03/03/2026
আমার কাছে যারা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতে আসে তাদেরকে প্রথমেই রিসার্চ প্রজেক্টের সাথে সম্পর্কিত রিসার্চ আর্টিক্যাল পড়তে দিই। তারপর সেগুলোর সামারি অ্যানালাইসিস ও সিনোপসিস অ্যানালাইসিস করতে বলি এবং পরের ধাপে সেগুলোর উপর ভিত্তি করে একটা প্রেজেন্টেশন তৈরি করতে বলি যা তারা রিসার্চ গ্রুপ মেম্বারদের সামনে প্রেজেন্টে করে। এক্সপেরিমেন্টে যাওয়ার আগে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের ডোমেইন নোলেজ ডেভেলপ করায়। রিসার্চ আর্টিক্যাল দ্রুত এবং কার্যকরভাবে পড়ার বেশ কিছু কৌশল আছে যা নবীনদের সহায়তা করতে পারে। সেই কৌশল নিয়েই এই লেখা।
রিসার্চ আর্টিক্যাল দ্রুত এবং কার্যকরভাবে পড়ার জন্য প্রথমেই “Selective Reading Strategy” বা বাছাইকৃত পাঠ কৌশল অনুসরণ করা প্রয়োজন। একটি গবেষণাপত্র শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লাইন বাই লাইন পড়া সবসময় দরকার হয় না। প্রথমে শিরোনাম (Title), সারসংক্ষেপ (Abstract), কী-ওয়ার্ড এবং উপসংহার (Conclusion) পড়ে নিলে পুরো গবেষণার উদ্দেশ্য, পদ্ধতি ও ফলাফল সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা পাওয়া যায়। এরপর ভূমিকা (Introduction) অংশ থেকে গবেষণার প্রেক্ষাপট ও সমস্যা চিহ্নিত করা যায়। এই ধাপে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত—গবেষণার প্রশ্ন (Research Question), উদ্দেশ্য (Objectives) এবং হাইপোথিসিস দ্রুত শনাক্ত করা।
দ্বিতীয়ত, “Skimming এবং Scanning” কৌশল অত্যন্ত কার্যকর। স্কিমিংয়ের মাধ্যমে দ্রুত চোখ বুলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো চিহ্নিত করা হয়, আর স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট তথ্য—যেমন ডেটা সোর্স, মেথডোলজি, মডেল বা ফলাফল—খুঁজে বের করা হয়। যেমন আপনি যদি রিমোট সেন্সিং, জলবায়ু ও পরিবেশ গবেষণায় কাজ করেন, সেক্ষেত্রে Methodology অংশে ব্যবহৃত ডেটাসেট (যেমন স্যাটেলাইট সেন্সর, স্পেকট্রাল ব্যান্ড, অ্যালগরিদম), এবং Results অংশে গ্রাফ, টেবিল ও ফিগারগুলোর ক্যাপশন মনোযোগ দিয়ে পড়া বেশি ফলপ্রসূ। অনেক সময় পুরো প্যারাগ্রাফ না পড়ে ফিগার ও টেবিল বিশ্লেষণ করলেই গবেষণার মূল বার্তা বোঝা যায়।
তৃতীয়ত, “Critical Filtering” পদ্ধতি অনুসরণ করা দরকার। প্রতিটি আর্টিক্যাল আপনার গবেষণার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই দ্রুত মূল্যায়ন করুন—(১) এটি কি আপনার গবেষণা সমস্যার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত? (২) প্রকাশনার জার্নাল ও বছর কতটা আপডেটেড? (৩) উদ্ধৃতি (Citation) সংখ্যা কেমন? এই তিনটি মানদণ্ড ব্যবহার করলে অপ্রয়োজনীয় আর্টিক্যাল পড়ার সময় বাঁচবে।
চতুর্থত, নোট নেওয়ার স্মার্ট পদ্ধতি গড়ে তুলতে হবে। পুরো আর্টিক্যাল কপি না করে তিন থেকে পাঁচ লাইনে সারাংশ লিখুন—সমস্যা কী, পদ্ধতি কী, প্রধান ফলাফল কী এবং আপনার গবেষণায় এর প্রাসঙ্গিকতা কী। চাইলে একটি রেফারেন্স ম্যানেজার ব্যবহার করে কী-ওয়ার্ড ট্যাগিং করতে পারেন। এতে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট বিষয়ের আর্টিক্যাল দ্রুত খুঁজে পাওয়া যাবে।
সবশেষে, “Layered Reading” কৌশল অনুসরণ করা সবচেয়ে কার্যকর। প্রথম স্তরে সারসংক্ষেপ ও উপসংহার পড়ুন, দ্বিতীয় স্তরে ভূমিকা ও ফলাফল, তৃতীয় স্তরে প্রয়োজন হলে মেথডোলজি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করুন। এতে সময় বাঁচে এবং একই সঙ্গে প্রাসঙ্গিক জ্ঞান আহরণ করা যায়। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে গবেষণা আর্টিক্যাল দ্রুত পড়ার দক্ষতা স্বাভাবিকভাবে উন্নত হয় এবং ক্রিটিক্যাল বিশ্লেষণ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।
-
মিঠুন কুমার
৩ মার্চ ২০২৬
#গবেষণা #পদ্ধতি
02/03/2026
A moment of monthly lab meeting today (02-03-2026).
28/02/2026
বিল বা জলাভূমির (Wetland) চেঞ্জ ডাইনামিক বিশ্লেষণে SWIR, False Color Composite (FCC), NDWI এবং NDSI ব্যান্ড কম্পোজিট অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে, কারণ এগুলো জল, আর্দ্র মাটি, উদ্ভিদ এবং পলি/বালুময় পৃষ্ঠের স্পেকট্রাল বৈশিষ্ট্যকে আলাদা করে তুলে ধরে। বিশেষ করে SWIR (Short Wave Infrared) ব্যান্ড জলাভূমির আর্দ্রতা ও মাটির আর্দ্র অবস্থা শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ। জলের ক্ষেত্রে SWIR প্রতিফলন খুব কম হয়, কিন্তু শুষ্ক মাটি ও উদ্ভিদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি হয়। ফলে মৌসুমি প্লাবন, খরা বা জলাভূমির সংকোচন–বিস্তার নির্ণয়ে SWIR ব্যান্ড কার্যকর সূচক হিসেবে কাজ করে। দীর্ঘমেয়াদে SWIR বিশ্লেষণ করলে জলাভূমির হাইড্রোলজিক্যাল পরিবর্তন ও ল্যান্ড কভার ট্রানজিশন (যেমন: জল থেকে কৃষিজমি) স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায়।
False Color Composite (যেমন NIR-Red-Green কম্বিনেশন) জল ও উদ্ভিদের কনট্রাস্টকে ভিজ্যুয়ালি স্পষ্ট করে। NIR ব্যান্ডে স্বাস্থ্যবান উদ্ভিদ উচ্চ প্রতিফলন দেয়, আর জল খুব কম প্রতিফলন দেয়। ফলে FCC ইমেজে জলাভূমি, জলজ উদ্ভিদ ও পার্শ্ববর্তী ভূমির মধ্যে পার্থক্য সহজে বোঝা যায়। সময়ভিত্তিক FCC তুলনা করলে জলাভূমির বিস্তার, উদ্ভিদ আচ্ছাদনের বৃদ্ধি বা হ্রাস, এবং অবৈধ দখল বা ভরাট কার্যক্রম সনাক্ত করা যায়। এই ভিজ্যুয়াল ইন্টারপ্রিটেশন প্রাথমিক চেঞ্জ ডিটেকশনের জন্য অত্যন্ত কার্যকর।
NDWI (Normalized Difference Water Index) সরাসরি জলের উপস্থিতি পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত Green এবং NIR ব্যান্ডের পার্থক্যকে স্বাভাবিকীকরণ করে নির্ণয় করা হয়। NDWI মান শূন্যের বেশি হলে সাধারণত জল নির্দেশ করে এবং শূন্যের কম হলে ভূমি বা উদ্ভিদ নির্দেশ করে। ফলে বিভিন্ন সময়ের NDWI ম্যাপ তুলনা করে জলাভূমির আয়তনগত পরিবর্তন (area dynamics) নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা যায়। বিশেষ করে বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমের তুলনামূলক বিশ্লেষণে NDWI অত্যন্ত কার্যকর।
অন্যদিকে NDSI (Normalized Difference Soil Index বা কিছু ক্ষেত্রে Snow Index হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এখানে Soil পৃথকীকরণে প্রযোজ্য) মাটি ও উন্মুক্ত পৃষ্ঠ শনাক্ত করতে সহায়তা করে।/এই সূচক ব্যবহার করে জলাভূমির ভরাট এলাকা, উন্মুক্ত শুকনো পলি বা সেডিমেন্ট ডিপোজিশন চিহ্নিত করা যায়। যখন কোনো জলাভূমি ধীরে ধীরে শুকিয়ে কৃষিজমি বা বসতিতে রূপান্তরিত হয়, তখন NDSI মান বৃদ্ধি পায়—যা চেঞ্জ ডাইনামিক বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।
সমষ্টিগতভাবে বলা যায়, SWIR আর্দ্রতা ও হাইড্রোলজিক অবস্থা নির্দেশ করে, FCC ভিজ্যুয়াল কনট্রাস্টের মাধ্যমে পরিবর্তন শনাক্তে সহায়তা করে, NDWI জলের বিস্তার পরিমাপ করে, এবং NDSI উন্মুক্ত মাটি বা ভরাট এলাকা সনাক্ত করে। এই চারটি কম্পোজিট একত্রে ব্যবহার করলে জলাভূমির এরিয়া এক্সট্রাকশন, মৌসুমি পরিবর্তন, দীর্ঘমেয়াদি সংকোচন–বিস্তার এবং মানবসৃষ্ট রূপান্তর—সবকিছু সমন্বিতভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়।
ম্যাপে SWIR, False Color Composite (FCC), NDWI এবং NDSI ব্যান্ড কম্পোজিট করে রাজশাহীর নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলায় অবস্থিত আন্দাসুরা বিলের বর্তমান (২৭-০২-২০২৬ ইং) অবস্থা দেখানো হয়েছে।
-
মিঠুন কুমার
সায়েন্টিস্ট (রিমোট সেন্সিং এন্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স) | আবহাওয়াবিদ | এনভাইরনমেন্টাল কনসালটেন্ট
20/02/2026
রেজিস্ট্রেশন চলছে ! আজই রেজিস্ট্রেশন করুন।
Workshop on "Research Proposal Writing (Online)"
===============================
Date: 28 February, 2026 (Saturday)
Time: 3.30 pm - 5.00 pm
Registration link: https://forms.gle/kbiK5NZucRp3EMgL6
Registration deadline: 27-02-2026
আলচ্য বিষয়ঃ
--------------
- What is Research
- Category of Research
- Recent trend of R&D in tech companies and universities
- Transforming Idea into research proposal
- Strategy to Literature Review
- Structure of a Research Proposal
- Hypothesis building
- Feasibility testing
- Technology transfer
- Elements of Research Proposal and Explanation
18/02/2026
Remote Sensing Crash Course (Online)
ক্লাসের সময়সূচীঃ ২২-২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সময়ঃ ৭ টা থেকে সাড়ে ৮ টা পর্যন্ত।
আগ্রহীরা রেজিস্ট্রেশন করুন এখানে- https://forms.gle/viUgEB5NWBuv6XxW7
রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখঃ ২১ শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।
বিস্তারিত জানুন এখানে- https://sercbd.weebly.com/remote-sensing.html
15/02/2026
Register Now !
Workshop on "Research Proposal Writing (Online)"
===============================
Date: 28 February, 2026 (Saturday)
Time: 3.30 pm - 5.00 pm
Registration link: https://forms.gle/kbiK5NZucRp3EMgL6
Registration deadline: 27-02-2026
04/02/2026
A moment of monthly lab meeting and lab seminar today (04-02-2026). Today, SM Rifdu Rafee (Research Assistant, Natural Resources Inventory Mapping and Monitoring Using Remote Sensing project) has presented his works during the lab seminar. This is his first lab seminar.
01/02/2026
স্যাটেলাইট ইমেজ প্রসেস করে রাজশাহী সিটি কর্পরেশোনের ২০২৩ সালের গ্রীষ্মকালীন (এপ্রিল মাসের) Land Surface Temperature (LST) বা Heat Map এবং Normalized Difference Vegetation Index (NDVI) তৈরি করা হয়েছে। সাধারণ জনগণের বুঝার সুবিতার্থে বলা যায় NDVI প্রোডাক্ট গাছের সবুজতা পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয় এবং এটি গাছের ঘনত্ব বোঝার জন্য এবং উদ্ভিদের স্বাস্থ্যের পরিবর্তনগুলি পর্যবেক্ষন ও মূল্যায়ন করতে বেশ কার্যকর। আর LST ম্যাপ কোন কোন জায়গা বেশী গরম সেটা নির্দেশ করে। এটি প্রস্তুত করতে আমি ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসের ৭ তারিখ স্যাটেলাইট ইমেজ ব্যবহার করেছি। ম্যাপে দেখা যাচ্ছে এই সময়ে তাপমাত্রা (LST) ৪১ ডিগ্রী সেলসিয়াস পার হয়ে গিয়েছিলো। NDVI এর বিপরীতে যদি তাপমাত্রা (LST) দেখা যায় তবে স্পষ্ট বুঝা যায় যে যেখানে সবুজ গাছপালা বেশী সেখানে তাপমাত্রা কম।
রাজশাহী নগরীতে নতুন নতুন অনেক বিল্ডিং নির্মান হয়েছে। এখন যেহেতু নিয়মিতভাবে নতুন নতুন বিল্ডিং ও রাস্তাঘাট নির্মান করা হচ্ছে তাই শহরের ভিতর গাছপালা ও জলাভূমির দিকে বেশ গুরুত্ব দিলে উন্নয়ন আরো টেকসই হবে। সামনে গ্রীষ্মকাল আসছে। গরমের এই সময় শহরগুলো ভয়ানক হয়ে উঠে। বিশেষ করে যেখানে সবুজ গাছপালা আর জলাধার থাকেনা। জলাধার সূর্যের তাপ শোষণ করে ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয় এবং ধীরে ধীরে শীতল হয়। শহরে বেশী পরিমাণ জলাধার থাকলে গ্রীষ্মকালে সূর্যের প্রখর তাপ জলাধারগুলো ধীরে ধীরে শোষণ ও বিকিরণের মাধ্যমে শহরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রনে বেশ গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করবে। সেই সাথে শহরের মধ্যে যেই গাছ লাগানো হয় সেখানে ঝাকড়া গাছ (Canopy সমৃদ্ধ গাছপালা) লাগালে ভালো হয় যাতে করে সূর্যের অতিরিক্ত তাপকে বাধা দিয়ে ছায়া তৈরি করে ভূপৃষ্ঠ শীতল রাখতে পারে। নগরীর Land Surface Temperature ম্যাপ তৈরি করে সেখান থেকে বেশী তাপমাত্রার এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেই সব এলাকায় ঝাকড়া গাছ লাগানো এবং জলাধারের ব্যবস্থা করলে অতিরিক্ত তাপ মোকাবিলা (Heat Resilience) করা যেতে পারে। তবে এর জন্য নগর কতৃপক্ষের সাথে কমিউনিটির সমন্বয় থাকা জরুরী একটা বিষয়।
যেকোন শহর বা অঞ্চলের (LST) বা Heat Map বিশ্লেষণ করে বেশী তাপমাত্রার এলাকাগুলো ভালোভাবে তদন্ত করে শহর বা কোন অঞ্চলের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহন ও নীতিমালা প্রণয়ন করা যেতে পারে। একটি Heat Resilience নগরী তৈরি করতে জনসচেতনতা তৈরি করা জরুরী।
-
মিঠুন কুমার
সায়েন্টিস্ট (রিমোট সেন্সিং) | ক্লাইমেট সায়েন্টিস্ট | আবহাওয়াবিদ | এনভাইরনমেন্টাল কনসালটেন্ট |
১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
#রাজশাহী
14/01/2026
Webinar on Digital Image Processing in Remote Sensing
====================================
Date: 26 January, 2026 (Monday)
Time: 7.00 pm - 8.30 pm
*** Seats are limited on first comes first basis.
*** This event is helpful for both students and professionals.
*** SERC will provide certificate to the participants after successful completion of the webinar.
Speaker:
---------
Mithun Kumar, MS (Thesis), BSc (Hons.) (RU)
Scientist/Scientific Officer and Head
Aeronautics & Space Applications Division
President, Space and Environment Research Center, Bangladesh
Registration link: https://forms.gle/iCh4HCUk2UGMxAX69
Registration deadline: 25-01-2026