11/10/2015
সরকারি চাকরিতে ‘আবেদনফি’ তুলে দিচ্ছে সরকার"
সরকারি চাকরিতে ‘আবেদন ফি’ তুলে দিচ্ছে সরকার।এর ফলে প্রায় ৬ কোটি বেকারের চাকরিরআবেদন ফি লাগবে না। খুব শিগগিরই এ ব্যাপারেআদেশ জারি হবে। এছাড়া আবেদনকারীদেরঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে মাত্র এক পৃষ্ঠারআবেদনপত্র করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীরকার্যালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাতদিয়ে এ খবর জানিয়েছে মানবকণ্ঠ।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দেশের বেকার যুবক-যুবতীদের কাছ থেকে সরকারি চাকরিরআবেদনে কোনো টাকা নেবে না সরকার।খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাকরিতেআবেদন তুলে দেয়ার ব্যাপারে নির্দেশনাদিয়েছেন।তিনি বলেছেন, নানা খাতে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধিপেয়েছে। বেকারদের কাছে আবেদন ফি বাবদযে টাকা জমা হয়, তা না হলেও চলবে। এ আদেশজারি হলে লাখ লাখ বেকার যুবককে চাকরিরআবেদনের সঙ্গে পোস্টাল অর্ডার, পে-অর্ডারবা ব্যাংক ড্রাফট সংযুক্ত করতে হবে না।বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসের আবেদনপত্রে জন্যমোবাইলে ৫শ’ টাকা নেয়া হচ্ছে, প্রথমশ্রেণীর পদের জন্য ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা,দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর জন্য ১০০থেকে ৫টাকা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদেআবেদন ফি ৫০০-১০০ টাকা ও ব্যাংকের আবেদনে৩০০টি নেয়া হয়। গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশব্যাংক চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদনফি নিচ্ছে না।প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদবলেন, চাকরির আবেদনে পোস্টাল অর্ডার, পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট সংযুক্ত করার বিধান রহিত করারবিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।রেলপথসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানাগেছে, ইতিপূর্বে ডাক বিভাগ ও খাদ্য অধিদফতরেপ্রার্থীদের দেয়া টাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরআত্মসাৎ করা নিয়ে মামলাও হয়েছিল। এছাড়া প্রাথমিকশিক্ষা অধিদফতর, ভূমি জরিপ ও রেকর্ড অধিদফতর এবংরেলওয়েতে চাকরি প্রত্যাশীদের তিন লাখআবেদন এখনো বিবেচনা করে পরীক্ষারব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ২০০৪ সাল থেকে এসবআবেদন পড়ে আছে। আর আবেদনপত্রেরসঙ্গে যুক্ত ১০০ টাকার পোস্টাল অর্ডারেরভাগ্যে কী হয়েছে তাও স্পষ্ট নয়। এসব কারণেআবেদন ফি তুলে দেয়ার ক্ষেত্রে বিবেচনায়নেয়া হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্রজানায়, চাকরির আবেদন ফি সরাসরি ফান্ডে জমা পড়ে।চাকরির জন্য লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষার ব্যয়অন্যফান্ড থেকে মেটানো হয়ে থাকে। অর্থাৎআবেদন ফি থেকেই অর্থ ব্যয় হয় না।তাছাড়া দেখা গেছে, কোনো একটি পদে ৫০জন নেয়ার কথা। এর বিপরীতে ২ হাজার আবেদনজমা পড়ে। লিখিত পরীক্ষায় ৩শ’ থেকে ৫শ’ জনপাস করে। বাকিরা ভাইভার আগে বাদ পড়েন। চাকরিপাওয়ার চূড়ান্ত পর্বে যাওয়ার জন্য তাদের অর্থ ব্যয়করতে হচ্ছে। এটা ঠিক নয়। এসব বিষয়াদিজেনেছেন প্রধানমন্ত্রী। তার সাফ কথা,বেকারদের এমনিতেই আয়-রোজগার নেই, ওরাটাকা দেবে কোথা থেকে। ওদের টাকা আরনেয়া যাবে না। তবে এক্ষেত্রে ব্যয়মেটানোর আলাদা প্রক্রিয়াটি তাকে অবহিত করতেবলা হয়েছে। এ নিয়ে সরকারের ভেতরে কাজচলছে। খুব শিগগিরই আদেশ জারি হবে।এদিকে সরকার চাকরির আবেদনকারীদের জন্যবড় ধরনের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এখনথেকে চাকরির জন্য নিজ হাতে লিখিত আবেদনকরতে হবে না। আবেদনের সঙ্গে অসংখ্যসনদের ফটোকপি দেয়ারও বিধান বাতিল করাহয়েছে।অনুসন্ধানে জানা গেছে, চাকরির আবেদনেরসঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আছে কিনা বাআবেদন সঠিকভাবে লেখা হয়েছে কিনা, তাপরীক্ষা নিরীক্ষার নামে বছরের পর বছরআবেদন ফেলে রাখা হয়। বিশেষ করে রেলপথমন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদের নিয়োগের বিলম্বখুঁজতে গিয়ে এ চিত্র পাওয়া গেছে। এপ্রেক্ষিতে যারা নির্ধারিত ফরমে আবেদন করবেনতারাই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন এমন সিদ্ধান্তসরকারের উচ্চপর্যায় থেকে দেয়া হয়েছে।আবেদনের সঙ্গে জন্মসনদ, নাগরিক সনদ,শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, অভিজ্ঞতার সনদ, চারিত্রিকসনদসহ অনেক ধরনের কাগজপত্র সংযুক্ত করারবিধান ছিল। এটা আবেদনকারীদের জন্য অতিরিক্তবিড়ম্বনা। তিনি চাকরি পাবেন কিনা, তার নিশ্চয়তা নেইঅথচ তার আগেই আবেদন করতে গিয়ে তাকেনানা ঘাটে পয়সা গুনতে হয়, না হয় হয়রানিরমুখেপড়তে হচ্ছে। এসব থেকে চাকরিপ্রত্যাশীদেরমুক্তি দিতেই সরকার নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুধু নির্ধারিত ফরমেচাকরিপ্রত্যাশীকে আবেদন করতে হবে। মৌখিকপরীক্ষার সময়ে আবেদনপত্রে উল্লেখ করাশর্তের সপক্ষে প্রমাণপত্র হাজির করতে হবে।তবে আবেদন ফরমে প্রার্থীকে অঙ্গীকারকরতে হবে যে, তার দেয়া তথ্য সঠিক। ভুল তথ্যদিলে প্রার্থী আইনানুগ শাস্তি গ্রহণে বাধ্যথাকবেন।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামালআবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে সবমন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দফতর-অধিদফতরসহ সবপ্রতিষ্ঠানকে সরকারের নির্দেশনা জানিয়ে দেয়াহয়েছে। নির্ধারিত ফরমের ছকও পাঠিয়ে দেয়াহয়েছে। অনলাইন বা ফরম ডাউনলোড করেখামেও আবেদন করা যাবে।এসব পদক্ষেপে চাকরিপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি কমবে..