aiozon.com

aiozon.com

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from aiozon.com, Shahzadpur.

09/09/2025
04/08/2023
aiozon.com 03/10/2021

প্রশ্ন:
দাসপ্রথার বিলুপ্তি সাধনে
ইসলামের ভূমিকা কী?

সত্যমনা লেখক
আহমাদ আব্দুর রাজ্জাক

উত্তর:
দাস। শব্দটা শুনতেই হৃদয়পটে কিছু অমানবিক চিত্র উদিত হয়। কল্পনা-জগতে কিছু মনুষ্যত্বহীন দৃশ্য ভেসে আসে। শিকলে বাঁধা, কঠোর পরিশ্রমী কিংবা মাটিতে গড়াগড়ি খাওয়া কিছু লোকের ছবি। এ তো হৃদয়পটে উদিত চিত্র। কল্পনা-জগতে ভাসা দৃশ্য। বাস্তবতা ছিল আরো কঠিন। আরো নিষ্ঠুর।

দাস মানেই ছিল সমাজের সবচে অবহেলিত মানুষ। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ও কনকনে শীতে আঞ্জাম দিতে হতো মালিকের কাজ। সামান্য আহার ও ছেঁড়া কাপড়ে কাটতো দিন রাত। এভাবে বলা যায়, দাস মানেই ছিল শুধু দেখতে মানুষ।

ইসলাম এসে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে ঐ দাসপ্রথাকে। দাস আর প্রভূর মাঝে জুড়ে দিয়েছে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন৷
১/ দাসরা তোমাদের ভাই। তোমরা যা খাও, তোমাদের ভাইদেরকে তা-ই খাওয়াও। তোমরা যা পরিধান করো, তোমাদের ভাইদেরকে তা-ই পরিধান করাও। তোমরা সাধ্যের বাইরে কোন কাজ করিয়ে নিও না। যদি নিতে হয় তাহলে তোমরাও তাদের সাথে করো।
( বুখারী ৬১৫০, মুসলিম ১৬৬১, আবু দাউদ ৫১৫৮ ইবনে মাজা ৩৫৯০)

২/ এমনকি দাসকে দাস বলে সম্বোধন করো না। বলো, আমার ছেলে, আমার মেয়ে। আমার ভাই, আমার বোন। বেশি থেকে বেশি আমার খাদেম।
( বুখারী ২৫৫২)

৩/ অনেক স্কলার এটাকে মাকরূহ বলেছেন। যেটা কিনা হারামের নিকটবর্তী।

৪/ তাদেরকে শিক্ষাও প্রদান করা হতো। তারা যেন শিক্ষিত মানুষ হিসেবে সমাজে মাথা উঁচিয়ে থাকতে পারে৷ এ ব্যাপারেও ইসলাম দিয়েছে তাগিদ।
( মুসলিম ৯৯৬, সহীহ ইবনে হিব্বান ৪২৪১)

যার ফলশ্রুতিতে দাসেরা সমাজে দাস হিসাবে পরিচিত হতো না।
এমন অনেক দাসের ইতিহাস ইসলামে আছে, যারা শিক্ষা অর্জন করে রাষ্ট্রের বিভিন্ন পদে নিযুক্ত ছিলেন।

১/ যায়েদ বিন হারিস রা.। তিনি ছিলেন রাসূলের দাস। কিন্তু সমাজ তাকে চিনতো রাসূল সা. এর পুত্র হিসেবে। তিনি মুতার যুদ্ধে চিফ অফ আর্মির স্টাফ ছিলেন।
তার পুত্র উসামা রা. বড় বড় সাহাবিদের উপরে জেনারেল নিযুক্ত হয়েছিলেন।
২/ ইবনে ওমর এর দাস এবং ওমর রা. এর দাস প্রফেসর অফ হাদিস সায়েন্স বা মুহাদ্দিস হয়েছিলেন।

৩/ দাস আতা ইবনে আবী রাহাভ রহ. হয়েছিলেন চিফ অফ জাস্টিস ইন মক্কা ( গ্রান্ড মুফতি)৷

৪/ ইবনে আব্বাস রা. এর দাস ইকরামা রহ. কে তিনি লেখাপড়া শিখাতেন। তিনি এতোটাই শিক্ষা অর্জন করেছেন যে, তাকে বলা হত বাহরুল উম্মাহ বা জাতীর বিদ্যাসাগর।
৫/ রাসূল সা. এর যুগে দাসেরা ইমামতির দায়িত্ব পালন করতেন। যেটা কিনা ছিল সবচে সম্মানিত কাজ। (বুখারি শরিফ ৫৩১)

১/ পূর্বের সমাজে স্বাধীন মানুষকে কেনা বেচা করা বৈধ ছিল। যা ইসলাম সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে। এমন কি এ ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

রাসূল সা. বলেছেন, কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহ তায়ালা তিন শ্রেণির মানুষের বিরুদ্ধে বাদী হবেন।
এদের মধ্যে এক শ্রেণি হলো, যারা স্বাধীন মানুষকে বিক্রি করে তার মূল্য ভক্ষণ করেছে। ( সহীহ বুখারী, খন্ড ৪ র্থ, পৃ ৮৮)

২/ কেউ ঋণ পরিষদে অক্ষম হলে তাকে দাস দাসী বানানো হতো।
যা ইসলামে বৈধ নয়।

৩/ অপহরণ করে দাস দাসী বানানো হতো। যা ইসলামে বৈধ নয়।

৪/ দরিদ্র লোকেদের দাস দাসী বানানো হতো। যা ইসলামে বৈধ নয়।

৫/ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসে যারা বন্দী হতো। তাদেরকেও দাস দাসী বানানো হতো। এই একটা মাত্র ক্ষেত্র ছাড়া ইসলামে দাস দাসী বানানোর কোন বিধান নেই।
তবে হ্যাঁ, এখানেও ইসলাম মুক্তি দিয়েছে মানবতাকে। অক্ষুণ্ণ রেখেছে মানুষের মর্যাদাকে।

প্রাচীন রাষ্ট্র ব্যাবস্থায় যুদ্ধবন্দীদেরকে হত্যা করা হতো। কিংবা দাস দাসী বানানো হতো।
(১) কিন্তু ইসলাম বলেছে, যদি তারা তোমাদের সাথে চুক্তি করে ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে। তাহলে অবশ্যই ছেড়ে দিবে। ওয়াদা রক্ষা করা ইসলামের অন্যতম একটা গুরুত্বপূর্ণ বিধান।

(২) যুদ্ধ বন্দীদেরকে ক্ষমা করে দাও। তাদেরকে বিনা মুক্তিপণে ছেড়ে দিবে।
(৪৭ঃ৪)

(৩) মুক্তিপণ নিয়েও ছাড়তে পারো। (৪৭ঃ৪)

(৪) যদি যুদ্ধে কোন লিডার বন্দী হয়। যাকে ছেড়ে দিলে আবার যুদ্ধের প্রস্তুতি নিবে। আবার হুমকি হয়ে ফিরবে। তাকে মৃত্যুদণ্ড দিতে পারো।

(৫) এ সব কিছুর পরে হলো দাসত্ব। অর্থাৎ যুদ্ধবন্দীদেরকে সৈনিকদের মাঝে বন্টন করে দেয়া। ইসলামের এই মহান ব্যবস্থাকে যে কোন নিরপেক্ষ মানুষ সাপোর্ট দিবে।
কারণ, আধুনিক বিশ্বের ব্যবস্থাপনার চেয়ে এ ক্ষেত্রে ইসলাম অধিক মানবিক।
যেমন:
১/ আজ আধুনিক কালে চিড়িয়াখানার পশুর মত যুদ্ধবন্দীদেরকে রাখা হয়।

২/ আধুনিক কালের ব্যবস্থাপনায় সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং মানবিক অধিকার নিশ্চিত করা হয় না। কিন্তু ইসলামে এ সব অধিকার নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।

৪/ বর্তমান বিনা শর্তে মুক্তি দেয়ার বিধান নেই। কিন্তু ইসলামী রাষ্ট্র ব্যাবস্থায় তা আছে।

৫/ জেলখানায় বিয়ের ব্যাবস্থা নেই। যা কতটা মানবীয় প্রয়োজন বুঝানোর দরকার নেই। কিন্তু ইসলামি রাষ্ট্র ব্যাবস্থায় আছে।

এ থেকে বোঝা যায় ইসলাম কতোটা মানবিক ধর্ম। পৃথিবীর ইতিহাসে ইসলামের মতো শান্তির ধর্ম কখনো হয়নি, বর্তমানেও নাই, আগামীতেও হবে না।

aiozon.com Product/service

aiozon.com 03/10/2021

প্রশ্নঃ
উম্মুল মু'মিনীন হযরত মারিয়া কিবতিয়া সম্পর্কে খৃস্টান মিশনারী ও নাস্তিক-মুক্তমনাদের অপপ্রচারের জবাব চাই।

সত্যমনা লেখক
আহমাদ আব্দুর রাজ্জাক

উত্তর:
নবী মুহাম্মাদ আরাবি সা.। যার 'হুসনুল আখলাক' বা উত্তর চরিত্র নিয়ে হাজার পৃষ্ঠা লেখা যাবে। তবুও শেষ হবে না, তার চরিত্রের বর্ণনা। স্বয়ং আল্লাহ যার চরিত্র সম্পর্কে বলেছেন:
وانك لعلى خلق عظيم ( القلم ، الاية ٤)
( হে নাবী) নিশ্চয়ই আপনি মহা চরিত্রের অধিকারী।
সূরা কলাম, আয়াত নং ৪

এবং হাদিসেও বলা হচ্ছে:
قال رسول الله صلى الله عليه و سلم: "بعثت لاتمم حسن الاخلاق"
রাসূল সা. বলেছেন, আমাকে পাঠানো হয়েছে উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা দিতে৷
মুওয়াত্তা মালেক, ১৬৩৩
মুসনাদে আহমাদ, ৪৯৫২
হাদিসের মান, ছহীহ।

মক্কার কাফের মুশরিকরা মুহাম্মদ আরাবি সা. কে অসম্মানিত করার জন্য নানান অপবাদ দিয়েছে। কখনো বলেছে পাগল কখনোবা জাদুগর। আবার কখনো বলেছে জীন ভূত ধরেছে। চরিত্র নিয়ে কখনো প্রশ্ন তুলেনি। কারণ তারা জানতো, মুহাম্মদ আরাবি সা. এর চরিত্র নিয়ে সমালোচনা করা আর সূর্যের দিকে তাকিয়ে ভেটকি মারা সমান।

কিন্তু হাস্যকর ব্যপার হলো, রাসূলের চরম শত্রুরাও যেখানে তার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেনি। সেখানে কিছু খৃস্টান মিশনারী আর নাস্তিক-মুক্তমনাদের অবতারণা।

একটা সাধারণ যুক্তি, রাসূল সা. এর চরিত্রে যদি সরিষা পরিমাণ আপত্তি থাকতো তাহলে তো সবার আগে তার সেই চরম শত্রুরা সেটাকে হাইলাইট করতো।
যাহোক, খৃস্টান মিশনারী ও কথিত মুক্তমনাদের জবাব দিই ।

খৃস্টান মিশনারীদের জবাব:

মুহাম্মদ একজন নবী। নবী হয়ে তিনি কিভাবে দাসী গ্রহণ করলেন!? আবার সেই দাসী থেকে কিভাবে সন্তান নিলেন!!?

দাসী গ্রহণ করা ও তার থেকে সন্তান নেয়া যাবে না। কোন ধর্মে এটা নিষেধ আছে?
ইসলামপূর্ব একটা ধর্মের রেফারেন্স কোট করতে পারবেন? যেখানে বলা আছে, দাসী গ্রহণ হারাম।

চলুন কিছু বড় বড় ধর্মীয় গ্রন্থের বক্তব্য জেনেনিই।
হিন্দু ধর্মে দাসী প্রথাকে বৈধতা দেয়া হয়েছে। দাসী প্রথাকে অবৈধ বলা হয় নি। [১]

ইহুদি ধর্মও দাসী প্রথাকে বৈধতা দিয়েছে।
মিদরাসে বলা হচ্ছে,
"সোলাইমান আ. এর ৭০০ জন স্ত্রী এবং ৩০০ জন দাসী ছিলো।"[২]

এমনকি খৃস্টান মিশনারীদের নিজধর্মে অসংখ্য জায়গায় দাসী গ্রহণের কথা বলা হয়েছে৷
কিছু রেফারেন্স তুলে ধরা হলো৷
খৃস্টানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ বাইবেলে শত্রুদের কুমারী নারীদের দাসী বানাতে বলা হয়েছে৷

"সমস্ত মিদিয়নীয় পুরুষদের হত্যা করো। সমস্ত মিদিয়নীয় স্ত্রীদের হত্যা করো যাদের কোন পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক ছিলো। কিন্তু যারা কোন পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেনি তাদেরকে দাসী হিসেবে বাঁচিয়ে রাখো৷" (৩)

"বাইবেল অনুসারে একজন পিতা চাইলে তার কন্যাকে দাসী হিসেবে বিক্রি করে দিতে পারে। আর একবার দাসী হিসেবে বিক্রি হলে, সে আর কোনভাবে মুক্তি পাবে না" (৪)

"ইব্রাহিম আ.কে সারীর ভাই মনে করে ফরৌণ ইব্রাহিম আ. এর প্রতি সদ্ব্যাবহার করলেন। ফৌরণ ইব্রাহিম আ.কে মেষ গবাদিপশু এবং বোঝা বইবার জন্য গাধা উপহার দিলেন। সেই সঙ্গে দাসদাসী এবং উঁটও পেলেন।" (৫)

"ইসমাইলের বংশ বৃত্তান্ত এই, ইব্রাহিম ও হাজেরার পুত্র ছিলেন ইসমাইল। অথচ হাজেরা ছিলেন সারার মিশরীয় দাসী।" (৬)

এইযে উপহার হিসাবে দাসী গ্রহণ করা। এবং তার থেকে সন্তান নেয়া। স্বয়ং ইব্রাহিম আ. এটা করেছেন৷
অপর দিকে বাইবেলে ইব্রাহিম আ. কে "ঈশ্বরের বন্ধু বলা হয়েছে"।(৭)

আরো অনেক রেফারেন্স কোট করা যবে। কিন্তু যা উপস্থাপন করেছি এতটুকুই যথেষ্ট।
এখন খৃস্টান মিশনারীদের কাছে প্রশ্ন, যে খানে আপনার ধর্ম দাসী প্রথাকে বৈধতা দেয়। সেখানে আপনি কিভাবে ইসলামের সমালোচনা করেন?
যেখানে ইব্রাহিম আ. দাসী গ্রহণ করে তার থেকে সন্তান নিয়েছেন। এবং খৃস্টধর্ম তাকে আল্লাহর বন্ধু বলেছে। সেখানে নবী মুহাম্মাদ এই জায়েজ কাজটা করাতে তার চুল পরিমাণ মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হবে কেনো??

কথিত মুক্তমনাদের প্রশ্নের জবাব:

কথিত মুক্তমনাদেরকে বলার কী আছে ! কিছু বলার আগেই তো তাদের উত্তর পেয়ে যাওয়ার কথা।
কারণ নাস্তিক্য ধর্মে সেক্স করার জন্য শর্ত হলো শুধু মাত্র 'সম্মতি'।
অর্থাৎ সম্মতি থাকলেই সেক্স করা বৈধ। আরো নোংরা ব্যপার কি জানেন, সম্মতি থাকলে আপন মেয়ে, বোন এমনকি মায়ের সাথেও সেক্স করা যাবে।
শুধু কি এখানেই ক্ষান্ত, তারা বলে যদি পশু সম্মতি দিতে পারতো তাহলে তার সাথেও সেক্স করতে কোন সমস্যা নেই।( ৮)

এখন যদি এভাবে বলি 'মারিয়া কিবতিয়া' একজন দাসী ছিলেন। যার সব কিছুই চলতো তার মনিবের ইচ্ছায়। আর তার মনিব যখন মুহাম্মাদ সা.কে উপহার সরূপ তাকে পাঠাতে চাইলেন৷ তখন মারিয়া কিবতিয়া রা. নিজেই এসে ছিলেন মুহাম্মদ সা. এর কাছে৷ এবং এসে মুহাম্মাদ সা.কে জীবন সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।
ব্যাস, এতটুকুই উগ্র নাস্তিকদের জন্য যথেষ্ট।

কিন্তু না। আমরা শুধু এভাবে বলবো না। নাস্তিকদের মধ্যে যারা বুঝতে চান। সত্য মানার সক্ষমতা আছে। তাদেরকে বলবো।

দেখুন , ইসলামে নারী পুরষের বিশেষ সম্পর্কটা অর্জিত হয় শুধু মাত্র বিবাহের মাধ্যমে। আর বিবাহটা হচ্ছে, কমপক্ষে দু'জনকে সাক্ষী রেখে নারী-পুরুষের ইজাব কবুল ( সম্মতি এবং গ্রহণ)।
এক কথায় বললে, 'সোশ্যাল এগ্রিমেন্ট'।(৯)

একজন দাসীর ক্ষেত্রেও ঠিক সে কাজটাই হয়৷
যেমন, মারিয়া কিবতিয়া রা. নিজ ইচ্ছায় এসেছেন। এবং বিশেষ একধরনের সোশ্যাল এগ্রিমেন্টও হয়েছে।

নাস্তিকরা হয়ত বলবেন, নবী মুহাম্মাদ সা. তো তাকে মুক্ত করে বিবাহ করতে পারতেন! হ্যাঁ ভাই, পারতেন। তিনি অন্য ক্ষেত্রে এমনটা করেও ছিলেন।

যেমন:

★সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই।
★রায়হান বিনতে জায়েদ।(১০)

এখানেও করেছেন। তাকে সম্পূর্ণ স্ত্রীর অধিকার দিয়েছেন। কারণ, মারিয়া কিবতিয়া রা. এর সাথে দাসী হিসেবে তার আপন বোন শিরিনও এসে ছিলো। রাসূল সা. এর যদি দাসী হিসেবে রেখে দেয়ার ইচ্ছে থাকতো। তাহলে দু'বনকে একসাথে রাখতে পারতেন৷ কিন্তু স্ত্রী হিসেবে রেখেছিলেন দেখে, তার বোনকে রাসূল সা. হাসসান ইবনে সাবিতের হাতে তুলে দিয়ে ছিলেন। (১১)

................................................................
তথ্যসূত্রঃ
[১] ভগবতগীতা ৪:৭২
[২]Holy Bible -1 kings: Chapter 11,Verse:3
[৩] Holy Bible -Book of Numbers: Chapter :31, Verse:17-18.
[৪] Holy Bible - Book of Exodus: Chapter 21, Verse 7
[5] বাইবেল, BBS( বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটি) আদি পুস্তক ১২:১৬
[৬] যাকোবের পত্র ২:২৩
[৭] বাইবেল যিশাইদ ৪১:৮
[৮] নাস্তিকতার মূলোৎপাটন : ৫১ নং পোস্ট।
[৯] শরহে বিকায়া ১। কিতাবুন নিকাহ।
[১০] প্রিয়তমা, সালাহউদ্দিন জাহাঙ্গীর। পৃষ্ঠা ৩৩৩
[১১] প্রিয়তমা, পৃষ্ঠা ৩৩৪

aiozon.com Product/service

03/10/2021

ধর্মনিরপেক্ষতাও একটি পক্ষ।

আজ পৃথিবী জুড়ে ধর্মনিরপেক্ষতার যে চর্চা চলছে , বলা যায় না আগামী পৃথিবীর গল্পটা কেমন হয়। আরো ভাবতে হয় মুসলিমরাও যখন ধর্মনিরপেক্ষতাবাদকে না বুঝে সমর্থন দিয়ে যায়। যদিও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ নামটা শুনলেই মনে হয়, এই মতবাদ ধর্মের পক্ষে। ধর্মীয় অধিকারের পক্ষে। কিন্তু আসলেই কি তাই? বাস্তবতা কী? প্রবন্ধের ভাঁজে ভাঁজে সে কথাগুলো থাকবে।

সেকুলারিজম (ধর্মনিরপেক্ষবাদ) খুবই পরিচিত একটি মতবাদ।
Oxford Dictionary তে Secularism এর সংজ্ঞা:
Secularism means the doctrine morality should be based solely on regard to the wellbeing of mankind in the present life, to exclusion of all consideration drawn form belief in god or in future life.
অর্থ: সেকুলারিজম এমন একটি মতবাদ, যে মতবাদে মানবজাতির ইহজগতের কল্যাণ চিন্তার উপর গড়ে উঠবে এমন এক নৈতিক ব্যবস্থা, যেখানে থাকবে না কোনো ধরনের আল্লাহ ও পরকাল বিশ্বাসভিত্তিক বিবেচনা।

Encyclopedia বা বিশ্বকোষে Secularism এর দুটো সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে:
1.
Secularism Spirit on tendency especially a system of political or Social philosophy that reject all from fo religious faith.
ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ এমন একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শন যা সকল ধর্মবিশ্বাসকে প্রত্যাখ্যান করে।
2.
The view that Public education and other mattens of civil Society conducted without the introduction of religious element.
সেকুলারিজম এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে সাধারণ শিক্ষা ও সামাজিক সংস্থা পরিচালনায় কোনো ধরনের ধর্মীয় উপাদান অন্তর্ভুক্ত হবে না।

মোট কথা, একমাত্র ব্যক্তি জীবন ছাড়া অন্যকোথাও ধর্মকে আনা যাবে না। সমাজ, রাষ্ট্র, শিক্ষা, ব্যাবসা ইত্যাদি যত ক্ষেত্র রয়েছে, কোনো ভাবেই এগুলোতে ধর্মের প্রভাব চলবে না।

সেকুলারিজম প্রাচ্যের কোনো মতবাদের নয়। পাশ্চাত্যের কিছু ধর্ম বিদ্বেষী দার্শনিকের গবেষণার ফলাফল। অর্থাৎ ইউরোপ থেকে ছড়িয়ে পড়া মতবাদ।

জর্জ জ্যাকোব হোলাইয়ক ( George Jacob Holyoake ১৮১৭ - ১৯০৫)
যিনি ১৮৪১ সালে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে ছিলেন, ঈশ্বর বলতে কিছু নেই। খৃষ্ট
ধর্মীয় আইন অনুযায়ী তাকে ক্যালটেনহামের কারাগারে পাঠানো হয়৷ ধর্মের প্রতি চরম বিদ্বেষ আর ঘৃণা নিয়ে, কারাগারের দিনগুলো কাটান তিনি।

কারাগার থেকে বের হলেন। এবার শক্ত হাতে কলম ধরলেন ধর্মের বিরুদ্ধে। Reasoner নামক পত্রিকায় ছড়িয়ে দিতে লাগলেন ধর্মহিনতার বার্তা। পরকাল, পুনরুত্থান, জান্নাত জাহান্নাম এসব কিছু থেকে ফিরাতে লাগলেন শুধু ইহজীবনের দিকে। ছুটতে থাকলেন, উদ্দেশ্যে পৌঁছতে দুরন্ত ঘোড়ার ন্যায়।

১৮৪৯ সালে তিনি Secular Society গঠন করেন। গড়ে তুলেন বাঁধ ভাঙা আন্দোলন।
এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লো দেশের আনাচে কানাচে। ১৮৬৬ সালে তার সংগঠনে যোগ দিলেন Mr.Charles Bradlaugh. তখন এই Secular Society হয়ে গেলো International Secular Society । Mr. Charles হলেন ওই সোসাইটির সভাপতি। আর জর্জ জ্যাকব হলেন সেক্রেটারি।

জর্জের থেকে একধাপ এগিয়ে আছেন ধর্মের প্রতি বিদ্বেষে চার্লস। তাই ১৮৮০ তে যখন বিলাতে Northampton আসন থেকে M. P নির্বাচিত হন। তখন তিনি ধর্মীয় কায়দায় শপথ নিতে হবে বলে, শপত পর্যন্ত নেননি। ফলে তার আসন খালি পড়ে থাকে। দু'বছর পারে শপথ নেয়ার এ পদ্ধতিই বাতিল করা হয়। এরপর তিনি একই আসন থেকে টানা চার বার M.P নির্বাচিত হন। আর তখনই এ আন্দোলন স্বদেশ থেকে বের হয়ে অন্যান্য রাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকটা বুক ফুলিয়ে। ধর্মকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে।

থেমে নেই তাদের কাজ। সময়ের গতির সাথে বাড়ছে তাদের কাজেরো গতি।

সেকুলারিজমের আন্দোলনকে বেগবান করতে, আধুনিক যুগের বুদ্ধিজীবীরা যেনো আরো কঠিন। আরো সতর্ক। ধর্মের কথা শুনলেই যেন তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে।
চার্লস তার Autobiography বইয়ে লিখেন:
'সেকুলারিজম ও আস্তিকতা পাশাপাশি চলতে পারে না। তাই আস্তিক্যবাদী বিশ্বাসের সাথে লড়াই করা সেকুলারিজমের জন্য অপরিহার্য। অদৃশ্য বিশ্বাস ও মানবপ্রগতি পাশাপাশি চলতে পারে না'।

'ধর্মীয় বিশ্বাস প্রতিহত করাই সেকুলারিজমের কর্তব্য। কেননা এসব কুসংস্কার মূলক ধারণা, বিশ্বাস যতোদিন পর্যন্ত পূর্ণ শক্তিতে বিরাজমান থাকবে, ততোদিন পর্যন্ত বস্তুগত উন্নতি লাভ কল্পনাতীত হয়ে থাকবে।

'ধর্ম অজানা জগত নিয়ে কথা বলে। ফলে ইহকালীন বিষয়ে ধর্মের কোনো স্থান নেই, যেমন পরকালের ব্যাপারে সেকুলারিজমের কোনো বক্তব্য নেই'।

*Jefferson বলেন:
'সেকুলারিজম ধর্ম ও রাষ্ট্রের মাঝে একটি দেয়াল নির্মাণ করতে চায়'।

*John Stuart Mill বলেন:
'ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে মানুষকে অন্যকারো কাছে অর্থাৎ স্রষ্টার কাছে দায়ী থাকতে হবে - আমি এ ধারণাকে দৃঢ়তার সাথে প্রত্যাখ্যান করছি'।

আরো কিছু বিখ্যাত ব্যক্তি এ আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন, চার্লস সাউথওয়েল, থমাস কুপার, প্যাটারসন, D, W, ফুট।
এনাদেরও একই বক্তব্য।
Secularism is independent of Religion.
Secularism is not dependent on Religion.
Secularism is not subordinate to Religion.
Secularism is not controlled by Religion.
A secular person does not belongs to any Religion.

সেকুলারিজম নতবান যেমন একজন মুসলিমের শত্রু, ঠিক হিন্দু, বৌদ্ধ, ইহুদি, খৃষ্টান তাদেরো শত্রু।
এ মতবাদ যেমন ইসলামের জন্য হুমকি, ঠিক অন্যান্য ধর্মের জন্যও হুমকি।

খৃষ্টীয় যাজক ও সেকুলারদের মাঝে কিছু মৌলিক বিষয়ের সংঘাত ছিলো৷
প্রথম বিষয়টা হলো, যাজক কর্তৃক বস্তুগত উন্নতির বাধা। তারা মানুষকে সম্পূর্ণ দুনিয়া বর্জনের উপদেশ দিতেন৷ অথচ নিজেরাই দুনিয়ার ভোগবিলাসে ডুবে থাকতেন।

দ্বিতীয়ত তারা সন্নাসবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। এবং এ বিষয়ে মানুষকে উদ্বধ্যও করতেন। এখনো ক্যাথলিক পোপেরা এমনটা করে থাকেন। যেটা আসলে এক প্রকার বাড়াবাড়ি।

তৃতীয়ত যাজকদের পাশবিকতা। যেটা ইতিহাসে আজো কলঙ্ক হয়ে আছে। Islam and The world (আবুল হাসান আলী নদভী রহঃ এর রচিত) বইটিতে সুন্দরভাবে যাজকদের সেই পাশবিকতার চিত্র ফুটে উঠেছে।
যাজকরা সে সময় বিজ্ঞানীদের উপর অমানবিক নির্যাতন করেছেন। তারা পুড়ানো থেকে শুরু করে ক্ষুধার্ত সিংহের খাঁচায় পর্যন্ত বিজ্ঞানীদেরকে নিক্ষিপ্ত করেছেন। আর এ বিষয়গুলো সেকুলাররা মেনে নিতে পারিনি।
যাজকদের সাথে তাদের বিরোধিতা গিয়ে পড়ে খৃষ্টধর্মের উপর। ক্রমান্বয়ে ধর্মের উপর।

এখন দেখার বিষয় হলো সর্বশেষ চূড়ান্ত ধর্ম ইসলাম!? আমাদের ইসলানও কি ঐ বিষয়গুলোর সাথে একমত!!?

না। আমাদের ইসলাম তা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। ভিন্ন। অনন্য। ইসলাম সকল অন্যায়ে যেভাবে সোচ্চার ছিলো। সকল সমস্যার যেভাবে সমাধান দিয়েছে। ঠিক এখানেও তাই।

ইসলাম বস্তুগত উন্নতির জন্য 'বাধা' নয়। বরং উদ্বুদ্ধুকারী। কোরআনে অনেক আয়াত আছে যা দুনিয়াতে আল্লাহর রিজিক সন্ধান করতে বলেছে৷ এমনকি এভাবে বলেছে, তোমরা ফজর আদায় করে কর্মের জন্য। রিজিক সন্ধানে বেরিয়ে পড়ো।

সন্নাসবাদের বিরুদ্ধেও ইসলামের বাণী প্রদীপ্ত।
'রাসূল সাঃ বলেন, হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যাদের বিবাহের সামর্থ্য আছে সে যেন অবশ্যই বিবাহ করে...।
(বোখারী, মুসলিম)

আর জ্ঞান বিজ্ঞান! সে তো ইসলামই শিক্ষা দিয়েছে। আধুনিক যুগে যারা বিজ্ঞানের মডেল সেজে বসে আছে। তাদের বিজ্ঞানের সৌধ নির্মাণ হয়েছে মুসলমানদের জ্ঞান বিজ্ঞানের ভিত্তির উপর।

চলুন ইতিহাসের পাতা উল্টে দেখি। ৩২৪ সাল। রোম সম্রাট কনস্টাইন। তুরস্ক দখল করলেন। রোম থেকে রাজধানী স্থানান্তর করে ইসতাম্বুলে স্থাপন করলেন। নাম রাখলে 'কনস্টানটিনেপোল'। বাইযানটাইন সম্রাটগণ এখান থেকে ভূমধ্যসাগরের উভয় তীরে ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকায় দাপটের সাথে শাসনকার্য পরিচালনা করতেন। তাদের রাজত্ব কালে ইউরোপের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা কনস্টান্টিনোপল, বাগদাদ, দামেস্ক, বৈরুত,কায়রো,গ্রানাডা, কর্ডোভা ইত্যাদি মুসলিম অধ্যষিত স্থানের ইসলামীক বিদ্যাপীঠগুলোতে লেখা পড়া করতো।

১৪৫৩ সালে উসমানী খলিফার হাতে কনস্টান্টিনোপলের পতন হয়৷ আর তারা ইউরোপ ফিরে যায়৷ যাবার সময় বই-পুস্তক, গবেষণালব্ধ তথ্য ও তত্ব এবং অতীতের পান্ডুলিপি সাথে নিয়ে যায়।
তা ছাড়া এ সময় তারা আরবি থেকে বহু মূল্যবাণ বই-পুস্তক ইউরোপীয় ভাষায় অনুবাদ করেন।

সেকুলারদের যেন মূলভিত্তিতে আঘাত। এখন বিশেষকরে বাংলাদেশ সহ মুসলিম দেশগুলোতে তাদের অন্য গান। নিজেদের মূল পরিচয় গোপন করে এখন Secularism এর ভিন্ন সংজ্ঞা তারা দিচ্ছেন।
যেমন: তারা এখন বলে বেড়ায় মূলত আমরা সংখ্যালঘুদের বিষয়টা বিবেচনা ইসলামকে রাষ্ট্র ধর্ম থেকে বাদ দিতে চাই।
১/ আমরা চাই সব ধর্ম রাষ্ট্রে সমান নিরাপত্তা পাক।
২/ সব ধর্ম নিজ নিজ গতিতে চলুক৷
৩/ এক ধর্ম যেন আরেক ধর্মের উপর চড়াও না হয়।
ইত্যাদি।
হাস্যকর। ধর্মকে নির্মূল করার জন্য যাদের জন্ম হয়েছে। তারাই কিনা ধর্মকে নিজ নিজ স্বাধীনতা দিতে চায়।

সত্যমনা লেখক
আহমাদ আব্দুর রাজ্জাক
সত্যমনা ডট কম __মুক্তচিন্তা

Want your school to be the top-listed School/college in Shahzadpur?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Address


Shahzadpur