24/05/2025
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম-৩, সন্দ্বীপের তৃণমূল কর্মীদের খোলা চিঠিঃ
সম্মানিত নেতৃবৃন্দ, আসসালামু আলাইকুম।
সবাইকে সন্দ্বীপের তৃণমূল কর্মীদের পক্ষ থেকে বিপ্লবী শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। প্রিয় নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশের আপামর জনতার ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও বাকস্বাধীনতা ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে ৫ই আগষ্ট ২০২৪ ছাত্র-জনতার আহবানে স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ ও তার দোসর জাতীয় পার্টি (এরশাদ), জাসদ, বাসদ সহ গুটিকয়েক দল ছাড়া সকল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতায় কাঙ্ক্ষিত বিপ্লব সংগঠিত হয় যাতে ফ্যাসিস্ট হাসিনা তার সকল ল্যাসপেন্সার সহ একযোগে পলায়ন করতে বাধ্য হয়। আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছিল দেশ স্বৈরাচার মুক্ত হয়ে একটি শান্তির সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে একটি শক্তিশালী সরকার গঠন করবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, ধীরে ধীরে পরিলক্ষিত হয় সন্দ্বীপে তৃণমূল বিএনপি কর্মীদের নিরব কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে চলেছে বিএনপি নামক আপামর জনতার ভালোবাসার শহীদ জিয়ার দলটি। প্রিয় নেতৃবৃন্দ, ৫ই আগষ্ট বিপ্লবের পর থেকে সন্দ্বীপে বিএনপির রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন চোখে পড়ে, যেখানে বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনা আমলে চট্টগ্রাম উত্তরজেলা আওতাধীন শহরে নিয়মিত আন্দোলন সংগ্রামে ৫০জন নেতা কর্মী পাওয়া কষ্টকর হয়ে যেত সেখানে এখন হাজার হাজার কর্মীর উপস্থিতি, কিন্তু বিগত স্বৈরাচার হাসিনার প্রশাসন, সন্ত্রাসী সংগঠনের হাতে নির্যাতিত হামলা মামলার শিকার তৃণমূল কর্মীরা নেতাদের কাছে অবহেলিত। ৫ই আগষ্ট পরবর্তী সময়ে সন্দ্বীপে বিভিন্ন নেতার আশ্রয় প্রশ্রয়ে আধিপত্য বিস্তার, হাট-বাজার-ঘাট দখল, মাদক ব্যবসা, জমি দখল কে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত ৩টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় (আজিমপুরে শরিফ, গাছুয়ায় জাহাঙ্গীর, মগধরায় রিফাত)। সারিকাইত, মগধরা, মাইটভাঙ্গা, হারামিয়া, বাউরিয়া, গাছুয়া, কালাপানিয়া, সন্তোষপুর, উড়িরচর সহ বিভিন্ন ইউনিয়নে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় বহু হতাহত হয়। এই সকল বিষয়ে সন্দ্বীপ বিএনপি নেতৃত্ব সময়ে সময়ে নানান মুখরোচক বক্তব্য, তদন্ত কমিটি গঠন, শপথ বাক্য পাঠ করানোর মত হাস্যকর কর্মসূচি নিলেও কার্যত কোন ব্যবস্থাই তারা নেন নি। কোন কোন নেতৃত্ব এসব বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করলেও তাদেরকে অদৃশ্য কারণে চুপ করিয়ে দেয়া হয় এমনকি শোকজ পর্যন্ত করা হলেও অন্যদিকে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী রা থাকে বহাল তবিয়তে। কোন কোন ক্ষেত্রে প্রশাসন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী কে এরেষ্ট করলেও বিএনপি নেতৃবৃন্দের ঘুম হারাম হয়ে যায় লবিং করে সন্ত্রাসীদের থানা থেকে ছাড়িয়ে আনার জন্য। ৬ জানুয়ারি ২০২৫ হঠাৎ মধ্যরাতে ১৫টি ইউনিয়ন কমিটি ফেসবুকে প্রকাশ করেন বর্তমান নেতৃত্ব, প্রত্যেকটি ইউনিয়ন কমিটিতে আওয়ামী পুনর্বাসন ছিল, এমন অসংখ্য কর্মীকে বিএনপি কমিটিতে পদায়ন করেন যাদের এখনো ছাত্রদল করার বয়স পেরোয়নি। পলাতক স্বৈরাচার হাসিনা বাহিনীর সকল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, ঠিকাদারি দেখাশোনা করা, সন্ত্রাসী বাহিনীর অর্ধ সম্পাদিত ঠিকাদারি কাজ কমিশনের বিনিময়ে শেষ করে দিয়ে তাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা সন্দ্বীপের বর্তমান বিএনপির প্রধান দায়িত্ব। সন্দ্বীপের প্রায় চার লক্ষ জনগোষ্ঠী বিএনপির কিছু অসৎ দূর্নীতিবাজ বাটপার নেতার কর্মকাণ্ডে চরমভাবে ক্ষুব্ধ, এসকল অপকর্ম চোখ এড়ায়নি প্রায় আড়াই লক্ষ ভোটারের। বিএনপির তুমুল জনপ্রিয়তা এসব অসৎ দূর্নীতিবাজ নেতার অনৈতিক কর্মকাণ্ডে দিনদিন কমতে শুরু করেছে।
প্রিয় নেতৃবৃন্দ, সন্দ্বীপের এরকম হযবরল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আইনশৃংখলা ফিরিয়ে আনতে, দলের হারানো সুনাম রক্ষায় বর্তমান অথর্ব, অযোগ্য, দূর্নীতিবাজ, কমিশন খোর নেতাদের কমিটি বিলুপ্ত করে সাবেক পরীক্ষিত ছাত্রনেতাদের সমন্বয়ে নতুন তৃণমূল বান্ধব কমিটি সন্দ্বীপ বাসীকে উপহার দিন। যাদের হাত ধরে এগিয়ে যাবে প্রিয় দল, ফিরিয়ে আনবে হারানো সুনাম। সৎ যোগ্য কর্মী খুঁজে নিয়ে তৃণমূল কে শক্তিশালী করে গড়ে তুলবে। আশাকরছি তৃণমূলের মতামত কে উপেক্ষা করে অসৎ নেতাদের পক্ষ নেবেন না। আপনাদের মহামূল্যবান সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রইলাম।
ধন্যবাদ সবাইকে।
Tariqul Alam Tenzing Mohamad Bhuiyan
13/05/2025
12/05/2025
12/05/2025
11/05/2025
19/09/2024
18/09/2024