28/01/2019
সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনায় যত প্রজেক্ট রয়েছে সেগুলোর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের উপবৃত্তি প্রদান একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ । এটা আরও মহিমান্বিত হয়েছে ১০০ ভাগ উপবৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে । এ প্রকল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে এর পুরো অর্থায়ন বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব খাত হতে। উপবৃত্তি প্রকল্প প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দৃশ্য পাল্টে দিয়েছে । একসময় Quantity অর্জনের লক্ষ্যে এ প্রকল্প শুরু করা হলেও ক্রমান্বয়ে তা Quality অর্জনের নির্দেশক হয়ে দাঁড়ায় । এ প্রকল্প একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি নিশ্চিত করেছে তেমনি অভিভাবকদের আর্থিক সহায়তা ও শিক্ষা সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে । যা দেশকে একটি শিক্ষিত জাতিতে পরিণত করার জোয়ার সৃষ্টি করেছে । একসময় ব্যাংকের লোকজন নির্দিষ্ট কেন্দ্রে গিয়ে অভিভাবকদের হাতে উপবৃত্তির অর্থ তুলে দিত, যা ছিল সময়সাপক্ষ। কিন্তু বর্তমান সরকারের Digitalization এর ছোঁয়ায় উপবৃত্তি কার্যক্রম আরও সহজ হয়ে যায় । সরকারি সেবা আজ জনগণের দোরগোড়ায় । শিওর ক্যাশের মাধ্যমে অভিভাবকগণ নিমিষেই এ সুবিধা ভোগ করছে। তবে এ সেবাটিকে আরও ফলপ্রসূ করার জন্য নিম্নলিখিত সমস্যাবলী সমাধানে চিন্তা ভাবনা করা প্রয়োজন ।
শিওর ক্যাশের সমস্যাঃ
১• ক্ষেত্রবিশেষে এজেন্টগণ অভিভাবকদের টাকা প্রদানে শতকরা ১০ টাকা পর্যন্ত সার্ভিস চার্জ হিসেবে কেটে রাখছে । যদিও এ চার্জ গ্রহণের কোন বিধান নাই । অভিভাবকদের অসচেতনতা এবং এজেন্টদের শঠতাই এর মুল কারণ।
২• ক্যাশ আউটের ক্ষেত্রে এজেন্টরা অভিভাবকদের অজান্তেই পিন কোট পরিবর্তন করে সুনির্দিষ্ট এজেন্টের কাছে যেতে বাধ্য করছেন ।
৩• এজেন্টরা সরাসরি অভিভাবকদের একাউন্ট অপরেট করে থাকেন । অভিভাবকগণ তার মোবাইলটি উপবৃত্তি প্রাপ্তির আশায় এজেন্টদের হাতে তুলে দেন। কিছু অসাধু এজেন্ট এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত ক্যাশ আউটের মাধ্যমে ফিরতি ম্যাসেজ ডিলিট করে বলেন যে, আপনার টাকা আসেনি। একটি পর্যবেক্ষণ এটাই ইঙ্গিত করে। পর্যবেক্ষণটি নিম্নরূপঃ
একদিন এক অভিভাবক স্কুলে এসে বলল স্যার আমার ম্যাসেজ আসেনি । প্রধান শিক্ষক শিওর ক্যাশে ফোন দিলে জানতে পারেন যে, ম্যাসেজ না পেলেও একাউন্টে টাকা দেয়া হয়েছে । অতঃপর একাউন্টের মিনিএস্টেটমেনট চেক করে জানা যায় যে, টাকা আসলেও তার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে । এমতাবস্থায় অভিভাবককে এস্টেটমেন্ট অনুযায়ী নির্দিষ্ট তারিখে তার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে । একথা শোনার পর তিনি বলেন যে, না স্যার, আমি ঐদিনে দোকানে গিয়ে এজেন্টের হাতে মোবাইল দিলে উনি কিছুক্ষণ পর বলেন যে, টাকা আসেনি । এর থেকে প্রতীয়মান হয় যে এখানে কিছু ঘাপলা আছে। শিওর ক্যাশে যোগাযোগ করে তার সত্যতাও পাওয়া গেছে। কিছু কিছু এজেন্টের এ শঠতা শিওর ক্যাশকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
৪• এ সংক্রান্ত কোন অভিযোগ শিওর ক্যাশে দিতে গেলে এজেন্টদের কিছু তথ্য উপস্থাপন করতে হয় যা ক্ষেত্রবিশেষে অভিযোগকারীর পক্ষে সংগ্রহ করা কষ্টসকষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায় । যার ফলে প্রতিকার পাওয়াও আর হয় না।
এমতাবস্থায় সমস্যাবলীর সমাধানপূর্বক সরকারের এ মহতী উদ্যোগকে টেকসই করার উদ্যোগ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ।