05/02/2026
বারবার ডিম ফেলে দেওয়া ছেলেটাকে দেখছিলাম, আর মায়া হচ্ছিল। পরে দেখলাম- দোকানের মালিক নিজেও তার উত্তম ব্যক্তিত্বের পরিচয় দিলেন।
এইযে সামান্য একটু ক্ষতি হয়েছে, এর বিপরীতে তিনি বাজে কোন প্রতিক্রিয়া দেখাননি, হাসিমুখে মেনে নিয়েছেন—এর বিনিময়ে অনেক বড় কিছুই পাবেন। এগুলো হচ্ছে ব্যবসার আধ্যাত্মিক বিনিয়োগ। আমরা বলি না, টাকার বিনিয়োগ? টাকার বিনিয়োগ ছাড়াও আরো কত বিনিয়োগ আছে, যা ব্যবসাকে সফল করে।
কপিড
07/01/2026
কৃষি জমি খনন করে পুকুর বানানো প্রতিরোধে নিষেধাজ্ঞা আছে শুনেছি, তেমনিভাবে গাছ কাটলেও শুধু নিষেধাজ্ঞা নয় গাছ কাটলেই ট্যাক্স দিতে হবে, ইউএনও থেকে ছাড়পত্র লাগবে ইত্যাদি বিধান তৈরি করতে হবে।
22/06/2025
আমেনা সুলতানা। রাজবাড়ীর এক প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়ে। সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, ফরিদপুর থেকে অনার্স শেষ করতেই পরিবার বিয়ে দিয়ে দেয় তাকে। স্বপ্ন ছিল আরও পড়ার, পৃথিবী ঘুরে দেখার। কিন্তু বিয়ের পর সংসারের চাকা ঘুরছিল স্বামীর সীমিত আয়ের ছোট চাকরিতে। জীবন চলছিল, কিন্তু স্বপ্ন থেমে ছিল।
“মন চাইত বাইরে পড়তে যাই, নতুন কিছু শিখি, নিজেকে গড়ি। কিন্তু তখন মনে হতো, আমার সাধ্য নেই,”—বলছিলেন আমেনা। একসময় সাহস করে IELTS পরীক্ষা দেন। স্কোর খুব একটা ভালো আসেনি—৫.৫ থেকে ৬-এর মতো। চারপাশের মানুষজন বলেছিল, এই স্কোরে বিদেশ যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কিন্তু আমেনা থেমে থাকেননি। আরও কয়েকবার চেষ্টা করেছেন। নানা বাধা এসেছে—অপমান, স্বপ্নভঙ্গ, ভিসা রিজেকশন—সবই পাড়ি দিয়েছেন তিনি।
“আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের দিন ছিল যেদিন USA ভিসার জন্য অনেক কষ্টে জমানো টাকা খরচ করে আবেদন করেও রিজেক্ট হয়েছিলাম। ভিসা অফিসার কিছু জিজ্ঞেসই করেননি। তখন মনে হচ্ছিল, আমি কি পারব না কখনোই?”
তবে এখানেই থেমে যাননি আমেনা। আবার বুক ভরে স্বপ্ন দেখেছেন। যুক্তরাজ্যের একটি রিসার্চ প্রোগ্রামে আবেদন করেন, ইন্টারভিউ দেন এবং অফার লেটার পান। স্বামীকেও পাশে পান। দুজনেই যুক্তরাজ্যের জন্য ভিসা আবেদন করেন। এবার আর হতাশ হতে হয়নি। মাত্র চার দিনের মাথায় ইন্টারভিউ ছাড়াই হাতে পান ভিসা।
“আমি বিশ্বাস করি, কখনো কখনো ভাগ্য দরজা খোলে, কিন্তু তার আগে অনেকগুলো বন্ধ দরজা পেরিয়ে যেতে হয়।” ভিসা পাওয়ার এক সপ্তাহ পরেই স্বামীও পান ভিসা। দুজন একসঙ্গে পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যে। সেখানে পৌঁছানোর কিছুদিনের মধ্যেই দুজনেই কাজ শুরু করেন, আমেনা পড়াশোনা শুরু করেন।
রাজবাড়ীর এক প্রান্ত থেকে উঠে আসা এই মেয়েটি এখন যুক্তরাজ্যে শিক্ষার্থী, কর্মজীবী, আর তার পাশে রয়েছেন সেই মানুষটি—যার হাত ধরে একদিন সংসার শুরু করেছিলেন
“আমার IELTS স্কোর ভালো ছিল না, আমার ফলাফল কোনো দিক থেকেই অসাধারণ ছিল না। আমি শুধু থেমে যাইনি। যেখানেই একটা দরজা বন্ধ হয়েছে, আমি অন্য দরজা খুঁজে বের করেছি।”
আজও আমেনা মনে করেন, তার যাত্রা কেবল শুরু। সময় লাগবে, কিন্তু তার জায়গা হবে আরও অনেক ওপরে। তার গল্প প্রমাণ করে, সাধ্য আর সুযোগের ব্যবধান সাহস দিয়ে পার হওয়া যায়।
আর এই সাহসী যাত্রায় সবসময় ছায়ার মতো পাশে ছিলেন তার জীবনসঙ্গী—তার স্বামী। আর পুরো স্বপ্নযাত্রায় সহযোগী হিসেবে ছিলো RSZ Education Service Limited.
কপিরাইটঃ পাবলিকিয়ান
19/06/2025
প্রকৌশলী ড্যানি মানু। সায়েন্স ফিকশনকে রূপ দিয়েছেন বাস্তবে!
২০১৬ সালে তিনি এমন একটি ইয়ারবাড তৈরি করেন, যা ৪০টি ভাষায় স্পিচ টু স্পিচ অনুবাদ করতে পারে, তাও ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই!
ধরুন আপনি জাপান বা প্যারিস গেছেন। কানে ড্যানির সেই ইয়ারবাড। সামনে কোনো জাপানি বা ফরাসি ব্যক্তি নিজস্ব ভাষায় কিছু বলছেন। আপনি তা শুনবেন ইংরেজিতে।
শুনতে খুব কমন মনে হলেও এতটা 'রিয়াল টাইম' স্পিচ টু স্পিচ অনুবাদ প্রযুক্তি ইতোপূর্বে দেখা যায়নি।
বেশ কয়েকজন ইনভেস্টরের দ্বারে ঘুরেছেন ড্যানি। সবাই প্রত্যাখান করেন তাঁর স্বপ্নকে। অবশেষে, জনমানুষের কাছ থেকে ক্রাউড-ফান্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। প্রায় ৫০ লাখ মার্কিন ডলার ফান্ড উঠে আসে। সেই অর্থ দিয়েই এই প্রযুক্তি বাজারে আনেন ড্যানি মানু।
কপিরাইটঃ বিজ্ঞানপ্রিয়
17/06/2025
টিস্যু পেপার
আমাদের বাসা বাড়িতে একবার হাত ধোয়ার পরে কয়টা টিস্যু ব্যবহার করি? আবার অফিসে বা রেস্তোরাঁয় কয়টা ব্যবহার করি? আমার চোখে দেখা অনেক মানুষকে দেখেছি দুই জায়গায় আমাদের আচরণ সম্পূর্ণ বিপরীত। এই জন্যই প্রবাদ তৈরি হয়েছে ব্যবহারে বংশের পরিচয় যা যথার্থই। কিন্তু অতি যথার্থ হইতো যদি এমন হতো- মানুষের কর্মই তার আচরণের পরিচায়ক।
16/06/2025
সবার আগে প্রত্যেক জেলা শহরে সর্বাধিক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ও আধুনিক হাসপাতাল বানানো জরুরী। প্রথমতঃ একজন রুগী যেকোন সময় ভর্তি হয়ে আধুনিক চিকিৎসা পেতে পারে। দ্বিতীয়তঃ এর ফলে কমে আসবে ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা বেসরকারি ক্লিনিক এর প্রতি নির্ভরশীলতা।
আমার গত ১৫ বছরের সরকারী হাসপাতালে যাতায়াতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি যে একজন মুমূর্ষু রুগী একটা বেড পাওয়ার কতটা আকুতি, বিনা পয়সায় একটা ট্রলি পাওয়ার আকাংক্ষা, সময়মত নিখুঁত নার্সদের সেবা পাওয়া আর সময় ডাক্তারের নাগাল পাওয়া। সব মিলিয়ে সরকারি হাসপাতালগুলো দিন দিন মানহীন হয়ে পড়েছে আনুপাতিক হারে। আমাদের দেশের রাস্তা ঘাট, বড় বড় প্রকল্প যেভাবে বর্ধিত হচ্ছে মেডিকেল সেক্টরে চোখে পড়ার মত উন্নয়ন দেখা যায় নাই বিগত বছরগুলোতে।
এখন আধুনিক ও প্রশস্ত হাসপাতাল সময়ের দাবী।
16/06/2025
একজন বাবা তার আদরের ছেলে বা মেয়ের নামে যে অনুপাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করে বাংলাদেশের একটা সন্তান ছাড়া কোন সন্তানকেই দেখিনি তার বাবার নামে কোন প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করতে।
ইহকাল পরকালে সকল বাবা ভাল থাকুক
14/06/2025
গ্রামের মানুষ এখনও মেডিকেল ট্রিটমেন্ট বা চিকিৎসা বিজ্ঞান বিশ্বাস করে না বা বিশ্বাস করলেও তাদের মধ্যে একধরনের জড়তা রয়েছে। জিজ্ঞেস করলে বলে- আমাদের তো কবিরাজের কাছেই বহু আগে থেকে রোগ হয় তাহলে এখন ক্যান ভাল হবে না? আমি নিয়মিত অবাক হয়েছি এধরণের কথায়। কোনভাবেই বুঝাতে পারি না যে তখন যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত ছিল না এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাও অতটা উন্নত ছিল না এখনকার মত। তাই বছর ৩০ বা ৫০ আগে গ্রামের লোকজন শহরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারত না এবং তখন চিকিৎসা বিজ্ঞানও আধুনিক ছিল না। এখন মানুষ ঘরের কাছেই অন্ততঃ সর্বাধুনিক না হলেও আধুনিক চিকিৎসা নিতে পারছে। সেখানে নাই কোন যাতায়াতের বিড়ম্বনা। কিন্তু তাতেও তাদের আপত্তি।
এবার ঈদে বাড়িতে গিয়ে দেখি এক বাচ্চার হাত ভেঙ্গে গেছে তো আমি, আমার বউ বললাম রাজশাহী মেডিকেল এ নিয়ে যাওয়ার জন্য কিন্তু তারা কবিরাজের কাছেই যাবে। বলার কিছু পেলাম না, বলে মেডিকেল এ গেলে বাচ্চার ১ মাসের বেশি সময় লাগবে আবার কার নাকি ভাল হয় নাই ইত্যাদি। উদাহরণ দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করলাম- কবিরাজের চিকিৎসায় অনেকেই ভাল হয় এটা ঠিক কিন্তু তারা আন্দাজ করে হাড় ভাঙ্গার চিকিৎসা করে থাকে, অনেক সময় দেখা যায় হাড় জোড়া লেগেছে কিন্তু ডিফেক্ট রয়ে গেছে বা বাঁকা হয়ে জোড়া লাগছে ইত্যাদি। কিন্তু মেডিকেল ট্রিটমেন্ট এর ক্ষেত্রে সেটা হওয়ার চাঞ্চ নাই কারণ সেখানে এক্সরে বা এমআরআই করে ট্রিটমেন্ট করা হয়। তাহলে কেন আমরা কবিরাজ এর কাছে এখনো যাচ্ছি। এরপরও যেই লাউ সেই কদু, কে শুনে কার কথা?
তো এই হচ্ছে আমাদের সমাজ ও গ্রামের পরিবারের অবস্থা। প্রত্যেক পরিবারের শিক্ষিত লোকের কতটা অভাব তা এখান থেকেই প্রতীয়মান হয়।
--জফর ইকবাল
14/06/2025
গ্রামের সকালকে খুব মিস করছি