27/05/2024
বাস্তব ও অবাস্তব
সম্প্রতি ৪০ তম পুলিশ ক্যাডারের ৪ জন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন এবং তাঁরা ৪১ তম প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেছেন।একইভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫৭ জন ১ম শ্রেণির কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন এবং ৪১ তম ক্যাডার সার্ভিসের কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেছেন।
এই যে পদত্যাগ এবং যোগদান প্রবাহ চাকরি ক্ষেত্রে এটি খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। আজকে যাঁরা প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করলেন, তাঁদের এইম ইন লাইফ হয়তো এটা ছিল না। খোঁজ নিলে দেখা যাবে তাঁরা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হতে চেয়েছেন।আর এখন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হবার পরও প্রশাসন ক্যাডার হতে চায়।
ডাক্তার ক্যাডার ত্যাগ করে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেন। এমনটাই হচ্ছে। কিন্তু কেন?
প্রশাসন ক্যাডার দেশের চাকরিজীবীদের একনম্বর পছন্দ। এতে যে ক্ষমতা, মর্যাদা, টাকা, বাড়ি-গাড়ির সুবিধা আছে ; সেটা অন্য কোন ক্যাডারে নাই। তাই এখন সবাই প্রশাসন ক্যাডার হতে চায়। মেনিয়াটা এই পর্যায়ে পৌঁছে যে, যে পড়ালেখা করেছে, সে যদি প্রশাসন ক্যাডার হতে না পারে তবে জিন্দেগী বরবাদ!
এটা অবশ্যই একটা অসুস্থ প্রতিযোগিতা। মানুষের শান্তি নষ্টের কারন।এটা সমাজে বৈষম্য বাড়াচ্ছে। এভাবে না।চাকরির বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত, কোনটি ছেড়ে কোনটি করবো।সব তো একই।সব পেশার সুবিধা সমান। তবে হয়তো সব পেশার মূল্য থাকতো।
এখন প্রশাসন ক্যাডারের সামনে অন্য সব ক্যাডার তুচ্ছ।
আর এখন শিক্ষার্থীদের অবস্থা দেখে মনে হয়, তারা পড়ালেখা জিনিসটা নিয়ে বেশ বিপদে আছে। বইপত্রে এতো ভালো ভালো কথা, উপদেশ আছে কিন্তু কোথাও ক্যাডার হওয়ার কথা নাই। এটা তাদের অবাস্তব মনে হয়।এটা তারা বুঝতে পারে কোথাও একটা ঘাপলা আছে। পড়ালেখা করা আর ক্যাডার হতে পারা ভিন্ন জিনিস।
তবে তারা এটা বুঝতে পারে যে একটা সার্টিফিকেট, ভালো জিপিএ ছাড়া ক্যাডার হওয়া সম্ভব নয়।তাই তারা বই পড়তে চায় না।তারা কিছুতেই পড়বে না। তারা জানে এই বই পড়ার কোন মূল্য নাই। তাই তাদের জোর করেও পড়ানো যায় না।ঘোড়াকে পানির কাছাকাছি নেয়া যাবে, কিন্তু পানি খাওয়ানো যাবে না।
তারা সাজেশন চায়,পরীক্ষার প্রশ্ন চায়,উত্তর চায়, ভালো জিপিএ চায়।এগুলোর মূল্য আছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, কোচিং সেন্টারের মালিক, গাইড বইয়ের প্রকাশক,সরকার, সবাই ভালো জিপিএ চায়।
পাবলিক পরীক্ষা গুলোতে প্রতি বছর জিপিএ 'র রেকর্ড হয়। সবাই খুশি।
এই খুশি দ্রুতই ম্লান হয়ে যায়। এতো ভালো রেজাল্ট। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায়,চাকরির পরীক্ষায় ধরা খায়।পাশ করতে পারে না। এইসব ভালো জিপিএ প্রশ্নবিদ্ধ হয়।ফাঁকা মনে হয়। মনে হয় বাইরে ফিটফাট ভিতরে সদরঘাট!
আগে বাচ্চাদের শেখানো হতো, পড়ালেখা করে যে গাড়ি-ঘোড়া চড়ে সে। এখন ব্যাপার ভিন্ন। লেখাপড়া করলে বেকার থাকতে হয়।সবার চাকরি হয় না।যাদের চাকরি হয় তারা চাকরি করতে চায় না।চাকরি ছেড়ে দিতে চায়।প্রশাসন ক্যাডার হতে চায়। এই যেমন পুলিশ ক্যাডার চাকরি ছাড়লেন।এমনই।
যারা এইম ইন লাইফ রচনা লিখেছিল, তাদের সবাই জানে সেটা ভুল ছিল। আসলে এইম ইন লাইফ বলে কিছু নাই। ওটা একটা মিথ্যা।
স্কুল,কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্যাররা আর শিক্ষার্থীদের কনভিন্স করতে পারে না। কারণ শিক্ষার্থীরা জানে উনাদের সামাজিক অবস্থান অত সুবিধার নয়।তাঁদের কথা শুনে কি হবে? তাঁরা এতো ভালো বলেন, শিখাতে চান।কিন্তু তাঁদের অবস্থান তো তলানিতে। তাঁরা কি আমাদের পথ দেখাতে পারবেন?
Nouman Mohammed
২৭/০৫/২০২৪