21/05/2026
আমরা হয়তো ভাবি যে গ্রিক, রোমান সভ্যতা হয়ে মানব সভ্যতা রেনেসাঁর মাধ্যমে ক্রমশ উন্নতির পথে এগিয়েছে, সেখানে আরবের মরু বেদুইনারা দাঙ্গা-হাঙ্গামা ছাড়া বিশ্বের জন্য উল্লেখযোগ্য কিছুই দিতে পারেনি।
হ্যাঁ, যদি কিছু দিয়ে থাকে, তবে তা: Dark Ages বা অন্ধকার যুগ। এই মিথকে একেবারে ভেঙে দিয়ে আজকে দেখব যে, বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। গ্রিক, রোমান, পারস্য ইত্যাদি সভ্যতা হয়ে জ্ঞান-বিজ্ঞান ইউরোপে এক লাফে আসেনি, বরং তা এক সোনালি যুগ পাড়ি দিয়ে এসেছে, যার কারিগর ছিল তিন মহাদেশে বিস্তৃত বৃহত্তর মুসলিম সভ্যতা।
আজকের জ্ঞান-বিজ্ঞান যে উচ্চতায় আসীন হয়েছে, তার পিছনে গ্রিক, রোমান ও অন্যান্য সভ্যতার যত অবদান, তার চেয়ে বেশি অবদান বৃহত্তর মুসলিম সভ্যতার। এটা কোনো অতিশয় উক্তি নয়, বরং অকাট্য সত্য। দুঃখজনকভাবে এই সত্যটুকুর দশ ভাগের এক ভাগও আমরা মুসলিমরাই জানি না।
আমরা ক'জনে জানি:
– ফাতিমা আল-ফিহরী ফেযে,
প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন
– বনী মূসার তিন ভাই
ছিলেন ট্রিক ডিভাইসের পথিকৃৎ
– ক'জনে জানি আয-যাহরাবীর কথা
যার উদ্ভাবিত সার্জারী যন্ত্রের ট্রে দেখলে কখনো মনে হবে না যে, এগুলো ১০০০ বছর পূর্বের। দেহের অভ্যন্তরের সেলাই ক্যাটগাটের ব্যবহারের পাশাপাশি আয-যাহরাবী ছিলেন ক্যাপসুল উদ্ভাবনের অগ্রনায়ক।
– যেং হো-র কথা ক'জনে জানি,
যিনি ফুটবল মাঠের সমান ৬২-টি জাহাজের বহর নিয়ে সমুদ্রে রাজ করেছিলেন? ৪০০ ফুটের অধিক দৈর্ঘ্যের এসব জাহাজের কাছে ভাস্কো দাগামা ও ক্রিস্টোফার কলাম্বাসের জাহাজ তো ডিঙি নৌকার মতো।
– মুসলিম স্পেন তথা আন্দালুসের
আব্বাস ইবনে ফিরনাস প্রথম প্যারাস্যুট জাম্প করেছিলেন।
– এক হাজার বছর পূর্বের আব্বাস ইবসে ফিরনাস
নামের এক স্বপ্নচারীর সফল উড্ডয়ন হয়ে লাগারী হাসান, আহমাদ চেলেবীর মতো মুসলিমদের উড়বার প্রচেষ্টার ক্রমবিকাশের ধারায় এ বিজ্ঞান লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চিসহ বহু পথ পাড়ি দিয়ে রাইট ব্রাদারদের কাছে পৌঁছে ছিল।
– ভ্যাকসিন নিয়ে বিশ্ব এখন তোলপাড়,
কিন্তু এটার আদিতেও রয়েছে মুসলিমদের বিচরণ। আজ থেকে প্রায় ৩০০ বছর পূর্বে ইংল্যান্ডে প্রথম ভ্যাকসিন আনা হয় অটোমান তুর্কিদের থেকে।
– গোটা ইউরোপ জুড়ে যে গথিক ও রোমান স্থাপত্য শৈলী দেখা যায়,
আদতে সেটাকে যদি ইসলামী স্থাপত্যের পশ্চিমা সংস্করণ বলা হয়, তবে তা মোটেও অতিরঞ্জন হবে না।
– হাতে থাকা মোবাইল ক্যামেরা নিয়ে প্রতিনিয়ত ছবির পর ছবি তুলছি,
সেই ক্যামেরা শব্দই এসেছে আরবী 'কামারা' থেকে এবং এর সাথে জড়িয়ে আছে ইবনুল হাইছামের নাম, যার দেয়া মূলনীতির উপর দাঁড়িয়ে আছে ক্যামেরার কার্যক্রম।
– চক্রাকার গতিকে সরলরৈখিক গতিতে রূপান্তরকারী এবং পাম্প ও ইঞ্জিনের জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ 'ক্রাংক ও সংযুক্ত রড সিস্টেম' না হলে শিল্প বিপ্লব একেবারে অসম্ভব ছিল,
আর এই একটি অবদানের জন্যই বর্তমান সময়ের হিসেবে আল-জাযারীর একাধিক নোবেল পাওয়ার কথা।
– অরেঞ্জ (orange), সুগার (sugar), জিরাফ (giraffe)-এর ন্যায় এমন বহু শব্দের উৎস আরবী ও ফারসি।
এমন বহু বিস্ময়য়কর তথ্যে ছেয়ে আছে ইতিহাসের পাতায়। রীতিমতো অবাক হওয়ার মতো বিষয়। গৃহ, বিদ্যালয়, বাজার, হাসপাতাল, নগর, বিশ্ব ও মহাবিশ্বসহ প্রতিটা ক্ষেত্রে আপনার পূর্বপুরুষদের কর্মকাণ্ড দেখলে সেই সাথে প্রাসঙ্গিক চিত্র ও মানচিত্র হয়ে আপনি হারিয়ে যাবেন এক রোমাঞ্চকর জগতে, যেখানে সৃজনশীলতা ও কর্মচাঞ্চল্য ছিল প্রধান চালিকাশক্তি। নতুনকে জানার অদম্য বাসনা তাড়িয়ে বেরিয়েছে সে জগতের মানুষদের। যা আপনাকে নিয়ে যাবে অজানার এক নতুন জগতে, বলতে গেলে: যার কিছুই আমরা তেমন জানি না; অথচ এটার শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে আধুনিক সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
বর্তমানে মুসলিমদের অবস্থা যাই হোক না কেন, অবস্থা পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন স্বপ্ন দেখা এবং সে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য প্রয়োজন কঠোর শ্রমের।
আমরা আপনাকে সে স্বপ্ন দেখাবে। আপনাকে জানিয়ে দেবে:
"আপনার অতীত হতাশার কালো মেঘ নয়,
বরং তা অন্য যেকোন সভ্যতার চেয়ে অগ্রগামী।"
সৃজনশীল ও স্বপ্নচারী উদ্যমী মুসলিমগণ যেভাবে রচনা করেছিলেন সোনালি মহাকাব্য, সেটা ফিরিয়ে আনা সম্ভব, যদি আমাদের চিন্তাশীল একটা অংশ সে লক্ষ্যে শ্রম দিতে এগিয়ে আসে। দেরী না করে চলুন হারিয়ে যাই উদ্যম ও সৃজনশীলতার এক সোনালি অধ্যায়ে, আর জড়ো করি স্বপ্ন ও এগিয়ে যাওয়ার এক ফালি অভিলাষ।
#স্টার_কিডস