16/06/2026
*জীবনের শেষ ৫টি মিনিট বাকি...*
# # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # #
আমরা প্রতিদিন কতশত পরিকল্পনা করি—নতুন বাড়ি গাড়ি, ক্যারিয়ার, ব্যাংক ব্যালেন্স, আর দুনিয়ার হাজারো আয়োজন। কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, যখন আপনার জীবনের শেষ ৫টি মিনিট বাকি থাকবে, তখন আপনার মনের ভেতর ঠিক কী চলবে?
আজ বিজ্ঞান যা আবিষ্কার করছে, তা আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) আজ থেকে ১৪০০ বছর আগেই আমাদের জানিয়ে গেছেন। পুরো লেখাটি পড়ার পর আপনার নিজের জীবনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি চিরতরে বদলে যাবে।
চিকিৎসা বিজ্ঞান ও নিউরোলজির সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, যখন একজন মানুষের হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায় এবং ডাক্তাররা তাকে 'মৃত' ঘোষণা করেন, তখনও মানুষের মস্তিষ্ক বা ব্রেন সম্পূর্ণ সচল থাকে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মৃত্যুর ঠিক শেষ মুহূর্তগুলোতে ব্রেনের ভেতর 'হালুসিনেশন' বা এক অদ্ভুত স্মৃতির ঝড় ওঠে। মানুষ তখন তার পুরো জীবনের একটা ফ্ল্যাশব্যাক দেখতে পায়। ভালো-মন্দ, আনন্দ-বেদনা—জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত যেন একটা সিনেমার মতো চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ব্রেন তখন বুঝতে পারে যে সে চিরতরে স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে, আর এই চরম সত্যটি মেনে নেওয়ার সময় মানুষের অনুভূতির তীব্রতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
ইসলাম কী বলছে? বিজ্ঞান যেখানে আজ এসে পৌঁছাল, ইসলাম আমাদের তা বহু আগেই শিখিয়েছে। মৃত্যুর শেষ ৫মিনিট আসলে দুনিয়া এবং আখেরাতের মাঝখানের এক অদৃশ্য দেয়াল বা 'বারযাখ'-এর সূচনা। এই সময়ে মানুষের চোখের ওপর থেকে দুনিয়ার সমস্ত পর্দা সরিয়ে দেওয়া হয়।
আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন:
"তুমি তো এই দিনটি সম্পর্কে উদাসীন ছিলে, এখন তোমার সামনে থেকে পর্দা সরিয়ে দিয়েছি, ফলে আজ তোমার দৃষ্টি অত্যন্ত তীক্ষ্ণ।"
(সূরা কাফ, আয়াত: ২২)
এই শেষ ৫ মিনিটে একজন মানুষের মাথায় প্রধানত ৩টি বড় চিন্তা বা অনুশোচনা আসে:
১. "হায়! আমি যদি আর একটা মাত্র সাজদা করতে পারতাম!"
মানুষ যখন দেখতে পায় তার হাত-পা আর নড়ছে না, জিহ্বা অবশ হয়ে আসছে, তখন সে চরমভাবে উপলব্ধি করে যে দুনিয়ার যে সম্পদের পেছনে সে ছুটেছিল, তা আজ কোনো কাজে আসছে না। নেক আমল ছাড়া আজ সে সম্পূর্ণ নিঃস্ব।
২. ফেরেশতাদের আগমন ও নিজের ঠিকানা দেখা:
হাদিস শরীফে এসেছে, মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তে মানুষের সামনে মালাকুল মউত (আজরাইল আলাইহিস সালাম) এবং তাঁর সাথে অন্যান্য ফেরেশতারা হাজির হন। হযরত বারা ইবনে আজেব (রা.) থেকে বর্ণিত দীর্ঘ হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "কোনো মুমিন বান্দা যখন দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে আখেরাতের দিকে রওনা হয়, তখন আকাশ থেকে উজ্জ্বল ও শ্বেতশুভ্র চেহারার ফেরেশতারা জান্নাতি কাফন ও সুগন্ধি নিয়ে আসেন এবং তার চোখের সীমানা পর্যন্ত বসে যান। অতঃপর মালাকুল মউত এসে বলেন—'হে পবিত্র আত্মা! আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টির দিকে বের হয়ে এসো।' আর যখন কোনো পাপিষ্ঠ বা কাফের বান্দার বিদায়লগ্নে ফেরেশতারা আসেন, তখন তাদের চেহারা থাকে অন্ধকার এবং তারা জাহান্নামের খসখসে কাপড় নিয়ে আসেন..."
(মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নম্বর: ১৮৫৩৪)
এই শেষ কয়েক মিনিটে একজন মানুষ পরিষ্কার দেখতে পায় সে জান্নাতি নাকি জাহান্নামী। জান্নাতি হলে তার আত্মা অত্যন্ত শান্তির সাথে বের হয়ে আসে, আর পাপিষ্ঠ হলে তীব্র যন্ত্রণার সৃষ্টি হয়।
৩. "আমাকে আর একটু সময় দেওয়া হোক!"
মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে মানুষের মনে তীব্র আকুতি জাগে—যদি আর কয়েকটা মিনিট সময় পাওয়া যেত, তবে নিজের সব গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করে নেওয়া যেত। মানুষের মনে হয়, "হায়! আমি যদি আমার সমস্ত সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় দান করে দিয়ে যেতে পারতাম!" কিন্তু ততক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে গেছে।
আমাদের জন্য শিক্ষা:
আজ এই লেখাটি যখন আপনি পড়ছেন, আপনার ফুসফুসে এখনও বাতাস আছে, আপনার হৃদপিণ্ড এখনও সচল আছে। তার মানে আপনার সেই শেষ ৫মিনিট এখনও আসেনি। আল্লাহ আপনাকে তওবা করার সুযোগ দিয়েছেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা বেশি বেশি করে লজ্জত ধ্বংসকারী জিনিসের (অর্থাৎ মৃত্যুর) স্মরণ করো।" (জামে তিরমিযী)
আমরা কি সত্যিই প্রস্তুত সেই মুহূর্তটার জন্য? যখন আজরাইল (আ.) আমাদের সামনে এসে দাঁড়াবেন, তখন আমাদের শেষ চিন্তাটা কী হবে? দুনিয়ার মোহ নাকি আল্লাহর দিদার?
---------------
IFM Desk
---------------