09/04/2020
Commercial---
H.S.Code কি? কেন প্রয়োজন? কিভাবে হারমোনাইজড সিস্টেমে চ্যাপ্টার, হেডিং, সাব হেডিং যেভাবে সৃজিত আছে তার সংক্ষিপ্ত বর্ননা আলোচনা করুন?
H S.Code abbreviation পূর্ণরুপ (Hermonized Commodity Description and Coding Systems ) Hermony থেকে হারমোনাইজড Hermony মানে সদৃশ্য করানো, মিল করানো, খাপ খাওয়ানো, তাল করানো, সমন্বয় পূর্ণ হওয়ানো। এখানে তাহলে বোঝা গেল হারমোনাইজড কমোডেটি ডেস্ক্রিপশন এন্ড কোডিং সিস্টেমস মানে এমন একটি সিস্টেম যার মাধ্যমে পন্যের বর্ননার সদৃশ্য করানো, মিল করানো, তাল করানো, খাপ খাওয়ানো বিষয়ক ব্যবস্থা।
আমরা জানি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাষার প্রচলন থাকার কারণে একি পন্য এক দেশে এক এক নামে ডাকা হয়, আবার এমন হয় কোন পন্য একি নামে দু বা তিন দেশের জনগণ হয়তো বুঝতে পারে কিন্তু সকল দেশের লোকজন চিনতে বা বুঝতে পারেনা, উদাহরণস্বরুপ চাইনিজ শব্দ চা(Tea), চিনি (Cane Sugar 1701.14.00) যা আমাদের দেশের লোকজন চিনতে পারে চা, চিনি কি পন্য এমনকি পশ্চিম বাংলার লোকজন চিনতে পারে চা, চিনি কি পন্য ? কিন্ত ধরুন আর্জেন্টিনার স্পেনিশ ভাষাভাষী লোকজন চা, চিনি বললে চিনবেন না পন্যটি আসলে কি? এটির ব্যবহার কিসে বা এটি দিয়ে কি করে?
এই অসুবিধা দূরীকরণের জন্য ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন সংখ্যা দ্বারা চিহ্নিত কোড ব্যবস্থাপনা দিয়ে চা, চিনি নামক পন্য গুলোকে বুঝানোর বা চেনানোর ব্যবস্থা করেছেন, যেমনঃ ব্লাক চা এর এইচ,এস,কোড ০৯০২.৪০.০০ আখের চিনির এইচ এস কোড ১৭০১.১৪.০০ এখন চা, চিনি বিক্রয় কালে বা রপ্তানির কালে বিক্রির দলিলাদিতে উক্ত ০৯০২.৪০.০০ এবং ১৭০১.১৪.৯০ এমন উল্লেখ থাকলে ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশনের সদস্য ভুক্ত সকল দেশের লোকজন এ সংখ্যা দেখা মাত্র বুঝতে পারবেন পন্য গুলো হলো চা
(Black Tea), বা চিনি ( Cane Sugar)
ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন, ব্রাসেলস, বেলজিয়াম ১৯৭৮ সালে প্রথম এ ব্যবস্থাকে একটি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসেন এবং তা সদস্যভুক্ত দেশের মধ্যে চালুর শুরুর চেষ্টা করেন । ওয়ার্ল্ড কাস্টমস কর্তৃক ১৯৮৩ সালে এইচ,এস,কোড গুলো বই আকারে প্রকাশ করা হয়। তার পথ ধরে ১৯৮৮ সালে আমাদের দেশে এ ব্যবস্থা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়। বর্তমানে বিশ্বের ১৮৩ টি দেশ ওয়ার্ল্ড কাস্টমস এর সদস্য এবং সদস্যভুক্ত দেশে ওয়ার্ল্ড কাস্টমস কর্তৃক প্রকাশিত ট্যারিফ শিডিউল অনুযায়ী আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
ওয়ার্ল্ড কাস্টমস প্রকাশিত হারমোনাইজড বুক অনুযায়ী আমাদের দেশে BCT বা বাংলাদেশ কাস্টমস ট্যারিফ শিডিউল এমন একটি কোডিং ব্যবস্থা সম্বলিত বই রয়েছে, যা কাস্টমস আইন ১৯৬৯ এর সেকশন ১৮ অনুযায়ী জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তৈরী করা হয়, এটি ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশনের তৈরী কোডিং বইয়ের প্রথম ৬ ডিজিট হুবুহু মিল রয়েছে । এ টারিফ বইকে আবার ট্যারিফ শিডিউল বলা হয়। এ শিডিউলে ০১ থেকে ৯৯ চ্যাপ্টার আছে এর প্রতি চ্যাপ্টারে পৃথিবীর উৎপাদিত কোন না কোন পন্যের কোডিং একি সাথে বর্ননা রয়েছে। তবে চ্যাপ্টার নং ৭৭ এ কোন পন্যের বর্ননা নেই এটি ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।
ট্যারিফ শিডিউলে বর্নিত এখানে উদাহরণস্বরুপ ০১০১.২১.০০(- Horses) (--Pure-bred breeding animals) এখানে ০১ প্রথম দুই ডিজিট হলো চ্যাপ্টার, চার ডিজিট ০১০১ হলো হেডিং, ছয় ডিজিট হলো ০১০১.২১ সাব-হেডিং,অবশেষে ০১০১.২১.০০ এমন ৮ ডিজিট হলো এইচ,এস,কোড বা হারমোনাইজড কমোডিটি ডেস্ক্রিপশন এন্ড কোডিং সিস্টেমস। বর্তমানে বাংলাদেশে ৮ ডিজিট বিশিষ্ট এইচ,এস,কোড প্রচলিত আছে, আবার আশিয়ান জোটভুক্ত দেশে যেমন সিংগাপুর, থাইল্যান্ড ১০ ডিজিট এইচ,এস,কোড অপর দিকে কানাডা আমেরিকায় ১২ ডিজিট এইচ,এস,কোড প্রচলিত আছে। অর্থাৎ প্রথম ৬ ডিজিটের পরবর্তী ডিজিট গুলো সদস্য দেশ গুলো তাদের নিজেদের শ্রেনীবিন্যাসের সুবিধার জন্য তারা বাড়িয়ে নেন।
এইচ,এস,কোড পৃথিবীর সকল দেশে প্রথম ৬ ডিজিট একি থাকে শুধুমাত্র ৬ ডিজিটের পরের ডিজিট পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ তাদের তাদের সুবিধার জন্য তাদের মত সৃজন করে থাকেন। মুল ট্যারিফ শিডিউল সৃষ্টি করেন World Customs Organisation, Brussels থেকে, আর প্রতিবছর যে নতুন পন্য পৃথিবীতে সৃষ্টি হয় সেগুলোর জন্য নতুন এইচ,এস,কোড সংযোজন করে এটি আপডেট করা হয়।
(ক) বাংলাদেশ কাস্টমস ট্যারিফে হারমোনাইজড সিস্টেমে চ্যাপ্টার, হেডিং,সাব হেডিং আছে যা ৯৯ টি চ্যাপ্টারকে আবার ২১ টি সেকশন আকারে সন্নিবেশিত করা হয়েছে। জেনারেল রুল অনুযায়ী প্রথমে জীবন্ত প্রানী, প্রানীজ দ্রব্য উদ্ভিদজাত দ্রব্য, কাচামাল, সেমি ফিনিসড প্রডাক্ট, ফিনিসড প্রডাক্ট এভাবে সাজানো হয়েছে। উদাহরণস্বরুপঃ চ্যাপ্টার ১ জীবন্ত প্রানী ঘোড়া, গরু, ছাগল, পাখি আবার দেখুন এনিমেল চামড়া চ্যাপ্টার ৪১, প্রাণীর লেদার ফুটওয়ার ৬৪, ফুটওয়ার মেশিনারি চ্যাপ্টার ৮৪।
(খ) আবার দেখুন এই পণ্যগুলো একটা সিকোয়েন্স অনুযায়ী সাজানো হয়েছে , যে পন্যের সৃষ্টি আগে হয়েছে সেটির হারমোনাইজড কোড আগে এসেছে পরের পন্যের কোড পরে এসেছে । উদাহরণস্বরুপ জীবন্ত গরু এইচ,এস,কোড ০১০২.২১.০০, গরু হতে প্রাপ্ত মাংশ এইচ,এস,কোড ০২০২.১০.৯০, গরু হতে প্রাপ্ত ফ্যাট ১৫০২.১০.০০, গরুর চামড়া ৪১০৭.১১.০০, গরুর চামড়ার জুতা ৬৪০৩.২০.০০ এবার খেয়াল করে দেখুন কিভাবে জীবন্ত গরু হতে জুতার দিকে এইচ,এস,কোড ধাপে ধাপে শেষের দিকে গিয়েছে। অপর দিকে উদাহরণস্বরুপঃ জীবন্ত গাছ এইচ,এস,কোড ০৬০২.৩০.০০, গাছের গুড়ি বা লগ এইচ,এস,কোড ৪৪০১.১২.০০ গাছের মন্ড বা পাল্প এইচ,এস,কোড ৪৭০৫.০০.০০, গাছের মন্ড থেকে পেপার ইন রোল এইচ,এস,কোড ৪৮১০.১৩.০০, এবার শেষ পর্যায়ে পেপারে ছাপানো বই এইচ,এস,কোড ৪৯০১.৯৯.১০ এবার খেয়াল করে দেখুন কিভাবে গাছ থেকে সর্বশেষ বই হয়ে আর এইচ,এস,কোড গুলো কিভাবে সিকোয়েন্স অনুযায়ী সেজেছে। যেটি পৃথিবীতে সৃষ্টির শুরুতে যেটি আগে এসেছে সেটি আগে সাজানো এবং যেটির আবিষ্কার পরে হয়েছে সেটির এইচ,এস,কোড পরে এসেছে যা মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে ক্লাসিফিকেশনের ধারাবাহিকতায় জায়গা করে নিয়েছে। কার্যক্ষেত্রে আপনি যদি চামড়ার এইচ,এস,কোড জানেন তাহলে চামড়ার তৈরী জুতার কোড খুজতে হলে ধরে নিবেন এটি চামড়ার কোডের পরে খুঁজে পাওয়া যাবে।
(গ) সেকশন ১ (চ্যাপ্টার ১হতে ৫) জীবন্ত প্রানী, প্রানীজ উৎপাদিত পন্য মাংশ, মাছ, ডেইরী প্রডাক্ট (গুড়ো দুধ), ডিম, মধু, অন্যান্য ভোজ্য/অভোজ্য পন্য, এভাবে সাজানো হয়েছে।
(ঘ) সেকশন ২ (চ্যাপ্টার ৬ হতে ১৪) এখানে আছে জীবন্ত গাছ, চারাগাছ, ভেজিটেবল প্রডাক্ট, বীজ, শাকসবজি, মশলা, ফলমুল, খাদ্য শস্য, । তবে খেয়াল রাখবেন নিদিষ্ট তৈল ও চর্বি জাতীয় পন্য চ্যাপ্টার ১৫ এবং গাছ মানে গাছের গুড়ি/চেরাই কাঠ বা তক্তা চ্যাপ্টার ৪৪ এভাবে সাজানো আছে।
(ঙ) সেকশন ৩ শুধুমাত্র চ্যাপ্টার ১৫ নিদিষ্ট করা হয়েছে, এখানে এনিমেল ও ভেজিটেবল ফ্যাট ও এর বিভাজন প্রডাক্ট সাজানো আছে।
(চ) সেকশন ৪( চ্যাপ্টার ১৬ হতে ২৪) মাংশের প্রসেস করা পন্য, চিনি, কোঁকোঁ, চকলেট, বিস্কিট , কোমল পানিয়, ওয়াইন লিকার, ভিনেগার, তামাক, সিগারেট এখানে সাজানো হয়েছে।
(ছ) সেকশন ৫ (চ্যাপ্টার ২৫ হতে ২৭) খনিজ দ্রব্য যেমন: লবন, সিমেন্ট ক্লিংকার , বিভিন্ন আকরিক, মার্বেল ব্লক, জ্বালানী তেল( ডিজেল, পেট্রোল, কেরোসিন) পেট্রোলিয়াম জেলি, এভাবে সাজানো হয়েছে।
(জ) সেকশন ৬ (চ্যাপ্টার ২৮ হতে ৩৮) ক্যামিকেল ও ফার্মাসিউটক্যাল প্রডাক্ট, ফার্টিলাইজার, সাবান, কসমেটিক্স, পেইন্ট, ভারনিশ, এক্সপ্লোসিভ এভাবে সাজানো হয়েছে।
(ঝ) সেকশন ৭ (চ্যাপ্টার ৩৯ হতে ৪০) এলডিইপি, এইচডিপিই চিপস, প্লাস্টিক পন্য, প্লাস্টিক আর্টিকেল, রাবার এন্ড রাবার আর্টিকেল সাজানো হয়েছে।
(ঞ) সেকশন ৮ (চ্যাপ্টার ৪১ হতে ৪৩) কাচাপাকা চামড়া, আর্টিকেল অব লেদার, ট্রাভেল ব্যাগ, ফার এন্ড ফার স্কিন এভাবে সাজানো হয়েছে।
(ট) সেকশন ৯ (চ্যাপ্টার ৪৪ হতে ৪৬) গাছের গুড়ি, কাষ্ঠ খন্ড, চেরাই তক্তা, কর্ক , বাশের প্রডাক্ট সাজানো হয়েছে, তবে খেয়াল রাখবেন কাঠের তৈরী ফার্নিচার চ্যাপ্টার ৯৪ হবে।
(ঠ) সেকশন ১০ (চ্যাপ্টার ৪৭ হতে ৪৯) এখানে উড পাল্প চ্যাপ্টার ৪৭, পেপার এন্ড পেপার বোড চ্যাপ্টার ৪৮, প্রিন্টিং প্রডাক্ট যেমন বই, ম্যাগাজিন চ্যাপ্টার ৪৯ এভাবে সাজানো আছে।
(ড) সেকশন ১১( চ্যাপ্টার ৫০ হতে ৬৩) টেক্সটাইলের সামগ্রী যেমন সিল্ক, সুতা, উল, কটন, ফেব্রিক্স (সকল প্রকার) কার্পেট, রেডিমেড গার্মেন্টস, ক্লোথিং এক্সসরিজ এভাবে সাজানো হয়েছে।
(ঢ) সেকশন ১২( চ্যাপ্টার ৬৪ হতে ৬৭) এখানে রয়েছে জুতা, ছাতা,ওয়াকিং স্টিক, কৃত্রিম ফুল, কৃত্রিম চুল এভাবে সাজানো হয়েছে।
(ণ) সেকশন ১৩( চ্যাপ্টার ৬৮ হতে ৭০) এসবেস্টস, সিরামিক প্রডাক্ট, টাইলস, গ্লাস, গ্লাস ওয়্যার, গ্লাস শীট এভাবে সাজানো হয়েছে।
(ত) সেকশন ১৪( চ্যাপ্টার ৭১) মুক্তা, মুল্যবান পাথর, স্বর্ন জুয়েলারি, কয়েন / মুদ্রা এভাবে সাজানো হয়েছে।
(থ) সেকশন ১৫( চ্যাপ্টার ৭২ হতে ৮৩) এখানে আয়রন এন্ড স্টিল, স্টিল সীট/কয়েল, কপার, নিকেল, এলুমিনিয়াম, জিনক, লীড, টিন, টুলস এন্ড হারডওয়ার, বাকলস, মেটাল তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী, এভাবে সাজানো হয়েছে। তবে খেয়াল রাখবেন চ্যাপ্টার ৭৭ ভবিষ্যৎ এর জন্য সংরক্ষিত আছে, ফলে এটি খালি দেখতে পাবেন।
(দ) সেকশন ১৬ (চ্যাপ্টার ৮৪ ও ৮৫) সকল ক্যাপিটাল মেশিনারি ও মেশিনারি সামগ্রী, সকল ইলেক্ট্রিক্যাল ইকুইপমেন্ট / এপ্লায়েন্সজ, জেনারেটর, ব্যাটারি , টিভি, মেবাইল ফোন, লাইট, সুইচ, এভাবে সাজানো হয়েছে।
(ন) সেকশন ১৭ (চ্যাপ্টার ৮৬ হতে ৮৯) রেলওয়ে ইঞ্জিন ও লোকোমোটিভ, কার, বাস, ট্রাক,মটর সাইকেল, এয়ারক্রাফট, জাহাজ এভাবে সাজানো হয়েছে।
(প) সেকশন ১৮( চ্যাপ্টার ৯০ হতে ৯২) এখানে অপটিক্যাল, চশমা, ফটোগ্রাফিক মেশিন, মেজারিং ইকুইপমেন্ট, মেডিকেল ইকুইপমেন্ট, ঘড়ি, বাদ্যযন্ত্র এভাবে সাজানো হয়েছে।
(ফ ) সেকশন ১৯ (চ্যাপ্টার ৯৩) আর্মস এন্ড এমুনেশন( ডিফেন্স পন্য) দিয়ে সাজানো হয়েছে।
(ব) সেকশন ২০ (চ্যাপ্টার ৯৪ হতে ৯৬) ফার্নিচার, মেট্রেস, লাইট উইথ ফিটিংস, প্রি- ফেব্রিকেটেড বিল্ডিং,খেলনা, খেলাধুলা সামগ্রী, বিভিন্ন ম্যানুফেকচারিং সামগ্রী, বোতাম, জিপার এভাবে সাজানো হয়েছে।
(ভ) সেকশন ২১ (চ্যাপ্টার ৯৭ হতে ৯৯) চিত্র সামগ্রী, পোস্টাল সামগ্রী, পুরাকীর্তি, ও ব্যাগেজ আইটেম সামগ্রী, রপ্তানি শুল্ক পন্য এভাবে সাজানো হয়েছে। তবে শেষের চ্যাপ্টার ৯৮-৯৯ স্পেশাল পারপাসে রাখা হয়েছে।