22/12/2025
নামের রাজনীতি বনাম চেতনা-ফেতনা ( পড়ুন: চেত্না-ফেত্না ):
নাম পরিবর্তনের রাজনীতি কোনোদিনই বাংলাদেশে স্থায়ী কোনো নয়া রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ঘটাইতে পারে নাই, এডা আপনি আমি আমরা সবাই জানি; তবুও ইতিহাসের তৎক্ষণাৎ একটা রিয়েকশনারি পলিটিক্সে এডার প্রয়োজন পড়ে–এ ঘটনাও সত্য। কিন্তু ইতিহাসের এই ইলভলভমেন্ট আপনি কতোটা সামষ্টিক (শিক্ষার্থী সংযোগ) উপায়ে নিলেন–এই প্রশ্ন আমরা ট্যাগিং-ফ্রেমিং এর পরোয়া না করেই সবসময় তুলে যাবো, তোলা উচিত বলেই দৃঢ়ভাবে মনে করি।
জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আপনেগোর আজকে যে আস্ফালন দেখি– "বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা রাজনৈতিক অসচেতন" এইডা একটা ডাহা মিছা কথা। এই অসচেতন ( যারা আন্দোলনরে নিজেদের নেতা হওয়ার কৌশল হিসেবে বেছে নেয় নাই ) শিক্ষার্থীরা'ই আগপিছ কোনো চিন্তা না করেই জুলাইয়ে রক্ত দিছে, জুলাইয়ে ইতিহাস ঘটায় দিছে।
তারপরে এই সাধারণ ( অসাধারণ ) শিক্ষার্থীরাই কেনো তাদের অধিকার সংশ্লিষ্ট ( যেমন: তাদের ভিসি কেন এমন বেপরোয়া হয়া উঠলো? তাদের অথর্ব এই মিনমিনে শয়তান মার্কা টাইপ রেজিস্ট্রারের সরাসরি দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, উদাসীনতা এবং নিজের পা*ছার গোবর ঢাকতে শিক্ষার্থী অধিকার সংশ্লিষ্ট সবথেকে কার্যকর প্লাটফর্ম হয়া ওঠার সম্ভাবনাময় "ব্রাকসু" আজ বন্ধের পথে? জুলাই পরবর্তী সময়েও কেনো অচল হয়ে যাওয়া আধা নির্মিত ভবনগুলো শেষ করা গেলো না? কেনো নতুন কোনো শিক্ষার্থীবান্ধব অবকাঠামোগত-একাডেমিক উদ্যোগ নেওয়া গেলো না? )
এই সমস্ত ব্যাপারে কেনো সাধারণ (অসাধারণ) শিক্ষার্থীরা নিজেদের দূরে রাখলো?
উত্তর – জুলাই পরবর্তী সময়ে আপনেগোর মতোন উদীয়মান নেতাগোর স্বেচ্ছাচারিতার কারণে।
যারা প্রশাসনিক ভবনকে নিজেদের একপ্রকারের বাসভবন বানায় নিছেন, যারা এই কতৃত্বপরায়ণ প্রশাসনের লগে কালার মিইলা পাঞ্জাবি পেন্দেন, যারা ব্রাকসু'র গঠনতন্ত্রের ব্যাপারে সাধারণ ( অসাধারণ ) শিক্ষার্থীদের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন পর্যন্ত মনে করেন নাই–তাদের স্বেচ্ছাচারিতা এবং দূরদর্শিতা সংকটের কারণে।
একাডেমিক ভবনের নাম পরিবর্তন করবেন–ভালো কথা, খুবই ভালো কথা। কারণ বিল্ডিং ২,৩,৪ শুনতে-চিনতে ভালো লাগে না। তবে কথা একটাই, পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যে উপায়ে এই সিদ্ধান্তের সাথে সংযোগ ঘটানো যায়–সেডা আগে করেন। এবং করতে হবে।
এখন আবার কইবেন, ফারিদে'রা সবকাজে খালি বাগড়া মারে কিন্তু কোনো ফয়সালার আলাপ করে না! যদিওবা এসবের ধার ধারি না–তবু প্রস্তাবনা রাখতেই পারি:
ক. একাডেমিক ভবনের নাম পরিবর্তন করতে গেলে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের সচল সময়ে ক্যাম্পেইন হোক আর যে উপায়ে হোক, প্রস্তাবিত নাম সবার কাছে পৌঁছাইতে হবে।
খ. শহীদ আবরার ফাহাদ নিয়ে কোনো আপত্তি নাই। রাখতেই পারেন। সাথে এই রংপুরে জুলাইয়ে কৃষক, দিনমজুর, অটোচালক, রিকশাচালক, গার্মেন্টসে কর্মী, টুপি আতর বিক্রেতা, হকার, নাপিত, সাংবাদিক সহ নানান পেশার সাথে যুক্ত মানুষ শহীদ হয়েছেন। তাদের নাম চিন্তা করার জন্য জোরতর দাবি জানায়া রাখলাম।
গ. শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদী'র নামের ব্যাপারে বিশেষ কথা আছে– শহীদ ওসমান হাদী'কে কারা ভয় পাইতো? যারা দূর্নীতিবাজ, লুটেরা, ধান্দাবাজ, যারা নিজেদের দায়িত্বের অধীনে থাকা জনতা এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের স্বার্থের পেছন মেরে নিজেদের আখের গোছায়–তারাই শহীদ ওসমান হাদীকে ভয় পাইতো।
এজন্যই আমরা চাই, এই ক্যাম্পাসে দূর্নীতির আঁতুরঘর প্রশাসনিক ভবনের ( যে আবার প্রশাসন, তার আবার ভবন! ) সেটির নাম– "শহীদ ওসমান হাদী ভবন" রাখা যাইতে পারে।
হয়তো কিছুই হবে না–তয় ভবনে উঠতে-নামতে এইসকল মাননীয় দূর্নীতিবাজ সুশীলমারানীদের কইলজাখেন সেকেন্ডখানেকের জন্য হলেও কেঁপে উঠবে। এইতো!
©️রাইসুল ফারিদ
শিক্ষার্থী - পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ
যখন তখন ব্যানার আমরাও লাগাইতে পারি, কারণ ক্যাম্পাস এখনো কারো কাছে বর্গা দেওয়া হয় নাই। কিন্তু স্ট্রংলি আমরা চাই, সাধারণ ( অসাধারণ ) শিক্ষার্থী অধিকার সংশ্লিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ থাকুক।
যদি আপনারা এইসমস্ত ব্যাপারে তোয়াক্কা না করার মতোন দুঃসাহস দেখান, তবে আমাদেরও বাগড়াপনা থেকে বেপরোয়ামনা কর্মসূচিতে যাইতে আটকাবে না, এইটা স্পষ্ট আলাপ। এতে আপনার আমার আমাদের খালি বিভাজন'ই বাড়বে। আর মধুখোরেরা খেয়ে যাবে মধু অনন্তকাল।
পরিশেষে এই ক্যাম্পাসে ইনসাফের চর্চা হোক–এটাই লক্ষ্য।