09/08/2024
Babar : The Conqueror of India.
ভারত বিগত ২ দিন যাবৎ এক্সে প্রচুর প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে বাংলাদেশ নিয়ে। এখন আবার নতুন প্রোপাগাণ্ডা এদেশের জঙ্গি গোষ্ঠী ভারতের সেভেন সিস্টার অর্থাৎ বাংলাদেশ সীমান্তের নিকটবর্তী ৭ টি অঙ্গরাজ্য দখল করে অখন্ড বাংলা তৈরি করবে। তাই কাউন্টার সরূপ উনার ছবি ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রশ্ন হলো "কে উনি?"
বিএনপি-জামায়ত জোট সরকারের শাসনামলে নেত্রকোণা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। তাঁর চুলের স্টাইল, এক পোশাক পুনরায় পরিধান না করা, কট্টর ভারত বিরোধী মনোভাব, উদ্ভট ইংরেজি এবং দেশের অন্যতম গডফাদার হিসেবে বিপুল জনপ্রিয় ছিলেন। চায়না, পাকিস্তান মিলেও অত ক্ষতি করতে পারেনি যতটা বাবর করেছিল ভারতের!
১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার কথা মনে আছে কি?
৪৬৩ টি বাক্স অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয় যার মাঝে ছিল এমটিটি, এসএমজি, টমিগান ৭৯০ টি, গ্রেনেড ২৭ হাজার, রকেট লঞ্চার ১৫০, ম্যাগজিন ৬২০ এবং ১১ লাখ ৪৩ হাজার ৫২০টি গুলি। এসবের আনুমানিক মূল্য ২৭ হাজার কোটি টাকা!
তিনি ১০ ট্রাক ভর্তি অস্ত্র ভারতের ভৌগলিক, রাজনৈতিক, জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান 'শিলিগুড়ি করিডোরে' প্রেরণ করছিলেন। তখন তারা নিজেদের দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু করে, মূলত ভারতের উপনিবেশ থেকে আলাদা হতে চাচ্ছিলো এই সাত অঙ্গরাজ্য যথাক্রমে অরুণাচল প্রদেশ, আসাম, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, ত্রিপুরা এবং মিজোরাম। আর সেখানের স্বাধীনতাকামীদের ১০ ট্রাক অস্ত্র সরবরাহ করে সাহায্য করছিলেন এই মন্ত্রী। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশতঃ এই অস্ত্র পৌছাতে ব্যর্থ হয়!
ভারত সবসময় চাইতো বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে করিডোর করে যেন সরাসরি এই ৭ অঙ্গ রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বিএনপির সময় বাংলাদেশের ভিতর রেল ট্রানজিট প্রস্তাব দিলে ভারতের সাম্রাজ্যবাদী, ঔপনিবেশিক মনোভাবের কারণে কোনো রকম আলোচনা ছাড়াই প্রস্তাব নাকচ করা হয়। কিন্তু স্বৈরশাসক হাসিনার আমলে অবশেষে ভারত এই চুক্তি সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়।
'উই আর লুকিং ফর শত্রুজ!' আইকনিক ডায়লগটির জন্মদাতা এই বাবর। এই মামলায় যদিও তাঁকে আটকানো যায় নি কিন্তু আওয়ামী সরকার ২০০৪ সালের ২১ শে অগাস্ট গ্রেনেড হামলার মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়। বিগত ১৫ বছরের অধিক সময় ধরে তিনি ফাঁসির আসামী হিসেবে কনডেম সেলে রয়েছেন।
১০ ট্রাক অস্ত্র সেদিন চিকেন নেকে প্রবেশ করলে আজ সেভেন সিস্টার্স অক্ষত থাকতো না। ভারত নিজেদের অন্তর্কোন্দলে এতোই ব্যস্ত থাকতো যে, আমাদের দেশের অভ্যন্তরীন বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় থাকতো না । ১৭ বছরের গুম-খুন-রাহাজানি, ত্রাসের রাজত্ব থেকে মুক্ত থাকতো আমাদের এই মাতৃভূমি।
বেগম খালেদা জিয়াকে বলা হয় ইন্ডিয়ার সাথে নেগোশিয়েট করতে। প্রতিত্তোরে তিনি বলেন, "কিন্তু আমার বাবর পাগলাকে বুঝাবে কে?" তারেক রহমান ২০০৩/৪ এর একটা ইন্টারভিউতে বলেছিলন যে বাংলাদেশের আয়তন আরো বাড়বে।
"আসাম আমার, পশ্চিমবঙ্গ আমার, ত্রিপুরাও আমার। এগুলো ভারতের কবল থেকে ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মানচিত্র পূর্ণতা পাবে না।"
– মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
06/08/2024
📌 আমাদের ইতিহাস নিয়ে পড়ার মতো বইয়ের লিস্ট-
আপনিও কমেন্টে চাইলে বইয়ের আরো সাজেশন এড করতে পারেন। আমি কিছু বইয়ের লিংক দিচ্ছি যেগুলোর পিডিএফ আমার কাছে আছে।
"সাংবাদিক ইলিয়াসের ( নট আখতারুজ্জামান ইলিয়াস) ভুগিচুগি সাহিত্য পইড়েন না। একট ট্র্যাপ থাইকা বাইর হইয়া আরেকটায় পা দিয়েন না। এসব ফ্যান্টাসি মার্কা কথাবার্তা শুনতে ভালো লাগলেও এটা ক্ষতিকর। তো যাই হোক কিছু নিউট্রাল সেমি নিউট্রাল বইয়ের লিস্ট দিচ্ছি। সেমি নিউট্রাল কেনো বলছি, কারণ দুনিয়ার কোনো মানুষ এপলিটিক্যাল না। তা সে যতই দাবি করুক লাভ নাই।
আমি যেই লিস্ট গুলা দিচ্ছি এর মধ্যেও সব সঠিক হবে তাও না, হালকা পাতলা ফ্ল থাকতে পারে। যদি আমার কোনে বই পড়ে মনে হইসে যে ফ্ল আছে। ওইটা কারেক্ট করার জন্য আরেকটা বই পড়ছি। ওইটার নামও দিছি। আপনার মাথায় রাখতে হবে, আপনি ৫৩ বছর আগের ইতিহাস পড়তেছেন। বহুবার এটারে কাটাছেঁড়া করা হইছে৷ তাই আমি এমন সব বইয়ের লিস্ট দিচ্ছি যেগুলো তথ্যগত ভাবে সঠিক। আপনি লেখকের ইন্টারপ্রেটেনশন নিবেন না, নিলেও কম নিবেন। আপনি তথ্য নিবেন। এরপর নিজে ইন্টারপ্রেট করবেন। চিন্তার ভার আরেকজনের ওপর ছেড়ে দিলেই আপনার চিন্তা এরা কবজা করে ফেলবে। হ্যাপি রিডিং।
(ওহ প্রথম তিনটা বই মাস্ট রিড এটা আপনাকে বঙ্গবন্ধুর শাসনামলের সবচেয়ে বড় কিছু ঘটনার ধারণা দিবে)
১.জাসদের উত্থান পতন- মহিউদ্দিন আহমদ
২. সিরাজ শিকদারের নির্বাচিত রাজনৈতিক রচনাবলী -সিরাজ শিকদার
৩. লাল সন্ত্রাস- মহিউদ্দিন আহমদ
৪. এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য(১৯৭১-১৯৮১)- জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী (এটা যথেষ্ট নিউট্রাল বই কারণ উনার কোনো মোডাস অপারান্ডি নাই)
৫. ত্রিশ লক্ষ শহীদ- বাহুল্য নাকি বাস্তবতা- আরিফ রহমান
৬. After the dark night- SM Ali(Daily Star)
৭. আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর - আবুল মনসুর আহমেদ
৮. বাংলাদেশের রাজনীতি -প্রফেসর ফিরোজা বেগম
৯. ১৯৭১ ভেতরে বাইরে- একে খন্দকার বীর উত্তম
১০. তিনটি সেনা অভ্যুথ্থান ও না বলা কিছু কথা- Lt Col. MA Hamid
১১. একাত্তরের করতলে ছিন্ন মাথা- হাসান আজিজুল হক
১২. History of Bangladesh- MA Hannan
১৩. পরবাসে বন্ধু আমার- আরিফ রহমান
১৪. যদি দুইদলের কামড়াকামড়ি পড়তে চান তাইলে,
ভয়ের দেশে লয়ের দেশে- আখতারুজ্জামান আজাদ
১৫ মুজিবের রক্ত লাল- এম আর আখতার মুকুল
১৬. The betrayal of East Pakistan- Lt. general Niazi(মনে রাইখেন আপনি নিয়াজীর লেখা বই পড়তেছেন)
১৭. A witness to surrender- সিদ্দিক সালেক
১৮. বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা- ফ্যাক্টস এন্ড উইটনেস( আফম সাইদ)
১৯. কারাগারের রোজনামচা/ অসমাপ্ত আত্মজীবনী- বঙ্গবন্ধু
(এটা দেওয়ার কারণ এই দুইটা বইয়ের তথ্যগুলোকে কেউ এখনো কাউন্টার করতে পারেনি তাই ঘটনাপ্রবাহগুলোকে আপাতদৃষ্টিতে সত্য ধরে নেওয়া যায়)
২০. সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইন্টিলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অব দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’( পাকিস্তান ইনটেলিজেন্সের নথির ওপর লেখা, এটা থেকেও শুধু তথ্য নিবেন)
২১. বেহাত বিপ্লব - সলিমুল্লাহ খান (পড়তে পারেন, তবে শুধু তথ্য নিবেন। উনার ইন্টারপ্রেটেনশন মাঝে মধ্যে অতিরঞ্জিত হয়ে যায়)
২২.মুক্তিযুদ্ধ কেনো অনিবার্য ছিলো- ড. কামাল হোসেন
২৩. Bangladesh a legacy of Blood- Anthony Mascarenhas
২৪. রাফিউল ইসলাম সাজিদ A Stranger in My Own Country: East Pakistan, 1969-1971
Book by Khadim Hussain Raja
২৫. বাংলাদেশ যখন স্বাধীন হচ্ছিলো - বের্নার অঁরি লেভি
২৬. মুজিব বাহিনি থেকে গণবাহিনী- ইতিহাসের পুনর্পাঠ - আলতাফ পারভেজ
২৭. মূলধারা ৭১- মইদুল হাসান"
২৮. দাসপার্টির খোঁজে-হাসান মোরশেদ
© রাফিউল ইসলাম সাজিদ