আরবি ব্যকরণের সাথে ইংরেজি ব্যকরনের সাদৃ্শ্যঃ
*আরবি كلمة কে ইংরেজিতে parts of speech বলা হয়।
*ইসমকে ইংরেজিতে noun, pronoun বলা হয়।
*pronoun এর মাঝে أسم إشارة, ضمير،اسم استفهام، اسم موصولআছে।
*আরবি علم(নির্দিস্ট নাম)কে ইংরেজিতে proper noun বলা হয়।
*আরবি اسم جنس কে ইংরেজিতে common noun বলা হয়।
*মুসনাদ ইলাইহকে ইংরেজিতে subject বলা হয়,আর মুসনাদকে ইংরেজিতে predicate বলা হয়।
*মাফউলকে ইংরেজিতে object বলা হয়।
*ফেলকে ইংরেজিতে verb বলা হয়।
*জুমলাকে ইংরেজিতে sentence বলা হয়।
*জুমলায়ে খবরিয়াকে ইংরেজিতে asserative sentence বলা হয়।
*আরবি যে বাক্যে প্রশ্নবোধক বলা হয় তাকে ইংরেজিতে interrogative sentence বলা হয়।
*আরবি যে বাক্য أمر এবং نهي হয় তাকে ইংরেজিতে imperative sentence বলা হয়।
*আরবিতে যে বাক্যে دعاء হয় তাকে ইংরেজিতে optative sentence বলা হয়।
*আরবি যে বাক্যে تمني،تعجب হয়, তাকে ইংরেজিতে exclamatory sentence বলা হয়।
*মারেফাকে ইংরেজিতে definite বলা হয়,আর নাকেরাকে indefinite বলা হয়।
*আরবি واحدকে ইংরেজিতে singuler ,আর تثنية،جمعকে ইংরেজিতে plural বলা হয়।
*আরবি ماضيকে ইংরেজিতে past tense ,حالকে ইংরেজিতে present tense, আর مستقبلকে ইংরেজিতে future tense বলা হয়।
*সিফতকে ইংরেজিতে adjective বলে।
*মুরাক্কাবে গায়রে মুফিদকে ইংরেজিতে phrase বলা হয়।
*আরবি غائب،حاضر،متكلمকে ইংরেজিতে person বলা হয়।
আন নূর শিশু একাডেমি মহিমাগঞ্জ
Give your child a best start discover to difference Nursery to Class 5
Identification of parts of speech
''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''
☛Rule:1
কোন word এর শেষে ness, tion, ty, sure, sion,
sion, er, or, ment, th, ance, ence, ism, age, ure, ief, hood, dom, ship, cy, sy, ar, ock, kin, let থাকলেসাধারণত Noun হয়...
☛Rule:2
Article, adjective, preposition, possessive এর পর একটি মাত্র word থাকলে সেটা Noun হয়...
I walked for a while... এখানে while noun কারণ
article এর পর একটি মাত্র word , while....
☛Rule:3
বাক্যে No, many, much বা ব্যক্তিবাচক object থাকলে এর পরের word টি noun হয়।
It is no joke .. এখানে joke হলো noun
☛Rule:4
কিছু Verb আছে যেগুলো মূল verb এরপর object
হিসেবে বসে nounএর কাজ করে
He wants help . এখানে help - noun
☛Rule:5
Article এবং preposition এর মধ্যকার wordটি Noun হয়।
This is the go of the world. এখানে go হলো
Noun...
☛Rule:6
Parts of speech এর ৮টি ভাগের প্রতিটি noun হয়।
Noun, Adjective, Pronoun এই শব্দগুলো noun
☛Rule:7
কোনো Word এর শেষে ate , en, te, ise, ize,ify etc থাকলে সাধারণত verb হয়।
☛Rule:8
শব্দের পূর্বে Em, en, de, ইত্যাদি prefix যোগে verb গঠন করা যায়।
Able-- enable
☛Rule:9
কোনো Word এর শেষে full, ous, tive, able, ar, tory, enful, ible, ic, ed, less, ar, ary, ant, ent, al, some, y, ish, ian, ate ইত্যাদি থাকলে Adjective হয়।
☛Rule:10
সাধারণত Verb এর পর adverb বসে
He came late... late adverb
☛Rule:11
সাধারণত শব্দের শেষে ly থাকলে adverb হয়। কিন্তু কিছু কিছু noun (love, home, friend, brother, father, mother, sister etc) এর ক্ষেত্রে ly যুক্ত হলে
সেগুলো adverb না হয়ে adjective হয়ে যায়।
Motherly affection raise in her.এখানে Motherly
হলো adjective
☛Rule:12
কোনো কোনো Word ব্যবহারভেদে ভিন্ন ভিন্ন parts of specch হিসেবে গণ্য হয়।
Oil your own machine.. oil- verb
You should honors your betters.. betters- noun
massacre- Noun & Verb
☛Rule:13
The+(verb+ing)+of এই গঠনকে Verbal Noun বলে।
The writing of a good letter is very different...
☛Rule:14
পাশাপাশি দুটি Noun এক সাথে বসলে প্রথমটি Adjective এবং দ্বিতীয়টি Noun হিসেবে কাজ করে।
This is a book of the English Language.
English হলো adjective Language Noun
☛Rule:15
বাক্যের উপর অতিরিক্ত জোর প্রদান করতে যে Adverb বাক্যের শেষে বসার কথা সেটি প্রথমেই বসতে পারে এবং বাক্যের verb টি Subject এর পূর্বেই চলে আসতে পারে।
Down went the Titanic
☛Rule:16
সাধারণভাবে verb এর পর complement হিসেবে adverb use করতে হয়। কিন্তু linking verb
(be, become, sound, look, smell, feel, taste, stay, seem, appear, remain, go, went) এর পর adjective use করতে হয়।
The music sounds sweet.
এখানে sweet adjective
He came late . এখানে late adverb
☛Rule:17
আবার Linking verbএর পর যদি adjective এবং adverb দুটিই ব্যবহৃত হয়, তাহলে প্রথমে adverb এবং পরে adjective ব্যবহৃত হবে।
Although he felt very angry, he smiled....
☛Rule:18
বাক্যে Very too এরপর word টি adjective হয়।
☛Rule:19
বাক্যে সংখ্যাবাচক শব্দগুলো এবং Possesive pronoun,Adjective হয় যদি এদের পরে Noun থাকে।
You can buy a ball pen for less than five taka...
Here five is an adjective
☛Rule:20
প্রশ্নবোধক বাক্যে Wh word এরপর Noun থাকলে
Wh word টি Adjective হয়।
☛Rule:21
Hyphenated adjectives:একাধিক noun হাইফেন দ্বারা যুক্ত হলে এগুলো adjective হিসেবে কাজ করে
এবং তাদেরকে hyphenated adjective বলে ।
এগুলোর সাথে কোনসময় s/es/s যুক্ত হয়না। তবে মাঝে মাঝে পরীক্ষার প্রশ্নে হাইফেন না ও থাকতে পারে , কিন্তু নিয়ম ঠিক থাকবে
Eight-century-old --- adjective
☛Rule:22
Adjective ending with -ed and ing :কিছু কিছু ed / ing যুক্ত verb, adjective হিসেবে কাজ করে। এদের
verbal adj বলে
I helped a drowning man .
☛Rule:23
Verb+ing(gerund),to+base form of verb (infintive)
বাক্যেও subject /object হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
Post টি সম্পর্কে কোন প্রশ্ন থাকলে অথবা পোস্টটি তোমাদের উপকারে আসবে এমনটি মনে হলে Comment করতে পারো।
Thanks for reading
Collected
সন্তানকে স্বার্থপর করে গড়ে তুলবেননা
সন্তানকে স্বার্থপর করে গড়ে তুলবেননা , তুললে তার প্রতিক্রিয়া আপনার ওপরেই সবথেকে বেশী পড়বে। এর ফল আপনাকেই বেশী ভোগ করতে হবে।
কিন্তু কিভাবে আমরা সন্তানকে স্বার্থপর করি ?
ছোটবেলায় আমাদের সন্তানদের প্রতি “বেশী ভালোবাসা” দেখানোর জন্য কিছু কাজ সন্তানকে স্বার্থপর করে গড়ে তোলে -
কিছু উদাহরণ দেই -
সন্তানের স্কুল পার্টিতে সবথেকে কম দামী জিনিস কিনে পাঠিয়ে টাকা বাঁচানোর চেষ্টা করা, আর অন্যদিকে সন্তানের জন্য প্রয়োজনের থেকে বেশী দামী কাপড়/খেলনা বা অন্য জিনিস কেনা।- মনে করছেন সন্তান খেয়াল করছে না ? করছে ও স্বার্থপর হতে শিখছে। সে বড় হলে আপনার জন্য ঔষধ কেনার আগে নিজের সংসারের জন্য দামী পাতিল কিনবে, তারপরে পয়সা বাঁচলে ঔষধ কিনবে। শিক্ষাটা আপনারই দেয়া।
সন্তানের কাজিনের জন্য বা বন্ধুর জন্য গিফট কিনতে গেলে কমদামী ঠুনকো একটা বেছে বের করলেন, সন্তান রাজী হচ্ছে না, ধমক দিয়ে বললেন, "এতেই চলবে। এতো টাকা খরচ করলে টাকা শেষ হয়ে যাবে।" ওদিকে শপিং শেষে রেস্টুরেন্টে ঢুকে সন্তানকে দামী ফাস্ট ফুড কিনে দিলেন। সন্তান খুশী হলো , আর শিখে গেলো কিভাবে অন্যকে দেবার সময় পয়সার হিসাব করতে হয় আর নিজের ক্ষেত্রে বেহিসাবী হতে হয়। স্বার্থপরতার পারফেক্ট দীক্ষা। বড় হলে আপনার অসুখে ডাক্তারের কাছে নেবার সময় সে বলবে - "হাতে টাকা নেই" আর ওদিকে পরিবার নিয়ে কক্সেসবাজার বেরিয়ে আসবে। চোখ ভিজিয়ে কি হবে ? শিক্ষাটা আপনিই দিয়েছিলেন।
আপনার সন্তান খেলতে খেলতে পানি খেতে ভুলে যায়। পাশের ঘরেই পানি। আপনি কাজের মেয়েকে ডাকেন - “ময়না, ভাইয়াকে পানি দিয়ে যা।” ময়না কিচেনের শত কাজের মধ্যেও এসে পানি দেয় ভাইয়াকে। আপনি ওকে ধমক দেন - “গ্লাসটা ঠিকভাবে ধুয়ে আনতে পারিস নি ?” সন্তান শেখে কিভাবে নিজের ১০০% আরাম খুঁজতে হয় অন্যের ঘামের বিনিময়ে। বড় হয়ে যখন আপনি তার ফোনের অপেক্ষায় বসে থাকবেন , ফোন হাতে নিয়েও নাম্বার টিপতে গিয়ে উল্টো পাল্টা করবেন, তখন এক মাস পরে ফোন করে সে আপনাকে বলবে - “একটু ফোন করে আমাদের খবর নিতে পারো না ? মরে গেলেও তো খোঁজ খবর নিবা না।” কষ্ট পাবেন, কিন্তু লাভ কি তাতে - শুধু পাওয়ার অভ্যসটা আপনিই তৈরী করে দিয়েছেন।
দাওয়াতে সব বাচ্চারা বসে আছে , কেউ খাচ্ছে না। আপনি তাড়াতাড়ি গিয়ে বেছে বেছে ভালো ভালো খাবার তুলে আপনার সন্তানের জন্য নিয়ে এলেন , ভালো মাংসটা যাতে অন্যের পাতে যেতে না পারে। মনে করছেন কেউই খেয়াল করছে না , বা বুঝতে পারছে না। অন্যের কথা বাদ দিন, আপনার সন্তান বুঝছে ও শিখছে। - বড় হলে নিজের, নিজের বাচ্চাদের জন্য সব ভালো রেখে লেফট ওভারটা আপনার জন্য রাখবে। মুখে কিছুই বলতে পারবেন না , কিন্তু এই অবহেলা বুকে বড় বাজবে। কিন্তু উপায় কি ? - এটা আপনারই শেখানো।
স্বামী যাতে তার মাকে টাকা পাঠাতে না পারে, মায়ের জন্য ঈদে শাড়ী কিনতে না পারে সেজন্য সন্তানদের জন্য প্রয়োজনের থেকে বেশী শপিং করলেন, সন্তানের নামে বেশী বেশী খরচ করে স্বামীর হাতকে আটকে ফেললেন। "অমুক তার বাচ্চার জন্য সিঙ্গাপুর থেকে বাজার করে, আর আমার বাচ্চাকে ঈদে মাত্র ২সেট কাপড়ও দিতে পারবো না , এতটাই অভাগা হয়ে গেলাম?" - খুব কৌশলে আটকালেন। সচতুর রাজনীতি, কারো কিছুই বলার নেই। আসলেই কি তাই?
মাত্র ২০ - ২৫ বছর পরে আপনি যখন বলবেন, “বাবা, আমার একটা অপারেশন লাগবে।” সন্তান বলবে, “আমার হাত একেবারেই খালি। এই মাসেই আরেকটা এপার্টমেন্ট বুকিং দিয়েছি। পারলে তোমার জমি বিক্রি করে আমাকে কিছু টাকা পাঠাও।” সন্তান যদিও জানে যে ওই জমি থেকেই আপনার খাবার খরচ আসে - কিন্তু আপনার কিছুই বলার নেই। কৌশলটা আপনিই শিখিয়েছেন ।
স্বার্থপর সন্তান গড়লে সে বুড়ো বয়সে আপনার প্রতি তার দায়িত্বের খবর নিতে ভুলে যাবে, কিন্তু আপনার মৃত্যুর পর আপনার সম্পত্তিতে তার ভাগের অধিকার চাইতে আসতে ভুলবে না। কারণ অধিকারের নামে একচোখ কানা স্বার্থপর নীতিটা আপনিই শিখিয়েছেন যে। দায়িত্বশীল অধিকারের সংজ্ঞা তার অজানা।
কাজেই আজই সচেতন হন।
~ Kaniz Fatema
🇫🇮 হোমওয়ার্ক ছাড়াই ফিনল্যান্ডের শিশুরা পড়াশোনায় এত এগিয়ে কেন? আমাদের বাবা-মায়েদের জন্য ৫টি চোখ-ধাঁধানো শিক্ষা! 🎒✨
.....
স্কুল শেষে কোচিং, তারপর বাসায় ফিরে রাত জেগে গাদা গাদা হোমওয়ার্ক—আমাদের দেশের বেশিরভাগ বাচ্চার দৈনন্দিন রুটিন এটি। আমরা ভাবি, যত বেশি পড়ালেখা, তত বেশি রেজাল্ট!
কিন্তু গ্লোবাল এডুকেশন র্যাংকিংয়ে (PISA) বছরের পর বছর ধরে শীর্ষস্থান দখল করে রাখা দেশ 'ফিনল্যান্ড'-এর চিত্রটা সম্পূর্ণ উল্টো। সেখানে ৭ বছর বয়সের আগে কোনো প্রথাগত স্কুলিং নেই, স্কুলের পর কোনো হোমওয়ার্ক নেই, এমনকি ক্লাসে ফার্স্ট-সেকেন্ড হওয়ার কোনো প্রতিযোগিতাও নেই! তবু ফিনিশ শিশুরা পড়াশোনায়, সৃজনশীলতায় এবং মানসিক বিকাশে বিশ্বের সবচেয়ে এগিয়ে।
এর পেছনে কোনো জাদুকরী সিলেবাস নেই, আছে তাদের শিক্ষাব্যবস্থা এবং প্যারেন্টিংয়ের কিছু যুগান্তকারী দৃষ্টিভঙ্গি। আমাদের দেশের স্কুল ব্যবস্থা আমরা রাতারাতি বদলাতে পারব না ঠিকই, তবে বাবা-মা হিসেবে ফিনিশদের এই ৫টি নীতি আমরা আজ থেকেই নিজেদের ঘরে প্রয়োগ করতে পারি:
১. "খেলার ছলেই শেখা" - আর্লি চাইল্ডহুডের মূলমন্ত্র
ফিনল্যান্ডে ৭ বছরের আগে বাচ্চাদের হাতে পেন্সিল ধরিয়ে জোর করে লেখানো বা মুখস্থ করানো হয় না। তারা বিশ্বাস করে, একটি শিশুর প্রথম কাজই হলো খেলাধুলা করা।
কীভাবে প্রয়োগ করবেন?
আপনার ৩-৪ বছরের বাচ্চাকে এখনই 'এ বি সি ডি' লেখানোর জন্য চাপ দেবেন না। তার বদলে তাকে ব্লক দিয়ে বাড়ি বানাতে দিন, ছবি আঁকতে দিন বা মাটি দিয়ে খেলতে দিন। এই বয়সে ব্রেনের সবচেয়ে বেশি বিকাশ ঘটে স্বাধীন খেলার মাধ্যমেই। শেখার প্রক্রিয়াটাকে তার জন্য আনন্দদায়ক করুন, ভয়ের নয়।
২. পড়ার জন্য পড়া, পরীক্ষার জন্য নয়
ফিনল্যান্ডে ১৫ বছর বয়সের আগে বাচ্চাদের কোনো বড় ধরনের বা স্ট্যান্ডার্ডাইজড পরীক্ষা দিতে হয় না। সেখানে পড়ার অভ্যাসটা তৈরি হয় জানার আনন্দের জন্য, পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার জন্য নয়।
কীভাবে প্রয়োগ করবেন?
স্কুল থেকে ফেরার পর বাচ্চাকে শুধু "আজ পরীক্ষায় কত পেলে?" বা "হোমওয়ার্ক শেষ করেছ?" না জিজ্ঞেস করে, জানতে চান "আজ স্কুলে নতুন কী মজার জিনিস শিখলে?" বাচ্চার সামনে নিজেরাও বই পড়ার অভ্যাস করুন। আপনি যখন গ্যাজেট ছেড়ে বই পড়বেন, বাচ্চাও আপনাকে দেখে অনুপ্রাণিত হবে।
৩. বিশ্রাম এবং শখের জন্য পর্যাপ্ত সময় (Less is More)
ফিনিশ স্কুলগুলো খুব তাড়াতাড়ি ছুটি হয়ে যায়। তারা বিশ্বাস করে, বাচ্চাদের ব্রেনকে নতুন কিছু শেখার জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিতে হয়। স্কুলের পর তারা খেলাধুলা, মিউজিক বা নিজেদের শখের পেছনে সময় দেয়।
কীভাবে প্রয়োগ করবেন?
স্কুলের পর বাচ্চাকে আবার কোচিং, তারপর ড্রয়িং ক্লাস, তারপর গানের ক্লাসে দৌড় করাবেন না। সারাদিনের রুটিনে তাকে অন্তত ২-৩ ঘণ্টা 'ফ্রি টাইম' বা 'আনস্ট্রাকচারড টাইম' দিন, যেখানে সে তার নিজের মতো করে যা খুশি তাই করবে (অবশ্যই স্ক্রিন ছাড়া)। এই অবসরই তার সৃজনশীলতা বাড়ায়।
৪. প্রতিযোগিতার বদলে সহযোগিতা (Cooperation over Competition)
ফিনিশ শিক্ষাব্যবস্থায় কোনো 'ফার্স্ট বয়' বা 'লাস্ট বয়' নেই। তারা একে অন্যের সাথে প্রতিযোগিতা করে না, বরং একসাথে শিখতে উৎসাহিত করে।
কীভাবে প্রয়োগ করবেন?
"ও অংকে ৯৮ পেল, তুমি কেন ৮০ পেলে?"—এই ধরনের তুলনা করা আজই বন্ধ করুন। অন্যের বাচ্চার সাথে তুলনা করলে আপনার সন্তানের আত্মবিশ্বাস ধ্বংস হয়ে যায়। ক্লাসে ফার্স্ট হওয়ার ইঁদুর দৌড়ে না নামিয়ে, বাচ্চা গতকালের চেয়ে আজ নতুন কী শিখল, সেদিকে ফোকাস করুন।
৫. পড়ার মাঝে নিয়মিত 'ব্রেইন ব্রেক'
ফিনিশ স্কুলে প্রতি ৪৫ মিনিট পড়ার পর ১৫ মিনিটের একটি 'ওপেন এয়ার ব্রেক' বা খেলার বিরতি দেওয়া হয়। এতে বাচ্চার মনোযোগ ও এনার্জি আবার ফিরে আসে।
কীভাবে প্রয়োগ করবেন?
বাচ্চাকে একটানা ২-৩ ঘণ্টা পড়ার টেবিলে আটকে রাখবেন না। প্রতি ৪০-৪৫ মিনিট পর তাকে ১০ মিনিটের বিরতি দিন। এই সময়ে তাকে একটু হেঁটে আসতে বলুন, পানি খেতে দিন বা বারান্দা থেকে খোলা বাতাস নিতে বলুন।
বাচ্চার স্কুলব্যাগের ওজন হয়তো আমরা কমাতে পারব না, কিন্তু তাদের মনের ওপর থেকে এই "ভালো রেজাল্ট" করার পাহাড়সম চাপটা তো আমরা বাবা-মায়েরা চাইলেই সরিয়ে নিতে পারি!
হিফজ বিভাগের জিম্মাদার শিক্ষকের দায়িত্ব ও কর্তব্য
একটি হিফজখানার জিম্মাদার হওয়া কেবল একটি প্রাতিষ্ঠানিক পদ নয়, বরং এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিশাল আমানত। একজন জিম্মাদারের সুদক্ষ পরিচালনা ও দূরদর্শিতার ওপরই নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ এবং শত শত হাফেজে কুরআনের মান।
একজন হিফজ বিভাগের জিম্মাদার শিক্ষকের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো নিচে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো:
১. শিক্ষাগত ও রুটিন তদারকি
* তিনটি স্তরের সঠিক বাস্তবায়ন: প্রতিদিন প্রতিটি ছাত্রের 'সবক' (নতুন পড়া), 'সবকি' (গত কয়েকদিনের পড়া) এবং 'সাতসবক' 'আমখতা' (পেছনের পড়া বা দাওর) ঠিকমতো আদায় হচ্ছে কি না, তা কঠোরভাবে তদারকি করা।
* তাজবিদ ও মাখরাজের মান নিয়ন্ত্রণ: হিফজ চলাকালীন যেন কোনোভাবেই ভুল উচ্চারণ বা তিলাওয়াতের মান নষ্ট না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা। প্রয়োজনে দুর্বল ছাত্রদের জন্য আলাদা মশকের ব্যবস্থা করা।
* সহকারী শিক্ষকদের তদারকি: বিভাগের অন্যান্য উস্তাদরা রুটিন মেনে পড়া আদায় করছেন কি না এবং ছাত্রদের প্রতি তাদের আন্তরিকতা কেমন, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা।
২. তারবিয়াত (নৈতিক ও আধ্যাত্মিক গঠন)
* আমলি জিন্দেগি তৈরি: ছাত্রদেরকে শুধু তোতাপাখির মতো মুখস্থ না করিয়ে, কুরআনের আদব, সুন্নাতের পাবন্দি, জামাতে নামাজ এবং তাকবিরে উলার প্রতি যত্নবান হিসেবে গড়ে তোলা।
* আখলাক বা চরিত্র গঠন: ছাত্রদের কথাবার্তা, বড়দের প্রতি সম্মান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত করা। জিম্মাদার উস্তাদ নিজেই হবেন তাদের জন্য উত্তম আদর্শ (রোল মডেল)।
৩. প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত দায়িত্ব
* অগ্রগতি সংরক্ষণ (রেকর্ড ট্র্যাকিং): প্রতিটি ছাত্রের দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক অগ্রগতির হিসাব বা ডায়েরি সংরক্ষণ করা। বর্তমান সময়ে অনলাইন বা ডিজিটাল মাধ্যমে এই ট্র্যাকিং আরও সুচারুভাবে করা যায়, যা প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা বাড়ায়। ( যেমন: হিফজ ম্যানেজমেন্ট একটি অ্যাপ আছে ঐ অ্যাপের মাধ্যমে করা) বা খাতায় নোট করা।
* অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ: ছাত্রদের পড়া ও তারবিয়াতের অবস্থা নিয়মিত তাদের বাবা-মাকে অবহিত করা। কোনো ছাত্র পিছিয়ে পড়লে বা আচরণগত সমস্যা দেখা দিলে অভিভাবকের সাথে পরামর্শ করে সমাধানের উপায় বের করা।
* সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা: শ্রেণিকক্ষ বা আবাসিক পরিবেশ যেন পড়াশোনার অনুকূল থাকে এবং সেখানে যেন কোনো ভয়ের বা ভীতির রাজত্ব তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করা।
৪. মনস্তাত্ত্বিক যত্ন ও উৎসাহ প্রদান
* ছাত্রদের মেধা মূল্যায়ন: সব ছাত্রের মুখস্থ করার ক্ষমতা এক নয়। জিম্মাদার উস্তাদকে প্রতিটি ছাত্রের মানসিক ধারণক্ষমতা বুঝে তাদের পড়া ও সবকের টার্গেট নির্ধারণ করে দিতে হবে।
* প্রহার বা ভীতি পরিহার: অতিরিক্ত শারীরিক বা মানসিক চাপ প্রয়োগ না করে, পুরস্কার, উৎসাহ এবং স্নেহের মাধ্যমে পড়া আদায়ের চেষ্টা করা।
* ক্লান্তি দূরীকরণ: একঘেয়েমি দূর করতে মাঝে মাঝে ইসলামি গজল, নবীদের জীবনী শোনানো বা শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।
সারকথা:
হিফজ বিভাগের একজন জিম্মাদার উস্তাদ হলেন হিফজ বিভাগের প্রাণকেন্দ্র। তাঁর ইখলাস, মেহনত ও প্রজ্ঞার ফলেই একটি সাধারণ হিফজখানা একটি আদর্শ ও মানসম্মত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
অনাবাসিক নূরানী ছাত্রদের জন্য সময় কিছুটা কম পাওয়া যায়, তাই তাদের হিফজ বিভাগের উপযুক্ত করতে হলে পরিকল্পিত মেহনত এবং সময়ের সঠিক বণ্টন অত্যন্ত জরুরি। নূরানী থেকে একজন ছাত্রকে সরাসরি হিফজ বিভাগের জন্য প্রস্তুত করতে নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
১. ‘মশ্ক’ বা উচ্চারণে শতভাগ বিশুদ্ধতা
হিফজ শুরুর আগে তেলাওয়াত একদম পানির মতো সহিহ হওয়া চাই।
* পদ্ধতি: প্রতিদিন ক্লাসের প্রথম ১৫-২০ মিনিট নূরানী কায়দার মাখরাজ ও সিফাতের সম্মিলিত মশ্ক করান। অনাবাসিক ছাত্ররা বাড়িতে কম সময় পায়, তাই ক্লাসেই তাদের উচ্চারণগুলো ঠিক করে দিতে হবে।
২. দ্রুত রিডিং (রওয়ানি) পড়ার যোগ্যতা তৈরি
হিফজে যাওয়ার প্রধান শর্ত হলো কুরআন দেখে দ্রুত পড়তে পারা।
* কৌশল: ছাত্র যখন আমপারা বা নাজেরা শুরু করবে, তখন তাকে বানান করে পড়ার চেয়ে দেখে দেখে রিডিং (রওয়ানি) পড়ায় বেশি অভ্যস্ত করুন। তাকে প্রতিদিন অন্তত ১ পৃষ্ঠা রিডিং ৫-১০ বার পড়ার টাস্ক দিন।
৩. তাজবিদের মৌলিক নিয়মগুলোর হাতে-কলমে প্রয়োগ
তাজবিদের নিয়মগুলো শুধু মুখস্থ না করিয়ে কুরআনের আয়াতের ভেতর থেকে চেনান।
* পদ্ধতি: প্রতিদিন একটি করে নিয়ম ধরুন (যেমন: গুন্নাহ)। ছাত্রকে বলুন আজকের পড়া থেকে সবগুলা গুন্নাহ খুঁজে বের করতে। এটি তাকে হিফজ করার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাজবিদ মেনে পড়তে সাহায্য করবে।
৪. ছোট ছোট সূরা ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ মুখস্থ করানো (প্রস্তুতি)
অনাবাসিক ছাত্রদের জন্য এখনই পূর্ণ হিফজ শুরু না করে 'প্রাক-হিফজ' আমল শুরু করুন।
* কৌশল: আমপারার শেষ ১০টি সূরা এবং সালাতের প্রয়োজনীয় দোয়াগুলো তাজবিদসহ খুব মজবুতভাবে মুখস্থ করান। এতে তাদের মুখস্থ করার শক্তি বাড়বে।
৫. বাড়ির কাজের পরিবর্তে ক্লাসে পড়া আদায়
যেহেতু তারা মাদরাসায় থাকে না, তাই বাড়িতে পড়ার ওপর খুব বেশি ভরসা করা যাবে না।
* পদ্ধতি: নতুন পড়া ক্লাসেই অন্তত ২০ বার উস্তাদের সামনে পড়িয়ে নিন। এতে বাড়ি থেকে সে শুধু রিভিশন দিয়ে আসবে, নতুন করে বানান করে পড়ার কষ্ট তাকে করতে হবে না।
৬. নিয়মিত ‘এখতেবার’ বা পরীক্ষা গ্রহণ
হিফজে দেওয়ার আগে তার যোগ্যতা যাচাই করুন।
* মানদণ্ড: তাকে কুরআনের যেকোনো জায়গা থেকে খুলে দিলে সে যেন না আটকে তাজবিদসহ পড়তে পারে। যদি পারে, তবেই তাকে হিফজের উপযোগী মনে করবেন।
অনাবাসিক ছাত্রদের জন্য বিশেষ রুটিন পরামর্শ:
* সকাল (প্রথম ঘণ্টা): কায়দা/আমপারা/নাজেরা রিভিশন। ( শুনানো)
* মাঝখানের সময়: নতুন ছবক (সবক) উস্তাদের কাছে মশ্ক করা।
* শেষ সময়: তাজবিদ ও মাখরাজের সম্মিলিত প্র্যাকটিস।
অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা:
অনাবাসিক ছাত্রদের ক্ষেত্রে মা-বাবার ভূমিকা ৫০%। ডায়েরির মাধ্যমে প্রতিদিনের পড়া এবং তাজবিদের উন্নতির কথা তাদের জানান। বাড়িতে যেন ছাত্রটি অন্তত ১ ঘণ্টা করে পড়ে, তা নিশ্চিত করতে বলুন।
✍️👉 Hafez Mehedi Hasan
মাদ্রাসার বাচ্চাদের নূরানী বা আমপারা শেষ করার পর প্রথম যখন পূর্ণ কুরআন শরীফ হাতে দেওয়া হয়, তখন তাদের মধ্যে এক ধরণের ভয় এবং জড়তা কাজ করে। এই জড়তা কাটিয়ে দ্রুত রিডিং পড়ানোর জন্য "সবক" দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু কৌশল অবলম্বন করা প্রয়োজন।
নিচে দ্রুত রিডিং শেখানোর একটি সুশৃঙ্খল গাইডলাইন দেওয়া হলো:
১. অল্প পড়া, বারবার পড়া ।
প্রথম কুরআন শুরু করার পর প্রথম ১৫-২০ দিন পড়ার পরিমাণ খুব কম রাখুন।
* কৌশল: প্রতিদিন মাত্র ৩ থেকে ৫ লাইন সবক দিন। কিন্তু শর্ত দিন যে, এই ৫ লাইন যেন ছাত্রটি অন্তত ৪০ থেকে ৫০ বার দেখে দেখে পড়ে। অল্প পড়া বারবার পড়লে শব্দের গঠনগুলো মস্তিষ্কে গেঁথে যায় এবং পড়ার গতি বাড়ে।
২. উস্তাদের সরাসরি 'মশ্ক' ।
ছাত্র নিজে পড়ার আগে উস্তাদকে অবশ্যই ওই অংশটুকু পড়ে শোনাতে হবে।
* পদ্ধতি: আপনি যখন সবক দিবেন, তখন আপনি প্রতিটি শব্দ স্পষ্ট করে তিনবার করে পড়বেন। ছাত্র আপনার আঙুলের ইশারা দেখবে এবং আপনার সাথে সমস্বরে পড়বে। এতে তার পড়ার ভয় কেটে যাবে এবং সঠিক উচ্চারণ শিখবে।
৩. বানান বর্জন করে সরাসরি পড়া।
নাজেরা শুরুর পর ছাত্রদের বানান করার অভ্যাস থেকে বের করে নিয়ে আসতে হবে।
* কৌশল: ছাত্র যদি কোনো শব্দে আটকে যায়, তাকে মনে মনে বানান করতে বলুন কিন্তু মুখে শুধু শব্দটির উচ্চারণ বলতে উৎসাহিত করুন। সরাসরি পড়ার অভ্যাস না করলে সে কখনোই দ্রুত রিডিং পড়তে পারবে না।
৪. আঙুল বা কলম চালনা।
দ্রুত পড়ার জন্য চোখ ও আঙুলের সমন্বয় খুব জরুরি।
* পদ্ধতি: ছাত্রকে বলুন পড়ার সময় শব্দের নিচে দ্রুত আঙুল সরাতে। আঙুল যত দ্রুত সরবে, চোখের নজরও তত দ্রুত পরবর্তী শব্দের দিকে যাবে। এটি রিডিং স্পিড বাড়ানোর সবচেয়ে প্রাচীন ও কার্যকর পদ্ধতি।
৫. "এক নিঃশ্বাসে পড়া"র অনুশীলন
ছাত্ররা অনেক সময় প্রতি শব্দে থেমে যায়, যা তাদের গতি কমিয়ে দেয়।
* কৌশল: ছোট ছোট আয়াত বা আয়াতের অংশবিশেষ এক নিঃশ্বাসে পড়ার অভ্যাস করান। তাকে বলুন, "দেখি এই অংশটুকু না থেমে কে দ্রুত পড়তে পারো।" এটি ছাত্রদের মধ্যে একটি প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি করে এবং গতি বাড়ায়।
৬. প্রতিদিনের 'এখতেবার' বা পরীক্ষা।
সবক দেওয়ার আগে গত ৩ দিনের পড়া বা আমোখতা অবশ্যই দ্রুত গতিতে শোনান।
* পদ্ধতি: যদি সে গত ৩ দিনের পড়া অনর্গল রিডিং পড়তে পারে, তবেই তাকে নতুন সবক দিন। পেছনের পড়া কাঁচা রেখে সামনে বাড়লে এক সময় সে পড়ার খেই হারিয়ে ফেলবে।
শিক্ষকের জন্য বিশেষ রুটিন চার্ট:
| সময় | কার্যক্রম | লক্ষ্য |
| সবক দেওয়ার সময় উস্তাদের সাথে ৩ বার মশ্ক | সঠিক উচ্চারণ নিশ্চিত করা।
| ব্যক্তিগত পড়ার সময় অন্তত ১০-২০ বার দেখে পড়া | গতি ও সাবলীলতা আনা। |
| শোনানোর সময় বানান ছাড়া সরাসরি রিডিং জড়তা দূর করা। |
একটি বিশেষ টিপস:
বাচ্চাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে প্রথম দিকে সহজ পারাগুলো (যেমন: ৩০তম পারা বা সহজ বড় সূরাগুলো) থেকে সবক শুরু করতে পারেন। সে যখন দেখবে সে কুরআন রিডিং পড়তে পারছে, তখন তার আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে যাবে।
✍️👉 Hafez Mehedi Hasan
অনাবাসিক নূরানী ছাত্রদের জন্য সময় কিছুটা কম পাওয়া যায়, তাই তাদের হিফজ বিভাগের উপযুক্ত করতে হলে পরিকল্পিত মেহনত এবং সময়ের সঠিক বণ্টন অত্যন্ত জরুরি। নূরানী থেকে একজন ছাত্রকে সরাসরি হিফজ বিভাগের জন্য প্রস্তুত করতে নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
১. ‘মশ্ক’ বা উচ্চারণে শতভাগ বিশুদ্ধতা
হিফজ শুরুর আগে তেলাওয়াত একদম পানির মতো সহিহ হওয়া চাই।
* পদ্ধতি: প্রতিদিন ক্লাসের প্রথম ১৫-২০ মিনিট নূরানী কায়দার মাখরাজ ও সিফাতের সম্মিলিত মশ্ক করান। অনাবাসিক ছাত্ররা বাড়িতে কম সময় পায়, তাই ক্লাসেই তাদের উচ্চারণগুলো ঠিক করে দিতে হবে।
২. দ্রুত রিডিং (রওয়ানি) পড়ার যোগ্যতা তৈরি
হিফজে যাওয়ার প্রধান শর্ত হলো কুরআন দেখে দ্রুত পড়তে পারা।
* কৌশল: ছাত্র যখন আমপারা বা নাজেরা শুরু করবে, তখন তাকে বানান করে পড়ার চেয়ে দেখে দেখে রিডিং (রওয়ানি) পড়ায় বেশি অভ্যস্ত করুন। তাকে প্রতিদিন অন্তত ১ পৃষ্ঠা রিডিং ৫-১০ বার পড়ার টাস্ক দিন।
৩. তাজবিদের মৌলিক নিয়মগুলোর হাতে-কলমে প্রয়োগ
তাজবিদের নিয়মগুলো শুধু মুখস্থ না করিয়ে কুরআনের আয়াতের ভেতর থেকে চেনান।
* পদ্ধতি: প্রতিদিন একটি করে নিয়ম ধরুন (যেমন: গুন্নাহ)। ছাত্রকে বলুন আজকের পড়া থেকে সবগুলা গুন্নাহ খুঁজে বের করতে। এটি তাকে হিফজ করার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাজবিদ মেনে পড়তে সাহায্য করবে।
৪. ছোট ছোট সূরা ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ মুখস্থ করানো (প্রস্তুতি)
অনাবাসিক ছাত্রদের জন্য এখনই পূর্ণ হিফজ শুরু না করে 'প্রাক-হিফজ' আমল শুরু করুন।
* কৌশল: আমপারার শেষ ১০টি সূরা এবং সালাতের প্রয়োজনীয় দোয়াগুলো তাজবিদসহ খুব মজবুতভাবে মুখস্থ করান। এতে তাদের মুখস্থ করার শক্তি বাড়বে।
৫. বাড়ির কাজের পরিবর্তে ক্লাসে পড়া আদায়
যেহেতু তারা মাদরাসায় থাকে না, তাই বাড়িতে পড়ার ওপর খুব বেশি ভরসা করা যাবে না।
* পদ্ধতি: নতুন পড়া ক্লাসেই অন্তত ২০ বার উস্তাদের সামনে পড়িয়ে নিন। এতে বাড়ি থেকে সে শুধু রিভিশন দিয়ে আসবে, নতুন করে বানান করে পড়ার কষ্ট তাকে করতে হবে না।
৬. নিয়মিত ‘এখতেবার’ বা পরীক্ষা গ্রহণ
হিফজে দেওয়ার আগে তার যোগ্যতা যাচাই করুন।
* মানদণ্ড: তাকে কুরআনের যেকোনো জায়গা থেকে খুলে দিলে সে যেন না আটকে তাজবিদসহ পড়তে পারে। যদি পারে, তবেই তাকে হিফজের উপযোগী মনে করবেন।
অনাবাসিক ছাত্রদের জন্য বিশেষ রুটিন পরামর্শ:
* সকাল (প্রথম ঘণ্টা): কায়দা/আমপারা/নাজেরা রিভিশন। ( শুনানো)
* মাঝখানের সময়: নতুন ছবক (সবক) উস্তাদের কাছে মশ্ক করা।
* শেষ সময়: তাজবিদ ও মাখরাজের সম্মিলিত প্র্যাকটিস।
অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা:
অনাবাসিক ছাত্রদের ক্ষেত্রে মা-বাবার ভূমিকা ৫০%। ডায়েরির মাধ্যমে প্রতিদিনের পড়া এবং তাজবিদের উন্নতির কথা তাদের জানান। বাড়িতে যেন ছাত্রটি অন্তত ১ ঘণ্টা করে পড়ে, তা নিশ্চিত করতে বলুন।
✍️👉 Hafez Mehedi Hasan
যেকোন প্রশ্ন আইডিতে যুক্ত হয়ে করুন
একজন হিফজ বা নাজেরা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে ছাত্র পড়া না পারলে বা পড়তে না চাইলে বিষয়টি অত্যন্ত ধৈর্য ও কৌশলের সাথে মোকাবিলা করতে হয়। মনে রাখবেন, কুরআন হিফজ করা একটি আত্মিক বিষয়, তাই শুধু শাসন দিয়ে এটি হয় না; প্রয়োজন ভালোবাসা ও সঠিক মোটিভেশন।
ছাত্র পড়া না পারলে আপনি নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
১. কারণ অনুসন্ধান করুন
ছাত্র পড়া কেন পারছে না, তা আগে বোঝার চেষ্টা করুন। সমস্যাটি কি শারীরিক, মানসিক নাকি পদ্ধতিগত?
* সে কি পড়ার নিয়ম বা তাজবিদ বুঝতে পারছে না?
* তার কি চোখের কোনো সমস্যা বা মাথাব্যথা আছে?
* মাদরাসার পরিবেশে কি সে খাপ খাওয়াতে পারছে না (হোম সিকনেস)?
* নাকি সে অলসতা করছে?
২. পড়ার পরিমাণ কমিয়ে দিন ।
অনেক সময় পড়ার চাপ বেশি হয়ে গেলে ছাত্ররা ঘাবড়ে গিয়ে পড়া ছেড়ে দেয়।
* কৌশল: তাকে পুরো পৃষ্ঠা না দিয়ে মাত্র ২-৩ লাইন সবক দিন। তাকে বলুন, "তুমি এই ২ লাইন খুব ভালো করে পড়ে শোনাও, তাহলেই হবে।" ছোট লক্ষ্য পূরণ হলে তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরে আসবে।
৩. বকাঝকার বদলে উৎসাহ দিন
ভয়ের কারণে ছাত্রদের স্মৃতিশক্তি আরও কমে যায়।
* কৌশল: সে যতটুকু পারছে, সেটুকুর জন্যই তাকে বাহবা দিন। "মাশাআল্লাহ, তোমার তেলাওয়াত তো খুব সুন্দর, তুমি চাইলে আরও ভালো পারবে"—এভাবে কথা বলুন। তাকে ছোট কোনো পুরস্কার (যেমন: একটি কলম বা চকলেট) দিয়ে মোটিভেট করুন।
৪. পড়ার পরিবেশ ও পদ্ধতি পরিবর্তন করুন
একই জায়গায় বসে পড়তে বিরক্ত লাগলে পরিবেশ পরিবর্তন করুন।
* কৌশল: তাকে একা না বসিয়ে একজন ভালো ছাত্রের সাথে বসিয়ে দিন ভালো ছাত্রটি তাকে পড়া বুঝিয়ে দিবে। অথবা তাকে একটু পায়চারি করে (হাঁটাহাঁটি করে) উচ্চস্বরে পড়ার সুযোগ দিন।
৫. অভিভাবকের সাথে আলোচনা করুন
শিক্ষক ও অভিভাবকের সমন্বয় ছাড়া অবাধ্য ছাত্রকে সোজা করা কঠিন।
* কৌশল: অভিভাবককে ডেকে তার সমস্যাগুলো জানান। বাড়িতে গিয়ে সে সময় অপচয় করছে কি না বা মোবাইলে আসক্ত কি না, তা জানতে চান। তাকে শাসন নয়, বরং সংশোধনের জন্য উভয়ে মিলে পরিকল্পনা করুন।
৬. দোয়া ও নসিহত
কুরআন তিলাওয়াত একটি নূরানি আমল। অনেক সময় আত্মিক বাধার কারণেও পড়া এগোয় না।
* কৌশল: তাকে নিয়ে আলাদাভাবে বসুন। কুরআন হাফেজ হওয়ার ফজিলত ও মা-বাবার সম্মানের কথা শোনান। তাকে পড়ার শুরুতে দরুদ শরীফ এবং 'রব্বি জিদনি ইলমা' পড়ার আমল শিখিয়ে দিন।
৭. শাসনের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা
অতিরিক্ত মারধর বা কঠোরতা ছাত্রকে মাদরাসা থেকে বিমুখ করে তুলতে পারে।
* পরামর্শ: যদি তাকে শাসন করতেই হয়, তবে হালকা ধমক বা তার প্রিয় কোনো সুযোগ (যেমন খেলার সময়) কমিয়ে দেওয়ার মতো ব্যবস্থা নিন। শারীরিক শাস্তি এড়িয়ে চলাই উত্তম।
✍️👉 Hafez Mehedi Hasan
21/01/2026
21/01/2026
Shout out to my newest followers! Excited to have you onboard! Kamrul Hasan, Jony Pramanik, HM Sajedul Islam, Sathi Islam, Šḿ Šifẫt Ḱħẫň, Moon Abir
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Jibonpur, Mohimaganj
Rangpur
4751