01/01/2026
নতুন বৎসরে একটা মোমবাতী হয়ে জ্বলে উঠুন-
***********************************
আপনি কি জানেন যে, একটি মোমবাতির মৃদু আলো রাতের অন্ধকারে মরুভূমিতে প্রায় চল্লিশ মাইল দুর থেকেও খালি চোখে দেখা যায়! রাতের নিকষ কালো আঁধার মোমবাতির মৃদু উজ্জলতাকে ম্লান করে দিতে পারে না।
সারা বিশ্বব্যাপী জ্ঞান আর বিজ্ঞানের যে আলোড়ন চলছে, তা সত্তেও আশ্চর্জজনকভাবে মুসলিম সমাজে বিরাজ করছে অজ্ঞানতার আঁধার। মুসলিম যুব মানসে জ্ঞান কম, আর যদি বা কিছু থাকেও, সে জ্ঞানও তেমন স্বচ্ছ নয়। মজহাবি বিতর্কসহ নানান উপসর্গে সে জ্ঞান এতটাই বিকৃত যে, তাকে প্রকৃত জ্ঞান বলাটাও কষ্টকর। 'জ্ঞান'কেও তারা দু'ভাগে ভাগ করে নিয়েছে; 'ইসলামি জ্ঞান' আর 'দুনিয়াবী জ্ঞান'! মূর্খতা আর কাকে বলে!
পুরো বিশ্বটাই এক আল্লাহর সৃস্টি। আর একজন মুসলমান পুরো বিশ্বেই আল্লাহর প্রতিনিধি। কাজেই বিশ্বের যত জ্ঞান রয়েছে, তার সবটাই ইসলামি জ্ঞান। 'জ্ঞান' সে তো জ্ঞানই! জ্ঞানের ভাগ হয় মাত্র দু'ভাগে; এক কল্যাণকর আর দুই' অকল্যাণকর বা অপ্রয়োজনীয়। কল্যাণকর জ্ঞান চাইতে হয় আল্লাহর কাছে। কল্যাণকর জ্ঞান কেন ও কিভাবে কল্যাণকর? এবং অকল্যাণকর জ্ঞান কেন ও কিভাবে অকল্যাণকর, সেটা জানাও তো জ্ঞান!
এই যখন বেশীরভাগ মুসলিম তরুণ যুবকের অবস্থা, তখন আপনি নিজেকে জ্ঞানে এমনভাবে সজ্জিত করুন, যেন এই অজ্ঞানতার মাঝেও মুসলিম তরুণ-যুবকরা শত শত মাইল দুর থেকে আপনার দিকে সেইভাবে পঙ্গপালের মত ছুটে আসে, ঠিক যেভাবে কীট-পতঙ্গ ছুটে এসে আছড়ে পড়ে বাতির উপরে! অজ্ঞানতার এই আঁধারে আপনিই হয়ে উঠুন একটা মোমবাতি!
নিজেকে যদি এভাবে তৈরি করতে পারেন, তা হলে বিশ্বাস জন্মে যে, আপনার দ্বারা ইসলাম, মুসলমান ও বিশ্ব মানবতা কিছুটা হলেও উপকৃত হবে ইনশাআল্লাহ। আপনি কি নিজেকে তৈরি করতে প্রস্তুত? তাহলে নতুন বৎসরে সে ভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করুন, বৎসরের প্রথম প্রহর থেকেই।
কেবল নিজে জ্বললেই হবে না, জ্বালিয়ে দিতে হবে পাশের জনকেও। নিজের ভেতরে জ্ঞান আর প্রজ্ঞার এতোটা উত্তাপ সৃষ্টি করুন, যেন আপনার সান্নিধ্যে আসা মাত্রই প্রতিটি নিষ্প্রাণ, মৃতপ্রাণও জ্বলে উঠে দাউ দাউ করে। এভাবেই দূর হবে মুসলিম মানসজুড়ে অজ্ঞানতার আঁধার। আলোকিত হবে এ ভুবন জ্ঞানের আলোয়।