18/05/2025
হঠাৎ খবর পাই পড়ে গিয়ে শাশুড়ির হাত ভে*ঙে গেছে। খাদিজার আম্মু খবরটা জানায়। কোনো কাজে তখন বাইরে ছিলাম। বললাম, তোমার কি যেতে হবে? বলল হ্যাঁ, বাড়িতে বাবা-ভাই আছে। এ অবস্থায় আম্মা রান্না করতে পারবে না, আমি না গেলে তাদের বিপদ হয়ে যাবে। আগ-পাছ না ভেবে বললাম রেডি হও, আমি এসে নিয়ে যাব।
ঘন্টা/দেড় ঘন্টা পর এসে দেখি খাদিজা রেডি না। ভাবলাম ওর মা সময় করে পারেনি, তাই আমিই মেয়েকে রেডি করে বেরিয়ে পড়লাম। ওদেরকে নামিয়ে দিয়ে শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে দেখা করেই আবার বাসায় ব্যাক করলাম। দুপুর হয়ে গেছে। যেহেতু টুকটাক চালিয়ে নেয়ার মতো রান্না জানি, তাই খাব কী, তা নিয়ে ভাবিনি। আমার শ্বশুরের ঘটনা আবার উল্টো, উনি দীর্ঘ জীবনে কখনো রান্নাঘরে যাননি। ফলে শাশুড়ি কোথাও গেলে এই বান্দা না খেয়ে শুটকি হয়ে থাকে।
দুইটার দিকে ভাবছিলাম পান্ডায় অর্ডার করে দুয়েক বেলা চালাই। হাতে কিছু কাজ আছে, আজ রান্নাঘরে না যাই। অমনি খাদিজার মা ফোন করে বলল, তোমার জন্য গোরুর গোশত, চিংড়ি আর চিকেন রান্না করে ফ্রিজে রেখে আসছি। না খেয়ে থাইকো না। আমি যেন আসমান থেকে পড়লাম, বলো কী? এজন্যই তুমি খাদিজাকে রেডি করতে পারোনি?
ফ্রিজ খুলে দেখলাম প্রায় দশ বারোটা ছোটো ছোটো বাটিতে করে তরকারি রাখা। যেহেতু একা আছি, প্রতিবেলায় যেন একটা বাটি বের করলেই হয়ে যায়, সেজন্য এভাবে ভাগ ভাগ করে রেখে গেছে। চোখে যেন পানি চলে এলো। সরাসরি কখনো ধন্যবাদ জানানো হয় না, কিন্তু সেদিন দুপুরে পেট ভরে খেয়ে তাকে ফোন দিয়ে ধন্যবাদ না জানিয়ে পারলাম না।
রাতে নিরিবিলি জিগ্যেস করলাম, এক-দেড় ঘন্টার মধ্যে এতকিছু না করলেও পারতে। তোমরা না থাকলে আমি সাধারণত বাইরেই খাই, কেন কষ্ট করতে গেলে? বাড়ি গিয়ে তো আবার তোমাকে রান্নাঘরেই ঢুকতে হয়েছে! বলল, আপনি যখন নির্দ্বিধায় নিজের কষ্টের কথা না ভেবে আমাকে বাড়ি পাঠাতে রাজি হয়ে গেলেন, তখন আপনার খাবারের কষ্ট হবে, ব্যাপারটা মেনে নিতে পারছিলাম না। সেজন্য কাটাকুটির ঝামেলা নেই, এমন তিনটা আইটেম করে ফেললাম। এটা আমার মহানুভবতা নয়, আপনার আচরণের প্রতিদান মাত্র।
মা পড়ে গিয়ে হাত ভে*ঙেছেন, বাবা-ভাই না খেয়ে আছেন, কয়েকদিনের জন্য এই গরমে গ্রামে থাকতে হবে। তাও এবারের থাকাটা বেড়ানো নয়, বরং বাড়ির সব কাজ তার করতে হবে। এতকিছুর ভেতর মাত্র দেড় ঘন্টা সময় হাতে পেয়ে, ব্যাগ গোছানো বাদ দিয়ে একটা মেয়ে যখন স্বামীর আগামী কয়েকদিনের খাবারের কথা চিন্তা করে এবং তার জন্য রান্না করে এতগুলো বাটিতে আলাদা করে রেখে যায়, তখন তাকে মিস না করে উপায় আছে?
সাধারণত মেয়েকে বেশি মিস করি, এবার দুজনকেই করছি...
— সাদিক ফারহান (হাফি.)