03/01/2024
স্মৃতিচারণ-০২
এসএসসি ব্যাচ'১৯
"এমন কিছু একটা ভাগ্যে মিলিল
যাহা যেমন আকস্মিক তেমনি অপরিসীম।
নিজের গুনে পাই নাই, নিজের দোষেও হারাই নাই,
তথাপি হারানোটাকেই আজ স্বীকার করিতে হইলো,
ক্ষতিটাই আমার বিশ্ব জুড়িয়া রহিলো।"
-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
গতিময় জীবন ক্রমাগত এগিয়ে চলেছে।ফেলে আসা দিনগুলো যেন সুতোর টানে বেঁধে রেখেছে আমাদের।স্মৃতিচারণ করতে গেলে স্কুলজীবন টাই তীব্রভাবে ভেসে ওঠে। জীবন্ত সেই স্মৃতি যেন ঘোলা করে দেয় আমাদের বর্তমান।
২০১৪ সালে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল।চেনা অচেনা লোকেদের ভিড়ে নতুন একটা পরিবেশ। ধীরে ধীরে আমরা একটা পরিবারে পরিণত হলাম।❤️
সাল-২০১৮:
ক্লাস টেনের সময় টা-ই সম্ভবত সবচাইতে মধুর🌸
সকালে উঠে কোচিং যাইতে বিরক্তই লাগতো।তবে ক্লাসে গিয়ে সবার সাথে হৈচৈ হবে ভেবে বিরক্তি আনন্দে পরিণত হতো😅
ক্লাসে গিয়ে হুড়োহুড়ি করে বসতে হবে।প্রিয় বন্ধুর জন্য জায়গা রাখা,সে ক্লাসে না আসলে আর মন খারাপের শেষ নেই🥺
ক্লাসের ফাঁকে পিছনের সিটে গিয়ে আড্ডা।একটু নাচ গান না হলে হয়!হেড স্যার দেখে ফেলবে ভেবে কতবার যে সিসিটিভি লাইনের সুইচ বন্ধ করে দিয়েছি😅😅
রোল কলের সময় বন্ধুর মুখ চেপে ধরা যেন মহৎ কোনো কাজ🤭
টপার শ্রেণি যখন পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত,ব্যাকবেঞ্চার রা তখন স্যার দের কথা নকল করতে ব্যস্ত।
কেউ আবার ক্যাপ্টেন কে পটাতে ব্যস্ত,ক্লাসের ফাঁকে বাইরে যাবে বলে😅পানি আনার নামে পুরো স্কুলে পাইচারি😁
কার টিফিন কে খাই তার কোনো ঠিক নাই,কেউ নুডুলস নিয়ে আসলে তো তার উপোস😂দিনশেষে বক্সের ঢাকনা খুঁজে পাওয়াই মুশকিল হয়ে যেত।😐
স্কুলের টিফিনে রোজ রোজ কেন বিস্কিট দেয় তা নিয়েও যেন অভিযোগের শেষ নেই,যেদিন সিংগারা দিত ওইদিন যেন ঈদ।😄
ক্যান্টিনে গিয়ে খাবার নেওয়া যেন এভারেস্ট জয়ের মতো কঠিন কোনো কাজ।
আর বেঞ্চে + দিয়ে নাম লিখা যেন নিত্যদিনের কাজ।স্যারদের নীতিকথা কোনো কাজেই আসতো না।বৃষ্টির দিনে এক ছাতার নিচে গাদাগাদি করে কয়েকজন আসার অনুভূতি টাও দু্র্লভ।স্কুল যাব যাব না করে যেন স্কুল যাবার সময়টাতেই বৃষ্টি থেমে যেত।পড়া না করে গেলে শিক্ষক যেন ক্লাসে না আসে সেই জন্য দোয়া দরুদ পাঠ করার পরেও যখন ক্লাসে চলে আসতেন😂লাস্ট পিরিয়ডে ব্যাগ গুছিয়ে ছুটির ঘন্টার দিকে তাকিয়ে থাকা আর ঘন্টা পড়ামাত্র দৌড়ে বের হয়ে যাওয়া🥺মামারা ক্লাসে আসলেই মনে হতো ছুটির নোটিশ🙂
তখন শুধু ভাবতাম কবে এই জীবন থেকে মুক্তি পাব!
"শিকল দিয়ে কাউকেই বেঁধে রাখা হয় না। তবু সব মানুষ কোনও না কোনো সময় মনে করে তার হাত পায়ে কঠিন শিকল।শিকল ভাঙতে গিয়ে সংসার-বিরাগী গভীর রাতে গৃহত্যাগ করে।ভাবে,মুক্তি পাওয়া গেল।দশতলা বাড়ির ছাদ থেকে গৃহী মানুষ লাফিয়ে পড়ে ফুটপাতে। এরা ক্ষণিকের জন্য শিকল ভাঙার তৃপ্তি পায়"
তাৎক্ষণিক মুক্তি আমরাও পেয়েছিলাম।তবে আজ শুধু মনে হয় যদি ফিরে যেতে পারতাম স্কুলের দিনগুলোয়!
ক্ষণস্থায়ী জীবনের কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়। তাইতো প্রকৃতি স্বাভাবিক নিয়মেই হারিয়ে ফেলেছি স্কুলের দিনগুলো।
আজও অশ্রুসিক্ত চোখে তারই স্মৃতিচারণ।সে যে শুধু স্কুল নয়,আমাদের পরিবার ছিল।
©Samira Bristy
এসএসসি ব্যাচ-১৯