Learning and Earning

Learning and Earning

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Learning and Earning, Rangpur.

01/01/2022

#সুস্বাগতম২০২২ #সবার #জীবনে #সমৃদ্ধি #বয়ে #নিয়ে #আসুক #এই #প্রত্যাশা #চিরন্তন।

01/06/2020

★★★ দেওয়ানী মোকদ্দমার ও ফৌজদারী মামলার মধ্যে কি কি পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় সংক্ষিপ্ত আলোচনা কর।

#মোকদ্দমা #দেওয়ানী #ফৌজদারী #বিচার #বিচারক #রাষ্ট্র #বাদী #বিবাদী #আইন #প্রশাসন #উকিল #ধারা

★★★ দেওয়ানী মোকদ্দমার ও ফৌজদারী মামলার মধ্যে পার্থক্য প্রধানত ৭ (সাত) ধাপে নিরুপন করা যায়। পার্থক্য গুলো নিম্নরুপ-

১) প্রতিকার বা ফলঃ- দেওয়ানী মোকদ্দমায় প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণ, ফৌজদারী মামলায় জেল জরিমানা;

২) মামলা পরিচালনা ও খরচঃ- দেওয়ানী মোকদ্দমায় নিজে এবং নিজের খরচে মামলা পরিচালনা করতে হয়, আর ফৌজদারী মামলায় সরকার ও সরকারি খরচে পরিচালিত হয়;

৩) প্রমাণের নীতিঃ- দেওয়ানী মোকদ্দমায় অভিযোগ প্রমাণের নীতির ক্ষেত্রে ভারসাম্যতার নীতি অবলম্বন করা হয়, অপরদিকে ফৌজদারী মামলায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হতে হয়;

৪) প্রমাণের দায়ভারঃ- দেওয়ানী মোকদ্দমায় বাদী এবং বিবাদী তাদের বিষয় প্রমাণ করার চেষ্টা করে, ফৌজদারী মামলায় রাষ্ট্রপক্ষকে তথা বাদীকে প্রমাণ করতে হয়;

৫) সময়ঃ- দেওয়ানী মোকদ্দমায় তুলনামূলক ভাবে বেশি সময় লাগে, ফৌজদারী মামলায় সাধারণত আইনে বেধে দেওয়া সময়ের মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকে তাই তুলনামূলক ভাবে কম সময় লাগে;

৬) ফলঃ- দেওয়ানী মোকদ্দমায় অভিযোগ প্রমাণ করা একটু জটিল বলে অনেক সময় আশাতীত ফল পাওয়া যায় না, ফৌজদারী মামলায় অভিযোগের প্রতিকার পাওয়া সহজ ও সাধারণত পাওয়া যায়;

৭) রায়ের পরঃ- দেওয়ানী মোকদ্দমায় রায় পাওয়ার পর বিবাদীকে সেই রায় মানার জন্য আহ্বান করা হয় যদি সেই রায় না মানে বা রায় মতে কাজ না করে তবে দেওয়ানী আদালতে সেই রায় সম্পাদনের জন্য আবার মোকদ্দমা দায়ের করতে হয়, অন্যদিকে ফৌজদারী মামলায় এসব কিছুই করতে হয় না, সরকার রায় ঘোষণার পরে রায় বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করে।
[সংগৃহীত]

31/05/2020

★★★ দেওয়ানী মোকদ্দমার ধাপ/কার্য প্রক্রিয়া গুলির সংক্ষিপ্ত আলোচনা কর।

#দেওয়ানী #মোকদ্দমা #মামলা #বিচার #আদালত #আইন #সমন #জারী #আপীল #রায় #জবাব #আদেশ #মূলতবী #ডিক্রি #বিরোধ #নিষ্পত্তি #বাদী #নোটিশ #বিচারক #ম্যাজিস্ট্রেট #প্রশাসন #বিধান

★★★ দেওয়ানী মোকদ্দমার ধাপ/কার্য প্রক্রিয়া নিম্নে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো-

১) পক্ষগন, উকিল নোটিশ, আরজি, মোকদ্দমা দায়েরঃ
★ প্রথমেই বাদী ও বিবাদী পক্ষ কারা হবে সে বিষয় পরিস্কার হতে হবে তারপর যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে;
★ অনেক মোকদ্দমা করার আগে উকিল নোটিশ দিয়ে বিবাদীকে বিষয়টি জানাতে হয় এবং বিষয়টির সমাধান চাইতে হয়, অপর পক্ষ তা না করলে তারপর মামলা করতে হয়;
★ নোটিশের বিধান না থাকলে বা নোটিশের যথাযথ জবাব না দিলে তখন একজন উকিল দিয়ে আরজির মাধ্যমে বিষয়টি যথাযথ এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতে পেশ করতে হয়। তবে তার আগে পক্ষকে এটা দেখে নিতে হবে যে মোকদ্দমা করার কোন আইনী বাধা বা বার আছে কি না;
★ আরজিতে বিরোধের বিষয়টি পরিস্কার করতে হয় এবং প্রতিকার চাইতে হয় এটিকেই মোকদ্দমা বা মামলা দায়ের বলে।

২) সমনঃ-
★ দেওয়ানী মোকদ্দমা যে দায়ের হয়েছে এই বিষয়টি আদালত কর্তৃক সমনের মাধ্যমে বিবাদীকে জানানো হয়, যার ফলে বিবাদী আদালতে এসে লিখিতভাবে বিবাদের বিষয়টি স্বীকার বা অস্বীকার করে;
★ বিবাদীকে তার ঠিকানায় না পাওয়া গেলে, বিকল্প ভাবে বাসস্থানের সামনে ঝুলিয়ে বা পত্রিকায় সমন প্রকশিত করা যেতে পারে।

৩) জবাবঃ-
বিবাদী সমন পাওয়ার পর নিজে বা উকিলের মাধ্যমে আরজির বিষয় স্বীকার বা অস্বীকার করতে হয় এবং আদালত দুই পক্ষের যুক্তি তর্ক শুনে রায় প্রদান করেন। অনেক সময় বিবাদী দায় স্বীকার বা অস্বীকার না করে পারস্পরিক দায় শোধ বা set off এবং কাউন্টার ক্লেইম করে থাকে।

৪) বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিঃ-
আদালত বিবাদীর লিখিত জবাবের পর যদি দেখে যে বিবাদী অভিযোগটি স্বীকার করেনি তখন আদালত পক্ষগনকে বিষয়টি আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি করার জন্য সুযোগ দিবেন এবং পক্ষগন ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে বিরোধটি নিষ্পত্তি করতে না পারলে বা কোন বিষয়ে সেটেলমেন্টে যেতে না পারলে মোকদ্দমা আগের জায়গায় ফিরে আসবে এবং দেওয়ানী কার্যবিধি-র নিয়ম মতো চলবে। আর তারা বিষয়টি মীমাংসা করতে পারলে আদালত সেটা গ্রহণ করে ডিক্রি প্রদান করবে।

৫) বিচার্য বিষয় নির্ধারণঃ-
কোন বিষয় নিয়ে যখন কোন পক্ষ আদালতে যায় সাধারণত অপর পক্ষ তা অস্বীকার করে তখন তাদের মধ্যকার বিবাদের বিষয়টি কোন পক্ষ সঠিক তা নির্ণয় করতে আদালতকে কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হয়। এই প্রশ্নের বিষয়গুলোই হচ্ছে বিচার্য বিষয়। প্রকৃত বিচার কার্য আসলে এই বিচার্য বিষয় ঠিক করার পর থেকে শুরু হয়।

৬) পক্ষদের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতর ফলাফলঃ-
অনেক সময় দেখা যায় পক্ষগন আদালতের এই বিচার প্রক্রিয়া চলার সময় অনুপস্থিত থাকে তখন আদালত সেটি বিবেচনায় নিয়ে মোকদ্দমা খারিজ বা একতরফা ডিক্রি প্রদান করতে পারে।

৭) পরীক্ষাকরণ, উদ্ঘাটন, পরিদর্শন ইত্যাদিঃ-
মোকদ্দমার কোন বিষয় বোঝার এবং প্রক্রিয়া প্রয়োজন হতে পারে তখন আদালতের অনুমতিক্রমে একপক্ষ অন্য পক্ষের নিকট প্রশ্ন করতে পারে, দলিল দেখাতে চাইতে পারে, স্বীকারোক্তির আবেদন করতে পারে। আবার আদালত প্রয়োজনে রিসিভার নিয়োগ করে তদন্ত বা অন্য কোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা প্রদান করতে পারে।

৮) মূলতবী (Adjournment)ঃ-
আদালত বিভিন্ন সময়ে কোন পক্ষ বা পক্ষগণের আবেদনের পেক্ষিতে ঐ মোকদ্দমার বিষয়ে তার বিচারিক কার্যক্রম নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বন্ধ রাখেন, এই বন্ধ রাখাকেই মূলতবী (Adjournment) বলে। যে কোন পক্ষ সাধারণত খরচ সহ বা খরচ ছাড়া তাদের প্রয়োজনে আবেদন করে মূলতবী রাখতে পারে।

৯) রায়, আদেশ ও ডিক্রিঃ-
কোন বিষয় যখন আদালতের নিকট পেশ করা হয় আদালত বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার আগে যথাযথ ব্যবস্থা নেন, যেমন- অভিযুক্ত পক্ষকে ডাকা তাদের অভিযোগটি দেওয়া এবং তাদের মন্তব্য/উত্তর নেওয়া, কোন কোন বিষয়টি বিচার করবে ইত্যাদি। এরপর আসে মূল বিচার প্রক্রিয়া যেখানে সাক্ষ্য-প্রমান নেওয়া হয় এবং সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে রায় ঘোষণা করা হয়। যার মধ্যে ডিক্রি বা চূড়ান্ত প্রতিকার থাকে আবার অন্য দিকে রায় ঘোষণার আগেই কিছু আদেশ আদালত প্রদান করতে পারে।

১০) রায় বাস্তবায়ন/সম্পাদন/জারিঃ-
কোন পক্ষ রায় পাওয়ার পর যদি সেটা বাস্তবায়ন করতে হয়, [যেমন- জমির দখল বুঝে নেওয়া] এবং সেটা যদি বিবাদী [বা যে পক্ষের বিরুদ্ধে রায় পেয়েছে সে] নিজ থেকে বাস্তবায়ন না করে তবে আবার একটা জারি মোকদ্দমা দেওয়ানী আদালতে করতে হয় এর ফলে আদালত বাদীর হয়ে প্রশাসনের সাহায্য নিয়ে রায় বাস্তবায়ন করে।

১১) আপীলঃ-
মোকদ্দমায় রায় পাওয়ার পরেই মোকদ্দমাটি শেষ হয়ে যায় না। কোন পক্ষ যদি মনে করেন যে তিনি সঠিক বিচার পাননি তবে তিনি আপীল, রিভিউ বা রিভিশন দায়ের করতে পারেন। এগুলো মোকদ্দমা চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে কাজ করে। তবে যথা সময়ে এইসব দাবী না তুললে পক্ষগন তাদের প্রতিকার চাওয়ার অধিকার হারায়।

[ মন্তব্যঃ- মূলত এই প্রধান ধাপগুলোর মাধ্যমেই দেওয়ানী মোকদ্দমা সম্পন্ন হয়, তবে এর ভেতরেও বিচার প্রক্রিয়ার খুঁটিনাটি বিষয় রয়েছে যা পরের আলোচনায় বিষদ আলোচনা করার চেষ্টা করবো]

31/05/2020

★★★ দেওয়ানী মোকদ্দমা (মামলা) কি? দেওয়ানী মোকদ্দমা (মামলা) কেন করবেন উদাহরনসহ আলোচনা কর।

#আইন #আদালত #বিচারক #বিচার #পেশকার #উকিল #মহুরী #দেওয়ানী #ফৌজদারী #মোকদ্দমা #খাজনা #বিবাহ #তালাক #সন্তান #চাকরী #মৌলিক

★★★ দেওয়ানী মোকদ্দমা বোঝার আগে 'দেওয়ানী' শব্দটি জানা খুব জরুরী, দেওয়ানী শব্দটি এসেছে ফার্সি শব্দ দেওয়ান থেকে যার অর্থ গ্রন্থ বা কাগজের বাঁধন। তবে তৎকালীন সরকারের কাজে যারা খাজনা আদায়, হিসাব-নিকাশ করতো তাদেরকে দেওয়ান বলা হতো এবং এই কাজগুলোকে দেওয়ানী কাজ বলা হতো। দেওয়ানী কাজের পরিধি ছিল অনেক যেমন- জমি-জমা, ফসল ইত্যাদির হিসাব রাখা সে মতে খাজনা আদায় করা খাজনা না দিলে হাকিমের (জজ) কাছে নিজে বিচার করা ইত্যাদি। তখন সেই আমলে আসলে বর্তমানের তুলনায় দেওয়ানী কাজে পরিধি ছিল অতি নগন্য, তবে বর্তমানে এত সুবিস্তৃত যে তা লিখে শেষ করা যাবে না।
দেওয়ানী মোকদ্দমার মধ্যে পরে; পারিপারিক বিষয়, বিয়ে-তালাক (ডিভোর্স), সন্তানের অভিভাবকত্ব, জমি-জমা, আর্থিক লেনদেন, ব্যবসা-বানিজ্যের চুক্তি, ক্রয়-বিক্রয়, কপি রাইট, চাকরী-বাকরী, অধিকার, দখল ইত্যাদি।
মোকদ্দমা শব্দটি মামলার সমার্থক শব্দ অর্থাৎ কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার বিচারকের নিকট বিচারের জন্য প্রেরণ করা।
তাহলে আমরা বলতে পারি, দেওয়ানী মোকদ্দমা হলো দেওয়ানী বিষয়ের অভাব অভিযোগ আদালতের সামনে বিচারের জন্য তুলে ধরা।
এখন স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসছে দেওয়ানী মোকদ্দমা কেন এবং দেওয়ানী মোকদ্দমার ও ফৌজদারী মামলার মধ্যে পার্থক্য কি? পার্থক্যটি ব্যাপক বিষয় এটি আলাদা ভাবে আলোচনা করতে হবে। এখন দেওয়ানী মোকদ্দমার বিষয়বস্তু এবং কেন দেওয়ানী মোকদ্দমা করবো তা একটু জেনে নিই।

দেওয়ানী মোকদ্দমা কেন করবেন-
কোন বিষয়ে সংক্ষুব্ধ হলে সেই বিষয়টি অনেক ভাবেই আইন-আদালতে পেশ করতে পারি এবং আমরা কিভাবে, কোথায়, কোন আইনের সাহায্য নিয়ে পেশ করলাম তার উপর নির্ভর করে যে, আমাদের প্রতিকার কি হবে। একটি উদাহরন দিলে বিষয়টি পরিস্কার হবে।
ধরে নিলাম, আসিফ আপনার প্রতিবেশী সে আপনার এবং আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দুর্নাম করে বেড়াচ্ছে যার ফলে আপনার তিলে তিলে গড়া সুনাম নষ্ট হয়েছে এবং আপনার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এমন অবস্থায় আপনার হাতে দুটি বিকল্প (প্রতিকারার্থে) আছে-
১) ফৌজদারী মামলা করা- যা করলে বিষয়টি প্রমাণ হলে সে বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে এবং সাথে অর্থ দন্ডও হতে পারে তবে তা সাধারনত খুবই নগন্য হয়।
২) দেওয়ানী মামলা করা- যা করলে বিষয়টি প্রমাণ হলে আদালত বিবেচনা করবেন যে আপনার কত টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং পরে আরও হতে পারে, এবং তার কি লাভ হয়েছে এবং অন্যান্য; এসব বিবেচনা করে আদালত একটা মোটা অংকের ক্ষতিপূরণ তাকে দিতে বলবে, ধরুন সেটা হলে হতে পারে দেড় বা দুই কোটি টাকা।
তাই সংক্ষেপে এটা বলা যায় যে, ফৌজদারী মোকদ্দমায় জেল-জরিমানা এবং দেওয়ানী মোকদ্দমায় প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়।
এখন প্রশ্ন আপনি কোনটা চাইবেন? সাধারণভাবে চিন্তা করলে দেখা যায় যে ফৌজদারী মামলা করলে যদি আসিফরে ১০ (দশ) বছরের জেলও হয়, তবে তাতে মনোতৃপ্তি ছাড়া আপনার কিছু যাবে বা আসবে না, অন্যদিকে আদালত তাকে ১.৫০ (দেড়) বা ০২ (দুই) কোটি টাকার জরিমানা করলে আপনার ক্ষতি পূষিয়ে আবার আপনি ব্যবসায় নামতে পারবেন।
[সংগৃহীত]

30/05/2020

★★★ দেওয়ানী মোকদ্দমার বৈশিষ্ট্য সহ দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়ের পূর্ব প্রস্তুতি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা কর।

#দেওয়ানী #মোকদ্দমা #আদালত #বিচার #আইন #জামিন #বিধান #আইনজীবী #ম্যাজিস্ট্রেট #বীমা #স্কীম #সেবা #বাদী #বিবাদী #মৃত্যুকালীন #সুবিধা

★★★ দেওয়ানী মোকদ্দমার ভাল দিক--
১) নিজ উদ্যোগে বুঝে শুনে মামলা দায়ের করা যায় এবং দায়েরকৃত মামলা নিজেকে পরিচালনা করতে হয় তাই তা অনেকটা বাদীর নিয়ন্ত্রণে থাকে;
২) ভারসাম্যতার নীতি (Balance of probability) অবলম্বন করে এবং সাধারণত দলিলিক সাক্ষ্যর ভুমিকা বেশি থাকে তাই মামলা প্রমাণ করা সহজ হয় যার ফলে বিচার পাওয়ার হার বেশী;
৩) উভয়ের উপর-ই প্রমানের দায়ভার থাকে;
৪) অযথা পুলিশী হয়রানি পোহাতে হয় না;
৫) অপর পক্ষের মৃত্যু হলেও আপনার দাবি আপনি উত্তরাধিকারদের কাছ থেকে উদ্ধার করতে পারবেন।

দেওয়ানী মোকদ্দমার খারাপ দিক--
১) সময় বেশী লাগে;
২) দলিলিক প্রমান না থাকলে প্রমান করা কঠিন;
৩) অনেক পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করতে হয়;
৪) রায় পাওয়ার পর আবার অনেক সময় সম্পাদন বা জারি মামলা করতে হয়।

দেওয়ানী মোকদ্দমা করার পূর্ব প্রস্তুতি--
১) সময় ও ক্রম অনুসারে মোকদ্দমার বিষয়গুলো একটি কাগজে লিখে ফেলুন, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও সময়কে হাইলাইট করুন,সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোকে ও সাইড নোট হিসেবে টুকে রাখুন;
২) আপনার প্রয়োজনীয় দলিল (ডকুমেন্ট) আপনার কাছে রাখুন অন্য কোথাও / কারো কাছে থাকলে সংগ্রহ করুন, সংগ্রহে না থাকলে একান্তই না পেলে কার কাছে কিভাবে আছে তা টুকে রাখুন;
৩) মামলার পক্ষ-গনের নাম, ঠিকানা ইত্যাদি সংরক্ষণ করুন সাথে যদি মনে করেন একই সম্পত্তি বা বিষয় নিয়ে অন্য কেউও আপত্তি করতে পারে তবে তাদের নাম, ঠিকানাও সংগ্রহ করুন;
৪) মোকদ্দমার সাক্ষীগনের খোঁজ-খবর রাখুন;
৫) যখনি মনে করবেন বিবাদ শুরু হয়েছে বা হবে তখনি একজন বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
[সংগৃহিত]

29/05/2020

১৪.০৫.২০১৯
অনুচ্ছেদ ২৭ অনুযায়ী- আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং সবাই সমান আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারী। অর্থ্যাৎ এর মাধ্যমে সকল নাগরিকের মধ্যে আইনের সাম্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যখনই কেউ আইনের সাম্য নষ্ট করে তার বিরুদ্ধে এটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা যায়;
অনুচ্ছেদ ২৮ অনুযায়ী- সকল ধর্ম,বর্ন,নারী,পুরুষ ও জন্মস্থান ভেদে রাষ্ট্র যেন বৈষম্য না করতে পারে তার বিধান দেয়া হয়েছে;
অনুচ্ছেদ ২৯ অনুযায়ী- সরকারী পদে নিয়োগ লাভে সকল নাগরিকের সাম্যের নিশ্চয়তা দিয়েছে;
অনুচ্ছেদ ৩১ অনুযায়ী- সকল নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার নিশ্চিত করেছে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনী প্রক্রিয়া ব্যতিত কোন নাগরিকের জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানী ঘটানো যাবে না। অর্থ্যাৎ পুলিশ চাইলেই যে কাউকে তুলে নিয়ে কারাগারে নিক্ষেপ করতে পারবে না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইনী প্রক্রিয়া শুরু না করে কাউকে গ্রেপ্তারও করতে পারবে না;
অনুচ্ছেদ ৩২ অনুযায়ী- যথাযথ আইনী প্রক্রিয়া ছাড়া কোন নাগরিকের ব্যক্তি ও জীবনের স্বাধীনতা হরন করা যাবে না;
অনুচ্ছেদ ৩৩ অনুযায়ী- এখানে ব্যক্তির গ্রেপ্তার ও আটক বিষয়ে রক্ষাকবচ দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তিকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের কারন যথাশীঘ্র উল্লেখ না করে আটক রাখতে পারবে না এবং তাকে তার মনোনীত আইনজীবীর সাথে পরার্মশ করার সুযোগ দিতে হবে। তাছাড়া আটকের পরবর্তী ২৪ ঘন্টার মধ্যে আটককৃত ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থাপন করবে পরবর্তী নির্দেশনার জন্য। তবে যদি তাকে কোন বিবর্তনমূলক আইনে আটক করা হয় বা সেই ব্যক্তি বর্তমানে দেশের শত্রু হয় তবে তার ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না। এটি সংবিধানের মূল ধারার সাংঘর্ষিক হলেও নিবর্তন মূলক আইনের যথেচ্ছ ব্যবহার এর গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। কেনইবা এই স্ববিরোধীতা;
অনুচ্ছেদ ৩৪ অনুযায়ী- বাধ্যতামুলক শ্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অর্থ্যাৎ কেউ জোর করে কাউকে দিয়ে শ্রম আদায় করতে পারবে না। এই অনুচ্ছেদে দুটি ব্যতিক্রম আছে- যেমন শ্রম যদি কারাভোগের অংশ হয় তাহলে বাধ্যতামুলক শ্রম আদায় করা যাবে আর দ্বিতীয়টি হল যদি জনগনের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে তা আবশ্যক মনে হয়। যদিও কোন কোন ক্ষেত্রে রাষ্ট্র মনে করবে বাধ্যতামুলক শ্রম জনগনের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে প্রয়োজন তা কোথাও উল্লেখ নেই। এখানে আইনের অস্পষ্টতা রয়েছে।
অনুচ্ছেদ ৩৫ অনুযায়ী- ফৌজদারী অপরাধের বিচার ও দন্ড নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। বর্তমান সময়ে যদি কোন কাজ অপরাধের পর্যায়ে না পড়ে তাহলে পরবর্তীতে নতুন আইন করে সেই কাজকে অপরাধ সংজ্ঞায়িত করে শাস্তি দেয়া যাবে না। একে আমরা ইংরেজিতে বলি "রেট্রোস্পেক্টিভ ইফেক্ট" এই নিয়ম পৃথিবীর প্রায়ই দেশেই আছে। একই অনুচ্ছেদের ৪ উপ-অনুচ্ছেদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ- এতে বলা হয়েছে, কোন অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না। তাহলে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৭ ধারা অনুযায়ী পুলিশ 'রিমান্ড' নামক ভয়ানক পদ্ধতির মাধ্যমে যেসব স্বাকারোক্তি অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবহার করেন তার গ্রহনযোগ্যতা কতটুকু? আইনের এই সাংঘর্ষিক অবস্থান বজায় রেখেই চলছে আমাদের ফৌজদারী শাসন ব্যবস্থা ;
অনুচ্ছেদ ৩৬ অনুযায়ী- নাগরিকের আইন সংগত বসবাস ও চলাফেরার নিশ্চয়তা বিধান করা হয়েছে ;
অনুচ্ছেদ ৩৭ অনুযায়ী- সকল নাগরিকদের শান্তিপূর্ন উপায়ে সভা-সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে ;
অনুচ্ছেদ ৩৮ অনুযায়ী- সকল নাগরিক আইন সংগত বিধি-নিষেধ সাপেক্ষে সংগঠন করার অধিকার দেয়া হয়েছে;
অনুচ্ছেদ ৩৯ অনুযায়ী- সকলের বাক-স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে ;
অনুচ্ছেদ ৪০ অনুযায়ী- পেশা বা বৃত্তি নির্বাচনের স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে ;
অনুচ্ছেদ ৪১ অনুযায়ী- সকল নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিধান করা হয়েছে ;
অনুচ্ছেদ ৪২ অনুযায়ী- সম্পত্তির উপর নাগরিকের অধিকার এবং সেই সম্পত্তি রাষ্ট্র যেন বাধ্যতামুলক অধিগ্রহন, রাষ্ট্রার্য়ত্তকরন ও দখল করতে না পারে তার বিধান দেয়া হয়েছে ;
অনুচ্ছেদ ৪৩ অনুযায়ী- আইনগত বিধি-নিষেধ সাপেক্ষ্যে নাগরিকের গৃহে প্রবেশ, তল্লাশি ও আটক থেকে নিরাপত্তা সহ চিঠিপত্র ও অন্যান্য যোগাযোগের গোপনীয়তা অধিকার দেয়া হয়েছে ;

এবার আসি রীট নিয়ে মুল আলোচনায়। পূর্বেই উল্লেখিত আছে, সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদে মহামান্য হাইকোর্টকে কতিপয় ক্ষেত্রে সরাসরি হস্তক্ষেপের ক্ষমতা দিয়েছে। আলোচনার সুবিধার্থে অনুচ্ছেদটি হুবহু তুলে দেয়া হলো---
অনুচ্ছেদ ১০২ (১) কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে এই সংবিধানের তৃতীয় ভাগের দ্বারা অর্পিত অধিকার সমুহের যেকোন একটি বলবৎ করিবার জন্য প্রজাতন্ত্রের বিষয়াবলীর সহিত সম্পর্কিত কোন দ্বায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে হাইকোর্ট বিভাগ নির্দেশাবলী দান করিতে পারিবেন।
(২) হাইকোর্ট বিভাগের নিকট যদি সন্তোষজনক ভাবে প্রতীয়মান হয় যে,"আইনের দ্বারা অন্য কোন সমফল প্রদ বিধান করা হয় নাই, তাহা হইলে
(ক) কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে
(অ) প্রজাতন্ত্র বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিষয়াবলীর সহিত সংশ্লিষ্ট যেকোন দায়িত্ব পালনে রত ব্যক্তিকে আইনের দ্বারা অনুমোদিত নয়, এমন কোন কার্য করা হইতে বিরত রাখিবার জন্য কিংবা আইনের দ্বারা তাহার করনীয় কার্য করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিয়া, অথবা-
(আ) প্রজাতন্ত্র বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিষয়াবলীর সহিত সংশ্লিষ্ট যেকোন দায়িত্ব পালনে রত ব্যক্তির কৃত কোন কার্য বা গৃহিত কোন কার্যধারা আইন সংগত কতৃর্ত্ব ব্যতিরেকে করা হইয়াছে বা গৃহিত হইয়াছে ও তাঁহার কোন আইনগত কার্যকারীতা নাই বলিয়া ঘোষনা করিয়া উক্ত বিভাগ আদেশ দান করিতে পারিবেন, অথবা
(খ) যেকোন ব্যক্তির আবেদনক্রমে
(অ) আইন সংগত কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে বা বেআইনী উপায়ে কোন ব্যক্তিকে প্রহরায় আটক রাখা হয় নাই বলিয়া যাহাতে উক্ত বিভাগের নিকট সন্তোষজনক ভাবে প্রতীয়মান হইতে পারে, সেইজন্য প্রহরায় আটক উক্ত ব্যক্তিকে উক্ত বিভাগের সম্মুখে আনয়নের নির্দেশ প্রদান করিয়া, অথবা
(আ) কোন সরকারী পদে আসীন বা আসীন বলিয়া বিবেচিত কোন ব্যক্তিকে তিনি কোন কর্তৃত্ববলে অনুরুপ পদমর্যাদায় অধিষ্ঠানের দাবী করিতেছেন, তাহা প্রদর্শনের নির্দেশ প্রদান করিয়া উক্ত বিভাগ আদেশ দান করিতে পারিবেন।"
উপরের অনুচ্ছেদটির ব্যাখ্যা করলে দেখা যায় - হাইকোর্ট এমনকিছু ক্ষেত্রে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারেন যেখানে অন্য কোন আইনের মাধ্যমে কোন প্রকার প্রতিকারের ব্যবস্থা করা হয়নি।
সংবিধান অনুযায়ী, কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি তার আইনী প্রতিকার লাভের জন্য সর্বনিম্ন এখতিয়ারাধীন আদালতে অভিযোগ দায়ের করবেন। যদি তিনি নিম্ন আদালত সমুহের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হন তবে উপরের আদালতে যাবেন। অতএব দেখা যায়, সাধারনত হাইকোর্ট অভিযোগ দায়ের করার জন্য প্রাথমিক আদালত নয়। তবে কিছু কিছু বিষয়ে হাইকোর্ট প্রাথমিক বা বিশেষ অধিক্ষেত্র হিসাবে কাজ করে। তেমনেই একটি অধিক্ষেত্র হল এই রীট।
উপরের আলোচনা থেকে কয়কটি বিষয় স্পষ্ট অনুচ্ছেদ ১০২ (২) (ক) (অ) (আ) এর অধীনে আবেদন করতে পেলে কোন ব্যক্তির নিজের সংক্ষুব্ধ বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে। কিন্তু অনুচ্ছেদ ১০২ (২) (খ) (অ) (আ) এর অধীনে যে কেউ সংক্ষুব্ধ হয়ে হাইকোর্ট- এর নিকট আবেদন করতে পারবেন।
এছাড়া আরও একটি বিষয় পরিস্কার করে বোঝা দরকার তা হলো- কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে রীট মামলা চলে না। প্রতিপক্ষ হতে হবে রাষ্ট্র কিংবা তার কোন অঙ্গে নিয়োজিত কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী।
আমাদের সংবিধান মুলত ব্রিটেন, ভারত ও মালয়েশিয়ার সংবিধানের আদলে রচনা করা হয়েছে। আমাদের দেশের পরিপেক্ষিতে এটি কতটা সঠিক বা কার্যকর সে প্রশ্ন ভিন্ন, কিন্তু এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত মৌলিক অধিকার সমুহের যথাযথ সংরক্ষন হচ্ছে কি না সেটিই দেখার বিষয়। সেহেতু ব্যক্তি বা ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানকে এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে, তাই কোন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান যদি আপনার মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন করে, তাহলে আপনি রীট মামলা দায়ের করতে পারবেন না। আপনাকে যেতে হবে, দেওয়ানী আদালত-এ, যার দীর্ঘ প্রক্রিয়া আমাদের কেবল নিরুৎসাহীই করে না, বিচার প্রক্রিয়ার অসাড়তাও নির্দেশ করে। ধরে নেয়া যাক- আপনি একটি প্রাইভেট মেডিকেল-এ ডাক্তার হিসাবে কর্মরত আছেন। আপনি পাঁচ (৫) বছর যাবৎ সুনামের সহিত কাজ করার পর,ম্যানেজমেন্ট যদি কোন কারনে আপনার উপর ক্ষিপ্ত হন, তাহলে কোন প্রকার কারন প্রদর্শন ছাড়াই আপনাকে চাকুরী হতে বরখাস্ত করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে আপনার মনে হতেই পারে, এটি যদি সরকারী মেডিকেল হয়, তাহলে কি হবে? সহজ উত্তর আপনি রীট মামলা করার সুযোগ পাবেন, যার ফলাফল মোটামোটি ভাবে দ্রুত। সাম্যের নামে এই অসাম্যই কেন? তার উত্তর আমার জানা নাই।
উপরে আলোচনাটি মুলত সংবিধানের আলোকে রীট মামলা দায়ের করতে পারার বিধান বিষয়ে সীমাবদ্ধ। এতে যৌক্তিক বিশ্লেষন তেমন একটা নেই। রীট মামলা দায়ের করতে পারার বিধান আর এর মাধ্যমে সত্যিকারের প্রতিকার পাওয়া এক বিষয় নয়। বর্তমানে সাধারনের স্বার্থে এর ব্যবহার হওয়ার পাশাপাশি এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপব্যবহারও করা হচ্ছে। উদাহরন স্বরুপ ধরা যাক- সুন্দরবনের রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে অক্টোবর মাসে দায়সারা ভাবে একটি রীট মামলা দায়ের করা হয়। আপাত দৃষ্টিতে এই রীট মামলা দায়ের করার পেছনে বৃহৎ জনগনের স্বার্থ মনে করা হলেও দেখা যায়, মামলাটি করার পূর্বে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও তার প্রভাব সম্পর্কে কোন প্রকার গবেষণা করা হয়নি। ফলে আশানুরুপ ফল পাওয়া যায় নাই, শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়ে এর ভবিষ্যৎ। এতে যারা এবিষয়ে প্রতিবাদ করে আসছিলেন তাদের পক্ষ থেকে মামলা করার সুযোগটি নষ্ট হয়ে গেল, কেননা একই বিষয়ে দুটি মামলা চলতে পারে না (যদি ভিন্ন কোন প্রতিকার চাওয়া না হয়)।
আমরা দেখি, রাষ্ট্র পরিচালনায় ক্ষমতাসীন সরকারগুলো জনগনের ইচ্ছার প্রতিফলন না ঘটিয়ে রাজনৈতিক বিচারে প্রজাতন্ত্রের কার্যাদি নির্বাহ করার কারনে, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় প্রচলিত আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে। বিগত পাঁচ (৫) বছরে বা তার আগের পাঁচ (৫) বছরে কি পরিমান সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও.এস.ডি বা কাজবিহীন অবস্থায় পাঁচ (৫)টি বছরে জনগনের টাকা শ্রদ্ধ করেছেন তা থেকে কিছুটা ধারনা পাওয়া যায়। নির্বাচন আসন্ন বা পরবর্তী সরকার আসার পর এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে ধারনা করা যায়। এছাড়া রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন অঙ্গগুলো তাদের কার্য নির্বাহ করার সময় অনেক ক্ষেত্রে এমন সব সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন যা সংবিধানের মৌলিক অধিকার পরিপন্থী। যেখানে রাষ্ট্রের দায়িত্বই হচ্ছে প্রজাতন্ত্রের নাগরিকদের সুবিধা-অসুবিধার দেখভাল করা সেখানে রাষ্ট্র নিপীড়কের ভুমিকা নেয়ার ফলে আদালত-এর কাছে সব সমস্যার সমাধান খুজতে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কোন গতান্তর থাকে না। সে কারনে বর্তমানে মামলার সংখ্যা যেখানে পৌঁছেছে তার চুড়ান্ত নিস্পত্তি হতে সময় লাগবে অন্তত আগামী দশ (১০)টি বছর। তাহলে মামলা করে লাভ কি হয়? এই ভাবনাটি মামলা দায়ের করার পূর্বের ধারনা। এরসাথে মামলা দায়ের, পরিচালনা ও অপরাপর প্রক্রিয়া যুক্ত আছে। আপনি কি চান বা কি পেতে পারেন তার ধারনার উপরই এসব প্রশ্নের উপর নির্ভরশীল। এনিয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন। প্রথমত জানা দরকার, রীট মামলা দায়ের করার পর প্রথম শুনানীর দিন কি আদেশ-নির্দেশ পাওয়া যায় এবং সেটির আলাদা কোন গুরুত্ব আছে কি না? রীট মামলার ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, রীট মামলা করার পেছনে কারন থাকে প্রাথমিক শুনানীর দিনই যেন অপর পক্ষের কোন কাজের বিরুদ্ধে রুল জারির পাশাপাশি অর্ন্তবর্তীকালীন স্থগিতাদেশ পাওয়া যায়। "রুল" হল "কারন দর্শানো নোটিশের আদালতি ভাষা"। ধরুন আপনি শুধুমাত্র রুল পেলেন প্রাথমিক শুনানীর দিন। তাহলে ধরে নিতে হবে আপনার মামলাটি মুলত ঝুলে গেল। এই মামলা সকল নোটিশ জারি করার পর চুড়ান্ত শুশানীর জন্য তৈরী হতে সময় লাগবে এবং যে পরিমান মামলা বিভিন্ন কোর্টে তালিকায় চুড়ান্ত শুনানীর জন্য অপেক্ষমান আছে, তাতে কোন কোর্ট নতুন মামলা নিতে আগ্রহী হবেন কি না সন্দেহ। দীর্ঘ সময় ধরে মামলা চুড়ান্ত শুনানী না হওয়ার কারনে অনেক সময় মামলা করার মুল উদ্দেশ্য হারিয়ে যায়। যেমন ধরুন- আপনি কোন এক সরকারী বিভাগে কর্মরত আছেন। নিয়ম অনুযায়ী আপনার পদোন্নতি হবার কথা অথচ আপনাকে পদোন্নতি না দিয়ে আপনার পরের অবস্থানে থাকা ব্যক্তিকে পদোন্নতি দিয়ে দিল। আপনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রীট মামলা দায়ের করলেন, আপনি সেই নিয়োগের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ পেলেন না, কেবল "রুল" পেলেন। মামলাটি ঝুলে রইল। ছয় (৬) মাস অতিবাহিত হওয়ার পর ডিপার্টমেন্ট আপনাকেও পদোন্নতি দিল। এক্ষেত্রে ধরে নেয়া যায় এবং আইন আছে যে, একই বছরের মধ্যে যেহেতু পদোন্নতি হয়েছে সেহেতু আপনার সিনিয়রিটি বজায়। থাকবে। তাহলে আপনার রীট মামলা করার আর কোন প্রয়োজনীয়তা থাকে না। এক্ষেত্রে আদালতে আবেদনকারীর এবং রাষ্ট্রের যে ব্যয় তা পুরোটাই নেতিবাচক ব্যয়। তবে রীট মামলার মাধ্যমে কার্যকর সমাধান পাওয়ার তালিকাও কম দীর্ঘ নয়।
মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করতে হয়-
"মাজদার হোসেন" বনাম "বাংলাদেশ" মামলা, ১৯৯৯
মাজদার হোসেন সহ ৪৪১ জুডিশিয়াল অফিসার ১৯৯৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগে একটি রীট আবেদন করেন। আবেদনের অন্যান্য দাবিসমুহের মধ্যে বিচার বিভাগের পৃথকীকরনের দাবি ছিল। সরকার পক্ষ এ মামলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি। এক তরফা শুনানী করে হাইকোর্ট বিভাগ ১৯৯৭ সালে রায় দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে সরকার আপিল করে। আপিল বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের আংশিক পরিবর্তন করে ১৯৯৯ সালে রায় ঘোষনা করেন। এ রায়ে সরকারের নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরনের জন্য ১২টি নির্দেশাবলী দিয়েছেন।
বিচার বিভাগের পৃথকীকরনের দাবি ব্রিটিশ আমল থেকে হয়ে আসছে কিন্তু বিভিন্ন সময়ে এর উদ্যােগ নেয়া হলেও প্রকৃতপক্ষে ফলপ্রসূ কিছুই হয়নি। সুপ্রীম কোর্ট তা গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি বিবেচনা করেন এবং এজন্য কি কি করনীয় তা বর্ননা দিয়ে সরকারকে তা বাস্তবায়নেরর নির্দেশ দেন। আওয়ামীলীগ সরকার, বিএনপির নেতৃত্বে জোট সরকার, লতিফুর রহমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকার কেউ এগুলো বাস্তবায়ন করেনি। শেষে সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার জন্য ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যােগ নিলে তড়িঘড়ি করে ফখরুদ্দীনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ১৮৯৮ সালের ফৌজদারী কার্যবিধি সংশোধন পূর্বক নিম্ন আদালতগুলোকে নির্বাহী বিভাগ হতে নভেম্বর, ২০০৭ বিচার বিভাগ পৃথক করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকলেও তাঁরা এখন আর বিচারিক কার্যাবলী সম্পাদন করেন না। তাছাড়াও সাম্প্রতিক কালে এমন অসংখ্য মামলার নজীর আছে, যার মাধ্যমে দেশে অনেক সমস্যার যুগান্তকারী সমাধান পাওয়া গেছে। সেসব নিয়ে বিস্তারিত অনেক লেখার বিষয় আছে যা পরবর্তীর জন্য রইল।
ছোট্র করে একটু বলে নেয়া দরকার, আদালতের কোন অর্ন্তবর্তীকালীন আদেশ যদি কেউ ভঙ্গ করেন তাহলে কি হবে? এর পরিপেক্ষিতে আদালত অবমাননার জন্য নতুন করে একটি মামলা হয় আদেশ/নির্দেশ ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে, তাতে আদালত মামলার বিষয়বস্তুর আলোকে প্রয়োজনীয় শাস্তিমুলক আদেশ দিতে পারেন। এসব মামলার ক্ষেত্রে প্রচলিত সমাধান হচ্ছে ভুল স্বীকার সহ শর্তহীন ক্ষমা চাওয়া, অভিযোগের কোন একটি বিষয়ে যদি আপনি আপত্তি করেন তবে সেই মামলা উভয়পক্ষের শুনানীর মাধ্যমে নিস্পত্তি হয়। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই প্রথমোক্ত সমাধানই বেছে নিতে দেখা যায়।
রীট বিষয়টি অনেক বিস্তৃত একটি আইনী বিধান। এত স্বল্প পরিসরে এর পূর্ন আলোচনা সম্ভব নয়। কিন্তু সাধারন পাঠক কিছুটা ধারনা অন্তত এই লেখার মাধ্যমে পেলে হয়তো রীট বা প্রচলিত আইন ও তার প্রয়োগ সম্পর্কে বিস্তারিত লেখার আগ্রহ সৃষ্টি করবে আমার, ধন্যবাদ।।
[সংকলিত এই লিখনীর ভুল শুদ্ধিয়ে দেয়া জ্ঞানীর কর্তব্য]

29/05/2020

★★★ রীট (writ) কি? রীট মামলার প্রকারভেদ ও রীট মামলার উদাহরণ সহ সংক্ষিপ্ত আলোচনা কর।

#রীট #মামলা #রানী #ইংল্যান্ড #হাইকোর্ট #বিচার #রুল #জারী #বিভাগ #এখতিয়ার #মৌলিক #অধিকার #ক্ষুন্ন #বীমা #স্কীম #মৃত্যুকালীন #সুবিধা #আদালত #শ্রমিক #কর্মচারী #কর্মকর্তা #সংবিধান #চ্যান্সারী #হস্তক্ষেপ #ধারা #বিধান #আইন #ইত্যাদি

★★★ সংবিধানের ১০২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কারো মৌলিক অধিকার লঙ্গিত হলে হাইকোর্ট তা বলবৎ করতে পারে এবং বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনাকে কার্যকর করতে পারে, যা হাইকোর্ট বিভাগের রীট এখতিয়ার নামে পরিচিত।

রীট (writ) শব্দের অর্থ হল আদালত বা যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ঘোষিত বিধান বা আদেশ।
রীটের উৎপত্তি ও বিকাশ ইংল্যান্ডে। প্রথমে রীট ছিল রাজকীয় বিশেষাধিকার (Royal Prerogative)। রাজা বা রানী বিচারের নির্ধারক (Fountain of Justice) হিসেবে রীট জারি করতে পারত। একমাত্র রাজা বা রানীর রীট জারি করার অধিকার ছিল বলে একে প্রথমে বিশেষাধিকার রীট বলা হতো। রাজা বা রানী তাদের কর্মচারী বা কর্মকর্তাদের কার্যাবলী পালনে বাধ্য করার জন্য বা কোন অবৈধ কার্য হতে বিরত রাখার জন্য রীট জারি করতেন। পরবর্তীকালে রাজা বা রানীর এই বিশেষাধিকার নাগরিকদের অধিকারে চলে আসে। নাগরিকগন সরকারী কর্মকর্তাদের আচরন ও কাজে ক্ষুদ্ধ হয়ে রাজা বা রানীর কাছে আসতো এবং রাজা বা রানী তাদের বিশেষাধিকার বলে রীট জারি করত। পরবর্তীকালে রাজা বা রানীর প্রতিনিধি হিসেবে ইংল্যান্ডে দু-ধরনের আদালত গঠিত হয়, যেমন- চ্যান্সারী আদালত (Court of Chancery) এবং কিংস বেঞ্চ (Kings Bench) এসব আদালত নাগরিকদের আবেদনের পেক্ষিতে রীট জারি করতো।
বাংলাদেশ সংবিধান হাইকোর্ট বিভাগকে শুধুমাত্র একটি ক্ষেত্রে আদি এখতিয়ার দিয়েছে। সেটি হলো রীট জারির এখতিয়ার। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ কারো মৌলিক অধিকার লঙ্গিত হলে তা বলবৎ করতে পারে এবং বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনাকে কার্যকর করতে পারে। হাইকোর্ট বিভাগের এই এখতিয়ারকে রীট জারির এখতিয়ার বলে। অর্থ্যাৎ রীট শুধুমাত্র হাইকোর্ট বিভাগ জারি করতে পারে। কারো মৌলিক অধিকার লঙ্গিত হলে সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদের অধিকার বলে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য রীট পিটিশন দায়ের করতে পারে এবং হাইকোর্ট বিভাগ ১০২ অনুচ্ছেদ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য কতিপয় আদেশ- নির্দেশ জারি করতে পারে, তাকে রীট বলে।।
রীট পাঁচ (৫) প্রকার-
(১) বন্দী প্রর্দশন রীট;
(২) পরমাদেশ বা হুকুমজারী রীট;
(৩) নিষেধাজ্ঞামূলক রীট;
(৪) উৎপ্রেষন রীট ও
(৫) কারন দর্শাও রীট।।
আমাদের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বর্নিত মৌলিক অধিকার সমূহ বলবৎ করার জন্য ৪৪ অনুচ্ছেদের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পাঁচ (৫) টি ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে পারেন। তারমানে, সংবিধানের তৃতীয় ভাগে কতিপয় মৌলিক অধিকারের সংরক্ষণ বা স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে, যা নাগরিক হিসেবে আমি- আপনি- সবাই সমানভাবে ভোগ করার অধিকার রাখি। কি আছে সেসব মৌলিক অধিকারের তালিকায়? মৌলিক অধিকারগুলো জেনে নেয়া যাক-
(বি.দ্র.পরবর্তী পোস্টে চলমান থাকবে)

29/05/2020

ভরণ-পোষণ কি? পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন- ২০১৩ এর ধারা সমূহ আলোচনা কর।

#পিতা #মাতা #দ্বায়ভার #আইন #বিচার #জরিমানা #ধারা #আসামী #অভিযোগ #আদালত #জুডিসিয়াল #ম্যাজিস্ট্রেট #আপোষ #মিমাংসা #জামিন #সন্তান #নাবালক #বীমা #স্কীম #প্রঙ্গাপন #মৃত্যুকালীন

ভরণ-পোষণঃ-
ভরণ-পোষণের আভিধানিক অর্থ প্রতিপালন করা অর্থাৎ মানুষের জীবন ধারনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল মৌলিক চাহিদা পূরণ করা। ইন্ডিয়ান সুপ্রীম কোর্টের অশ্বিনী কুমার সিনহা মামলার রায়ে ভরণ-পোষণ বলতে- খাদ্য, বস্ত্র, আবাস, চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য খরচকে বুঝানো হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষা খরচ, শারীরিক ও মানসিক পূষ্টির জন্য যাবতীয় যা কিছু দরকার সবকিছুই এই সংঙ্গার অন্তর্ভুক্ত এই ভরণ-পোষণের জন্য সন্তান নির্ভর করে পিতা-মাতার উপর, স্ত্রী (সাধারণত) তার স্বামীর উপর, বয়স্ক পিতা-মাতা তাদের স্বাবলম্বী সন্তানের উপর। কিন্তু সবাই যে আন্তরিকভাবে তার দায়িত্ব পালন করে তা নয়। সেক্ষেত্রে কেউ যদি তার দায়িত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবুও আইনের মাধ্যমে সে বাধ্য তার উপর নির্ভরশীল মানুষদের ভরণ-পোষণ দিতে।

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন- ২০২৩ (২৭ অক্টোবর ২০১৩ সনে ৪৯ নং আইন)---
সন্তান কর্তৃক পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিতকরনের লক্ষ্যে প্রণীত আইন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্বারা নিম্নরুপ আইন করা হয়েছে, এই আইনের ধারা সমূহ নিম্নরুপঃ-

১) সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন;
২) সংঙ্গা;
৩) পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ;
৪) পিতা-মাতার অবর্তমানে দাদা-দাদী, নানা-নানীর ভরণ-পোষণ;
৫) পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না করিবার দন্ড;
৬) অপরাধের আমলযোগ্যতা, জামিনযোগ্যতা ও আপোষযোগ্যতা;
৭) অপরাধ বিচারার্থ গ্রহন ও বিচার;
৮) আপোষ-নিষ্পত্তি;
৯) বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা।

ধারা-১ সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তনঃ-
(১) এই আইন পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন- ২০১৩ নামে অভিহিত হইবে;
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

ধারা-২ সংঙ্গাঃ-
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোনকিছু না থাকিলে এই আইনে-
(১) 'পিতা' অর্থ এমন ব্যক্তি যিনি সন্তানের জনক;
(২) 'ভরণ-পোষণ' অর্থ খাওয়া-দাওয়া, বস্ত্র, চিকিৎসা ও বসবাসের সুবিধা এবং সঙ্গ প্রদান;
(৩) 'মাতা' অর্থ এমন ব্যক্তি যিনি সন্তানের গর্ভধারিণী;
(৪) 'সন্তান' অর্থ পিতার ঔরস্য এবং মাতার গর্ভে জন্ম নেওয়া সক্ষম ও সামর্থ্যবান পুত্র বা কন্যা;

ধারা-৩ পিতা-মাতার ভরণ-পোষণঃ-
(১) প্রত্যেক সন্তানকে তাহার পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করিতে হইবে;
(২) কোন পিতা-মাতার একাধিক সন্তান থাকিলে সেইক্ষেত্রে সন্তানগণ নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করিয়া তাহাদের পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করিবে;
(৩) এই ধারার অধীন পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করিবার ক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার একইসঙ্গে একইস্থানে বসবাস নিশ্চিত করিতে হইবে;
(৪) কোন সন্তান তাহার পিতা-মাতাকে বা উভয়কে তাহার, বা ক্ষেত্রমত, তাহাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন বৃদ্ধ নিবাস কিংবা অন্য কোথাও একত্রে কিংবা আলাদা আলাদা ভাবে বসবাস করিতে বাধ্য করিবে না;
(৫) প্রত্যেক সন্তান তাহার পিতার এবং মাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ খবর রাখিবে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা ও পরিচর্যা করিবে;
(৬) পিতা-মাতা কিংবা উভয়, সন্তান হইতে পৃথকভাবে বসবাস করিলে, সেইক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তানকে নিয়মিতভাবে তাহার, বা ক্ষেত্রমত, তাহাদের সহিত সাক্ষাৎ করিতে হইবে;
(৭) কোন পিতা-মাতা কিংবা উভয়ে, সন্তানদের সহিত বসবাস না করিয়া পৃথকভাবে বসবাস করিলে, সেইক্ষেত্রে উক্ত পিতা-মাতার প্রত্যেক সন্তান তাহার দৈনন্দিন আয়-রোজগার,বা ক্ষেত্রমত, মাসিক আয় বা বাৎসরিক আয় হইতে যুক্তিসঙ্গত পরিমান অর্থ পিতা বা মাতা, বা ক্ষেত্রমত, উভয়কে নিয়মিত প্রদান করিবে।

ধারা-৪ পিতা-মাতার অবর্তমানে দাদা-দাদী, নানা-নানীর ভরণ-পোষণঃ-
প্রত্যেক সন্তান তাহার-
(১) পিতার অবর্তমানে দাদা-দাদীকে; এবং
(২) মাতার অবর্তমানে নানা-নানীকে
ধারা- ৩ এবর্ণিত ভরণ-পোষণ প্রদানে বাধ্য থাকিবে এবং এই ভরণ-পোষণ পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ হিসেবে গন্য হইবে।

ধারা-৫ পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না করিবার দন্ডঃ-
(১) কোন সন্তান কর্তৃক ধারা- ৩ এর যে কোন উপ-ধারার বিধান কিংবা ধারা- ৪ এর বিধান লংঘন অপরাধ বলিয়া গন্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য অনুধর্ব ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত হইবে; বা উক্ত অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে অনুধর্ব ৩ (তিন) কারাদন্ডে দন্ডিত হইবে।
(২) কোন সন্তানের স্ত্রী, বা ক্ষেত্রমত, কিংবা পুত্র-কন্যা বা অন্য কোন নিকট আত্মীয় ব্যক্তি-
(ক) পিতা-মাতার বা দাদা-দাদীর বা নানা-নানীর ভরণ-পোষণ প্রদানে বাধা প্রদান করিলে; বা
(খ) পিতা-মাতার বা দাদা-দাদীর বা নানা-নানীর ভরণ-পোষণ প্রদানে অসহযোগিতা করিলে-
তিনি উক্তরুপ অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করিয়াছে গন্যে উপ-ধারা (১) দন্ডে দন্ডিত হইবে।

ধারা-৬ অপরাধের আমলযোগ্য, জামিনযোগ্য ও আপোষযোগ্যঃ-
এই আইনের অধীন অপরাধ আমলযোগ্য (cognizable); জামিনযোগ্য (bailable); ও আপোষযোগ্য (compoundable).

ধারা-৭ অপরাধ বিচারার্থ গ্রহন ও বিচারঃ-
(১) (code of criminal procedure, 1898 [Actv of 1898]) এ যাহা থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ ১ম শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত বিচার যোগ্য হইবে।
(২) কোন আদালত এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ সংশ্লিষ্ট সন্তানের পিতা বা মাতার লিখিত অভিযোগ ব্যতিত আমলে গ্রহণ করিবে না।

ধারা-৮ আপোষ-নিষ্পত্তিঃ-
(১) আদালত এই আইনের অধীন প্রাপ্ত অভিযোগ আপোষ-নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা মেম্বার, কিংবা ক্ষেত্রমত, সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার মেয়র বা কাউন্সিলর কিংবা অন্য যেকোন উপযুক্ত ব্যক্তির নিকট প্রেরন করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন অভিযোগ আপোষ-নিষ্পত্তির জন্য প্রেরিত হইলে, সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান, মেয়র বা কাউন্সিলর উভয় পক্ষকে শুনানীর সুযোগ প্রদান করিয়া, উহা নিষ্পত্তি করিবে এবং এইরুপে নিষ্পত্তিকৃত অভিযোগ উপযুক্ত আদালত কর্তৃক নিষ্পত্তিকৃত বলিয়া গন্য হইবে।

ধারা- ৯ বিধি প্রণয়নের ক্ষমতাঃ- সরকার, সরকারী গেজেট প্রঙ্গাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

Want your school to be the top-listed School/college in Rangpur?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Website

Address


Rangpur
5500