03/09/2025
আপিল বিভাগের আজকের শুনানি
ঢাকা ইউনিভার্সিটির পক্ষে অ্যাডভোকেট শিশির মনির, রিট পিটিশনারের পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম এবং অ্যাডভোকেট জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, এস এম ফরহাদের পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট ইমরান সিদ্দিকী বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
ঢাকা ইউনিভার্সিটির পক্ষে অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন:
১। রিটকারী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী। অন্যদিকে ফরহাদ সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী। ফরহাদ প্রার্থী হওয়ার কারণে রিটকারীর কোনোভাবে সংক্ষুব্ধ হতে পারে না। তার রিট করার লোকাস স্টান্ডাই নাই। রিটকারী জনস্বার্থে রিট দায়ের করার কথা বলেননি।
২। রিটকারীর প্রথমে রিটার্নিং অফিসার বরাবর এবং পরবর্তীতে উপাচার্য বরাবর আবেদন করা উচিত ছিল। যেহেতু এখানে প্রতিকার চায়নি, তাই রিট চলবে না।
৩। এস এম ফরহাদ ছাত্রলীগের সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ নেই। ছাত্রলীগের প্যাডের যে ফটোকপিতে ফরহাদের নাম আছে সেটা অথেনটিক না। ফরহাদ এই বিষয়ে কিছু জানেন না।
৪। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ফরহাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ফরহাদ শিবিরের সেক্রেটারি ছিলেন এবং বর্তমানে সভাপতি। বিভিন্ন পত্রিকায় স্টেটমেন্ট দিয়ে ফরহাদ দাবি করেছেন ফরহাদ ছাত্রলীগের সাথে জড়িত না।
৫। এস এম ফরহাদ জসীমউদ্দিন হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। ডাকসু ক্যান্ডিডেট এবং শিবিরের সভাপতি এস এম ফরহাদ আর ছাত্রলীগের এস এম ফরহাদ একই ব্যক্তি নন। তাই ফরহাদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ একটা ডিসপুটেড ফ্যাক্ট। ডিসপুটেড ফ্যাক্টের ক্ষেত্রে রিট চলে না।
রিটকারীর পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম বলেন:
১। রিটকারী ডাকসু নির্বাচন স্থগিত চায়নি। হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে স্থগিত করেছেন। রিটকারী নির্বাচন চায়, কিন্তু ফরহাদের প্রার্থিতার বিষয়ে তদন্ত চায়।
২। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্যরা ভোটার বা প্রার্থী হতে পারবে না, এক্ষেত্রে তাদেরকে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দিলে যেকোনো ক্যান্ডিডেট, যেকোনো ভোটার, এমনকি যেকোনো নাগরিক রিট করে ইউনিভার্সিটির অ্যাকশন চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।
৩। রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ বা উপাচার্যের কাছে অভিযোগ করার যে ফোরাম তা কোনো স্ট্যাটিউটরি ফোরাম না। ঢাকা ইউনিভার্সিটির অর্ডারে ভোটিং বা ইলেকশনের কোনো বিধান নাই। ইলেকশন সংক্রান্ত যে বিধি তা নিজস্ব প্রাইভেট কনস্টিটিউশন। সুতরাং, সরাসরি রিট চলবে।
৪। জুলিয়াস সিজারের প্রার্থিতা বাতিলের জন্য রিটার্নিং অফিসারের কাছে কেউ আবেদন করেনি। হল প্রশাসনের চিঠির ভিত্তিতে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। এস এম ফরহাদের ক্ষেত্রে হল প্রশাসন বা ইউনিভার্সিটি প্রশাসন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সুতরাং ডিসক্রিমিনেশন হয়েছে।
৫। জসীমউদ্দিন হলের সহসভাপতি ফরহাদ এবং সমাজবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ একই ব্যক্তি নন। দুইজনের নাম ছবিসহ তথ্য তুলে ধরেন। এধরনের নতুন ডিসপুটেড তৈরি করে প্রুভড ফ্যাক্টকে ডিসপুটেড ফ্যাক্ট বানানো যাবে না।
৬। এস এম ফরহাদের সাথে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের ছবি উপস্থাপন করেন। নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে জড়িত কেউ ইলেকশন যাতে না করতে পারে তার জন্য ইনোকোয়ারি প্রয়োজন।
৭। রিটকারীকে গণধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তার প্রটেকশনের জন্য নির্দেশনা প্রয়োজন।
এস এম ফরহাদের পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট ইমরান সিদ্দিকী ইউনিভার্সিটির সাবমিশন রিপিট করেন এবং আরও বলেন:
১। আইসিটি ট্রাইব্যুনালের তদন্ত রিপোর্টে জুলাই অভ্যুত্থানে ফরহাদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফরহাদ জুলাই হিরো। ছাত্রলীগের সাথে জড়িত না। ছাত্রলীগের প্যাডের ফটোকপি নকল ডকুমেন্ট।
২। ফরহাদ ভোটার তাই প্রার্থী হতে বাধা নাই।
রিটকারীর পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন:
১। ছাত্রলীগের সাথে জড়িত ১২৮ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ডাকসুর ভোটার লিস্ট থেকে অনেক শিক্ষার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ফরহাদের ক্ষেত্রে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
২। জুলিয়াস সিজারের প্রার্থিতা যে প্রক্রিয়ায় বাতিল করা হয়েছে, একই প্রক্রিয়ায় ফরহাদের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার কথা।
কোর্টের আদেশ: চেম্বার জজের আদেশ বহাল থাকবে। ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত।
Habibur Rahman