17/08/2026
মেয়েটি টানা এক বছর এক মাস ধরে প্রতি বুধবার ডিসি অফিসে এসেছে। উদ্দেশ্য ছিল একটাই—পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আর্থিক সহযোগিতা পাওয়া।
প্রথম যেদিন এসেছিল, সেদিন তাকে কয়েকটি সহজ প্রশ্ন করা হয়েছিল। কিন্তু সাদিয়া সেসবের তেমন উত্তর দিতে পারেনি। তখন তাকে পড়াশোনার কিছু কৌশল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সাত দিনের পড়া দিয়ে বলা হয়েছিল, “প্রতি বুধবার ডিসি অফিসে এসে পড়া নিয়ে যাবে। আর তোমাকে যদি সাহায্য করি, সেটা চার মাস পরে করব।”
কথা রেখেছিল সাদিয়া। প্রতি বুধবার নিয়ম করে ডিসি অফিসে এসে পড়া নিয়ে যেত। মাঝে মাঝে তাকে দু-এক মিনিট পড়া জিজ্ঞাসা করা হতো। ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে তার পড়াশোনার ধরন।
তাকে বলা হয়েছিল—প্রতিদিন একই সময়ে, একই নিয়মে পড়তে হবে। রাতে দুই ঘণ্টা এবং ভোরে দুই ঘণ্টা পড়বে। রাত ১০টায় ঘুমাবে, ভোর ৫টায় ঘুম থেকে উঠবে। বিকেলে এক ঘণ্টা খেলবে। ক্লাস হোক বা না হোক, প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাবে।
ব্যাস—এই নিয়মগুলোই মেনে চলেছে সাদিয়া।
ফলাফলও এসেছে তারই মতো সুন্দরভাবে।
তার বিদ্যালয় থেকে এবার ৪৩ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাদের মধ্যে ২২ জন পাস করেছে। আর পুরো বিদ্যালয়ে একমাত্র সাদিয়াই পেয়েছে এ প্লাস।
যে মেয়েটি একসময় সহজ প্রশ্নের উত্তরও দিতে পারত না, নিয়মিত অধ্যবসায় আর সঠিক দিকনির্দেশনায় সেই মেয়েটিই আজ বিদ্যালয়ের একমাত্র এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থী।
সাদিয়ার গল্প শুধু একজন শিক্ষার্থীর সাফল্যের গল্প নয়। এটি আমাদের চারপাশে থাকা হাজারো সাদিয়ার গল্প—যাদের স্বপ্ন আছে, মেধা আছে, ইচ্ছাশক্তি আছে; শুধু প্রয়োজন সামান্য সহযোগিতা, সঠিক দিকনির্দেশনা আর সুযোগ।
অথচ আমরা প্রতিদিন কত টাকা কত অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করছি! দিনাজপুর শহরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড, ব্যানার, পোস্টার আর তোরণে ছেয়ে যাচ্ছে। এসব অপচয় না করে যদি তার সামান্য অংশও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে ব্যয় করা যেত, তাহলে হয়তো আরও অনেক সাদিয়ার গল্প আমরা দেখতে পেতাম।
একজন শিক্ষার্থীর হাতে একটি বই, একটি কলম কিংবা সামান্য সহযোগিতা কখনো কখনো তার পুরো জীবনটাই বদলে দিতে পারে।
তাই আসুন—
দেশের আইন মেনে চলি,
সমাজের প্রতি চোখ রাখি,
সাদিয়াদের পাশে দাঁড়াই,
সহযোগিতার হাত বাড়াই,
অপচয় রোধ করি,
আর নতুন স্বপ্নের বীজ রোপণ করি।
অভিনন্দন সাদিয়া আফরিন।
তোমাদের জয় হোক। ❤️📚
লেখা ও ছবি: DC Dinajpur