01/10/2024
#আসসালামু_আলাইকুম
📖একাডেমিক আলোচনা
#অনার্স_২ম_বর্ষ(শিক্ষাবর্ষঃ২০২১-২২)
#বিষয়ঃ_প্রাণিবিদ্যা-২ঃ কর্ডাটা
#অধ্যায়-১২ : শ্রেণি : Aves
আজকের পাঠে আমরা জানবো প্রতীক প্রাণী Columba livia (কবুতর) সম্পর্কে -
যেসব পাখির ডানা উন্নত ও উন্নত ধরনের বায়ুথলি বিদ্যমান, অস্থিগুলো নিউমাটিক এবং সহজে আকাশে উড়তে পারে তাদেরকে উড্ডয়নক্ষম পাখি (flying bird) বলা হয়।
এদের খাদ্যাভ্যাস, স্বভাব, বাসস্থান ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়।
প্রতীক প্রাণী: Columba livia (কবুতর)।
মূলত পায়রা বা কবুতর নাম (Columba livia) বেশি পরিচিত। ইংরেজিতে একে pigeon বলা হয়। কবুতরকে প্রায় সর্বত্র দেখা যায়। অর্থাৎ এরা বিশ্বব্যাপী বিস্তার লাভ করেছে। এরা ক্ষতিকর নয়। সুবিধামতো আকারের ও সর্বত্র সহজে পাওয়া যায়। তাই এদের প্রাণিবিদ্যা পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
শ্রেণিবিন্যাস (Classification) :
Phylum-Chordata
Subphylam-Vertebrata
Class-Aves
Sub-Class-Neornithes
Super Order-Neagnathae
Order-Columbiformes
Sub-Order-Columbae
Family-Columbidae
Cenus-Columba
Species- C. livia var. domestica
স্বভাব ও বাসস্থান (Habit and habitat): কবুতর (Columba livia var domistica) মূলত একটি গৃহপালিত পাখি। এদের সর্বত্র দেখা যায়। কবুতরকে মানুষ কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পরিবর্তিত করে নানা জাতের গৃহপালিত ভ্যারাইটি উৎপন্ন করেছে। এদেশে প্রায় ৪০ রকমের গৃহপালিত কবুতর দেখা যায়। বন্যনীলা পাহাড়ি কবুতর বা জালালী কবুতর মূলত গৃহপালিত কবুতরের পূর্বপুরুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বন্য কবুতর পাথরের ফাটল, গর্তের কিনারে, কেল্লাতে, ভাঙা ও পুরাতন দালান কোঠা, ভাঙা মন্দির ইত্যাদি জায়গায় বাস করে, এছাড়া এদের মানুষের বাসায় ঝুলিয়ে দেয়া কৃত্রিম বাসায় বাস করতে দেখা যায়। এদেরকে বিভিন্ন শহরে অনেক সংখ্যক দেখা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দালানে এদের বাস করতে দেখা যায়। কবুতর স্বভাবে নিরীহ প্রাণী। তারা সকালে খাদ্যের খোঁজে বের হয় ও সন্ধায় নীড়ে ফেরে। এরা অনাক্রমণকারী ও অক্ষতিকর প্রাণী এবং দেখতে সুন্দর ও আকর্ষণীয়, তাই একে শান্তির প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। এরা ঝাক বেঁধে ওড়ে ও রাতের বেলা সমবেতভাবে অবস্থান করে। এরা পোষ মানে পোষা কবুতরকে ডিগবাজি খেয়ে আকাশে উড়তে দেখা যায়। পোষা কবুতর অপরিচিত জায়গায় ছেড়ে দিলেও এরা নিজ গৃহস্থের বাড়িতে পৌছে যায়।
প্রাকৃতিক ইতিহাস (Natural history): কবুতর এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকায় ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে। প্যালেস্টাইনে যথেষ্ট কুবতর দেখা যায়। হিমালয় পর্বতের ১৩০০ ফুট উপরের শৈল ধাপে Columba livia neglecta উপপ্রজাতি দেখা যায়। বাংলাদেশে ছোট ও অধিক গাঢ় বর্ণের প্রজাতি Columba livia intermedia দেখা যায়। এ প্রজাতিটি ভারতেও ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করে।
কবুতরের প্রকারভেদ (Types of pigeon): পৃথিবীতে প্রায় ৫০০ এর অধিক প্রজাতির কবুতর বিদ্যমান। এদের মধ্যে বন্য ও গৃহপালিত দু'ধরনের কবুতর রয়েছে। সাধারণত বন্য কবুতরকে পাথুরে ঘুঘু বলা হয়। এরা অর্ধগৃহপালিত কবুতর নামেও পরিচিত। এছাড়া সম্পূর্ণভাবে গৃহপালিত কবুতরের মধ্যে লোটন, সিরাজি, গিরাবাজ, পোটার, মুখি, লাক্কা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। কৃত্রিম পদ্ধতিতে এগুলো বন্য কবুতর থেকে উৎপন্ন করা হয়েছে।
খাদ্য ও খাদ্যাভ্যাস (Food and feeding habit): কবুতর মূলত উদ্ভিদভোজী প্রাণী। তবে কখনো কখনো এরা পোকা মাকড় ও শামুক খায়। এরা সাধারণত সকালে ঝাঁক বেধে খাদ্য গ্রহণের জন্য মাঠে যায় ও খাদ্য গ্রহণ করে।
শব্দ (Sound): কবুতর গান গাইতে পারে না। এরা সাধারণত কু শব্দ উৎপাদন করে তবে কখনও বাঁশির হুইসেলের মতো গুটরগুণ-গুটরগুণ বা বাকবাকুম ইত্যাদি শব্দ তৈরি করতে দেখা যায়।
চলন (Locomotion): কবুতরের দীর্ঘ ডানা বেশ শক্তিশালী; এদের ডানার পালকগুলো উড়বার জন্য অভিযোজিত। এদের পশ্চাৎ পা জোড়া বেশ খাটো। খাদ্যের সন্ধানে এরা মাটিতে হেঁটে বেড়ায়। কোনো ধরনের শব্দ শুনলে বা ভয় পেলে এরা মাটিতে ডানার আঘাত করে উড়ে যায়। পোষা কবুতর প্রায় ৫৮-৬০ মাইল বেগে উড়তে পারে। মূলত পেক্টোরালিস মেজর ও পেক্টোরালিস মাইনর পেশি কবুতরকে উড়তে সাহায্য করে।
প্রজনন (Reproduction): কবুতরের সারা বছর প্রজনন হয়। পুরুষ ও স্ত্রী কবুতর জোড়া বেঁধে বসবাস করে। এরা পরস্পর অত্যন্ত প্রিয় এবং সর্বদা একসাথে থাকে। সঙ্গমের পূর্বে এদের পূর্বরাগ দেখা যায়। যৌন মিলনকালে পুরুষ কবুতর স্ত্রী কবুতরের পিঠে চড়ে। এদের কোনো সঙ্গম অঙ্গ নেই। এরা সঙ্গমকালে তাদের অবসারণী পরস্পরকে স্পর্শ করে। এর ফলে শুক্রাণু স্ত্রী পাখির ইউরোডিয়ামে দ্রুত ও সরাসরি প্রবেশ করে। অতপর শুক্রাণু দ্বারা ডিম নিষিক্ত হয়। এদের প্রজনন দ্রুত হয়। বাচ্চা উড়তে শেখার সাথে সাথে স্ত্রী কবুতর আবার ডিম পাড়ে।
বাসা (Nest): কবুতর বাসা বানানোর জন্য খুব বেশি মনোযোগ দেয় না। খালি পাথর বা অনুরূপ স্থানে ডিম পাড়ে। অনেক লৌন্দর্যহীন ছোট কাঠি, শেকড়, ইত্যাদি দিয়ে সাদামাটা ধরনের বাসা নির্মাণ করে। সূর্যের আলো ও বৃষ্টির পানি পড়ে না এমন স্থানে কবুতর বাসা বানায়। এদেরকে গাছের ডালে বাসা বানাতে দেখা যায় না।
ডিমে তা দেয়া (Incubation): একটি স্ত্রী কবুতর সাধারণত ২টি ডিম পাড়ে। এদের ডিম প্রায় ২.৫ সে.মি. লম্বা ও ২ সে.মি. প্রশস্ত হয়ে থাকে। পুরুষ ও স্ত্রী কবুতর নিয়মিত পালাক্রমে ডিমে তা দেয়। এরা মূলত এদের দেহের তাপ দিয়ে ডিমে তা দেয়। ১৫ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়।
অপত্য লালন (Parental care): ডিম থেকে অসহায়, অন্ধ ও পালকবিহীন নবজাতক বেরিয়ে আসে। পূর্ণাঙ্গ হওয়া পর্যন্ত পিতা ও মাতা এদের লালন-পালন করে। চর্বির মতো দৈ-এর ন্যায় এক ধরনের পদার্থ কবুতর তাদের ক্রপ (crop) থেকে ক্ষরণ করে। এই ক্ষরিত পদার্থ কবুতরের দুধ নামে পরিচিত। মূলত কবুতরের দুধ ত্রুপের প্রচীরের দুগ্ধ গ্রন্থি থেকে উৎপন্ন হয়। কবুতর নিয়মিত তাদের বাচ্চাকে দুগ্ধ খাওয়ায়। এদের বাচ্চা খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এসময় এদের ডানায় কন্ট্যুর পালক গজায়।
প্রাকৃতিক শত্রু (Natural enemies): এরা মাংসাশী প্রাণী দ্বারা আক্রান্ত হয়। বিড়াল, শিয়াল, খাটাস, কাক, পেঁচা, মাংস ভক্ষণের লোভে আক্রমণ করে। এছাড়া মানুষ মাংসের জন্য কবুতর শিকার করে। এছাড়া এদের ডিম মানুষ খায়। বিভিন্ন পরজীবী, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস দ্বারা কবুতর আক্রান্ত হয়।
বাসা চেনা (Homing Behaviour): কবুতরকে বাসে বা ট্রেনে নিয়ে বহু দূরে ছেড়ে দেয়া যায় তবুও এরা পূর্বের আবাসে নির্ভুলভাবে ফিরে আসতে পারে। এরা মাইগ্রেটরি পাখির মতো দিক নির্ণয় করতে সক্ষম। প্রাচীনকালে যুদ্ধক্ষেত্রে বা অন্য কোনো স্থানে চিঠি আদান প্রদানের জন্য কবুতর ব্যবহার হতো।
🖊️মোঃ মনিরুল ইসলাম মনির।
( প্রাণিবিদ্যা বিভাগ)
গাইবান্ধা সরকারি কলেজ, গাইবান্ধা ।
🖋️ভুল ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন