08/10/2019
Gobindakati High School
The Official Fan Pages Of Gobindakati High School, Satkhira Distics
08/10/2019
23/01/2018
আগামীকাল ২৪ শে জানুয়ারি ২০১৮ ইং(বাংলা ১১ই মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ) SSC BATCH 2018 পরিক্ষার্থীদের বিদায় ও নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্টিত হইবে। আপনারা সকলে আমন্ত্রিত।
ধন্যবাদ
23/11/2017
সিগারেট এর এক টান *
„
লেখক= 'হা' 'শূন্য' (অ-স্বচ্ছ মানব)
„
উৎসর্গ =বিবর্ণ ক্যানভাস ( নীল) )
„
যে’দিন আমার ভালোবাসা আমায় টা টা বায় বায়। বলে
চলে গেছিলো ,সেই দিন আমার জীবন শেষ হয়ে গেলো ।
আমি ভালোবাসতাম অনেক বেশি, ,বিয়ের পড় ঘুরতে
যাবো বলে অগ্রিম টিকিট সংগ্রাহ করে ছিলাম।।
কিন্তু ঠিক বিয়ে করার কয়েক দিন আগে ,সব কিছু শেষ
করে দিলো আশা, ,
,,
,,
মেয়ে = আমি তোমায় ভালোবাসি না।
ছেলে = কি, ,কেন হঠাৎ এমন কথা বলো।
মেয়ে = আমি তোমায় বিয়ে করতে পারবো না।
ছেলে = তুমি তো আমায় ভালোবাস বিয়ে করতে আসুবিধা
কোথায়
মেয়ে = আমি রিদয় কে ভালোবাসি।
ছেলে = তাহলে আমার সাথে এই সম্পের্ক কেন করলে?
বলো কেন আমায় সাথে প্রতারনা করলে?
মেয়ে = আমি বন্ধুদের সাথে বাজি ধরে প্রেম করছি, ,
আমি জিতে গেছি। । এই নাও আমাদের বিবাহের কার্ড। ।
„
আমি নির্বাক হয়ে যাই। আর কি বলবো ভাষা হারিয়ে
ফেলি দু চোখ দিয়ে অশ্রু ঝর ছিলো। বসে পড়লাম
সেখানে। । ওর দিক তাঁকিয়ে ছিলাম। সেই ধীরুগতি তে
সেই পথ চলা দেখতে ছিলাম। । এক বার এর জন্য পিছু
ফিরলো না । এ আমি কাকে ভালোবাসে ছিলাম । যে
ভালোবাসা আমি অন্ধ হয়ে ওর সব অপরাধ মেনে নিতাম।
।যার চোখের সব স্বপ্ন নিজের করে নিতাম। এটা কি করে
সাঁজানো হতে পারে। এটা কি সত্যি নাটক ছিলো।
বিস্বাস হচ্ছিলো না। তবে ওর পিছু ফিরে না তাঁকান’ টা
আমায় সত্যি অবাক করে দিলো। কি করে পারলো
একবারো পিছু ফিরে না তাঁকিয়ে ।।এটা ভাবতে ভাবতে
ওখানে পড়ে গেলাম ,কিছু বন্ধু আমায় বাসায় দিয়ে এলো।
„
বিকেল বেলা বের হলাম সব কিছু যানো বিরক্ত লাগছে।
যাকে ছাড়া এক মুহূর্ত থাকতে পারতাম না। তার থেকে
এমন একটা আঘাত সহ্য কারার মত নয়। কষ্ট হচ্ছে অনেক।
„
বন্ধুদের কাছে শুন ছিলাম সিগারেট খেলে নাকি কষ্ট দূর
হয়। তাই জিবন সংঙ্গী হিসেবে এখন সিগারেট টাকে
গ্রহন করতে হবে। । চলে গেলাম দোকানে, যেয়ে একটা
সিগারেট চাইতে। দোকানদার আমার চাইবার ধরণ দেখে
বুঝতে পার ছিলো আমি আগে কখনো কিনি নাই। সে
বললো, বাবা এগুলো খারাপ এটা ধরলে আর কোন দিন
ছাঁড়ান দিতে পারবেনা। আমি খাবো না বলে নিলাম।
বাসায় এলাম, রুমে বন্ধ করে, একটা টান দিতে আমার
মাথা ধরে গেছে কাঁশতে কাঁশতে, সিগারেট না খেয়ে
পাশে রেখে শুয়ে পড়লাম।
„
ওর কথা ভাবতেই চোখে জল এসে যায় । যে এক দিন বলে
ছিলো “নীল” আমি তোমাকে ছাড়া এক মুহূর্ত থাকতে
পারি না। সে কেমন করে শেষ বারের মত ফিরেও তাঁকায়
নি। আমি কি কোন ভালোবাসায় খাদ রেখেছিলাম।ওর
সব স্মৃতি ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লাম। । সকাল হলো
ওঠে দেখি ,,
,,
,সিগারেট টা নিজে নিজে শেষ হয়ে গেছে ছাই টুকো
পড়ে আছে, ভাবছিলাম আমার ও একদিন এমন হতে হবে,।
সিগারেট যে ক্ষতি করে তা যেনেও আপন করে নিলাম,
যে ছেলে টা একদিন এগুলা পছন্দ করতো না সে নাকি
আজ এর একটান ছাড়া বাঁচবে না।আজ আমি সব ধরনের
মাদক এর সাথে জড়িঁত। যার বন্ধু ছিলো মাএ হাতে গোনা
10-15 জন সেখানে আজ যারা সিগারেট খায় তাড়া সবাই
আমার বন্ধু হয়ে ওঠে ।
„
কই ওরা কেউ তো বলেনা একবারো যে ,এটা খারাপ
খাওয়া খাইস না। উল্ট বলে বন্ধু নে একটান দে কষ্ট দূর
হয়ে যাবে। ইয়াভা আর সিগারেট সব ধরনের মাদক খেতে
খেতে বড় বড় লোকের সাথে হাত হয়ে যায়।
,
এখন আর একটা মুহূর্তে জন্য সিগারেট এর একটান ছাড়া
চলে না। এখন ওর কথা মনে পড়লে এক সাথে 5-6 টা
সিগারেট খেয়ে ফেলি ।
„
যে ছেলেটার এক দিন সব কিছু গোছালো ছিলো সেই
ছেলেটা আজ সব কিছু অ-গোছালো হয়ে গেছে। যানিনা !
কয় দিন বাঁচব, তবে ডাক্তার বলেছিলো আমি যদি
সিগারেট না খাই, তাহলে বেশি দিন বাঁচতে পাড়ি।
আমি সিগারেট এর এক টা না দিয়ে পারবো না বলে চলে
এলাম।
„
মা বাবা দুজন আমায় খুব ভালোবাসতো কিন্তু এখন আর
সেই ভালোবাসা নেই। শুধু এক মাএ ছেলে বলে কিছু করে
না। যদি কিছু করে ফেলি সেই জন্য।
মায়ের চোখে আমার জন্য জল দেখে মাঝে মাঝে ছেড়ে
দিতে ইচ্ছা হতো। তবুও পারতাম না।
„
সিগারেট খাবনা বলে বাড়ি থেকে বের হতাম না। কিন্তু
বন্ধুরা ঠিক নিয়ে চলে আসতো সিগারেট খাওয়ানোর
জন্য । তবে আর কি , দেখলে না খেয়ে তাকতে পারলাম
না। ।একটান আমায় দিতেই হবে।
„
কয়েক দিন পড় বাসা থেকে আমার খরচ বন্ধ করে দিলো ।
সিগারেট খাবার পয়সা নেই কি করবো।
„
শুরু করে দিলাম মাস্তানী, গুন্ডা, এলাকায় এক নামে
চিনে , টাকার জন্য কাজ করি সব,। যে ছেলেটা এসব
পছন্দ করতো না সে নাকি এখন পরিচিত এক ভংকার মুখ ।
যার ভয়ে সবাই কাঁপে।
„
শুরু করে দিলাম সব মাদক ব্যাবসা, মাদক ব্যাবসা আর
সন্তাসী র্শীষদের তালিকায় আমার নাম সবার উপরে
আছে। 1 নম্বার ব্যাবসাহী
„
যাদের কাছে একদিন আমি কাজ করতাম তারা এখন
আমার কথা ছাড়া কোন কাজ করেনা।যতো মন্তী আর
মিষ্টার সবাই আমার কথায় চলে। বিদেশ এর বড় বড়
মাফিয়া আমার সাথে কাজ করছে।
„
পুরোন সব কিছু বুলে গেলাম। কিন্তু ওকে মনে মনে
খুজতাম। কোন মেয়েকে অসম্মান আমি করতাম না। ইচ্ছা
করলে, সব কিনে নিতে পারতাম। সব নারী আমার পিছন
ঘুরাতে পারতাম কিন্তু আমি তো যানি আমি কে ছিলাম।
10 বছর কেঁটে গেলো।। সন্তাসী করি তাও আট বছর কেটে
গেলো । একটা নতুন কাজ এর ডিল পেলাম। আমি আবার
এমন লোক যে যার সাথে কাজ করবো তার ছবি আগে
দেখতে হবে।
„
কিন্তু সেই ডিলটা যার সাথে করবো। সে হলো সেই
প্রেমি ((রিদয়) ) যা জন্য আমার প্রেম টা শেষ হয়ে
গেলো। ভাবলাম ও কেন ওতো ভালো ছেলে। খুজ নিলাম
দেখলাম শুনতে পেলাম ওরা নাকি 20 বছর আগে এই
কাজের সাথে জড়িতো।ওর বাবার জায়াগায় নাকি ওই
বসছে । দেখা করলাম ওর সাথে। আমায় দেখে চমকে
গেছিলো। তার পড় শুরু হলো শএু।
„
আমায় এখন সব বাহিনী পুলিশ ,আরমি, রেব, এক হয়ে
খোঁজে । অনেক দিন পালিয়ে বেড়াচ্ছি আর পাড়ছিনা।
আমার সব দায়িত্ব আমার বন্ধু কে দিয়ে বল্লাম আমায়
জামিন করার সব দায়িত্ব সব তোরে দিলাম।
„
পুলিশের হাতে ইচ্ছা করে ধরা পড়ি, ,তারপড় পুলিশ কে
বলি আমি যত দিন বাঁচবো আমায় সিগারেট দিতে হবে
যদি না দাও তাহলে কোন জেল আমায় আটকে রাখতে
পারবে না। জেলে চলে গেলাম। প্রতি দিন দুই প্যাকেট
সিগারাট দিয়ে আমায় রেখে দিলো কিন্তু আমায় কেউ
ছাঁড়াতে আসলো না,
„
শুনছি ও নাকি বন্ধু হয়েছে। আমার শএুর সাথে মিলছে ।
ফজরের নামাজ টা জেলে পড়লাম ।আল্লার কাছে
প্রার্থনা করলাম আমি ভালোহয়ে যাবো। বাবা মায়ের
কাছে ফিরে যাবো । পালানোর অইডিয়া করলম। একান
থেকে বের হবার কিন্তু সেই শক্তি আর নেই । বুজেছি
এখানে জিবন টা শেষ হয়ে যাবে । আজ 10 বছর জেলে মা
বাব কেউ আসলো না দেখতে। সকাল বেলা এক পুলিশ
এসে আমায় বললো আমার নাকি জামিন হইছে। বের
হলাম। যে বের করছে তার কিছু কাজ করে দিতে হবে।
তার এক মাএ মেয়েকে নাকি ও ধর্ষণ করছে। মেয়েটাকে
দেখে মনে পড়লো ওতো বান্ধবী ছিলো মেঘলার।
মেঘলার সম্পর্কে জিজ্ঞাস করলাম, সে বললো আমার
মেয়ে (রিদয় )সম্পর্কে সব জানিয়ে দিছে বলে জোর করে
নিয়ে ধর্ষণ করলো।আর মেঘলা ওকে বিয়ে না করে
বিদেশ চলে গেলো আর ওর মা বাবা কে আটকে
রেখেছে। আমায় অফিসে ছিলাম আমার মেয়ে ফোনে
আমায় বলেছে ওরা নাকি ইন্ডিয়া চলে গেছে।
„
বাড়ি ফিরে গেলাম।মা বাবা কে দেখতে যেয়ে দেখি
,মা বাবা কেউ বাড়ি নেই সব কিছু ভাংগা চুড়া সিসি
কেমেরা চালু করে দেখি সব রিদয় এর কাজ,
„
আমি ইন্ডিয়া যাবার জন্য ইয়ারর্পোটে গেলাম আমায়
মারা জন্য কে যানো গুলি ছুড়লো, গুলিটা গায়ে লেগে
মাটিতে পড়ে যাই। আমার এক বন্ধু ছিলো অনেক আগে
বিদেশ গেছিলো ও বিদেশ থেকে এসে। আমায় দেখে
চিনতে পেরে হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমি বেঁচে যাই।
কিন্তু গুরুত্ব পূর্ন হলো যে নার্স আমির চিকিৎসা করছে
সেবা করছে সে নাকি মেঘলা ছিলো । আমি ফাইল
খুলতে ছবি পাই একটা চিঠি পাই, , চিঠি খানায় লেখা।
„
আমি ক্ষমা পাবো কিনা যানি না তোমার সামনে পড়তে
চাইনি বলে চলে গেলাম । আমি সে দিন বাবার মৃত্যু ভয়
তোমায় মিথ্যা বলেছিলাম ।না করে দিছিলাম তোমার
ভালোবাসাকে ।তোমার বন্ধুর কাছ থেকে শুনে আমি
নিজে ক্ষমা করার পাএী মনে হচ্ছে না। আমার জন্য আজ
তোমার এমন অবস্থা আমি তোমায় এখনো ভালোবাসি ।
সেই জন্য বিয়ের রাতে , আমি রিদয় কে বিয়ে না করে
বাড়ি থেকে পালিয়ে যাই ।আমার বাবা মাকে ও নিয়ে
গেছে শুনছি।
„
আমি বন্ধুকে বললাম, মেঘলাকে কোথায় পাবো ।বন্ধু
বললো চল বেশি দূর যেতে পারেনি, মেঘলা হাসপাতাল
থেকে বেড় হতে গুন্ডারা ধরে নিয়ে যায় । আমি আর
আমার বন্ধু গাড়িতে পিছন পিছন গেলাম। যেয়ে দেখি
সবাই এক জাগায় সবাই, , আমার মা বাবা মেঘলার মা
বাবা, মেঘলা আর সেই যার মেয়ে ধর্ষন হইছে সে।সবাই
আছে
„
আমার বাবা আর মেঘলার বাবা না কি বন্ধু ছিলেন
আমাদের বিবাহ নাকি ছোট বেলা থেকে ঠিক ছিলো ।
আমার একটা একটা বড় বোন হইছিলো যাকে জন্মের পড়
মারা গেছে ঘোষনা দেওয়া হয় । আর দোষ দেওয়া হয়
মেঘলার বাবাকে । সেই বন্ধুত্ব নষ্ট করেন রিদয় এর বাবা
মিথ্যা বলেন । সম্পত্তির লোভে। এসব করেন। কিন্তু সে
আশাপুর্ন হলোনা।।
সাবাই কে মেরে ফেললাম
। সবাইকে বাঁচালাম।
আমাদের প্রেম সবাই মেনে নিলো আর আমাদের বিবাহ
দিলো। কিন্তু আমার আর থাকা হবে না
„
পুলিশ এসে আমায় ধরে নিয়ে গেলো ফাঁসির হুকুম হলো
তার ঠিক আগ মুহুর্তে বললাম ,আমার শেষ ইচ্ছা সিগারেট
এর এক টান দিতে চাই। আমার ফাঁসি হুকুম বাদ দেওয়া
হলো কারণ যে খুন গুলো আগে করছি লাম সব বড় বড়
সন্তাসী ছিলো। আর আমি নিজেই ধরা দিছিলাম ।
এইজন্য জাবত জিবন কারাদন্ড হলো । আজ শেষ দিন আজ
আমি আবার মুক্তি পাবো, ,সিগারাটের একটান আর
দিলাম না সব ভুলে গেলাম। ভালো করে জিবন শুরু করলাম
আমি(( নীল)আর মেঘলা,,,আমাদের একটা সন্তান হলো,
,,নাম রাখি মায়াবী,,আজ মেয়ের বয়স 20 বছর।
17/03/2017
বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিবুর রহমান
SheikhMujiburRehman.jpg
বাংলাদেশের ১ম রাষ্ট্রপতি
অফিসে
১১ এপ্রিল ১৯৭১ – ১২ জানুয়ারি ১৯৭২
প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ
পূর্বসূরী রাষ্ট্রপতির পদ স্থাপিত
উত্তরসূরী সৈয়দ নজরুল ইসলাম(অস্থায়ী)
বাংলাদেশের ২য় প্রধানমন্ত্রী
অফিসে
১২ জানুয়ারি ১৯৭২ – ২৪ জানুয়ারি ১৯৭৫
রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
মোহাম্মদউল্লাহ
পূর্বসূরী তাজউদ্দিন আহমেদ
উত্তরসূরী মুহাম্মদ মনসুর আলী
বাংলাদেশের ৪র্থ রাষ্ট্রপতি
অফিসে
২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫ – ১৫ আগস্ট ১৯৭৫
প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ মনসুর আলী
পূর্বসূরী মোহাম্মদউল্লাহ
উত্তরসূরী খন্দকার মোশতাক আহমেদ
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম ১৭ মার্চ ১৯২০
টুঙ্গিপাড়া, বাংলা প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত
(বর্তমান বাংলাদেশ)
মৃত্যু ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ (৫৫ বছর)
ঢাকা, বাংলাদেশ
জাতীয়তা বাংলাদেশি
রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (১৯৭৫)
অন্যান্য রাজনৈতিক দল নিখিল ভারত মুসলিম লীগ (১৯৪৯ সালের পূর্বে)
আওয়ামী লীগ (১৯৪৯-১৯৭৫)
দাম্পত্য সঙ্গী বেগম ফজিলাতুন্নেসা
সন্তান শেখ হাসিনা
শেখ রেহানা
শেখ কামাল
শেখ জামাল
শেখ রাসেল
প্রাক্তন ছাত্র মৌলানা আজাদ কলেজ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ধর্ম ইসলাম
শেখ মুজিবুর রহমান (১৭ মার্চ ১৯২০ - ১৫ আগস্ট ১৯৭৫) বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও ভারতীয় উপমহাদেশের একজন অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যিনি বাঙালীর অধিকার রক্ষায় ব্রিটিশ ভারত থেকে ভারত বিভাজন আন্দোলন এবং পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব প্রদান করেন। প্রাচীন বাঙ্গালি সভ্যতার আধুনিক স্থপতি হিসাবে শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের জাতির জনক বা জাতির পিতা বলা হয়ে থাকে। তিনি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সভাপতি, বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং পরবর্তীতে এদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। জনসাধারণের কাছে তিনি শেখ মুজিব এবং শেখ সাহেব হিসাবে বেশি পরিচিত এবং তার উপাধি বঙ্গবন্ধু। তার কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্তমান সভানেত্রী এবং বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।
১৯৪৭-এ ভারত বিভাগ পরবর্তী পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতির প্রাথমিক পর্যায়ে শেখ মুজিব ছিলেন তরুন ছাত্রনেতা।পরবর্তীতে তিনি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সভাপতি হন । সমাজতন্ত্রের পক্ষসমর্থনকারী একজন অধিবক্তা হিসেবে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগোষ্ঠীর প্রতি সকল ধরণের বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। জনগণের স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি একসময় ছয় দফা স্বায়ত্ত্বশাসন পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন যাকে পশ্চিম পাকিস্তানে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী পরিকল্পনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। ছয় দফা দাবীর মধ্যে প্রধান ছিল বর্ধিত প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন যার কারণে তিনি আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের অন্যতম বিরোধী পক্ষে পরিণত হন। ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে ভারত সরকারের সাথে যোগসাজশ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তার বিচার শুরু হয় এবং পরবর্তীতে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ বিপুল বিজয় অর্জন করে। তথাপি তাকে সরকার গঠনের সুযোগ দেয়া হয় নি।
পাকিস্তানের নতুন সরকার গঠন বিষয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনীতিবিদ জুলফিকার আলী ভুট্টোর সাথে শেখ মুজিবের আলোচনা বিফলে যাওয়ার পর ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে মার্চ ২৫ মধ্যরাত্রে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঢাকা শহরে গণহত্যা পরিচালনা করে। একই রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরবর্তীকালে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়।[১] রহিমুদ্দিন খান সামরিক আদালতে তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে তবে তা কার্যকরা হয় নি। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১-এর ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামে স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা হয়। ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ শেখ মুজিব পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পরবর্তীকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে ভিত্তি করে সংবিধান প্রণয়ন এবং সে অনুযায়ী রাষ্ট্র চালনার চেষ্টা সত্ত্বেও তীব্র দারিদ্র্য, বেকারত্ব, সর্বব্যাপী অরাজকতা এবং সেই সাথে ব্যাপক দুর্নীতি মোকাবেলায় তিনি কঠিন সময় অতিবাহিত করেন। ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতা দমনের লক্ষ্যে ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি সকল দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নিজেকে আজীবনের জন্য রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন। এর সাত মাস পরে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তারিখে একদল সামরিক কর্মকর্তার হাতে তিনি সপরিবারে নিহত হন।
প্রাথমিক জীবন
১৯৪৯ সালের ছাত্রনেতা, শেখ মুজিব
জন্ম ও শিক্ষা
শেখ মুজিবুর রহমান তদানীন্তন ভারতীয় উপমহাদেশের বঙ্গ প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত ফরিদপুর জেলারগোপালগঞ্জ মহকুমার পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।[২] তার বাবা শেখ লুৎফর রহমান গোপালগঞ্জ দায়রা আদালতের সেরেস্তাদার (যিনি আদালতের হিসাব সংরক্ষণ করেন) ছিলেন এবং মা'র নাম সায়েরা খাতুন। চার কন্যা এবং দুই পুত্রের সংসারে তিনি ছিলেন তৃতীয় সন্তান। তার বড় বোন ফাতেমা বেগম, মেজ বোন আছিয়া বেগম, সেজ বোন হেলেন ও ছোট বোন লাইলী; তার ছোট ভাইয়ের নাম শেখ আবু নাসের। ১৯২৭ সালে শেখ মুজিব গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন যখন তার বয়স সাত বছর। নয় বছর বয়সে তথা ১৯২৯ সালে গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন এবং এখানেই ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ১৯৩৭ সালে গোপালগঞ্জে মাথুরানাথ ইনস্টিটিউট মিশন স্কুলে সপ্তম শ্রেনীতে ভর্তি হন। ১৯৩৪ থেকে চার বছর তিনি বিদ্যালয়ের পাঠ চালিয়ে যেতে পারেন নি। কারণ তার চোখে জটিল রোগের কারণে সার্জারি করাতে হয়েছিল এবং এ থেকে সম্পূর্ণ সেরে উঠতে বেশ সময় লেগেছিল। গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুল থেকে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন।[৩] ১৯৩৮ সনে আঠারো বছর বয়সে তার সাথে ফজিলাতুন্নেসার বিয়ে হয়। এই দম্পতির ঘরে দুই কন্যা এবং তিন পুত্রের জন্ম হয়। কন্যারা হলেন শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা। আর পুত্রদের নাম শেখ কামাল, শেখ জামাল এবং শেখ রাসেল।[৩] তিনজন পুত্রই ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট রাতে আততায়ীর হাতে নিহত হন।
রাজনৈতিক জীবনের সূচনা
মুজিবের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল ১৯৩৯ সালে মিশনারি স্কুলে পড়ার সময় থেকেই। এ বছর স্কুল পরিদর্শনে এসেছিলেন তদানীন্তন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি র মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং পরবর্তিতে বাংলার প্রধানমন্ত্রী এবং এমনকি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী। তিনি স্কুলের ছাদ সংস্কারের দাবীর উপর ভিত্তি করে একটি দল নিয়ে তাদের কাছে যান যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি নিজেই। ১৯৪০ সালে নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগ দেন। সেখানে তিনি এক বছর মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৪২ সনে এনট্র্যান্স পাশ করার পর কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে (বর্তমান নাম মাওলানা আজাদ কলেজ) আইন পড়ার জন্য ভর্তি হন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এই কলেজটি তখন বেশ নামকরা ছিল। এই কলেজ থেকে সক্রিয়ভাবে ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৪৩ সালে তিনি বেঙ্গল মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং অগ্রণী কাশ্মিরী বংশদ্ভুত বাঙালি মুসলিম নেতা হুসেইন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সান্নিধ্যে আসেন।এখানে তার ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য বিষয় ছিল একটি পৃথক মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন। ১৯৪৩ সনে বঙ্গীয় মুসলিম লীগের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
১৯৪৪ সনে বর্তমান বাংলাদেশের কুষ্টিয়ায় নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্র লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে শেখ মুজিব বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তিনি কলকাতায় বসবাসকারী ফরিদপুরবাসীদের নিয়ে তৈরি "ফরিদপুর ডিস্ট্রিক্ট এসোসিয়েশনের" সেক্রেটারি মনোনীত হন। এর দুই বছর পর ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের মহাসচিব নির্বাচিত হন। ১৯৪৭ সনে অর্থাৎ দেশবিভাগের বছর মুজিব কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামিয়া কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রী লাভ করেন। ভারত ও পাকিস্তান পৃথক হওয়ার সময়ে কলকাতায় ভয়ানক হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা হয়। এসময় মুজিব মুসলিমদের রক্ষা এবং দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সোহরাওয়ার্দীর সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক তৎপরতায় শরিক হন।[৪]
পাকিস্তান-ভারত পৃথক হয়ে যাওয়ার পর শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৪৮ সালের জানুয়ারি ৪ তারিখে প্রতিষ্ঠা করেন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্র লীগ যার মাধ্যমে তিনি উক্ত প্রদেশের অন্যতম প্রধান ছাত্রনেতায় পরিণত হন। এ সময় সমাজতন্ত্রের দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার নিম্নমানের উন্নয়নের জন্য এটিকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে মনে করতে থাকেন।
প্রাথমিক রাজনৈতিক তৎপরতা
১৯৫০ সালে শেখ মুজিব
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবী নিয়ে প্রতিষ্ঠিত আন্দোলনে অংশ নেয়ার মাধ্যমেই শেখ মুজিবের রাজনৈতিক তৎপরতার সূচনা ঘটে। ১৯৪৮ সনের ফেব্রুয়ারি ২৩ তারিখে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিন গণ-পরিষদের অধিবেশনে বলেন যে, উর্দূই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। তার এই মন্তব্যে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদী শেখ মুজিব অবিলম্বে মুসলিম লীগের এই পূর্ব পরিকল্পিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরুর সিদ্ধান্ত নেন। এই বছরের ২ মার্চে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নীতিমালা নিয়ে আলোচনা করা হয় যাতে শেখ মুজিব একটি প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। এখান থেকেই সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।[৫] এই পরিষদের আহ্বানে ১১ মার্চ ১৯৪৮ তারিখে ঢাকায় ধর্মঘট পালিত হয়। ধর্মঘট পালনকালে শেখ মুজিবসহ আরও কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মীকে সচিবালয় ভবনের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু ছাত্রসমাজের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ১৫ মার্চ শেখ মুজিব এবং অন্য ছাত্র নেতাদেরকে মুক্তি দেয়া হয়। এদের মুক্তি উপলক্ষে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় র্যালি হয় যাতে মুজিব সভাপতিত্ব করেন। পুলিশ এই র্যালি অবরোধ করেছিল। পুলিশী কার্যক্রমের প্রতিবাদে শেখ মুজিব অবিলম্বে ১৭ মার্চ ১৯৪৮ তারিখে দেশব্যাপী ছাত্র ধর্মঘটের ঘোষণা দেন। ১৯ মার্চ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে একটি আন্দোলন পরিচালনা করেন। এতে ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮ তারিখে তাকে আবার আটক করা হয় এবং বহিষ্কৃত হন। উল্লেখ্য ২০১০ সালের ১৪ আগস্ট তাঁর হৃত ছাত্রত্ব (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) ফিরিয়ে দেয়া হয়।
১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের ২১ জানুয়ারি শেখ মুজিবকে জেল থেকে মুক্তি দেয়া হয়। জেল থেকে বেরিয়ে তিনি আবার চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের দাবী আদায়ের আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন যার জন্য তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জরিমানা করা হয়। কিন্তু তিনি এই জরিমানাকে অবৈধ ঘোষণা করে তা আদায় থেকে বিরত থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২৬ এপ্রিল মুসলিম লীগ বিরোধী প্রার্থী শামসুল হক টাঙ্গাইলে একটি উপ-নির্বাচনে বিজয় লাভ করেন। শেখ মুজিব তার সেই আন্দোলনের সফলতার জন্য উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশনের ধর্মঘট করেন যার জন্য তাকে আবার আটক করা হয়। এ সময়ই তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মাচারীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান। ২৩ জুন সোহরাওয়ার্দী এবং মাওলানা ভাসানী পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করার পর শেখ মুজিব মুসলিম লীগ ছেড়ে দিয়ে এই নতুন দলে যোগ দেন। তাঁকে দলের পূর্ব পাকিস্তান অংশের যুগ্ম সচিব নির্বাচিত করা হয়। জুনের শেষ দিকে জেল থেকে ছাড়া পান। ছাড়া পাওয়ার পরই খাদ্য সংকটের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যোগ দেন। এ বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে সাময়িকভাবে আটক করে রাখা হলেও অচিরেই ছাড়া পেয়ে যান। এর পর মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সাথে মিলে লিয়াকত আলি খানের কাছে একটি প্রতিনিধিদল প্রেরণের চেষ্টা করায় ভাসানী এবং তাঁকে আটক করা হয়। এটি ছিল অক্টোবরের শেষদিকের কথা।
১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি মাসের প্রথমদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খানের পূর্ব পাকিস্তান আগমনকে উপলক্ষ করে আওয়ামী মুসলিম লীগ ঢাকায় দুর্ভিক্ষবিরোধী মিছিল বের করে। এই মিছিলের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে এবারও শেখ মুজিব আটক হন। সেবার তার দুই বছর জেল হয়েছিল। ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিন ঘোষণা করেন, উর্দুই পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হবে। এ ঘোষণার পর জেলে থাকা সত্ত্বেও মুজিব প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ আয়োজনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। জেল থেকে নির্দেশনা দেয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদকে পরিচালনায় তিনি ভূমিকা রাখেন। এরপরই ২১ ফেব্রুয়ারিকে রাষ্ট্রভাষার দাবী আদায়ের দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সময়ে শেখ মুজিব জেলে থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে অনশন পালনের সিদ্ধান্ত নেন। তার এই অনশন ১৩ দিন কার্যকর ছিল। ২৬ ফেব্রুয়ারি তাকে জেল থেকে মুক্তি দেয়া হয়।
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন
১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের ৯ জুলাই তিনি পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনের শেষে দলের সেক্রেটারী জেনারেল (মহাসচিব) নির্বাচিত হন। একই বছরের ১৪ নভেম্বর সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য অন্যান্য দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৯৫৪ সালের ১০ মার্চ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২৩৭ টি আসনের মধ্যে ২২৩ টিতে বিপুল ব্যবধানে বিজয় অর্জন করে যার মধ্যে ১৪৩ টি আসনই আওয়ামী লীগ লাভ করেছিল। শেখ মুজিব গোপালগঞ্জে আসনে ১৩,০০০ ভোটের ব্যবধানে বিজয় লাভ করেন। সেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল শক্তিশালী মুসলিম লীগ নেতা ওয়াহিদুজ্জামান। ১৫ মে তাকে কৃষি ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। ২৯ মে কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তফ্রন্ট ভেঙে দেয়। ৩০ মে করাচি থেকে ঢাকা ফেরার পর বিমান বন্দর থেকেই তাকে আটক করা হয়। ২৩ ডিসেম্বর মুক্তি লাভ করেন। ১৯৫৫ সালের ৫ জুন শেখ মুজিব আইন পরিষদের সদস্য মনোনীত হন। ১৭ জুন আওয়ামী লীগ পল্টন ময়দানে আয়োজিত এক সম্মেলনে ২১ দফা দাবী পেশ করে যার মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২৩ জুন দলের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত হয়, পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন অর্জিত না হলে আইন সভার সকল সদস্য পদত্যাগ করবেন। ২৫ আগস্ট পাকিস্তানের করাচিতে গণপরিষদের অধিবেশনে শেখ মুজিব বলেন:
"Sir [President of the Constituent Assembly], you will see that they want to place the word "East Pakistan" instead of "East Bengal." We had demanded so many times that you should use Bengal instead of Pakistan. The word "Bengal" has a history, has a tradition of its own. You can change it only after the people have been consulted. So far as the question of one unit is concerned it can come in the constitution. Why do you want it to be taken up just now? What about the state language, Bengali? We will be prepared to consider one-unit with all these things. So I appeal to my friends on that side to allow the people to give their verdict in any way, in the form of referendum or in the form of plebiscite."[৪]
২১ অক্টোবর বাংলাদেশ আওয়ামী মুসলিম লীগের বিশেষ অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে দলের নাম থেকে "মুসলিম" শব্দটি বাদ দেয়া হয়। শেখ মুজিব পুনরায় দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন। ৩ ফেব্রয়ারি মুখ্য মন্ত্রীর সাথে আওয়ামী লীগের বৈঠকে দল থেকে খসড়া সংবিধানে স্বায়ত্ত্বশাসন অন্তর্ভুক্ত করার দাবী জানানো হয়। ১৪ জুলাই রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব রাখা হয় যা তিনিই সরকারের কাছে পেশ করেন। সেপ্টেম্বর মাসের ৪ তারিখ তাঁর নেতৃত্বে একটি দুর্ভিক্ষ বিরোধী মিছিল বের হয়। ১৪৪ ধারা ভঙ্গের কারণে এই মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর শেখ মুজিব কোয়ালিশন সরকারে যোগ দিয়ে একযোগে শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতিরোধ এবং গ্রামীণ সহায়তা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দলের জন্য সম্পূর্ণ সময় ব্যয় করার তাগিদে ১৯৫৭ সালে ৩০ মে মন্ত্রীপরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন। ৭ আগস্ট সরকারি সফরে চীন এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন গমন করেন। ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা এবং সেনাবাহিনী প্রধান আইয়ুব খান দেশে সামরিক আইন জারি করে সকল ধরণের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এই বছরেরই ১১ অক্টোবর তাঁকে আটক করা হয়। জেলা থাকা অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়। ১৪ মাস একটানা আটক থাকার পর তাঁকে মুক্তি দেয়া হলেও জেলের ফটক থেকে পুনরায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান নেতা
১৯৪৯ সালে হুসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে শেখ মুজিব
উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করার মাধ্যমে তিনি ১৯৬১ সালে জেল থেকে ছাড়া পান। এবার শুরু করেন গুপ্ত রাজনৈতিক তৎপরতা। অন্যান্য সাধারণ ছাত্রনেতাদের নিয়ে গোপনে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন যার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করা। ১৯৬২ সালের ৬ ফেব্রয়ারি জননিরাপত্তা আইনে তাকে আবার আটক করা হয়েছিল। জুনের ২ তারিখে চার বছরব্যাপী মার্শাল ল অপসারণের পর একই মাসের ১৮ তারিখে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। ২৫ জুন অন্য রাজনৈতিক নেতাদের সাথে মিলে আইয়ুব খান আরোপিত বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুর বিরুদ্ধে সংগ্রামে নেমে পড়েন। ৫ জুন পল্টন ময়দানে আয়োজিত এক সম্মেলনে আইয়ুব খানের সমালোচনা করেন। ২৪ সেপ্টেম্বর লাহোর যান এবং সেখানে শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে মিলে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট গড়ে তোলেন। এটি মূলত বিরোধী দলসমূহের একটি সাধারণ কাঠামো হিসেবে কাজ করেছিল। পুরো অক্টোবর মাস জুড়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে মিলে বাংলার বিভিন্ন স্থান সফর করেন এই যুক্তফ্রন্টের সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে। ১৯৬৩ সালে সোহরাওয়ার্দীর সাথে আলোচনার উদ্দেশ্যে লন্ডন যান, সোহরাওয়ার্দী সেখানে চিকিৎসারত ছিলেন। এই বছরের ৫ ডিসেম্বর তিনি বৈরুতে মৃত্যুবরণ করেন।
সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর ১৯৬৪ সালের ২৫ জানুয়ারি মুজিবের বাসায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আওয়ামী লীগকে পুণরায় সংহত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই বৈঠকের প্রস্তাবের ভিত্তিতে শেখ মুজিব তত্কালীন পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের মহাসচিব[৬] ও মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ১১ মার্চ একটি সর্বদলীয় সংগ্রমা পরিষদ গঠিত হয় যার মাধ্যমে মুজিব সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধকল্পে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। সেনাশাসক আইয়ুব খানের বেসিক ডেমোক্রেসিস প্ল্যান, সামরিক শাসন এবং এক-ইউনিট পদ্ধতির বিরোধী নেতাদের মধ্যে অগ্রগামী ছিলেন শেখ মুজিব। এই পদ্ধতি অনুযায়ী ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার পরিকল্পনা করা হয় এবং প্রদেশগুলোকে একত্রে জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।[৭] অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কাজ করতে গিয়ে, মুজিব আইয়ুব বিরোধী দল প্রার্থী ফাতিমা জিন্নাহকে সমর্থন করেন। যথারীতি নির্বাচনের দুই সপ্তাহ পূর্বে তাকে আটক করা হয়। তাকে রাষ্ট্রদ্রোহীতা এবং আপত্তিকর প্রস্তাব পেশের অভিযোগে অভিযুক্ত করে এক বছরের কারদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।[৪] অবশ্য উচ্চ আদালতের এক রায়ে তার আগেই তিনি মুক্তি পেয়ে যান। এ সময় সামরিক বাহিনীর গণহত্যা আর বাঙালিদের চাহিদা পূরণে সামরিক শাসকদের ঔদাসীন্য পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে ক্ষুব্ধ করে তোলে।[৮]
ছয় দফা দাবী
মূল নিবন্ধ: ছয় দফা আন্দোলন
১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলসমূহের একটি জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।[২] এ সম্মেলনেই শেখ মুজিব তার ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবী পেশ করেন যাতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্ত্বশাসনের পরিপূর্ণ রূপরেখা উল্লেখিত হয়েছিল। শেখ মুজিব এই দাবীকে "আমাদের বাঁচার দাবী" শিরোনামে প্রচার করেছিলেন। এই দাবীর মূল বিষয় ছিল একটি দুর্বল কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে পরিচালিত পাকিস্তানী ফেডারেশনে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্ত্বশাসন।[৭] এই দাবী সম্মেলনের উদ্যোক্তারা প্রত্যাখান করেন এবং শেখ মুজিবকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে চিহ্নিত করেন। এ কারণে তিনি উক্ত সম্মেলন বর্জন করে পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে আসেন। মার্চ মাসের এক তারিখে শেখ মুজিব আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনের পর তিনি ছয় দফার পক্ষে সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে দেশব্যাপী অভিযান পরিচালনা করেন। প্রায় পুরো দেশই ভ্রমণ করেন। এই ভ্রমণের সময় তিনি সিলেট, ময়মনসিংহ এবং ঢাকায় বেশ কয়েকবার পুলিশের হাতে বন্দী হন। বছরের প্রথম চতুর্থাংশেই তাকে আটবার আটক করা হয়েছিল। এই বছরের মে ৮ তারিখে নারায়ণগঞ্জে পাট কারখানার শ্রমিকদের এক র্যালিতে অংশগ্রহণের জন্য তাকে আবার গ্রেফতার করা হয়। তার মুক্তির দাবীতে ৭ জুন দেশব্যাপী ধর্মঘট পালিত হয়। পুলিশ এই ধর্মঘট চলাকালে গুলিবর্ষণ করে যার কারণে ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জে আনুমানিক তিনজনের মৃত্যু হয়।
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
মূল নিবন্ধ: আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
সেনাবাহিনী কর্তৃক আটক হয়ে জেলে দুই বছর থাকার পর ১৯৬৮ সালের প্রথমদিকে পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিব এবং আরও ৩৪ জন বাঙালি সামরিক ও সিএসপি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে যা ইতিহাসে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে সুপরিচিত। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছিল শেখ মুজিবসহ এই কর্মকর্তারা ভারতের ত্রিপুরা অঙ্গরাজ্যের অন্তর্গত আগরতলা শহরে ভারত সরকারের সাথে এক বৈঠকে পাকিস্তানকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনা তৈরি করেছে।[২] এতে শেখ মুজিবকে এক নম্বর আসামী করা হয় এবং পাকিস্তান বিভাগের এই ষড়যন্ত্রের মূল হোতা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। অভিযুক্ত সকল আসামীকে ঢাকা সেনানিবাসে অন্তরীন করে রাখা হয়। এর অব্যবহিত পরেই সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানব্যাপী প্রতিবাদের ঝড় উঠে। এই মামলাকে মিথ্যা আখ্যায়িত করে সর্বস্তরের মানুষ শেখ মুজিবসহ অভিযুক্ত সকলের মুক্তির দাবীতে রাজপথে নেমে আসে। এহেন পরিস্থিতে একই বছরের ১৯ জুন ঢাকা সেনানিবাসের অভ্যন্তরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অভিযুক্ত আসামীদের বিচারকার্য শুরু হয়।
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
মূল নিবন্ধ: উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
বিচারকার্য চলাকালীন সময়ে ১৯৬৯ সালের জানুয়ারি ৫ তারিখে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ তাদের এগার দফা দাবী পেশ করে যার মধ্যে শেখ মুজিবের ছয় দফার সবগুলোই দফাই অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই পরিষদের সিদ্ধান্তক্রমে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলনের প্রস্তুতি গৃহীত হয়। এই সংগ্রাম এক সময় গণ আন্দোলনে রূপ নেয়। এই গণ আন্দোলনই ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত। মাসব্যাপী প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ আন্দোলন, ১৪৪ ধারা ভঙ্গ, কারফি
টাইটানিক জাহাজ ডুবে যাওয়ার সময়
এর আশেপাশে তিনটি জাহাজ ছিল!
একটি জাহাজ এর নাম (সিম্পসন) ।
এটি টাইটানিক জাহাজ থেকে সাত
মাইল দূরে ছিল।
ঐ জাহাজের যাত্রীরা টাইটানিক
থেকে নিক্ষিপ্ত
সাদা স্ফুলিঙ্গ দেখেছিল।
টাইটানিকের বিপদ সংকেত পেয়েও
সিম্পসন জাহাজ
বিপদে এগিয়ে আসেনি কারণ
ঐ জাহাজ অবৈধভাবে সিল শিকার
করে নিয়ে যাচ্ছিল।
তারা বিপদে এগিয়ে এসে ধরা পড়তে
চায়নি
বরং তারা উলটো পথে যাত্রা শুরু করল।
আরেকটি জাহাজ এর নাম
# ক্যালিফোর্নিয়া।
এটি টাইটানিক থেকে চৌদ্দ মাইল
দূরে ছিল।
তারাও বিপদ সংকেত সাদা স্ফুলিঙ্গ
দেখেছিল
কিন্তু জাহাজটি বরফখন্ড দিয়ে ঘেরা
ছিল।
জাহাজের ক্যাপটেন বাইরের প্রতিকূল
এবং অন্ধকার
পরিবেশ দেখে নিজেকে বুঝ দিলেন
কিছুই হয়নি।
তিনি কোন কিছু না করেই বিছানায়
চলে গেলেন।
সর্বশেষ জাহাজটির নাম
# কারপাথিয়া ।
এটি টাইটানিক জাহাজের দক্ষিণ
দিকে ৫৮ মাইল দূরে ছিল।
জাহাজের ক্যাপটেন যখন রেডিওতে
অসহায় মানুষদের
কান্না শুনতে পেলেন তখন তিনি
তাদের জন্য প্রার্থণা
করলেন এবং প্রার্থণা শেষে দ্রুত
গতিতে
বরফের আস্তরণ ভেঙে এগিয়ে আসলেন।
অবশেষে এই জাহাজ ৭০৫ জনকে উদ্ধার
করতে পেরেছিল।
উপরের ঘটনার উপর মিল করে আমরাও
আমাদের সমাজেও # তিন_শ্রেণীর_মানুষদের
দেখতে পাই।
কেউ বিপদে পড়লে # এক_শ্রেণীর_মানুষ
আছে যারা
নিজেদের কুকর্ম নিয়ে চিন্তা করে।
ধরা পড়ার ভয়ে আর এগিয়ে আসে না
বরং সেখান থেকে কেটে পড়ে।
# দ্বিতীয় শ্রেণীর মানুষ হচ্ছে দর্শক।
তারা শুধু দেখবে কিন্তু এগিয়ে আসবে
না।
সর্বশেষ মানুষ হচ্ছে # সাহসী_মানুষ
যারা সৃষ্টিকর্তার নাম নিয়ে
ঝাপিয়ে পড়বে।
বিপদ থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করবে।
07/03/2017
আজ ৭ই মার্চ
03/03/2017
এসএসসি ব্যাজ ২০১৬
--------সংগ্রহীত
অহংকার পতনের মূল
®Shopnil Khademul(স্বপ্নময়ী বালক)
--------হঠাৎ বাড়িতে অাসলাম।কয়েকদিন
থাকব।
অামার একটা বন্ধু অাছে।ও কিছুটা
অহংকারী।অাপাতত কিছুই করেনা।ওর
সাথে দেখা হল:-
: কেমন অাছ সিয়াম??(অামি)
: হ্যা ভাল তুমি (সিয়াম)
: এইতো চলছে
: কবে অাসলা
: অাজকেই
: থাকবা কয়েকদিন??
: হুমমম..তোমার অবস্থা কি??
: কোনরকম...একটা চাকরি খুব দরকার।
অামি কিছু ভাবলাম।সেটা পরে
অাপনাদের বলছি।
: সিয়াম অামি অার যাবনা।গ্রামেই
থাকব।
: কেন??
: এমনি..ঢাকা শহরের কোলাহল ভাল
লাগেনা।
: অামি যদি তোমার মত একটা চাকরি
পাইতাম।
: অাচ্ছা অামি তোমাকে ভালো একটা
চাকরির ব্যবস্থা করে দিব।বিশ হাজার
টাকা লাগবে।
: তুমি টাকাটা দিয়ে দিবা??পরে
তোমাকে দিয়ে দিব।
: অাচ্ছা........
কয়েকদিন পরের ঘটনা।সিয়াম অাজ
ঢাকা চলে গেল।অাগে একদিন অফিসে
যায়া চাকরি টা 100% কনফার্ম করে
অাসছে।অামি যাইনি।শুধু টাকাটা অার
এড্রেস দিছি।অার অফিসে অামার নাম
বলতে নিষেধ করেছি।
চাকরি কনফার্ম হওয়ার পর ওর ভাব একটু
বেড়ে যায়।এখন অাগের মত করে কথা
বলেনা.....
যাওয়ার দিন শুধু বলল..যাই,তোমার
টাকাটা পেয়ে যাবা সময়মত।
অামি শুধু মুচকি হেসেছিলাম সেদিন।
1মাস পর সিয়াম প্রথম প্রথম বেতন পাইল।
প্রথম মাসেই 25হাজার টাকা!!কারণ খুব
ভাল একটা পদে গেছে সে।অামাকে
20হাজার টাকা দিল।পরের মাসের
বেতনটা সে অগ্রিম পাইল।অামি বললাম
অামার 10হাজার টাকা দরকার দিতে
পারবা???
সে এমন ভাব করল!!!! কি অার বলব??
এখন অামি ফোন দিলেও ধরেনা।
কয়েকদিন পর অামার বড় অাপুর বাবু হল
অামি অাবার শহরে চলে গেলাম।
সিয়াম কে দেখা করতে বললাম সে বলে
দিল দেখা করতে পারবে না খুব কাজ।
3দিন পর সময় দিল:-
: কেমন অাছো সিয়াম??
: চলছে....তোমার? ?
: ভালনা...অামার কিছু টাকা দরকার
দিতে পারবা??
: অারে ভাই তুমি অামাকে চাকরির সময়
একটু সাহায্য করছ কারণে কি সেটার
দোহাই দিয়ে সবসময় টাকা চাইবা!!!!
: একটু সাহায্য!!!!?? অাচ্ছা ভাই
লাগবেনা। যাও তুমি।ভালো থেকো।
: ওকে অার এই নাও 200টাকা কিছু কিনে
খাইয়।বাই।
কষ্টে+রাগে বুকটা ফেটে যাচ্ছিল।
পরদিন সকালে সিয়াম অফিসে গেল।
বসের কাছে একটা ফাইল জমা দিতে
গেল:
: বস ফাইলটা রেডি।
: ও দাও দেখি।
: অারে তুমি???!!!!! মানে বস অাপনি???
: হ্যা অামি....তোমার বন্ধু অামি।এখন
তোমার বস।
এখন তাহলে কাহিনি শুনেন।এই অফিসটা
অামার দুলাভাই এর। অাপুর বাবু হবে তাই
কয়েকদিনের জন্য অামি গ্রামে চলে
গেছিলাম। সিয়াম দুলাভাই কে দেখেনি
কখনো। দুলাভাই বলছিল ম্যানেজারের
জায়গায় এই কয়েকদিন কাকে নিয়োগ
করব??অামি বলছিলাম গ্রাম থেকে খুব
বিস্বস্ত একজনকে অানব।পরে অামি যখন
অাসব তখন তাকে অন্য পদে দিয়ে দিব।
অাপনি ওকে কাজটা বুঝিয়ে দিয়েন।
অার সিয়ামকে পরিক্ষা করার জন্যই
20হাজার টাকা+বেতন+অগ্রিম বেতন সব
নাটক করছিলাম।কারণ অফিসে একজনের
দরকার ছিল । অার দেখি সিয়ামের ও
চাকরিটা দরকার ।কিন্তু সিয়াম যা ভাব
করল!!!!!!
: মি: সিয়াম সাহেব।অাপনাকে
চাকরিটা দিয়েছিলাম অাপনার ভালর
জন্যই।অাচ্ছা এখন অামাকে 20হাজার
টাকা দিতে পারবেন??
: হ্যা বস পারব একটু অপেক্ষা করুন।
: না তা এখন অামার অার লাগবেনা।যে
তার উপকারের কথা ভুলে যায়।যে চাকরি
পাবার পর বন্ধুকে ভুলে যায়।সে তো
অামার দুলাভাই এর অফিসে কাজ করতে
পারেনা।ভাল হত যদি অাপনি অাপনার
উপকারের কথা মনে রাখতেন।অাপনার
বন্ধুকে ভুলে না যাইতেন।
: বস ভুল হয়ে গেছে।
: যাইহোক..অাজকের পর থেকে অার
অফিসে অাসবেন না।দুলাভাই কে সব
বলেছি।ভাল থাকবেন।হয়তো কখনো কেউ
অাপনাকে অাবার সুযোগ করে দিবে।তখন
অাপনি তার উপকারের কথা ভুইলেন না।
Bye ........
পরে সিয়াম কে সড়িয়ে অন্য নতুন
একজনকে অফিসে চাকরি দেয়া হল....
>>>>>>কিছু মানুষ কে উপকার করবেন??
করেন ভাল কথা কিন্তু........কয়েকদিন পর
দেখবেন অাপনার খোজ ত রাখবেই না
বরং উপকারের কথা মনেও রাখবেনা!!!
অার কিছু মানুষ ধরেন অাপনারা 5বন্ধু
কলেজে পড়েন। একজনের পড়ে
ভার্সিটিতে/ম্যাডিকেল/বুয়েট এ চান্স
হইল সে অাপনাকে মনেই রাখবেনা।
কয়েকজন একসাথে ছিলেন কেউ একজন
উপরের অবস্থানে উঠতে পারলেই সব ভুলে
যায়....এদের মুখে ফুল ছুড়ে মারা উচিত ও
সরি সরি ফুল না ফুলের টব
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Telephone
Address
Satkhira
SATKHIRA