেহারাকে কালো করে দেয়।
✬ যে ব্যক্তি একটি গুনাহ হতে মুখ ফিরিয়ে
নেয়,
তার জন্য মহান আল্লাহর নিকটে ৭০টি কবুল
হওয়া
হজ্বের সওয়াব রয়েছে।
✬ যে নিজের বোঝা অন্যের উপর চাপিয়ে
দেয়
সে ব্যক্তি অভিশপ্ত।
✬ যখন তোমার লজ্জা শেষ হয়ে যায় তখন তুমি
সব
কিছু করতে পারো।
✬ তোমরা হিংসা বেঁচে থাক। কেননা আগুন
যেমন
কাঠকে খেয়ে ফেলে (পুড়িয়ে দেয়), হিংসাও
তেমনি মানুষের সৎকর্মগুলোকে খেয়ে
ফেলে (নষ্ট করে দেয়)।
✬ আর তোমরা নিরাশ হয়ো না এবং দুঃখ
করো না।যদি
তোমরা মুমিন হও, তোমরাই জয়ী হবে।
✬ তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। আর
তোমাদের প্রত্যেকেই তার দায়ীত্ব পালনের
ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।
✬ কিয়ামতের দিন বান্দার কাছ থেকে সর্ব
প্রথম
নামাযের হিসাব নেওয়া হবে।
✬ মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি। যখন কথা বলে
মিথ্যা বলে,
যখন ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে, আর যখন
কোনো কিছু তার নিকট আমানত রাখা হয় তার
খেয়ানত করে।
✬ যে ব্যাক্তি আপন মুসলিম ভাইয়ের
প্রয়োজন
মেটায়, আল্লাহ তায়ালা তার প্রয়োজন
মিটিয়ে দেন।
✬ যে ব্যক্তি সন্দেহজনক কাজ থেকে বিরত
থাকে, সে তার ধর্মকে রক্ষা করে। আর যে
ব্যক্তি সন্দেহজনক কাজে লিপ্ত হয়,
পরিণামে সে
হারাম কাজে জড়িয়ে পড়ে।
✬ পৃথিবীতে এমন একটি সময় আসবে যখন মানুষ
অনাচার ও অপকর্মে লিপ্ত হতে দ্বিধা করবে
না বরং
পাপাচারের জন্য বীরত্ব প্রকাশ ও
গৌরববোধ
করবে। তখন তোমরা কেয়ামত আসন্ন মনে
করবে।
✬ যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর উদ্দেশ্যে
নামাজ পড়ে, নিশ্চয় সে শিরক করে। যে
ব্যক্তি
মানুষকে দেখানোর উদ্দেশ্যে রোজা রাখে,
সেও শিরক করে এবং যে ব্যক্তি মানুষকে
দেখানো উদ্দেশ্যে দান-খয়রাত করে, সেও
শিরক করে।
✬ অহঙ্কারীকে আল্লাহ নীচু করে দেন এবং
বিনয়ীকে আল্লাহ উঁচু করে দেন।
✬ হে আদম সন্তান, কথা সরল ভাবে বলিও।
কেননা
ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কথা বলা শয়তানের কাজ।
কোন
কোন বক্তৃতায় যাদুকরী প্রভাব থাকে।
✬ যে শিক্ষার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি
উদ্দেশ্য
থাকে, তার দ্বারা দুনিয়াবী সুখ-সমৃদ্ধি
অর্জনের
চেষ্টা করলে আখেরাতে বেহেশতের গন্ধও
পাবে না।
✬ জ্ঞানার্জনের জন্য দরকার হলে সুদূর চীন
দেশে যাও।
✬ যে ব্যক্তি কোন জ্ঞানী ব্যক্তির একদিন
সেবা করল, সে যেন অন্য লোকের সত্তর
বৎসর সেবা করল।
✬ যে ঈমানদার ব্যক্তি মানুষের সহিত
মেলামেশা
করে এবং তাদের দেওয়া কষ্ট সহ্য করে, সে
ঐ
ব্যক্তি হইতে উত্তম, যে মানুষের সহিত
মেলামেশাও করে না, তাদের দেওয়া কষ্টও
সহ্য
করে না।
✬ হে মানব জাতি! তোমরা মানুষকে
পানাহার করাও,
আত্মীয়দের সাথে সুসমপর্ক বজায় রাখ,
প্রত্যেক মুসলমানকে সালাম দাও এবং
রাতের সেই
মুহূর্তে নামায পড় যখন সবাই ঘুমে বেঁহুশ হয়ে
থাকে। এভাবে তোমরা নির্বিঘ্নে জান্নাতে
প্রবেশ করতে পারবে।
✬ শেষ জামানায় দুর্ভিক্ষ ও ক্ষুধার আধিক্য
দেখা
দিবে। যে সেই যুগটি পাইবে, সে যেন
ক্ষুধার্তদের প্রতি অবিচার (হৃদয়হীন আচরণ)
না
করে।
✬ যে ব্যক্তি স্বভাবের নম্রতা হইতে বঞ্চিত
হয়েছে, সে কল্যাণ হইতে বঞ্চিত হয়েছে।
✬ যারা শিশুদের কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদের
প্রতি
ক্রুদ্ধ হন।
✬ ঈমানদার ব্যক্তি কখনও বিদ্বেষপরায়ণ বা
পরশ্রীকাতর হতে পারে না।
✬ সেই ব্যক্তি সুখী যে নিজের দোষ দেখে
অন্যের দোষ অনুসন্ধান বন্ধ করে দেয়।
উপার্জিত অর্থ হালাল পথে খরচ করে,
জ্ঞানীদের সাথে চলাফেরা করে এবং
পাপীদের থেকে দূরে সরে থাকে।
✬ হে লোক সকল! তোমরা গোপন শিরক
থেকে বেঁচে থাক। মানুষ যখন নামাজে
দন্ডায়মান
হয় তখন অন্যের চোখে ভাল দেখানোর
উদ্দেশ্যে খুব সুন্দর করে নামাজ পড়ে আর
এটাই
হলো গোপন শিরক।
✬ তুমি তোমার ঘরের সবাইকে নামায পড়তে
বল,
আল্লাহ তোমাকে কল্পনাতীত স্থান থেকে
জীবিকা দান করবেন।
✬ যারা আল্লাহ ব্যতিত অন্য কিছুর নামে
কসম করে
তারা অবশ্যই আল্লাহর সাথে শরীক করে।
✬ গুনাহ নেই এমন কোন লোক নেই। কিন্তু
যাহার
জ্ঞানবুদ্ধি প্রখর এবং বিশ্বাস স্বভাবগত,
গুণাহ তার
কোন ক্ষতি করতে পারে না। কেননা সে
গুণাহ
করা মাত্র তার মধ্যে অনুশোচনা আসে, ফলে
সে
তওবা করে গুনাহর ক্ষতিপুরণ করে নেয়।
তাতে তার
সওয়াব অবশিষ্ট থাকে বলে সে বেহেশতী হয়।
✬ হে লোক সকল! আমি তোমাদের জন্য দু’টি
জিনিস রেখে যাচিছ, যতদিন তোমরা এই
দুটোকে
দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে ততদিন তোমরা পথভ্রষ্ট
হবে না, আর তা হলো আল্লাহর কোরআন এবং
আমার সুন্নাহ।
✬ যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে
মসজিদ নির্মাণ করে, যদিও তা একটি ক্ষুদ্র
পাখির বাসার
মত হয়, আল্লাহ বেহেশতে একটি মহল তৈরী
করবেন।
✬ কেয়ামতের দিন মানুষ তিনটি দলে বিভক্ত
হবে।
একদল উদরপূর্তি এবং পোষাক পরিহিত
অবস্থায় বাহনে
আরোহণ করে হাশরের ময়দানে আসবে।
দ্বিতীয় দল আসবে পায়ে হেঁটে এবং তৃতীয়
দলকে উপুড় অবস্থায় পা ধরে টেনে-হিঁচড়ে
ময়দানে আনা হবে।
✬ একজনের অপরাধের জন্য অন্যকে শাস্তি
দেওয়া যায় না। এখন থেকে পিতার
অপরাধের জন্য
পুত্রকে আর পুত্রের অপরাধের জন্য পিতাকে
দায়ী করা যাবে না।
✬ যে ব্যক্তি স্বেচছায় নামায ছেড়ে দিল
সে
কাফের হয়ে গেল।
✬ যে ব্যক্তি রোজাদার অবস্থায় মারা
যাবে আল্লাহ
তাকে ঐ দিন থেকে কেয়ামত পযর্ন্ত রোজার
সওয়াব দান করবেন।
✬ যে ব্যক্তি বিনা দাওয়াতে ভোজ
অনুষ্টানে
যোগ দেয়, সে চোররূপে প্রবেশ করে এবং
ডাকাতরূপে প্রত্যাবর্তন করে।
✬ তোমাদের মধ্যে সেই সর্বাপেক্ষা উত্তম
ব্যক্তি, যে তার চরিত্রে সর্বাপেক্ষা উত্তম।
✬ তোমার বীরত্বে নয়, মানুষকে তুমি তোমার
আচরণে জয় কর।
✬ তুমি যখন কারও সঙ্গে কথা বলবে, তখন ঘাড়
ঘুরিয়ে বা বাঁকিয়ে বল না, তার দিকে
সোজা হয়ে
কথা বলবে৷ নয়তো সে ভাবতে পারে তুমি
তাকে
অবজ্ঞা কর।
✬ কোনও মানুষ তোমার বাড়িতে এলে তাকে
বিদায়কালে দরজা পর্যন্ত যেও এবং তিনি
বিদায় নিলে
দরজাটা জোরে বন্ধ করো না৷ এতে
আগন্ত্তকের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ পেতে
পারে
এবং সে মনে কষ্ট পেতে পারে।
✬ তোমার নিজেদের সন্তান-সন্ততিদের
সঙ্গে
সদয় ব্যবহার কর ও তাদের শিক্ষা ও
প্রশিক্ষণ দান
কর।
✬ বাকহীন পশুর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর৷
সুস্থ
অবস্থায় এদের উপর আরোহণ করবে এবং সুস্থ
অবস্থায়তেই তাদেরকে ত্যাগ করবে।
✬ পশুদের মধ্যে লড়াই বাধানো ও লড়াই
খেলানো নিষেধ।
✬ তোমরা যা ইচ্ছা খাও, যা ইচ্ছা তা
পরিধান করো- এ
শর্তে যে অহংকার ও অপব্যয় করবে না।
✬ যে ব্যক্তি জেনেশুনে কোনও জালিম
(অত্যাচারী) ব্যক্তিকে সাহায্য ও
সহযোগিতা করল
সে নিঃসন্দেহে ধর্ম হতে বের হয়ে গেল।
✬ যে ব্যক্তি প্রতিশোধের শক্তি থাকা
সত্ত্বেও
ক্ষমা করে দেয় সে আমার নিকট
সর্বাপেক্ষা
প্রিয়।
✬ তুমি তোমার ভাইদের বিপদ দেখে আনন্দ
প্রকাশ করবে না।
✬ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে দু-মুখো নীতি
অবলম্বন
করবে, কেয়ামতের দিন তার মুখে আগুনের
জিহ্বা
থাকবে।
✬ যে ব্যক্তি নিজের জিহ্বাকে সংযত
রাখবে,
কিয়ামতের দিন (বিচারদিবস) আল্লাহ তার
দোষত্রুটির
উপর আবরণ ফেলে দেবেন।
✬ যে ব্যক্তি তার অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী
কর্ম
করে আল্লাহ তখন তাকে সে সব জ্ঞানও
শিখিয়ে
দেন যা সে শেখেনি।
✬ শেষ জমানায় কিছু লোক কবুতরের পুচ্ছের
ন্যায় কালো চুলের কলপ ব্যবহার করবে, তারা
বেহেশতের গন্ধও পাবে না।
✬ যে সকল মহিলা কবর জিয়ারত করতে যাবে,
বাতি
জ্বালাবে বা সেজদা করবে, তাদের উপর
রাসুলুল্লাহ
(দঃ) অভিসমপাত করেছেন।
✬ তোমাদের দুটি স্বভাবের ব্যাপারে আমি
যত ভয়
করি আর কোন বিষয়ে এমন ভয় করি না- (১)
মনের
খায়েস মিটানোর পিছনে ব্যস্ত থাকা, (২)
দীর্ঘকাল
বাঁচার দুরাশা করা।
✬ যে ব্যক্তি এমন কোন মালের উপর দাবী
উত্থাপন করে যা আসলে তার নয়, সে
আমাদের
দলভুক্ত নয়। তার উচিত জাহান্নামে নিজের
ঠিকানা
খুঁজে নেওয়া।