09/04/2017
সিগারেট এর এক টান *
„
লেখক= 'হা' 'শূন্য' (অ-স্বচ্ছ মানব)
„
উৎসর্গ =বিবর্ণ ক্যানভাস ( নীল) )
„
যে’দিন আমার ভালোবাসা আমায় টা টা বায় বায়। বলে
চলে গেছিলো ,সেই দিন আমার জীবন শেষ হয়ে গেলো ।
আমি ভালোবাসতাম অনেক বেশি, ,বিয়ের পড় ঘুরতে
যাবো বলে অগ্রিম টিকিট সংগ্রাহ করে ছিলাম।।
কিন্তু ঠিক বিয়ে করার কয়েক দিন আগে ,সব কিছু শেষ
করে দিলো আশা, ,
,,
,,
মেয়ে = আমি তোমায় ভালোবাসি না।
ছেলে = কি, ,কেন হঠাৎ এমন কথা বলো।
মেয়ে = আমি তোমায় বিয়ে করতে পারবো না।
ছেলে = তুমি তো আমায় ভালোবাস বিয়ে করতে আসুবিধা
কোথায়
মেয়ে = আমি রিদয় কে ভালোবাসি।
ছেলে = তাহলে আমার সাথে এই সম্পের্ক কেন করলে?
বলো কেন আমায় সাথে প্রতারনা করলে?
মেয়ে = আমি বন্ধুদের সাথে বাজি ধরে প্রেম করছি, ,
আমি জিতে গেছি। । এই নাও আমাদের বিবাহের কার্ড। ।
„
আমি নির্বাক হয়ে যাই। আর কি বলবো ভাষা হারিয়ে
ফেলি দু চোখ দিয়ে অশ্রু ঝর ছিলো। বসে পড়লাম
সেখানে। । ওর দিক তাঁকিয়ে ছিলাম। সেই ধীরুগতি তে
সেই পথ চলা দেখতে ছিলাম। । এক বার এর জন্য পিছু
ফিরলো না । এ আমি কাকে ভালোবাসে ছিলাম । যে
ভালোবাসা আমি অন্ধ হয়ে ওর সব অপরাধ মেনে নিতাম।
।যার চোখের সব স্বপ্ন নিজের করে নিতাম। এটা কি করে
সাঁজানো হতে পারে। এটা কি সত্যি নাটক ছিলো।
বিস্বাস হচ্ছিলো না। তবে ওর পিছু ফিরে না তাঁকান’ টা
আমায় সত্যি অবাক করে দিলো। কি করে পারলো
একবারো পিছু ফিরে না তাঁকিয়ে ।।এটা ভাবতে ভাবতে
ওখানে পড়ে গেলাম ,কিছু বন্ধু আমায় বাসায় দিয়ে এলো।
„
বিকেল বেলা বের হলাম সব কিছু যানো বিরক্ত লাগছে।
যাকে ছাড়া এক মুহূর্ত থাকতে পারতাম না। তার থেকে
এমন একটা আঘাত সহ্য কারার মত নয়। কষ্ট হচ্ছে অনেক।
„
বন্ধুদের কাছে শুন ছিলাম সিগারেট খেলে নাকি কষ্ট দূর
হয়। তাই জিবন সংঙ্গী হিসেবে এখন সিগারেট টাকে
গ্রহন করতে হবে। । চলে গেলাম দোকানে, যেয়ে একটা
সিগারেট চাইতে। দোকানদার আমার চাইবার ধরণ দেখে
বুঝতে পার ছিলো আমি আগে কখনো কিনি নাই। সে
বললো, বাবা এগুলো খারাপ এটা ধরলে আর কোন দিন
ছাঁড়ান দিতে পারবেনা। আমি খাবো না বলে নিলাম।
বাসায় এলাম, রুমে বন্ধ করে, একটা টান দিতে আমার
মাথা ধরে গেছে কাঁশতে কাঁশতে, সিগারেট না খেয়ে
পাশে রেখে শুয়ে পড়লাম।
„
ওর কথা ভাবতেই চোখে জল এসে যায় । যে এক দিন বলে
ছিলো “নীল” আমি তোমাকে ছাড়া এক মুহূর্ত থাকতে
পারি না। সে কেমন করে শেষ বারের মত ফিরেও তাঁকায়
নি। আমি কি কোন ভালোবাসায় খাদ রেখেছিলাম।ওর
সব স্মৃতি ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লাম। । সকাল হলো
ওঠে দেখি ,,
,,
,সিগারেট টা নিজে নিজে শেষ হয়ে গেছে ছাই টুকো
পড়ে আছে, ভাবছিলাম আমার ও একদিন এমন হতে হবে,।
সিগারেট যে ক্ষতি করে তা যেনেও আপন করে নিলাম,
যে ছেলে টা একদিন এগুলা পছন্দ করতো না সে নাকি
আজ এর একটান ছাড়া বাঁচবে না।আজ আমি সব ধরনের
মাদক এর সাথে জড়িঁত। যার বন্ধু ছিলো মাএ হাতে গোনা
10-15 জন সেখানে আজ যারা সিগারেট খায় তাড়া সবাই
আমার বন্ধু হয়ে ওঠে ।
„
কই ওরা কেউ তো বলেনা একবারো যে ,এটা খারাপ
খাওয়া খাইস না। উল্ট বলে বন্ধু নে একটান দে কষ্ট দূর
হয়ে যাবে। ইয়াভা আর সিগারেট সব ধরনের মাদক খেতে
খেতে বড় বড় লোকের সাথে হাত হয়ে যায়।
,
এখন আর একটা মুহূর্তে জন্য সিগারেট এর একটান ছাড়া
চলে না। এখন ওর কথা মনে পড়লে এক সাথে 5-6 টা
সিগারেট খেয়ে ফেলি ।
„
যে ছেলেটার এক দিন সব কিছু গোছালো ছিলো সেই
ছেলেটা আজ সব কিছু অ-গোছালো হয়ে গেছে। যানিনা !
কয় দিন বাঁচব, তবে ডাক্তার বলেছিলো আমি যদি
সিগারেট না খাই, তাহলে বেশি দিন বাঁচতে পাড়ি।
আমি সিগারেট এর এক টা না দিয়ে পারবো না বলে চলে
এলাম।
„
মা বাবা দুজন আমায় খুব ভালোবাসতো কিন্তু এখন আর
সেই ভালোবাসা নেই। শুধু এক মাএ ছেলে বলে কিছু করে
না। যদি কিছু করে ফেলি সেই জন্য।
মায়ের চোখে আমার জন্য জল দেখে মাঝে মাঝে ছেড়ে
দিতে ইচ্ছা হতো। তবুও পারতাম না।
„
সিগারেট খাবনা বলে বাড়ি থেকে বের হতাম না। কিন্তু
বন্ধুরা ঠিক নিয়ে চলে আসতো সিগারেট খাওয়ানোর
জন্য । তবে আর কি , দেখলে না খেয়ে তাকতে পারলাম
না। ।একটান আমায় দিতেই হবে।
„
কয়েক দিন পড় বাসা থেকে আমার খরচ বন্ধ করে দিলো ।
সিগারেট খাবার পয়সা নেই কি করবো।
„
শুরু করে দিলাম মাস্তানী, গুন্ডা, এলাকায় এক নামে
চিনে , টাকার জন্য কাজ করি সব,। যে ছেলেটা এসব
পছন্দ করতো না সে নাকি এখন পরিচিত এক ভংকার মুখ ।
যার ভয়ে সবাই কাঁপে।
„
শুরু করে দিলাম সব মাদক ব্যাবসা, মাদক ব্যাবসা আর
সন্তাসী র্শীষদের তালিকায় আমার নাম সবার উপরে
আছে। 1 নম্বার ব্যাবসাহী
„
যাদের কাছে একদিন আমি কাজ করতাম তারা এখন
আমার কথা ছাড়া কোন কাজ করেনা।যতো মন্তী আর
মিষ্টার সবাই আমার কথায় চলে। বিদেশ এর বড় বড়
মাফিয়া আমার সাথে কাজ করছে।
„
পুরোন সব কিছু বুলে গেলাম। কিন্তু ওকে মনে মনে
খুজতাম। কোন মেয়েকে অসম্মান আমি করতাম না। ইচ্ছা
করলে, সব কিনে নিতে পারতাম। সব নারী আমার পিছন
ঘুরাতে পারতাম কিন্তু আমি তো যানি আমি কে ছিলাম।
10 বছর কেঁটে গেলো।। সন্তাসী করি তাও আট বছর কেটে
গেলো । একটা নতুন কাজ এর ডিল পেলাম। আমি আবার
এমন লোক যে যার সাথে কাজ করবো তার ছবি আগে
দেখতে হবে।
„
কিন্তু সেই ডিলটা যার সাথে করবো। সে হলো সেই
প্রেমি ((রিদয়) ) যা জন্য আমার প্রেম টা শেষ হয়ে
গেলো। ভাবলাম ও কেন ওতো ভালো ছেলে। খুজ নিলাম
দেখলাম শুনতে পেলাম ওরা নাকি 20 বছর আগে এই
কাজের সাথে জড়িতো।ওর বাবার জায়াগায় নাকি ওই
বসছে । দেখা করলাম ওর সাথে। আমায় দেখে চমকে
গেছিলো। তার পড় শুরু হলো শএু।
„
আমায় এখন সব বাহিনী পুলিশ ,আরমি, রেব, এক হয়ে
খোঁজে । অনেক দিন পালিয়ে বেড়াচ্ছি আর পাড়ছিনা।
আমার সব দায়িত্ব আমার বন্ধু কে দিয়ে বল্লাম আমায়
জামিন করার সব দায়িত্ব সব তোরে দিলাম।
„
পুলিশের হাতে ইচ্ছা করে ধরা পড়ি, ,তারপড় পুলিশ কে
বলি আমি যত দিন বাঁচবো আমায় সিগারেট দিতে হবে
যদি না দাও তাহলে কোন জেল আমায় আটকে রাখতে
পারবে না। জেলে চলে গেলাম। প্রতি দিন দুই প্যাকেট
সিগারাট দিয়ে আমায় রেখে দিলো কিন্তু আমায় কেউ
ছাঁড়াতে আসলো না,
„
শুনছি ও নাকি বন্ধু হয়েছে। আমার শএুর সাথে মিলছে ।
ফজরের নামাজ টা জেলে পড়লাম ।আল্লার কাছে
প্রার্থনা করলাম আমি ভালোহয়ে যাবো। বাবা মায়ের
কাছে ফিরে যাবো । পালানোর অইডিয়া করলম। একান
থেকে বের হবার কিন্তু সেই শক্তি আর নেই । বুজেছি
এখানে জিবন টা শেষ হয়ে যাবে । আজ 10 বছর জেলে মা
বাব কেউ আসলো না দেখতে। সকাল বেলা এক পুলিশ
এসে আমায় বললো আমার নাকি জামিন হইছে। বের
হলাম। যে বের করছে তার কিছু কাজ করে দিতে হবে।
তার এক মাএ মেয়েকে নাকি ও ধর্ষণ করছে। মেয়েটাকে
দেখে মনে পড়লো ওতো বান্ধবী ছিলো মেঘলার।
মেঘলার সম্পর্কে জিজ্ঞাস করলাম, সে বললো আমার
মেয়ে (রিদয় )সম্পর্কে সব জানিয়ে দিছে বলে জোর করে
নিয়ে ধর্ষণ করলো।আর মেঘলা ওকে বিয়ে না করে
বিদেশ চলে গেলো আর ওর মা বাবা কে আটকে
রেখেছে। আমায় অফিসে ছিলাম আমার মেয়ে ফোনে
আমায় বলেছে ওরা নাকি ইন্ডিয়া চলে গেছে।
„
বাড়ি ফিরে গেলাম।মা বাবা কে দেখতে যেয়ে দেখি
,মা বাবা কেউ বাড়ি নেই সব কিছু ভাংগা চুড়া সিসি
কেমেরা চালু করে দেখি সব রিদয় এর কাজ,
„
আমি ইন্ডিয়া যাবার জন্য ইয়ারর্পোটে গেলাম আমায়
মারা জন্য কে যানো গুলি ছুড়লো, গুলিটা গায়ে লেগে
মাটিতে পড়ে যাই। আমার এক বন্ধু ছিলো অনেক আগে
বিদেশ গেছিলো ও বিদেশ থেকে এসে। আমায় দেখে
চিনতে পেরে হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমি বেঁচে যাই।
কিন্তু গুরুত্ব পূর্ন হলো যে নার্স আমির চিকিৎসা করছে
সেবা করছে সে নাকি মেঘলা ছিলো । আমি ফাইল
খুলতে ছবি পাই একটা চিঠি পাই, , চিঠি খানায় লেখা।
„
আমি ক্ষমা পাবো কিনা যানি না তোমার সামনে পড়তে
চাইনি বলে চলে গেলাম । আমি সে দিন বাবার মৃত্যু ভয়
তোমায় মিথ্যা বলেছিলাম ।না করে দিছিলাম তোমার
ভালোবাসাকে ।তোমার বন্ধুর কাছ থেকে শুনে আমি
নিজে ক্ষমা করার পাএী মনে হচ্ছে না। আমার জন্য আজ
তোমার এমন অবস্থা আমি তোমায় এখনো ভালোবাসি ।
সেই জন্য বিয়ের রাতে , আমি রিদয় কে বিয়ে না করে
বাড়ি থেকে পালিয়ে যাই ।আমার বাবা মাকে ও নিয়ে
গেছে শুনছি।
„
আমি বন্ধুকে বললাম, মেঘলাকে কোথায় পাবো ।বন্ধু
বললো চল বেশি দূর যেতে পারেনি, মেঘলা হাসপাতাল
থেকে বেড় হতে গুন্ডারা ধরে নিয়ে যায় । আমি আর
আমার বন্ধু গাড়িতে পিছন পিছন গেলাম। যেয়ে দেখি
সবাই এক জাগায় সবাই, , আমার মা বাবা মেঘলার মা
বাবা, মেঘলা আর সেই যার মেয়ে ধর্ষন হইছে সে।সবাই
আছে
„
আমার বাবা আর মেঘলার বাবা না কি বন্ধু ছিলেন
আমাদের বিবাহ নাকি ছোট বেলা থেকে ঠিক ছিলো ।
আমার একটা একটা বড় বোন হইছিলো যাকে জন্মের পড়
মারা গেছে ঘোষনা দেওয়া হয় । আর দোষ দেওয়া হয়
মেঘলার বাবাকে । সেই বন্ধুত্ব নষ্ট করেন রিদয় এর বাবা
মিথ্যা বলেন । সম্পত্তির লোভে। এসব করেন। কিন্তু সে
আশাপুর্ন হলোনা।।
সাবাই কে মেরে ফেললাম
। সবাইকে বাঁচালাম।
আমাদের প্রেম সবাই মেনে নিলো আর আমাদের বিবাহ
দিলো। কিন্তু আমার আর থাকা হবে না
„
পুলিশ এসে আমায় ধরে নিয়ে গেলো ফাঁসির হুকুম হলো
তার ঠিক আগ মুহুর্তে বললাম ,আমার শেষ ইচ্ছা সিগারেট
এর এক টান দিতে চাই। আমার ফাঁসি হুকুম বাদ দেওয়া
হলো কারণ যে খুন গুলো আগে করছি লাম সব বড় বড়
সন্তাসী ছিলো। আর আমি নিজেই ধরা দিছিলাম ।
এইজন্য জাবত জিবন কারাদন্ড হলো । আজ শেষ দিন আজ
আমি আবার মুক্তি পাবো, ,সিগারাটের একটান আর
দিলাম না সব ভুলে গেলাম। ভালো করে জিবন শুরু করলাম
আমি(( নীল)আর মেঘলা,,,আমাদের একটা সন্তান হলো,
,,নাম রাখি মায়াবী,,আজ মেয়ের বয়স 20 বছর।