21/04/2026
বাংলাদেশীরা যেটায় একবার হাত দেয় সেটাই ধ্বংস হয়ে যায়!!
জার্মানিতে আমার নিজের চোখে দেখা কয়েকটা ঘটনা বলবো যেটার কারনে অনেক সুবিধা বাংলাদেশীদের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে!!
বাংলাদেশী পাসপোর্ট মানেই আতঙ্ক!! রেড এলার্ট!! বিশ্বের যে কোন দেশের ইমিগ্রেশনে বাংলাদেশী পাসপোর্ট আসলে ইমিগ্রেশন অফিসার নড়েচড়ে বসে!! বাংলাদেশী মানেই যেনো সমস্যা!!
আমরা কেনো সমস্যা, আমরা কেনো সবার কাছে একটা থ্রেড এটা আমরা বুঝি না। এই না বুঝাটাই সমস্যা, আমরা বুঝি না, কারন আমরা আসলেই একটা সমস্যা। এই বিষয় নিয়ে অন্য একদিন আলাপ করবো!! সরাসরি পয়েন্টে চলে আসি!!
🇩🇪 আমার বাসার পাশে দারুন এক ফুটবল খেলার মাঠ আছে!! এক বাংলাদেশী ভাই যিনি PHD করছেন জার্মানিতে, ফুটবল মাঠ কর্তীপক্ষের সাথে কথা বলে ফ্রিতে খেলার ব্যাবস্থা করে দিয়েছেন!! কয়েকদিন খেলেছে!!! খেলতে গিয়ে বাদামের খোসা,খাবার,পানির বোতল, কলার খোসা ফেলে এসেছে!! গেইট বন্ধ না করেই চলে গেসে।
ফলাফল!! বাংলাদেশীদের আসতে মানা করে দিয়েছে!! ক্লাব মেম্বারশিপ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করার পর ওরা সেটাতেও নিষেধ করেছে!! মেম্বারশিপ নিয়েও খেলতে দিবে না। না মানে না!!
🇩🇪 আমি যে সাবজেক্টে পড়ি, ঐ সাবজেক্টে বাংলাদেশীদের আর নিচ্ছে না। এটা আনঅফিসিয়ালী হচ্ছে, বাংলাদেশী এপ্লিক্যান্টস মানে রিজেক্ট!! শুধু আমার সাবজেক্ট না, জার্মানিতে অনেক ইউনিভার্সিটিতে হয়েছে এটা। সিগবা গ্রুপে এটা নিয়ে পোস্ট ও হয়েছিলো!! বিশ্বজুড়ে এমন অনেক ঘটনা আছে। আমি আপনাকে এক্ষুনি ১০+ ঘটনার লিংক দিতে পারবো!! আমি বাকি ঘটনায় যাচ্ছি না। আমার ইউনিভার্সিটি এবং আমার সাবজেক্ট এর কথা বললাম!!
কারন কি? আমার সাবজেক্টে কয়েকজন শিক্ষার্থী প্ল্যাগারিজম এ ধরা খেয়েছে!! অর্থাৎ নকল করেছে!! চুরি করেছে!! অন্যের লিখা নিজের বলে চালিয়ে দিয়েছে!! এটা বাংলাদেশে মামুলি ব্যাপার হলেও জার্মানিতে মারাত্বক ব্যাপার!! ওদের নিয়ে একজাম বোর্ডের মিটিং হয় এবং ওয়ার্নিং দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে ওরা অন্য ইউনিভার্সিটিতে চলে যায়।
🇩🇪 আমার শহরে ইউনিভার্সিটি ডর্ম এ সিট পাওয়া বেশ মুশকিল!! তবে সবকিছুর একটা অন্য উপায় থাকে জার্মানিতে, এখানে ঘুষ চলে না তবে কৌশলে অনেক কিছু আদায় করা যায়!! এক ভাই, লাগেজ নিয়ে ডর্ম ম্যানেজিং অফিসে চলে যায়। ওখানে গিয়ে আকুতি করে!! আমাকে বাসা দাও না হয় আমি এক্ষুনি চলে যাচ্ছি!!
এর পর উনি বাসা পেয়ে যায় এক সপ্তাহের মধ্যে!! ঐ ভাই ভুলে ওটা একজনকে বলসিলো, উনি ওটা ভাইরাল করসে!! পরে সবাই একিই কাজ করা শুরু করলো!! সবাই লাগেজ নিয়ে ওদের অফিসে যাওয়া শুরু করলো!!
পরে অফিসে স্টুডেন্ট ভিজিটিং পার্মানেন্টলি অফ করে দেওয়া হয়, এখন কেউ আর দেখা করতে পারে না। লাস্ট যে ব্যাক্তি গিয়েছিলো তাকে বলা হয়েছিলো " তোমরা বাংলাদেশীরা ফ্রড!!! সবাই একিই বাহানা নিয়ে ডর্মের সিট নিতে আসো "।
অত:পর কারো সমস্যা থাকলেও সে আর সীট পাবে না। যার ভুক্তভোগী আমি নিজে!! বউ বাচ্চা নিয়ে অনেক কষ্ট করসি!! আমার একদম বেশি দরকার ছিলো!! কিন্তু ওরা ভাবছে আমিও মিথ্যা গল্প বলছি!!
🇩🇪 ইউনিভার্সিটিতে আগে রূম বুক করা যেতো!! স্টেজ সহ!! বিভিন্ন প্রোগ্রাম করতে পারতো বাংলাদেশীরা!! এখন অফ করে দিসে!! সবাইকে দিবে বাট বাংলাদেশীদের দিবে না। কেনো দিবে না? No answer!!
আমি ধারনা করছি লাস্ট ইফতার পার্টিতে খাবার দাবারের স্মেল ছিলো হল রূমে!! এবং আমি খাবারের প্যাকেটের স্তুপ বিল্ডিং এর বাইরে দেখেছিলাম এবং অনকে প্যাকেট বাতাসে উড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেছে!! এটা কারন হতে পারে!! আমার ধারনা ভুল ও হতে পারে।
🇩🇪 এমাজনে স্টুডেন্টরা ৩ মাস ফুল টাইম কাজ করতে পারতো!! দারুন সুযোগ!! অনেক টাকা!! এমাজন অনেক বাংলাদেশী স্টুডেন্ট নিয়ে মিলিয়ন ডলার লস খায়!!
প্রাইম উইকে ওদের প্রচুর কাজের প্রেশার থাকে। বাংলাদেশী স্টুডেন্ট নেয় ১০-১৫ জনের মত!!
১ মাস যাওয়ার পর আর যায় নি!! দুই মাস বসে বসে বেতন নিসে!! এটা এমাজনের পলিসি!! অসুস্থ থাকলে কোম্পানি বেতন দিবে!! তাই সবাই অসুস্থ 🙂🙂
এমাজন বেতন দিলো,এবং এত গুলো অর্ডার!! এগুলো ডিস্ট্রিবিউট করতে পারে নাই!! পুরাই যা তা অবস্থা!! বিরাট লস খাইসে!!
ফলাফল!! এর পর থেকে আর কোন স্টুডেন্ট নেয় নাই। গতবছর সাম হাউ আমি একজন স্টুডেন্ট লাকিলি চাকরি পেয়ে যাই।
🇧🇩 এগুলো ছাড়াও আরো অনেক ঘটনা আছে!! সব বলছি না!!
🇩🇪🇩🇪 আচ্ছা, আউসবিল্ডুং ফিল্ড এর কি অবস্থা? বলবো কিছু? এইটার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ হবে!! কেনো হবে? কে করবে? এপ্লিক্যান্টসরা করবে!! আমি একদিন একটা ভিডিওতে পই পই করে বুঝিয়ে বলবো সব!! 🇩🇪🇩🇪
Germany A to Z