দারুল কুরআন নৈশ মাদরাসা

দারুল কুরআন নৈশ মাদরাসা

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from দারুল কুরআন নৈশ মাদরাসা, Education, Rajshahi.

09/05/2018

মুমিন বেপরোয়া হতে পারে না
মাওলানা শিব্বীর আহমদ

বিখ্যাত সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর বাণীটি দিয়েই শুরু করি। তিনি বলেছিলেন-

أَكْبَرُ الْكَبَائِرِ الْإِشْرَاكُ بِاللهِ، وَالْأَمْنُ مِنْ مَكْرِ اللهِ، وَالْقُنُوطُ مِنْ رَحْمَةِ اللهِ، وَالْيَأْسُ مِنْ رَوْحِ اللهِ.

সবচেয়ে বড় কবিরা গোনাহ হচ্ছে আল্লাহ তাআলার সঙ্গে শিরক করা, আল্লাহ্র পাকড়াও থেকে নিশ্চিন্ত হয়ে যাওয়া আর আল্লাহ্র রহমত থেকে নিরাশ হয়ে পড়া। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ১৯৭০১; শুআবুল ঈমান বায়হাকী, হাদীস ১০১৯; আলমুজামুল কাবীর, তবারানী, হাদীস ৮৭৮৪

হাদীসের ভাষ্যে কোনো অস্পষ্টতা নেই- আল্লাহ তাালার সঙ্গে শিরক করা যেমন অনেক বড় একটি গোনাহ, আল্লাহ্র রহমত থেকে নিরাশ হয়ে পড়াও যেমন একটি বড় গোনাহ, তেমনি আল্লাহ তাআলার শাস্তি সম্পর্কে উদাসীন হয়ে থাকা, তাঁর পাকড়াওয়ের বিষয়ে বেপরোয়া হয়ে যাওয়াও একটি বড় গোনাহ। ‘রাহীম, রাহমান, গাফফার’ যেমন আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নাম, তেমনি ‘কাহ্হার’ও তাঁর গুণবাচক নাম। সীমাহীন ক্ষমতার অধিকারী আল্লাহ তাআলার দয়া ও অনুগ্রহ যেমন সীমাহীন, দান ও করুণা যেমন অফুরান, তেমনি তাঁর শাস্তির কঠোরতাও বর্ণনাতীত। আখেরাতে যাকে তিনি পুরস্কৃত করবেন, তাকে নিজ শানমোতাবেকই পুরস্কৃত করবেন। আবার যাকে শাস্তি দেবেন, সেই শাস্তিও হবে তাঁর কুদরত ও ক্ষমতানুসারে। মুমিন বান্দার পুরস্কার নিয়ে যত বর্ণনা কুরআন ও হাদীসের পাতায় পাওয়া যায় সবকিছুর সারকথা তো এই একটি হাদীসেই আমরা পেয়ে যাই-আল্লাহ তাআলা বলেছেন-

أَعْدَدْتُ لِعِبَادِي الصّالِحِينَ مَا لاَ عَيْنٌ رَأَتْ، وَلاَ أُذُنٌ سَمِعَتْ، وَلاَ خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ.

আমি আমার নেক বান্দাদের জন্যে এমন কিছু প্রস্তুত করে রেখেছি, যা কোনো চোখ কখনো দেখেনি, কোনো কান যার কথা কখনো শোনেনি, এমনকি কোনো হৃদয় যা কখনো কল্পনাও করে নি!

এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্র কুরআনের এই আয়াতটি তিলাওয়াত করে শোনান-

فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَّاۤ اُخْفِیَ لَهُمْ مِّنْ قُرَّةِ اَعْیُنٍ.

তাদের জন্যে চোখ-জোড়ানো কত কিছু যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে তা কেউ জানে না। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৩২৪৪

মুমিন বান্দাদের পুরস্কারের ক্ষেত্রে যেমন তিনি তাঁর কুদরতের প্রকাশ ঘটাবেন, অকল্পনীয় সব পুরস্কারে তাদের ভূষিত করবেন, একইভাবে তাঁর কুদরত প্রকাশিত হবে কাফেরদের শাস্তির ক্ষেত্রেও। পবিত্র কুরআন ও হাদীসে জাহান্নামের অনেক রকম শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে। কোথাও জাহান্নামের আগুনের তীব্রতা ও ভয়াবহতার কথা, কোথাও জাহান্নামিদের কষ্টদায়ক খাদ্য ও পানীয়ের কথা, কোথাও শাস্তি বেশি ভোগ করার জন্যে তাদের বিশালাকৃতির শরীরের কথা। সবকিছু মিলিয়ে সেখানেও একই কথা-জাহান্নামের শাস্তির আসল রূপও আমাদের চিন্তা ও কল্পনার বাইরে।

এ তো মৃত্যু-পরবর্তী জগতের কথা। সেখানকার যাবতীয় ক্ষমতা কেবলই আল্লাহ্র। দুনিয়াতে আল্লাহ কিছু মানুষকে কিছু সময়ের জন্যে নির্দিষ্ট কোনো এলাকার রাজা বানিয়ে দেন। সামান্য ক্ষমতা তিনি দিয়ে থাকেন। কিন্তু সে জগতে সকল প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ক্ষমতা একমাত্র তাঁর হাতেই থাকবে। সকল রাজত্ব সেদিন তাঁরই।

আর এই দুনিয়ার জগতে তিনি যে কিছু মানুষকে সামান্য কিছু ক্ষমতা দিয়ে থাকেন, এখানকার আসল ক্ষমতাও তাঁরই হাতে। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা দিয়ে থাকেন, যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা কেড়ে নেন। জগতের যাবতীয় কিছুর চাবি তো তাঁরই নিয়ন্ত্রণে। পবিত্র কুরআনের বর্ণনা-

قُلِ اللّٰهُمَّ مٰلِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِی الْمُلْكَ مَنْ تَشَآءُ وَ تَنْزِعُ الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَآءُ ، وَ تُعِزُّ مَنْ تَشَآءُ وَ تُذِلُّ مَنْ تَشَآءُ ، بِیَدِكَ الْخَیْرُ ، اِنَّكَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ، تُوْلِجُ الَّیْلَ فِی النَّهَارِ وَ تُوْلِجُ النَّهَارَ فِی الَّیْلِ، وَ تُخْرِجُ الْحَیَّ مِنَ الْمَیِّتِ وَ تُخْرِجُ الْمَیِّتَ مِنَ الْحَیِّ، وَ تَرْزُقُ مَنْ تَشَآءُ بِغَیْرِ حِسَابٍ.

বলো, হে আল্লাহ! সকল রাজ্যের মালিক! আপনি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করেন এবং যার থেকে ইচ্ছা রাজত্ব ছিনিয়ে নেন, যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন এবং যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত করেন, আপনার হাতেই তো কল্যাণ, নিশ্চয় আপনি সর্বশক্তিমান। আপনি রাতকে দিনে প্রবেশ করান এবং দিনকে রাতে প্রবেশ করান, আপনি প্রাণবান থেকে প্রাণহীনকে বের করে আনেন এবং প্রাণহীন থেকে প্রাণবানকে বের করে আনেন, আর যাকে ইচ্ছা বেহিসাব রিজিক দান করেন। -সূরা আলে ইমরান (৩) : ২৬-২৭

এগুলো তো আমাদের চোখে দেখা বাস্তবতা। এমন আরও অনেক কিছুর কথাই বর্ণিত হয়েছে পাক কুরআনে, যেগুলো আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে আমাদেরকে আল্লাহ তাআলার অসীম কুদরতের বিষয়টি দেখিয়ে দেয়। এখানে স্বাভাবিকভাবে যা ঘটে সেগুলোও আল্লাহ তাআলারই কুদরত, তিনিই দুনিয়ার এসব আসবাব-উপকরণের ভেতর এসব যোগ্যতা ও শক্তি নিহিত রেখেছেন। আবার অস্বাভাবিক যা কিছু ঘটে, সেগুলোও তাঁরই ইঙ্গিতে সংঘটিত হয়। এমন অসীম কুদরতের অধিকারী যিনি, তিনি যদি কাউকে শাস্তি দিতে চান, কাউকে তার অপরাধের কারণে পাকড়াও করতে চান, ধ্বংস করে দিতে চান, তাহলে কি আর বেশি কিছু লাগে? পবিত্র কুরআনই আমাদেরকে জানায় খোদায়ী শক্তির দাবিদার ফেরাউনকে পানিতে ডুবিয়ে মারার কাহিনী। প্রসঙ্গক্রমে কুরআনে আলোচিত হয়েছে এ উম্মতের ‘ফেরাউন’ আবু জেহেলের নেতৃত্বাধীন কুরাইশ কাফেরদের পরাজয় এবং তাকেসহ সত্তরজন কাফেরের নিহত হওয়ার ঘটনাও। কুরআন থেকে আমরা জানতে পারি, কাড়ি কাড়ি অর্থের মালিক কারুনের করুণ পরিণতির কথাও। জগতের সব ফেরাউন আর কারুণকে যিনি চোখের পলকে ধ্বংস করে দিতে পারেন, তাদের বড়াই-অহংকারের প্রাসাদকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিতে পারেন নিমিষে, কোনো মুমিন কি সেই মহান সত্তার শাস্তির বিষয়ে বেপরোয়া হতে পারে? না, পারে না। মুমিন যেমন আল্লাহ্র রহমতের আশায় বুক বেঁধে রাখে, তেমনি আল্লাহ্র শাস্তির ভয়েও সে সদা প্রকম্পিত থাকে। আল্লাহ পাকের সীমাহীন কুদরত দুনিয়াতে প্রত্যক্ষ করার পরও যারা তাঁর শাস্তির বিষয়ে বেপরোয়া হয়ে পড়ে, অবিরাম পাপ যারা করতেই থাকে, তারা যে নিজেরাই নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনছে-এ নিয়ে আর কোনো দ্বিমত থাকতে পারে! তাদের এ ক্ষতিগ্রস্ততার কথাও স্বয়ং মহান প্রভু আল্লাহ্রই। লক্ষ করুন-

وَ لَوْ اَنَّ اَهْلَ الْقُرٰۤی اٰمَنُوْا وَ اتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَیْهِمْ بَرَكٰتٍ مِّنَ السَّمَآءِ وَ الْاَرْضِ وَ لٰكِنْ كَذَّبُوْا فَاَخَذْنٰهُمْ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ، اَفَاَمِنَ اَهْلُ الْقُرٰۤی اَنْ یَّاْتِیَهُمْ بَاْسُنَا بَیَاتًا وَّ هُمْ نَآىِٕمُوْنَ، اَوَ اَمِنَ اَهْلُ الْقُرٰۤی اَنْ یَّاْتِیَهُمْ بَاْسُنَا ضُحًی وَّ هُمْ یَلْعَبُوْنَ، اَفَاَمِنُوْا مَكْرَ اللهِ، فَلَا یَاْمَنُ مَكْرَ اللهِ اِلَّا الْقَوْمُ الْخٰسِرُوْنَ.

সেসব জনপদবাসী যদি ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত তাহলে আমি অবশ্যই তাদের জন্যে আকাশ ও জমিনের সমূহ বরকত উন্মুক্ত করে দিতাম। কিন্তু তারা অস্বীকার করেছে, তাই তাদের কৃতকর্মের কারণে আমি তাদের পাকড়াও করেছি। জনপদবাসী কি তাদের কাছে রাতের বেলা তারা ঘুমে থাকা অবস্থায় আমার আজাব আসা থেকে নির্ভয় হয়ে গেছে? আর জনপদবাসী কি তাদের কাছে প্রভাতে তারা খেলাধুলায় থাকা অবস্থায় আমার আজাব আসা থেকে নির্ভয় হয়ে গেছে? তারা কি আল্লাহ্র কৌশল থেকে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে? আল্লাহ্র কৌশল থেকে তো ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ছাড়া আর কেউ নিশ্চিন্ত হয় না। -সূরা আ‘রাফ (৭) : ৯৬-৯৯

আল্লাহ যদি কারও ওপর অসন্তুষ্ট হন, তাহলে তিনি ছোট কিংবা বড় কোনো শাস্তি দেয়ার জন্যে কোনো বড়সড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। এ জগতের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে যারা অবাধ্যতার সীমা অতিক্রম করে গিয়েছিল, তাদেরকে বিভিন্নভাবে তিনি পাকড়াও করেছিলেন। এর কিছু কাহিনী পবিত্র কুরআনেও বর্ণিত হয়েছে। হযরত নূহ আলাইহিস সালামের জাতিকে তিনি প্লাবন দিয়ে ডুবিয়ে মেরেছেন। আদ জাতিকে ধ্বংস করেছেন হিম-শীতল বাতাস দিয়ে। ছামুদ জাতি আর মাদয়ানবাসীকে ধ্বংস করেছেন বিকট আওয়াজের মাধ্যমে। আর লূত আলাইহিস সালামের জাতিকে তো মাটিসুদ্ধ উল্টিয়ে দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। মূসা আলাইহিস সালামকে ধাওয়া করতে গিয়ে যখন ফেরাউন পানিতে ডুবে মারা যায়, তখন তার সঙ্গে বিশাল সৈন্যবাহিনীও ছিল। এদের সবাইকেই আল্লাহ এমনভাবে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন, যেন এ পৃথিবীতে তাদের কোনো অস্তিত্বই কখনো ছিল না। অথচ তারা ছিল অনেক অর্থবিত্তের মালিক, অনেক শক্তি ও প্রভাবপ্রতিপত্তির মালিক, প্রচুর শারীরিক শক্তিরও মালিক। এরপরও তারা এ জগৎ থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। আল্লাহ তাআলা বলছেন-

اَلَمْ یَرَوْا كَمْ اَهْلَكْنَا مِنْ قَبْلِهِمْ مِّنْ قَرْنٍ مَّكَّنّٰهُمْ فِی الْاَرْضِ مَا لَمْ نُمَكِّنْ لَّكُمْ وَ اَرْسَلْنَا السَّمَآءَ عَلَیْهِمْ مِّدْرَارًا، وَّ جَعَلْنَا الْاَنْهٰرَ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمْ فَاَهْلَكْنٰهُمْ بِذُنُوْبِهِمْ وَ اَنْشَاْنَا مِنْۢ بَعْدِهِمْ قَرْنًا اٰخَرِیْنَ.

তারা কি দেখেনি, তাদের পূর্বে আমি এমন কত জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছি, যাদেরকে আমি পৃথিবীতে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম, যেমনটি তোমাদেরকে করিনি; আর তাদের ওপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম এবং নহরসমূহ সৃষ্টি করেছিলাম, যা তাদের নীচ দিয়ে বয়ে যায়। এরপর তাদের পাপের কারণে আমি তাদের ধ্বংস করেছি এবং তাদের পরে অন্য জাতি সৃষ্টি করেছি। -সূরা আনআম (৬) : ৬

নির্ভয় ও বেপরোয়া হওয়ার এই হল পরিণাম। আল্লাহ্র দেয়া নিআমত নিয়ে যেখানে কৃতজ্ঞতায় সেজদাবনত হওয়ার কথা ছিল, সেখানে যারা অহংকারে আকাশে উড়তে চায় কিংবা মাটি ফাটিয়ে দিতে চায় তাদের পরিণাম যুগে যুগে এমনই হয়েছে। আল্লাহ্র শাস্তি সম্পর্কে বেপরোয়া হওয়ার মূলেই রয়েছে এই অহংকার। কেউ যখন ভাবতে শুরু করে- আমার এত এত ক্ষমতা, কাড়ি কাড়ি এই অর্থসম্পদ, আমাকে ধরবে কে? তখনই সে অপরাধের পথে এগিয়ে যায় এবং একসময় মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। এটা শুধু আল্লাহ তাআলার সঙ্গে কৃত অপরাধের কথা নয়; বরং দুনিয়ার জগতের বাস্তবতাও এমনই। অপরাধ করলে শাস্তির মুখে পড়তে হবে- এ কথা তো সবাই জানে। কিন্তু মানুষ যখন ক্ষমতা লাভ করে, প্রভাব-প্রতিপত্তি অর্জন করে, তখন সে ভাবতে থাকে- আমার অন্যায়ের হিসাব নেয়ার সাধ্য কার? অথচ দুদিনের ব্যবধানে যখন ক্ষমতার পালাবদল হয় তখন সেই হিসাব ঠিকই বেরিয়ে আসে। দাপুটে শাসক হয়ে পড়েন চার দেয়ালের বন্দী। কথা হল, কেন এমন হয়? আইনের কথা জেনেও কেন মানুষ অপরাধে জড়ায়? উত্তর একটাই- বেপরোয়া ও নির্ভয় মানসিকতা। এ মানসিকতা যেমন মানুষের দুনিয়ার জীবন ধ্বংস করে, একইভাবে বরবাদ করে তার দ্বীন ও পরকালকেও।

যারা বেপরোয়া হয়ে যায়, আল্লাহ তাদেরকে অনেক সময় একটু ছাড় দেন। দুনিয়ার ধনসম্পদের প্রাচুর্যে তাকে ভরিয়ে দেন। অর্থসম্পদ সম্মান মর্যাদা দিয়ে থাকেন। জানা কথা, পার্থিব ধনসম্পদ আর প্রভাব-প্রতিপত্তি আল্লাহ তাআলার বিচারে ভালোমন্দ কিংবা গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠি নয়। এগুলোর কোনো মূল্য তাঁর কাছে নেই। হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

لَوْ كَانَتِ الدّنْيَا تَعْدِلُ عِنْدَ اللهِ جَنَاحَ بَعُوضَةٍ مَا سَقَى كَافِرًا مِنْهَا شَرْبَةَ مَاءٍ.

আল্লাহ্র নিকট দুনিয়ার যদি একটি মাছির ডানার সমান মূল্যও থাকত, তাহলেও তিনি কোনো কাফেরকে এক ঢোক পানি খাওয়াতেন না। -জামে তিরমিযী, হাদীস ২৩২০

তিনি কাউকে এ সম্মান-সম্পদ দিয়ে থাকেন নিআমতস্বরূপ, কাউকে দেন অবাধ্যতায় আরেকটু এগিয়ে যাওয়ার ছাড়স্বরূপ। এরপর একসময় তাকে আকস্মিকভাবে ধ্বংস করে দেন। পবিত্র কুরআনের বর্ণনা-

فَلَمَّا نَسُوْا مَا ذُكِّرُوْا بِهٖ فَتَحْنَا عَلَیْهِمْ اَبْوَابَ كُلِّ شَیْءٍ، حَتّٰۤی اِذَا فَرِحُوْا بِمَاۤ اُوْتُوْۤا اَخَذْنٰهُمْ بَغْتَةً فَاِذَا هُمْ مُّبْلِسُوْنَ، فَقُطِعَ دَابِرُ الْقَوْمِ الَّذِیْنَ ظَلَمُوْا ، وَ الْحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ.

আর তাদেরকে যা দিয়ে উপদেশ দেয়া হয় তারা যখন তা ভুলে গেল, আমি তখন তাদের জন্যে সবকিছুর দুয়ার উন্মুক্ত করে দিই। একপর্যায়ে যখন তাদের যা দেয়া হয়েছে তা নিয়ে তারা উল্লসিত হয়ে পড়ে তখন তাদেরকে আকস্মিকভাবে আমি পাকড়াও করি। তখন তারা নিরাশ হয়ে পড়ে। আর জালেম সম্প্রদায়কে সমূলে উচ্ছেদ করা হল। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রভু আল্লাহ্র। -সূরা আনআম (৬) : ৪৪-৪৫

আল্লাহ্র শাস্তির বিষয়ে নির্ভয় ও বেপরোয়া না হওয়ার এই যে শিক্ষা, এটা কেবল পাপীষ্ঠদের জন্যেই নয়, বরং যারা দ্বীন-ধর্ম মেনে চলেন, সদা ভয় জাগ্রত রাখতে হবে তাদের মনেও। এক মুহূর্তের একটি পদস্খলন ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে জীবনের সকল অর্জন। সারা জীবনের পুণ্যের কাজ হারিয়ে যেতে পারে জীবনের শেষভাগে একটি অপরাধের সামনে। হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

إِنّ الرّجُلَ لَيَعْمَلُ الزّمَنَ الطّوِيلَ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنّةِ ثُمّ يُخْتَمُ لَهُ عَمَلُهُ بِعَمَلِ أَهْلِ النّارِ.

কারও এমন হতে পারে, দীর্ঘজীবন সে নেক কাজ করে গেল, কিন্তু তার জীবন শেষ হল কোনো গোনাহের কাজ দিয়ে, (ফলে সে জাহান্নামে যাবে)। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৬৫১

আল্লাহকে যারা বিশ্বাস করে না, তারা আল্লাহ্র পাকড়াওকে ভয় করবে না- এটাই স্বাভাবিক। যারা পরকালই মানে না, পরকালের শাস্তি তারা মানবে কোত্থেকে? কিন্তু যারা আল্লাহকে বিশ্বাস করে, পরকালে বিশ্বাস করে, তাদেরকে আল্লাহ্র শাস্তির কথা মনে রাখতেই হবে। শয়তান কখনো ভুলিয়ে দিতে পারে, ধোঁকা দিয়ে কুপথে নিয়ে যেতে পারে, কুমন্ত্রণা দিয়ে সরল পথ থেকে সরিয়ে দিতে পারে, কিন্তু যখনই মনে হবে, তখনই ফিরে আসতে হবে। আল্লাহ তাআলার রহমতের আশায় বুক বেঁধে কৃত অপরাধের জন্যে ক্ষমা চাইতে হবে, অনুতপ্ত হতে হবে। মুমিন হিসাবে এ বিশ্বাস আমাদেরকে রাখতেই হবে- আল্লাহ রাব্বুল আলামীন একদিকে যেমন ‘আযীযুন’, ‘যুনতিকাম’ বা পরাক্রমশালী, শাস্তিদাতা, আবার তিনিই ‘তাওয়াবুর রাহীম’ বা তওবা কবুলকারী, দয়াময়। আর তাঁর আশ্বাসবাণী তো আছেই-

وَ الَّذِیْنَ اِذَا فَعَلُوْا فَاحِشَةً اَوْ ظَلَمُوْۤا اَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوْبِهِمْ ، وَ مَنْ یَّغْفِرُ الذُّنُوْبَ اِلَّا اللهُ، وَ لَمْ یُصِرُّوْا عَلٰی مَا فَعَلُوْا وَ هُمْ یَعْلَمُوْنَ، اُولٰٓىِٕكَ جَزَآؤُهُمْ مَّغْفِرَةٌ مِّنْ رَّبِّهِمْ وَ جَنّٰتٌ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ، وَ نِعْمَ اَجْرُ الْعٰمِلِیْنَ.

আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা নিজেদের ওপর জুলুম করে বসলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাদের পাপের জন্যে ক্ষমাপ্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া পাপ মোচন করার আর কে আছে? তারা যা করেছে জেনেশুনে তাতে তারা জেদ ধরে থাকে না। তাদেরই প্রতিদান তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে ক্ষমা এবং এমন উদ্যানরাজি, যার পাদদেশ দিয়ে নহরসমূহ বয়ে যায়। তাতে তারা চিরকাল থাকবে। আমলকারীদের প্রতিদান কত উত্তম! -সূরা আলে ইমরান (৩) : ১৩৫-১৩৬

17/02/2018

জেনারেল শিক্ষিত ও দ্বীনী শিক্ষিতদের পরস্পর কাছাকাছি আসা উচিত!

মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ
মুসলমানদের হাজার বছরের যে ইতিহাস সেই ধারা যদি আজ পর্যন্ত অব্যাহত থাকত তাহলে এই কাজটি এখন আলাদা করে শুরু করার দরকার হত না। বিভিন্ন খেলাফতের সময় মুসলমানদের যে শিক্ষাব্যবস্থা ছিল তাতেও ভাগাভাগি ছিল না। শিক্ষার একটা স্তর পর্যন্ত সকল মুসলমানের শিক্ষা এক। মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষাতে ভাগাভাগি ছিল না। মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত যতগুলো জাগতিক শিক্ষা দরকার তা সকল শিক্ষার্থী জানবে এবং ফরযে আইন ইলম ও মুসলমান হিসেবে যা যা জানা দরকার তা সকলে জানবে। কোনো শিক্ষার্থী মুসলমান হিসেবে চলার জন্য আবশ্যকীয় যেসব বিষয় রয়েছে তা জানা থেকে পিছে থাকবে না। আবার জাগতিক বিষয়ের যেগুলো অপরিহার্য সেগুলো জানাও বাকি থাকবে না। এরকম শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের ছিল। এক দুই বছর নয়, হাজার বছর ধরে ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে ঈমানী দুর্বলতা ও ইসলাম থেকে দূরে সরার কারণে অন্যরা আমাদের ওপর আগ্রাসন চালিয়েছে। অন্যদের আগ্রাসনে ধীরে ধীরে আমাদের ক্ষমতা গেছে, শিক্ষা গেছে, অর্থব্যবস্থা গেছে। সবকিছুই আমরা হারিয়ে ফেলেছি। নিজেদেরটা হারিয়ে অন্যদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ফেলেছি। যা আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়েছে এমন এক শিক্ষা-ব্যবস্থা,যা এক অংশ শেখায় আরেক অংশ শেখায় না। যে শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়ন শেখায় কিন্তু সে উন্নয়ন সত্যিকারের উন্নয়ন কীভাবে হবে এবং ইনসাফপর্ণ উন্নয়ন কীভাবে হবে তা শেখায় না। এ কথাগুলো এখানকার জেনারেল শিক্ষিত বন্ধুদের সামনে ব্যাখ্যা করে বলার প্রয়োজন নেই।

ধরুন,আমাদের দেশসহ গোটা পথিবীই অর্থনীতিতে খুব এগিয়ে গেল। মানুষের ধন-দৌলত বাড়ল। কিন্তু এতে কী হবে? এতে আসলে বৈষম্যও বাড়বে?

ক’দিন আগেও আপনারা দেখেছেন যে,পথিবীর অর্ধেক মানুষের হাতে যা সম্পদ আছে আটজন লোকের হাতে এ পরিমাণ সম্পদ আছে। যদি এ আটজন লোকের সম্পদের দশ ভাগের একভাগ ওই বাকী অর্ধেক গরীব লোকদের কাছে যেত তাহলে এরা হতদরিদ্র থাকত না। এরা একটা মাঝামাঝি পর্যায়ে উঠে আসত। বিশ্বের একেবারে বড় ধনীদের বাদ দিয়ে আমাদের দেশের কথা বলি। আমরা যে শহরে বাস করি, দেখতে পাই একদিকে বিল্ডিংয়ের সাড়ি অন্যদিকে ঘিঞ্জি বস্তি। আমরা যে গাড়ি ব্যবহার করি তাতেও খুব দৃশ্যমান প্রকাশ্য বৈষম্য। শিক্ষার তো উন্নতি হয়েছে,কিন্তু এ বৈষম্য দূর হচ্ছে না কেন?

পার্থক্য থাকবে,সম্পদের ব্যবধান থাকবে,কাজের ফরক থাকবে,কাজ কেউ উঁচু করবে,কেউ নিচু। কেউ কর্মচারী থাকবে,কেউ কর্মকর্তা। কিন্তু মানুষ হিসেবে চলার জন্য ন্যূনতম যা দরকার সেটা সকলকেই পেতে হবে। এই শিক্ষাটা সে কথা বলে না। এটা রয়েছে ইসলামী শিক্ষায়।

একটি উদাহরণ দিয়েছি, আরেকটি উদাহরণ দেই। দুর্নীতি দূর করার জন্য হালালভাবে চলার চেষ্টা করে। কিন্তু এই যে আরেকটা শ্রেণী, এই শ্রেণীটা এত বেশি লাগামহীন কীভাবে হয়ে উঠল। মুসলমান হয়ে তো এত লাগামহীন হতে পারে না। বোঝা গেল,তার শিক্ষার মধ্যে মুসলমানিত্ব ঢোকেনি,খোদাভীতি ঢোকেনি। যখন থেকে সে পড়ছে সে শুধু পড়াই পড়ছে। যদি এর মধ্যে তাকওয়া ঢুকত, মুসলমানিত্ব ঢুকত তাহলে এরকম লাগামহীন হত না।

মোটকথা,মুসলমান হিসেবে আমার বৈশিষ্ট্য কী,মুসলমান হিসেবে একটি সুন্দর পথিবী প্রতিষ্ঠার অংশ হওয়ার জন্য এবং একটি সুন্দর পথিবী পরিচালনার জন্য আমাকে কীভাবে চলতে হবেÑ এ জিনিসগুলো আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় অনুপস্থিত।

অন্যদিকে আমাদের মাদরাসা শিক্ষা। যখন ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানীর পরে উপমহাদেশে ইংরেজদের শাসন আসল তখন তারা শিক্ষাব্যবস্থার আমল পরিবর্তন করেছিল। সেটারই ধারাবাহিকতা আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে। তখন মুসলমানদের সন্তানদের ন্যূনতম দ্বীনী শিক্ষা দেয়াটা জটিল হয়ে দাঁড়াল। তখন ভারতবর্ষের বুযুর্গ আলেম যারা,তাঁরা চিন্তা করলেন,এ অবস্থা যদি দীর্ঘদিন চলতে থাকে তাহলে শুধু নামের মুসলমান থাকবে;মুসলমানের সন্তানেরা কালিমা জানবে না, দ্বীন জানবে না,নামায পড়ার লোকও থাকবে না। তখন তারা নিছক ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরী করলেন। ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তখন জাগতিক শিক্ষা রাখা হয়নি। প্রথমে ওভাবে শুরু করলেন। তাঁরা বিখ্যাত ব্যক্তি ছিলেন এবং জেনারেল শিক্ষিতদের সাথে তাদেরও যোগাযোগ ছিল। তাদেরকে জিজ্ঞাসাও করা হয়েছে যে, আপনারা জাগতিক শিক্ষা বাদ দিয়ে ওটা করলেন কেন? তারা বলেছেন, সব তো সয়লাব হয়ে গেছে। এখনকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দ্বীন বলতে কিছু নেই। সতরাং বিকল্প হিসেবে এখন শুধুই ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হোক। ধর্মীয় শিক্ষাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অগ্রসর হলে আস্তে আস্তে আবার সমন্বয় ঘটবে।

ধীরে ধীরে সে শিক্ষাব্যবস্থা এখন উন্নতি করেছে। এখন যে দ্বীনী মাদরাসাগুলোতে দ্বীন শিক্ষা দেয়া হয় ওখানে প্রাথমিক পর্যায়ে জাগতিক শিক্ষারও ব্যবস্থা আছে। উপমহাদেশের মাদরাসাগুলোতে আছে। আমাদের দেশের মাদরাসাগুলোতেও আছে। কিন্তু যে জেনারেল শিক্ষাব্যবস্থা বর্তমানে আছে, সেখানে এমন একটা মানসিকতায় আমরা পৌঁছেছি যে, শিক্ষার বইয়ের মধ্যে মনে হচ্ছে আল্লাহ শব্দ থাকাটা অপরাধ। ওড়না শব্দ থাকাটা দোষণীয়। সেটা নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে, বিক্ষোভ হচ্ছে। তাহলে আমরা কোন্ জায়গায় পৌঁছেছি,যেখানে এ শব্দগুলোই সহ্য করানো হচ্ছে না। এজন্য আমরা চাই এবং অনেক ওলামায়ে কেরাম চান যে,জেনারেল শিক্ষা ও দ্বীনী শিক্ষা দটোই কাছাকাছি আসা উচিত। জেনারেল শিক্ষিত শ্রেণী এবং আলেম-ওলামা পরস্পর কাছাকাছি আসা উচিত। উন্নত সমাজব্যবস্থার জন্য পরস্পরের সহযোগিতা দরকার এবং প্রত্যেকেই প্রত্যেকের কাছ থেকে কিছু কিছু অর্জন করা দরকার। এ প্রয়োজনকে চিন্তা করেই এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠান ছোট পরিসরে হলেও শুরু হতে যাচ্ছে। মাশুক ভাইয়ের (খ্যাতিমান চার্টার্ড একাউন্টেন্ট) মেহনতে। তিনি কুমিল্লারই সন্তান। তাঁর দ্বীনী জযবাÑ কিছু দ্বীনী খেদমত করার। এ বাড়ি তিনি ভাড়া নিয়েছেন এবং সংস্কার করেছেন। তিনি বলেছেন দ্বীনী কাজ করার কথা। কী কাজ করা হবে সেটা বলেননি। তাঁর কথা, আপনাদের যা ইচ্ছা হয় করুন। আমরা চিন্তা করেছি যে, এ ধরনের একটা কাজ এখান থেকে শুরু হোক।

আমরা এখানে যেটা শুরু করতে চাই তা নিছক একটি প্রতিষ্ঠান নয়; বরং এর মাধ্যমে আমরা একটা পথ দেখাতে চাই। এটা মহল্লায় মহল্লায় হবে। এবং ইনশাআল্লাহ পুরো দেশে হবে। আমরা চাই যে, আমাদের কচিকাঁচারা যারা এখন স্কলে পড়ছে, এরা স্কুল থেকে কলেজে যাবে,স্কুল থেকে কলেজে যাবে, ইউনিভার্সিটিতে যাবে,এরপর কর্মজীবনে কোনো সরকারী চাকুরী নিবে কেউ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে যোগ দিবে, কেউ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলবে,যেখানেই সে থাকুক,একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে থাকুক। আদর্শ মানুষ হওয়ার জন্য যে যে গুণ অর্জনের কথা আল্লাহ তাআলা বলেছেন,সেগুলো সে অর্জন করবে। যতটুকু তার স্কলের সিলেবাসে আছে ততটুকু সেখান থেকে শিখবে। অতিরিক্ত আরো প্রয়োজনীয় যে দ্বীনী বিষয়গুলো আছে,তা এ ধরনের প্রতিষ্ঠান থেকে শিখবে। এভাবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ পাবে আদর্শ মুসলমান ডাক্তার,মুসলমান ইঞ্জিনিয়ার,মুসলমান ডিসি, এসপি, সচিব ইত্যাদি। তখন দূদকের মত বিভিন্ন সংস্থার পিছনে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে না।

আমরা ছেলেদের উপর বোঝা চাপাতে চাইনা,বরং আমরা চাই,কয়েক বছর লাগিয়ে শিখবে এবং অল্প অল্প সময় করে শিখবে। এক ঘণ্টা বা দুঘণ্টার প্রোগ্রাম। এর ভেতরে তাকে কুরআনে কারীম সহীহ-শুদ্ধ করে শিক্ষা দেওয়া এবং দ্বীনের অন্যান্য জরুরি বিষয়াদি, জরুরি মাসআলা-মাসায়েল এবং সে কর্মজীবনে গেলে কীভাবে দ্বীনী বিষয়গুলো সমাধা করবে এর দিক-নির্দেশনা দেওয়া হবে। সে যেন পরিবারের একজন আদর্শ সদস্য হতে পারে। আদর্শ সন্তান,আদর্শ ভাই,আদর্শ ভাতিজা,আদর্শ পিতা,আদর্শ দাদা হতে পারে এর নির্দেশনাগুলো এ প্রতিষ্ঠান থেকে দেয়ার চেষ্টা করা হবে। ইনশাআল্লাহ হবে। যাদের স্কুল সকাল শিফটে তারা বিকেলে সময় দিবে এবং যাদের স্কুল বিকেলে তারা সকালে সময় দিবে। আর যারা বয়স্ক,তাদের জন্য বাদ মাগরিব সান্ধ্যকালীন ব্যবস্থা থাকবে। প্রথম যেদিন মশওয়ারা হয়েছিল সেদিন অনেকে প্রস্তাব রেখেছিলেন যে,কলেজ-ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের জন্যও প্রোগ্রাম রাখা হোক।

কলেজ-ইউনিভার্সিটির ছাত্ররা সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামে যুক্ত হতে পারবেন। তারপরও আমরা কিছু চিন্তা করেছি যে, উচ্চ পর্যায়ের ছাত্ররা দ্বীনী বিভিন্ন বিষয়ে বিভ্রান্তির শিকার হয় এবং বিভিন্ন মতাদর্শ সামনে আসার কারণে অনেক বিষয়ে সংশয়গ্রস্ত হয়। সে ধরনের বিষয় নিয়েও মাঝে মাঝে এখানে দিনব্যাপী বা খ-কালীন আলোচনা সভা,সেমিনারের ইচ্ছা আছে। আল্লাহ তাআলা তাওফীক দান করুন ও কবুল করুন।

Want your school to be the top-listed School/college in Rajshahi?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Culinary Team

Attire

Telephone

Website

Address


Rajshahi