11/06/2025
প্রথম মহা যুদ্ধের ইতিহাস
সময়কাল ১৯১৪ সাল থেকে ১৯১৮ সাল
এই যুদ্ধের ইতিহাস জানতে গেলে প্রথমে ব্যাকগ্রাউন্ডটা জানতে হবে
যুদ্ধের আগে দুইটা বড় বড় জোট গঠন হয় যার একটার নাম ট্রিপল অ্যালায়েন্স এবং আরেকটা ত্রিপল এন্টিটি .
ট্রিপল অ্যালায়েন্স হচ্ছে অস্ট্রিও হাঙ্গেরি জার্মানি এবং ইটালি মিলে একটি জোট করে।
আর ট্রিপল এন্ট্রিটি হচ্ছে রাশিয়া ইউকে এবং ফ্রান্স যুক্ত হয়ে ট্রিপল এনটিটি গঠন করে। এইসব জোট গঠন করার পিছনে রয়েছে ইউরোপিয়ান দেশগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক বিবাদ পারস্পর সুরক্ষা পারস্পার স্বার্থ পারস্পরিক নিরাপত্তা ইত্যাদি।
এবার মহাযুদ্ধের কারণগুলো যদি আলোচনা করি সেক্ষেত্রে সাম্রাজ্যবাদ, জাতীয়তা শিল্প বিপ্লবের প্রভাব, বলকান অঞ্চল দখল এবং অস্ট্রিও হাঙ্গেরি যুবরাজ কে হত্যা ।
সাম্রাজ্যবাদ বলতে ওই সময়টাতে কিছু দেশ সাম্রাজ্য বিস্তার করছিল। এদের মধ্যে কলনিয়াল মাস্টার ছিল পাঁচটা দেশ ফ্রান্স, পর্তুগাল, স্পেন , ব্রিটেন এন্ড আয়ারল্যান্ড। এই দেশগুলো সারা বিশ্ব দখল করে রেখেছিল। এই পাঁচটা দেশ ছিল কলনিয়াল মাস্টার। এদের বাইরে জার্মান চিন্তা করছিল আর কোন দেশ দখল করা যায়। দখল করার মত আর কোন দেশ ও ছিল না। শিল্প বিপ্লব মহাযুদ্ধের আরেকটি কারণ এবং শিল্প বিপ্লবের কারণে যে কাঁচামাল প্রয়োজন তা ঐ উপনিবেশ দেশগুলো থেকে কলনিয়াল মাস্টাররা নিয়ে আসতো। আর জার্মানরা চিন্তা করছিল কিভাবে অন্য কোন দেশ দখল করা যায়। প্রত্যেকটা দেশ তাদের জাতিকে সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি মনে করত। যখন ব্রিটিশরা বা জার্মানরা বা রাশিয়ানরা প্রত্যেকের তাদের জাতিকে শ্রেষ্ঠ জাতি মনে করত।
বলকান অঞ্চল গুলি সম্পর্কে যদি বলি সেটা হচ্ছে পাহাড় সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল যেখানে বিভিন্ন খনিজ সম্পদে ভরপুর। যেখানে সাম্রাজ্যবাদ শিল্প বিপ্লবের জন্য কাঁচামাল এসবের জন্য ইউরোপিয়ান দেশগুলো মরিয়া হয়ে উঠেছে সেখানে তাদের অঞ্চলে বলকান অঞ্চলের মতো খনিজ সম্পদে ভরা অঞ্চল রয়েছে। বলকান অঞ্চলের পাশে ছিল স্লাভ জাতি। এই বলকান অঞ্চল আর স্লাভ জাতিকে দখল করার জন্য ইউরোপে দেশগুলোর মধ্যে conflict চলছিল। স্ল্যাভ জাতিরা ছিল রুশভাশি। তাই তাদের প্রতি রাশিয়ানদের একটা সফট কর্নার ছিল, তারা ইউরোপে বসবাস করার জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গা পাচ্ছিল না। এই বলকান অঞ্চল দখল করার জন্য দুটি প্রতিবেশী দেশ এক হচ্ছে অস্ট্রিও হাঙ্গেরি আর একটা হচ্ছে সার্বিয়া। সার্বিয়ারা স্লাভ জাতি ও বলকান অঞ্চল নিজেকে মধ্যে দখল করার প্ল্যান করল কিন্তু এর মধ্যে অস্ট্রিওহাঙ্গেরি অলরেডি দখল করে নিল। এতে অস্টিও হাঙ্গিরি আর সার্বিয়ার মধ্যে পুরোদমে conflict তৈরি হয়ে গেল। সার্বিয়ার পক্ষে গেল রাশিয়া বড় ভাই। আর অস্ট্রিয়া হাঙ্গেরি পক্ষে গেল জার্মানি।
এদিকে অস্ট্রিও হাঙ্গেরি যুবরাজ আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দ ও তাঁর স্ত্রী সোফি অস্ট্রিও হাঙ্গেরি দখলকৃত একটি জায়গা বসনিয়া তে ঘুরতে গেলে উনি কয়েকদিনের মধ্যেই তার স্ত্রীসহ হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। সার্বিয়ার গেরিলা বাহিনী তাদেরকে হত্যা করে। তারপর থেকে মূলত যুদ্ধের ঘন্টা বেজে ওঠে। অস্টিও হাঙ্গেরি ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে সার্বিয়ার কাছে তাদের যুবরাজের হত্যাকারীদের তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য বলে। কিন্তু সার্বিয়া সেই লেভেলে কোয়াপারেট করেনি। এরপরে অস্ট্রিও হাঙ্গেরি আরও এক মাস আল্টিমেটাম দেয় অর্থাৎ অর্থাৎ 28 জুন হয়ে গেল ২৮ জুলাই ১৯১৪। অর্থাৎ একমাস ডেট ওভার হয়ে গেলে ২৮ জুলাই ১৯১৪ সালে অস্ট্রিও হাঙ্গেরি সার্বিয়া অ্যাটাক করে বসে। অর্থাৎ অস্ট্রিও হাঙ্গেরি সার্বিয়া কে অ্যাটাক করার মাধ্যমে 28 জুলাই ১৯৪৫ সাল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যে কয়েকটা দেশ যুদ্ধ অংশগ্রহণ করেন তাদেরকে মূলত দুইটা ভাগে ভাগ করা হয়। কারণ হচ্ছে এখানে কেউ নিজে থেকে যুদ্ধ করতে এসেছে আর কেউ কয়েকটা দেশ একত্রিত হয়ে সেটা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছে। এখানে একটা হচ্ছে অক্ষশক্তি অর্থাৎ যেটা প্রথমে আক্রমণ করে আর আরেকটা হচ্ছে মিত্রশক্তি যেটা প্রতিরোধ করে।
অক্ষশক্তি হিসেবে আছে অস্ট্রিও হাইংগেরি, জার্মানি, তুরস্ক ও বুলগেরিয়া।
মিত্রশক্তি হিসেবে আছে সার্বিয়া, রাশিয়া, বেলজিয়াম, ইউকে, ফ্রান্স, ইউএস এ, জাপান।
বেলজিয়াম দেশটি প্রথম মহাযুদ্ধের সময় বাফার স্টেট হিসেবে কাজ করে। আমরা যদি মানচিত্র টি দেখি দেখা যাবে বেলজিয়াম জার্মানে জাস্ট পশ্চিম পাশে অবস্থিত। রাশিয়াকে অ্যাটাক করতে গেলে বেলজিয়াম থেকে জার্মানি অ্যাটাক করা শুরু করল আবার রাশিয়া জার্মানিকে অ্যাটাক করতে গেলে বেলজিয়ামেতেই অ্যাটাক করা শুরু করল। অর্থাৎ জার্মানির সৈন্যরা বেলজিয়ামে অবস্থান করছিল। অর্থাৎ রাশিয়া বোমা ফেলেছে জার্মানিতে কিন্তু বোমা পড়ছে বেলজিয়ামের মাঠে, আবার জার্মানি অ্যাটাক করছে বেলজিয়ামের মাঠ থেকে। এভাবে বেলজিয়াম ধ্বংস হতে লাগলো আর বাফার স্টেট হিসেবে রয়ে গেল। বেলজিয়াম কে বাঁচার জন্য ইউকে জার্মানিকে বললো কেন বেলজিয়াম কে এভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে। তখন ইউকে বেলজিয়ামের পক্ষ থেকে জার্মানিকে অ্যাটাক করা শুরু করল। এভাবে ইউকে জার্মানি যুদ্ধ শুরু হলো। তার মানে হিসেবটা এখন দাঁড়ালো ইউকে রাশিয়ার দলে যুক্ত হল।
অন্যদিকে ফ্রান্স সুযোগ খুঁজছিল কিভাবে জার্মানির বিপক্ষে যাওয়া যায়? কারণ ইতিমধ্যে ফ্রান্স জার্মানির বিপক্ষে চুক্তি করে, কেননা ফ্রান্স ও জার্মানি যুদ্ধে ফ্রান্সের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয় ফ্রান্স থেকে জার্মানি অনেক দেশ দখল করে তাই ফ্রান্স সুযোগ খুঁজছিল কিভাবে জার্মানির বিপক্ষে যুদ্ধ করা যায়। অন্যদিকে জার্মানিও চিন্তা করছিল যে কোন মুহূর্তে ইউকে জার্মানিতে ঘাঁটি বসাতে পারে এবং ফ্রান্স থেকে তাদের আক্রমণ করতে পারে কেননা ফ্রান্স দেশটি ঠিক জার্মানির নিচে ছিল। তাই জার্মানি ফ্রান্সকে একটি চিঠি পাঠালো যেটাকে চরমপত্র বলা হয়। ফ্রান্স এই চিঠির কোন উত্তর দেয়নি। তাই জার্মানি ফ্রান্সের উপর বোমা মেরে বসলো। এভাবে ফ্রান্স প্রথম মহাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে জার্মানি বিরুদ্ধে।
এখন প্রশ্ন আসতে পারে তুরস্ক কিভাবে ইউকে বিরুদ্ধে গেল? আমরা জানি যে তুরস্কে একসময় অটোমান সাম্রাজ্য বা ওসমানীয় খেলাফত এর অধীনে ছিল। এই অটোমান সাম্রাজ্য কে ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য দুর্বল করার জন্য ইউকে বিভিন্ন চাল চাল ছিল তারা চাচ্ছিল এই পৃথিবীতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্টাবলিশ করতে ওসমানীয় সাম্রাজ্য বা ইসলামিক সাম্রাজ্য ধ্বংস করতে। তারা চেয়েছিল বৈশ্বিক যে শাসন সেটা ব্রিটিশদের কেন্দ্রিক করে রাখতে। এবং তারা কিন্তু এক সময় সফল হয় কারণ আমরা জানি ১৯২৪ সালে উৎপন্ন খেলাফতের পতন ঘটে এবং এর পিছনে ইউকের অনেক হাত আছে। তাই তুরস্ক উৎপন্ন খেলাফতকে রক্ষা করার জন্য ইউকে বিরুদ্ধে যায় এবং জার্মানির পক্ষে যোগদান করে।
এখন আমেরিকা কিভাবে এই প্রথম মহাযুদ্ধে যোগদান করে সেটা আমরা দেখব। জার্মানি নৌ বাহিনীর নাম ছিল ইউ-বোট। ১৯১৭ সালে জার্মানি বালটিক সাগর দখল করে নেয়। তারা একচেটিয়া আধিপত্য গ্রহণ করে উইকে তখন কোণঠাসা হয়ে যায়। জার্মানিরা ভুলে ইউকে জাহাজ মনে করে আমেরিকার একটি জাহাজ লুশিতানিয়া কে ডুবিয়ে দেয়। এভাবে আমেরিকা এই মহাযুদ্ধে অংশগ্রহণ নয়। এভাবে আমরা দেখলাম কোন পরাশক্তি কিভাবে কোন দলের অংশগ্রহণ করে।
এখন আমরা প্রথম মহা যুদ্ধের পরিসমাপ্তি দেখব। এই পরিসমাপ্তিতে ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের একটা প্রভাব রয়েছে। এর মধ্যে ১৯১৭ সালে যখন জার্মানিরা বাল্টিক সাগর দখল করে নেয় এবং ইউকে কে কোণঠাসা করে দেয়, তখন তাদের একটা ইহুদি বিজ্ঞানী বিকল্প অস্ত্র ব্যবহার করার একটি কেমিক্যাল এসিটোন আবিষ্কার করে দেন এবং এর ফলে ইউ কে আবার জার্মানির উপর প্রভাব বিস্তার করতে থাকে এবং সমুদ্র থেকে জার্মান বাহিনীকে বের করে দিল। এভাবে জার্মানি দুই দিক থেকে বিপদে পড়ল একদিকে সাগর থেকে ইউকে বাহিনীর কাছে কোণঠাসা পশ্চিম দিক থেকে মিত্র বাহিনীর কাছে কোণঠাসা। তখন জার্মানি সাধারণ লোকদের মধ্যে একটি বিপ্লব উঠে আসলো কারণ তারা রুশ বিপ্লবের প্রভাবে প্রভাবিত হয়েছিল। কিন্তু তাদের এই বিপ্লব সাকসেসফুল হয়নি। তখন জার্মানির কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়াম জার্মান দেশ থেকে পালিয়ে যায়। তার মানে যুদ্ধের নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে আসে। এরপর ফ্রেডরিক আবর্ড নামে একজন জার্মানি চ্যান্সেল হিসেবে নিযুক্ত হন যিনি যুদ্ধের কোন প্রয়োজন, প্রফিট বা কারণ খুঁজে পাচ্ছিল না। কারণ এরমধ্যে জার্মানির অর্থনৈতিক বা আদর্শ শক্তির অনেক ডিক্লাইন হয়েছিল। এবং প্রতিপক্ষের বিশাল চাপ ও শক্তির কাছে জার্মানি পুরাই কোণঠাসা হয়ে গেছিল। ঠিক ওই সময় মিত্র বাহিনীর যে সামরিক প্রধান ছিল জেনারেল ফচ। এই জেনারেল প্রধানের কাছে ১৯১৮ সালে র ১১ ই নভেম্বর এক চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে জার্মান বাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং প্রথম মহাযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। জার্মান নেতৃত্বে অক্ষশক্তির পরিসমাপ্তি ঘটে।
02/05/2025
আরব-ইসরাইল যুদ্ধ: আরবদের পরাজয় ও ইসরায়েলের যুদ্ধবাজির ভেল্কি:
আরব ভূখন্ড ফিলিস্তিনের এক অংশ দখল করে ইসরাইল নামক ইহুদি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয় ৷ স্বাভাবিক ভাবেই আরবদের তা মেনে নেয়ার কথা নয় ৷ আর যেদিন ইজরাইল আত্মপ্রকাশ করে সেই দিনই প্রতিবেশী ইজিপ্ট, জর্ডান, সিরিয়া ও ইরাক সম্মিলিতভাবে ইজরায়েলের উপর হামলা শুরু করে। শুরু হয় প্রথম আরব ইজরায়েল যুদ্ধ।
এই চারটি দেশকে পরোক্ষভাবে যুদ্ধে সহায়তা করেছিল সৌদি আরব , ইয়েমেন, সুদান ও মরক্কো। ইসরাইল কে প্রথম থেকেই সহযোগিতা করছিল আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন। ৯ মাস যুদ্ধের পর ইসরাইল আরব সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করে। প্রস্তাবিত প্যালেস্টাইন এর কিছু অংশ দখল করে নেয়। এই যুদ্ধের পর প্যালেস্টাইনের কিছু টেরিটোরি যেমন গাঁজা চলে যায় ইজিপ্টদের কন্ট্রোলে। পুরো ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক চলে যায় জর্ডান এর কন্ট্রোলে। ফলে প্যালেস্টিন দের আর কোন থাকার জায়গা রইল না। তাদের গাঁজা পুরো ইস্ট ব্যাঙ্ক চলে যায় ইজিপ্ট ও জর্ডানদের দখলে। আশেপাশে আরব রাজ্যগুলোতে উদ্বাস্তুর মত বসবাস করতে থাকে। কিন্তু আরব দেশগুলো তাদেরকে নাগরিকত্ব দিত অস্বীকার করে। যখন প্যালেস্টাইনার উপরে ইসরাইলদের দখলকৃত জায়গার ফেরত চায় তখন ইসরাইলরা বলে যে জর্ডান ও ইজিপ্ট যে জায়গা দখল করেছে সেখানেই হোক প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র। এভাবেই প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র থেকে বঞ্চিত হয় প্যালেস্টাইন রা। ইসরাইলের হাতে আরব দেশগুলো পরাজিত হওয়ার বদলা নেওয়ার জন্য তারা পুনরায় ইসরাইলকে হামলা করার জন্য পরিকল্পনা করতে থাকে। এই সময় ইজিপ্টের রাষ্ট্রপতি সুয়েজ খালকে ন্যাশনালাইজড করে দেন। এখন ইসরাইলের জাহাজ গুলির পারাপারের অনুমতি দেওয়া হয় না। সুয়েজ ক্যানেল পশ্চিম এশিয়ার সঙ্গে ইউরোপের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। ফলে ইসরাইলের সমুদ্র পথ ও জাহাজগুলো চলাচল বন্ধ হয়ে যায় । এর ফলে ইজরাইল, ব্রিটেন ও ফ্রান্স এক জোটে ইজিপ্ট আক্রমণ করে । এই যুদ্ধকে সেকেন্ড আরব যুদ্ধ বা সুয়েজ ক্রাইসিস বলা হয়। এই যুদ্ধে যুদ্ধের সিনাই পেনিসুলা কব্জা করে নেয় ইসরাইল। অবশেষে ইসরাইল তা ফেরত দিয়ে দেয় এবং ইজিপ্ট প্রতিশ্রুতি দেয় সমুদ্রের পথ নিয়ে ঝামেলা করবে না। অবশেষে প্যালেস্টাইন আরবরা বুঝতে পারল যে আরবদের উপর ভরসা না করে তাদের নিজেদের কিছু করতে হবে। এ থেকে সৃষ্টি হওয়া নতুন একটা সংগঠন পি এল ও। প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন। এরপর ১৯৬৭ সালে আরব দেশগুলোর সাথে পুনরায় ইসরাইলের যুদ্ধ হয়। প্রধানত ইজিপ্ট, জর্ডান ও সিরিয়া সম্মিলিত আরব বাহিনীর সাথে ইজরাইলের যুদ্ধ হয়।
একে বলা হয় তৃতীয় আরব যুদ্ধ বা সিক্স ডে ওয়ার। কিন্তু ছয় দিনব্যাপী চলা এই যুদ্ধের শেষে ইসরাইলের সৈন্য বাহিনী আরব বাহিনীকে পরাজিত করে ইজিপ্টের হাত থেকে সিনাই পেনিসুলা সহ গাঁজা স্ট্রিপ আর জর্ডানের হাত থেকে ওয়েস্ট ব্যাংক নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়। এছাড়াও সিরিয়ার টেরিটোরির থেকে কিছু অঞ্চল ছাড়াও জেরুজালেমকে দখল করে। জেরুজালেম সহ জুডিয়া ও সামারিয়া অঞ্চলগুলো দখল নেওয়ার পর সমস্ত ওয়েস্ট ব্যাংকের অঞ্চলগুলো নিজেদের কব্জায় আনার জন্য ইসরাইলের জন্য নতুন সেটেলমেন্ট গড়ে তোলার কাজ শুরু করে। ছাড়াও সেখানকার আরব জনগণকে ইসরাইলি মিলিটারি শাসনব্যবস্থায় রাখা হয়। যা আজ পর্যন্ত চলে আসছে। ১৯৭৩ সালে আরেকবার যুদ্ধ হয় ইজরায়েল ও আরব দেশগুলোর সাথে। তখন আমেরিকা সঙ্গে সোভিয়েট ইউনিয়নের কোল্ড ওয়ার চলছিল। ইসরাইলকে একপাশ থেকে সাপোর্ট দিচ্ছিল আমেরিকা আর আরব বিশ্বকে সাপোর্ট দিয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। এই যুদ্ধেও ইসরাইল পরাজিত করে আরব সম্মিলিত বাহিনীকে। ইসরাইল পুনরায় দখল করে সিনাই পেনিনসুলা। পুনরায় জাতিসংঘের হস্তক্ষেপে সব তথ্যই যুদ্ধবিরতিতে সমর্থন দেয়। ইজিপ্ট পেনিসুলা ফিরে পাওয়ার বদলেতে ইসরাইলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করে। এখন ইজিপটি প্রথম আরব দেশ হিসেবে ইসরাইলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে।
এদিকে ফিলিস্তিনিদের পি এল ও এর গ্রহণযোগ্যতা সারা ওয়ার্ল্ড এ ক্রমশ বার ছিল। ১৯৭৪ সালে জাতীয় সংঘের সাধারণ সভায় নন স্টেট নেতা হিসেবে বক্তব্য রাখেন পি এল ও এর চেয়ারম্যান ইয়াসির আরাফাত।
পাশাপাশি প্যালেস্টাইন ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক ও গাজায় ইসরাইলি সেটেলমেন্ট গড়ে ওঠার কাজ চলছিল যা জাতিসংঘের নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও। ঐ সকল অঞ্চলে আরবদের উপর নানা রকম নিয়ম লাঘব করে ইহুদিরা। সেখানকার আরবরা হয়ে যায় ইহুদীদের কম বেতনের শ্রমিক। তাদের প্রতি এই ধরনের বৈষম্য এবং উপনিবেশ আচরণের পি এল ও এর নেতৃত্বে বিদ্রোহ শুরু হয়। দমন ও পিরনের মাধ্যমে ইজরাইলি সৈনিকরা দমন করলেও আন্তর্জাতিকভাবে ইহুদিরা অনেক সমালোচিত হয়। পি এল এর অ্যাক্টিভিটি স দিনে দিনে বাড়ছিল যেটা ইহুদিরা মনে করল যে একসময় এই পি এল ওই তাদের চরম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়াবে। তাই তাদের মধ্যে বিভাজন ও রাজনীতি করার জন্য ইসরাইলরা মাঠে নামায় হামাস। পি এল ও ছিল বামপন্থী চিন্তাধারার সেকুলা সংগঠন।
হামাস ছিল কট্টর ইসলামী সংগঠন ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন। যারা ইসরাইলের পরোক্ষ মদদে ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছিল। ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত পি এল ও এর অ্যাক্টিভিটিস এ পি এল ও এর সাথে আলোচনায় বসতে এক প্রকার বাধ্য হয় ইসরাইল। নরওয়ে অসলো চুক্তির পর পি এল এর প্রধান ইয়াসির আরাফাত, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ,ইজরাক নবীন এবং আমেরিকার রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিনটন এর উপস্থিতিতে অসল একক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই শান্তি চুক্তি অনুযায়ী পি এল ও ইসরাইলকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকার করে নেয় আর ইসরাইল পি এল ও কে প্যালেস্টাইন জনগণের একটি বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে মেনে নেয়। গাঁজা স্ট্রিপ এবং ওয়েস্ট ব্যাংকে একটি অন্তবর্তী সরকার গঠনের মাধ্যমে এই শান্তি চুক্তি মেনে মেনে নেয় পি এল ও । বিপক্ষের সম্মতিতে একটু অন্তর্বর্তী সরকার প্যালেস্টেনিয়ান অথরিটি নামক গঠন করা হয় যারা পরবর্তী পাঁচ বছর গাজা ওয়েস্ট ব্যাংক শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করবে। আর এই দুই অঞ্চল থেকে ইসরাইলের সৈন্য ধীরে ধীরে সরিয়ে নেওয়া প্রক্রিয়া চলতে থাকবে। এই শান্তি চুক্তি হওয়ার পরে বছর অর্থাৎ ১৯৯৪ সালে ইয়াসির আরাফাত, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ইজ্জাক রবিন বিদেশ মন্ত্রী শ্রীমান প্রেস আর পি.এল.ও এর চেয়ারম্যান ইয়াসের আরাফাত এই তিনজনই শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। ১৯৯৫ সালে দ্বিতীয় অসলো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি অনুযায়ী সমস্ত ওয়েস্টবেঙ্গল গাজা তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা হয় যার ম্যাক্সিমাম অঞ্চলে ইসরাইলদের হাতে থাকে। অর্থাৎ ইউ এন পার্টিশন অনুযায়ী যেই অঞ্চলে প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র তৈরি হওয়ার কথা সেই অঞ্চলের অসল চুক্তি অনুযায়ী মাত্র সামান্য ভগ্নাংশ প্যালেস্টাইনদের জন্য রাখা হয়। দুই পক্ষেরই কট্টর সংগঠন রা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পি এল ওর সাথে এই ধরনের চুক্তি করার কারণে ইসরাইল প্রধানমন্ত্রী গুলিতে খুন হন। আর সামান্য ভগ্নাংশ পাওয়া পি.এল.ও সন্তুষ্ট থাকার কারণে সমগ্র প্যালেস্টাইন জাতি পি.এল.ও প্রতি অসন্তুষ্ট এবং তাদের প্রতি নির্ভরশীলতা আস্থা সব হারিয়ে ফেলে। তাদের জনসমর্থনে ভাটা পড়ে। আর এই সুযোগ পেয়ে কাজে লাগায় হামাস। তারা পি এল এর উপরে আক্রমণ চালানোর পাশাপাশি ইজরায়েলের উপর ও আক্রমণ চালাতে থাকে। সাধারণ প্যালেস্টাইন নিয়োগের মনে হামাসের উপর বিশ্বাস বাড়তে থাকে। তাদের মনে হয় প্যালেস্টাইন ওদের জন্য স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য হামাস একমাত্র যোগ্য প্রতিনিধি। ধীরে ধীরে হামাস হয়ে ওঠে প্যালেস্টিন দের একমাত্র প্রতিনিধি। তারপর থেকেই হামাসের সাথে ইসরাইলিদের ছোট বড় নানান যুদ্ধ সংঘর্ষ ঘটতেই থাকে। তবে হামাসের এই ধরনের অ্যাক্টিভিটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্যালেস্টিন গড়ে ওঠার তেমন কোন জোরালো পরিস্থিতি গড়ে ওঠেনি। বরং হামাসের হঠাৎ ইসরাইলের উপর আক্রমণ এর কারণে পরিস্থিতির চূড়ান্ত অবনতি হয়েছে। এরপর থেকে ইসরাইল লাগাতার আক্রমণ চালাচ্ছে গাজার উপরে। এই লাগাতার আক্রমণে গাঁজা আর ধ্বংসস্ত স্তূপে পরিণত হয়েছে।
Send a message to learn more
02/05/2025
ইসরাইল প্যালেস্তাইনের বিবাদ একটি বড় সমস্যা, এবং পৃথিবীতে বর্তমানে একটু অমীমাংসিত সমস্যা।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউনাইটেড ন্যাশনের পার্টিশন প্ল্যান অনুযায়ী প্যালেস্টাইন অঞ্চলে দুটি পৃথক রাষ্ট্র গঠন করার কথা ছিল। একটি হলো ইহুদিদের দেশ ইজরায়েল আরেকটি হলো আরবদের দেশ প্যালেস্টাইন। কিন্তু ১৯৪৮ সালের ১৫ই মে তারিখে একটি আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র ইসরাইল গঠন হলেও, প্যালেস্টাইন একটি আলাদা রাষ্ট্রীয় হিসেবে গঠন হতে পারল না।২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত, জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৪৭টি, অর্থাৎ জাতিসংঘের ৭৫% এরও বেশি, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে । নভেম্বর ২০১২ সাল থেকে এটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একটি অ-সদস্য পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র।
আর তখন থেকেই ইসরাইল প্যালেস্তাইনের বিবাদ একটি বড় সমস্যা, এবং পৃথিবীতে বর্তমানে একটু অমীমাংসিত সমস্যা।
এই বিবাদ এই দ্বন্দ্ব কিন্তু এই শতাব্দীর নয় এ দ্বন্দ্ব বহু আগে থেকে হাজার হাজার বছর আগে থেকে। এজন্য আমাদের যেতে হবে কয়েক হাজার বছর পূর্বে ইতিহাসে।
এজন্য আমাদের যেতে হবে ব্রোঞ্জ যুগে অর্থাৎ খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ শতাব্দীতে। তখন নগর সভ্যতা তৈরি হওয়া শুরু হয় নানান জায়গায়। এই অঞ্চলের জর্ডান লেবানন সিরিয়া ঘিরে একটি অঞ্চল গঠিত হয় যার নাম কেন্নান সভ্যতা।
এই ইতিহাস জানতে গেলে ধর্ম সম্পর্কে একটু জানতে হবে।
ইহুদী ধর্মের জাতির পিতা এবং ইসলাম ধর্মের জাতির পিতা একজন ই, হযরত ইবরাহীম(আঃ)। তিনি ইরাক অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। তারপর তিনি ক্যাননান অঞ্চলে চলে আসেন। ইবরাহীম(আঃ) এর দুই পুত্র, ইসহাক(আঃ) আর ইসমাইল(আঃ)। আল্লাহর নির্দেশে পুত্র ইসমাইল আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার মা হাজেরা কে নিয়ে উনি মক্কায় রেখে আসেন । হয়রত ইসহাক(আঃ) এর পুত্র ছিলেন হযরত ইয়াকুব(আঃ), উনার আরেক নাম ইস/রা/ইল। এই ইয়াকুব(আঃ) এর বংশকে আল্লাহ্ তা'আলা বনি-ই/সরা/ইল নামে সম্বোধন করেছেন। ইসহাক আলাইহি ওয়াসাল্লামের ১২ জন পুত্র থাকে। ১২ জনের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উল্লেখযোগ্য ছিলেন জুদাহ, যাকে ইহুদা বলা হত। এখান থেকে আসে ইহুদী। এই জুদাহ থেকে বলা হয় জিউ। আর ধর্মকে বলা হয় জুদাই জম।
ই/হু/দী ধর্ম আর বংশ দুটো আলাদা। সব ইহুদী বংশের লোক ইহুদী ধর্মের হলেও সব ইহুদী ধর্মের লোক ই ইয়াহুদার বংশ নয়। এই ইয়াহুদা ই কিন্তু তার আপন ভাই ইউসুফ(আঃ) কে কূপে ফেলে হত্যা করতে চেয়েছিল! ৪ হাজার বছর আগে ইসহাক(আঃ) এর মৃত্যুর পর ইয়াকুব(আঃ) আল্লাহ্'র নির্দেশে শামনগরী (সিরিয়া) থেকে কেনানে হিজরত করেন। এই কেনান ই বর্তমানের ফিলিস্তিন। এরপর থেকে এই অঞ্চল ইজরায়েলদের অঞ্চল হিসেবে পরিচিত হয়। পরবর্তীতে এই কেননান অঞ্চলে বিভিন্ন আক্রমণ হয় ইজরাইলরা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে বিশেষ করে তারা মিশরে চলে যায়।
মিশরের তখনকার রাজা ছিলেন ইউসুফ(আঃ), যিনি ইয়াকুব(আঃ) এর ১২সন্তানের মধ্যে ১১তম। সেই কারণে ইয়াহুদা ও তার বংশ মিশরে অনেক দাপটের সাথে থাকতে শুরু করে।
তারপর কালের পরিক্রমায় ক্ষমতা যায় ফারাও রাজাদের হাতে। ফেরাউন এসে বনি-ই/সরা/ইলদের এত অত্যাচার শুরু করে যে এরা সারাদিন 'ইয়া নাফসী' 'ইয়া নফসী' করতো।
তখন আল্লাহ্ তাদের কাছে পাঠালেন মূসা(আঃ) আর তাওরাত কিতাব। মুসা(আঃ) ফেরাউনকে নীলনদে ডুবানোর মাধ্যমে বনি-ই/সরা/ইল মুক্তি পায়।
তারপর মূসা(আঃ) সবাইকে নিয়ে কেনানে (ফিলিস্তিন) ফিরে যান। ইহুদিরা এরপর তাদের প্রমিস ল্যান্ড কেননান অঞ্চলে বসবাস করতে থাকে। পরে তারা সেখানে গিয়ে আল্লাহ্'র অশেষ রহমত পাওয়া সত্ত্বেও মুসা(আঃ) এর ওফাতের পর আবার আল্লাহ্ কে ভুলে যায়, গরুপূজা সহ নানা রকম অনাচার শুরু করে।
তারপর তাদের মধ্যে ক্ষমতার লোভে নিজেদের একতা ভেঙ্গে যায়, ভিনদেশীরা তাদের এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাদের আবার গোলাম বানিয়ে অত্যাচার করতে থাকে।
যীশু খ্রীষ্ট এক হাজার বছর পূর্বে ইহুদিদের রাজা শাওল কিংডম অফ ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করেন। ওখানে অবস্থানরত গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনেরা কিংডম অফ ইসরাইল আক্রমণ করলে এর ১০০বছর পরে দাউদ(আঃ) আর উনার ছেলে সুলাইমান(আঃ) এর মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা আবারও এই অত্যাচার থেকে তাদেরকে মুক্তি দেন। দাউদ আঃ পাশে রাজ্য জুদা অঞ্চল দখল করেন। পরবর্তীতে দুই অঞ্চল মিলে ইউনাইটেড কিংডম অফ ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি তার রাজ্যের রাজধানী করেন জেরুজালেমকে। তার মৃত্যুর পর তার সন্তান সুলাইমান আলাইহিস সালাম রাজা হল। সুলাইমান আলাইহিস সালাম এখানে পবিত্র একটা টেম্পল তৈরি করেন যেটাকে সোলায়মান টেম্পল বলে। এটাকে প্রথম টেম্পল অফ জেরুজালেম বলা হয়। এটাকে বলা হয় টেম্পল মাউন্ট। সুলাইমান আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পর এই দুইটা অঞ্চল জুডা ও ইসরাইল আলাদা হয়ে যায়। কিন্তু সুলাইমান(আঃ) এর মৃত্যুর পর ই/হু/দীরা আবার শয়তানের পূজা শুরু করে। তাদের ভিতরে থাকা ধর্ম ব্যবসায়ীরা তাওরাত কিতাবের মধ্যে নিজেদের সুবিধামত সংযোজন-বিয়োজন করার মতন ধৃষ্টতা দেখায়। তারা তাওরাতে সংযোজন করে যে, "আল্লাহ্ তায়ালা ইসহাক(আঃ) এর স্বপ্নে কেনানকে ইহুদীদের জন্য প্রমিজ ল্যান্ড হিসেবে দিয়েছেন, এটা তাদের জয় করে নিতে হবে।" এটাকে তারা 'জেকব লেডার ড্রিম' বলে।
তাদের এমন নির্লজ্জতা ও ধৃষ্টতার কারণে তারা বারবার আল্লাহ্'র শা/স্তির মুখে পড়েছে। যেমনঃ কখনো গৃহহীন হয়ে যাযাবরের মতো ঘুরেছে, ব্যবিলনীয় সাম্রাজ্যের দ্বারা গণহ/ত্যার শিকার হয়েছে, রোমান সাম্রাজ্যের দ্বারা সিরিয়া থেকে আরব দেশে বিতাড়িত হয়েছে। মহানবী(সাঃ) এর সময় তারা আরব দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে চলে যায় ইউরোপে। আর উমার(রা:) ফিলিস্তিন ও আল-আকসা বিজয় করেন। আজ ইস/রা/য়েলের এতো ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইউরোপও তখন তাদেরকে আশ্রয় দেয়নি।
ব্যবিলনীয় সাম্রাজ্য পুরো জেরুজালেম দখল করে নেয় এবং ধ্বংস করে দেয়। ইহুদিরা পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে আশ্রয় নেয় এবং কিছু ইহুদি ব্যাবিলনে কৃতদাসে পরিণত হয়। ব্যবিলনীয় সাম্রাজ্য বেশিদিন টিকে না এরপরে পারস্য সাম্রাজ্যের সৃষ্টি হয় ইরাকে পারস্যের সাম্রাজ্যের রাজা সাইরাস দ্য গ্রেট পুরো ব্যাবিলন ধ্বংস করে । আবার সমস্ত ইসরাইল অঞ্চল তার দখলে চলে আসে। সাইরাস বেবিলিয়ন এর সকল ইহুদী ক্রীতদাস কে মুক্ত করেন। অন্যান্য অঞ্চলের পালিয়ে যাওয়া ইহুদীদের কে তিনি আমন্ত্রণ জানান নিজে দেশে ফিরে আসার জন্য প্রায় ১১০ বছর ধরে ইহুদিরা আস্তে আস্তে তাদের অঞ্চলে ফিরে আসতে থাকে। এই ঘটনাকে বলা হয় দ্য রিটার্ন টু জাওন। এভাবে ইহুদিরা ফিরে পায় তাদের দেশ ফিরে পায় তাদের দেশ ল্যান্ড অফ ইজরায়েল। রাজা সাইরাসে আমলে মাউন্ট অফ টেম্পলে তৈরি হয় দ্বিতীয় টেম্পল।
এরপর রোমান সাম্রাজ্যের উদয় হয়। স্থাপন হয়। রোম সাম্রাজ্য পুরো ইসরাইল দখল করে। প্রথম দিকে ইহুদি ধর্ম নিষিদ্ধ ছিল। পরবর্তীতে ইহুদি ধর্মকে লিগালাইজ করে দেওয়া হয়। সমগ্র ইসরাইল অঞ্চলকে রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে থাকা একটি রাজ্য হিসেবে গঠন করা হয়। যার নাম তারা দিয়েছিল জুদিয়া। আর রাজধানী ছিল জেরুজালেম। ওই সময় ইহুদিরা হেরোডকে রাজা নিয়োজিত করেন। তার সময় দ্বিতীয় টেম্পলে পুনর্নির্মাণন শুরু হয়। একে সেকেন্ড টেম্পল ডাকা হতো। রাজা হেরোডের আমলে জেরুজালম থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে একটি সমাধিস্থান তৈরি করেন। যেখানে ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম তার স্ত্রী ইয়াকুব আলাইহিস সাল্লাম, ইশাক আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদের সমাধি থাকে।
এই সময় জন্ম হয় খ্রিস্টান ধর্মের ঈসা আলাইহিস সালামের। জেরুজালেম থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এক স্থানে স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। ঈসা আঃ সালামের মৃত্যুর পর ইহুদীরা রোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে থাকে। রোমান সাম্রাজ্যেও জেরুজালেমকে 40 দিনের জন্য অবরুদ্ধ করে রাখে। শেষে সমস্ত ইহুদীকে পরাজিত করে পুরো জেরুজালেম সহ ধ্বংস করে দেন। রোমানরা পুরো মন্দির অর্থাৎ সেকেন্ড টেম্পল ধ্বংস করে দেয়।
এই যুদ্ধে প্রায় ১০ লক্ষ ইহুদি মারা যায় এক লক্ষ ইহুদি ক্রীতদাসের পরিণত হয় । ইহুদিরা পুনরায় আন্দোলন শুরু করলে আরো হাজার হাজার ইহুদীকে হত্যা করা হয় ইহুদী গ্রাম গুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয় ইহুদী গুলোকে পুরা জেরুজালেম জুদিয়া থেকে বিতাড়িত করে দেওয়া হয়। এরপর জেরুজালেমের নাম চেঞ্জ হয়ে সিরিয়া প্যালেস্তানিয়া নামে রাখা হয়। এই সময় ইহুদিরা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে পলায়ন করে। তবে হিজড়া তাদের পবিত্র ল্যান জেরুজালেমকে কখনো ভুলেনি বিশ্বের যে কোন প্রান্তিক তারা থাকুক না কেন তারা জেরুজালেম এর মুখ করে ঈশ্বরের উপাসনা করত।
এই সময়টাতে ঈসা আঃ সালামের অনুগামীদের অর্থাৎ খ্রিস্টান ধর্মালম্বীদের খ্রিস্টান ধর্ম পালন করা নিষিদ্ধ ছিল এবং তাদের উপর অত্যাচার করত রোমানরা। কিন্তু রোমান সম্রাট কনস্ট্যান্টাইন আমলে তিনি যীশুখ্রীষ্টের অনুসারীদের প্রতি অনেকটা নরম ছিলেন। তিনি ৩১৩ খ্রিস্টাব্দে খ্রিস্টান ধর্ম দের কে লিগালাইজড করে দেন। এরপর থেকে থেকে খ্রিস্টান ধর্মের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে । তিনি নিজেও খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেন এবং ইসরাইল ফিলিস্তিনি অঞ্চলে গিয়ে দুটি খ্রিস্টান চার্চ নির্মাণ করেন। তিনি যীশু খ্রিস্টের খুনি হিসেবে ইহুদিদের কে হত্যা করা শুরু করেন। ফলে রোমানদের নানা অত্যাচার থাকা সত্ত্বেও যে সকল ইহুদীরা ওই অঞ্চলে বসবাস করছিল তারাও পালিয়ে যেতে শুরু করে। পরবর্তীতে খ্রিস্টান ধর্ম পুরা রোম সাম্রাজ্য ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ওই সময় রুমের রাজধানী তিনি বার্জেন্টাইন শহরে স্থাপন করেন যার নামকরণ করা হয় কনস্টান্টিনোপল। এই শহরকে বর্তমানে আমরা ইস্তাম্বুল নামে চিনি। ধীরে ধীরে রুম সাম্রাজ্য দুর্বল হতে থাকে বার্জেন্টাইন সাম্রাজ্য শক্তি বাড়তে থাকে। এই সাম্রাজ্যের আমলেও ইহুদিরা যাদের ল্যান্ডে ঢুকতে পারেনি। পরবর্তীতে ইসলামী আমলে তাদের পরিবর্তন হয়। মুসলিমরা যখন বাইর্জেন্ট আইন এবং পারস্য সাম্রাজ্য অনেকটা দখল করে নেয়, এবং জেরুজালেম দখল করে নেয়। ইসলামী শাসন আমলে ইহুদিরা পুনরায় তাদের জেরুজালেমে ফেরার সুযোগ পায়। উমাইয়া খলিফার আমলে জেরুজালেম একটা মসজিদ নির্মাণ হয় যার নাম হওয়া আল আকসা মসজিদ। ওয়েস্টার্ন ওয়াল, আল আকসা মসজিদ, টেম্পল মাউন্ট এগুলি সব ইসলাম-খ্রিষ্টান ও ইহুদি ধর্মের জন্য অনেক পবিত্র স্থান। মাত্র ৩৫ একর আয়তাকার এই জায়গাটি ঘিরেই তিন ধর্মালম্বী ইসলাম ক্রিস্টাল ইহুদী এরমধ্যে দীর্ঘকাল বিবাদ রয়েছে। উমাইয়া খলিফা যুগের পরে ক্ষমতা যায় আব্বাসী খলিফায়। এই সময় ইহুদি খ্রিস্টানদের উপর কিছু কিছু অত্যাচার শুরু হয়। ৯৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ইসলামিক শাসন যুগে ইহুদীরা মোটের উপর ভালোই ছিল। এরপর ইসলাম ধর্ম থেকে ধর্মান্তরিত হওয়া একটি তুর্কি জাতি সেলুলোজ সাম্রাজ্য গঠন করে। এরপর ইসলাম ও খ্রিস্টান ধর্ম যুদ্ধ হয় যেটাকে ফার্স্ট ক্রুশেদ বলা হয়।
সেলজুক জাতী জেরুজালেম দখল করে নেয়। এবং বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের বেশ কিছু অংশ দখল করে নিয়েছিল। সেলজুকরা খ্রিস্টানদের উপর জেরুজালেমের তীর্থযাত্রা কালে নানান কর জারি করে। এই সময় বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের রাজা ইউরোপের সাহায্য নিয়ে মুসলিম শাসন থেকে রক্ষা করার জন্য প্ল্যান করে। জেরুজালেম শহরকে ইসলামিক শাসন থেকে রক্ষা করার জন্য সমগ্র ইউরোপ জাতি কে আহ্বান জানান। পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপের ক্যাথলিক চার্জের সহযোগিতায় শুরু হয় প্রথম ধর্মীয় যুদ্ধ। যাকে বলা হয় প্রথম ক্রুসেড (1096-1099) । ১০৯৯ সালে খ্রিস্টানরা জয়লাভ করতে সমর্থ হয় এবং দখল করতে পারে জেরুজালেম শহরকে ইসলামিক শাসন থেকে। সেই সময় ফিলিস্তিনি সিরিয়াল লেবানন সমগ্র জায়গাটির নাম হয় কিংডম অফ জেরুজালেম। সে সময় মুসলমান ও ইহুদীদের উপর অনেক অত্যাচার শুরু হয়। হত্যা শুরু হয়। তখনই ইউরোপে প্রচন্ড ইহুদীবিদদের শুরু হয়।
টেম্পল মাউন্ট যে পাশে রয়েছে ওয়েস্টার্ন ওয়াল সে পাঁশটি ইহুদিদের জন্য করে দেওয়া হয়। আর টেম্পল মাউন্টের বাকি অংশ ও তার সংলগ্ন অঞ্চল করে দেওয়া হয় মুসলিমদের জন্য। আর জেরুজালেমের যেখানে গির্জা বা চার্চ নির্মাণ করা হয়েছিল রোমান আমলে সেটা করে দেওয়া হয় খ্রিস্টানদের জন্য। তবে ওই সময় খুবই অল্প সংখ্যক ইহুদি জেরুজালেমে বাস করত মাত্র চার শতাংশ আর বাকি সব ইহুদি সারা পৃথিবীতে ছড়া ছিটা বাস করত যার সিংহভাগ বসবাস করত ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে। ই/হু/দীরা বেশিরভাগ ব্যবসায়ী ছিল আর তাদের ব্যবসা অন্যদের থেকে কৌশলগতভাবে আলাদা ছিলো, যার কারণে যাযাবরের মতো ঘুরলেও তাদের অর্থ-সম্পদ ভালোই ছিল। সেই অর্থ-সম্পদ এর দাপট দেখিয়ে তারা সেইসব এলাকার স্থানীয় লোকদের উপরই ছড়ি ঘুরাতো। তাই তারা সেইসব এলাকার রাজা ও বাসিন্দাদের দ্বারা বার বার বিতাড়িত হতো। ওই সময় পুরো ইউরোপ জুড়ে শুরু হয় বিভিন্ন আন্দোলন । পুরো ইউরোপ জুড়ে তারা সবকিছু ইহুদিকে দায়ী করে এবং তাদের মধ্যে ইহুদি বিদ্বেষ তৈরি হয়। ১৮৮২ সালে শুরু হয় ইহুদী বড় হত্যা। সমগ্র ইউরোপ ও আমেরিকা জুড়ে অ্যান্টিসিমেটিজম বা ইহুদীদের গণহত্যা শুরু হতে লাগলো তখন ইহুদীরা তাদের ল্যান্ড অফ ইসরাইলে ফেরার একটা তাগিদ অনুভব করল।
ঠিক যেভাবে পারস্য সম্রাট সাইরাস দ্য গ্রেটের আমলে রিটার্ন টু জায়ন অর্থাৎ ইহুদীরা জেরুজালেমে প্রত্যাবর্তন করছিল, ঠিক তেমনি তারা জায়ন মুভমেন্ট এর মাধ্যমে তাদের নিজস্ব পুত্রভূমি ইজরাইলের প্রত্যাবর্তনের তাগিদ তক্তা নতুন একটি রাষ্ট্র ইসরাইল তৈরির পরিকল্পনা করছিল
তখন থিওডোর হার্জেল নামে তাদেরই একজন ব্যবসায়ী ফিলিস্তিনকে নিজেদের দখলে আনার লক্ষ্যে ১৮৯৭ সালে জিওনিজম আন্দোলন শুরু করে ই/হু/দীদেরকে আবারও নতুন করে স্বপ্ন দেখানো শুরু করে। ধীরে ধীরে এই মতবাদ একটা প্রতিষ্ঠিত মতবাদ অর্থাৎ জায়নিজম মতবাদে রূপান্তরিত হলো। পরবর্তীতে একটি সংগঠন তৈরি হয় যাকে বলা হয় জায়োনিস্ট অর্গানাইজেশন । এই আন্দোলনকে যারা সমর্থন করে, তাদেরকে জিওনিস্ট বলে। থিওডোর হারজেল একটা বই লেখেন দা জুইশ স্টেট। ১৮৯৭ সালে তিনি সুইজারল্যান্ড বাসেলে প্রথম জায়নিসট কংগ্রেস আহ্বান করেছিলেন । এর পরবর্তীতে জায়নিস্ট অর্গানাইজেশন এর নামকরণ করা হয় ওয়ার্ল্ড জারনিস্ট অর্গানাইজেশন। এবং সিউডোর হার্জেলকে বলা হয় দ্য দ ফাদার অফ মর্ডান পলিটিকাল যাওনি জম।
যেহেতু ই/হু/দীরা অনেক শিক্ষা অর্জন আর অর্থ উপার্জন করেছিলো, তাই তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক মানুষ ইউরোপে ধর্ম গোপন করে থাকলেও কেউ কেউ মেধার জোরে ইউরোপে গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করতে, বিজ্ঞানী হিসেবে স্বীকৃতি পেতে শুরু করে। তখন তারা শুধুমাত্র পদ দখল করেই থেমে থাকেনি, সেই সাথে নিজেদের একটা রাষ্ট্র গঠনেও প্রচুর সমর্থন সংগ্রহ করার চেষ্টা করতে থাকে।
এরপর থেকে কিছু কিছু ইহুদী সিরিয়াতে ফিরে যায় একে বলা হয় ফাস্ট আলিয়া । প্রায় ২৫ হাজার ইহুদি প্যালেস্টাইন অঞ্চলে গিয়ে বসবাস করতে থাকে এবং অনুর্বর পাহাড়ে জায়গাগুলোকে চাষাবাদ করতে থাকে। ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ইহুদীরা ইসরাইলে প্রত্যাবর্তন করছে, সেহেতু তাদের ভাষা একেকজনের একেক রকম ছিল। তাই হিব্রু ভাষাকে জাতীয় ভাষা হিসেবে এস্টাবলিশ করে ইহুদীকে এক করার এত সুন্দর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়। তখন বহু হিব্রু ইস্কুল খোলা হলো নিউজপেপার হিব্রু ভাষায় ছাপানো শুরু হল। পরবর্তীতে এই হিব্রু ভাষা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।
১৯০৪ থেকে ১৯১৪ পর্যন্ত দ্বিতীয় আলিয়া যেখানে রাশিয়া থেকে আরো ৩৫ হাজার ইহুদি নতুন করে প্যালেস্টাইন অঞ্চলে গিয়ে বসবাস শুরু করে। এই নতুন লোকদের জন্য জমি কেনা প্রয়োজন ছিল। যার জন্য বিভিন্ন ধনী ইহুদিরা টাকা ডোনেট করতে থাকে এবং অটোম্যান সাম্রাজ্যে কাজ থেকে এই জায়গাগুলো ক্রয় করতে থাকে।
ঠিক এমন সময় শুরু হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে যুক্তরাজ্য নিজেদের অস্ত্র সংরক্ষণের জন্য এক ধরনের গ্লিসারিন ইউজ করতো, যেটা আসতো জার্মানি থেকে। কিন্তু যুদ্ধের সময় জার্মানি যুক্তরাজ্যের বিপক্ষে থাকায় গ্লিসারিন সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। তখন যুক্তরাজ্যকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে চাইম ওয়াইজম্যান নামক একজন ই/হু/দী গবেষক ও ব্যবসায়ী। তিনি গ্লিসারিন এর বদলে এসিটোন দিয়ে অস্ত্র সংরক্ষণের পদ্ধতি শিখিয়ে দেন এবং যুদ্ধে প্রচুর অর্থ সহায়তা দেন। তার এমন অভুতপূর্ব অবদানের জন্য যুদ্ধের পর যুক্তরাজ্য যখন তাকে পুরস্কৃত করতে চায়, তখন সে জানায় যে তার একমাত্র পুরস্কার হবে তাদের প্রমিজল্যান্ড মানে ফিলিস্তিনে তাদের বসবাসের সুযোগ করে দেয়া! এখানে উল্লেখ্য, চাইম ছিলেন জিওনিজম আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
ওই সময় বিটেনসহ রাশিয়া আমেরিকার অনেক বড় বড় শীর্ষস্থানীয় কর্মক্ষেত্রে ইহুদিরা এগিয়ে ছিল তাই সমস্ত ইহুদিদেরকে তাদের হাতে রাখার জন্য ডিটেলস তাদের যে স্বপ্ন ছিল জায়নিজম মুভমেন্ট তার পরিপ্রেক্ষিতে বেলফোর ডিক্লারেশন দেয় ব্রিটিশরা। এই ডিক্লারেশনে ব্রিটিশরা ঘোষণা দেয় যে তারা প্যালেস্টাইনে ইহুদিদের জন্য একটা রাষ্ট্র গঠনে সমস্ত প্রয়োজনীয় সাহায্য তারা করবে। পরবর্তীতে এই ঘোষণা পর্ব জায়নিসট মুভমেন্ট কে আরো জোরালো করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমান সাম্রাজ্য অস্ট্রেলিয়া হাইংগের ই এরা সবাই পরাজিত হলে জাতিসংঘের গঠিত হয় এবং জাতিসংঘ পুরো অটোমান সাম্রাজ্য ব্রিটিশদের হাতে দিয়ে দেয়। ফিলিস্তিন তখন ছিল উসমানী সালতানাতের দখলে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর তুরস্কের ক্ষমতা একেবারে নিঃশেষ হয়ে যায়। সেই সুযোগে ধাপে ধাপে ই/হু/দীরা ফিলিস্তিনে প্রবেশ করতে থাকে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপিয়ান দেশগুলোর অবস্থা খারাপ হয়ে উঠে। সমস্ত ইউরোপের আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। প্রথম যুদ্ধের পর বৃটেনের দেয়া বেলফোর ডিক্লারেশন পুরো ইহুদি দের মধ্যে প্রচলিত হয়ে গিয়েছিল। তাই নানান জর্জরিত ইহুদীরা শিশুদের অপেক্ষায় ছিল। তারা পুনরায় দলে দলে প্যালেস্টাইনের দিকে যাত্রা শুরু করে এটাকে বলা হয় থার্ড আলিয়া। যা চলে ছিল ১৯১৮ থেকে ১৯২৩ পর্যন্ত। এই সময়ে প্রায় ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার ইহুদি প্যালেস্টাইনে মাইগ্রেশন করে ফলে প্যালেস্টাইনে জনসংখ্যা হঠাৎ করে অনেক বেড়ে যায়।
ফলে প্যালেস্টাইনে অর্থনীতি অবস্থায় প্রেসার পড়ে। আরব ফিলিস্তিনিরা এই ক্রমাগত ইহুদী সরকার বেড়ে যাওয়ার ফলে তাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। আমি এখান থেকে এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদে সূত্রপাত ঘটে। উত্তর তো পরিস্থিতিতে ইহুদিদের মাইগ্রেশনের হার না কমে বরং ক্রমাগত বাড়তেই থাকে। ১৯২৩ থেকে ১৯২৮ সালের মধ্যে চতুর্থ আলিয়ায় প্রায় ৮০ হাজার ইহুদীর প্যালেস্টাইনের প্রবেশ করে। এতে আরবিও প্যালেস্টানিরা তোমাগোতে সংকীর্ণ হতে থাকে এবং তারা আতঙ্কিত হতে থাকে এভাবে চলতে থাকলে ইহুদী সংখ্যা ক্রমাগত ফিলিস্তিনি সংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে। হলো এই অঞ্চলের উপর তাদের আর কথিত থাকবে না এই আশঙ্কায় ১৯৩০ সালে প্যালেস্টাইনরা আন্দোলন করা শুরু করে। তারা হঠাৎ করে ইহুদীদের সেটেলমেন্ট এর উপর উপর আক্রমণ করতে থাকে এবং ব্রিটি শ ব্রিটিশ সেনা ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ যারা ওখানে বসবাস করত তাদের উপর করতে থাকে।
ওই সময়টাতে জার্মানি হিটলার প্রায় ৬০ লক্ষ ইহুদীকে হত্যা করে। একে বলা হয় Holocaust. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর হল কষ্টের ভয়াবহতা ছাড়া বিশ্বে মানুষের কাছে ফুটে উঠে। যার ফলে সারা বিশ্বের জুড়ে ইহুদিদের প্রতি সমবেদনা ঢেউ ফুটে উঠে। শুধুমাত্র ঈদু হওয়ার কারণে এরকম অমানবিক অত্যাচার যেন তারা পুনরায় না পড়ে এজন্য তাদের জন্য একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠন করা প্রয়োজনীয়তা সবার কাছে প্রয়োজনীয়তা ফুটে উঠে।
ততদিনে প্যালেস্টাইন ইহুদির সংখ্যা দাঁড়ায় মোট জনসংখ্যার ৩১ শতাংশ। ভূমি সংক্রাম মাত্র ৬ শতাংশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পর সারা পৃথিবীর অবস্থা ধীরে ধীরে ঠান্ডা হতে থাকলেও পশ্চিম এশিয়ার এই ইহুদি এবং আরবদের মধ্যে সংঘর্ষ ক্রমশ উত্তপ্ত হতে থাকে। যেহেতু ইহুদির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ইহুদী মাইগ্রেশনের উপরে কন্ট্রোল রাখার চেষ্টা করছিল তাই ইহুদি মিলিট্যান্ট গ্রুপগুলো মাঝে মাঝে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের উপর হামলা চালাচ্ছিল। এভাবে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের উপর হামলা পাল্টা হামলা চলতে থাকে। ব্রিটিশটা বুঝতে পারে যে প্যালেস্টাইনের উপর তাদের কন্ট্রোল ক্রোমোজ দুর্বল হয়ে যাচ্ছে । ১৯৪৮ সালের ব্রিটেন ঘোষণা দেয় তারা প্যালেস্টাইন থেকে ম্যান্ডেড উঠিয়ে নিবে।
এরমধ্যে ব্রিটেন রা নবগঠিত জাতিসংঘকে এই সমস্যার সমাধানে দায়িত্ব আরোপ করে। ফোনের মধ্যে ঘোষণা করে তারা পরের বছর 1948 সালের মে মাসে মেন্ডেটের অবসান ঘটিয়ে তারা প্যালেস্টাইন থেকে চলে যাবে। এর ফলে জাতিসংঘ তৈরি করি ভাবে প্যালেস্টাইন পার্টিশন প্ল্যান তৈরি করে। এই পার্টিশন প্লান অনুযায়ী ইহুদিদের জন্য 56% ভূমি নির্ধারণ করে আর আরবদের জন্য মাত্র ৪৩ পার্সেন্ট ভূমি নির্ধারণ করে আর যেহেতু জেরুজালেম দুইটা ধর্মের জন্য অনেক ইম্পরট্যান্ট তাই এটার দায়িত্ব দুই পক্ষের কাউকে না দিয়ে এটা বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান প্রশাসনের উপর দায়িত্ব দেওয়া হয়। যেখানে মোট জনসংখ্যার ৩১ শতাংশ ইহুদী ছিল এবং যারা 6% ভূমিতে বসবাস করছিল নতুন ই ওয়ান পার্টিশন প্ল্যান অনুযায়ী তাদের কে ৫৬ শতাংশ দেওয়া হয়। আর আরব ফিলিস্তিনিদেরকে মাত্র 31% দেওয়া হয়। তাই স্বাভাবিকভাবে আরব প্যালেস্টাইনরা এই পারটিশন প্ল্যান মানতে নারাজ হয়।
প্রতিবেশী আরব রাষ্ট্রগুলো হঠাৎ করে তাদের মধ্যে একটা ইহুদী রাষ্ট্র তৈরি হওয়া মতো খুশি ছিল না। জাতিসংঘের জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে যখন এ নিয়ে চর্চা করা হয় তখন ভারত সহ উপস্থিত দেশ এই পার্টিশন প্ল্যান নিয়ে আপত্তি ছিল তারা ভোট দিচ্ছিল না। কারণ তারা বলছিল যে একটা গোষ্ঠীর উপর অন্যায় অবিচার ঠিক করতে গিয়ে আমরা আরেকটা গোষ্ঠীর উপরে অত্যাচার চালাবো এটা তো ঠিক নয়।
একটি কমিউনিটির উপর অন্যায় ঠিক করতে গিয়ে আরেকটু কমিউনিটির উপর অন্যায় কোনভাবে ঠিক না। যেখানে দীর্ঘদিন ধরে আরো বংশ-পরম্পরা বসবাস করছে হঠাৎ করে তার ভিতরে, ইহুদী রাষ্ট্র গঠন করলে তার তো কোন সমস্যা সমাধান হবেই না বরঞ্চ ভবিষ্যতে আরো বিবাদ যুদ্ধ সহিংসতা লেগে থাকবে। এই ভাবনা থেকে ভারতসহ ১১টি দেশ বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল। অন্যদিকে আমেরিকা ফ্রান্স রাশিয়া সহ ৩১ টি দেশ পক্ষে ভোট দে য়। মেজরিটি ভোটে এই পারটিশন প্ল্যান গৃহীত হয়। জাতিসংঘে উপস্থিত ইহুদি সংগঠন প্রস্তাবের রাজি হয়। কিন্তু ওখানে আরও ফিলিস্তিনের পক্ষে থাকা কোন সংগঠন অভিভাবক ছিল না। প্যালেস্টাইন আরবদের কোন প্রতিনিধি না থাকা সত্ত্বেও আরব প্রতিনিধিত্ব ছাড়াই রাষ্ট্রসংঘ ও বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলি মিলে তাদের ভাগ্যের নির্ধারণ করে ফেলে। ১৯৪৮ এর ১৪ই মে মধ্যরাত্রে প্যালেস্টাইনের ওপর ব্রিটিশ সরকারের অধিকার সমাপ্ত হয়। সীমানা মেনে ইহুদিদের রাষ্ট্র স্টেট অফ ইসরাইল আত্মপ্রকাশ করে আর সাথে সাথে আমেরিকা এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন ইজরাইলকে মান্যতা প্রদান করে কিন্তু স্বাধীন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র গঠনের জন্য কোন পক্ষই কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনা।