Thoughts' Mirror

Thoughts' Mirror

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Thoughts' Mirror, Education Website, University of Dhaka, Ramna.

09/07/2024

৫ শ্রেনির মানুষ নিজে অসুখী অন্যকে অসুখী করে তোলে:-

১.হিংসুক:-সে হিংসার বিষ ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে।

২.আত্ন-অহংকারী:-সে অহমিকা বশত তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে।

৩.ঝগড়াটে :-বিনা কারণে বিবাদ করে।

৪.কারো পিছনে লেগে থাকা :-এতে সে নিজেও কষ্ট পায়,অন্য কেও কষ্ট দেয়।

৫.অল্পতে তুষ্ট নয় যারা:-এরা পাওয়ার চেয়ে, না পাওয়ার হিসাব বেশি করে,,এতে নিজেও কষ্ট দেয়,,অন্য কেও কষ্ট দেয়।

- মু.মারুফ হোসাইন

Send a message to learn more

04/07/2024

ব্যাপারটা এমন নয় যে লোকটি হাতিটিকে ধাক্কা দিয়ে উপরে তুলছে। বরং হাতিটি নিজের শক্তিতেই উপরে উঠে যাচ্ছে —কিন্তু লোকটি হাতির পেছনে হাত রাখার কারণে হাতিটি মনে করছে তাকে সাহায্য করার কেউ আছে ; ব্যস , অন্যের কাছ থেকে এই সাহসটুকু পেয়েই সে নিজের শক্তিতে উপরে উঠে যাচ্ছে।

শুধুমাত্র পেছন থেকে আপনাকে ভরসা দেওয়ার মত একজন মানুষ যদি পান—যেমন, বাবা-মা বোন ভাই স্ত্রী স্বামী ,বন্ধু অথবা নিজের শিক্ষক কিংবা প্রিয় কোনো মানুষ ; তাহলেই কিন্তু আপনি নিজের কর্মক্ষেত্রে এবং জীবনে আরও অনেক বেশি সাফল্য অর্জন করতে পারবেন।
- ©

01/07/2024

প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি.......................
১। একজন কয়েদীর কথা জানি। কয়েদী নাম্বার ৪৬৬৬৪, ২৭ বছর জেলে থাকার পরেও তিনি নোবেল শান্তি পুরষ্কার জিতেছেন।

- তিনি নেলসন মেন্ডেলা

৩। আরেক যুবকের নাম জানি, মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম। তাঁকে বলা হয় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে সফল ড্রপ আউট। স্যাট পরীক্ষায় ১৬০০ নম্বরে ১৫৯০ পান তিনি। কিন্তু কম্পিউটার সফটওয়্যার তৈরির নেশায় তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নাম কাটান। ড্রপ আউট হওয়ার ৩২ বছর পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন তিনি।

- তিনি বিল গেটস

৪। আরেক এতিমের কথা জানি। ১১ বছর বয়সে এতিম হন। ১২ বছর বয়সে ঘর থেকে পালিয়ে যান। হতাশ হয়ে ১৯ বছর বয়সে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
অনেক বিখ্যাত বইয়ের লেখন তিনি তার মধ্যে “আমার বিশ্ববিদ্যালয়” একটি, যদিও তিনি কোনদিন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করা সুযোগ পান নাই।

- তিনি বিখ্যাত লেখক, নাট্যকার আর রাজনীতিবিদ মাক্সিম গোর্কি

৫। আরেকজন, বাবার সাথে মুদি দোকান করতো। পরিবারে এতই অভাব ছিলো যে, স্কুল নাগাদ পড়েই তাকে থেমে যেতে হয়েছিলো। সেই ব্যক্তিই একসময় হয়ে উঠে বিরাট বিপ্লবী নেতা।

- তিনি চীনের প্রতিষ্ঠাতা মাও সেতুং

৬। এমন একজনকে জানি যিনি অভাবের তাড়নায় কুলিগিরি করতো। একদিন বাসের কন্ডাক্টরের কাজের জন্য গেলে তাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। যে যুবকটি অংকে পারদর্শী নয় বলে বাসের কন্ডাক্টর হতে পারেনি, পরবর্তীতে সে-ই হন ব্রিটেনের অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী।

- জন মেজর

৭। আরেক ছেলের বাবা-মা এতটাই গরিব ছিলো যে, তার জন্মের পর নাম রেজিস্ট্রি করতেই দু’দিন দেরি হয়। কে জানেন? সে-ই আজকের ফুটবল কিংবদন্তী!

- রোনাল্ডো

৮। বাবা ছিলেন জেলে। ছেলেকে সাথে করে বাবা মাছ ধরতো কারন অন্য স্বাভাবিক আর ১০ জন থেকে তিনি পানির নিচে মাছকে খুব ভালোভাবে দেখতে পেতেন। সেই জেলের ছেলে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট সুপারস্টার।

-জয়সুরিয়া

৯। পড়ালেখায় মারাত্মক দুর্বল ছিলেন তিনি। কোনো কিছু মনে থাকত না। ক্লাসের শেষ বেঞ্চে বসে থাকতেন। ফেল করেছেন বারবার। ক্লার্ক এর চাকরিও করেছেন তিনি। পুরো পৃথিবীকে অবাক করেছেন তিনি তার থিউরি অফ রিলিটিভিটি দিয়ে। নোবেলও পেয়েছেন তিনি।

... আলবার্ট আইনস্টাইন

১০। ক্লাসের সবচেয়ে দুর্বল ছাত্র ছিলেন তিনি। স্কুল থেকে বহিস্কারও করা হয়েছিলো তাকে। তিনি পৃথিবী আলোকিত করেছেন তাঁর আবিষ্কার দিয়ে।

....টমাস আলভা এডিসন

১১। শব্দগুলোকে তিনি উল্টা লিখতেন। পড়ালেখায় একদম শুন্য। উড়োজাহাজ আবিস্কারের ৪০০ বছর আগে তিনি উড়োজাহাজের মডেল এঁকে গেছেন।

... লিওনার্ড ডা ভিঞ্চি

১২। পরীক্ষায় তিনি সবসময় ফেল। ২২টা একাডেমিক পুরষ্কার জিতেছেন জীবদ্দশায়। তিনি মিকি মাউস, ডোনাল্ড ডাক এর জন্মদাতা। মিকি মউসের গলার স্বর তার নিজের দেওয়া।

....ওয়াল্ট ডিসনি

১৩। শব্দের খেলা তিনি বুজতেন না। 7 নাম্বারকে তিনি বলতেন উল্টা নাক!! এই স্প্যানিশ ভদ্রলোক একজন কবি, লেখক, পেইন্টার, কেমিস্ট, স্টেজ ডিজাইনার, ভাস্কর।

.... পাবলো পিকাসো।

Send a message to learn more

30/06/2024

নিউ ইয়র্কের সাবওয়েতে একজন বেহালাবাদক ৪৫ মিনিট বাজালেন। কয়েকজন মানুষ থামলেন, দু'জন করতালি দিলেন, এবং তিনি প্রায় $৩০ উপার্জন করলেন।
কেউ জানত না যে এই বেহালাবাদক ছিলেন জোশুয়া বেল, বিশ্বের সেরা সংগীতজ্ঞদের একজন। তিনি সাবওয়েতে একটি বেহালায় বাজাচ্ছিলেন যার মূল্য ৩.৫ মিলিয়ন ডলার, এবং বাজাচ্ছিলেন সবচেয়ে জটিল সুরগুলির একটি।
এর দুই দিন আগে, জোশুয়া বেল বোস্টনের একটি থিয়েটারে বাজিয়েছিলেন, যেখানে টিকিটের গড় মূল্য ছিল প্রায় $১০০।
এই পরীক্ষাটি প্রমাণ করেছে যে সাধারণ পরিবেশে অসাধারণ কিছু উজ্জ্বল হয় না এবং প্রায়ই উপেক্ষিত এবং অবমূল্যায়িত হয়।
বিশ্বে অনেক প্রতিভাবান মানুষ আছেন যারা তাদের প্রাপ্য স্বীকৃতি এবং পুরস্কার পাচ্ছেন না। কিন্তু একবার তারা নিজেদের মূল্য এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে এমন পরিবেশ থেকে সরে আসেন যা তাদের সেবা করছে না, তখন তারা সাফল্য এবং উন্নতি করেন।
আপনার অন্তর আপনাকে কিছু বলছে। যদি এটি আপনাকে বলছে যে যেখানে আপনি আছেন তা যথেষ্ট নয়, তবে তা শুনুন!
যেখানে আপনি প্রশংসিত এবং মূল্যবান, সেখানে যান।

আপনার মূল্য জানুন। ❤️

- নাজমুল হাসান

04/02/2023

স্মৃতিশক্তির গ্র্যান্ডমাস্টার! হতে পারো তুমিও!

নিশান্ত কাশিবাতলা (Nishant Kasibhatla) ২০১১ সালে অসাধারণ কাজ করে দেখান। তাকে লাল, নীল, সবুজ ও হলুদ রঙ ঘুরে ফিরে ১০০ বার দেখানো হয়। অতঃপর তিনি প্রথম থেকে ১০০তম পর্যন্ত কী কী রঙ দেখেছেন সিরিয়াল অনুযায়ী বলে দিতে পেরেছেন। এটা গ্রিনিজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড। এর আগের রেকর্ড ছিল ৪০তম পর্যন্ত। এজন্য নিশান্তকে বলা হয় মেমরি গ্র্যান্ডমাস্টার।

স্মৃতিশক্তি বিষয়ে সিঙ্গাপুরের নাগরিক নিশান্ত কাশিবাতলার দক্ষতার কিছু ভিডিও ইউটিউবে পাওয়া যায়। একটি ভিডিওতে দেখা যায় তার সামনে টেবিলে ছোটো ছোটো ২০টি বিভিন্ন বস্তু রাখা হয়েছে। তাকে মাত্র দুই মিনিট দেখতে দিয়ে সেগুলো পেপার দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। অতঃপর নিশান্ত সবগুলো বস্তুর নাম ঠিক ঠাক বলে দিতে পেরেছেন।

আচ্ছা, কারো মোবাইল নম্বর একবার শুনে কতক্ষণ সেটা মনে রাখতে পারবো? সাথে সাথে বলতে পারা গেলেও কিছু সময় পরে সেটা মনে রাখা সম্ভব হয় না। কিন্তু নিশান্ত ৩০টি ডিজিট একবার শুনে সেটা মুখস্থ বলতে পারেন। এমনকি আধা ঘণ্টা পর ওই ৩০টি নম্বর শেষের দিক থেকে বলে দিতে পারেন। দর্শককে মোহিত করতে নিশান্ত ১৯৪৪ ডিজিটের একটা সংখ্যা মুখস্থ করেছেন। ১ এবং ০ এর সমন্বয়ে ১২০০ পর্যন্ত বাইনারি সংখ্যা মুখস্থ করেছেন।

কোথাও গেলে নিশান্তকে অনেকে পরীক্ষা করে দেখে তার স্মৃতিশক্তি কতটা কাজ করে। এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ৩৪ জনের নাম একবার শুনে মুখস্থ বলতে পেরেছেন। তবে নিশান্তের দাবি, তার এই দক্ষতা জন্মগত নয়। ১৫ বছর বয়সে তিনি একবার সাইকেল চালিয়ে বাজারে গিয়েছিলেন। কিন্তু ফেরার সময় পায়ে হেঁটে বাসায় ফেরেন। তিনি যে সাইকেল ফেলে রেখে এসেছেন সেটা একদিন পর তার মনে পড়ে। তিনি জানান, অসাধারণ স্মৃতিশক্তি তিনি অনুশীলনের মাধ্যমে অর্জন করেছেন। কিছু কৌশল ও অনুশীলনের সমন্বয়ে তার এই দক্ষতা তৈরি হয়েছে।
নিশান্তের মতো ব্যক্তি আমাদের চারপাশেও রয়েছে। আমার বাবা মসজিদে জুমার নামাজে ইমাম সাহেবের খুতবা শুনে বাসায় এসে সেটা লিখে ফেসবুকে পোস্ট দেন। তিনি কোনো রেকর্ডার বা কাগজ-কলম ব্যবহার করেন না। একবার শুনে এসে কীভাবে লেখেন সেটা সত্যি আশ্চর্যজনক। আমার মরহুম মেজো চাচা মোবাইলে নম্বর সেভ করতেন না। রাজ্যের সব নম্বর তার মুখস্থ থাকতো।

মজার বিষয় হচ্ছে, তারা কেউ খাতা কলমে লিখে এগুলো বারবার পড়ে মুখস্থ করেনি। একবার শুনেই মনে রেখেছেন। কীভাবে সম্ভব? আমরা কি করতে পারবো?

হ্যাঁ আমরাও পারবো ইনশাআল্লাহ। তারা কেন পেরেছে সেটা বুঝতে হবে। মসজিদে ইমামের খুতবা শুনে বাসায় এসে খাতায় লিখতে হবে এমনটি যদি আপনার ক্ষেত্রে হতো তাহলে কী পরিমাণ মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনতেন? মোবাইল নম্বর একবার শুনে মুখস্থ রাখতে হবে এমন প্যাড়ায় থাকলে নম্বর শোনার সময় খুব মনোযোগী হতেন এটাই স্বাভাবিক। তাহলে প্রথম কাজ হচ্ছে খুব মনোযোগ দিয়ে শোনা।

কারো সাথে বহুদিন পরে দেখা হলে আমরা বলি, ‘তোমাকে কোথায় যেন দেখেছি কিন্তু তোমার নাম মনে করতে পারছি না’। কিন্তু ‘তোমার নাম মনে আছে কিন্তু তোমার চেহারা যেন কী’ এমনটি কিন্তু বলি না। অর্থাৎ আমাদের স্মৃতিতে চেহারা বা ছবি মনে থাকে। বইয়ে পড়া অনেক গল্প আমরা ভুলে যাই। কিন্তু সিনেমা বা নাটকের অনেক দৃশ্য আমাদের মনে থাকে। মনে রাখার জন্য মনোযোগ দেওয়ার পরের কাজ হচ্ছে সেই বিষয়টা মনের দৃশ্যপটে ছবির মতো এঁকে ফেলা। কেউ যখন তার নাম বলবে খুব মনোযোগ দিয়ে তার চেহারার দিকে তাকাতে হবে। তাহলে নামটা মনে থাকবে।

মেমরি গ্র্যান্ডমাস্টার নিশান্ত কাশিবাতলা নম্বর মনে রাখার জন্য তিন-চারটা ডিজিট একসাথে মনে মনে বড় আকারে কল্পনা করেন। এভাবে ছোটো ছোটো অংশগুলোকে তিনি জোড়া লাগান। এর সাথে আরো একটা কাজ করেন। সেটা হচ্ছে পরিচিত কিছুর সাথে মিলিয়ে মনে রাখার চেষ্টা করেন। যেমন ১৯৭৩৩৪৭২২৮১২ এই সংখ্যাটা এভাবে মনে রাখা যায়.. ১৯৭৩ সালে ৩৪ হাজার ৭২২ টাকা নিয়ে ৮১২ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছিলাম। একটা একটা করে ডিজিট মনে রাখার চেয়ে এমন গল্প আকারে মনে রাখা তুলনামূলক সহজ।

পড়া মনে রাখার জন্য শিক্ষার্থীদেরকে নিশান্ত কাশিবাতলা বেশ কিছু পরামর্শ দিয়ে থাকেন। পড়ার জন্য নিরিবিলি সময় ও পরিবেশ পছন্দ করা। মোবাইলের নোটিফিকেশন পড়ালেখায় মনোযোগ নষ্ট করে। এজন্য মোবাইল, ল্যাপটপ ও টেলিভিশন থেকে দূরে থাকা। পড়ার সময় অন্য কোনো কাজ না করা।

পড়ালেখা যাতে মনে থাকে সেজন্য নিশান্ত কাজগুলোকে দুইভাগে ভাগ করেছেন। ইনপুট এবং আউটপুট। শিক্ষকের ক্লাস করা, বই খুলে পড়া, কারো কাছ থেকে বুঝে নেওয়া, ইউটিউব ভিডিও দেখে শেখা এগুলো হচ্ছে ইনপুট। আর আউটপুট হচ্ছে ইনপুট নেওয়ার পর চিন্তা করা কী কী বিষয় শিখলাম। অতঃপর বই বন্ধ করে পঠিত বিষয় সম্পর্কে নিজে নিজে বলা বা লেখার চেষ্টা করা।

স্বাভাবিকভাবে পড়া বেধে যাবে, মনে আসতে চাইবে না। যখন কোনোভাবেই মনে আসছে না তখন বই খুলে আবার পড়তে হবে। এক সপ্তাহ পর সাত দিন ধরে পঠিত বিষয় সম্পর্কে মনে আছে কি না যাচাই করতে হবে। মনে না থাকলে আবার বই খুলে পড়তে হবে। এক মাস পর আবার চেক করতে হবে। কিন্তু আউটপুটের পেছনে সময় না দিলে শুধু ইনপুট নিয়ে গেলে পরীক্ষার হলে কিন্তু ঠিকই মনে থাকবে না।
স্মৃতিশক্তির বিষয়ে কিছু ভুল ধারণা-
আমার কি আর ভালো মাথা আছে? সবার দিয়ে সবকিছু হয় না! থানকুনি পাতা বা ওষুধ খেলে স্মৃতিশক্তি ভালো কাজ করে! বেশি শিখলে মনে রাখতে পারবা না! ইত্যাদি।

-ফাহিম ফয়সাল

03/02/2023

"মধ্য রাতের সূর্যের দেশ"

আমরা কত রকম আশ্চর্যের খবর জানি তার কোনো ইয়ত্তা নেই। হতে পারে আমাদের হাতের আঙুলের কর গুনেও তা শেষ করা যাবে না। এ যেমন গিজার মহা পিরামিড, ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান, আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর, জেরুসালেমের পুরনো নগর এবং জিম্বাবুয়ের ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতসহ আরো অনেক। এসবের সঙ্গে হয়ত আমরা ইতিপূর্বে পরিচিত হয়েছি।

আজকে আমরা বিস্ময়কর ও দারুণ আশ্চর্যের একটি দেশকে নিয়ে কথা বলব। যে দেশে শুধু দিনের বেলায় নয়, সূর্য দেখা যায় রাতের বেলাতেও। নিশুতি রাতের অন্ধকার যখন চারদিকে ঘন হয়ে আসতে শুরু করে তখন আমরা ঘর থেকে এক কদম পা ফেলতেও হিসাব করে ফেলি! সুনসান নীরবতা আর নিকষকালো অন্ধকারে ভয়ে আমাদের গা ছমছম করে। আর আমরা যারা গ্রামে বাস করি, মধ্যরাতে যদি কখনো প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বের হই আর যদি আমাদের চোখ গিয়ে পড়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন গুমোট পুকুর ঘাটে! কেমন যে ভৌতিক ভৌতিক মনে হয়! একদম রক্ত হিম হয়ে আসে।

কিন্তু এ নিশুতি অন্ধকার রাতেও যদি আমরা সূর্যি মামার দেখা পেতাম, তাহলে এমন হিমশীতল ভয় কি আমরা পেতাম? নিশ্চয় না!
কিন্তু পৃথিবীতে এমন একটি দেশ আছে যেখানে রাতের বেলাতেও সূর্যের আবির ঝলমল করে। গহিন রাতেও উঁকি দেয় সে আকাশে। এটাও কি সম্ভব? দেশটির নাম নরওয়ে। নরওয়ে উত্তর ইউরোপের স্ক্যান্ডিনেভিয়ার পশ্চিম অংশে অবস্থিত। দেশটি ইউরোপের দ্বিতীয় জনবহুল রাষ্ট্র এবং বিশ্বের ১১৯তম জনবহুল দেশ।

রূপকথার গল্পের মতো শোনালেও নরওয়েতে বছরের দুই মাস সূর্য অস্ত যায় না! মে মাসের ২১ তারিখ থেকে জুলাইয়ে ২১ তারিখ পর্যন্ত। এ সময়টাকে বলা হয় মিডনাইট সান। ঘুটঘুটে অন্ধকারের পরিবর্তে তখন পূব আকাশে গোধূলির আলো ফুটে থাকে।

কেন এমনটি হয়? প্রশ্ন অবশ্যই মনে বাসা বেঁধে আছে! নরওয়ে পৃথিবীর এমন এক দেশ যেখানে মধ্য রাতে সূর্যের দেখা পাওয়া যায়! এটা আবার কেমন নিয়ম! এটা মূলত ভৌগোলিক অবস্থার কারণে হয়ে থাকে।

নরওয়ে উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত হওয়ায় মে থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত সূর্যাস্ত না গিয়ে সবসময় আকাশ রাঙিয়ে রাখে। তবে বিশ ঘণ্টা সূর্যের আলো অনেক বেশি থাকে। আর বাকি চার ঘণ্টা আলো কিছুটা কমে আসলেও একেবারে অস্ত যায় না। এ সময় আর্কটিক সার্কেলের উত্তরে ও এন্টার্কটিক সার্কেলের দক্ষিণে সূর্যের অবস্থান দু’রকম মনে হয়। আর্কটিক সার্কেলে মধ্যরাতের পর সূর্যকে মনে হয় সূর্য বাম থেকে ডানে আবর্তন হচ্ছে আর এন্টার্কটিক সার্কেলে মনে হয় সূর্য ডানদিক থেকে বামদিকে আবর্তন করছে।

বড়ো চমৎকার ব্যাপার হচ্ছে নরওয়েতে যেমন দুই মাস ধরে মধ্যরাতে দিবালোকের মতো সূর্যের দেখা মিলে ঠিক তেমনি বছরের দুই মাস এখানে সূর্য উদয় হয় না! কী অবাক করা ব্যাপার না! আসলে তাই! নভেম্বরের একুশ তারিখ থেকে জানুয়ারির একুশ তারিখ পর্যন্ত গনগনে সূর্যের তাপ নরওয়ের বাসিন্দারা দেখতে পায় না! এ সময়টাকে ডার্ক পিরিয়ড বলে। তবে বলে রাখা ভালো, এ সময়টাতে আকাশ একদম অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে ব্যাপারটা এমন নয়! ডার্ক পিরিয়ড চলাকালীন আকাশে লাল-সবুজ রঙের অরোরা বুরিয়াল দেখা যায়। এ এক অপূর্ব আলোর খেলা। সূর্য নেই তবে আলোর লাল-সবুজ রঙ ভেসে বেড়ায় আকাশ নীলে। ইশ যদি স্বপ্নলোকেও এমন মোহনীয় দৃশ্য দেখতে পেতাম!
নরওয়ে তার অবিশ্বাস্য সুন্দর সব পর্বতমালা, বিস্তৃত মালভূমি, খ্যাতির আরো নানা বিশেষণ ছাপিয়ে বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছে মিডনাইট সান অথবা নিশীথ সূর্যের দেশ নামে।

-ইরফান তানভীর

03/02/2023

সুন্দর মনের মানুষের কথা

আমাদের এই পৃথিবীর প্রতিটি মানুষে ভেতর একটি সুন্দর মন আছে। কিন্তু সবাই মনটাকে সুন্দর রাখেন না। কথায় কাজে চিন্তায় এবং ভানায় অনেক সময় আমরা মনটাকে ভালো রাখতে পারি না। অথচ এই জগতে ভালো কোনো কাজ করার জন্য সুন্দর মন খুব দরকার। মন যদি সুন্দর না হয় তো কাজও সুন্দর হবে না। আর যদি কাজ সুন্দর না হয় তবে জীবনের আর কোনো সুন্দর থাকে না। এইভাবে জীবনের সুন্দর না থাকলে কী হয়? এর উত্তর হলো জীবনের সুন্দর না থাকলে জীবন কখনও সফল বা আনন্দময় হতে পারে না। কেউ তখন তাকে পছন্দ করে না। বরং ঘৃণা বা অবহেলার চোখেই দেখে।
সবার মন তো আছে। কিন্তু সবার মন কখনও একরকম নয়। একজনের মন একরকম। আরেকজনের আরেকরকম। একজন আরেকজন থেকে আলাদা। মানুষ যেমন একজন থেকে আরেকজন আলাদা। মানুষের মনও তমনই আলাদা আলাদা। মনের ভেতর কত কি কল্পনা-জল্পনা এবং স্বপ্ন জাগে, তার কোনো হিসাব নেই। কখনও কখনও মনটি পাখি হয়ে উড়ে যেতে চায় দূরের কোনো নীলিমায়। যেখানে কোনো মানুষের চিহ্ন নেই। অথবা যেখানে পৌঁছাতে পারবে না কোনো মানুষের উড়োজাহাজ বা বিমান। মন কখনো কখনো মেঘ হয়ে ঝরাতে চায় শীতল বৃষ্টি। যে বৃষ্টি মাটিকে ভিজিয়ে ফসল ফলাবে। আবার কখনও হতে চায় ভোরের বাতাস যা খুব মায়ার পরশ বুলিয়ে যায়। আবার কখনও চাঁদ হয়ে আকাশে ভেসে থাকতে চায়। এভাবে মন কতভাবে মনের কথা বলতে থাকে! বলতে থাকে। মনের কথার কোনো শেষ নেই। কোনোদিন শেষ হবেও না জানি। কারণ মন প্রতিদিন নতুন নতুন ভাবনা কল্পনা আর স্বপ্ন নিয়ে হাজির হয়।
এক্ষেত্রে মনের সৌখিনতাও একটি অনিন্দ্য সুন্দর বিষয়। মনের সৌখিনতা কিন্তু সবার মধ্যে থাকে না। সবাই বোঝেও না মনের সৌখিনতা কি জিনিস। কিন্তু যার মনে সৌখিনতা থাকে সে অন্য সবার চেয়ে একটু আলাদা হয়। তার চলন-বলন এবং পছন্দ-অপছন্দ সবই অন্যরকম হয়। সবাই তাকে আলাদা ভাবেই চেনে। কারণ তার কাজকর্ম, আচার-ব্যবহার, সাজগোজ সবকিছুতেই থাকে ভিন্নতার ছাপ। সবাই যেমন করে চলে সে তেমন করে চলে না। সবাই যেমন করে বলে সে সেভাবে বলে না। মনের সৌখিনতা মানুষের স্বভাবজাত অভ্যাসও হতে পারে আবার পরিবর্তিত অভ্যাসও হতে পারে। ধরা যাক, কেউ সৌখিন মনের কোনো মানুষের বাড়িতে গেলেন। দেখলেন তার বাড়ির গেট দিয়ে ঢোকার পথে সারি সারি ফুল গাছ লাগানো এবং তাতে হরেক রঙের ফুল ফুটে আছে। তিনি দেখে খুব মুগ্ধ হলেন। মনে মনে ভাবলেন আমার বাড়ির গেটে ঢোকার পথেও তো আমি এমন ফুল গাছ লাগাতে পারি। তাতে আমার বাড়ির সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পাবে। এরপর সে ঐ ব্যক্তির বাড়িতে ঢুকলো। দেখলো ঘরদোর একদম সাজানো-গোছানো। হরেক রঙের ফুলের টব ঘরের ভিতরেও সুন্দর করে সাজানো। তাছাড়া সুন্দর সুন্দর খাট, আরাম দায়ক সোফা, একটু অন্যরকম চেয়ার, দেখার মতো সড়সড় টেবিল সবকিছুতেই ব্যক্তির সৌখিনতার ছাপ স্পষ্ট। তখন লোকটি ভাবলো আমিও আমার বাড়িতে আমার পছন্দের টেবিল-চেয়ার আর সোফা দিয়ে সাজাবো। এভাবে অন্যের সৌখিনতা দেখে মানুষের মনে সৌখিনতা আসতে পারে। আর সে সৌখিনতার মধ্য দিয়ে একজন মানুষ নিজের পছন্দকে উন্নত করতে পারে।
মনের এসব সৌখিনতা মানুষের মাঝে ফুলের মতো সৌরভ ছড়ায়। জীবনের প্রতিটি দিকে এ সুন্দর আনন্দ জোগায় এবং আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলার আয়োজন করে। আমরা সৌখিনতার বিষয়টি আরো ভালো করে লক্ষ করি যখন কারো বাড়িতে যাই। হয়তো বেড়াতে যাই। অথবা কোনো প্রয়োজনে যাই। স্বভাবতই আমরা যখন একটি অসুন্দর বা অগোছালো ঘর দেখি তখন মনে একটা ভিন্ন ধারণা জন্ম নেয়। ভাবি, এই লোকটি বা এই বাড়ির লোকগুলি কেমন যেনো অগোছালো। নিজেদের অসুন্দর করে রাখে। এলোমেলো থাকে সব। নিজেদের একটু সাজিয়ে গুছিয়ে রাখে না। আবার যখন একটি সুন্দর গোছালো ঘর দেখি তখন আমাদের মনে এক ধরণের আনন্দের ফুল ফোটে। আমরা ভাবি তখন- সত্যি এই বাসার লোকগুলো সুন্দর মনের মানুষ। কী সুন্দর করে গুছিয়ে রেখেছে সব। আমরা ফুলের সুবাসে যেমন মুগ্ধ হই তেমনি মানুষের মনের সৌখিনতাও আমাদেরকে মুগ্ধ করে। আর এই মুগ্ধতা আশপাশের লোকদের ওপর প্রভাব ফেলে। পাশের লোকেরা শিখতে পারে কীভাবে সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে থাকা যায়।
এমন সুন্দর ও সৌখিন মনের মানুষকে সবাই পছন্দ করে। সবাই তাকে আপন মানুষ বা কাছের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করে। সৌখিনতার ছোঁয়া মানুষকে তৃপ্তি দেয়। তাই সৌখিন মনের মানুষ মানেই ভিন্ন মানুষ। বা একজন আলাদা বৈশিষ্টের মানুষ। মনের সৌখিনতা সুন্দর মানুষের অন্যতম বৈশিষ্ট। আমরা যদি সুন্দর মনের অধিকারী হতে পারি তাহলে মনের সৌখিনতা আমাদেরকে ভিন্নভাবে পরিচিত করবে। মনের সৌখিনতা ছড়াবে ফুলের সুবাস, যা পৌঁছে যাবে সকলের হৃদয়ে হৃদয়ে। সকলেই মুগ্ধ হবে আমাদের সুন্দর মনের আনন্দে! সুতরাং আমাদের উচিৎ সবাই মিলে মনটিকে সুন্দর রাখা। আর মনের সৌখিনতার চর্চা করা।

-এম. মুনিরুল ইসলাম

02/02/2023

বিশ্বের যত নান্দনিক লাইব্রেরি--

প্রাচ্যের লোকজন শুয়ে-বসে বই পড়তেই বেশি পছন্দ করে। পছন্দ-অপছন্দের কথা উহ্য রেখেও বইপ্রেমীদের যাবতীয় চাহিদা পূরণ করতে বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে লাইব্রেরি। বাংলাদেশের বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র, পিবিএস, বাংলা একাডেমি, বেঙ্গল কিংবা মোগল সাম্রাজ্যের আদলে তৈরি বাতিঘরের প্রতি তাই পাঠকদের আকর্ষণ অনেক বেশি। শুধু বইয়ের দোকান হিসেবেই নয়, স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকেও পৃথিবীতে অনন্য হয়ে আছে এমন কিছু বুকশপের কথা থাকছে আজকের আয়োজনে।

লিভারেরিয়া লেল্লো, পর্তুগাল
জে কে রোলিংয়ের প্রিয় বইয়ের দোকান এটি। বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর বইয়ের দোকানগুলোর কথা বলতে গেলে সবার আগে আসে পর্তুগালের পোর্তো শহরে অবস্থিত ‘লিভারেরিয়া লেল্লো’র কথা। অনন্য সুন্দর এই বইয়ের দোকানটিতে প্রবেশ করলে আপনার মনে হবে কোনো এক জাদুর মায়ারাজ্যে প্রবেশ করেছেন আপনি। সুন্দর নকশাকৃত কাচের রঙিন জানালা এবং কাঠের তৈরি প্যাঁচানো সিঁড়ির জন্য বিখ্যাত এই বইয়ের দোকানটি।

ঝংশুগে, চায়না
চায়না শহরের উত্তরে অবস্থিত এই আধুনিক বইয়ের দোকানটি অসংখ্য কলাম আর সারিতে বিভক্ত। বাচ্চাদের জন্য এত সুন্দর বইয়ের দোকান আর একটিও নেই বলে দাবি করেন ঝংশুগে লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ।

কুক অ্যান্ড বুক, ব্রাসেলস
ছাদ থেকে ঝুলছে থরে থরে বই! চিন্তা করে দেখুন তো, কী অদ্ভুত সুন্দর হবে সেই দৃশ্য। শুধু ঝুলন্ত বইই নয়, কাচের দেয়ালে আটকে রাখা রেলওয়ে ম্যাপ, সব ধরনের পাঠকের কথা বিবেচনা করে সাজানো বইয়ের তালিকা- সব মিলিয়ে ডিজনি মুভির সেট হিসেবে দিব্যি চালিয়ে দেয়া যাবে কুক অ্যান্ড বুক দোকানটিকে।

লিভারেরিয়া দ্য ভিলা, ব্রাজিল
ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিক দোকান তৈরিতে ব্রাজিলিয়ানদের দক্ষতার কথা সর্বজনবিদিত। তবে লাইব্রেরি হিসেবে লিভারেরিয়া দ্য ভিলা নির্মাণে তারা যে আন্তরিকতা আর সৌন্দর্যবোধের পরিচয় দিয়েছে, তাতে বোধ করি পরবর্তীতে শৈল্পিক জ্ঞানসম্পন্ন জাতি হিসেবেও তাদের শুরুর দিকে স্থান দেয়া হবে।

দ্য বুক ওয়ার্ম, বেইজিং
দ্য বুক ওয়ার্ম নামের দৃষ্টিনন্দন ও অনন্য সুন্দর এই বইয়ের দোকানটিতে রয়েছে ষোলো হাজারেও বেশি বই। চমৎকার অভ্যন্তরীণ কারুকার্যময় এই বইয়ের দোকানটির সাথেই রয়েছে একটি ছোট্ট রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফে। নতুন-পুরাতন বই কেনাবেচার পাশাপাশি নানারকম অনুষ্ঠানও হয় এখানে। নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, কোনো নতুন সিনেমার প্রথম শো, বিভিন্ন সাহিত্যানুষ্ঠান প্রভৃতি লেগে থাকে এখানে।

লিভারেরিয়া লার দেভাগার, লিসবন
সামনে বইয়ের পাতা খুলে কফি খেতে খেতে ওপরের দিকে এক ঝলক তাকিয়ে দেখতে পেলেন সাইকেল নিয়ে উড়ে যাচ্ছে শুভ্র এক পরী। বইয়ের রাজ্যে হারিয়ে যেতে সে যেন ডাকছে আপনাকে। জি, পর্তুগালের লিসবনে দেখা মিলবে কল্পলোকের বাস্তব এই নিদর্শনের।

আতেনিও গ্র্যান্ড স্পেøন্ডিড, আর্জেন্টিনা
আর্জেন্টিনার বুয়েনস আয়ারসে অবস্থিত আতেনিও গ্র্যান্ড স্পেøন্ডিড বুকশপটি পৃথিবীর একমাত্র বুকশপ যা থিয়েটারের আদলে নির্মিত হয়েছে। থিয়েটারের মতো ব্যালকনি থেকে শুরু করে ভেলভেটের পর্দা- কী নেই সেখানে? মঞ্চটিকে বদলে দেয়া হয়েছে রেস্টুরেন্ট হিসেবে। সাথে রয়েছে অর্কেস্ট্রা আর পিয়ানোর হালকা সঙ্গীতও। তবে লাইব্রেরির অংশটুকুর মতো এমন নীরবতা বিশ্বের আর খুব কম জায়গাতেই পাওয়া যাবে।

শেকসপিয়র অ্যান্ড কোং, প্যারিস
বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত বইয়ের দোকান শেকসপিয়র অ্যান্ড কোম্পানি অবস্থিত প্যারিসে। নটরডেম গির্জা থেকে এক মিনিটের হাঁটা দূরত্বে স্যান নদীর তীরে এর অবস্থান। শিল্প সাহিত্য আর সংস্কৃতির লীলাভূমি প্যারিসে অবস্থিত এই বইয়ের দোকানটির সাথে জড়িয়ে আছে অনেক বিখ্যাত মানুষের নাম। জেমস জয়েস, আর্নেস্ট হেমিংওয়েসহ ইংরেজি সাহিত্যের অনেক বিখ্যাত সব লেখক এখানে এক সময় আসতেন আড্ডা দিতে। জর্জ হুইটম্যান নামক এক আমেরিকান ভদ্রলোক প্রতিষ্ঠা করেন এই বইয়ের দোকানটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই খুব দ্রুত বইয়ের দোকান থেকে বিনামূল্যে বই ধার দেয়ার ও কফি পানের জনপ্রিয় আসর হয়ে উঠে এটি। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে এখানে আসতে থাকেন নানা তরুণ লেখক। এদের মধ্যে অনেকেই পরবর্তীতে সাহিত্যে পান নোবেল পুরস্কার।

লাইব্রেরিয়া এল পান্দুলো, মেক্সিকো সিটি
মানের সাথে বিন্দুমাত্র আপস না করেও যে সাধ আর সাধ্যের মধ্যে দারুণ সমন্বয় করা সম্ভব, তারই জলজ্যান্ত উদাহরণ এই বুকশপটি। মেক্সিকোর এই লাইব্রেরিটি বাগানে বসে বই পড়া, কফি আর হালকা নাস্তা খাওয়ার আমেজ এনে দিতে পারে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কিভাবে কেটে যাবে, টেরও পাবেন না আপনি!

বার্টস বুকস্টোর, ক্যালিফোর্নিয়া
নিজের বিশাল বইয়ের সংগ্রহ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৬৪ সালে রিচার্ড বার্টিন্সডেল নামে এক ভদ্রলোক ক্যালিফোর্নিয়ার এক রাস্তার ধারে খুলে বসেন বইয়ের দোকান। সেই বইয়ের দোকানটিই আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় আউটডোর বইয়ের দোকানে পরিণত হয়েছে। এই বইয়ের দোকানটিতে রয়েছে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত পরিবেশে বই পড়ার সুযোগ। রাস্তার পাশেই অবস্থিত এই বইয়ের দোকানটি থেকে আপনি বেছে নিতে পারেন আপনার পছন্দের বই। পড়তে পারেন পাশের সবুজ প্রাঙ্গণের কোনো আপেল গাছের নিচে বসে। দিন-রাত প্রায় ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে এই দোকানটি।

- রবিউল কমল

02/02/2023

ভালো খারাপের দ্বন্দ্ব পৃথিবীতে খুব পুরাতন। চিরকাল ভালোর প্রতিপক্ষ খারাপ। কিন্তু তবুও ভালো আছে। থাকবে। খারাপও আছে এবং থাকবে। ভালো থাকতে হলে খারাপের ওপর বিজয়ী হতে হয়। খারাপকে অস্বীকার করতে হয়। সাধনা করতে হয় অনবরত। কিন্তু খারাপ হওয়ার জন্য কোনো চেষ্টা বা সাধনা দরকার পড়ে না। বিনা পুঁজিতে খারাপ হওয়া যায়। কিন্তু ভালো হতে হলে পুঁজি লাগে। ভালো চিনতে হয়। জানতে হয়। চিনে ও জেনে মানতে হয়। মানতে গেলেই প্রয়োজন সৎ সাহসের।
একজন মানুষ কিভাবে ভালো হয়। কিভাবে ভালো থাকে। কিভাবে ভালো থাকতে হয়! ভালো থাকার পথ কী? এসবের জবাব এক কথায় দেয়া যায় না। যাবে না। কেননা ভালো থাকার জন্য কাজ অনেক। কিন্তু একটি পথ আছে। যে পথটি খুব সহজ। আবার খুব কঠিন। সহজ হয় যখন পথটি মানার বিষয়ে কেউ দৃঢ সঙ্কল্প করে। আর কঠিন এ কারণে- এ পথে চলতে হলে অনেক কিছু ত্যাগ করতে হয়। ত্যাগের বিষয়টি সবসময় কঠিন। সবসময় ভারি। ত্যাগের আনন্দ আছে। কিন্তু সে আনন্দ নিতে হলে সাহস লাগে। দৃঢ়তা লাগে। সাহস ছাড়া নির্ভেজাল আনন্দ নেয়া যায় না।
তবে এ কথা ঠিক সবাই শুধু অন্যের কাছে ভালো হতে চায়। সবাই চায় অন্যরা তাকে ভালো বলুক। বলুক- আরে এমন লোকই তো হয় না। এতো ভালো মানুষ হয় না। আমার দেখা সব চেয়ে ভালো মানুষ। এর কোনো তুলনা নেই। এমন কথা শুনতে কার না ভালো লাগে। কে না চায় তার বিষয়ে প্রশংসা হোক। তার আলোচনা করুক। তাকে বলুক- আপনি খুব ভালো। আপনার মন ভালো। আপনার কাজও ভালো। সত্যি এমন প্রশংসায় কে না গলে যায়! সবাই এমনই চায়। এমনই আকাক্সক্ষা সকলের। অথচ মানুষকে ভালো হতে হয় নিজের কাছে নিজের। নিজেকে ভালো হতে হয় নিজের বিবেকের কাছে।
কেনো নিজের কাছে ভালো হতে হয়? কারণ অন্যের চোখে ভালো হবার প্রবণতা যখন কারো মনে দেখা দেয়। তখন তিনি সত্যকে সবসময় ধারণ করতে পারেন না। সত্য ধারণ করতে গেলে কখনও কখনও কারো বিরুদ্ধে চলে যেতে হয়। কখনও অন্যের মন মতো কাজ হয়ে ওঠে না। অন্যের অপছন্দের জায়গায় দাঁড়াতে হয়। যখন অন্যের প্রশংসা পেতে কাজ করে তখন সত্য পরাজিত হয়।
কিন্তু কেউ যদি নিজের কাছে নিজে স্বচ্ছ থাকে। নিজের বিবেকের কাছে থাকে পরিষ্কার তখন তিনি সত্যকেই ধারণ করবেন। সত্যকেই লালন করবেন। তার কাছে কেবল জয় হবে সত্যের। তার হাত দিয়ে মিথ্যার পতাকা উড়বে না। কে খুশি হলো। কে হলো না। এই নিয়ে কোনো ভাবনা তাকে বিচলিত করে না। করবে না। কেউ অখুশি হলেও নিজের খুশিতে আনন্দিত থাকে সে।
সত্যি কথা হলো- অন্যের খুশির জন্য কাজ করলে কোথাও না কোথাও আপস করতে হয়। এবং আপসটি হয়ে যায় আসলের সাথে। তখন জয়ী হয়ে যায় নকল। নকল যখন জয় পায় আসলের ওপর তখন জীবন সুখের হতে পারে না। কিন্তু সত্যকে ধারণ করে যদি কাজ হয় তবে সত্যের জয় হয়। সত্য জেগে ওঠে। সত্য জেগে ওঠা মানে সুন্দর জেগে ওঠা। আর সত্য ও সুন্দরের মিলনেই সুখী হয় জীবন। ভালো থাকে জীবন।
এখানে বিষয়টি খুব করে বুঝতে হবে। ভালো থাকাটা অন্যের জন্য যতটা জরুরি। তার চেয়ে বেশি জরুরি নিজের জন্য। ভালো থাকলে নিজেরই লাভ। এবং নিজের লাভই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। খারাপ হলে নিজেরই ক্ষতি। এবং নিজের ক্ষতি সবচেয়ে বড় ক্ষতি।
আসলে ভালো থাকার ভালো মাপকাঠি হলো নিজের মনের কাছে ভালো থাকা। নিজের বিবেকের কাছে ভালো থাকা। যিনি নিজের কাছে ভালো থাকেন তিনি কখনও খারাপ কাজ করবেন না। অন্যের অগোচরেও না। কেউ না দেখলেও না। কেউ না বুঝলেও না। এই যে নিজের কাছে স্বচ্ছতা এটিই ভালো থাকার সবচেয়ে ভালো পথ। ভালো থাকার ভালো বিষয় এটিই।
একটি মজার ব্যাপার হলো- প্রকাশ্যে সবাই ভালো বলে। সবাই ভালোর স্বীকৃতিও চায়। একজন অপরাধী মানুষ তিনিও চান তাকে কেউ অপরাধী না বলুক। যে চুরি করে সেও চোর শব্দটি শুনতে চায় না। তারও ইচ্ছে অন্তত সামনাসামনি তাকে ভালো বলুক। কেউ যেনো চোর বলে না ডাকে। একইভাবে একজন ডাকাতও ডাকাত শব্দটি শুনতে চায় না। তার মানে খারাপ লোকটি খারাপ শব্দটি লোকমুখে শুনতে চায় না। মানতে চায় না। অথচ চুরি, ডাকাতি ভালো হবে কি করে! কিন্তু লোকটি যদি সত্যি বিবেকবান হতো। নিজের কাছে ভালো থাকতো। তবে সে ডাকাতি বা চুরি করার চেষ্টা করতো না। এমনকি চিন্তাও করতো না। অথচ এসব খারাপ করেও ভালো শব্দটি শোনার জন্য লালায়িত।
সমাজে ভালো লোকের সংখ্যা এখনও বেশি। এখনও ভদ্র মানুষ বেশি। এখনও বিবেকবান মানুষের সংখ্যাই বেশি। কিন্তু ভালো মানুষগুলো বিচ্ছিন্ন। এক হতে পারে না। পারছে না। সে কারণে খারাপ মানুষগুলো দাপটের সাথে বিচরণ করছে সমাজে। শুধু বিচরণ করছে ঠিক নয়। বরং নিজেদের ভালো বলে পুরস্কারও হাতিয়ে নিচ্ছে। একইসাথে ভালো মানুষগুলোকে বলছে খারাপ। অদ্ভুত সময়। অদ্ভুত সমাজ!
মানুষ নিজের সম্পর্কে খুব করে জানে- কি করে সে। কি করছে সে। এবং কতটা করছে। কতটা ভালো করে। কতটা মন্দ করে। নিজের ব্যাপারে নিজের জানাশোনা নিশ্চয় বেশি। নিয়তের গভীরে কি আছে। কোন নিয়তে কাজ করছে। নিজের ব্যাপারে সবই জানে মানুষ। তাই এ কথা বলতেই হবে- ভালো থাকতে হবে নিজের কাছে।

02/02/2023

মাছরাঙা পাখিদের এমন একটি প্রজাতি যারা মাছ শিকার এবং ধরার বিশেষ ক্ষমতার জন্য বেশ পরিচিত। সারা বিশ্বে এটি দেখা যায়। সাধারনত এরা পানি আছে এমন স্থানের আশেপাশে থাকে এবং জলজ পরিবেশের সাথে ভালভাবে অভিযোজিত হয়। এই অভিজ্ঞ শিকারীরা তাদের তীক্ষ্ণ ঠোট এবং দ্রুত ডাইভিং গতির মাধ্যমে সেকেন্ডের কিওদাংশ সময়ের মধ্যেই মাছ শিকার করে থাকে।
এরা গাছের ডাল বা পাথর এর উপর ঘাপ্টি মেরে বসে থাকে, মাছের সাঁতার দেখতে তাদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিশক্তি ব্যবহার করে এবং সুজোগ মত লক্ষ্যবস্তু ঠিক করে জলে ডুব দিয়ে শিকার করে ।
একবার তারা তাদের শিকার খুঁজে পেলে, তারা অবিশ্বাস্য গতি এবং নির্ভুলতার সাথে জলে ডুব দেয়। ডাইভিং করার সময় তারা প্রতি ঘন্টা ৩০ মাইল পর্যন্ত গতিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়, যা তাদের ছোট আকার বিবেচনায় অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক।

- মুশফিকুর রহিম

01/02/2023

২০১৮ সালে চীন এক ধরনের সুপার ম্যাটেরিয়াল বা অতিবস্তু তৈরির দাবি করে। দেশটির ভাষ্যে, এটি দিয়ে মুড়ে দিলে বিমান বা অন্য যে কোনো বস্তু আর দেখা যাবে না। অর্থাৎ অদৃশ্য অবস্থায় তার সামগ্রিক কর্মকান্ড করতে পারবে। চীনের দাবি সত্যি হলে যুদ্ধে তারা অপরাজেয় হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছে বেশ কয়েকটি সামরিক বিশেষজ্ঞ পত্রিকা।
চীনের সেন্ট্রাল টেলিভিশনে (সিসিটিভি) প্রচারিত একটি ডকুমেন্টারিতে বলা হয়, চীনের গুয়াংডং রাজ্যে গুয়াংচি অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির একটি ল্যাবরেটরিতে বিশ্বের প্রথম সুপার ম্যাটেরিয়াল তৈরির কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। ওই ল্যাবে পোড়ানো যায় না, আবার ঠান্ডায় জমিয়ে ফেলা যায় না এমন মেটাম্যাটেরিয়াল অর্থাৎ অতিবস্তু বা সুপার ম্যাটেরিয়াল তৈরি করা হচ্ছে। সুপার ম্যাটেরিয়ালের আবরণের আড়ালে থাকলে যে কোনো বস্তু অদৃশ্য হয়ে যায়।
তবে চীন ওই বস্তু কী কাজে ব্যবহার করবে, তা জানানো হয়নি। চীনের সংবাদ সংস্থা সিনা জানিয়েছে, ওই কারখানা তাদের সেনাবাহিনীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং বস্তুটি জে-টোয়েন্টি স ফাইটার জেটকে অদৃশ্য করে দিতে ব্যবহার করা হতে পারে। অতিবস্তু বা সুপার ম্যাটিরায়েলের গুণাবলি প্রাকৃতিক বিভিন্ন বস্তুর বৈশিষ্ট্য থেকে ভিন্ন। একাধিক ধরনের ধাতু ও প্লাস্টিকের সংমিশ্রণে সুপার ম্যাটেরিয়াল তৈরি করা হয়েছে। কিছু অতিবস্তু দৃশ্যমান আলোকে এমনভাবে বাঁকাতে পারে, যে সেটির আড়ালে থাকা বস্তু আর দেখা যায় না। গুয়াংচি অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির ওয়েবসাইটের উদ্ধৃতি দিয়ে নিউজ উইক বলছে, গুয়াংচির ল্যাবে বছরে ১ লাখ স্কয়ার ফিটেরও বেশি অতিবস্তু তৈরি সম্ভব। নিউইয়র্ক পোস্ট বলছে, চীন বছরে ১০ লাখ স্কয়ার ফিটেরও বেশি সুপার ম্যাটেরিয়াল তৈরি করতে পারবে।

_তানভীর তাজওয়ার

Want your school to be the top-listed School/college in Ramna?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Culinary Team

Attire

Website

Address


University Of Dhaka
Ramna
1000