13/04/2026
কথায় বলে, “চাঁদেরও নাকি কলঙ্ক আছে”—নাসার 'আর্টেমিস-২' মিশনের নভোচারীদের তোলা চাঁদের এই নিকটতম ছবিটি যেন সেই প্রবাদকেই সত্য প্রমাণ করে। ছবিতে চাঁদের গায়ে যে অসংখ্য গর্ত দেখছেন, এগুলোর বিশালতা কল্পনা করাও কঠিন। এখানে এমন অনেক গর্ত আছে যার দৈর্ঘ্য ঢাকা থেকে সৌদি আরবের দূরত্বের সমান, আর গভীরতা ৮ কিলোমিটারেরও বেশি!
কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই গর্তগুলো এলো কোথা থেকে?
এগুলো মূলত উল্কাপিণ্ড বা মহাজাগতিক পাথরের আঘাতের চিহ্ন। কোটি কোটি বছর ধরে সৌরজগতে বিচরণরত ধ্বংসাবশেষগুলো প্রচণ্ড গতিতে চাঁদের গায়ে আছড়ে পড়েছে। এখন মনে প্রশ্ন জাগতে পারে—চাঁদ আর পৃথিবী তো একই সৌরজগতে পাশাপাশি ঘুরছে, তাহলে পৃথিবীর গায়ে এমন ক্ষত নেই কেন?
পৃথিবীর দিকেও প্রতিনিয়ত অসংখ্য উল্কাপিণ্ড ধেয়ে আসে। কিন্তু আমাদের গ্রহ রক্ষা পায় তার চারপাশের বায়ুমণ্ডলের এক শক্তিশালী স্তরের কারণে। যখনই কোনো পাথর পৃথিবীর দিকে আসে, বায়ুমণ্ডলের সাথে প্রচণ্ড ঘর্ষণে সেটি জ্বলে ছাই হয়ে যায়। যাকে আমরা অনেক সময় 'তারা খসা' বলি।
অন্যদিকে, চাঁদের কোনো বায়ুমণ্ডল নেই। ফলে ছোট-বড় সব উল্কাপিণ্ড সরাসরি চাঁদের বুকে আঘাত করে এবং বড় বড় গর্ত বা 'ক্রেটার' তৈরি করে।
একবার ভাবুন তো—
মহান আল্লাহ যদি চাঁদের মতো পৃথিবীর চারপাশকেও বায়ুশূন্য রাখতেন, তবে আমাদের এই সুন্দর পৃথিবীর অবস্থা আজ কেমন হতো? এই বায়ুমণ্ডল কেবল আমাদের শ্বাস নিতেই সাহায্য করে না, বরং মহাজাগতিক আক্রমণ থেকে আমাদের প্রতিমুহূর্তে রক্ষা করছে।
সত্যিই,
“অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?”
(সূরা আর-রাহমান)। সুবাহানাল্লাহ!
সংগৃহীত।