01/06/2026
নাস্তিক বা সংশয়বাদীরা প্রায়ই প্রশ্ন করেন—আল্লাহ যদি দয়াময়ই হন, তাহলে শয়তানকে কেন সৃষ্টি করলেন? কেন দিলেন তাকে কিয়ামত পর্যন্ত সময়?
বাহ্যিকভাবে এটি একটি জটিল প্রশ্ন মনে হলেও, এর পেছনে আছে আল্লাহর গভীর হিকমাহ ও পরীক্ষার ব্যবস্থা।
পবিত্র কুরআনের সূরা আল-আরাফে এসেছে—যখন ইবলিসকে আদম (আ.)-কে সিজদা করতে বলা হলো, সে অহংকারবশত অস্বীকার করল। সে বলল—
আমি তার চেয়ে উত্তম, আপনি আমাকে আগুন দিয়ে সৃষ্টি করেছেন আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি দিয়ে। (সূরা আল-আরাফ: ১২)
এরপর ইবলিস আল্লাহর কাছে সময় চাইল মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য, আর আল্লাহ তাকে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অবকাশ দিলেন।কেন?
কারণ, আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন বিবেক, ইচ্ছাশক্তি ও বেছে নেওয়ার ক্ষমতা দিয়ে। ফেরেশতারা অবাধ্য হয় না, কিন্তু মানুষ সত্য ও মিথ্যার মাঝে সিদ্ধান্ত নেয়। এই পরীক্ষার অংশ হিসেবেই শয়তান মানুষের সামনে প্রলোভন তুলে ধরে।
একটু ভাবুন—অন্ধকার না থাকলে কি আলোর মূল্য বোঝা যেত? দুঃখ না থাকলে কি সুখের স্বাদ অনুভব করা যেত? তেমনি, পাপের আহ্বান না থাকলে নেক আমল, ধৈর্য, তাকওয়া ও আত্মসংযমের মূল্যও প্রকাশ পেত না।
আল্লাহ বলেন—যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন, যাতে তিনি পরীক্ষা করেন—কে তোমাদের মধ্যে আমলে উত্তম। (সূরা আল-মুলক: ২)
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—শয়তান কাউকে জোর করে গুনাহ করাতে পারে না।
কুরআনে এসেছে, কিয়ামতের দিন শয়তান নিজেই বলবে—আমার তো তোমাদের ওপর কোনো ক্ষমতা ছিল না। আমি শুধু আহ্বান করেছি, আর তোমরা সাড়া দিয়েছ।(সূরা ইবরাহিম: ২২)
আর মানুষ ভুল করলেও তার জন্য তওবার দরজা খোলা। সহিহ মুসলিমের হাদিসে এসেছে—বান্দার তওবায় আল্লাহ অত্যন্ত আনন্দিত হন।
তাই, শয়তান কোনো ভুল সৃষ্টি নয়, বরং মানুষের ঈমান, ধৈর্য ও আনুগত্যের এক বড় পরীক্ষা। সে আপনার সামনে হাজারো পথ খুলে দেবে, কিন্তু আপনার লক্ষ্য হতে হবে সেই এক সোজা পথ—সিরাতুল মুস্তাকিম।
এখন প্রশ্ন হলো—শয়তান কি সত্যিই আমাদের জোর করে গুনাহ করায়, নাকি আমরা নিজেরাই তার ডাকে সাড়া দিই? আপনার মতামত কমেন্টে জানাতে পারেন।
#সত্যের_পথ
#সিরাতুল_মুস্তাকিম
#তওবা