সফলতার জন্য জীবনের লক্ষ্য স্থির করুন । জেনে নিন ১১ টি টিপস
জীবনের লক্ষ্য স্থির করুন, সফলতার জন্য লক্ষ্য ঠিক করুন
জীবনের লক্ষ্য
“লক্ষ্য” শব্দটি পুরো জীবন ধরেই আমাদের ভাবায়। “তোমার জীবনের লক্ষ্য কি?” – এই কথাটির সাথে আমরা শিক্ষাজীবনের একদম শুরু থেকে পরিচিত। এমনকি লেখাপড়া শেষে কর্মজীবনেও “জীবনের লক্ষ্য” নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়।
সুতরাং এখান থেকে খুব সহজেই উপলব্ধি করা যায় “লক্ষ্য” আমাদের জন্যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমরা সবাই আমাদের জীবনের লক্ষ্য ও লক্ষ্যে অধিষ্ঠিত হবার প্রশ্নে একটা দ্বিধায় পড়ে যাই।
জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে আপনার প্রয়োজন একটি সুন্দর পারিপার্শ্বিক পরিবেশ।
এটার কারণ দুইটিঃ
১. লক্ষ্য নির্ধারণ করার আগে সেটা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা-ভাবনা না করা এবং
২. লক্ষ্য নির্ধারণের পর সঠিক পরিকল্পনা না করে কাজ শুরু করা।
আমরা যদি এই দুইটি কারণকে খুব ভালোভাবে মোকাবেলা করতে পারি তাহলেই জীবনের লক্ষ্যে অধিষ্ঠিত হওয়া আমাদের জন্যে অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।
তাহলে চলুন দেখে নেওয়া যাক কিভাবে আমরা এই দুইটি কারণ মোকাবেলা করে জীবনের লক্ষ্যকে স্থির করতে পারিঃ
১) পারিপার্শ্বিক পরিবেশঃ
মানুষের মানসিকতা, চিন্তা-ভাবনার উপর তাঁর পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। অনুকূল পরিবেশ আপনার চিন্তা-ভাবনাকে অনেক বেশি তীক্ষ্ণ ও মজবুত করবে। পাশাপাশি আপনি খুব সহজেই আপনার কাজের প্রতি মনোযোগী হতে পারবেন।
জীবনের লক্ষ্য স্থির করুন, সফলতার জন্য লক্ষ্য ঠিক করুন
জীবনের লক্ষ্য
তাই জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে আপনার প্রয়োজন একটি সুন্দর পারিপার্শ্বিক পরিবেশ। সুন্দর পারিপার্শ্বিক পরিবেশ বলতে বুঝানো হচ্ছে, যে পরিবেশ আপনার চিন্তা-ভাবনাকে সঠিক পথে নিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে মেডিটেশন খুব ভালো কাজে দেয়। ভোর কিংবা মাঝ রাতের নীরব পরিবেশও আপনাকে সাহায্য করতে পারে।
এছাড়াও নিজের মনের দৃঢ়তা আনার জন্যে গান কিংবা বই পড়ার মধ্যেও ডুবে যেতে পারেন। এটা আপনাকে মানসিক প্রশান্তি এনে দিবে। ফলে আপনি নিজের লক্ষ্যকে নিজের মত করে স্থির করতে পারবেন।
নিজেই নিজেকে বলুন, “প্রতিবন্ধকতা নিয়েই আমি সামনে এগিয়ে যেতে পারবো”।
২) নিজেকে উৎসাহ দিনঃ
যখন আপনি জীবনের লক্ষ্য স্থির করতে যাবেন বা লক্ষ্য নিয়ে ভাবতে যাবেন তখন প্রতিবন্ধকতাগুলো সবচেয়ে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে। কিন্তু প্রতিবন্ধকতাগুলোকে মাথার ভেতর পুষে রাখা ঠিক হবে না। কেননা প্রতিবন্ধকতাগুলো আপনার মনের ভেতর একটা ভীরু মনোভাব তৈরী করবে।
প্রতিবন্ধকতাগুলো মোকাবেলা করার জন্যে একটা পরিকল্পনা করে ফেলুন এবং সেগুলোকে কাগজে লিখে ফেলুন। অতঃপর প্রতিবন্ধকতাগুলো নিয়ে ভাবা বন্ধ করুন। তারপর নিজের ভেতর প্রতিবন্ধকতাগুলো মোকাবেলা করার মনোভাব গড়ে তুলুন।
জীবনের লক্ষ্য ঠিক রাখতে নিজে নিজেকে বলুন, “আপনি পারবেন ।”
যদি প্রতিবন্ধকতাগুলো মোকাবেলা করা খুব সময় সাপেক্ষ হয় তাহলে প্রতিবন্ধকতা নিয়েই চলার মনোভাব গড়ে তোলার চেষ্টা করুন। নিজেই নিজেকে বলুন, “প্রতিবন্ধকতা নিয়েই আমি সামনে এগিয়ে যেতে পারবো”।
নিজেকে প্রচুর উৎসাহ দিন। যদি নিজেকে উৎসাহ দিতে না পারেন তাহলে আপনি পিছিয়ে পড়বেন। মনে রাখবেন, উৎসাহ হবে আপনার সামনে চলার শক্তি। উৎসাহ আপনার আত্মবিশ্বাস গড়ে দিবে। আত্মবিশ্বাসের ফলে আপনি সহজে সামনে এগিয়ে যেতে পারবেন।
জীবনের লক্ষ্য
৩) মনকে উৎফুল্ল রাখুনঃ
মন হচ্ছে মানুষের প্রধান চালিকা শক্তি। তাই লক্ষ্য স্থির করার আগে ও পরে সবসময় মনকে উৎফুল্ল রাখতে হবে। কেননা মনের উৎফুল্লতা আপনাকে চাঙ্গা রাখবে। এছাড়াও এটি আপনার চিন্তা-ভাবনায় কিছু ভিন্নধর্মী পরিকল্পনা যোগ করে দিতে পারে।
স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যে পদক্ষেপগুলো সাজিয়ে নিন। তারপর সেই পদক্ষেপ অনুযায়ী কাজ করুন।
মনের উৎফুল্লতার জন্যে আপনি প্রতিদিনের রুটিনে একটু পরিবর্তন আনতে পারেন। এটা আপনাকে একঘেয়ামী থেকে মুক্তি দিবে এবং আপনাকে পুনরুজ্জীবিত করে তুলবে। এছাড়াও আপনি নতুন একটি ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। এতে করে একদিকে আপনি নতুন অভ্যাসের আনন্দ পাবেন অন্যদিকে মনের উৎফুল্লতাও পাবেন।
৪) পরিকল্পনাকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাগে ভাগ করুনঃ
পরিকল্পনা নেয়ার ক্ষেত্রে “সময়” একটা বড় প্রভাবক। পরিকল্পনাকে আমরা তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করতে পারি;
১. স্বল্পমেয়াদী ,
২. মাঝারি মেয়াদী,
৩. দীর্ঘমেয়াদী।
জীবনের লক্ষ্য স্থিরের ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিন। কিন্তু মনে রাখবেন, স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনাকে অবশ্যই মাঝারি মেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সাথে যুক্ত করতে হবে। কেননা মাঝারি মেয়াদী পরিকল্পনাগুলোই একটা সময় স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনায় রূপ নিবে।
জীবনের লক্ষ্য
স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যে পদক্ষেপগুলো সাজিয়ে নিন। তারপর সেই পদক্ষেপ অনুযায়ী কাজ করুন। এসময় অবশ্যই পরিকল্পনা নেয়ার পূর্বপ্রস্তুতি সম্পন্ন করে নেবেন। স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনার প্রধান সুফল হলো – এটি আপনাকে বারবার অনুপ্রাণিত করবে।
অন্যদিকে, এটি নিজের গতিবিধি কিংবা উন্নতির তৎক্ষণাৎ একটি বিবরণ দিবে। তাই বৃহৎ কিংবা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করার আগে সেগুলোকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র করে ভেঙে নিজের লক্ষ্য স্থির করুন।
৫) লক্ষ্যকে নির্দিষ্ট রাখুনঃ
লক্ষ্য স্থির করার আগে বারবার ভাববেন। প্রয়োজন হলে সময় নিয়ে ভাববেন কিন্তু লক্ষ্য স্থির করার পরে সেটাকে আর পরিবর্তন করবেন না। ধরুন, আপনি একটি তাল গাছে উঠবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গাছে উঠার জন্যে প্রস্তুতি নিলেন এবং কিছুদূর উঠেও গেলেন। কিন্তু কিছুদূর গিয়ে আপনি সিদ্ধান্ত বদলালেন এবং সিন্ধান্ত নিলেন বট গাছে উঠবেন। আপনি তারপর তাল গাছ থেকে নেমে গেলেন এবং বটগাছে উঠার প্রস্তুতি নিতে থাকলেন।
জীবনের লক্ষ্য স্থির করার আগে ও পরে সবসময় মনকে উৎফুল্ল রাখতে হবে।
এখানে লক্ষ্য করুন, সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণে আপনার কিছু সময় নষ্ট হয়েছে এবং নিজের মনবলেও কিছুটা আঘাত লেগেছে। কিন্তু আপনি যদি শুরুতেই বটগাছে উঠার পরিকল্পনা নিয়ে নিতেন তাহলে সময় বাঁচত এবং আপনার মনোবলও চাঙ্গা থাকত। তাই লক্ষ্য স্থির করে কাজ শুরু করুন।
৬) লক্ষ্যকে নিজের আয়ত্তের মধ্যে রাখুনঃ
জীবনের লক্ষ্য স্থির করার সময় খুব উচ্চাভিলাষী হবেন না। নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে জেনে লক্ষ্য স্থির করুন। কাল্পনিক বিষয়কে লক্ষ্য হিসেবে নেবেন না। বাস্তব কিছুকেই লক্ষ্য হিসেবে স্থির করুন।
উদাহরণসরুপ বলা যায়, আপনি উড়োজাহাজ নিয়ে মহাকাশে যাত্রা করতে পারবেন না। কিন্তু মহাকাশযান নিয়ে মহাকাশে যাত্রা করতে পারবেন। সুতরাং “উড়োজাহাজ নিয়ে মহাকাশ যাত্রা” যদি আপনার লক্ষ্য হয় তাহলে সেটি সঠিক হবে না।
তাই লক্ষ্য স্থির করার আগে বাস্তবতা নিয়েও ভাবুন। নিজের প্রতিবন্ধকতার সাথে যুদ্ধ করে এবং নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে লক্ষ্য পূরণের সিদ্ধান্ত নিন। আকাশ-কুসুম পরিকল্পনা আপনাকে কেবলই হতাশায় ভোগাবে।
৭) লক্ষ্যকে ক্রমিক আকারে সাজানঃ
লক্ষ্যের সাথে লক্ষ্য জড়িত। আপনার জীবনের লক্ষ্য কিন্তু একটি নয় বরং অনেকগুলো। আবার লক্ষ্যগুলো ক্ষেত্রবিশেষে আলাদা। যেমনঃ সাধারণত একজন স্কুলপড়ুয়া ছাত্র বা ছাত্রীর লক্ষ্য হবে – “ক্লাসে প্রথম হওয়া”।
বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ঠিক সেই মানুষটিরই লক্ষ্য হবে “প্রতিযোগিতা থেকে পুরষ্কার ছিনিয়ে আনা”। মানুষের জীবনের লক্ষ্যগুলোও এমনই। কিন্তু সব লক্ষ্যকে এক কাতারে ফেলবেন না।
নির্দিষ্ট সময় বেঁধে লক্ষ্য পূরণ করা মানুষেরা জীবনের পথচলায় এগিয়ে থাকে।
আপনাকে প্রতিটা লক্ষ্যের গুরুত্ব, সময়, কাজের ধরণ, ব্যপ্তিকাল, লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় গুণাবলির বিচারে লক্ষ্যগুলোকে ক্রমিক আকারে সাজাতে হবে। তারপর ক্রমিক অনুযায়ী আপনাকে সেগুলোর মোকাবেলা করতে হবে। এখানে অবশ্যই সামগ্রিকতা ও ধারাবাহিকতা থাকতে হবে।
মনে রাখবেন, একটি লক্ষ্য পূরণ করতে পারলেই আপনি অনেকখানি এগিয়ে যাবেন। অন্যদিকে, একটি লক্ষ্য পূরণ না করতে পারলে আপনি পিছিয়ে যাবেন। তাই খুব চিন্তা-ভাবনা করে লক্ষ্যকে সাজান। যেগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিৎ সেগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিন।
৮) সময়সীমা নির্দিষ্ট করে কাজ করুনঃ
মানুষের জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত। এই কম সময়ের মধ্যেই মানুষকে নিজ কাজকর্মের মাধ্যমে জীবনকে মূল্যবান করে তুলতে হয়। সুতরাং জীবনের পথচলায় নষ্ট করার মত অতিরিক্ত সময় আপনার নেই। তাই একটি কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার যথাসাধ্য চেষ্টা করুন।
মনকে স্থির করুন। নিজেকে অনুপ্রেরণা দিন। মনোবল শক্ত করুন। অতঃপর কাজে মনোযোগ দিন।
একটি কাগজে কাজ শেষ করার ডেডলাইন লিখে ফেলুন। ডেডলাইনের থেকে কম সময়ে কাজ শেষ করার চেষ্টা করুন। এতে করে আপনি নিজের সামর্থ্যের পরিচয় পাবেন এবং এটি আপনার সামর্থ্যকে বাড়িয়ে দিবে ধীরে ধীরে।
হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ প্রোগ্রামের অধীনে ১৯৭৯ সালে একটি গবেষণা চালানো হয়। সেখানে একটি শ্রেণীর সবাইকে লিখিত ও নির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করতে বলা হয়। সেখানে ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থীর কোন লক্ষ্য ছিলো না, ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থীর অলিখিত লক্ষ্য ছিলো এবং বাকী ৩ শতাংশ শিক্ষার্থীর লিখিত লক্ষ্য ছিলো।
একটি লক্ষ্যে পরাজিত হলে আরেকটি লক্ষ্যকে আকড়ে ধরে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
দশ বছর পর তাদের ইন্টারভিউ নিতে গিয়ে দেখা যায় যে, যে ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থীর অলিখিত লক্ষ্য ছিলো তাদের উপার্জন লক্ষ্যহীন ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থীদের থেকে দ্বিগুণ। কিন্তু যে ৩ শতাংশের লিখিত ও নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিলো তাদের উপার্জন ছিলো ১৩ শতাংশ অলিখিত লক্ষ্যধারীর চেয়েও প্রায় ১০ গুণ।
সুতরাং, নির্দিষ্ট সময় বেঁধে লক্ষ্য পূরণ করা মানুষেরা জীবনের পথচলায় এগিয়ে থাকে। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজের চেষ্টা জীবনের লক্ষ্য পূরণের জন্যে অনেক জরুরী।
৯) কর্ম-পরিকল্পনা তৈরী করাঃ
লক্ষ্যকে ছুঁয়ে দেখতে চাইলে কর্ম-পরিকল্পনা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কর্ম-পরিকল্পনার অভাবে লক্ষ্য অর্জন করা আপনার জন্যে অনেক কঠিন হয়ে পড়বে। তাই লক্ষ্যকে অর্জন করতে চাইলে কর্ম পরিকল্পনা গড়ে তুলুন। প্রতিটা পদক্ষেপে একটি বিকল্প পরিকল্পনা রাখুন।
একটি কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার যথাসাধ্য চেষ্টা করুন।
বিকল্প পরিকল্পনা আপনাকে পিছিয়ে পড়ার থেকে বিরত রাখবে। কর্মপরিকল্পনা সাজানোর জন্যে একটি ফ্লো-চার্ট বা চেকলিস্ট বানিয়ে নিতে পারেন। অতঃপর এই ফ্লো-চার্ট কিংবা চেকলিস্টকে সবসময় চোখের সামনে রাখুন।
এমনকি চাইলে মোবাইলে ওয়ালপেপারও বানিয়ে রাখতে পারেন।
তবে অবশ্যই নিজের অগ্রগতি চেকলিস্টে কিংবা ফ্লো চার্টে চিহ্নিত করবেন। এতে করে আপনি উৎসাহ পাবেন এবং নিজের গতিবিধি সম্পর্কে জানতে পারবেন।
এছাড়াও কোন কাজ সম্পাদনের পরে সংশ্লিষ্ট কারো কাছে থেকে সে বিষয়ে সমালোচনা কিংবা রিভিউ নিতে পারেন। এটি আপনাকে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
জীবনের পথচলায় নষ্ট করার মত অতিরিক্ত সময় আপনার নেই। তাই একটি কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার যথাসাধ্য চেষ্টা করুন।
১০) পরাজয়ের সাথে আপস নয়ঃ
লক্ষ্য স্থির করে পরিকল্পনা মাফিক কাজ করার পরেও ভাগ্য আপনার সহায় নাও হতে পারে। কিন্তু পরাজয়ে থেমে গেলে পিছিয়ে পড়বেন। পরাজয়ে আপনি থেমে গেলে সবকিছুই থেমে যাবে। ভাঙা স্বপ্নকে জোড়া লাগিয়ে নতুন করে শুরু করতে হবে। লক্ষ্যচ্যুত হওয়া যাবে না।
লক্ষ্য ঠিক করার আগে শপথ করে নিন “পরাজয়ের সাথে আপস নয়”।
একটি লক্ষ্যে পরাজিত হলে আরেকটি লক্ষ্যকে আকড়ে ধরে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। পরাজয়ের পর, যদি ঘুরে দাঁড়াতে পারেন তাহলেই আপনার সাধনা পূর্ণতা পেতে আরম্ভ করবে। ভাগ্য আপনার সাহসী মনোভাবের অনুকূলে চলে আসবে। তাই লক্ষ্যে ঠিক করার আগে শপথ করে নিন “পরাজয়ের সাথে আপস নয়”।
১১) লক্ষ্যকে পেতে কাজ শুরু করে দেওয়াঃ
কৌশল অনুযায়ী যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাজ শুরু করে দিন। এটি জীবনের লক্ষ্য পূরণের একটা অন্যতম প্রধান শর্ত। কারণ তাহলেই আপনি লক্ষ্যের দিকে একধাপ এগিয়ে যাবেন। কাজ শুরু করার আগে পুরো পরিকল্পনাকে আরেকবার পরখ করে নিন।
মনকে স্থির করুন। নিজেকে অনুপ্রেরণা দিন। মনোবল শক্ত করুন। অতঃপর কাজে মনোযোগ দিন। প্রতিটা মানুষই চায় জীবনে সফল হতে। জীবনে সফল হতে লক্ষ্যের ভূমিকা অনেক বেশি। তাই এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়কে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে স্থির করা উচিৎ।
জীবনের লক্ষ্য স্থির করে সফল ভাবে আপনি এগিয়ে যান – এটাই আপনার কাছে পাই ফিংগারস মোটিভেশনের কামনা।
N.D.S Organization : Nuyo Dinor Sadak
"N. D. S. ORGANIZATION" is a Social and Cultural Organization of Moanoghar Students, S.SC batch of 2017.
14/11/2018
সফলদের স্বপ্নগাথা
তোমাদের আমার হিংসা হয়
আপডেট: ১২ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:৩৬
মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা পল অ্যালেন। গত ১৫ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেছেন এই মার্কিন ব্যবসায়ী। ২০১৭ সালের ৯ মার্চ ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ক্যাম্পাসে একটি বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি।
আমরা একই ধরনের চ্যালেঞ্জ ভালোবাসি বলেই, মনে হচ্ছে খুব কাছের মানুষদের সামনে কথা বলছি। এই ক্যাম্পাস আমার নিজের ঘরের মতো। একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির প্রধান দায়িত্বে ছিলেন আমার বাবা। ছোটবেলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটিয়েছি এই লাইব্রেরিতে। বইয়ের স্তূপের মধ্য থেকে খুঁজে খুঁজে বের করে আমি পড়তাম, বিজ্ঞানের দুনিয়ায় নতুন কী এল, কী হলো। গ্র্যাজুয়েট কম্পিউটার সায়েন্স ল্যাবে কাটত অধিকাংশ সময়। সেখানে অবশ্য আমার থাকার কথা নয়। কারণ তখন আমি সবে হাইস্কুলে পড়ি। হাইস্কুলে পড়লে যা হয় আরকি, কিছুদিন পর আমি আমার বন্ধুদেরও লাইব্রেরিতে আমন্ত্রণ জানাতে শুরু করলাম। এই ঘটনার আগ পর্যন্ত অধ্যাপকেরা আমার উপস্থিতি মেনে নিয়েছিলেন।
আমাদের বের করে দেওয়ার জন্য কম্পিউটার ল্যাবের পরিচালক ড. হেলমিক গোল্ডি যে চিঠিটা লিখেছিলেন, সেটা আমার কাছে এখনো আছে। চিঠির কয়েকটা লাইন পড়লে আজও হাসি পায়। ‘প্রিয় মিস্টার অ্যালেন’ সম্বোধন দিয়ে শুরু হলেও চিঠির বাকি অংশে লেখা ছিল, কী কী কারণে তিনি আমাদের বের করে দিতে চান। প্রথম অভিযোগ: আমরা সবকটি টার্মিনাল দখল করে রাখতাম। আমাদের কোলাহলের কারণে বাকিদের কাজে অসুবিধা হতো। দ্বিতীয় অভিযোগ: আমার দুই বন্ধু যন্ত্রপাতি নেওয়ার নিয়মকানুন ঠিকভাবে মানেনি। তৃতীয় অভিযোগটা খুবই গুরুতর। অধ্যাপক লিখেছিলেন, ‘কয়েক দিন আগে বিনা অনুমতিতে তোমরা ড. হান্টসের অফিস থেকে অ্যাকোয়েস্টিক কপলারটা নিয়ে গেছ। এটা অপরাধ।’
অথচ আমরা ভেবেছিলাম, কেউ যখন যন্ত্রটা ব্যবহার করছে না, এটা বাড়িতে নিয়ে গেলে ক্ষতি কী! মজার ব্যাপার হলো, চিঠির শেষে অধ্যাপক লিখেছেন, ‘এমনকি তোমরা কপলারের জায়গায় একটা চিরকুটও রেখে যাওনি! এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’ এই কথা দিয়ে তিনি কফিনে শেষ পেরেক ঠুকেছেন।
সেই সময়ে আমি যদি পুরোনো কম্পিউটারে বুঁদ হয়ে না থাকতাম, যদি আমার আগ্রহের বিষয়টা সম্পর্কে যতটা সম্ভব জ্ঞান আহরণ না করতাম, হয়তো মাইক্রোসফটের জন্ম হতো না। এখানে শেখার বিষয় হলো, কখনো কখনো তোমার সামনে কোনো পথ থাকবে না। কখনো কখনো ভুল পথ তোমাকে ঠিক পথের দিকে ঠেলে দেবে। যদি শেখার নিরন্তর চেষ্টা থাকে, তাহলে তুমি নিশ্চয় সাফল্যের পথেই হাঁটবে।
কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি নিয়ে কথা বলতে গেলে কর্মক্ষেত্রে এর প্রভাব সম্পর্কেও তোমাদের ভাবতে হবে। আমার কাছে মনে হয়, আমরা যদি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হই, তাহলে কোনো ঝুঁকিই পাত্তা পাবে না। উড়োজাহাজ যখন আবিষ্কৃত হলো, রেল শিল্পের ওপর সেটা প্রভাব ফেলেছিল। কিন্তু একই সঙ্গে এটি মানবজাতির উন্নয়নের নতুন নতুন পথ খুলে দিয়েছে। যখন আমরা আরও বুদ্ধিদীপ্ত কম্পিউটারের সহায়তা পাব, এটা মানুষের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।
তোমরা যারা তরুণ কম্পিউটার প্রকৌশলী, তোমাদের আমার হিংসা হয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য তোমরা তোমাদের জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ পাচ্ছ। মুহূর্তেই তোমরা জটিল প্রোগ্রামিংয়ের কাজগুলো করে ফেলতে পারছ। হাতের কাছেই আছে সব সুবিধা। আমাদের সময়ে এটা কল্পনাও করা যেত না। ১৯৭২ সালে ছাত্রছাত্রীরা যে সিডিসি ৬৪০০ কম্পিউটার ব্যবহার করত, তার চেয়ে হাজার গুণ দ্রুত গতির যন্ত্র এখন তোমাদের পকেটে আছে। যে প্রোগ্রাম তোমরা ব্যবহার করছ, তার ক্ষমতা তোমার কল্পনার চেয়েও বেশি। অথচ আমরা যে কম্পিউটার ব্যবহার করেছি, তার ‘মেমোরি’ আর ‘স্টোরেজ’ ছিল খুবই স্বল্প।
তোমাদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য কী হতে পারে, সেটা নিয়ে কিছু কথা বলি। বর্তমানে মানুষের কারণে জলবায়ুর কী কী পরিবর্তন হচ্ছে, আর ভবিষ্যতে কী কী পরিবর্তন আসছে, তা নির্ণয়ে তোমরা কাজ করতে পারো। কার্বন নিঃসরণ ও দুর্ঘটনা রোধ করতে উন্নত যানবাহনের নকশা করতে পারো। এমন কোনো প্রোগ্রাম তৈরি করতে পারো, যেটা সঠিকভাবে তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকদের সাহায্য করবে। জীববিজ্ঞান–সংক্রান্ত কোনো মডেলও তৈরি করতে পারো, যা কিনা কোষ বিশ্লেষণ করে সুস্থ শরীর ও রোগাক্রান্ত শরীরের মধ্যে পার্থক্য দ্রুতই শনাক্ত করতে পারবে। রোবটিকস নিয়ে কাজ করো, যেন কর্মক্ষেত্রে বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষকে সহায়তা করতে আমরা রোবট ব্যবহার করতে পারি।
আমরা সত্যিই কম্পিউটার বিজ্ঞানের এক স্বর্ণালি সময়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছি। তোমরাই এই সময়টার নেতৃত্ব দেবে। সাহসী হও, সত্যের পথে থাকো। বিশ্বাস আর দুঃসাহসই আমাদের মাইক্রোসফট গড়তে সাহায্য করেছিল। মনে রেখো, স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে তুমি অতিরিক্ত বিনিয়োগ করছ, এই অভিযোগে যদি কেউ তোমার দিকে আঙুল তোলে, তার মানে তুমি ঠিক পথেই আছো।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: স্বপ্ন নিয়ে প্রতিবেদক, সূত্র: অনুষ্ঠানের ভিডিও
তোমাদের আমার হিংসা হয় মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা পল অ্যালেন। গত ১৫ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেছেন এই মার্কিন ব্যবসায়ী। ২০১৭ সালের ৯ মার্চ .....
27/01/2018
২৬/০১/২০১৮ ইং তারিখে N.D.S এর কমিটিকে নির্বাচনের মাধ্যমে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়। কমিটি গঠন হওয়ার সাথে সাথে প্রথম আলোচনা সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। । এবং বাস্তবায়নের তাগিদে সভাপতি মহোদয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার প্রস্তুতির আহ্বান জানান।
নিচে নির্বাচনের একটি ছবি।।
এখন, নুয়ো দিনোর সদক অনেক সংকটের মুখে পতিত। অবশ্য উঠে আসার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চেষ্টা। সে সংকট নিরসন করতে পারলেই নতুন প্রজেক্ট নিয়ে কাজ শুরু করা যাবে।
... তথ্য সম্পাদক, N.D.S
Collection Post :-
সিনেমার স্ক্রিপ্ট লিখবেন? যেসব ব্যাপার মাথায় রাখবেন
১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ ভোর ৫:১২
আগেই বলে রাখা ভালো আমি নিজে তেমন পদের স্ক্রিপ্ট লেখিনা আর আমি যেসব জিনিস নিয়া চিন্তা করি সেসব জিনিস শুনলে পাব্লিক বলে - ভাই কি কন! তারপরেও চিন্তা করি এবং লিখি। প্রথমে ভাবছিলাম - একদিন সব স্ক্রিপ্ট দিয়া একটা একটা কইরা শর্ট ফিল্ম বানামু। এখন ভাবতেছি - আস্তে আস্তে সবগুলা স্ক্রিপ্ট পোলাপানরে দিয়া দিমু, তারা শর্ট ফিল্ম বানাবে। এই জন্য সিনেমা পিপলস এর আন্ডারে ৬ টা প্রোজেক্ট চালাইতেছি। জানিনা কয়টা সফল হবে, তবে অন্তত ৩/৪ হলেও আমাদের অনেক বড় পাওয়া হবে। আর আমার স্ক্রিপ্ট থাকে ওপেন, মানে যে কেউ মেরে দিতে পারবে কিন্তু এখনো যখন কেউ মারে নাই, তখন বুঝতেই পারতেছেন আমার গল্পগুলা কেমন বিখাইউজ
যাইহোক, অনেক আগে স্ক্রিপ্ট কিভাবে লিখতে হয় সে ব্যাপারে পোস্ট দিয়েছিলাম। আসলে সে লেখাটা ছিলো ফরমেশনের উপর গুরুত্ব দিয়ে। আপনি একটা স্ক্রিপ্ট লিখবেন, কিন্তু আমি পড়ে কিছুই বুঝলাম না। তাহলে আপনার স্ক্রিপ্ট হয়ে পড়লো ভ্যালুলেস। আর তাই, ফরমেশন নিয়ে বেশ বিস্তারিত পোস্ট দিয়েছিলাম। শুধু আমি না, সামু ব্লগে স্ক্রিপ্ট রাইটিং নিয়ে আমার আগে দুজনের লেখা আছে। একটা রন্টি ভাইয়ের , আরেকটা শামীম ভাইয়ের ।
কিন্তু ফরমেশন জানলেই তো হবেনা, কিছু ব্যাপার স্যাপার তো আছেই। নাইলে ফর্মেশন মেনে লিখলেও কেনো ভাল স্ক্রিপ্ট খারাপ স্ক্রিপ্ট এর মান নির্ধারন হয়! স্ক্রিপ্ট লেখার আগে আপনাকে প্রথমেই বুঝতে হবে আপনার গল্পটা কতটা অ্যাট্রাক্টিভ। গল্পটা মৌলিক তো! কপি-পেস্ট গল্প নিয়ে কাজ করলে পাব্লিক ছুড়ে ফেলে দিবে। তবে আপনি গল্প অ্যাডাপ্ট করতে পারেন। ধরুন, একটা ইতালিয়ান গল্প পড়ে আপনার বেশ ভাল লাগলো। আপনি সেই গল্পটিকে নিজের সমাজ ও দেশের আঙ্গিকে নতুন রুপ দিতেই পারেন। প্রায় পুরোটাই যদি কপি পেস্ট এর মতো হয়ে যায়, তাহলে বলে দিতে পারেন যে বিদেশী গল্পের ছায়াবলম্বনে। তবে আমার পরামর্শ থাকলো, গল্পে কিছু পরবর্তন আনুন। গল্পের শেষে টুইস্টটা পরিবর্তন করতে পারেন কিনা দেখুন। অথবা, নায়কের মোটিভ চেঞ্জ করতে পারেন কিনা দেখুন। এসব ছোটখাটো পরিবর্তন করেও গল্পটাকে ইন্টেরেস্টিং রাখতে পারলে বুঝবেন স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে আপনি একেবারে খারাপ না
তো চলুন দেখে নেই কি কি ব্যাপারগুলোতে আমরা জোর দিবো। অথবা অন্যভাবে বলতে গেলে - স্ক্রিপ্ট লেখার সময় আমরা কি কি ভাববো এবং কি কি করবো।
* গল্প কেমন হবেঃ প্রথমেই আপনার গল্প বা আইডিয়াতে চোখ বুলান। গল্পে কি টুইস্ট আছে? একেবারে সাদামাটা গল্প কি? কোথাও কি উত্তেজনা আছে? বিরহ আছে? আনন্দ? সবকিছুই যে একটা গল্পে থাকতে হবে এমন নয়; কিন্তু আপনার গল্পের বা আইডিয়ার মাঝে যদি কোন কিছুই না থাকে তাহলে কি গল্পটা ফ্লাট হয়ে যাবেনা?
গল্পে টুইস্ট আনুন। এমন সব টুইস্ট নিয়ে চিন্তা করুন যা আগে কখনো হয়নি। অথবা পুরোনো টুইস্টগুলোকে ঝালাই করে দেখুন এগুলকেই নতুনরুপে হাজির করা যায় কিনা।
* স্ক্রিপ্ট ডেভেলপঃ আচ্ছা, স্ক্রিপ্টটাকে কয়েক ভাগে ভাগ করে ফেলুন। প্রথমেই মনে করুন আইডিয়া দাড় করালেন। এবার সিকোয়েন্স অনুযায়ী আইডিয়াকে একটা খাঁচাতে রুপ দিন। মানে, গল্প কিভাবে এগুবে সেটা সিকয়েন্স ওয়াইজ এক লাইন দুই লাইন করে লিখে স্ক্রিপ্ট এর প্রাথমিক কাজ শেষ করুন। ধরি, সবমিলিয়ে আপনার সিকোয়েন্স দাড়িয়েছে ৫০টি। এই ৫০টি সিকোয়েন্স এর প্রতিটিতে আপনি এক লাইন দুই লাইন লিখে বুঝিয়েছেন গল্প কিভাবে এগুচ্ছে।
এবার প্রতিটি সিকোয়েন্স নিয়ে ভাবুন। ভাবুন, সিকোয়েন্স টু সিকোয়েন্স সঠিক ভাবে যাচ্ছে কিনা। ভাবুন, প্রতিটি সিকোয়েন্সের লোকেশন কেমন হবে এবং লিখে ফেলুন। কোন কোন ক্যারেক্টার সিকোয়েন্সে থাকবে সেটাতো লিখবেনই।
এবার লিখে ফেলুন বর্ননা। মানে সিকোয়েন্সগুলোতে কিভাবে কি হবে। বিস্তারিত বর্ননা লিখে ফেলুন।
এবার ডায়ালগ লেখার পালা। ক্যারেক্টারগুলোকে জায়গামতো বসান। তাদের ডায়ালগ সেট করুন। ডায়ালগ লেখার পর সেগুলোকে নিজের মুখে উচ্চারন করুন। কাউকে না পেলে নিজেই একের অধিক ক্যারেক্টার এর ডায়ালগ অভিনয় এর মতো করে উচ্চারন করুন। ডায়ালগ যখন আপনার মুখ হয়ে আপনার কানে প্রবেশ করবে তখন দেখবেন কিছুটা পরিবর্তন করতে হতে পারে। ডায়ালগে মেটাফোর ব্যবহার করুন। ডায়ালগ শর্ট কিন্তু অর্থবহ করুন। মনে রাখবেন, বেহুদা ডায়ালগ দেয়ার চেয়ে ভিজুইয়ালাইজ করে দেখানো উত্তম।
* দর্শকের ইমাজিনেশন নিয়ে খেলুনঃ আপনার স্ক্রিপ্টে সবসময় আপনি দর্শকদের ইমাজিনেইশন নিয়ে খেলবেন। আপনার দর্শকদের সবসময় এমন অবস্থায় রাখার চেষ্টা করুন যেনো তারা বর্তমান সিকোয়েন্স দেখতে দেখতে ভাবতে থাকে - এর পরে কি হবে, এর পরে কি হবে!
* রিভাইজ দিনঃ এমনো হতে পারে, স্ক্রিপ্ট লেখার সময় আটকে গেছেন। কোন কিছু মাথায় আসতেছেনা। বা, গল্প কোথাও শেষ হচ্ছেনা। অথবা, মিলছেনা কোন কিছু।
খেয়াল করে দেখুনতো - কোথাও কি কোন ভুল হলো কিনা! হয়তো পূর্বের কোন সিকোয়েন্সে প্যাঁচ লাগিয়ে বসে আছেন। রিভাইজ দিন; জট খোলার চেষ্টা করুন। ঘটনার প্রবাহ পরিবর্তন করুন। কাহিনী কিছুটা ঘুরিয়ে দেখুন জট খুলছে কিনা।
তাতেও কাজ না হলে স্ক্রিপ্ট ফেলে রাখুন। একেবারে মাথা থেকে দূর করে দিন এটার কথা। নতুন কিছু নিয়ে ভাবুন। অনেকদিন পর আবার এটা নিয়ে বসুন; দেখবেন অনেক অদেখা জিনিস দেখা হয়ে যাচ্ছে।
* স্ট্র্যাকচার নিয়ে খেলুনঃ আমি ধরেই নিয়েছি আপনি জানেন যে একটা স্ক্রিপ্টের ৩টে অংশঃ শুরু, মাঝ ও শেষ। কিছু ব্যাতিক্রম বাদে সকল স্ক্রিপ্টের স্ট্র্যাকচার এরকমই। এখন দেখুনতো, শেষ্টা শুরুতে এনে অথবা মাঝেরটা শুরুতে নিয়ে এসে আপনি স্ক্রিপ্ট দাড় করাতে পারেন কিনা! এরকম অনেক ফিল্ম আছে যেগুলোর শেষটা শুরুতেই দেখিয়ে দেয়া হয়। হতে পারে আপনার স্ক্রিপ্টটা সেরকম। হতে পারে আপনি শুরুর অংশটুকু মাঝে দেখিয়ে শেষেরটুকু শুরুতে দেখালেই আপনার গল্পটা আরো ইন্টেরেস্টিং হবে।
ট্রাই করুন না!
* দর্শককে অ্যাটাচ করুনঃ আপনার কনসেপ্ট টা খুব বেশী জটিল? সাধারন দর্শক বুঝতে পারবেতো? আপনি যদি এমন কোন আইডিয়া নিয়ে ভেবে থাকেন যেটা সবার জন্য না, তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু আপনি যদি টার্গেট করেন আপামর দর্শক তাহলে আপনার গল্প হতে হবে সহজ ও সাবলীল কিন্তু ইন্টেরেস্টিং। এমন কিছু নিয়ে আসুন যেটা দর্শক নিজেকে গল্পের সাথে রিলেট করতে পারে। দর্শক যেনো ভাবে এটা তার গল্প। অথবা, দর্শক যেনো ভাবে - 'আহা! আমি যদি নায়ক/নায়িকার জায়গায় থাকতাম!'
এই যে দর্শকদের ভেতর এরকম ফিলিংস তৈরী করা - এটাই ট্রিগার।
* ক্যারেক্টারগুলোকে ডেভেলপ করুনঃ শুরতেই মুল ক্যারেকক্টারগুলোর স্বভাব -চরিত্র সহ অন্যান্য বিষয়গুলো নির্ধারন করে ফেলুন। স্ক্রিপ্টের অন্ততঃ একটা অংশে গিয়ে যেনো দর্শক প্রোটাগনিস্টকে বুঝতে পারে। আপনার স্ক্রিপ্টে যেনো প্রোটাগনিস্ট নিজে নিজে ডিসিশন নিতে পারে, স্ট্রাগল করে, এবং অ্যাক্টিভ থাকে। প্রোটাগনিস্ট এর উপর যে কোন উপায়ে ইমোশনাল টাচ দিন। মনে রাখবেন, আপনার প্রোটাগনিস্ট আপনার পেইন্টের মুল সাবজেক্ট, এখন আপনি এটার উপর রঙ চড়াবেন। যে কোন রঙ আপনি ব্যাবহার করতে পারেন কিন্তু পরিমিত রঙ মেশাবেন। অধিক রঙের ফলে আপনার প্রোটাগনিস্ট কে দর্শক গ্রহণ করবেনা এটা ধরে নিতে পারেন।
* এন্টারটেইনমেন্ট ভ্যালুঃ মুভি স্রেফ ৩ চিজো মেই হোতা হ্যায়। এন্টারটেইনমেন্ট, এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট। - সবাই মোটামুটি এই ডায়ালগটা জানেন। মোটা হইলেও বিদ্যা বালনরে কিন্তু চরম লাগছিলো। আচ্ছা, অন্য কথায় না যাই এখন। সিরিয়াস পোস্টে পরে পোলাপান লোল ফেলতে শুরু করবে।
তো, এই এন্টারটেইনম্নেট আসলে কি! আপনি একজন স্ক্রিপ্ট্রাইটার হিসেবে দেখবেন আপনার স্ক্রিপ্ট এর এন্টারটেইন ভ্যালু কতখানি। মানে স্ক্রিপ্ট টা কি ইন্টেরেস্টিং? এটা কি আন-প্রেডিক্ট্যাবল যাতে কিনা দর্শক এর শেষ দেখে উঠে? এটা কি এক্সাইটিং? কেউ পড়ার পর কি বলবে - অসাম ম্যান? স্ক্রিপ্টের টুইস্ট টা মারাত্মক? - এসব ব্যাপারগুলো খেয়াল করুন।
* লজিক ঠিক রাখুনঃ আপনার সিকোয়েন্স থেকে সিকোয়েন্সে লজিক যেনো ঠিক থাকে - এটা নিশ্চিত করুন। খুব সহজ ব্যাপার - আপনি চাইলেন আপনার নায়ক যেনো জেল থেকে পালায়। এখন আপনি লিখলেন নায়ক লাথি মেরে সেলের তালা ভেঙ্গে কয়েকজন পুলিশের সাথে ফাইট করে পালিয়ে যাবে। এখন চিন্তা করুন - লাথি মেরে তালা ভাঙ্গা কতখানি লজিক্যাল! দর্শক গাধা হতে পারে, তবে মানুষ হচ্ছে ধীরে ধীরে। আপনি নিজে গাধাই থাকবেন না দয়া করে।
* বর্ননা বিস্তারিত লিখুনঃ আপনার অ্যাকশন লাইন বা বর্ননার প্যারাগুলো এমনভাবে লিখবেন যেনো পাঠক পড়েই বুঝতে পারে কিভাবে কি ঘটছে। (আমি নিজে অ্যাকশন লাইনে খুব বেশী লেখালেখি পছন্দ করিনা কারন আমি নিজের মত করে চিন্তা করে নেই। কিন্তু আপনার উচিত হবে বিস্তারিত লেখা)
ব্লগার অর্জুনের তীর একটা তথ্য যোগ করেছেনঃ প্রিয় হলিউডি সিনেমার স্ক্রিপ্ট ডাউনলোড করে সেটা ভাগ ভাগ করে পড়ে সিনেমাটা রিওয়াইন্ড করে কয়েকবার দেখা যেতে পারে, এতেও একটা মুভি স্ক্রিপ্টের কাঠামো সম্বন্ধে ভালো একটা ধারণা পাওয়া যায়।
উপরে একটা ধারনা দেয়ার চেষ্টা করলাম স্ক্রিপ্ট লেখার সময় আপনাকে কি কি ব্যাপার ভাবতে হবে এবং কিভাবে এগুতে হবে। আশা করি হেল্প করবে লেখাটা। প্রচুর লিখতে হবে ভাই, প্রচুর প্রচুর লিখতে হবে। একটা স্ক্রিপ্ট ভাল হয় রিরাইটে।
26/10/2017
নুয়ো দিনোর ছদক সংগঠনের সদস্য ফরম। এখনো পুরোপুরি শেষ নি। সংশোধন চলছে।
আমাদের "নুয়ো দিনোর ছদক" সংগঠনের নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। আশা করি, সংগঠনের জন্য আগামী ডিসেম্বরে বার্ষিক সম্মেলনর মধ্য দিয়ে আমরা একটা সক্রিয় নতুন নির্বাহী কমিটি উপহার দিতে পারব। তারই ভিত্তিতে নতুনভাবে বিভিন্ন উপায়ে চলছে বিভিন্ন উদ্যোগ, যা নুয়ো দিনোর ছদককে সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হবে। আশা করি সকল উদ্যোগে সফল হয়ে নতুনভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করতে পারবো। যাহাতে ভবিষ্যতে সকল কর্মকাণ্ড সফলতার সাথে সমাপ্ত করতে পারি।
কারোর জন্য দুঃসংবাদ।
সাংগঠনিক কাজের জটিলতার ভিত্তিতেই "নুঅ জাঙাল" ফিল্মটির কাজ এখনো স্থগিত। কাজ শেষ হওয়া এখনো অনিশ্চিত বিষয়। জানালেন পরিচালক।
13/08/2017
Our new organizational production is coming soon in this year.
Nuyo Jangal,Trailer Directed By Supayan | New chakma teleflim
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Contact the school
Website
Address
Rangamati