18/12/2023
নিজের কাছে প্রশ্ন সাংবাদিক না হলে কি আমার জেলে থাকতে হতো!
আজ সকালে কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ডে গিয়েছিলাম পঞ্চগড়ের বাসের টিকিট কাটতে। সাধারনত বৃহস্পতিবার রাতের টিকিট খুবই মুশকিল। অনেক খুঁজেও টিকেট পেলাম না। তাই বাস কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে ভাবছি কী করব!
এমন সময় একজন পুলিশ এসে বলে, তুই কোথায় যাবি?
আমিতো অবাক! একজন পুলিশ অফিসার যাকে আমি চিনি না জানি না হঠাৎ করে এসে আমাকে 'তুই' বলে সম্বোধন করছে।
তারপর আমি সেই পুলিশের কাছে জানতে চাইলাম, ভাই আপনি আমার সাথে তুইতোকারি করছেন কেনো? আমি কি আপনাকে চিনি?
তিনি এবার ভীষণ রেগে গিয়ে বললেন, তাহলে তোকে স্যার ডাকবো?
আমি তাকে বললাম, ভাই স্যার ডাকবেন কেনো, আর একজন অপরিত মানুষকে তুই বলেই বা কেন সম্বোধন করবেন?
সে আরো রেগে গিয়ে বললো, তোমার বাড়ি কোথায়? বললাম, আমার বাসা ঢাকায়। সে এবার প্যাঁচানো শুরু করলো। তারপর আমার গ্রামের বাড়ি কোথায় জানতে চাইলো। তাকে আমার গ্রামের বাড়ির পূর্ণ ঠিকানা দিলাম মৌখিকভাবে। কথা শেষ হতেই সে হঠাৎ করে বলে, চল তোর খবর আছে। এই বলেই আমার ঘাড়ে হাত দিয়ে বলল, চল তোরে থানায় নিয়ে যাবো।
আমি তাকে আমার সাথে বাজে আচরণ করার কারন জানতে চাইলাম। সে কোন উত্তর না দিয়েই আমার কোমরের বেল্ট ধরে দাগী আসামির মতো টানতে লাগলো। তোরে পাইছি আজকে, চল থানায় নিয়ে যাবো তোরে।
ইতোমধ্যে দূর থেকে লোকজন তাকিয়ে দেখছে। অফিসার কে বললাম, আপনি আমাকে থানায় নিবেন নেন, সমস্যা নাই, কিন্তু আমার অপরাধ কী সেইটা তো বলেন।
সে বলল, তোকে সন্দেহ হইছে তাই থানায় নিয়ে যাবো। এই বলে আমার হাতে থাকা মোবাইলটাও ছিনিয়ে নিয়ে নিল।
তাকে আবার বললাম, আপনি আমাকে থানায় নিবেন ভালো কথা কিন্তু আমার ফোন আপনি নিলেন কেন? আমাকে যে থানায় নিচ্ছেন এটা আমার অফিসে ইনফর্ম করতে হবে, কারন আমি অন ডিউটিতে আছি।
সে কোন কথাই শুনলো না, বললো থানায় চল, থানায় গিয়ে কথা হবে।
এই বলে আমাকে টানতে টানতে পুলিশের গাড়ির কাছে নিয়ে গেলো। গাড়ির কাছে যাওয়ার পর আরো দুইতিনজন পুলিশ এগিয়ে আসলো। তারপর আমার ব্যাগ চেক করতে চাইল।
আমি বললাম, ব্যাগ আমি খুলে দিচ্ছি। আপনি আমার ব্যাগে হাত দিতে পারবেন না। পরে অনেক জোড়াজুড়ি করার পর ব্যাগ আমাকে খুলতে দিলো।
আমার ক্যামেরার লেন্স সহ যা যা ছিলো সব বের করলাম। আমার ব্যাগ থেকে প্রফেশনাল আইডি কার্ড বের করে তার সামনে দিলাম। আইডি দেখার পর বুঝতে পারলো যে আমি একজন সাংবাদিক।
পুলিশ সদস্যদের মধ্যে আমার পিছনে থাকা একজন আমাকে হঠাৎ জড়িয়ে ধরে বললো, ভাই আপনি আগে বলবেন না আপনি সাংবাদিক। তাকে বললাম, ভাই আমার পেশাগত পরিচয়ের আগে আমি একজন মানুষ। তারপর আমি এই দেশের একজন সাধারণ নাগরিক। আপনারা আমার সাথে যা করলেন এতক্ষণ, এমন আচরণ আপনারা করতে পারেন কি না? তাছাড়া বাংলাদেশের কোন আইনে আছে কোনো ক্লু ছাড়া, নোটিশ কিংবা ওয়ারেন্ট ছাড়া এভাবে টানতে টানতে থানায় নিয়ে যাওয়া, তল্লাশির নামে এভাবে হয়রানি করা? কথাবার্তা নাই এসেই তুইতোকারি করা, বলুন আমাকে এটা কোন ধরনের প্রফেশনালিজম?
আপনি কোন ভাবেই আমার সাথে এমন আচরণ করতে পারেন না।
পরে তিনি বার বার স্যরি বলে মাফ চাচ্ছে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই বিষয়টা দারুস সালাম থানার ওসিকে ইনফর্ম করা হয়।
রাতে বাসায় ফিরতে ফিরতে বিষয়টা নিয়ে ভাবলাম। আমি পেশায় একজন সাংবাদিক বলে এরা আমাকে নিয়ে আর ঘাঁটলো না। কিন্তু আমার জায়গায় কোনো সাধারণ মানুষ হলে হয়তো এতোক্ষণে অস্ত্র কিংবা মাদক মামলা ঠুকে জেলে চালান করে দেয়ার ব্যবস্থা করে ফেলত।
এই ঘটনাটাকে স্বাভাবিকভাবে নেয়া যেত। কিন্তু এটা মোটেও তেমন না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়োজিত করা হয়েছে মানুষের নিরাপত্তার জন্যে, সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে। কিন্তু এদের নিয়ে সাধারন মানুষের আতংকের শেষ নেই। সাধারণ একজন নাগরিকের নাগরিক অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য কি তাকে পুলিশ বা সাংবাদিক হতে হবে? সাধারণ একটা জীবনের কোনো দাম নাই?
জীবন আহমেদ
ফটো সাংবাদিক, দৈনিক মানবজমিন
(ফাইল ফটো)
দুনিয়ার নিকৃষ্ট জীব হলো পুলিশ! এজন্যই পুলিশকে ঘৃণা করি।
বিঃদ্রঃ যে সকল পুলিশ এখনো মানবিক আছেন তাদেরকে আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ দান করুক।