08/04/2025
ইতিহাস বলে যখনই একজন প্রকৃত মুসলিম বিশ্ব নেতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে তখনই হয় প্রতি বিপ্লবের নামে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে নতুবা শাস্তির নামে ফাঁসি কাষ্ঠে ঝোলানো হয়েছে।
ফিলিস্তিনের এই দুর্দিনে আজ মুসলিম প্রধান দেশগুলো চুপ কেন এই প্রশ্ন উঠছে। এই প্রশ্নের উত্তর আছে ইতিহাসের পাতায়ই।
সাদ্দাম হোসেন, একজন প্রকৃত মুসলিম নেতা। সম্ভাবনাময় বিশ্বনেতা ছিলেন। নাইন ইলেভেনের পর রিটেলিয়েশনের নামে পুরো ইরাককে তছনছ করে ফেলা হলো। প্রাসাদ থেকে টেনে নামানো হলো সাদ্দাম হোসেনকে। মুখোমুখি করা হলো সাজানো বিচারের নাটকের। সেখানে শুধু একপাক্ষিক আক্রমণ করেই যাওয়া হলো, আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগই দেওয়া হলো না। এক পর্যায়ে আদালতেই সাদ্দাম বলে উঠলেন এই প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে আগামীর মুসলিম বিশ্বকে ভাঙ্গনের সূচনা হলো। তারপর ঝোলানো হলো সাদ্দাম হোসেনকে ফাঁসি কাষ্ঠে।
অথচ যে আল-কায়েদা, যে ওসামা বিন লাদেনকে ধরার নামে পুরো ইরাক ধ্বংস করে দেওয়া হলো সেই ওসামা বিন লাদেনকে ইরাকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি। তাকে পাওয়া গিয়েছে আমেরিকার তৎকালীন আরেক মিত্র পাকিস্তানে।
পাকিস্তান প্রসঙ্গেই আসি। পরাক্রমশালী মুসলিম রাষ্ট্র, পারমাণবিক শক্তিধর। যখনই সেখানে একজন বিশ্ব মুসলিম নেতা উঠে আসার সম্ভাবনা তৈরি হলো হয় সামরিক ক্যু এর মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হলো নতুবা এক্সিডেন্ট দেখিয়ে হত্যাকাণ্ড করা হলো। যেমনঃ বেনজির ভুট্টো। পুরো উপমহাদেশের মুসলমানদের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিলেন। গুপ্ত ঘাতক দিয়ে মেরে ফেলা হলো, একজনকে ধরে নামকাওয়াস্তে সাজা দেওয়া হলো। ব্যস শেষ। আর সিআইএ'এর অন্যতম সহযোগী আইএসআই এর মাধ্যমে পাকিস্তানের কত রাষ্ট্রপ্রধানকে যে ক্ষমতাচ্যুত করা হলো ক্যু এর নামে তা তো জানাই আছে।
এবার আসা যাক খোদ ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংগ্রামের জনক ইয়াসির আরাফাত প্রসঙ্গে। আমেরিকার তীব্র চক্ষুশূল ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে আমেরিকা তার উপর নানা অবরোধ আরোপ করেছিল। নিজ দেশে তাকে বারবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা বারবার তার কবচ হয়ে তাকে রক্ষা করেছে। বিভিন্ন সময়ে অসুস্থ হয়ে নিজ দেশের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ফিরে এসেছেন রাজপথে। মেধা ও বুদ্ধি দিয়ে কুটনৈতিক ভাবে লড়ে গিয়েছেন জায়নবাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু শেষবার যখন অসুস্থ হলেন উন্নত চিকিৎসার নামে তাকে নিয়ে যাওয়া হলো ফ্রান্সে, আমেরিকার আরেক বিশ্বস্ত মিত্র। সেখান থেকে আর ফিরলেন না। মেডিক্যাল রিপোর্টে লিখা ছিলো মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ থেকে মৃত্যু কিন্তু যখন আন্তর্জাতিক একটি চিকিৎসক সংস্থা এই রিপোর্টকে যাচাই করতে চাইলো তড়িঘড়ি করে তাঁকে দাফন করে দেওয়া হলো।
এর বাইরেও অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্র যেমন মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুডের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আল মুরসি। আমেরিকার পুতুল সরকার হঠিয়ে গণ আন্দোলনের মাধ্যমে গড়া উঠা এই দলটির মাধ্যমে গঠন করেন সরকার। ফিলিস্তিন বিষয়ে উনার পদক্ষেপগুলো ছিলো প্রশংসনীয় কিন্তু শুরু থেকেই আমেরিকার চক্ষুশূল হয়ে ছিলেন। পরবর্তীতে স্বৈরশাসন, একনায়কতন্ত্র ইত্যাদি অজুহাত তুলে রাজনৈতিক ক্যু এর মাধ্যমে এই মহান মুসলিম নেতাকেও ক্ষমতাচ্যুত করা হয় এবং বিচারের সম্মুখীন করা হয়।
এছাড়াও আরব বসন্ত নামক কালার রেভ্যুলেশন তথা সাজানো বিপ্লবের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সম্ভাবনাময় মুসলিম নেতৃত্বকে। একে একে গাদ্দাফির লিবিয়া , আসাদের সিরিয়া সহ বিভিন্ন দেশের প্রকৃত মুসলিম নেতাদের একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ এনে গণতন্ত্রের নামে সেখানে বসানো হয় আমেরিকার জ্বী হুজুর জ্বী হুজুর সরকার। ফলস আইডল বানানো হয় তুরস্কের বর্তমান রাষ্ট্রপতি এরদোগান বা আরব আমিরাতের শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের মতো আমেরিকার ইশারায় চলা শাসকদের। যারা কখনোই ফিলিস্তিনকে রক্ষার ব্যাপারে টু শব্দটিও করবে না। এরদোগানকে মাঝেমধ্যে ফাঁকা আওয়াজ করেন বটে তবে যথাসময়ে উনি চুপই থাকেন।
এই যে আমেরিকার পাতানো বিপ্লবের মাধ্যমে মুসলিম বিশ্ব তাদের উম্মাহকে নেতৃত্বশূন্য করেছে তারই খেসারত দিচ্ছে আজকের ফিলিস্তিন। কোনো মুসলিম দেশই প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনের পক্ষ নিবে না, ইসরাইলের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলবে না। কোনো দেশের তৌহিদিদের এখন আর গাত্রদাহ হবে না এখন আর রাস্তায় নামবে না। কোনো বড় স্কলারই এখন আর বিশ্ব মুসলিম ঐক্যের ডাক দিবেন না। এমনকি কোনো তথাকথিত গ্লোবাল প্লেয়ারও এই নিয়ে টু শব্দটি করবে না। কেননা এর সবাইই ইসরাইলের কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছে, এরা সবাইই আমেরিকার পাপেট। আর মুসলিম বিশ্ব এই ফলস আইডলদের দ্বারাই পরিচালিত হয়ে আসছে।
সরি টু সে, কিন্তু মুসলিমদের জন্য আগামীতে আরো খারাপ সময় আসছে যদি না দ্রুত নিজেদের সংশোধন করতে না পারে। প্রত্যেকটা মুসলিম প্রধান দেশের রাষ্ট্র প্রধানকে চাপ প্রয়োগ করে ইসরাইলের বিরুদ্ধে কথা বলাতে না পারলে এবং কথা না বললে টেনে গদি থেকে নামাতে না পারলে ফিলিস্তিনের পরে পরবর্তী নাম সেই দেশগুলোরই হবে।
(সংগৃহীত)।
fans
রাইজিং স্টার পাবলিক স্কুল